ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

৩৫তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ৩৫

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন⛔

****************

কাঁচা হলুদের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে বাতাস। বাড়ির প্রতিটি আনাচে কানাচে লেগে আছে হলুদের ছোঁয়া। ছোটো বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রা পর্যন্ত হলুদে মুখের একাংশ রাঙিয়েছে। বাড়ির বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে একে অপরের মুখে হলুদ মাখতে। সবচেয়ে বেশি ছুটছে তুবা। দুরন্ত মেয়েটা হাতে একগাদা হলুদ নিয়ে তাড়া করে বেড়াচ্ছে রিমিকে। ইতিমধ্যে মেয়েটাকে হলুদে পুরো ভুত বানিয়ে দিয়েছে তুবা। তবুও যেনো মনের সাধ মিটছে না। হাতে একগাদা হলুদ নিয়ে ছুটছে রিমির পেছনে। হাসি মজার চক্করে পড়ে মেয়েটা যেনো দিন দুনিয়ার চিন্তা ভাবনা ভুলেই গেছে। আশেপাশে দেখার বিন্দু মাত্র সময় নেই।

তুবা যখন চঞ্চল চিত্তে এদিক সেদিক ছুটতে ব্যাস্ত, তখন কৌশিক স্টেজের এককোনায় দাঁড়িয়ে নিজের প্রাণপ্রিয়াকে ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যাস্ত। দামী আইফোনের ক্যামেরা সেকেন্ডে সেকেন্ডে ফ্রেমবন্দী করছে তুবার মুক্ত ঝরা হাসির এক একটা মুহুর্ত। ফটাফট শখানেক ছবি তুলে থামলো কৌশিক। ফোনটা স্ক্রল করতে করতে একবার করে দেখতে লাগলো ছবিগুলো। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে কানে ভেসে এলো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বাক্য। কৌশিক ভ্রু কুঁচকে পেছন ফিরে তাকালো। স্টেজ থেকে একটু নিচে দাঁড়িয়ে আছে রাতুলের চারজন বন্ধু। তারা পত্রপক্ষের সাথে মৌমিতাকে হলুদ দিতে এসেছে। হলুদ লাগানো শেষে স্টেজের নিচে দাঁড়িয়ে আশেপাশের ছবি তুলছে। সেই সাথে থেকে থেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। চারজনের মধ্যে একজন বলে উঠলো,

"এ বাড়ির ছোটো মেয়েটাকে দেখেছিস? একদম ফুটন্ত গোলাপ ভাই।"

"মেজোটাকে দেখেছি। সুন্দরী আছে বেশ।"

"ছোটোটা আরও বেশি সুন্দর। মানতেই হবে। এবাড়ির মেয়েগুলো সব আগুন সুন্দরী।"

বলতে বলতে তিনজনেই একজোটে হেঁসে উঠলো। হাসির ফাঁকে প্রথমজন আবারও বলে উঠলো,

"তবে যাই বলিস। আমি তো ছোটো টার প্রেমে পড়ে গেছি ভাই। ঠোঁটের শেপটা কি যে মারাত্মক। লিপস্টিকটা মনে হচ্ছিল ওর জন্যই বানানো হয়েছে।"

এটুকু বলে থামলো ছেলেটা। এরপর কন্ঠ খানিকটা নিচে নামিয়ে চাপা স্বরে বললো,

"শাড়ির আঁচল সরে গিয়ে এক ঝলক কোমর দেখে ফেলেছিলাম জানিস? কি মোলায়েম ত্বক রে ভাই। মাখনের মতো মসৃণ। এক পলক দেখেই তো আমার নেশা ধরে যাচ্ছিল। এই মেয়েটাকে আমার চাই।"

"স্টে ইন ইয়োর লিমিটস, ব্রো।"

আচমকা পুরুষালী কর্কশ শব্দ কানে ভেসে আসতেই ছেলেগুলো পেছন ফিরে তাকালো। ওদের থেকে দুই হাত দূরে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। ধারালো চোয়াল জোড়া বেজায় শক্ত। কপালের ফুলে ওঠা রগ তার অত্যাধিক রাগের লক্ষ্মণ বহন করছে। ভেতরে ভেতরে আগুন জ্বলছে কৌশিকের। তুবাকে নিয়ে করা ছেলেটার কমপ্লিমেন্টগুলো কৌশিকের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ইচ্ছে করছে ছেলেটার জিভ টেনে ছিড়ে দিতে। যে চোখ দিয়ে তুবাকে দেখেছে, সেই চোখ তুলে নিয়ে মার্বেল খেলতে। কিন্তু হায়। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। প্রথমত মৌমিতার বিয়ে। আর দ্বিতীয়ত এরা রাতুলের বন্ধু। তাই শুধুমাত্র বোনের কথা চিন্তা করে মনের ভেতর জ্বলতে থাকা অদোম্য রাগের আগুন লুকিয়ে ফেললো কৌশিক। ভাষা যথেষ্ট সংযত রেখে বলল,

"কারোর বিষয়ে না জেনে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। আপনারা শিক্ষিত। বুদ্ধিমান ভেবেছিলাম।"

কৌশিকের কথা শুনে ছেলেটা এগিয়ে এলো। আঙ্গুল তুলে চেনার ভঙ্গিতে বলল,

"তুমি! মৌ ভাবির ভাই তাই না?"

"জ্বি। এছাড়া আমার আরও একটা পরিচয় আছে। যে মেয়েটার বিষয়ে আপনি একটু আগে কমপ্লিমেন্ট দিলেন। সে আমার প্রাণভোমর। আর কিছু বোঝাতে হবে কি?"

কৌশিকের শেষোক্ত কথায় হকচকিয়ে গেলো চারজন। অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো কৌশিকের দিকে। মনে হচ্ছে আচমকা সাত আসমান থেকে ধপ করে মাটিতে পড়েছে। ওদের এই হতভম্ব নজর বিন্দু মাত্র প্রভাব ফেলতে পারলো না কৌশিকের ওপর। আর না কথা বলার রুচি হলো। এই মুহুর্তে কৌশিকের ভেতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। এই জ্বলন্ত আগুনের উত্তাপ তুবাকে পুড়িয়ে ছারখার করবে। পরপুরুষের সামনে ঢেং ঢেং করে নাচানাচির সাধ এবার কৌশিক মিটিয়ে দেবে। মনে মনে ফুঁসতে ফুঁসতে গটগট পায়ে বাড়ির দিকে চলে গেলো কৌশিক। তুবা একটু আগে ছুটতে ছুটতে বাড়ির ভেতরেই ঢুকেছে।

-

-

রিমিকে হলুদ মাখিয়ে মুখ ধুতে ওয়াশরুমে গেছিলো তুবা। হলুদে পুরো মুখের অবস্থা খারাপ। বহু কষ্টে ঘষে ঘষে যতটুকু পেরেছে মুখের হলুদ দাগ তুলেছে। বাকিটা নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বাইরে বেরিয়ে এলো। ঠিক এমন সময় হাতে হ্যাচকা টান পড়ায় হকচকিয়ে গেলো তুবা। সামনে তাকাতেই দেখলো কৌশিক ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরেছে। চোখ থেকে যেনো আগুনের ফুলকি ঝরছে।

বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলো তুবা। হঠাৎ কৌশিকের এই আকাশ সমান রাগের কোনো কারণ খুঁজে পেলো না। সব তো ঠিকই ছিলো। তাহলে হঠাৎ লোকটা রেগে গেলো কেনো? কৌতুহল দমাতে না পেরে তুবা প্রশ্ন করেই বসলো,

"কি হয়েছে আবার? রাগ দেখাচ্ছেন কেনো?"

"শাড়ি কেনো পড়েছিস তুই?"

আচমকা কৌশিকের এহেন প্রশ্নে ভড়কে গেলো তুবা। কিছুটা অবাক সুরে বললো,

"স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে নাকি? শাড়ি তো সেই সকালেই পড়েছি। সবার প্রথমে তো আপনাকেই দেখালাম।"

"কখন পড়েছিস সেটা জানতে চাইনি। কেনো পড়েছিস সেটা জানতে চেয়েছি।"

"সবাই তো পড়েছে। তাহলে আমি পড়লে কি দোষ?"

তুবা কথা শেষ করতেই আচমকা ওর আঁচল ভেদ করে লতানো কোমর খামচে ধরলো কৌশিক। আকস্মিক আক্রমণে কেঁপে উঠলো তুবা। নখ দেবে যাওয়ায় কোমরের চামড়া জ্বলে উঠলো। কৌশিকের যেনো সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। বরং চিকন কোমরটা আরও শক্ত করে খামচে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"শাড়ি পড়েছিস ভালো কথা। কিন্তু কোমরা কেনো দেখা গেলো? তোর দোষ এখানেই।"

