#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ ২য় পরিচ্ছেদ ]
#পর্বসংখ্যা_৭
#ইসরাত_ইতি
[ ১ম অংশ ]
২য় অংশের লিংক কমেন্টে পাবেন।
10-4-2050
তারিখটা ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে। বছর ঘুরে সময়টা এপ্রিলের দশম দিনে এসে দাঁড়িয়েছে। কাল রাত থেকে ইনশিরাহ অপেক্ষা করেছে সকাল হবার,সেই দুঃসহ স্মৃতি আর যন্ত্রনার সাথে মুখোমুখি হবার, মানসিক ভাবে প্রস্তুতও সে। এবাড়ির সবাই প্রস্তুত। আজ এই শান্তিনীড় নিবিড় নিস্তব্ধ। ব্রেকফাস্ট টেবিল ফাঁকা। ভেসে আসছে না বাড়ির কর্তাদের হাঁকডাক। রান্নাঘরটা এ বাড়ির তিন গিন্নির পদচারণায় গমগম করছে না আজ।
স্মার্টফোনের পাওয়ার বাটন প্রেস করে যন্ত্রটা দূরে ছুড়ে ফেলে ইনশিরাহ।
কোনোমতে নিজেকে ফ্রেশেনআপ করে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। বাড়িতে সবাই আছে, সব্বাই। অথচ মনে হচ্ছে যেন কেউই নেই।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে। এভাবে চলতে পারে না। চুলগুলো একটা ক্লাচারে কোনোমতে আটকে সে দ্রুতপায়ে দোতলার উত্তরের সবথেকে কোণের ঘরটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, যে ঘরের দরজায় বড়বড় অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে “ছোট্টো মির্জা ইসাম দ্রিপ্ত” নেমপ্লেট টা। আর সেই সুপার ম্যানের স্টিকার। গোটা গোটা করে লেখা “ডোন্ট ডিস্টার্ব মি” লেখাটাও। ইনশিরাহ গোটা গোটা হাতের লেখাটায় আঙ্গুল বোলায়,চোখ দু'টো আচমকা ভিজে উঠলো তার। কানের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয় খিলখিল হাসির ধ্বনি। রিনরিনে গলায় যেন কেউ বলছে,“আপু। এই আপু। দেখো আমি জ'ম্বি সেজেছি।”
দোতলায় আশেপাশে কেউই নেই। ইনশিরাহ একটা ঢোক গিলে নরম গলায় ডাকে,“মাম্মা।”
ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়না। ইনায়া ততক্ষণে এসে ইনশিরাহর পেছনে দাঁড়ায়। ইনশিরাহ একটু দম ফেলে বলতে থাকে,“মাম্মা তুমি সবসময় নিজের কথাই ভাবো। একটু আমাদের কথাও কখনো ভাবো মাম্মা। পাপা নিড ইউ টুডে! আমাদেরও তোমাকে প্রয়োজন। মামাদের ফোন ধরছো না। মাম্মা ওপেন দ্য ডোর।”
রিতু পরী, ইশমাম, ইলহাম এসে দাঁড়ায়। ইনশিরাহর কথাগুলো সবাই শুনতে পেয়েছে ঘর থেকে। আলো কোনো সাড়া দেয়না। ইনশিরাহ আবারও চেঁ'চি'য়ে ওঠে,“মাম্মা তুমি দরজাটা খুলবে কি না!”
ইলহাম মির্জা সাহস করে এগিয়ে যায়, ইনশিরাহর পাশে দাঁড়িয়ে নিচুগলায় বলে,“ভাবী। বেরিয়ে এসো।”
কিছু সময় পরে আলো বলে,“তোমরা যাও ভাইয়া। আমি ঠিক আছি। সবকিছুর যোগার করো। এতিমখানা গুলোতে ইনফর্ম করো। হুজুর ডেকে আনো।”
কথায় যেন প্রাণ নেই। মিহি স্বরে যন্ত্রণা পি'ষে আওড়েছে বাক্যগুলো।
ইলহাম বলে,“যথেষ্ট হয়েছে ভাবী। ভাবী আমি তোমার থেকে বয়সে বড় হলেও তুমি সম্মানে বড়। কখনও অসম্মান করে কথা বলিনি তোমায়। আজ একটা কথা না বলে পারছি না। তুমি বাড়াবাড়ি করো ভীষণ।”
এটুকু বলে ইলহাম কয়েক মুহূর্ত বিরতি নিয়ে বলতে থাকে,“তুমি ছেলে হারিয়েছো। ভাইয়া হারায়নি? আমরা হারাইনি? ওরা পাঁচ ভাইবোন তাদের আদরের ভাইকে হারায়নি? আমরা বোন হারাইনি? কখনও আমাদের তো তুমি সান্ত্বনা দিতে আসোনি। উলটো এই তারিখটায় নিজের আলাদা দুনিয়া বানিয়ে নাও,যেখানে আমাদের ঢুকতেই দাও না। আর ভাইয়া? তার সাথে তুমি এমন কিভাবে করো প্রতি বছর?”
ইহান নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ইলহামের দিকে তাকিয়ে উঁচু গলায় বলে,“এনাফ পাপা। কি শুরু করেছো তোমরা?”
ইলহাম মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে,“আমরা কি কষ্ট পাচ্ছি না? ছেলেটা কি আমাদের ছিলো না? আমরা কি বোন হারাইনি? বোঝা উচিত তো তোর বড় মায়ের।”
ইহান রাশভারী গলায় বলে,“আমরা সবাই হারিয়েছি। দুঃখ আমাদের সবার। কিন্তু বড় মায়ের মতো নয় নিশ্চয়ই।”
তারপর ইনশিরাহর দিকে তাকিয়ে বলে,“আর তুই! খুব কথা শোনাচ্ছিস মা'কে। যা এখান থেকে। তোমরা সবাই যাও এখান থেকে। আমি বড় মাকে নিয়ে আসছি। যাও।”
কিছুটা আদেশের সুর,কিছুটা আত্মবিশ্বাস ইহানের কন্ঠে। একে একে সবাই নিচতলায় নামে, মিলাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, কত কাজ হাতে আজ।
তখন থেকে কলিং বেল বেজে যাচ্ছে । ইনায়া গিয়ে দরজা খুলে দেখে রুশফি আর রিন্তু এসেছে। একসাথে অ্যাসাইনমেন্ট করার কথা ছিলো আজ তাদের।
সবাই চলে গেলে ইহান উত্তরের সবথেকে কোণের ঘরটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কন্ঠে কোমলতা বজায় রেখে ডাকে,“বড় মা।”
ওপাশে আলো চুপচাপ। ইহান বলতে থাকে,“বড় মা, শেহার কথা ভাববে না? মেয়েটার কি দোষ? তুমি ছেলে হারিয়েছো, ও হারিয়েছে ওর মাকে। এতদিন তো এখানে ছিলো, আমরা কোনো না কোনো ভাবে ওকে সামলে রেখেছি। এ বছর তো কত দূরে। ও কি ওর জন্মদিনে তোমার থেকে একটা ফোনকল পেতে পারে না? বড় মা,আমাদের চার ভাইবোনের জন্মদিনে সবাই কত আনন্দ করি। আর ঐ মেয়েটা আজ প্রায় নয় বছর ধরে নিজের জন্মদিনের কথা ভুলে থাকে।”
ওপাশে আলো চুপচাপ। ইহান দাঁড়িয়েই থাকে। কিছুক্ষণ পরে দরজা খুলে দেয় আলো। ইহান ভেতরে ঢোকে। আলো কাঁপা কাঁপা গলায় বলে ওঠে,“দ্রিপ্তর আজ ষোলো বছর হতো তাই না'রে?”
ইহান বলে,“হতো না। হয়েছে। আমাদের দ্রিপ্তর ষোলো বছর হয়েছে।”
আলো ডুকরে কেঁদে ওঠে। ইহান বড় মাকে আগলে নেয়। চাপা কান্না একসময় তীব্র আর্তনাদ হয়ে ওঠে। বাঁধ ভাঙা কান্নায় হাঁপাতে থাকে আলো। ইহান আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,“শেহাকে ফোন দিই?”
আলো কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ায়। ইহান আলোর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে,“কাদলে আর ফোন দিয়ে কি হবে,মেয়েটা আরো বেশি মন খারাপ করবে।”
আলো চোখের পানি মুছে বলে,“না কাঁদছি না। তুই দে।”
তিনবারের বার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ হয়। ওপাশের ব্যক্তি নিশ্চুপ। আলোও কথা বলছে না। মুহূর্ত কে'টে যেতেই কান্নাভেজা কন্ঠে ওপাশ থেকে কেউ বলে ওঠে,“বড় মামী!”
আলো নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,“শুভ জন্মদিন মা।”
আবারও নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় দু'জনের মধ্যে। আলো বুঝতে পারছে মেয়েটা কাঁদছে। সে বললো,“ইহানকে পাঠাবো? আসবি?”
শেহা নিজেকে শান্ত করে বলে,“এক্সাম বড় মামী। নয়তো নিজেই চলে আসতাম।”
_সকালে খেয়েছিস?
_হু।
_কি দিয়ে?
_কাজের খালা আসেনি, তোমার ননদের স্বামী সোহানুর ইসলাম শান্ত আধাসেদ্ধ ভাত আর নুন ছাড়া চিকেন করেছিলো গতকাল রাতে। ঐ দিয়ে।
আলো চুপ হয়ে যায়। শেহা নিস্প্রান গলায় বলে,“ওনাকে বিয়ে করিয়ে দাওনা কেন বড় মামী? সৎ মা এলে আর যাই হোক রান্নাটা তো করে দেবে আমাদের।”
_শান্ত ভাইয়া কই?
_কই আবার। আজ দশই এপ্রিল তো তার আর তোমার গৃহবন্দী দিবস। সোহানুর ইসলাম শান্ত স্ত্রীর স্মৃতি রোমন্থন করছে শুয়ে শুয়ে। বড় মামী ওনাকে বিয়ে করিয়ে দাও বুঝলে, এসব আর ভাল্লাগে না।
আলো কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতেই বলে,“ইশিতা আপু খুব রে'গে যাবে যে আমার ওপর। পরপারে যদি দেখা হয় কি জবাব দেবো? ওর মানুষটাকে অন্য কারো বানিয়ে দিতে পারবো না।”
শেহা চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বলে,“ফোন রাখো বড় মামী। বড় মামার কাছে যাও। প্লিজ। আমাকে সবাই সকাল থেকে ফোন করে যথেষ্ট সান্ত্বনা দিয়েছে। কিন্তু ঐ মানুষটা তো কেবল তোমাকেই চায়। যাও।”
আলো শাড়ির আঁচলে চোখ মোছে।
দরজার বাইরে তখন ইরফান এসে দাঁড়িয়েছে। আলোর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,“কা'ট!”
আলো ঘুরে তার দিকে তাকায়। শেহা ওপাশ থেকে ইরফানের কথা শুনে শুকনো হাসি হাসে। ইরফান এগিয়ে এসে বড় মাকে ধরে বলে,“শট টা দারুন বড় মা। যথেষ্ট হয়েছে। এখন সোনামেয়ের মতো আমার বড় বাবার কাছে চলো।”
আলোর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ইহানের হাতে দিয়ে আলোকে টানতে টানতে দ্রিপ্তর ঘর থেকে বের করে সামিনের ঘরে ঢুকিয়ে ইরফান বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
ইহান ভাইয়ের কান্ড দেখছে,ইরফান ঘুরে ইহান তাজওয়ারের দিকে তাকিয়ে বলে,“এতো বোঝানোর,সান্ত্বনা দেওয়ার কি আছে? এভাবে দুজনকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেবে,ব্যস হয়ে গেল!”
ফোনের ওপাশে শেহা হেসে ফেলে ইরফানের কান্ড শুনে।
ইহানের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ইরফান শেহাকে বলে,“হ্যা শেহু! ফিউচার ডক্টরনি! আচ্ছা শোন ঐ আফিফ তোকে আর কিছু বলেছে? কোনো সমস্যায় পরলে মুখ বুজে থাকবি না। আমাকে জানাবি, লাথি মেরে সু*দির ভাইয়ের থো'বড়া ভে'ঙে দিয়ে আসবো।”
শেহা ফোনের ওপাশে মুখে ওড়না চে'পে হাসে। দু'চোখের কোণে জল জমেছে তার।
ইহান ইরফানের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে। ইরফান হাই তুলতে তুলতে ভাইকে বলে,“সরি বাট নট সরি দাদান। সু*দির ভাইকে সু*দির ভাই-ই বলতে হয়। আমি তোমার মতো অত ভদ্রলোক নই।”
তারপর ইহানের হাতে ফোনটা ধরিয়ে সামিনের ঘরের দরজায় আবারও ধাক্কা দিয়ে বলে,“অদ্রিতা আলো,আমি তোমার শশুর ইমতিয়াজ মির্জা বলছি। আধাঘণ্টার মধ্যে স্বামীকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে হাজির হও।”
হেলেদুলে ইরফান নিজের ঘরে ঢোকে। ইহান তার ক্ষ্যা'পাটে, বদমেজাজি, উড়নচণ্ডী, পাগলাটে ভাইয়ের কান্ড দেখে মুচকি হাসে। পরপর সে হাসি মিলিয়ে যায়। শেহা তখনও লাইনে। ইহান ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলে,“সামনের সপ্তাহে নিতে আসবো। পাকামি করে একা একা আসতে যাবি না।”
শেহা নরম গলায় বলে,“আচ্ছা দাদান।”
★★★
আলো স্বামীর ওষুধ খোসা থেকে খুটে বের করে এক গ্লাস পানি নিয়ে এগিয়ে যায় স্বামীর কাছে। রিক্লাইনার চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে চোখের ওপর একটা হাত দিয়ে রেখেছে সামিন। আলো চুপচাপ এগিয়ে যেতেই সে হাত সরিয়ে চোখ মেলে আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। স্বামীর হাতে ওষুধ টা দিয়ে পানি এগিয়ে দেয়। তার হাত কাঁপছে। সামিন ওষুধ টা খেয়ে স্ত্রীর মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে। আলো স্বামীর মুখোমুখি একটা চেয়ার টেনে বসে। কাল রাত বারোটার পরে দ্রিপ্তর ঘরে চলে গিয়েছিল, তারপর আর কথা হয়নি দু'জনের।
“কি? তাকিয়ে দেখছেন কি মেয়র সাহেব? আমাকে স্বার্থপর বলতে চান? বলতে চান না? আমি শুধু নিজের দুঃখকে প্রাধান্য দেই। পুত্রশোক আমি একাই পালন করি স্বার্থপরের মতো, বলবেন না? বলুন কিছু বলতে চাইলে।”
শেষের কথাটা বলতে গিয়ে আলোর গলা ধরে আসে। সামিন বলে,“চাই বলতে।”
_বলুন।
একহাত স্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে সামিন বলে,“এদিকে এসো।”
আলো এগিয়ে যায় স্বামীর কাছে। স্ত্রীকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে সামিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“কনসোল মি আছিয়া।”
আলো ডুকরে কেঁদে ওঠে। কান্না যেন বাঁধ মানছে না। সে পারেনা স্বামীকে সান্ত্বনা দিতে, সামিন পারেনা আলোকে থামাতে। সন্তান হারানোর কোনো সান্ত্বনা আদৌও হয়না, হয়না মানে হয়ই না।
রুশফি আর রিন্তু অপরাধীর মতো ইনায়ার পাশে বসে আছে। ইনায়া ওড়নার কোণে চোখের পানি মুছে নেয়। রিন্তু তার কাঁধে হাত রেখে বলে,“আজ সত্যিই খেয়াল ছিলো না আজ দশই এপ্রিল। নইলে কখনো আসতাম না।”
ইনায়া নাক টানে,ধরা গলায় বলে,“নারে। এভাবে বলিস না।”
_আলো আন্টি,সামিন আংকেল আর শেহার জন্য কষ্ট হচ্ছে খুব। দু'জন তার ছেলে হারিয়েছে,একজন তার মা।
ইনায়া ফুঁপিয়ে কাঁদছে, কিছুক্ষণ পর বলে ওঠে,“ফুপির কাছে সবথেকে আদরের ছিলো দ্রিপ্ত। সবসময় নিজের কাছে নিয়ে রাখতো দ্রিপ্তকে। দ্রিপ্তও ছিলো ফুপির পাগল। আজ দেখ, দুজন একসাথেই আছে। ওরা বোধ হয় প্ল্যান করেছিলো। নয়তো সেদিন ফুপিই কেনো দ্রিপ্তকে আনতে যাবে স্কুল থেকে।”
স্বামীর বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে আলো। সামিন আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘসময় কেউ কোনো কথা বলে নি। শুধু কিছুক্ষণ পর পর দুজন দুজনের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। হঠাৎ দরজায় ধাক্কা পরে। ইরফান মির্জা নামে রগ'চটা, দুরন্ত,ডানপিটে, বদমেজাজি ছেলেটা গম্ভীর কন্ঠে বলে,“অদ্রিতা আলো, আমি তোমার শশুর ইমতিয়াজ মির্জা আদেশ করছি, এক্ষুনি বের হও। বের হও মা জননী। তোমাকে আমাদের চাই!”
অবশেষে সামিন আর আলো ঘর থেকে বের হয়। দোতলার লিভিং রুমে সবাই অপেক্ষা করছিলো তাদের জন্য। প্রতি বছর এই দিনটা তাদের কাছে ভীষণ ভারী লাগে। তবুও নিজেদের মনকে হালকা করতে কতশত চেষ্টা সবার। মিলাদের আয়োজন হয়। দান খয়রাত হয়। সবকিছুই নিজেদের মনকে হালকা করার জন্য। এ বাড়িতে একটা দ্রিপ্ত ছিলো। আলো সামিনের একটা ডানপিটে দ্রিপ্ত ছিলো। চার ভাইবোনের একটা দ্রিপ্ত ছিলো। যে তার একমাত্র ফুপির নেওটা ছিলো। হুটহাট ফুপিকে নিয়ে কোথাও চলে যেতো। সেই দ্রিপ্ত কোথায় চলে গিয়েছে সারাজীবনের জন্য, তার প্রিয় ফুপির সাথেই চলে গিয়েছে সে। সবাইকে কাঁদিয়ে। মাম্মা পাপাকে নিঃস্ব করে।
★★★
“ভুঁইয়া ম্যানশনের” ডাইনিং রুমের দেয়াল ঘড়িতে রাত তখন সাড়ে আটটা। বাড়ির দু'জন প্রবীণ আয়া খাবার টেবিলে সবার রাতের খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত।
এ বাড়ির চার সদস্য ঠিক আটটা পয়ত্রিশ নাগাদ চারটা চেয়ার দখল করে বসে পরে।
এ বাড়ির কর্ত্রী, সাগর ভুঁইয়ার স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আটবছর আগে মা'রা গিয়েছেন। ভুঁইয়া ম্যানশনের কর্তা সাগর ভুঁইয়া নিজের প্লেটে একটা রুমালি রুটি নিতে নিতে তার দুই ছেলের দিকে তাকায়। সাগর ভুঁইয়ার বড় ছেলে সাহল ভুঁইয়া এবং ছোটো ছেলে সাঈম ভুঁইয়া উভয়ই নিজেদের ফোন ঘা'টতে ব্যস্ত। সাহলের ডানপাশের চেয়ারটি দখল করে বসে আছে তার স্ত্রী মিমি। দু'বছর আগে যাকে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করেছে সাহল ভুঁইয়া। খন্দকার এন্টারপ্রাইজের মালিকের একমাত্র কন্যা সে।
খাবার টেবিলে বাড়ির বৌ শ্বশুরের সামনে জিন্স আর ক্রপ টপ পরে ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে খাচ্ছে। সাগর ভুঁইয়া রীতিমতো বিরক্ত এই মেয়ের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখে দেখে। প্রথম প্রথম দুয়েকটা কথা শোনালেও এখন কিছু বলেন না। তিনি দৃষ্টি সরিয়ে রুটি ছিড়ে সবজি নিয়ে বলে ওঠে,“আমি বুঝিনা তোমরা এমন কি কাজ করো যে খাবার টেবিলে বসেই ফোন ঘাটার ফুরসত মেলে তোমাদের।”
তিনজনই সাগর ভুঁইয়ার এক কথায় হাতের ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে যার যার প্লেটে খাবার তুলে নেয়। সাহল ভুঁইয়ার স্ত্রী মিমি স্বভাবসুলভ বাড়ির আয়াদের কথা শোনাতে থাকে তার স্যালাডে গোলমরিচ বেশি হওয়ায়। সাগর ভুঁইয়া পুত্রবধূর দিকে একপলক বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে নিজের ছোটো পুত্রের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,“পড়াশোনা কেমন হচ্ছে তোমার? ফাইনাল কবে?”
_আর মাসখানেক পরে।
_পড়াশোনার পাশাপাশি অফিসে বসছো, খুশি হয়েছি!
সাঈম চুপচাপ বাবার কথা শুনে যাচ্ছিলো,কিন্তু খাচ্ছিলো খুবই মনযোগ দিয়ে। তার হাত থেমে যায় তখন যখন সাগর ভুঁইয়া বলে ওঠেন,“সামিন ইয়াসারের মেয়েকে নিয়ে আজকাল খুব বেশি সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছো দেখছি।”
সাহল আর মিমি একপলক সাঈমের দিকে তাকায়। সাগর ভুঁইয়া সবজির পেয়ালা থেকে কাঁচামরিচের ছোলা সরিয়ে দিয়ে বলতে থাকে,“মেয়েটার চালচলন ভীষণ অদ্ভুত। ছেলে না মেয়ে তা বোঝা দায়। শার্ট প্যান্ট পরে থাকে। নাহ! ঐ সামিন ইয়াসার মির্জা আর তার অর্ধাঙ্গিনী অদ্রিতা আলোর প্যারেন্টিং ঠিকঠাক ভাবে হয়নি।”
কথাগুলো বলে শেষ করতেই একটা ধূর্ত হাসি হেসে চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার বলে,“আজ সারা দেশে খাসি বিলিয়েছে শুনলাম বোন আর ছেলের মৃত্যু বার্ষিকী তাই। ওদের এই বছর বছরের ঢং। এসব করেই লাইমলাইট পায় সবসময়।”
সাঈম প্লেটে খাবারটা শুধু নাড়াচাড়া করতে থাকে। খাওয়া শেষ করে একে একে উঠে দাঁড়ায় সাগর ভুঁইয়া আর তার বড় ছেলে সাহল ভুঁইয়া। মিমির তখনও খাওয়া হয়ে ওঠেনি। খেতে খেতেই নিচুস্বরে দেবরকে উদ্দেশ্য করে বলে,“তোমাকে তো সুবিধার মনে হচ্ছে না সাঈম! ডুবে গেলেই নাকি ইনশিরাহতে!”
সাইম যেন খুব মজার একটা কৌতুক শুনলো,তেমন করেই হাসলো। পরপর সে হাসি মিলিয়ে গিয়ে জলদগম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে আসে তার,“অসম্ভব! থাপ্পড়টা আমি ভুলিনি!”
মিমি তাকিয়ে আছে সাঈমের দিকে। সাঈমের চোখ মুখ হঠাৎ কঠিন হয়ে যায়। সে কঠিন গলায় বলে,“উপযুক্ত সময় বুঝে আ'ছাড় মা'রবো! সময় হোক!”
চলমান.....
[ ২য় অংশের লিংক কমেন্টে 👇]#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭
#ইসরাত_ইতি
[ ২য় অংশ ]
১ম অংশের লিংক কমেন্টে।
এপ্রিলের প্যাচপেচে গরমে শহুরে জীবন অতিষ্ঠ। এপ্রিলের বিশ তারিখের পর থেকে আবহাওয়া ঠিক সুবিধার লাগছে না।
রাতে খুব একটা দেরী না করলেও খুব একটা জলদি অবশ্য ঘরে ফেরা হয়না মির্জা বাড়ির এ প্রজন্মের বড় ছেলে,ইহান তাজওয়ার মির্জার। গরমের কারণে আজ সভা ক্যানসেল করতে হয়েছে।
তাই আজ ব্যাতিক্রম ঘটেছে। রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ ইহান তাজওয়ারের বিএমডব্লিউ শান্তিনীড়ের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। আউটডোর লাইটস গুলো নেভানো,তবে বিশালাকার,সাবেকি ডিজাইনের,ডুপ্লেক্স শান্তিনীড়ের শরীরের কাঁচের জানালা কিংবা গুলগুলি দিয়ে অন্দরমহলের আলোকরশ্মি ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে বাইরে।
পার্কিং হাউজে নিজের গাড়িটাকে ঢুকিয়ে ইহান তাজওয়ার সদরদরজায় গিয়ে কলিং এলার্ম বাজাতেই হুমায়রা রিতু এসে দরজা খুলে দেয়।
ইহান মাকে একটা ক্লান্তিমাখা হাসি উপহার দিয়ে ঘরে ঢুকে দাড়িয়ে পরে। একান্নবর্তী এই সংসারে বাড়ির সব সদস্য একসাথে হলেই কেমন উৎসব উৎসব ভাব লেগে যায়। ইহানের সামনে শান্তিনীড়ের প্রতিটা মানুষ,মনে হচ্ছে যেন উৎসবে মেতেছে। গমগম করছে লিভিং রুম সহ ডাইনিং এরিয়া। আজ বড় মায়ের মনটা একটু ভালো ঠেকছে, সবার সাথে কথা বলছে। বাড়ির কাজ করছে।
এ বাড়ির কর্তা তিনজন,সামিন ইয়াসার, ইলহাম এবং ইশমাম পশ্চিমের দিকে তিনটি সোফা দখল করে বসে ব্যবসা সংক্রান্ত জরুরী আলাপ আলোচনা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথাবার্তা বলছে। তাদের প্রত্যেকের পরনে পাজামা পাঞ্জাবী।
তাদের থেকে কয়েক গজ দূরেই একটি কুশনের ওপর বসে কপাল কুঁ'চ'কে টিভির স্ক্রিনে দৃষ্টি দিয়ে আছে ইরফান মির্জা। পরনে একটা থ্রি কোয়ার্টার এবং হুডি। কিছুক্ষণ পরপর সে বিরক্তি নিয়ে বাপ চাচাদের দিকে তাকাচ্ছে। এদের দেশের আলাপের জন্য ঠিকঠাক ভাবে রেসলিং ম্যাচটা উপভোগ করতে পারছে না ইরফান।
ডাইনিং টেবিলে ইনশিরাহ আর ইনায়া বসে মা-চাচিদের মেয়েলি আলাপ শুনছিলো। সবসময় এসব আলাপ থেকে একশো হাত দূরে থাকা ইনশিরাহ ইনায়া। মাঝে মাঝে খুবই আগ্রহ নিয়ে শুনতে আসে। তবে স্বার্থ ছাড়া কিছুই না। এখানেও দুই বোনের স্বার্থ লুকিয়ে আছে। কিছুদিন সবাইকে পটিয়ে রাখার ধান্দা বলা যেতে পারে। ইনশিরাহ মাকে পটাচ্ছে তার ফটোগ্রাফি এক্সিবিসনে অংশ নেওয়ার পারমিশন আদায়ের জন্য আর ইনায়া পটাতে চাইছে তাকে যেন ট্যুরে যাওয়ার পারমিশন দেওয়া হয়।
ঘরে ঢুকে ফ্রেশেনআপ হয়ে ইহান তাজওয়ার ট্রাউজার টি-শার্টে শরীর গলিয়ে দ্রুতপায়ে নিচে নেমে আসে। তার একঘেয়েমির জীবন,আজ ঠিক করলো সবার সাথে আড্ডা দেবে।
ইনশিরাহ মা চাচীদের আলাপ শোনার ভান ধরে ছিলো,আসলে সে ব্যস্ত ছিলো সাঈমের সাথে চ্যাটিংয়ে। ইহান তাজওয়ার গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসতেই ইনশিরাহ তারাহুরো করে হাতের ফোনটা লুকানোর চেষ্টা করলো। ইহানের দৃষ্টি গোচর হয় বোনের এই অস্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু মুখে কিছুই বলেনা, সামান্য হাসলো। বোন বড় হয়েছে, হতেই পারে এমন।
ইহানকে দেখে আলো ব্যস্ত হয়ে পরে ইহানের খাবার বে'ড়ে দিতে। বড় মাকে থামিয়ে দিয়ে ইহান বলে সে কিছুক্ষণ পরে খাবে। তারপর বোনদের দিকে তাকিয়ে তাদের পড়াশোনার কথা জানতে চায়।
ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইরফান গিয়ে ভাইয়ের পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে। বাবা-চাচাদের দেশের আলাপ শোনার থেকে ভাইবোনদের সাথে আলাপে অংশ নেওয়া ভালো।
চার ছেলেমেয়ের খুনশুটিতে গমগম করছে শান্তিনীড়ের খাবার ঘরের পরিবেশ। আলো আর পরীও চেয়ার টেনে বসে ছেলেমেয়েদের কথা শুনছে।
কিছুক্ষণ পরে হুমায়রা রিতু এসে অনেকটা সংকোচ নিয়ে বড় ছেলে ইহান তাজওয়ারের পাশে দাঁড়ায়। ইহান মায়ের দিকে জিজ্ঞাসা সূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই রিতু সবার আলাপের মাঝেই হাতের ফোনটা ইহানের সামনে ধরে।
সবাই চুপ হয়ে ইহান আর রিতুকে দেখে। ইহান মায়ের হাতের ফোনের স্ক্রিনের দিকে একপলক তাকিয়ে মুখভঙ্গি গম্ভীর করে।
রিতু উৎসাহী গলায় বলতে থাকে,“তোর নানুবাড়ির এলাকার,এইবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিলো।”
ইহান খানিকটা স্তব্ধ হয়ে মাম্মার দিকে তাকিয়ে আছে। ইরফান পানি খেতেই যাচ্ছিলো,মাম্মার কথায় বিষম খেয়ে যায়। ইনশিরাহ আর ইনায়াও হতভম্ব হয়ে বড় দাদানের দিকে তাকিয়ে থাকে।
রিতু অবাক হয়ে চার ভাইবোনের দিকে তাকিয়ে বলে,“একি রে! তোরা এমন করছিস কেন সবাই!”
ইনশিরাহ আর ইনায়া মুখে হাত চেপে হাসছে,বড় দাদানের দিকে তেরছা নজরে তাকাচ্ছে বারবার।
ইহান এতক্ষণে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে,“একটা বাচ্চা মেয়ে মাম্মা! বয়স ইনায়ার থেকেও কম মনে হচ্ছে। তোমরা কি পাগল হয়েছো!”
রিতু বলে,“কোথায় বাচ্চা! আমি এই বয়সে তোকে জন্ম দিয়েছি!”
ইরফান, ইনশিরাহ আর ইনায়া উচ্চশব্দে হাসছে। রিতুর হাত থেকে ফোনটা কে'ড়ে নিয়ে পাত্রীর ছবিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে ওরা তিন ভাইবোন।
ইহান তাজওয়ার রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে,“দিস ইজ ঠু মাচ মাম্মা!”
_বাচ্চা মেয়ে? তো বড় মেয়ে নিয়ে আসলেও তো কিছু বলিস না। আর মেয়েটা বাচ্চা নয়, ভোটার আইডি কার্ড আছে। গ্রামের মেয়ে হলে কি হবে,খুবই ট্যালেন্টেড আর মেধাবী। অ্যাডমিশন ক্যান্ডিডেট। সব থেকে বড় কথা, মেয়েটি খুবই ভালো একটি মেয়ে, নিঃসন্দেহে। আমি খোজ লাগিয়ে দেখেছি।
পরী কথাগুলো বলে ইহানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ইহান যারপরনাই হতবাক হয়ে বলে ওঠে,“ছোটো মা তুমি? তোমার কাছ থেকে তো এটা আশা করিনি আমি!”
এবার আলো মুখ খোলে,গম্ভীর কন্ঠে বলে,“কি চাচ্ছিস তুই ইহান? চাকরিজীবী মেয়ে আনলাম রিজেক্ট করলি, বিশোর্ধ মেয়ে আনলাম রিজেক্ট করলি। আর কি চাস তুই? আমি কমবয়সী মেয়েকেই তোর বৌ হিসেবে লাগবে এমনটা বলছি না। কিন্তু এভাবে আর কত? এখন একটা কিছু তো বল। আর মেয়েটি এক কথায় এই বাড়ির বৌ হবার উপযুক্ত। ওকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি।”
_বড় মা তুমিও!!
ইহান হতাশ তার মা চাচীদের এমন আচরণে। কপালের রেখা দৃশ্যমান। বিরক্ত হয়ে উঠে চলে যায় বাবা চাচাদের আলোচনায় অংশ নিতে।
রিতু তার জা'দের দিকে তাকায়। তার চোখের দৃষ্টি জা দুজনকে বলছে,“এবারও হলো না!”
ইরফান হঠাৎ খিকখিক করে হেঁসে ওঠে। সবাই তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই সে হাসি থামিয়ে আলো, রিতু আর পরীকে উদ্দেশ্য করে বলে ,“তোমরা এমন স্টেরিওটাইপ ছেলের মা হয়ে উঠলে কবে থেকে আজব? তবে মাম্মা এবং চাচী আম্মারা, আপনারা মন দিয়ে শুনুন। এমন ল্যাদা বাচ্চা আনবেন না ভবিষ্যতে আমার দাদানের জন্য। আরে একে ভাবীমনি ডাকবো নাকি খুকুমনি ডাকবো আজব!”
ইনশিরাহ আর ইনায়া জোরে হেসে ওঠে ইরফানের কথায়। আলো একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,“তোমাদের টা তোমরাই খুজে নিও!”
_জি অবশ্যই। আমি কালকেই খুঁজতে নামবো। দাদানের জন্য একটা,আমার জন্য একটা।
হাসতে হাসতে জবাব দেয় ইরফান।
রিতু ছেলের কান মলে দিয়ে বলে,“আগে দাদানের বিয়ে হোক। তারপর নিজের কথা ভেবো!”
_কেন মাম্মা আমি আগে বিয়ে করলে কি হবে। পাপাও তো বড় বাবার আগে বিয়ে করেছে।
পরী বলে,“সে তোমার পাপা করে করুক। এ বাড়িতে দুজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে ইহানের বিয়ে আগে হবে আর মেয়েদের মধ্যে ইনশিরাহর। ইহানের বিয়ে দিয়ে বাড়িতে একটা পুতুল পুতুল বৌ আনবো আর ইনশিরাহকে রাজপুত্রের মতো দেখতে ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দেবো।”
ইনশিরাহ জড়োসড়ো হয়ে বসে পরীর কথায়, বিয়ের কথা শুনে গোটা মুখ ছেয়ে গেছে তার অস্বস্তিতে। ইরফান পরীর কথার পিঠে বললো,“এটা নিয়ম নাকি! যে ওদের বিয়ে আগে দিতেই হবে? দেখবে একদিন দুম করে আগে আমি বৌ আর ইনু জামাই নিয়ে উপস্থিত হবো,তোমাদের এই নিয়ম ভে'ঙে দিয়ে। তাইনারে ইনু?”
মেজো দাদানের কথায় ঈষৎ লজ্জা পায় ইনায়া। এমনটা কখনোই হবে না, সে কখনোই এমন নির্লজ্জের মতো কাজ করবে নাকি! কখনোই না!
খানিক বাদে, খেতে বসেছে সবাই। বাড়ির গৃহকর্ত্রীরা খাবার পরিবেশনে তৎপর হয়।
সামিনের একটা অত্যন্ত ব্যক্তিগত অভ্যেস রয়েছে। খাওয়ার আগে ছেলেমেয়েদের প্লেটে খাবার ঠিকঠাক পরিমানে নিলো কিনা এটা দেখা,যেন তারা দশবছরের জিদ্দি শিশু,জিদ করে কম নেয় সবাই।
ইনায়াকে শুধু প্লেটে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখে সামিন অত্যন্ত কোমল স্বরে ডেকে ওঠে,“খাচ্ছো না কেনো ছোটো আম্মা?”
প্রত্যেকে খাওয়ায় কয়েক পলকের বিরতি দিয়ে ইনায়াকে দেখে। ইনায়া আশেপাশে সবার দিকে একবার করে তাকিয়ে ইতস্তত করতে থাকে।
সামিন কন্ঠে কোমলতা বজায় রেখেই দ্বিতীয় প্রশ্ন করে,“কিছু বলতে চাও?”
হঠাৎ খুব সাহস ভর করে ইনায়ার মনে। বড় বাবা আর যাই হোক তাকে বকবে না। আর মাম্মা পাপা দাদানেরাও নিশ্চয়ই বড় বাবার সামনে তাকে ধমকাবে না। অনেক বড় একটা সুযোগ, কাজে লাগিয়ে ইনায়া বড় বাবাকে বলে,“জি বলতে চাই।”
_কি, বলো?
সবাই খাওয়া থামিয়ে দিয়ে উৎসুক নজরে ইনায়াকে দেখছে। ইনায়া একটা ঢোক গিলে বলে,“বন্ধুরা সবাই ট্যুরে যাচ্ছে.....”
_যাক! তুই যাবি না.....!
যেনো ছোটোখাটো একটা বজ্রপাত পরলো ইনায়ার মাথায়। আচমকা বি'কট গর্জনে নিজের কান চেপে ধরে সবার মুখের দিকে ভয়ার্ত নজর বুলায়। বড় বাবা বাদে সবাই যেন চোখ দিয়ে ইনায়াকে ভষ্ম করে দিচ্ছে। এমনকি ইনশিরাহ ও ,যে সবসময় ইনায়াকে সাপোর্ট করে আজ সেই আপুও ইনায়াকে ধমকালো। ইনায়ার চোখ ফেটে কান্না আসার উপক্রম। ইহান রাগী চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে,কিছু একটা বলতেই যাবে ঠিক তখনই সামিন বরফ ঠাণ্ডা গলায় ইনায়াকে বলে,“আরেকটু বড় হয়ে নাও আম্মা!”
ইনায়া চোখ নামিয়ে নেয়। ছলোছলো দুটি চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা নোনাপানি প্লেটে রাখা ঝরঝরে বাসমতি চালের ভাতে পরে। তারপর আর কিছু বলে না ইনায়া, এদিকে যে রীতিমতো ওকে সবাই কথা শুনিয়ে যাচ্ছে তাও শুনতে পায়না। সে বহু কষ্টে নিজের খাবারটা শেষ করে উঠে এঁটো হাতেই প্রায় দৌড়ে চলে যায় দোতলায়। সবাই কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না,যে যার মতো খেতে থাকে। এই একটা ব্যাপারে এ বাড়ি থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না তা সে যত আদরেরই হোক না কেন!
রিতু অন্যসবার মতো নয়,সে বরাবরই নরম-কোমল প্রকৃতির। একহাতে এ বাড়ির চারটা বাচ্চাকে পেলে পু'ষে বড় করেছে। সবার ওপর সে কখনো চেঁচামেচি করে না। ইনায়াকে ওভাবে দৌড়ে ছুটে যেতে দেখে সে আফসোস মাখা বাক্য বলে ওঠে,“মেয়েটা ঠিকঠাক ভাবে খেলোই না!”
_অত লাই দেবেন না তো ভাবী! ওর সব কথা মানতে হবে নাকি? একদম প্রশ্রয় দেবে না ওকে কেউ।
ইশমাম মির্জা গুরুগম্ভীর কথাগুলো শুধু রিতুকে নয় ,শুনিয়ে দিয়ে গেলো সবাইকে।
★★★
রাতের গভীরতা ততটা বেশিও নয়। শান্তিনীড়ের বাইরের লাইটসগুলো জ্বলে আলো দিচ্ছে একটা বিশাল এরিয়া জুরে। বাড়ির মধ্যে নিস্তব্ধতা ছেয়ে আছে। যে যার ঘরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কিংবা ঘুমিয়েও গিয়েছে। দোতলার পশ্চিম পাশের ঘরটির,যে ঘরটির স্লাইডিং দরজায় গোটা গোটা হরফে পেইন্ট করা ইনশিরাহ বিনতে সামিন, সেই দরজাটা ক্যাচ ক্যাচ শব্দ তুলে হাট করে খুলে বেরিয়ে আসে ইনশিরাহ। আশেপাশে সাবধানী নজর বুলিয়ে বিড়ালের মতো পা টিপে টিপে এগিয়ে যায় ইরফানের ঘরের দিকে। ইনশিরাহর ঘরের ডানপাশে ইশমাম আর পরীর ঘর। ঠিক তার পাশের ঘরটাই ইরফানের। দরজায় দাঁড়িয়ে টোকা মারার আগেই ইরফানের ঘরের দরজা খুলে যায়। ওপাশ থেকে ব্যস্ত ভঙ্গিতে ইরফান বেরিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে ঘুরে তাকায় ইনশিরাহর দিকে। ইনশিরাহ আর ইরফানের হুডির কালার এক। ডিপ গ্রে। ইরফান বোনকে দেখে ফিসফিসিয়ে বলে,“তোকে আমার ভাই মনে হচ্ছে।”
_সেটা তোর ব্যাপার।
ইরফান আশেপাশে তাকিয়ে বলে,“চল শিগগিরই। কনসার্ট শুরু হয়ে যাবে।”
দু'জনে পুনরায় পা টিপে টিপে ইনায়ার ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়। ইরফান মৃদু আওয়াজ করে দরজায়। ইনশিরাহ ফিসফিসিয়ে ডাকে,“বোনু! এই বোনু!”
ইনায়া তখন এক দফা নাকি কান্না কেঁ'দে হাত মুখ ধুয়ে,বেসিক স্কিনকেয়ার করে মাত্র আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার নাইট স্যুটে গা গলাচ্ছিলো। ইনশিরাহর আওয়াজে ভ্রু কুঁচকে যায় তার, পরপর এক আকাশ সমান অভিমান এসে ভর করে তার মনে,মনে পরে যায় খাবার টেবিলের সেই ধ'ম'কের কথা। সবার সাথে তাল মিলিয়ে আপুও তাকে ধমকেছিলো।
ওপাশ থেকে ইনশিরাহ ডেকেই যাচ্ছে। ইনায়া চুপচাপ দাঁড়িয়েই থাকে। কিন্তু ইরফানের গলার আওয়াজে সে চ'ম'কে ওঠে। এই সময়ে মেজো দাদান কেন! সে শশব্যস্ত হয়ে এসে স্লাইডিং ডোরের লক খুলে দেয়।
ইনশিরাহ আর ইরফানকে দেখে ইনায়া অবাক হয়ে বলে,“তোমরা কোথাও যাচ্ছো?”
_হু। আরাভ কৌশিকের কনসার্টে। ফটাফট রেডি হ। আর হুডি পরিস। মাস্ক নিস।
মেজো দাদানের কথায় ইনায়ার চোক্ষু চড়কগাছ। মেজো দাদা তাকে কনসার্টে নিয়ে যাবে! ইনায়া স্বপ্ন দেখছে নাতো!
ইনায়ার তব্দা খাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে ইরফান মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলে,“শিগগির। কেউ ওঠার আগে। গোওও!”
ইনায়া ইনশিরাহর দিকে তাকায়, ইনশিরাহ হেসে ফিসফিসিয়ে বলে,“তোর ট্যুরে যাওয়া তো হবে না, কিউ না তুঝে কনসার্টে নিয়ে যাই! চল চল!”
ইনায়ার মুখ মুহুর্তেই উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিছুটা হলেও মন খারাপ ভ্যানিশ তার। আরাভ কৌশিকের নামটা শুনেই মনটা নেচে ওঠে তার। দাদান আর আপুর থেকে সময় চেয়ে একটা ওভারসাইজ হুডি,জিন্স আর স্নিকারসে রেডি হয়ে ভাই বোনের সাথে ফুরফুরে মেজাজে পা টিপে টিপে বাড়ি থেকে নিঃশ্বব্দে বেরিয়ে যায়। বাড়ির গাড়ি তারা নেয়না। বাড়ির সামনের ফোর লেনের আধুনিক রাস্তা ধরে কিছুটা দূরে হাঁটতেই একটা ক্যাব পেয়ে যায়। রাত তখন বারোটা সাতাশ। তাদের গন্তব্য রানার ইউনিভার্সিটি।
★★★
রাতের সময় তখন একটা আটান্ন মিনিট। ইহান তাজওয়ারের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে বেডসাইড টেবিলের ওপর রাখা তার ফোনটা বেজে ওঠে। সেভ করা নাম্বারটা না দেখেই ঘুম ঘুম চোখেই ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে জড়ানো ভারী গলায় বলে,“হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম।”
_দাদান আমি ইরফান।
_কি ব্যাপার! এতো রাতে ফোন করছিস কেন?
_দাদান একবার থানায় আসতে হবে তোমাকে।
ইহান তাজওয়ার সাথে সাথে উঠে বসে, গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,“হোয়্যাট! কোথায় তুই! কি করেছিস!”
_দাদান আমি থানায়,প্লিজ এসো। তারপর বলছি।
★★★
লিভিং রুম থেকে থেকে মেয়েলি কন্ঠের খিলখিল হাসির আওয়াজ আসছে। প্রেরনা বুঝে যায় প্রনমি অথবা মিস জেনি হবে হয়তো। রাত বিরেতে প্রনমির হুট হাট খিদে পেয়ে যায়। অতকিছু তলিয়ে দেখবার সময় নেই প্রেরনার হাতে,তাকে এই মুহূর্তে বেরোতে হবে। কোমল সুগঠিত শরীর থেকে সিল্কের নাইটিটা খুলে একটা সাধারণ সুতি শাড়ি,যাকে বলা হয় প্রেরনার জাতীয় পোশাক,সেটি জরিয়ে নেয় সুডৌল অঙ্গে। শুদ্ধ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। প্রেরনা পার্স,ফোন আর স্কুটির চাবি নিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। ওকে দেখে মিস জেনি অবাক। প্রনমি বলে ওঠে,“কে উঠলে? আপু নাকি? আপু জানো মিস জেনি আমাকে কি বলছিলো......”
_সোনা এসে শুনবো,শোন না আমি একটু থানায় যাচ্ছি।
মিস জেনি অবাক হয়ে বলে,“থানা? থানায় কি প্রেরনা?”
_কাজ আছে মিস জেনি!
_এতো রাতে! প্রিতমকে নিয়ে যাও!
মিস জেনির কথায় প্রেরনা একবার শ্বাস ফেলে বলে,“ওকেই আনতে যাচ্ছি! একটু ঝামেলা হয়েছে। আপনি প্লিজ দরজা লক করে নিন। আর প্রনমি স্যান্ডউইচ খেয়ে ঘুমিয়ে যাও,রাত জাগলে মাথা ব্যাথা করবে।”
ব্যস্ত ভঙ্গিতে কথাগুলো বলে শু কেবিনেট থেকে স্লিপার বের করে হন্তদন্ত হয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে চলে যায় প্রেরনা।
মিস জেনি দরজা লক করে উদ্বিগ্ন গলায় বলতে থাকে,“হে জিজাস! কি ঝামেলা হলো আবার। এই মেয়েটা দু দন্ড শান্তি পায়না কেন! সারাদিন খেটে এলো এখন একটু ঘুমোতেও পারলো না!”
প্রনমির মুখবিবর মলিন হয়ে আছে দুশ্চিন্তায়। জেনির কথার জবাবে বলে,“আপু আসলেই খুব স্ট্রং তাইনা মিস জেনি?”
মিস জেনি ওভেন থেকে কেক বের করতে করতে বলতে থাকে,“স্ট্রং? আলবত! কত দুর্বল ছিলো মেয়েটা। সেই দুর্বল মেয়েটা বাথটাবে একা একা সন্তান প্রসব থেকে শুরু করে শুদ্ধকে একা একা বড় করলো। কোনো তুলনা নেই এই মেয়েটার। কোনো তুলনা নেই।”
প্রনমি একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে। কখনও কখনও তার মনে হয় আপুর জীবনে সে একটা বাড়তি জিনিস। সে না থাকলে আপুর স্ট্রাগল টা আরেকটু কম হতো।
★★★
দুই হাজার আটত্রিশের দিকে এই থানার পুরনো বিল্ডিং ভেঙে সেখানে মুখোমুখি দু'টো ভবন নির্মাণ করা হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনেই মুখোমুখি দু'টো ভবন। একটি ভবন থানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অফিস,অন্যটিতে রয়েছে বিশাল বিশাল চারটা সেল, রিম্যান্ড রুম, এবং এফআইআর ডেস্ক।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভবনটির ডিজাইন কিছুটা অদ্ভুত। দেখতে যেন দোতলা একটা জমিদার বাড়ি। একচল্লিশ সালে এমন অদ্ভুত সাবেকি ডিজাইন দেখলে সবার মনেই এই প্রশ্নটি জাগে,এর আর্কিটেক্ট কে?
মূল ভবনটার গ্রাউন্ডফ্লোরটা কার পার্কিং এরিয়া। দোতলায় দাপ্তরিক কাজ হয়। দোতলায় ওঠার জন্য ভবনের পুর্ব-পশ্চিম প্রান্তে দুটো সিঁড়ি। স্থান সংকুলতার কারনে এভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
ঠিক রাত আড়াইটা নাগাদ ইহান তাজওয়ারের বিএমডব্লিউ এসে থামে থানার সামনে। ব্যস্ত ভঙ্গিতে নেমে সোজা এফআইআর ডেস্কে চলে যায় সে। ইরফানের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। খুব সম্ভবত ফোনের চার্জ শেষ ইরফানের। কনস্টেবলের থেকে জানতে পারলো ইরফান ওসির কেবিনে।
কিছুক্ষণ পরই প্রেরনার স্কুটির গতি শ্লথ হয়ে ইহান তাজওয়ারের বিএমডব্লিউয়ের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে পরে।
হেলমেট টা কোনরকমে খুলে হন্তদন্ত হয়ে সেও ছোটে এফআইআর ডেস্কে। ততক্ষণে ইহান তাজওয়ার ঐ দালান থেকে বেরিয়ে আসছিলো মূল দালানে যাবে বলে। এফআইআর ডেস্কের কক্ষ থেকে বেরিয়ে মোর ঘুরতেই একটা পাখির মতো হালকা শরীরের সাথে ধাক্কা লাগতেই সে দাঁড়িয়ে পরে।
প্রেরনা ছিটকে কয়েক কদম দূরে সরে যায়,দেয়ালে তার পিঠ ঠেকেছে। ডানবাহুতে ব্যাথা পেয়েছে ভীষণ, যার সাথে এভাবে ধাক্কা লেগেছে সেই পাথরকঠিন,ইস্পাতের মতো শক্ত মানুষটাকে দেখতে মুখ ঘুরিয়ে তাকাতেই কিছুটা চ'ম'কে ওঠে সে। চ'ম'কে গিয়েছে ইহানও। কয়েক পল একে অপরকে দেখে দু'জনেই কিছুটা উঁচু গলায় বলে ওঠে,“আপনি!!”
চলমান.........
সামনে আরো কয়েকটা চরিত্র আসবে। সব চরিত্র বের করে গল্পে দেবো এক প্যাচ।
[ কমেন্ট করে ধন্য করবেন সবাই 🙂 ]