#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২০
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔
**********************
রাতের প্রায় শেষ প্রহর। চারিদিকে গা ছমছমে অন্ধকার। ঝড়বৃষ্টি থেমেছে একটু আগেই। দূরে কোথাও ঝিঁঝি পোকা বিকৃত সুরে ডেকে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। ভোরের পাখিরা ইতিমধ্যে ডানা ঝাপটে উড়াল দিয়েছে দূর অজানায়। আকাশের বুকে এখনও সূর্যের দেখা মেলেনি। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে সূর্য্যি মামাও জেগে উঠবে হয়তো। ভোর রাতে, বৃষ্টি শেষের ঠান্ডা বাতাসে শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
কৌশিক তখন গভীর ঘুমে বিভোর। তুবাকে আষ্টেপৃষ্টে বুকের সাথে জড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। চোখে মুখে চিন্তা ভাবনার ছিটেফোঁটাও নেই। মনে হচ্ছে, এই ধরণীর বুকে সেই একমাত্র সুখী মানুষ। যে তার পুরো পৃথিবী বুকে আগলে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। গভীর নিঃশ্বাস তুমুল বেগে আছড়ে পড়ছে তুবার কপালে। গরম উত্তপ্ত শ্বাসের গভীরতা চোখ বুঁজে অনুভব করছে তুবা। চোখে বিন্দুমাত্র ঘুম নেই মেয়েটার। জীবনের চরম সংবেদনশীল মুহুর্তকে খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনুভব করতে ঘুমকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আজ রাতের একটা ন্যানোসেকেন্ড সময়ও নষ্ট করতে রাজি নয় তুবা। এই যেমন, এই মুহুর্তে সে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত কৌশিকের দিকে। চোখের দৃষ্টিতে শুধু রাশি রাশি মুগ্ধতা। হাজার বছর ধরে দেখার তৃষ্ণা। এই তৃষ্ণা মনে হয় এই জনমে মিটবে না।
তুবার মনে পড়ে গেলো কিছুক্ষণ আগের ঘটনা। সেই সংবেদনশীল মুহুর্ত। যখন দু'জনেই ছিলো অনুভুতির চরম পর্যায়ে। কৌশিকের পা'গ'লামো তখন ছিলো সীমাহীন। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তেও ছেলেটার যত্ন ছিলো মারাত্মক। যেমন, তখন ক্রমাগত তুবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। বারে বারে কপালে চুমু খাচ্ছিল। কন্ঠ খাদে নামিয়ে অপরাধীর ন্যায়ে বলছিল,
"প্লিজ জান। একটু সহ্য কর।"
তুবার একরত্তি দেহটা কৌশিকের সুঠাম দেহের ভারে পিষ্ট হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল যেনো। তবে কৌশিকের উ'ন্মা'দনা আর পা'গ'লামির জন্য নিজেকে সর্বোচ্চ শান্ত রেখেছিল তুবা।
দৃশ্য গুলো ভাবনাতেই আসতেই তুবা লজ্জায় কৌশিকের ন'গ্ন বুকে মুখ লুকালো। কি আশ্চর্য তাই না? যার কথা ভেবে লজ্জায় আড়ষ্ট হচ্ছে, লজ্জা নিবারনে তার বুকেই মুখ লুকাচ্ছে। উথাল পাথাল ভাবনার জোয়ারে হুট করেই ভাঁটা পড়লো তুবার। যখন মনে পড়লো আজকের তারিখের কথা। তুবা সঙ্গে সঙ্গে কৌশিকের বুক থেকে মাথা তুললো। হাতড়ে কৌশিকের হাত টেনে সামনে আনলো। সচারাচর কৌশিকের ঘড়ি পড়ার অভ্যাস। আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। তুবা আবছা অন্ধকারেই চোখ ছোটো ছোটো করে ঘড়িতে নজর বুলালো। রাত চারটা বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট। ইতিমধ্যে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এতো দেরি হয়ে যাওয়াতে তুবার মনটা খানিক খারাপ হয়ে গেলো। ধুর! প্ল্যান অনুযায়ী কিছুই হলো না। মুখটা পেঁচার মতো বানিয়ে রিনরিনে স্বরে ডেকে উঠলো,
"শুনছেন?"
কৌশিক বরাবরই ঘুম পাতলা মানুষ। একটু আওয়াজেই ঘুম ভেঙে যায়। এখনও তার ব্যাতিক্রম হলো না। তুবার এই ছোট্ট ডাকেই ঘুমটা ছুটে গেলো। তবুও চোখ খুলে তাকালো না কৌশিক। তুবার নগ্ন দেহটা টেনে আরও একটু নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে, ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো,
"ঘুমোতে দে জান। আমার চোখে অনেক ঘুম।"
তুবা ঠোঁট ফুলালো। কৌশিকের শক্ত বাঁধন ছাড়িয়ে একটু উপরে উঠলো। কানের কাছে মুখ নিয়ে ধীর কন্ঠে বললো,
"হ্যাপি বার্থডে জামাই জান।"
কানের কাছে তুবার ফিসফিস কন্ঠের মৃদু আওয়াজে শরীরের লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেলো কৌশিকের। দেহের রক্ত চলাচল বেড়ে গেলো দ্বিগুণ। ফট করে চোখ মেলে তাকিয়ে এক উল্টোনে তুবাকে নিচে ফেলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে মুখ গুঁজলো তুবার গলায়। মোহনীয় কন্ঠে বললো,
"আবার কেনো পা'গল করছিস জান? তোর কি মন ভরেনি?"
তুবা জবাব দিলো না। তবে বিপরীতে মৃদু আ'র্ত'নাদ করে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলল কৌশিক। ভ্রুদ্বয় কুঁচকে তাকালো তুবার ব্যাথাতুর মুখে। বিচলিত কন্ঠে শুধালো,
"কি হয়েছে জান? কোথায় ব্যথা করছে?"
তুবা হাত দিয়ে গলার কাছ টায় দেখালো। মোবাইলের ফ্ল্যাশের মৃদু আলোয় গলার কাছের কালসিটে দাগটা জ্ব'ল'জ্ব'ল করছে। কৌশিকের চোখে মুখে অপরাধবোধ ফুটে উঠলো। অপরাধীর ন্যায়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
"স্যরি জান। আমি আসলে তখন বুঝতে পারিনি।"
তুবার সঙ্গে সঙ্গে নিজের চিকন আঙ্গুল কৌশিকের ঠোঁটে রেখে থামিয়ে দিলো। নরম সুরে বললো,
"স্যরি বলবেন না প্লিজ। আপনার কোনো দোষ নেই।"
"বড় হয়ে গেছিস দেখছি।"
"বড় না হলে কি আর আপনার পা'গ'লামি সহ্য করতে পারি?"
কৌশিক ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো। নিজের ঠোঁটের ওপর আলতো করে ধরে রাখা তুবার আঙ্গুল সমেত হাতটা টেনে নিয়ে তালুতে চুমু খেলো। তুবা প্রসস্ত হাসলো। মিষ্টি রিনরিনে কন্ঠে আওড়ালো,
"জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জনাব। আমার প্রেমীক পুরুষ। আমার হৃদয়ের দখলকারী । আমার রাজ্যের একমাত্র রাজা।"
তুবার এমন মিষ্টি সম্বোধনে কৌশিকের ঠোঁটের কোণে হাসি ছড়িয়ে পড়লো। হৃদয় জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো একমুঠো শীতলতা। প্রমময় উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়লো বুকে। কৌশিক আলতো করে তুবার ওষ্ঠপুট ছুঁয়ে দিলো। কয়েক সেকেন্ড স্থায়িত্ব ছিলো সেই ছোঁয়ার। পরপরই তুবার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"আই লাভ ইউ জান। আই লাভ ইউ মোর দ্যান মাই লাইফ।"
এক আবেশিত প্রেমময় আলিঙ্গনে মেতে উঠলো দুজন। কৌশিক সময় নিলো না। পরপরই উঠতে উঠতে বলল,
"জান চল।"
তুবা হকচকিয়ে গেলো। নিজের ওপর থেকে কৌশিক উঠতেই লজ্জায় দুই হাতে মুখ ঢেকে নিলো। মিনমিন করে বলল,
"কোথায় যাবো?"
কৌশিক তাকালো এক পলক। তুবাকে এতো লজ্জা পেতে দেখে ছোট্ট করে দম নিলো। নিচু স্বরে বললো,
"বাড়ি ফিরতে হবে না?"
"কিন্তু এখনও তো সকাল হয়নি।"
"সকাল হয়নি বলেই তো ডাকছি। সকাল হওয়ার আগে পবিত্র হতে হবে। এই অবস্থায় বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। একটু পরে লোকজন চলাফেরা শুরু করবে। জলদি আয়।"
তুবা উঠলো না। সেভাবেই পড়ে রইলো। কিভাবে উঠবে? এই মুহুর্তে শরীরে একটা সুতোও নেই। এমন অবস্থায় কৌশিকের সাথে নজর মেলাতেও লজ্জায় ম'রে যাচ্ছে তুবা। কৌশিক এবার হতাশ হলো। উপায়ন্তর না পেয়ে ওর ফেলে রাখা ওড়না দিয়ে তুবাকে ঢেকে দিলো। এরপর সেভাবেই ওড়না সমেত কোলে তুলে নিলো। এরপর হাঁটা দিলো ঘরের বাইরের দিকে। যেতে যেতে তুবার দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বললো,
"মুখ ঢেকে রেখেছিস কেনো? হাত সরা।"
ধমক খেয়ে তুবা হাত সরালো। কিন্তু চোখ খুললো না।
-
-
কাল তুবাকে খুঁজতে এসে বাগানের পাশেই ছোটো পুকুর দেখেছিল কৌশিক। গ্রামে এমন ছোটোখাটো পুকুর, নদী অহরহ চোখে পড়ে। তুবাকে নিয়ে সেখানেই এলো কৌশিক। সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চারিদিক পুরোপুরি পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে এই দিকটা জনমানবশূন্য হওয়ায় ওদের একটু সুবিধাই হলো। তুবাকে কোলে নিলেই পুকুরের পাড়ে বসলো কৌশিক। নরম সুরে বললো,
"একা পারবি?"
"ডুবে যাবো।"
বলেই ঠোঁট উল্টালো তুবা। কৌশিক সময় ব্যায় করলো না। তুবাকে নিয়েই পানিতে নামলো। নামতে নামতে আদেশ সুরে বললো,
"আমাকে শক্ত করে ধর।"
-
-
গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে আবারও সেই ঘরে ফিরে এলো দুজন। গত রাতে তুবার ভেজা জামাটা মাটির মেঝেতে পড়ে ছিলো। সারা রাতে অল্প কিছুটা শুকিয়েছে। সেটাই আপাতত পড়ে নিলো তুবা। তবে কৌশিকের একটু অসুবিধেই হলো। পুকুরে নেমে প্যান্ট ভিজে গেছে। এখন এটা চেঞ্জ করাও সম্ভব নয়। তাই অগত্যাই শুকনো শার্টটা গায়ে জড়িয়ে ফোনটা পকেটে পুরে নিলো। এরপর তুবার হাতটা আলতো করে ধরে বলল,
"চল, বাড়ি যাওয়া যাক।"
-
-
দোতলা বাড়িটার উঠোন জুড়ে পায়চারি করছে ভুঁইয়া পরিবারের সদস্যরা। সকলের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। সেই গতরাত থেকে বাড়ির ছোটো মেয়েটার খবর নেই। যদিও কৌশিক ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল তুবাকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তবুও ছেলে মেয়ে দুটোকে চোখের সামনে না দেখা পর্যন্ত বাড়ির কর্তারা স্বস্তি পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে বেশি কাতর হয়ে পড়েছেন তাওহীদ সাহেব। একমাত্র কলিজার টুকরো তার। তুবার জন্মের এক বছরের মাথায় ময়না বেগমের জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়ে। অপারেশনের পর তার দ্বিতীয়বার সন্তান জন্ম দেয়ার সব রাস্তা বন্ধ। তাওহীদ সাহেবের আশা ভরসা তো এই একটা মেয়েই। মেয়েটার কিছু হলে তিনি ঠিক থাকতে পারেন না। এই যেমন সারা রাত চিন্তা করে প্রেশার বাড়িয়ে নিয়েছেন। এখন ভেজা স্যাতস্যাতে উঠোনে চেয়ার পেতে বসে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রেশার বাড়ার ফলে দাঁড়িয়েও থাকতে পারছেন না।
জামাল সাহেব পেছনে দুই হাত বেঁধে অনবরত পায়চারি করছেন, আর বারে বারে গেইটের দিকে তাকাচ্ছেন। সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগমন ঘটলো বাড়ির দুই দুলাল দুলালির। ছেলে মেয়েদের আসতে দেখে দৌড়ে এগিয়ে গেলো সবাই। কিন্তু বিপত্তি ঘটে গেলো অন্য জায়গায়। সবাইকে উপেক্ষা করে ময়না বেগম ছুটে এগিয়ে গেলেন মেয়ের কাছে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বজোরে চপেটাঘাত পড়লো তুবার গালে। হুট করে, একদম আচমকাই। তুবা গালে হাত রেখে মাথা নিচু করে নিলো। আকস্মিক ঘটনা বুঝতেই চমকে উঠলো কৌশিক। বুকের ভেতর আচমকা মুচড়ে উঠলো যেনো। মনে হচ্ছে চড়টা তুবার গালে নয় ওর কলিজাতে গিয়ে লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে ধমকে উঠলেন ময়না বেগম,
"বেয়াদব মেয়ে। পাখনা গজিয়ে গেছে তাই না? আদর পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠে গেছিস? কোন সাহসে ভর সন্ধায় একা একা বাড়ির বাইরে গেছিস তুই? বল। এতো সাহস কে দিলো তোকে?"
মায়ের বাজখাঁই গলার ধমকে ফুঁপিয়ে উঠলো তুবা। গতকাল রাতে কৌশিকের দাবাং মার্কা থা'প্পড়। তার ওপর অতো ধকল। এখন আবার মায়ের থা'প্পড়? ওকে সবাই ঢোল পেয়েছে নাকি? যে যেমন খুশি বাজিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রাত থেকে না খাওয়া শরীরটা এতো ধকল আর নিতে পারলো না। মাথা ঘুরে উঠলো। এরই মাঝে ময়না বেগম আবারও মারার জন্য হাত তুলতেই আলতো করে হাতটা ধরে নিলো কৌশিক। নরম সুরে বললো,
"ছাড়ো না চাচি। ও তো ছোটো। বুঝতে পারনি। ভুল করে ফেলেছে।"
এই পর্যায়ে মুখ খুললেন তাওহীদ সাহেব। স্ত্রীকে ধমকে উঠে বললেন,
"খবরদার বলছি ময়না। আমার মেয়ের গায়ে আর হাত দেবে না। ও কি করেছে না করেছে আমি দেখে নেবো।"
"দেখতে পারলে আর কোথায়? সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে গেলো। ওই ঝড়বৃষ্টির রাতে তোমরা কম খোঁজাখুঁজি করলে? ভাগ্যিস কৌশিক ছিলো। নাহলে ওর কি অবস্থা হতো ভাবতে পারো?"
কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন ময়না বেগম। তার রাগ এবং ঝাঝের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিন্তিত স্বত্বা সবার সামনে বেরিয়ে এলো এবার। সন্তানের জন্য মায়ের মন সবচেয়ে বেশি কাঁদে। একমাত্র মেয়ের এমন অবোধের মতো আচরণের জন্য কত বড়ো বিপদ হতে পারতো। যদি খারাপ মানুষের হাতে পড়তো? তখন কি হতো? ভাবতেই বুক কামড়ে ধরছে ময়না বেগমের। বুকের ভয় ডর চেপে আবারও ধমকে উঠলেন,
"আর কোনোদিন যদি দেখেছি এমন অবোধের মতো কাজ করতে, তাহলে হাত পা বেঁধে ঘরে ফেলে রাখবো বলে দিলাম।"
ঝাঁঝালো কণ্ঠে কথাগুলো বলেই আঁচলে চোখ মুছলেন ময়না বেগম। কৌশিক একহাতে আগলে ধরলো তাকে। অত্যন্ত ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
"শান্ত হও চাচি। আমি আছি তো। আমি থাকতে তোমার বলদ মেয়ের কিছু হতে দেবো নাকি? শান্ত হও।"
দক্ষ হাতে সামলে নিলো ময়না বেগমকে। যেনো বাবা তার মেয়েকে আগডুম বাগডুম বুঝ বোঝাচ্ছে। এরপর চোখের ইশারায় মৌমিতাকে বোঝালো তুবাকে ঘরে নিয়ে যেতে। মৌমিতা সেটাই করলো। এই পর্যায়ে জামাল সাহেব মুখ খুললেন। কাঠকাঠ কন্ঠে বললেন,
"কি হয়েছে? কেনো হয়েছে? এসব পরেও জানা যাবে। ছেলে মেয়েদের বিশ্রামের প্রয়োজন। সবাই ঘরে যাও। বিকেলে সব শুনবো।"
বাকিরা আর কথা বাড়ালো না। যার যার মতো নিজেদের কাজে চলে গেলো। কৌশিক লম্বা লম্বা পা ফেলে দোতলায় নিজের রুমে চলে গেলো। মাত্রই ঘরে ঢুকে চেঞ্জ করে বিছানায় বসেছে, ঠিক এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো মৌমিতা। কোমরে দুই হাত রেখে আ'গু'ন ঝরা কন্ঠে বললো,
"দিয়েছিস? এইটুকুনি বাচ্চা মেয়েটার ওপর পা'ষাণের মতো কঠিন কঠিন ছাপটা ফেলে দিয়েছিস।"
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে তাকালো। হাত দিয়ে চুল ঝারতে ঝারতে বলল,
"কিসের কথা বলছিস?"
"অবশ্যই তুবার কথা বলছি। মেয়েটার গলা ঘাড়ে কালসিটে দাগ পড়ে গেছে। বলি, কিছুদিন অপেক্ষা করা যাচ্ছিল না?"
এই পর্যায়ে কৌশিক নিজের চিরাচরিত নি'র্ল'জ্জ ফর্মে ফিরে আসলো। হাত দিয়ে চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করতে করতে বলল,
"অপেক্ষা করার অপশন ছিলো না। কন্ট্রোললেস হয়ে পড়েছিলাম।"
"তুই দিনদিন অ'সভ্য হয়ে যাচ্ছিস ভাই।"
"সভ্য আমি কোনো কালেই ছিলাম না মৌ। ইউ নো ভেরি ওয়েল।"
চলবে?