তুবা ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না কাহিনি কি। কৌশিকের হঠাৎ রাগের কারণও তার অজানা। এদিকে বাড়ি ভর্তি লোকজন। ঘরের দড়জাও খোলা। ওদের এতো কাছাকাছি কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি কান্ড ঘটে যাবে। ভয়ার্ত চোখে একবার খোলা দড়জার দিকে তাকালো তুবা। অধৈর্য্য সুরে বললো,

"কি হয়েছে একটু পরিস্কার করে বলবেন? দড়জা খোলা। কেউ চলে আসবে।"

"আই ডোন্ট কেয়ার।"

"আমি জানি আপনি কোনোকিছুর পরোয়া করেন না। কিন্তু আমি করি। সরুন তো। যেতে দিন।"

কৌশিক ছাড়লো না। বরং শক্ত করে তুবাকে নিজের সাথে চেপে ধরে ওর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। লাল খয়েরি লিপস্টিকে রাঙানো ঠোঁটের দিকে তাকাতেই ছেলেগুলোর কথা আবারও মনে পড়ে গেলো। রাগটা তরতর করে কয়েক গুণ বেড়ে গেলো কৌশিকের। অত্যাধিক রাগে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালো। আচমকা শক্ত করে চেপে ধরলো তুবার লিপস্টিক রাঙানো রঙিন ওষ্ঠ। হঠাৎ অতর্কিত হামলায় ভড়কে গেলো তুবা। ভয়ে শরীর জমে গেলো। মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনে নিউরনে সংকেত দিলো, "দড়জা খোলা"। কেউ দেখলে সব রহস্য ফাঁস হয়ে যাবে।

তুবা ছাড়া পাওয়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি শুরু করে দিলো। দুই হাতে ধাক্কা দিলো কৌশিকের বুকে। কিন্তু হায়! নিজের থেকে এক চুলও দূরে সরাতে পারলো না ওকে। এদিকে কৌশিক নিজের পুরু ঠোঁট জোড়া দিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘষে যাচ্ছে তুবার নরম ঠোঁটে। উহুম! তার উদ্দেশ্য চুমু খাওয়া নয়। সে তো পাগলের মতো ঘষে ঘষে ঠোঁটের লিপস্টিক এবড়ো থেবড়ো করার প্রচেষ্টায় আছে। মিনিট দুইয়েকের ব্যবধানে ঠোঁট সরিয়ে নিলো কৌশিক। তুবার মুখের অর্ধেক অংশ জুড়ে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে কৌশিকের ঠোঁট সহ চারিদিকেও দাগ লেপ্টে গেছে। ছাড়া পেয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানলো তুবা। কৌশিক পকেট থেকে রুমাল বের করে নিজের মুখটা ঘষে মুছে নিলো। এরপর কিছুটা শক্তি প্রয়োগ করে তুবার মুখটাও মুছে দিলো। তুবা হতাশ হলো ভিষণ। কৌশিকের এই উদ্ভ্রান্তের মতো আচরণের কোনো কারণ সে খুঁজে পেলো না। অধৈর্য্য হয়ে কৌশিকের বুকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,

"সরুন তো। এমন করছেন কেনো?"

"তুই সেজেগুজে পর পুরুষের সামনে গেছিস কেনো? কোন সাহসে? বল?"

হালকা ধমকের সুরে বললো কৌশিক। তুবা হতাশ সুরে বললো,

"বাড়িতে অনুষ্ঠান। আর আমি একটু সাজবো না? এটা কি দোষের কিছু হলো?"

"কেনো সাজবি না? অবশ্যই সাজবি। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র আমার জন্য। তোর সাজ শুধু আমি দেখবো। তোকে দেখে আমি মন ভরাবো। তোর সৌন্দর্যে আমি ডুবে মরবো। অন্য কেউ কেনো দেখবে তোকে? কেনো বর্ণনা দেবে তোর ঠোঁটের? পরপুরুষ কেনো জানবে তোর কোমর ঠিক কতটা কোমল?"

বলতে বলতে আবারও কোমর খামচে ধরলো কৌশিক। তুবার চোখে এবার পানি চলে এলো। পাতলা চামরা ভেদ করে রক্ত বেরিয়ে গেছে মনে হয়। তুবা ব্যাথাতুর স্বরে বললো,

"আপনি কি পাগল?"

"এই কথা আজ জানছিস তুই? এতোগুলা বছরে বুঝিসনি আমি কেমন? হ্যা আমি পাগল। তোর জন্য পাগল। তোর প্রেমে পাগল। তোর মায়ায় পাগল। বদ্ধ উম্মাদ আমি। দেখতে চাস আমার উন্মাদনা?"

তুবা জবাব দিলো না। মাথা নিচু করে দুফোঁটা অশ্রু ছেড়ে দিলো। কৌশিক ফের বলে উঠলো,

"তুই শুধু আমার তুবা। আমার মানে শুধুই আমার। তোর ওপর আমি কোনো ছেলের ছায়াও সহ্য করতে পারি না। সেখানে একটা ছেলের নজর পড়েছে তোর ওপর। সে তোর ঠোঁটের বর্ণনা দিচ্ছে। তোর কোমরের বর্ণনা দিচ্ছে। কিভাবে সহ্য করবো আমি? আমার যে ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে। দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সবকিছু ধ্বংস করে দিতে মন চাইছে। তোর পুরো দেহ জুড়ে নিজের নামের ছাপ বসিয়ে দিতে মন চাইছে। আমি কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবো বল?"

কন্ঠ স্বর হতে নিসৃত প্রতিটি বাক্যে ছিলো ব্যাকুলতা। প্রতিটা শব্দে স্পষ্ট ক্রোধ। কৌশিক কথা শেষ করতেই তুবা আচমকা সামনে থেকে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। শক্ত বুকের সাথে নাক ঘষে মিনমিন করে বলল,

"স্যরি! ভুল হয়ে গেছে। আমার খেয়াল রাখা উচিত ছিলো। আর কোনোদিন শাড়ি পড়বো না। প্রমিস!"

তুবার আদুরে আবদারে কৌশিকের ভেতর জ্বলন্ত আগুনে এক পশলা বৃষ্টি নামলো যেনো। বুকের সাথে তুবার দেহের নরম ছোঁয়া পেতেই আকাশ সমান রাগটা হুট করেই হারিয়ে গেলো। জ্বলতে থাকা বুকটা সামান্য ঠান্ডা হলো। কৌশিক দুই হাতে আগলে নিলো তুবাকে। আলতো করে চুমু খেলো তুবার মাথায়। কাতর কন্ঠে বললো,

"জান, চল বাড়ির সবাইকে বিয়ের কথা জানিয়ে দেই। তাহলে আর লুকোচুরির কিছু থাকবে না। পুরো দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে বলবো তুই আমার বউ। তোকে সবসময় ছায়ার মতো আগলে রাখবো। এই লুকোচুরি আমার আর সহ্য হয় না।"

তুবা বুকের থেকে মাথাটা সামান্য ওঠালো। পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে কৌশিকের গলা জড়িয়ে ধরলো। মুখোমুখি হয়ে কৌশিকের চোখে চোখ রেখে বলল,

"আপুর বিয়েটা হয়ে যাক। তারপর নাহয় বলবেন। আমি জানি না পরিবার ঠিক কিভাবে রিয়্যেক্ট করবে। এখন জানালে বিয়েতে ঝামেলা হবে।"

কৌশিক বুঝদারের মতো মাথা দোলালো। দৃঢ় কন্ঠে বললো,

"এরপরই বাড়িতে জানাবো। তখন একদম বারন করবি না।"

"আচ্ছা করবো না।"

কৌশিক আস্বস্ত হলো। তুবাকে ছেড়ে দিয়ে দুজনের মধ্যে দুরত্ব রেখে দাঁড়ালো। তুবার দিকে তর্জনী তাক করে শাসনের সুরে বললো,

"এক্ষুনি শাড়ি খুলে সালোয়ার কামিজ পড়বি। মুখের সব সাজ তুলে সাধারণ ভাবে নিচে যাবি। মনে থাকবে?"

তুবা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা দোলালো। কৌশিক যেনো এতোক্ষণে স্বস্তি পেলো খুব। তুবাকে চেঞ্জ করতে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।

কৌশিক চলে যেতেই বারান্দার অপর প্রান্ত থেকে বেরিয়ে এলো রাইমা। বারান্দার পিলারের পাশে লুকিয়ে ছিলো সে। হাতের ফোনটা নাড়াচাড়া করতে করতে সিঁড়ি মারিয়ে নিচে নেমে গেলো সে। ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি।

-

-

রাত তখন প্রায় বারোটার কাছাকাছি। হলুদের অনুষ্ঠান একটু আগেই শেষ হয়েছে। আপাতত সবাই যার যার ঘরে বিশ্রাম নিতে ব্যাস্ত। সারাদিনের ধকল শেষে নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমেরা আছড়ে পড়লো সবার চোখের ভাঁজে। কৌশিক সবে মাত্র গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে। রাতে ঘুমানোর আগে তার গোসল করার অভ্যাস। এজন্য গভীর রাত হলেও শরীর একবার ভেজাতেই হয়।

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছছিল কৌশিক। ঠিক এমন সময় ঘরে আগমন ঘটলো কনকচাঁপা বেগমের। ভদ্র মহিলার চেহারা বেজায় থমথমে হয়ে আছে। হঠাৎ এতো রাতে নিজের ঘরে মাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো কৌশিকের। চলন্ত হাত জোড়া থামিয়ে প্রশ্ন করলো,

"মা! তুমি এতো রাতে আমার ঘরে? কোনো দরকার?"

"তুবার সাথে তোর কি সম্পর্ক?"

আচমকা কনকচাঁপা বেগমের এহেন প্রশ্নে কিছুটা ভড়কে গেলো কৌশিক। এই মুহুর্তে সে এই প্রশ্নের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। তাই হুট করে কি উত্তর দেবে ঠিক ভেবে পেলো না। কিছুটা অবাক সুরেই বলল,

"মানে? কি বলতে চাইছো?"

"কিছু বলতে নয় জানতে চাইছি আমি। তুবা আর তোর মধ্যে কি চলছে? সত্যি করে বলবি কৌশিক। আমি মিথ্যে একদম সহ্য করবো না।"

কনকচাঁপা বেগমের থমথমে চেহারাই বলে দিচ্ছে তিনি হয়তো কিছুটা জেনে গেছেন। এজন্যই সোজাসুজি ছেলেকে প্রশ্ন করতে এসেছেন। এখানে মিথ্যে বলে আদোতেও কোনো বিশেষ লাভ হবে না। তাই কৌশিক আর মিথ্যে বাহানা সাজানোর ব্যার্থ চেষ্টাও করলো না। সে সোজাসুজি জবাব দিলো,

"ভালোবাসি তুবাকে। ভিষণ ভালোবাসি। জান প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।"

বলেই শান্ত চোখে নিজের মায়ের দিকে তাকালো। কনকচাঁপা বেগমের চোখে মুখে বিস্ময়। তিনি বিস্মিত কন্ঠে বললেন,

"আর তুবা?"

"ভালোবাসাটা দুজনের তরফ থেকেই।"

এই পর্যায়ে কনকচাঁপা বেগম ধপ করে খাটের ওপর বসে পড়লেন। মাথায় হাত রেখে আহাজারি করে বললেন,

"ইয়া খোদা! এ কি অনর্ত হলো। এবার যে পরিবারে ঝড় উঠবে। এই পরিবার ভেঙে যাবে। এ তুই কি করলি আব্বা?"

"অন্যায় কি করেছি মা? ভালোবাসা কি কোনো অপরাধ?"

কথাটা বলতেই সঙ্গে সঙ্গে গালে সজোরে থাপ্পড় পড়লো কৌশিকের। থাপ্পড়টা খেয়ে মুখ একদিকে ঘুরে গেলো কৌশিকের। কনকচাঁপা বেগম রাগে ফুঁসে উঠে বললেন,

"নিজের ছোটো বোনের সাথে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াতে লজ্জা করলো না? আবার বুক ফুলিয়ে বলছিস কোনো অন্যায় করিসনি?"

"ভালোবাসা অন্যায় কবে থেকে হলো মা?"

"ভালোবাসা অন্যায় নয়। কিন্তু ভালোবাসার নাম করে চুম.........."

বলতে গিয়েও থেমে গেলেন তিনি। মুখের কথাগুলো খুব কষ্টে গিলে নিলেন। তার আচার আচরণ খুবই অদ্ভুত। চোখের দৃষ্টিও এলোমেলো। মনে হচ্ছে তিনি কিছু একটা লুকোতে চাইছেন। কোনো কথা, যা তিনি কৌশিককে জানতে দিতে চাইছেন না। যার দরুন ফ্যানের বাতাসেও কুলকুল করে ঘামছেন তিনি। কোনোমতে শাড়ির আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছে বললেন,

"কিছুদিন তুবার থেকে দূরে থাকবি।"

"সম্ভব নয় মা।"

"কোনটা সম্ভব আর কোনটা অসম্ভব, সেটা খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবি।"

এক রহস্যজনক বাক্য ছুড়েই দুরন্ত গতিতে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। রেখে গেলেন চিন্তিত ছেলেকে। কি বলে গেলো তার মা? তার চোখ মুখ এমন অদ্ভুত দেখাচ্ছিল কেনো? কি লুকোতে চাইছে কৌশিকের থেকে?

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন