ঘোমটা সরতেই যেন পুরো কক্ষের সময় থেমে গেল। এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল সবাই। কেউ কোনো কথা বলতে পারল না। সম্রাটের চোখ স্থির হয়ে গেল মেয়েটির মুখের ওপর। বধূবেশে দাড়িয়ে আছে সাহাবাদের ছোট শাহজাদী। বাইজিদ শাহের কনিষ্ঠ কন্যা। সাহারা জাহ্নবী। এই মেয়েটিকে নিয়ে এতদিন শুধু সাহাবাদের রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই চারিদিকে কত আলোচনা হয়েছে। তার বীরত্ব আর সাহসের কথা অনেকের ই জানা। আজ সে দাঁড়িয়ে আছে আমিরাবাদের প্রাসাদে। আর সে মেহরাবের স্ত্রী।
সম্রাটের মুখে বিস্ময়ের ছাপ এতটাই স্পষ্ট যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনও একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে বাধ্য হলো। কোথায় তিনি এতদিন ধরে পরিকল্পনা করছেন সাহাবাদকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। কীভাবে বাইজিদ শাহের হাত থেকে একে একে ক্ষমতার ভিত্তি কেড়ে নেওয়া যায়। আর আজ সেই বাইজিদ শাহেরই মেয়ে তার নিজের ঘরের বউ হয়ে এসেছে! ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাস যেন সম্রাট নিজেও কল্পনা করেননি। তার বুকের ভেতরটা ক্রোধে জ্বলে উঠল। কিন্তু মুখে তার সামান্যতম প্রকাশও করা যাবে না। মেহরাবের সামনে নয়। ছেলের চোখে বাবার প্রতি সন্দেহের ছায়া পড়তে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। সম্রাট ধীরে ধীরে নিজের মুখের ভাব স্বাভাবিক করলেন।
তারপর সাহারার দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললেন,
“তুমি কি তোমার পরিবারের মত নিয়ে এই বিয়ে করেছ?”
সাহারা মাথা নিচু করে রইল। মেহরাব উত্তর দিল,
“না, আব্বা।”
সম্রাটের চোখ সরু হয়ে এলো।
“না?”
“আমরা কাউকে জানাইনি।”
কক্ষের বাতাস আরও ভারী হয়ে উঠল। সম্রাট কিছুক্ষণ চুপ করে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
এই ছেলেটা তাকে কত বড় বিপদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে! বাইজিদ শাহ যদি জানতে পারেন তার ছোট মেয়েকে মেহরাব বিয়ে করেছে, তাহলে কী হবে? আর যদি সাহাবাদে এই খবর পৌঁছে যায়? রাজনীতি এক মুহূর্তে কোন দিকে মোড় নেবে, তার কোনো হিসাব নেই। তবুও সম্রাট ঠোঁটে সামান্য হাসি ফুটিয়ে বললেন,
“যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে... এখন আর অতীত নিয়ে কথা বলে কী লাভ।”
মেহরাব বাবার দিকে তাকাল।
“আপনি রাগ করেননি?”
সম্রাট ছেলের কাঁধে হাত রাখলেন।
“তুমি আমার ছেলে। তোমার সিদ্ধান্তকে অসম্মান করার মতো মানুষ আমি নই।”
কথাগুলো বললেও তার ভেতরে তখন ঝড়।
সাহারা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পাশ থেকে এক নারীকণ্ঠ শোনা গেল,
“আমার বউমা!”
মেহরাবের মা এতক্ষণ যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে সাহারার হাত দুটো নিজের হাতে তুলে নিলেন। চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক।
“আহা! এত সুন্দর একটা মেয়ে আমার ঘরে এসেছে, আর আমার ছেলে আমাকে কিছুই জানাল না!”
সাহারা লজ্জায় মাথা নিচু করল। মেহরাবের মা তার মাথায় স্নেহভরে হাত রাখলেন।
“কী যে খুশি লাগছে আমার! এসো মা। দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
তিনি আর এক মুহূর্তও সাহারাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখলেন না। হাত ধরে আদর করতে করতে বললেন,
“চলো, তোমাকে আমার ঘরে নিয়ে যাই। এত পথ এসে নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছ।”
সাহারা মৃদু স্বরে বলল,
“আম্মা...”
একটি শব্দেই যেন মেহরাবের মায়ের মুখ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
“আবার বলো তো!”
সাহারা একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।
“আম্মা।”
মেহরাবের মা তাকে বুকে টেনে নিলেন।
“আজ থেকে এই মহল তোমার নিজের বাড়ি মা। তুমি শুধু আমার বউমা নও, তুমি আমার মেয়ে।”
সাহারার চোখের কোণে অল্প পানি জমে উঠল। এত অচেনা এক প্রাসাদ। অচেনা মানুষ। অচেনা জীবন। তবুও এই নারীটির কণ্ঠে এমন মায়া ছিল, তার বুকের ভেতরের ভয়টুকু কিছুটা হলেও কমিয়ে দিল। মেহরাব দূর থেকে তাকিয়ে রইল।
তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি। কিন্তু সম্রাট এখনও স্থির হয়ে বসে আছেন। চোখের সামনে নিজের পুত্র আর সাহাবাদের শাহজাদীকে পাশাপাশি দেখে তার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে সাহাবাদকে তিনি নিজের আয়ত্তে করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সাহাবাদের রক্তই আজ তার রাজবংশের উত্তরাধিকারীর ঘরে এসে ঢুকল কীভাবে?
তারপরও মুখে কিছুই প্রকাশ করলেন না। জোর পূর্বক হাসি দিয়ে বললেন,
“মেহরাব।”
“জি, আব্বা?”
“তোমার স্ত্রীকে যত্নে রেখো।”
মেহরাব মাথা নত করল।
“জি।”
হারুন ওয়াসেম হেসে উঠে গেল। তার চোখ একবার পুরা দরবার খানা ঘুরে গেল। কি আশ্চর্য! মেহরাব বিয়ে করল অথচ আলীরাজের কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টা কেনন যেন গনৃডগলে ঐেকলো সম্রাটের কাছে।
*****
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আলো নামার আগেই সাহাবাদ মহলের মূল ফটকের সামনে এসে থামল এক অশ্বারোহী দূত। ঘোড়ার শরীরে পথের ধুলা। দূতের পোশাকেও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি স্পষ্ট। প্রহরী এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
“কিইইই! কোথা থেকে?”
দূত বুকের কাছে আঁকড়ে ধরা সিলমোহর করা পত্রটি এগিয়ে দিল।
“আমিরাবাদ থেকে। জমিদার সাহেবের হাতে দিতে হবে।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই পত্র পৌঁছে গেল বাইজিদ শাহের হাতে। তিনি তখন দরবারের কক্ষে বসে ছিলেন। পাশে সুনেহেরা, মেহেরুন্নেসা, শাখা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন। বাইজিদ শাহ পত্রের সিলমোহর দেখেই ভ্রু কুঁচকে ফেললেন।
“আমিরাবাদ থেকে?”
সিল ভাঙলেন তিনি। চোখ বুলাতেই মুখের সমস্ত ভাব বদলে গেল। সুনেহেরা উৎকণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কী হয়েছে?”
বাইজিদ শাহ কোনো উত্তর দিলেন না। পত্রটা আবার পড়লেন। তারপর হতাশ ভঙ্গিতে পত্রটা নামিয়ে রাখলেন।
“সাহারা...”
সুনেহেরা চমকে উঠলেন।
“সাহারার কী হয়েছে?”
বাইজিদ শাহ যেন কথাটা মুখে আনতেই পারছিলেন না।
“সাহারা বিয়ে করেছে।”
পুরো ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
“কাকে?”
বাইজিদ শাহ চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“আমিরাবাদের যুবরাজ মেহরাবকে।”
কেউ যেন বুঝতেই পারল না কথাটার অর্থ কী।
শাখা প্রথমে ভেবেছিল সে ভুল শুনেছে।
“কী?”
সুনেহেরা উঠে দাঁড়ালেন।
“মেহরাব? সম্রাটের ছেলে?”
বাইজিদ শাহ মাথা নেড়ে বললেন,
“হ্যাঁ।”
মেহেরুন্নেসা বিস্ময়ে মুখে হাত চাপা দিলেন।
“কিন্তু... সাহারা তো কাউকে কিছু বলেনি!”
শাখার মুখে অবিশ্বাস।
“কয়েকদিন ধরে জান্নাত আপার কোনো খোঁজ নেই। পুরো মহল তোলপাড় হয়ে আছে। আর এর মধ্যে সাহারা...”
কথাটা শেষ করতে পারল না সে। সুনেহেরা হতাশ হয়ে বসে পড়লেন।
“এই মেয়েটা এমন একটা কাজ কীভাবে করল?”
বাইজিদ শাহ পত্রটা আবার হাতে তুলে নিলেন।
সেখানে স্পষ্ট লেখা সাহারা জাহ্নবী স্বেচ্ছায় মেহরাব ওয়াসেমকে বিবাহ করেছে। কিন্তু বাইজিদ শাহের চোখে তখন চিন্তার চেয়ে উদ্বেগই বেশি। তিনি ধীরে বললেন,
“আমিরাবাদ আর সাহাবাদের সম্পর্ক এখন কোন দিকে যাবে, সেটাও এর সঙ্গে জড়িয়ে গেল। সম্রাট বিষয়টাকে এত সহজ ভাবে কি করে নিতে পারে?”
শাখা ক্ষোভে বলল,
“কিন্তু সাহারা কি একবারও ভাবল না? অন্তত আমাদের কাউকে জানাতে পারত!”
সুনেহেরা কপালে হাত রাখলেন।
“একদিকে জান্নাতের কোনো সন্ধান নেই। মেয়েটা বেঁচে আছে কি না তাও জানি না। অন্যদিকে সাহারা গিয়ে সম্রাটপুত্রকে বিয়ে করে বসেছে।এ কোন ছেলে মানুষী!”
বাইজিদ শাহ কিছু বললেন না। তার চোখ চলে গেল জানালার বাইরে। সাহাবাদের আকাশে তখন সন্ধ্যার রঙ। দুই মেয়ের একজন নিখোঁজ। অন্যজন শত্রু রাজ্যের যুবরাজের ঘরে বউ হয়ে গেছে। এই মহল এখন বিয়ের আনন্দে মুখর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ একের পর এক দুঃসংবাদ। শাখার চোখ সরু হয়ে আসে। এমনি এমনি এত বড় ঘটনা ঘটানোর মেয়ে তো সারা নয়। নিশ্চয়ই এর পিছনে বড়সড় কোনো কারণ আছে। তাকে দেখা করতেই হবে সাহারার সঙ্গে। সিদ্ধান্তঃ নিলো সন্ধ্যা নামলেই বেরোবে।
*****
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নামল পাহাড়ি গ্রামটায়। পশ্চিম আকাশের রক্তিম আভা ধীরে ধীরে মুছে গিয়ে চারদিক গাঢ় নীল অন্ধকারে ঢেকে গেল। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সন্ধ্যার ছায়া নেমেছে। দূরের নদীটা অন্ধকারে হারিয়ে গেলেও তার কলকল শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। রাত বাড়তেই আকাশে উঠল গোল চাঁদ। জোৎস্নার আলো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে এসে ইয়ামিনদের ছোট্ট বাড়িটার উঠোন ভাসিয়ে দিয়েছে। হিড়হিড়িয়ে বয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি বাতাস। বাতাসে শুকনো পাতা উড়ে এসে কখনো উঠোনে পড়ছে, আবার কখনো দাওয়ার কাঠের খুঁটিতে মৃদু শব্দ তুলছে। ইয়ামিন একা বসে আছে দাওয়ার ওপর। সারাদিনের পরিশ্রমে শরীর ক্লান্ত। তবুও আজ তার চোখে ঘুম নেই।
তখনই ঘরের দরজা ধীরে ধীরে খুলল। জান্নাত বেরিয়ে এলো।নঘুম আসছিল না তার। মাথার ভেতর কেমন ভার ভার লাগছিল। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে শেষমেশ বাইরে একটু বাতাস খেতে বেরিয়েছে। দাওয়ার দিকে পা বাড়াতেই হঠাৎ থেমে গেল। ইয়ামিনকে দেখতে পেল। চাঁদের আলোয় তার অবয়ব স্পষ্ট। জান্নাত সঙ্গে সঙ্গে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। মুহূর্তেই ঘুরে আবার ঘরের দিকে যেতে চাইল। পেছন থেকে ইয়ামিনের কণ্ঠ ভেসে এলো,
“আপনি চলে যাচ্ছেন কেন?”
