ফন্ট সাইজ:
থিম:
রক্তমুকুট

28

লেখক: জান্নাতুল ফেরদৌস

মুয়াজের যেন নিজের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ রইল না। ছুটে গিয়ে নদীর কিনার থেকে মেয়েটিকে নিজের বাহুতে তুলে নিল মুয়াজ।

"সৌদামিনী!"

তার কণ্ঠে হৃদয়বিদারক আর্তনাদে আশপাশের সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। মুয়াজ মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে লাগল।

"সৌদামিনী... ওঠো।"

কোনো সাড়া নেই তার। সে আবার ডাকল,

"মিনি... সৌদামিনী, ওঠো!"

সৈন্যরা হতবাক হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। সম্রাট হামজা আল নাসিরও কিছু বুঝে উঠতে পারলেন না। তিনি ছেলের কাছে এগিয়ে এসে বললেন,

"মুয়াজ... কে এই নারী? কি করছো তুমি? তোমার হবু শ্বশুরালয়ের সজনেরা এখানে উপস্থিত। ছাড়ও ওই নারীকে"

মুয়াজ যেন বাবার কথা শুনতেই পেল না। তার চোখে কেবল সেই মেয়েটির নজর।

"তুমি কি করে বিশ্বাস করলে, মিনি? তুমি কি করে বিশ্বাস করলে আমি অন্য কাউকে বিয়ে করব?"

কেউ কোনো কথা বলল না। সবাই স্তব্ধ। মুয়াজ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে অসহায়ের মতো মাথা নাড়ল।

"আমি তো তোমাকে বলেছিলাম না অপেক্ষা করতে? বলো বলেছিলাম না? তুমি, তুমি উঠছো না কেন মিনি? ওঠো ওঠো বলছি।"

উন্মাদের মত করতে করতে বলল

"তুমি তো আমায় বিশ্বাস করতে বলো। তাহলে কেন?"

চারপাশের দিকে তাকিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠল তার কণ্ঠ।

"কে করল তোমার এই অবস্থা?"

সৈন্যরা চমকে উঠল। মুয়াজের চোখে শোকের সঙ্গে তীব্র ক্রোধ।

"কে?"

কেউ উত্তর দিল না। সে আবার মেয়েটিকে বুকের কাছে টেনে নিল।

"আমি তোমাকে ছেড়ে যাইনি, মিনি।"

কণ্ঠটা শিশুর মতো অসহায় শোনাল।

"তুমি কেন এমন ভাবলে?"

সম্রাট স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার পুত্রের মুখে তিনি এমন অসহায়ত্ব কখনো দেখেননি। তিনি বললেন,

"মুয়াজ নিজেকে সামলাও। কথা বলো। কে এই মেয়ে?”

মুয়াজ মাথা নাড়ল।

"না, আব্বা...ওকে আমি কথা দিয়েছিলাম। বলেছিলাম আমি ওরই আছি। একটা কাজে যাচ্ছি। ফেরত আসবো আবার"

চারপাশের মানুষজনের মধ্যে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। সৌদামিনী কে? কেন মিশরের ভবিষ্যৎ সুলতান তাকে 'মিনি' বলে ডাকছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যদি সৌদামিনী তার জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণই হয়, তবে সাহাবাদের শাহজাদী জান্নাতকে বিয়ের সিদ্ধান্তে সে রাজি হয়েছিল কীভাবে? সম্রাট হামজা আল নাসিরের মুখেও এবার গভীর বিস্ময়। তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন এই মেয়েটির সঙ্গে মুয়াজের অতীত আছে, যার কথা তিনি নিজেও জানতেন না। এই নারীটি মুয়াজের জীবনের বহুদিনের গোপন এক সত্য। মাহাদি স্থির দাড়িয়ে। কিছু বলছে না। বাইজিদ শাহ্ উত্তরের আশায় মাহাদির মুখপানে চেয়ে।

ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। মুয়াজের সামনে যেন শুধু অন্ধকার। কোনোভাবেই ছাড়ছে না মেয়েটাকে। দীর্ঘ সময় কেটে গেল। তবুও মুয়াজ সৌদামিনীকে নিজের কাছ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরাল না। নদীর পাড়ে সূর্যের আলো ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। রাতের কুয়াশা পাতলা হয়ে আসছে। আশপাশের মানুষজনও একে একে সরে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু মুয়াজ একইভাবে বসে আছে। মেয়েটিকে নিজের কাছে আগলে রেখেছে। বাইজিদ শাহ এতক্ষণ নীরবে সবকিছু দেখছিলেন। এবার আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বিরক্ত স্বরে বললেন,

“এটা আবার কেমন নাটক শুরু হলো?”

তার নিজের মেয়ের কোনো সন্ধান নেই। জান্নাত কোথায়, বেঁচে আছে কি না কিছুই জানা যাচ্ছে না। আর এখানে মিশরের যুবরাজ, তার হবু জামাতা একজন অপরিচিত নারীকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। বাইজিদ শাহের কণ্ঠে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হলো।

“আমার মেয়ের কী হলো সেটার কোনো খবর নেই। আর আপনারা এখানে বসে….”

তিনি বাকিটা শেষ করতে পারলেন না। ঠিক তখনই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দেওয়ান গিন্নি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।

“জমিদার সাহেব...”

বাইজিদ শাহ বিরক্ত চোখে তাকালেন।

“কী?”

দেওয়ান গিন্নি একটু ইতস্তত করে বললেন,

“ভোর হওয়ার আগে মাঝ নদীতে এক জেলের হাঁক শুনেছিলাম।”

বাইজিদ শাহ্ ঘুরে দাড়ালেন। দেওয়ান গিন্নি বলে উঠলো

“বাবু, ভোর রাতে একজন জেলে নৌকায় করে এক নববধূকে উদ্ধার করেছিল নদী থেকে। সে নৌকা নিয়ে কোন দিকে গেছে তা বলতে পারব না। এ মেয়ে তো সেই মেয়ে হবে না, জেলে এভাবে ফেলে যেত না”

বাইজিদ শাহ্ এর কপালে দীর্ঘ ভাজ পড়ল। এই মেয়ে যদি সেই মেয়ে না হয়, একই রাতে দুজন বিয়ের কনে নদীতে পড়া টা কী কাকতালীয় হতে পারে? একে একে গ্রামবাসীরা ফিরে যাচ্ছে।

“নববধূ?”

“জি।”

তিনি আরও কাছে এসে নিচু স্বরে বললেন,

“জেলে নাকি বলেছে, নদীতে ভেসে আসা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। লাল পোশাক পরা ছিল মেয়েটার।”

বাইজিদ শাহ স্থির হয়ে গেলেন।

“তারপর?”

“জেলে তাকে নিজের নৌকায় তুলে নেয়। কোথায় নিয়ে গেছে জানি না।”

“কেউ দেখেনি?”

দেওয়ান গিন্নি মাথা নাড়লেন।

“না। তখন রাত বেশ, অন্ধকারও ছিল। লোকজনও তখন তেমন ছিল না। ওওও হ্যা তবে পাগলী চন্দ্রপ্রভা ও দেখেছিল”

বাইজিদ শাহ নদীর দিকে তাকালেন। তার বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কা জমতে লাগল। তিনি তৎক্ষণাৎ সৈন্যদের বললেন,

“ওই জেলেকে খুঁজে বের করো।”

কেউ উত্তর দেওয়ার আগেই দেওয়ান গিন্নি বললেন,

“জমিদার সাহেব, গ্রামের মানুষজনও এখন চলে যাচ্ছে।”

সত্যিই একে একে নদীর পাড় ফাঁকা হতে শুরু করেছে। যারা এতক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল, তারা নিজেদের ঘরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। তবে কি প্রজারা কিছুর আশঙ্কা করছে? মুয়াজ তখনও সৌদামিনীকে ছেড়ে ওঠেনি। যেন নারীটিকে ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো অস্তিত্ব নেই। বাইজিদ শাহ একবার তার দিকে তাকালেন। গোটা সাহাবাদ নগরীতে ছড়িয়ে পড়ল অদ্ভুত এক গুজব। কেউ জানে না কথাটা প্রথম কে বলেছে। নদীতে বিয়ের পোশাক পরা এক নববধূর লাশ পাওয়া গেছে। কেউ বলছে তাকে নাকি কোনো জেলে তুলে নিয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছে দুই যুগ আগের সেই বিভীষিকা কি আবার ফিরে এসেছে? সাহাবাদের বৃদ্ধরা কথাটা শুনেই চুপ হয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা জানেবদুই যুগ আগে এই নগরীতে ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় ১১ বছর। আজও মানুষ প্রকাশ্যে বলতে ভয় পায়। সেই পুরোনো আতঙ্কের নাম কেউ মুখে নেয় না। তবুও নামহীন সেই ভয় আজ আবার মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে।

নগরের এক প্রান্ত দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিল রশিদ ব্যাপারী। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। মাথায় পাগড়ি, কাঁধে চাদর। ভোরের বাজারে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু আজ তার মুখে বাজারের চিন্তা নেই। চোখেমুখে আতঙ্ক। পথে পরিচিত একজনকে দেখেই থেমে গেল।

"এই যে করিম! দাঁড়া তো!"

লোকটা ঘুরে তাকাল।

"কী হয়েছে রশিদ ভাই?"

রশিদ ব্যাপারী চারপাশে তাকিয়ে একটু কাছে গেল। তারপর গলা নামিয়ে বলল,

"ভোর রাতে নদীর ধারে কী হয়েছে জানিস?"

"কী?"

রশিদ ব্যাপারী চোখ বড় বড় করে বলল,

"বিশ্বাস কর ভাই, নিজের চোখে দেখেছি”

করিম আরও কাছে ঝুঁকল।

"কী দেখেছে?"

রশিদ ব্যাপারী ঢোক গিলে নিয়ে বলল,

"ভোর রাতে অন্ধকারে নদীর পাড় দিয়ে এক কালো পোশাক পরা পুরুষ যাচ্ছিল।"

"তারপর?"

"তার কোলে ছিল একটা লাল পোশাক পরা নারী।"

করিমের মুখ শুকিয়ে গেল।

"জীবিত?"

রশিদ ব্যাপারী মাথা নাড়ল।

"সেটাই তো কেউ জানে না! আবার সকাল হতেই আরেক বউ এর লা’শ নদীতে পাওয়া গেল। আমার মনে হয়... এটা কোনো মানুষের কাজ না।"

করিমের চোখ কপালে উঠে গেল।

"তাহলে?"

রশিদ ব্যাপারী চারপাশে তাকিয়ে প্রায় ফিসফিস করে বলল,

"প্রেতাত্মা।"

"আস্তাগফিরুল্লাহ!"

"চুপ! জোরে বলিস না।"

রশিদ ব্যাপারী তার হাত চেপে ধরল।

"দুই যুগ আগে যা হয়েছিল, সেটা ভুলে গেছিস? আমি বলছি, আবার সেই অশুভ সময় ফিরে এসেছে।"

করিমের মুখে আর কথা নেই। রশিদ ব্যাপারী এবার আশপাশে থাকা আরও দু-একজনকে উদ্দেশ করে বলল,

"সবাই শুনে রাখ। আজ রাতের পর কেউ একা বাইরে বের হইস না। দরজা-জানালা বন্ধ রাখবি।"

একজন জিজ্ঞেস করল,

"কেন?"

রশিদ ব্যাপারী গম্ভীর মুখে বলল,

"কারণ মানুষ হলে মানুষকে ভয় পাওয়া যায়। কিন্তু প্রেতাত্মার কোনো ঠিকানা নেই।"

কথাটা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল। একজন থেকে দুইজন। দুইজন থেকে দশজন। পুরো সাহাবাদ নগরীতে নতুন গুজবের জন্ম হলো। কালো পোশাকের এক অশরীরী পুরুষ ভোর রাতে লাল পোশাকের এক নারীকে কোলে করে নিয়ে গেছে।

কেউ বলল, সে নদী থেকে উঠেছে। আবার কেউ বলছে সে উত্তর প্রাসাদ থেকে এসেছে। আরেকজন তো শপথ করেই বলল, রাতের শেষ প্রহরে সে নিজেই কালো ছায়াটাকে দেখেছে। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা কেউ জানে না।

কিন্তু ভয় ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগল না।

সাহাবাদের সরু গলিগুলোতে দিনের বেলাতেও কেমন একটা অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এলো।

প্রাসাদের চূড়ার দিকে তাকিয়ে রশিদ ব্যাপারী বলল,

"সাবধানে থাকিস সবাই। রাতে কেউ বাইরে বের হবি না।"

সাহাবাদ আবার ভয় পেতে শুরু করেছে।

যে ভয়কে তারা দুই যুগ আগে কবর দিয়েছিল। তা আবার মাথা চারা দিয়ে উঠেছে।

সকাল গড়িয়ে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। তবুও জান্নাতের কোনো সন্ধান নেই। শাখা যেন নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে জঙ্গল চষে ফেলেছে। কোথাও ঝোপের আড়াল বাদ যায়নি। শুকনো পাতার স্তূপ, গাছের নিচ, পাহাড়ি পথ সবখানে খুঁজেছে। কিন্তু বোনের কোনো চিহ্ন নেই। তার সঙ্গে ছিল ফাইয়াজ। এতক্ষণে শাখার মনে বহুবার প্রশ্ন জেগেছে এই লোকটা আসলে কে? কোথা থেকে এলো? কেনই বা এতটা সময় তার সঙ্গে থেকে জান্নাতকে খুঁজছে? কিন্তু জান্নাতকে খুঁজে পাওয়ার দুশ্চিন্তায় তাকে সেসব জিজ্ঞেস করার ফুরসতই হয়নি। আজ নয়, অন্য কোনো দিন জিজ্ঞেস করবে। এই মুহূর্তে তার কাছে শুধু বোনকে খুঁজে পাওয়া জরুরি। দুজন অনেকটা পথ একসঙ্গে খুঁজে অবশেষে নগরের কাছে ফিরে এলো। ফাইয়াজ ঘোড়ার লাগাম টেনে থামল।

"এখান থেকে তুমি যাও।"

শাখা তার দিকে তাকাল।

"আপনি?"

"আমায় ফিরতে হবে।"

শাখা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর শুধু মাথা নেড়ে বলল,

"আপার কোনো খবর পেলে আমাকে জানাবেন দয়া করে"

ফাইয়াজ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

“পেলে নিশ্চয়ই জানাব।"

তারপর ঘোড়ার লাগাম ঘুরিয়ে চলে গেল। শাখা দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে নগরের ভেতর পা বাড়াল। নদীর পাড়ের ঘটনাটা তার কানে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগল না।

চারদিকে মানুষজনের ভিড়। সবাই বলাবলি করছে লাল পোশাকের নববধূর লা'শ পাওয়া গেছে নদীর পাড়ে।

শাখার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তও আর দাঁড়াল না সে। দৌড়ে চলে গেল নদীর পাড়ের দিকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখল পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বদলে গেছে। মুয়াজকে কয়েকজন সৈন্য ধরে রেখেছে। কিচ্ছু ঢুকছে না শাখার মাথায়

"যুবরাজ!"

সৈন্যরা ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলল। মুয়াজ জ্ঞান হারিয়েছে। নদীর পাড়ে পড়ে থাকা নারীটিকেও আর সেখানে রাখা হলো না।

মাহাদির আদেশে কয়েকজন সৈন্য সাবধানে তাকে তুলে নিল।

"মহলে নিয়ে চলো।"

মাহাদি কে দেখে শাখা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ বারবার নদীর দিকে যাচ্ছে। তারপর মুয়াজের দিকে। আবার মাহাদি কোথ থেকে এলো? কী হচ্ছে এসব? সেই অচেতন নারীর দিকে ভালো করে দেখলো। নীলচে হয়ে গেছে দেহ। এ তো আপা নয়। জান্নাত আপা তাহলে কোথায়? আর এই নারী কে?

****

অল্প সময়ের মধ্যেই সৈন্যরা দুজনকেই সাহাবাদ মহলের প্রাঙ্গণে নিয়ে এলো। মুয়াজকে কয়েকজন ধরে নিয়ে আসছে। তার মুখ ফ্যাকাসে। চোখ বন্ধ। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই সে সেই মিশরের যুবরাজ। কয়েকজন নারী মিলে নদী থেকে উদ্ধার করা মেয়েটিকে অন্দরমহলের সামনে খাটিয়ায় শোয়ালো। মহলের ভেতর আবার নতুন করে হইচই পড়ে গেল। সুনেহেরা ছুটে এলেন।

মেহেরুন্নেসা তার পেছনে। বাইজিদ শাহও দ্রুত এগিয়ে এলেন। শাখা সবার পেছনে দাঁড়িয়ে।

"নারীটি কে?"

মাহাদি কে সবাই ভূত দেখার মত দেখছে। মাহাদি মহল টাতে ভালো করে চোখ বুলায়। কত বছর পর তার প্রাণের সাহাবাদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছে সে। পুরো মহল ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল জান্নাতের বিবাহের সুবাদে। মাহাদি হাঁটু মুড়ে বসে দুহাতে মাটি মাখালো মন ভরে। তা মাথায় ছুঁইয়ে বুক ভরে শ্বাস নিলো। এই মাটির ঘ্রাণ বহু বছর পায়নি। আগের সৈন্য গুলোর চোখ চিকচিক করঋে তাদের সেনাপ্রধানকে দেখে। বাইজিদ এর চোখ ও ঝাপসা হয়ে আসছে। কী এক অদ্ভুত অনুভূতি তাদের ঘিরে ধরেছে। আবেগে কেউ স্থির থাকতে পারছে না। মাহাদি উঠে গিয়ে সম্মানের সহিত বাইজিদ এর সামনে মাথা ঝুকালো। বাইজিদ এর হাত পা কাঁপছে। ঠোঁট জোড়াও কাপছে। কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। মাহাদির গলা জড়িয়ে আসছে। এতদিন পরে তার জমিদারের মুখ খানা দেখল। কিছু বলতে যাবে এমন সময় বাইজিদ আচমকা জড়িয়ে ধরলো মাহাদি কে। মাহাদি যেন পাথর হয়ে গেল।

“বন্ধু……..”

বাইজিদের কাতর কন্ঠ। এমন বিপদের দিনে বন্ধু কে পাশে পেয়ে যেন গা থেকে দুঃখের বোঝা ঝড়ে পড়ছে। মাহাদি এই প্রথমবার আলিঙ্গন করলো বাইজিদ কে। বরাবরই বাইজিদ তাকে জড়িয়ে ধরলেও সে সম্পূর্ণ পাথরের ভূমিকা পালন করে গেছে। এই প্রথম বার নিজ হাত তুলে জড়িয়ে নিলো বাইজিদ কে। পিঠে হাত রেখে বলল

“সাহাবাদে বিপদ আসবে, আর আমি আসব না? এ আবার হয় নাকি শাহজাদা?”

বাইজিদ মাহাদির মুখে শাহজাদা শুনে তাকালো আবেগি হয়ে। মাহাদি মাথা থেকে বর্মের খোলস খুলে বলল

“সবার কাছে আপনি জমিদার হলেও, আমার কাছে সেই বাল্যবন্ধু শাহজাদাই রয়ে গেছেন”

বাইজিদ মাহাদির কাঁধে হাত রেখে বলল

“আমাদের বড় মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না”

“আমি এসে গেছি তো। খুজে আনবই বড় মা কে”

মুয়াজ ঢুলছে। জ্ঞান ফেরা ফেরা ভাব। মাহাদি চেঁচিয়ে বলল

“বন্দি করো ওই বিশ্বাস ঘাতক কে”

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 28 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন