#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২১
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔
*******************
কৌশিকের এহেন লাগামছাড়া কথার বিপরীতে রাগে ফুঁসে উঠলো মৌমিতা। এদিক সেদিক তাকিতুকি করে সোফা থেকে কুশন তুলে ছুড়ে মারলো কৌশিকের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে সেটা ক্যাচ ধরে ফেললো কৌশিক। দুই হাতে কুশনটা বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো। আচমকা মনে পড়ে গেলো এটা তো তুবার জায়গা। এই বুকের দখলদারি তুবা ছাড়া অন্য কেউ নয়। কোনো বস্তুও নয়। কথাটা মনে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে কুশনটা ছুড়ে বিছানায় ফেলে দিলো কৌশিক। এরপর বসা অবস্থাতেই দুই হাত পেছন দিকে দিয়ে, পেছনে গা এলিয়ে দিলো। উপহাস সুরে বললো,
"অনেক তো হলো। আর কত আমার লেজ ধরে ঘুরবি? এবার তো ছাড়। তোর বিয়ের বিষয়ে ফাইনাল কথা বার্তা চলছে। তুই বরং আমার কথা না ভেবে নিজের চরকায় তেল দে।"
এই পর্যায়ে হুট করেই ফুটন্ত লাভার মতো জ্বলতে থাকা রাগের আগুন দপ করে নিভে গেলো মৌমিতার। বরং চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। রাতুলের সাথে কথা হয়েছে মৌমিতা। হাজারও প্রেম ভালোবাসা নিবেদনের বাইরে গিয়ে এই বিয়ে নামক প্যারার কথা জানানোর সাহস পায়নি মেয়েটা। যদি রাতুল হাইপার হয়ে যায়? তখন সব কিভাবে সামলাবে? কি করবে না করবে ভাবতে ভাবতে মৌমিতা নরম হয়ে এলো। রাগী চেহারাটাও নমনীয় হলো। গুটিগুটি পায়ে কৌশিকের গা ঘেঁষে বসলো। কন্ঠ অত্যন্ত নরম করে বলল,
"একটু হেল্প করনা ভাই।"
"কোন বিষয়ে? ইনভাইটেশন নিয়ে? ও তুই চিন্তা করিস না। ডক্টর রাতুলকে আমি নিজ দায়িত্বে ইনভাইট করবো।"
মৌমিতার রাগটা ফের নতুন উদ্যোমে জ্বলে উঠলো। তবুও দাঁত কিড়মিড় করে রাগটা চেপে গেলো। মুখে জোর পূর্বক হাসি টেনে বলল,
"সিরিয়াস মোমেন্টও মজা করছিস ভাই? এটা কি ঠিক বল?"
"তো? এখানে আমার কি করণীয়?"
"ভাই হিসেবে বোনের দিকটা দেখবি না তুই? তোর বোন একজনকে ভালোবাসে। অথচ বিয়ের কথা হচ্ছে অন্য কারো সাথে। ভাই হিসেবে বোনকে সাপোর্ট করা কি তোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?"
"ছোটোদের কোনো দায়িত্ব নেই। দায়িত্ব সব বড়দের।"
গা ছাড়া ভাব নিয়ে জবাব দিলো কৌশিক। মৌমিতার রাগ বাড়লো। কিন্তু এই মুহুর্তে চেঁচানোর সাহস পেলো না। এখন ওর কৌশিকের সাহায্যের বড্ড দরকার। তবে কৌশিকের ছন্নছাড়া ভাব সাবে বেশ বিরক্ত হলো মৌমিতা। সেই সাথে কৌশিকের কথার গোপন মানেও বুঝে গেলো। এতে করে মৌমিতার বিরক্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেলো। সে কৌশিকের সামনে দুই হাত জোর করে অধৈর্য্য সুরে বললো,
"আচ্ছা ঠিক আছে, মানলাম। তুইই বড়ো। আমিই ছোটো। খুশি? আমার এক এবং একমাত্র অভিভাবক। আমার চেয়ে বয়সে ছোটো কিন্তু চাপায় বড়ো ভাই। প্লিজ নিজের এই বয়সে বড় কিন্তু অসহায়তায় ছোটো বোন টাকে রক্ষা কর।"
"উহুম! তোর কথায় কোনো সম্মান নেই। সো, হেল্প করতে পারলাম না।"
"ভাই প্লিজ!"
অসহায় সুরে বলে উঠলো মৌমিতা। কন্ঠস্বর বেজায় করুন শোনালো। এই পর্যায়ে কৌশিক যেনো মেনে নিলো। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
"ঠিক আছে, ঠিক আছে। দেখছি কি করা যায়। কানের কাছে এতো ঘ্যান ঘ্যান করিস না তো। যা ভাগ।"
মৌমিতার রাগ হলেও আর কিছু বললো না। কৌশিক একবার যখন রাজি হয়েছে তাহলে ঠিকই বিষয়টা সামলে নেবে। কথার বরখেলাপ করা ওর ধাঁচের নয়। তাই মনে মনে একটু স্বস্তি পেলো মৌমিতা। চুপচাপ উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
মৌমিতা চলে যেতেই কৌশিক বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। শরীরটা কেমন যেনো ম্যাজম্যাজ করছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে পাগলের মতো ছোটাছুটি করেছে ছেলেটা। ধকল তো আর কম গেলো না। তার ওপর সারারাত ভালো করে ঘুমও হয়নি। এখন দুই চোখে ঘুমেরা বিদ্রোহ শুরু করেছে। গতরাতের কথা ভাবতে ভাবতেই চোখ দুটো বন্ধ করলো কৌশিক। তবে মিনিটের মাথায় আবারও চোখ মেললো। হাসফাস ভঙ্গিতে নড়েচড়ে উঠলো। কেমন যেনো সব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনে হচ্ছে কি যেনো নেই। কিন্তু কি নেই? ভাবতে ভাবতে বুকটা আলতো হাতে ডললো কৌশিক। তৎক্ষনাৎ মনে পড়ে গেলো তুবার কথা। গতকাল সারা রাত এই বুকেই ঠাঁই হয়েছিল তুবার। নরম তুলতুলে দেহটা লেপ্টে ছিলো শক্ত পুরুষালী দেহের সাথে। ঘনিষ্ঠ সেই মুহুর্তের কথা মনে পড়তেই ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো কৌশিক। মনে হচ্ছে নরম দেহের ছোঁয়া এখনও গায়ে লেগে আছে। তুবার চুলের মাতাল করা সুবাস এখনও নাসিকাপথে ছড়িয়ে আছে। কৌশিক চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো। লম্বা শ্বাস টেনে বিড়বিড় করলো,
"একরাতেই মেয়েটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলো নাকি? বুকে না নিলে ঘুমও আসছে না। এখন তো মনে হচ্ছে, দূরে থাকাই ভালো ছিলো। কাছে টেনে, পরান গেলো।"
ভাবতে ভাবতে ফোনটা হাতে নিলো কৌশিক। সবার প্রথম তুবার নাম্বার বের করলো। ডায়াল করতে গিয়েও কিছু একটা ভেবে থেমে গেলো। যদি ঘুমিয়ে থাকে? ফোনের কর্কশ শব্দে ঘুম ভাঙলে মাথাব্যথা করবে মেয়েটার। তারপর মাথা ধরে বসে থাকবে তুবা, অথচ বুক জ্বলবে কৌশিকের। ভাবতে ভাবতে নাম্বারটা কেটে দিলো কৌশিক। এর পরপরই মৌমিতার নাম্বারে ডায়াল করলো। দুইবার রিং বাজতেই রিসিভ হলো ফোনটা। ওপাশ থেকে শোনা গেলো মৌমিতার চিকন কন্ঠস্বর,
"কি হয়েছে? একই বাড়িতে থেকে আবার ফোন কেনো? কিছু লাগবে?"
"তোর বোনকে লাগবে। ঘুমে থাকলে আস্তে করে ডেকে তুলে পাঠিয়ে দে তো। ওকে ছাড়া ঘুম আসছে না।"
মৌমিতা বোধহয় ক্ষেপে গেলো। রাগী কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,
"মশকরা করছিস আমার সাথে? এই দিন দুপুরে তুবাকে তোর ঘরে পাঠিয়ে নিজের হাতে বিপদ ডেকে আনবো? আমি পারবো না।"
বলেই খট করে ফোনটা কে'টে দিলো। ফোন কা'টার শব্দ কানে আসতেই ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। বিড়বিড় করে আওড়ালো,
"মীরজাফর একটা। এটা আমার বোন কম শত্রু বেশি। বিয়ে দিয়ে বিদায় করতে পারলে বাঁচি।"
চোখ মুখ কুঁচকে মৌমিতাকে দু চারটে গা*লি দিয়ে ফোনটা রাখলো কৌশিক। উপায়ন্তর না পেয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজলো। ঘুম না এলে নেই। একটু বিশ্রাম তো হবে।
-
-
কথা অনুযায়ী বিকেলে জামাল সাহেবে তুবাকে ডেকে নিয়ে একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঠিক কোন কারণ ওই ভর সন্ধ্যায় ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তুবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছিলো, সেই কারণ জানতে চাইলেন। উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পেরে ভয়ে থরথরিয়ে কাঁপছিলো তুবা। অতঃপর, ওকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নিলো কৌশিক। অকপটে জবাব দিলো, ওইই বকাঝকা করেছিলো তুবাকে। সামনে তুবার বোর্ড পরিক্ষা। কিন্তু মেয়েটা এখানে এসে একদমই লেখাপড়া করছে না। তাই রাগে খানিকটা বকেছিল। এজন্য মন খারাপ করে বাড়ি ছেড়েছিল, ভুঁইয়া বাড়ির আদরের দুলালি।
লেখাপড়া বিষয়ক কথা ওঠায় কেউ আর কিছু বললেন না। তবে ময়না বেগম মেয়েকে আরও একদফা ধমকালেন। অবশেষে কোনোমতে বিচার সভার ইতি টানতে সক্ষম হলো কৌশিক।
-
-
বাড়িতে আপাতত ছোটো খাটো আয়োজন চলছে। কৌশিকের জন্মদিন উপলক্ষে ভাই বোনেরা মিলে ছাঁদ পার্টির আয়োজন করেছে। বড়রা ওদের মাঝে কোনো কালেই নাক গলায় না। এবারেও বাচ্চাদের ডিমান্ড অনুযায়ী রান্না করে দিয়ে নিজেদের মতো ঘরে বিশ্রাম করতে চলে গেলেন।
ঘড়িতে সময় রাত আটটা। বাড়ির ছাঁদে মাদুর বিছিয়ে পার্টির আয়োজন করেছে সবাই। ছাঁদের এক কোণে বেশ কিছু লাইট লাগিয়ে সেখানেই বসার ব্যবস্থা করেছে। সবাই একে একে খাবারগুলো বেছানো মাদুরে সাজাতে ব্যাস্ত। এই যেমন নীরব একে একে সফট ড্রিংকসের ক্যানগুলো সাজিয়ে রাখছে। রিয়া পকোড়ার বাটি এনে তার পাশে রাখলো। রাইমা আজ কৌশিকের জন্য নিজ হাতে পায়েস রান্না করেছে। জন্মদিনে মিষ্টিমুখ না করলে হয়? রাইমা চায়, ওর হাতে রান্না করা পায়েস দিয়েই কৌশিকের জন্মদিন পালনের সূচনা হোক। মৌমিতা বানিয়েছে কেক। এখন কেকের ওপর মোমবাতি সাজাচ্ছে।
তুবা যদিও রান্না করতে পারে না তবে আজ বেশ আগ্রহ নিয়ে ইউটিউব দেখে ফ্রুট কাস্টার্ড বানিয়েছে। অদক্ষ হাতে রান্না করতে গিয়ে হাতে খানিকটা আ'গু'নের ছ্যাকাও খেয়েছে। সেই লালচে হয়ে যাওয়া জায়গায় ফু দিতে দিতে কাস্টার্ডের বাটিটা সবার মাঝে রাখলো। মোটামুটি সবকিছু সাজানো কমপ্লিট। এখন শুধু কৌশিকের অপেক্ষা। তবে যার জন্য সবার এতো আয়োজন, সেই বান্দা কানে ফোন চেপে ছাঁদের অপর প্রান্তে কার সাথে যেনো কথা বলে যাচ্ছে। সেদিকে এক পলক তাকিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো মৌমিতা। কপাল চাপড়ে বলল,
"এই ছেলের ঘা'ড়'ত্যাড়া স্বভাব আর গেলো না। কেউ গিয়ে ডেকে আন তো। আমার ঘুম পাচ্ছে।"
মৌমিতার কথাটা বলতে যে দেরি সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো রাইমা। আগ বাড়িয়ে বললো,
"আপু, আমি ডেকে আনছি।"
তুবা কটমটিয়ে তাকালো রাইমার দিকে। ইচ্ছে তো করছে চুলগুলো সব টেনে ছিড়ে মাথা টাকলা বানিয়ে দিতে। উচ্ছ্বসিত মনে রাইমা যেই না এক কদম বাড়িয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে ওর হাত টেনে ধরলো রিয়া। মুখে জোর পূর্বক হাসি টেনে বলল,
"আরেহ্, তোমার অতো কষ্ট করা লাগবে না। তুবা আছে তো। এই তুবা যা। ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আয়।"
রাইমা বাঁধ সাধলো। ইতস্তত করে বলল,
"সমস্যা নেই রিয়া। আমি ডেকে নিয়ে আসি।"
এই পর্যায়ে মৌমিতা টেনে রাইমাকে নিজের পাশে বসিয়ে দিলো। এক হাতে রাইমার হাত পেঁচিয়ে ধরে বলল,
"তোর কোথাও যাওয়া চলবে না। কাজ কর আমার সাথে।"
চারদিক থেকে বাঁধা পেয়ে অসহায় রাইমা কৌশিকের কাছে যাওয়ার সুযোগ আর পেলো না। মন খারাপ করে মৌমিতার সাথে কেক সাজাতে লাগলো। অবশেষে ছোট্ট করে দম নিয়ে তুবা এগিয়ে গেলো ছাঁদের উল্টোদিকে। এপাশটায় বেশ অন্ধকার। তবে চাঁদের মৃদু আলোয় সবকিছু আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে। তুবা নিঃসংকোচে পা বাড়ালো সামনে। কৌশিক তখন ফোনে কারো সাথে কথা বলছিল। আচমকা কাঁচের চুরির রিনিঝিনি শব্দে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি গোচর হলো তুবার সুন্দর মুখখানা। এই নিকষ কালো আঁধারেও চাঁদের মতো জ্বলছে যেনো মুখটা। কালো চুরিদারে বেশ মানিয়েছে মেয়েটাকে। কৌশিক একবার নিজের দিকে তাকালো। ওর পড়নেও কালো ট্রাউজার আর কালো টিশার্ট। দুজনের পোশাক একই রঙের দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো কৌশিক। সামান্য ঝুঁকে তুবার মুখোমুখি হয়ে বলল,
"ব্যাপার স্যপার কি জান? আজকাল রঙ মিলিয়ে পোশাক পড়া হচ্ছে। ম্যাচিং ম্যাচিং হু?"
তুবা লাজুক হাসলো। প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,
"ফোনে কথা শেষ হলে চলুন। সবাই অপেক্ষা করছে।"
"যাবো তো বটেই। তবে তার আগে একটা পার্সোনাল কাজ আছে।"
বলেই তুবার কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো। ছাঁদের এদিকটায় বড় একটা পানির ট্যাংক আছে। কৌশিক তুবার কোমর চেপে ধরে উঁচু করে পানির ট্যাঙ্কের পেছনে চলে গেলো।
তুবা লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। গতকাল রাতের পর থেকে কৌশিকের সাথে নজর মেলাতে লজ্জা পাচ্ছে মেয়েটা। বারে বারে সেই সংবেদনশীল মুহুর্তের কথা মনে পড়ে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে মন। এখনও লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে রেখেছে। কৌশিক সেভাবেই পকেট থেকে একটা সাদা পাথরের আংটি বের করে তুবার অনামিকা আঙ্গুলে পড়িয়ে দিলো। অন্ধকারে ভালো করে বোঝা না গেলেও চাঁদর মৃদু আলোতে চকচকে পাথরটা দেখতে পেলো তুবা। ঠিক সেই মুহুর্তে শোনা গেলো কৌশিকের নিভু নিভু কণ্ঠস্বর,
"ফাস্ট নাইটে বউকে কিছু গিফট দিতে হয়। গতকাল আদর ছাড়া আমার কাছে দেয়ার মতো কিছু ছিলো না। তাই আজ দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করলাম। আমার জান! এই পাগল প্রেমিক কৌশিকের জীবনে তোকে স্বাগতম।"
এক একটা শব্দ যেনো বুকের ভেতর থেকে নিংড়ে বের করলো কৌশিক। অত্যাধিক খুশিতে তুবার চোখ জোড়া ছলছল করে উঠলো। হঠাৎ কৌশিক খেয়াল করলো তুবার হাতে কালো রঙের কাঁচের চুড়ি। ব্যাপারটা চোখে পড়তেই মৃদু হেঁসে বললো,
"চুড়ি গুলো তুই নিয়েছিলি?"
তুবা সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাতের দিকে তাকালো। গতকাল কৌশিক ছাঁদের দড়জার সামনে ফোন ভেঙে হাতের একটা প্যাকেটও ফেলে রেখে গেছিলো। তুবা সেটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছিল। আজ প্যাকেটটা খুলে তুবা তো রীতিমতো অবাক। বারো রঙের বারো মুঠো কাঁচের চুড়ি ছিলো সেখানে। তুবা খুব ভালো করেই জানে এগুলো কৌশিক ওর জন্যই কিনেছে। তাই তো নিজের জামার সাথে ম্যাচিং করে কালো চুড়ি গুলো পড়েছে। এক হাতে চুড়ি গুলো নাড়াচাড়া করতে করতে তুবা জবাব দিলো,
"আমার জিনিস, আমিই তো নিবো। কেনো? ভালো লাগছে না?"
"আমার চোখে তুই বরাবরই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী জান। তোকে ভালো না লাগলে কাকে ভালো লাগবে?"
তুবা হাসলো। বুক নিংড়ে বেরিয়ে এলো প্রশান্তির হাসি। তবে হাসিটা বেশিক্ষণ স্হায়ী হলো না। এর মাঝেই কৌশিক সামান্য ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
"তোর গিফট তো পেয়েই গেলি। তাহলে আমার গিফট কোথায়?"
"ডেজার্ট বানিয়েছি আপনার জন্য। আপাতত ওটাই গিফট।"
"উহুম! আমি অন্য গিফটের কথা বলছি।"
বলেই আবছা অন্ধকারে তুবার ঠোঁটের দিকে চাইলো কৌশিক। ইশারা বুঝতে পেরে শুকনো ঢোক গিলল তুবা। ভয়ার্ত চোখে এদিক সেদিক তাকিয়ে বলল,
"প্লিজ এখন না। সবাই ছাদেই আছে।"
কৌশিক ছাড়লো না। বরং তুবার চিকন কোমর আরও একটু নিজের সাথে এঁটে ধরে বলল,
"কোনো বাহানা শুনবো না। আই ওয়ান্ট এ কিস ফ্রম ইউ, রাইট নাউ।"
চলবে?