জান্নাত থেমে গেল।
“না... আমি ভাবলাম এখানে কেউ আছে।”
ইয়ামিন হালকা হেসে বলল,
“আছি তো। এই যে আমি আছি”
জান্নাত চুপ করে রইল। ইয়ামিন দাওয়ার একপাশে রাখা ছোট্ট চৌকিটার দিকে ইশারা করল।
“বসতে পারেন।”
জান্নাত কিছুক্ষণ ইতস্তত করল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ছোট চৌকিটার এক কোণে বসল। দুজনের মাঝে বেশ খানিকটা দূরত্ব। কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না। শুধু পাহাড়ি বাতাসের শব্দ। দূরে কোনো নিশাচর পাখি ডেকে উঠল। জান্নাত চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল। কেমন অদ্ভুত এই রাত! কোথায় তার বাড়ি? কে তার আপনজন? কেন কিছুই মনে পড়ে না? মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলেই মাথার ভেতর কেমন ঝাপসা কিছু দৃশ্য ভেসে ওঠে। কিন্তু ধরতে গেলেই সবকিছু মিলিয়ে যায়। ইয়ামিন পাশ থেকে তাকে লক্ষ্য করছিল। কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙে বলল,
“আপনার নামটা তো এখনও জানা হলো না।”
জান্নাত তার দিকে তাকাল।
“আমারও তো মনে নেই।”
“জানি।”
ইয়ামিন একটু হেসে বলল,
“ দাদিমা অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে। কিন্তু আপনি কিছুই মনে করতে পারেননি।”
জান্নাত ধীরে মাথা নাড়ল।
“মনে করার চেষ্টা করি। কিন্তু যতই চেষ্টা করি, মাথাটা আরও বেশি ব্যথা করে।”
ইয়ামিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ বলল,
“চলুন, একটা কাজ করি।”
“কী?”
“আপনাকে একটা নাম দেওয়া যাক।”
জান্নাত অবাক হয়ে তাকাল।
“নাম?”
“হ্যাঁ।”
ইয়ামিনের মুখে মৃদু হাসি ফুটল।
“যেহেতু আপনার নিজের নামটা আপনার মনে নেই, ততদিন তো একটা নামে ডাকতে হবে।”
জান্নাতের ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি ফুটে উঠল।
“কী নাম দেবেন?”
ইয়ামিন কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“মায়া।”
জান্নাত পুনরাবৃত্তি করল,
“মায়া?”
“হ্যাঁ।”
“কেন মায়া?”
ইয়ামিন এবার তার দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় মেয়েটার মুখটা শান্ত দেখাচ্ছে।
“জানি না।”
একটু থেমে বলল,
“হয়তো আপনাকে দেখলে কেমন একটা মায়া লাগে।”
জান্নাত আর কিছু বলল না। অদ্ভুতভাবে শব্দটা তার খারাপ লাগল না। বুকের কোথাও যেন নরম একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। ইয়ামিন বলল,
“আজ থেকে আপনার নাম মায়া।”
জান্নাত চুপচাপ চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল। সেই রাতে পাহাড়ের নির্জন দাওয়ায় বসে নিজের জন্য একটি নতুন নাম পেল সে। মায়া। নামটা তার খুব আপন মনে হলো। কেমন রহস্যের হাসি খেলে যায় জান্নাতের মুখে। আচমকা বলে
“আমিও আপনাকে একটা নাম দিতে চাই!”
কেমন বিচক্ষণ আর সুস্থ শোনায় জান্নাতের কন্ঠ। ইয়ামিন অবাক হয়ে তাকায়। তার চোখের হাসির রেখা দেখে মনে হচ্ছে সে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক। ইয়ামিন কিছু বলার আগেই জান্নাত বলল
“শাহজাদা ইয়ামিন ইকরাম”
ইয়ামিন ফিক করে হেসে ফেলল
“কি যে বলেন না মায়া? ওসব থাকে তো রাজা-বাদশা জমিদার দের নামে। আমি কোথ থেকে শাহজাদা হব? আমি তো ইয়ামিন শেখ। এটাই ঠিক আছে। চাইলে আপনি ডাকতেই পাটেন। কিছু মনে করব না। মায়া”