ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

২২তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ২২

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

*****************

আঁধারিয়া রাতে ক্ষীণ চাঁদের আলো লেপ্টে যাচ্ছে সারা অঙ্গে। আকাশ জুড়ে অল্প স্বল্প মেঘ ঘুরে বেড়াতে ব্যাস্ত। ঠান্ডা বাতাসের শীতল স্পর্শ কাটা দিয়ে উঠছে শরীর। তবুও যেনো ঠান্ডা অনুভব করছে না তুবা। বরং কৌশিকের বাহুডোরে বাঁধা পড়ে কেমন যেনো হাসফাস লাগছে। বুকের ভেতর টিপটপ আওয়াজ করছে। গতরাতের সেই ঘনিষ্ট মুহুর্ত চরমভাবে অনুভব হচ্ছে। দুজন এতোটা কাছাকাছি আসায় কৌশিকের শরীরের পারফিউমের গন্ধ তুবার নাসিকাপথ হয়ে সোজা মস্তিষ্কে বারি খাচ্ছে। তুবা চোখ দুটো বন্ধ করে মন ভরে শ্বাস নিলো। নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিলো কৌশিকের শরীরের পুরুষলী ঘ্রাণ। এই ঘ্রাণটা মাতাল করে দেয় তুবাকে। মুখের খেই হারিয়ে ফেলে। শরীর অসার হয়ে আসে। কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হয়। ঠিক যেমন এখন অনুভব হচ্ছে।

তুবা নড়েচড়ে হাসফাস করে উঠলো। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

"প্লিজ ছাড়ুন। আমার কেমন যেনো লাগছে।"

"কেমন লাগছে?"

"জানি না।"

"কেনো জানবি না?"

তুবা জবাব দিলো না। এলোমেলো দৃষ্টিতে এদিক সেদিক তাকালো। কৌশিকের শক্ত বন্ধন থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলো। তবে তাতে খুব একটা সফল হলো না। সঙ্গে সঙ্গে ভেসে এলো কৌশিকের কড়া গলার আওয়াজ,

"চোরের মতো নজর লুকাচ্ছিস কেনো? আমার চোখের দিকে তাকা।"

কন্ঠে ছিলো স্পষ্ট কতৃত্ব। তুবা শান্ত হয়ে গেলো। না চাইতেই নরম চাহনি নিক্ষেপ করলো কৌশিকের চোখে। তাকাতেই ওই পাগল করা চাহনি দেখে আরও একবার ঘোর লেগে গেলো তুবার। কৌশিক আলতো হাসলো। নিচু কন্ঠে ফিসফিস করে বলল,

"আমার চাওয়া পূরণ না করলে এখান থেকে এক পাও নড়তে দেবো না। সারা রাত এখানেই দাঁড় করিয়ে রাখবো। এবার বল তুই কি করবি?"

তুবা পড়ে গেলো মহা বিপাকে। বুকের ভেতর বিকটা শব্দে ধুক ধুক করছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি কেউ চলে আসবে। ওদের এতো ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে নিলে বিশ্রী কান্ড ঘটে যাবে। মনে হাজারও ভয় সংশয় নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করলো তুবা। কৌশিকের চাওয়া পূরণ না করলে ওকে সত্যিই এখান থেকে যেতে দেবে না। সেটা তুবা খুব ভালো করেই জানে। তাই সময় নষ্ট না করে এক হাত কৌশিকের ঘাড়ে রাখলো। অপর হাতের জায়গা হলো কৌশিকের বুকে। তুবা সতর্ক নজরে ডানে বামে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের নরম ওষ্ঠের ছোঁয়া দিলো কৌশিকের পুরুষালী ওষ্ঠে। তবে এতো নরম ছোঁয়ায় কৌশিকের ঠিক পোষালো না। সে মুহুর্তেই তুবার ঘাড়ের কাছের চুল চেপে ধরে ওষ্ঠের ছোঁয়ার গাঢ়ত্ব বাড়ালো।

-

-

প্রায় মিনিট দশকে ছাড়িয়ে গেছে তুবার যাওয়ার। এখনও দুজনের কোনো হদিস নেই। এতোক্ষণ ধরে কি করছে দুজন? অধৈর্য্য হয়ে উঠে দাঁড়ালো রাইমা। ওকে দাঁড়াতে দেখে মৌমিতা ফোন স্ক্রল করতে করতে প্রশ্ন করলো,

"কি হয়েছে? দাঁড়িয়ে পড়লি কেনো?"

"তুবা সেই কখন গেছে কৌশিক ভাইকে ডাকতে এখনও আসছে না কেনো?"

"ব্যাস্ত আছে হয়তো।"

"এই রাত বিরেতে ছাঁদে কিসের ব্যাস্ততা? দাঁড়াও, আমি ডেকে নিয়ে আসি।"

কথাটা বলেই ট্যাঙ্কের দিকে হাঁটা দিলো রাইমা। মৌমিতা চমকে ফোন থেকে নজর সরালো। নিচু স্বরে আহাজারি করে উঠলো,

"ওরে রিয়া নীরব ওকে আটকা। অসভ্যটা না জানি কি করছে। রাইমা দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।"

রিয়া, নীরব দুজনেই হকচকিয়ে গেলো। রিয়া সঙ্গে সঙ্গে ছুটলো রাইমার পেছনে।

-

-

এক গাঢ় চুম্বনে মত্ত হয়েছে কৌশিক। কোনো এক নেশার ঘোরে পাগল হয়ে উঠেছে যেনো। তুবা ছাড়া পাওয়ার জন্য হাসফাস করছে। ভয়ে আতঙ্কে মুখ শুকিয়ে গেছে মেয়েটার। কেউ দেখে ফেললে তখন কি হবে? এই কি হবে ভাবতে গিয়ে মাথা ফেটে যাচ্ছে।

মিনিট খানেক পর ছাড়লো কৌশিক। তবে নিজের বাহুডোর থেকে দূরে সারালো না। তুবা বুকে হাত রেখে হাঁপাচ্ছে। হৃদপিণ্ড লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে আসবে মনে হচ্ছে। কৌশিক এক আঙ্গুলে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল,

"নরম ছোঁয়ায় ঠিক পোষাচ্ছিল না জান। এবার মন, প্রাণ, কলিজা সব ঠান্ডা হয়ে গেছে।"

"কি হচ্ছে এখানে?"

হুট করেই বাক্যটা হাওয়ায় ভেসে এলো। সেই সাথে আচমকা নিজেদের দিকে লাইটের আলো পড়তে দেখে চমকে উঠলো তুবা। পাঁচ ছয় হাত দূরে রাইমাকে দেখে তুবা এবার পুরোপুরি হকচকিয়ে গেলো। মনে মনে ভীত হলো। কিছু দেখে ফেলেনি তো?

তবে কৌশিকের মুখে ভয়ডর কিচ্ছু নেই। আর না চেহারায় প্রকাশ পেলো কোনো ভাবান্তর। তবে বিরক্ত হলো খুব।

ঠিক সেই মুহুর্তে দৌড়ে এসে রাইমার পাশে দাঁড়ালো রিয়া। কৌশিক তখনও তুবাকে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। ওদের দুজনকে এমন ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো রিয়া। কৌশিক তখন বিরক্ত নিয়ে বলল,

"কি সমস্যা?"

রাইমার চোখ দুটো বড়বড় হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যে কোনো সময় চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। সে অবাক সুরে বললো,

"আপনারা দুজন এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?"

"তুবার চোখে কিছু একটা পড়েছিল। সেটাই দেখছিলাম।"

অকপটে জবাব দিলো কৌশিক। এমন চরম মিথ্যে বলতে একটুও বেঁধে গেলো না। বরং ঝরঝরে ফকফকে নির্ভেজাল সুরে উগড়ে দিলো। না চাইতেও রাইমা মেনে নিলো কথাটা। কিন্তু পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে বলল,

"দেখছেন চোখ। তাহলে ওর কোমরে আপনার হাত কেনো?"

"এটা আমার নিজস্ব স্টাইল। তোমার কোনো সমস্যা?"

রাইমা উপর নিচ মাথা নাড়লো। আবার ডানে বামে মাথা নাড়লো। এরপর হুট করেই বলল,

"এক মিনিট। আপনার হাতে তো লাইট নেই। এই অন্ধকারে লাইট ছাড়া চোখ কিভাবে দেখছেন?"

"তুবার শরীরের কোনোকিছু দেখতে আমার আলোর প্রয়োজন নেই। আল্লাহর দেয়া এই চোখ দুটোই যথেষ্ট।"

হেয়ালি সুরে জবাব দিয়ে তুবাকে ছেড়ে দিলো কৌশিক। এরপর আলতো করে তুবার হাত ধরে বলল,

"চল! দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

খুবই স্বাভাবিক মুখ ভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে গেলো মৌমিতার দিকে। ভাবটা এমন, যেনো একটু আগে এখানে কিছুই হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক। এই পুরোটা সময় তুবা ছিলো নিরব দর্শক।

-

-

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটলো। মৌমিতার নিজের হাতে বানানো কেকটা দুই ভাই বোন মিলে কাটলো। চারদিক থেকে ভাই বোনদের হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠলো ছাঁদের আঙিনা। মৌমিতা হাসি মুখে কৌশিককে এক টুকরো কেক খাওয়ালো। কৌশিকও মৌমিতার সামনে কেকের টুকরো ধরে ভালোবাসা রিটার্ন দিলো। এরপর আরেক টুকরো কেক তুলে নিজের পাশে দাঁড়ানো তুবার সামনে ধরলো। তুবা অল্প একটু খেয়েছে মাত্র। বাকিটা কৌশিক নিজের মুখে পুরে নিলো। এই পুরো ঘটনা ছোটো ছোটো চোখে পর্যবেক্ষন করলো রাইমা। এবং সবটা দেখে অবাকও হলো বেশ।

এক রাইমা বাদে কৌশিক সবাইকে কেক খাইয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাকিদের খাওয়ানো কেকের সম্পুর্ন অংশ যার যারটা তাকেই দিয়েছে কৌশিক। অথচ তুবা কেকটা এক কামড় নেয়ার পর বাকিটা কৌশিক নিজে খেয়ে নিলো। কিন্তু কেনো? তুবারই এঁটো করা কেক কেনো খেলো কৌশিক? ভাবনায় মাথা ধরে এলো রাইমার। বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা শুরু হলো। মনটা অশুভ স্বরে ডেকে উঠলো। রাইমার কাছে বিষয়টা মোটেই স্বাভাবিক লাগছে না। মনে মনে ঠিক করলো, ঢাকায় ফিরে কলেজে গিয়ে ধরবে তুবাকে। এই রহস্য উদঘাটন সে করেই ছাড়বে।

এদিকে কেক কাটা শেষে কৌশিক পকেট থেকে একটা ছোট্ট বক্স বের করে মৌমিতার হাতে ধরিয়ে দিলো। বড় ভাইয়ের মতো মৌমিতার মাথায় হাত রেখে আদরের সহিত বলল,

"হ্যাপি বার্থ ডে আমার জমজ। মায়ের পেট থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত আমার লেজ ধরে ঘুরে বেড়ানো ছোটো বোন। এটা তোর জন্মদিনের গিফট।"

মৌমিতা কটমট করে তাকালো। কিন্তু কিছু বললো না। বক্সটা খুলে দেখলো রোল্যাক্স ব্রান্ডের একটা সুন্দর হাত ঘড়ি। কিছুদিন আগে মৌমিতা একটা অনলাইন পেইজের কমেন্টে এই ঘড়িটার দাম জিজ্ঞেস করেছিল। কৌশিক সেটা খেয়াল করেছে দেখে মৌমিতা প্রসস্ত হাসলো। খুশি খুশি মনে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। মাথা উঁচিয়ে বলল,

"থ্যাঙ্ক ইউ ভাই। এটা আমার অনেক পছন্দ হয়েছিল।"

"হুম! আর আমার গিফট কোথায়?"

হুট করেই কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে কপাল চাপড়ালো মৌমিতা। সঙ্গে সঙ্গে কৌশিককে ছেড়ে পাশে রাখা একটা ছোট্ট ব্যাগ কৌশিকের দিকে এগিয়ে দিলো। হাত বাড়িয়ে সেটা নিয়ে খুলে দেখলো কৌশিক। নতুন একটা আইফোন। হঠাৎ এতো দামী আইফোন দেখে সন্দিহান দৃষ্টিতে মৌমিতার দিকে তাকালো কৌশিক। মৌমিতা বেশ ভাব নিয়ে বলল,

"কত সখ করে কিনেছিলি ফোনটা। অথচ রাগ দেখিয়ে এক নিমেষেই ভেঙে ফেললি। এখন পুরনো ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। তাই ভাবলাম, তোর পছন্দের ফোনটা আমার তরফ থেকে গিফট করি। বোন হই তোর। এতটুকু তো করতেই পারি।"

"সেটা বুঝলাম। কিন্তু তুই আইফোন কেনার টাকা কোথায় পেলি?"

এই পর্যায়ে ফুলিয়ে রাখা বুকটা চুপসে গেলো মৌমিতার। মাথা চুলকে চোরের মতো এদিক সেদিক তাকালো। মেকি হেঁসে বললো,

"ইয়, মানে, আসলে ভাই। পেমেন্ট তোর একাউন্ট থেকেই করেছি।"

এই পর্যায়ে ফুঁসে উঠলো কৌশিক,

"মৌয়ের বাচ্চা! দিলি তো আমার পকেটের বারোটা বাজিয়ে? লাস্ট দুটো ক্লায়েন্টের থেকে এখনও পেমেন্ট পাইনি আমি। একাউন্টে যা ছিলো ওটাই আমার বর্তমান সম্বল। এখন এই খালি পকেট নিয়ে চলবো কিভাবে আমি?"

"আরেহ্, রাখ তো তোর ধমকা ধমকি। পেমেন্ট পাসনি পেয়ে যাবি। এতে এতো চিল্লানোর কি আছে? এতো নামি-দামি ফ্রিল্যান্সার হয়ে যদি এমন কিপ্টামি করিস তাহলে কি হয়? এমন কিপ্টামি করলে কিন্তু বউ টিকবে না বলে দিলাম।"

"হা'রা'মি! বলে বড় উপকার করলি।"

দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দিলো কৌশিক। মৌমিতা গায়ে মাখলো না সেই কথা। বরং সবাইকে উপেক্ষা করে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়লো। সবাইে তাড়া দিয়ে বলল,

"ঠান্ডা ঠান্ডা পায়েস, ডেজার্ট গরম হয়ে যাচ্ছে। জলদি আয় সবাই।"

মৌমিতার তাড়া শুনে সবাই একে একে বসে পড়লো। রাইমা আগ বাড়িয়ে বাটিতে পায়েস তুলে কৌশিকের দিকে এগিয়ে দিলো। সামান্য লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে বলল,

"আজ আমি নিজের হাতে পায়স রান্না করেছি। খেয়ে দেখবেন কেমন হয়েছে?"

বলেই আশাভরা চোখে তাকালো কৌশিকের মুখের দিকে। গতকাল কৌশিক নিজে মুখে কফি খেতে চাওয়ার কারণে রাইমার আশা, ভরসা হাজার গুন বেড়ে গেছে। সে তো মনে মনে ভেবেই নিয়েছে যে, কৌশিক ওকে একটু একটু করে পছন্দ করতে শুরু করেছে।

রাইমার চোখ ভর্তি এতো এতো আশা দেখে ছলছল করে উঠলো তুবার চোখ। যে কোনো মুহুর্তে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়বে মনে হয়। তুবা ব্যথাতুর চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো কৌশিকের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে চোখাচোখি হলো দুজনার। কৌশিক চোখের ইশারায় তুবাকে আশ্বস্ত করলো। এরপর রাইমার আশা ভরসায় দুই বালতি পানি ঢেলে দিয়ে পায়ের বাটি উপেক্ষা করে তুবার বানানো ডেজার্টের বাটিটা হাতে তুলে নিলো। কৌশিকের এহেন কান্ডে চমকে গেলো রাইমা। অবাক সুরে বললো,

"একি? আপনি পায়েস খাবেন না?"

"না।"

কৌশিকের ছোট্ট জবাব। বিপরীতে রাইমা পাল্টা প্রশ্ন করলো,

"কিন্তু কেনো? আপনি তো পায়েস পছন্দ করেন।।"

"করি! কিন্তু এখন খেতে ইচ্ছে করছে না। এখন আমি কাস্টার্ড খাবো।"

বলতে বলতে এক চামচ কাস্টার্ড মুখে পুরে নিলো। সঙ্গে সঙ্গে চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো কৌশিক। মুখ থেকে বের হলো সুস্বাদু আওয়াজ,

"উমম! ইয়াম্মি! এতো টেস্টি ডেজার্ট কে বানালো? রাঁধুনির হাতে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে।"

জেনেও, ইচ্ছে করেই কথাটা বলল কৌশিক। বিপরীতে সবাই মুখ টিপে হাসছে। মৌমিতা টিপ্পনী কেটে বলল,

"ডেজার্ট তুবা বানিয়েছে। এই প্রথম। বিশেষ কারো জন্য। তবে তুই চাইলে কিন্তু ওর হাতে চুমু খেতেই পারিস ভাই। আমরা মাইন্ড করবো না।"

রিয়া নীরব মৌমিতার সুরে সুর মিলিয়ে বলল,

"হ্যা হ্যা মাইন্ড করবো না।"

কৌশিক খেতে খেতে জবাব দিলো,

"তাই নাকি? হাতটা এগিয়ে দে তো তুবা। একটা চুমু খাই।"

ভাই বোনদের ঠাট্টা মশকরায় লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে মাথা নিচু করে নিলো তুবা। কান দুটো দিয়ে আবারও ধোঁয়া বের হচ্ছে। লোকটা ইচ্ছে করে ওকে জ্বা'লা"তন করছে।

তবে ভাইবোনদের এই হাসি মজা কিছুতেই সহ্য হলো না রাইমার। এক হাতে ওড়নার কোণা মোচড়াতে শুরু করলো। চোখে মুখে রাগের ছড়াছড়ি। সহ্য সীমার বাইরে গিয়ে রাইমা সবার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলো,

"আমরা ঢাকায় ফিরছি কবে?"

"আগামীকাল রওনা হবো আমরা। বাবা তো তাই বলল।"

পায়েসের চামচ মুখে দিতে দিতে জবাব দিলো রিয়া। রাইমা আর কিছু বললো না। একদম পাথরের মতো চুপ হয়ে রইলো। ভাইবোনদের আড্ডা চললো রাত এগারোটা পর্যন্ত। আড্ডা, খাওয়ার এক ফাঁকে কৌশিক একবার তাকালো রাইমার দেয়া পায়েসের বাটির দিকে। এক চামচ চেখে দেখতে মন চাইলো যে, এটাও কফির মতো অখাদ্য বানিয়েছে কি না। কিন্তু পরক্ষণেই তুবার কথা মনে করে ইচ্ছেটাকে দমিয়ে নিলো কৌশিক। থাক, কি দরকার? এটা খেলে মেয়েটা আবারও কান্নাকাটি শুরু করবে। আর এই মেয়েটাকে কাঁদতে দেখলে কৌশিক একদম শান্তি পায় না। বুকটা ভিষণ জ্ব'লে।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন