ফন্ট সাইজ:
থিম:
রক্তমুকুট

18

লেখক: জান্নাতুল ফেরদৌস

মেহরাব ঘোড়া থেকে নেমে এগিয়ে যেতেই দেখল কেউ নেই সেখানে। কিন্তু সে দেখেছিলো এক অবয়ব সাহারা সাথে ধাক্কা লাগতে। সাহারাও এদিকে ওদিকে খুঁজছে। লোকটা কি ভূতের মত হাওয়া হয়ে গেল? মেহরাব বলল

“বা দাও”

"হুমম, আমি যাচ্ছি।"

"যাও।"

"আর আপনি? আমাকে যা যা সব বলেছেন সব কিছুর বদলা নেবো”

মেহরাব ঠোঁট চেপে হাসল।

"আপনার আদেশ শিরোধার্য মগা….উফ মহারানী। আজ্ঞা দিলে আমি যেতে পারি”

সাহারা সন্দেহভরা চোখে তাকাল। তারপর দ্রুত মহলের পেছনের দিকে ছুটল। মেহরাব কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখল। এরপর অশ্ব ঘুরিয়ে আমিরাবাদের দিকে চলে গেল। মহলের পেছনের পুরনো প্রাচীর আবছা অন্ধকার। সবাই এখনও ঘুমিয়ে। সাহারা চারপাশ দেখে নিল। কেউ নেই। এক লাফে প্রাচীর বেয়ে উঠে গেল। তারপর ধপ! করে ভেতরে লাফিয়ে পড়ল। উঁচু থেকে লাফ দেওয়ায় বসে পড়লো সে। উঠে দাঁড়াতেই বরফের মত জমে গেল। একদম সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ। উঁচু দেহ, পরিপাটি অবয়ব। স্বয়ং মুয়াজ ইবনে হামজা। দুজনেই স্থির, দুজনেই হতভম্ব।

সাহারার মনে হলো বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা বুঝি থেমে গেছে। হায় আল্লাহ! শেষ! আজকে আর রক্ষা নেই। মুয়াজও কম অবাক হয়নি।

ভোরবেলায় প্রাচীর টপকে একটা মেয়ে মহলের ভেতর লাফিয়ে পড়েছে। মুখে ধুলো। পোশাকে শুকনো পাতা আটকে আছে। এক পায়ে কাপড় বাঁধা। দেখে মনল হচ্ছে যেন কোনো যুদ্ধ করে ফিরেছে। এহেন কান্ডে দুজনেই হতভম্ব। কয়েক মুহূর্ত কেউ কোনো কথা বলল না।নতারপর মুয়াজ ভদ্রভাবে বলল

"আসসালামু আলাইকুম।"

সাহারা প্রায় লাফিয়ে উঠল।

"ওয়া... ওয়ালাইকুমুস সালাম!"

মুয়াজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,

"আপনি এখন বাইরে থেকে ফিরছেন?”

সাহারা শুকনো ঢোক গিলল।

"না।"

"আমি নিজ চোখে দেখলাম।"

"আসলে... ব্যাপারটা সেরকম না।"

সাহারা মরিয়া হয়ে বলল,

"আমি... আমি পাখি দেখতে গিয়েছিলাম।"

মুয়াজ চুপ করে রইল। সাহারা বুঝল উত্তরটা খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। আরও বিপদ হলো যখন মুয়াজের চোখ গিয়ে থামল তার পায়ে বাঁধা কাপড়ের দিকে।

"আপনার আঘাত লেগেছে?"

সাহারা তড়িঘড়ি করে ওড়না নামিয়ে ঢেকে ফেলল।

"না! না মানে না”

মনে মনে বলে

“এবার যদি আপার হবু বর সব বলে দেয়, তাহলে মণি মা আমাকে জীবিত কবর দিয়ে ফেলবে!”

সাহারার মনে হচ্ছিল তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা এখনই লাফিয়ে বাইরে চলে আসবে।

মুয়াজের মুখে স্বভাবসুলভ ভদ্র হাসি থাকলেও চোখে স্পষ্ট বিস্ময়। সাহারা দ্রুত নিজের ওড়না ঠিক করল। চুলের ফাঁকে আটকে থাকা শুকনো পাতাগুলো ঝেড়ে ফেলল।

তারপর এমন ভাব করল যেন কিছুই হয়নি।

মুয়াজ শান্ত স্বরে বলল,

"আমি যদি ভুল না দেখে থাকি, আপনি একটু আগেই প্রাচীর টপকে ভেতরে এলেন।"

সাহারা শুকনো হেসে বলল,

"আসলে যা ভাবছেন তা নয়। ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।"

"ও, তাই নাকি?"

"জি।"

মুয়াজ ভদ্রভাবে মাথা নাড়ল।

"তাহলে বলুন, শুনছি।"

সাহারা দ্রুত মাথার ভেতর গল্প বানাতে লাগল।

তারপর বলল,

"আমার একটা টিয়া পাখি আছে।"

"টিয়া পাখি?"

"জি। খুবই আদরের।"

"হুম।"

"কাল রাতে খাঁচা থেকে বের হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।"

মুয়াজ নীরবে শুনছে। সাহারা উৎসাহ পেয়ে আরও বলতে লাগল,

"আমি ওকেই খুঁজতে গিয়েছিলাম।"

"রাতভর?"

"ও অনেক দূরে উড়ে গিয়েছিল।"

"আচ্ছা।"

"তারপর ধরতে ধরতে ভোর হয়ে গেছে।"

মুয়াজ এবার ঠোঁট চেপে হাসল। সাহারা একটু সাহস পেল।

"আপনি কাউকে বলবেন না তো?"

"কি বলব না?"

"যে আমি বাইরে গিয়েছিলাম।"

মুয়াজ দুহাত পেছনে রেখে দাঁড়াল।

"আপনি যদি সত্যিই শুধু টিয়া পাখির খোঁজে গিয়ে থাকেন, তাহলে বলার প্রয়োজনই বা কি?"

সাহারা তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।

"হ্যাঁ! ঠিক তাই!"

মুয়াজ আবারও সৌজন্যমূলক হাসল। কিন্তু মনে মনে সে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারল না। ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল সে। সেখান থেকেই দূরে মহলের বাইরের পথটা দেখা যায়। আর সেই পথ দিয়েই একটা কালো অশ্ব এগিয়ে আসছিল। ঘোড়ার পিঠে বসেছিল দুইজন। সামনে সাহারা। পেছনে এক যুবক। অশ্বারোহীর মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। তার বসার ভঙ্গি, প্রশস্ত কাঁধ, যুদ্ধবেশ আর অস্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস চোখ এড়ানোর মতো নয়। মুয়াজ স্পষ্ট দেখেছিল। মহলের কাছাকাছি এসেই সাহারা নেমে পড়েছিল। আর যুবকটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ঘোড়া ঘুরিয়ে চলে যায়। কিন্তু সে কিছুই বলল না। কারণ মেয়েটির মুখে এমন আতঙ্ক ফুটে উঠেছে যেন বিচারসভায় দাঁড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর মুয়াজ বলল,

"আপনার পা কিভাবে আহত হলো?"

সাহারা প্রায় চমকে উঠল।

"আ... আঘাত?"

"হ্যাঁ।"

মুয়াজ নিচের দিকে তাকাল। মেহরাবের বাঁধা কাপড় এখনও দেখা যাচ্ছে। সাহারা তড়িঘড়ি করে পা লুকিয়ে ফেলল।

"ও কিছু না।"

"টিয়া পাখির কারণে?"

"জি।"

"টিয়া কি আপনাকে কামড়েছিল?"

সাহারা থমকে গেল। মুয়াজ এবার সত্যি সত্যি হাসল। বিদ্রূপ নয়, কেবল মজা পেয়েছে।

সাহারা মুখ ফুলিয়ে বলল,

"আপনি বিশ্বাস করছেন না।"

"আমি কি তা বলেছি?"

"না মানে, যেভাবে বলছেন”

মুয়াজ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

"শাহজাদী, আমি অযথা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাই না।"

সাহারা সন্দেহভরা চোখে তাকাল।

"মানে?"

"মানে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আপনার অনুমতি ছাড়া আমি কারও কাছে কিছু বলব না।"

সাহারার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

"ইনশাআল্লাহ।"

সাহারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যেন প্রাণ ফিরে পেল।

"আপনি খুব ভালো মানুষ।"

মুয়াজ মৃদু হেসে বলল,

"আল্লাহ উত্তম জানেন।"

কথা শেষ করে সে হাঁটতে শুরু করল। কয়েক কদম এগিয়ে আবার থামল। পেছনে না তাকিয়েই বলল,

"তবে একটা কথা।"

সাহারার বুক আবার ধক করে উঠল।

"কি কথা?"

"পরের বার যদি টিয়া পাখি খুঁজতে যান..."

"জি?"

"তাহলে অন্তত ঘোড়ার পেছনে বসা অবস্থায় ফিরবেন না।"

মুয়াজ আর দাঁড়াল না। শান্ত ভঙ্গিতে মসজিদের দিকে হেঁটে চলে গেল। সাহারা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখ হাঁ, চোখ বিস্ফোরিত। মনে হচ্ছে মাটির নিচে ঢুকে যেতে পারলে বাঁচে। কিছুক্ষণ পর নিজের কপালে নিজেই চাপড় মেরে বলল,

"হায় আল্লাহ! সব দেখেছে! মাল টাকে যতটা কানা ভেবে ছিলাম ততটাও না”

****

দুপুর গড়িয়ে প্রায় আসরের সময়। সূর্যের আলো রঙিন কাঁচ ভেদ করে বারান্দার বিশাল মেঝেতে নকশা এঁকে রেখেছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে মশলার গন্ধ। দূরে কোথাও ফোয়ারার পানি ঝরে পড়ছে টুপটাপ শব্দে। পৃথিবীর সব চিন্তা ভুলে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে সাহারা। ভোরের আগে ফিরেছে। তারপর পোশাক বদলানোরও শক্তি ছিল না। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েই ঘুম।

অবশেষে যখন ঘুম ভাঙল, তখন সূর্য মাথার অনেকটা পশ্চিমে। চোখ খুলেই কয়েক মুহূর্ত বোঝার চেষ্টা করল সে কোথায় আছে। নিজের কক্ষ আবিষ্কার করতেই উঠে বসলো। চুলগুলো এমন অবস্থা হয়েছে যেন ঝড় বয়ে গেছে। মুখ ধুয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এলো।

প্রথম গন্তব্য জান্নাত।

জান্নাত যোহরের নামাজ শেষ করেছে। জায়নামাজ ভাঁজ করে তুলে রাখছে। মাথায় সাদা ওড়না। সাহারা দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল।

"আপাআআ!"

জান্নাত হালকা চমকে উঠল।

"আরে!"

পরক্ষণেই বুঝল কে। মুখে মৃদু হাসি ফুটল।

"ঘুম ভেঙেছে তাহলে?"

সাহারা মাথা গুঁজে বলল,

"আমাকে কেউ ডাকল না কেন?"

"ডাকতে গিয়েছিলাম। তুই এমন ঘুমাচ্ছিলি, ডেকে আর পাপ করতে চাইনি”

সাহারা হো হো করে হেসে উঠল। জান্নাত তার কপালে আলতো চাপড় দিল।

"খেয়েছিস কিছু?"

"না, খিদেও নেই।"

"সেটা তো জানি মহারানী। আপনার আবার ক্ষুধা থাকে কবে। বসুন আমি খাবার নিয়ে আসি"

কিছুক্ষণ এভাবেই আহ্লাদ করতে থাকল। আপার বিয়ে হয়ে গেলে এই মুহূর্তগুলো আর আসবে না।

বুকের ভেতরটা কেমন কষ্টে ভরে উঠল।

তবে সে সেটা প্রকাশ করল না। হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

"আপা আমি যাচ্ছি।"

"কোথায়?"

"আমার বাচ্চাদের কাছে।"

জান্নাত দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

"আল্লাহ ওদের হেফাজত করুন।"

মহলের পূর্ব কোণাটা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় নিষিদ্ধ। কারণ সেখানে থাকে সাহারার বিচিত্র জগৎ। পাখি, পশু, সরীসৃপ, অদ্ভুত সব প্রাণী তার সংগ্রহে। বিশাল পাথরের প্রাচীর ঘেরা জায়গাটা যেন ছোটখাটো এক বন্য উদ্যান। প্রহরীরা পর্যন্ত খুব প্রয়োজন ছাড়া এদিকে আসে না। কখন কোথা থেকে কি বেরিয়ে আসে তার ঠিক নেই।

সাহারা প্রবেশ করতেই নানা রকম শব্দ ভেসে এলো। একটা সজারু আবার তাকে দেখে গড়াগড়ি খেতে খেতে এগিয়ে এলো। সাহারা হাসল।

"আমার বাবু!"

সজারুটাকে আদর করে সে সোজা চলে গেল সবচেয়ে বড় খাঁচাটার সামনে। মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। খাঁচার ভেতর বিশাল আকৃতির ঈগলটা বসে আছে। প্রথম দেখায় মনে হয় যেন কোনো রাজকীয় যোদ্ধা। সাধারণ ঈগলের চেয়ে অনেক বড়। ডানার বিস্তার প্রায় মানুষের উচ্চতার সমান।

ডানা মেলে ধরলে যেন ছোটখাটো ছায়া পড়ে যায় মাটিতে। গলার নিচের পালক সোনালি-বাদামি। পিঠের পালক গাঢ় চকোলেট রঙের। সূর্যের আলো পড়লে ধাতব ঝিলিক দেখা যায়। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত তার চোখ। তীক্ষ্ণ। গভীর অ্যাম্বার রঙের। যেন সবসময় চারপাশ বিশ্লেষণ করছে।

একজন অভিজ্ঞ শিকারীর চোখ যেমন হয়। তার বাঁকানো ঠোঁট কালচে ধূসর। নখরগুলো এত বড় যে অনায়াসে শেয়াল বা ছোট হরিণের বাচ্চা শিকার করতে পারে। সাহারা খাঁচার সামনে বসে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। এই পাখিটাকে ধরতে তার প্রায় এক সপ্তাহ লেগেছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম খাড়া পাথরের চূড়ায় বাসা ছিল এর।

সাধারণ ঈগল নয়। এটা এক বিরল পর্বত ঈগল।

যে প্রজাতির সংখ্যা বহু বছর ধরেই কমে যাচ্ছে।

শিকারি, ব্যবসায়ী আর বিদেশি সংগ্রাহকদের লোভে এদের অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

সাহাবাদের উত্তর-পূর্ব পাহাড় ছাড়া এখন আর খুব কম জায়গায় এদের দেখা যায়। এই ঈগলগুলো একাকী স্বভাবের। একবার জুটি বাঁধলে আজীবন একই সঙ্গীর সাথে থাকে। অত্যন্ত বুদ্ধিমান। অনেক সময় শিকার করার জন্য কৌশলও ব্যবহার করে। এমনকি দূর থেকে মানুষের মুখ পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। এই কারণেই ইংরেজ সংগ্রাহকরা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে বিরল শিকারি পাখির খোঁজ করছে। জীবিত একটি পূর্ণবয়স্ক পর্বত ঈগলের মূল্য ছোটখাটো ধনসম্পদের সমান। ঈগলটা সাহারাকে দেখে মাথা কাত করল। ডানা ঝাপটাল কড়কড় শব্দে। সাহারা খুশি হয়ে বলল,

"কি রে? আমাকে চিনতে পেরেছিস?"

ঈগলটা তীক্ষ্ণ স্বরে ডাক দিল। সাহারা হাসল।

মানুষের চেয়ে পশুপাখির সঙ্গে তার বোঝাপড়া যেন অনেক বেশি।

****

মেহরাব গোসল সেরে কক্ষ থেকে বের হতেই দেখললো দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জাহিদা। ভেজা চুল থেকে তখনও পানি ঝরছে। কাঁধে শুধু হালকা একটা চাদর ফেলা। সদ্য গোসলের পর শরীরে এক ধরনের সতেজতা লেগে আছে। মেহরাব ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

“তুমি?”

জাহিদা আবেদনময়ী হয়ে বলল

“জি... আমি।”

“এই সময়, আমার কক্ষে কেন?”

জাহিদা একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নিচু করল।

“আসলে কিছু কথা ছিল।”

মেহরাব টেবিলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।

“বল।”

জাহিদা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। মুখে দ্বিধা। ঠিক তখনই কক্ষের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল আলীরাজ। ভিতরে ঢুকেই দুজনকে দেখে সে নাটকীয় ভঙ্গিতে থমকে দাঁড়ালো।

“আরে আরে! আমি কি ভুল সময়ে চলে এলাম নাকি?”

মেহরাব চোখ ঘুরিয়ে তাকাল। আলী রাগ দেখিয়ে বলল

“এই এই চোখ পাকাবি না বলে দিলাম”

আলীরাজ জাহিদার দিকে তাকিয়ে মুখ গম্ভীর করে বলল,

“বেচারা আমার ভাগ্নে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই দেখছে কেউ তার শান্তি নষ্ট করতে এসেছে।”

জাহিদা বিরক্ত হয়ে বলল,

“আপনি কি বলতে চাইছেন? আর এখন কোন দিক থেকে সকাল মনে হচ্ছে আপনার কাছে?”

আলীরাজ হাত জড় করে বলল

“আমি কিছু বলছি না মা। তোমার যেই চোপা। আস্ত গাছ ভাঙানো যাবে”

সে মেহরাবের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“তবে একটা কথা সত্যি। লোকজনকে সাবধান করা উচিত। আমার এই ভাগ্নেটা দেখতে একটু বেশিই ভালো।”

“মামা!”

“না না, ভুল বললাম?”

আলীরাজ আবার জাহিদার দিকে তাকাল।

“ভাসুরের পিছে ঘুরঘুর লথা বন্ধ করো। আর আমাকেও এলটু মান্যি টান্যি করো। মামা শ্বশুর হই তেমার”

জাহিদার মুখ মুহূর্তে লাল হয়ে উঠল।

“মামা অসভ্যতা করছেন কিন্তু আপনি!”

মেহরাব বিরক্ত হয়ে কপালে হাত চাপল।

“আল্লাহর ওয়াস্তে চুপ করো দুজন।”

কিন্তু আলীরাজ থামার পাত্র নয়।

“শোনো জাহিদা, এই ছেলেটার পেছনে সময় নষ্ট কোরো না। এ শিকার কে করতে ভালোবাসে, মানুষকে নয়।”

মেহরাব বেশম খেয়ে উঠলো সাথে সাথে। জাহিদাও থ হয়ে গেছে এর কথা শুনে। ব্যাটা বলে কি?

জাহিদা এবার রাগে কাঁপতে লাগল।

“আপনাদের সাথে কথা বলাই ভুল হয়েছে।”

বলেই দ্রুত কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল সে।

দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হতেই আলীরাজ হো হো করে হেসে উঠল।

“দেখলি? আমি না থাকলে আজকে তোকে….. “

মেহরাব শুকনো গলায় বলল,

“কি সব কথা বার্তা। তোমার কাজকর্ম শেষ?”

“না। এখন শুরু।”

“মানে?”

আলীরাজ চেয়ারে বসে পা তুলে বলল,

“আজ ইংরেজ মেমসাহেব আবার তোমার খোঁজ করেছে ফেরার সময়।”

মেহরাব ভ্রু কুঁচকে তাকায়

“এলিনর ফিরে গেছে?”

“উহহহহ, ঢং দেখে বাঁচি না। কেন তের এত ফাটছে কেন রে?”

“ভাষা ঠিক করে কথা বলো। ভাগ্নে হই তোমার”

“সাহাবাদে মিশরের যুবরাজ এসেছে, শুনেছো?

“সে আসুক আমার কি তাতে?”

আচমকা কি মনে করে মেহরাব এর চোখ মুখ কঠোর হয়ে গেল। চোখাচোখি হলো দুজনের।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন