ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 8

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্বসংখ্যা_৮
#ইসরাত_ইতি

থানার মূল ভবনের দোতলার গোল টেবিল রুমে মুখোমুখি দু'টো দল। দু'টো দলের দলনেতা ইরফান মির্জা এবং প্রিতম আহসান একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, দু'জনেই বেশ শান্ত। কিন্তু ঐ চারটি চোখে ভয়াবহ হিংস্রতা, যেন সুযোগ পেলেই একে অপরের মাথা এই থানা দালানের দেয়ালে ঠুকে দেবে।

ঠিক মাঝামাঝিতে একটি চেয়ারে ইহান তাজওয়ার বসে আছে। চওড়া কপাল,খাড়া নাক, সুদর্শন মুখটা দেখে বলাই যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে সে ভীষণ ক্ষুব্ধ। প্রেরনা কামরার এক কোণের একটি চেয়ারে বসে আছে কপালে হাত ঠেকিয়ে। ভীষণ মাথা ধরে গিয়েছে তার। হঠাৎ হঠাৎ এমন হয়। দপ করে মাথাটা ভীষণ ধরে যায়।

ইরফান আর প্রিতমের সব বন্ধুদের অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে থানায়।

ঘটনার শুরু আজ কনসার্টে। বাংলাদেশী ব্যান্ড মিউজিক তারকা আরাভ কৌশিকের কনসার্ট চলছিলো রানার ইউনিভার্সিটির স্টেডিয়াম সম মাঠে। যেখানে ইরফান বোনদের নিয়ে গিয়েছিলো। ইরফানের কিছু বন্ধু বান্ধবীরাও ছিলো। ওখানে এসেছিলো প্রিতম এবং তার বন্ধুরাও। পুরোটাই কাকতালীয়। নয়তো ইরফানের ত্রিসীমানায় সেচ্ছায় যাওয়ার মন মানসিকতা প্রিতম আহসানের নেই। কনসার্টের ভিড়ে দু'টো চিতা-নেকড়ের দলের কেউই কাউকে দেখে ওঠেনি তখনো। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখন যখন প্রিতমের বন্ধু সাফওয়ানের সাথে দূর্ঘটনাবশত ধাক্কা লেগে যায় ইরফানের বন্ধু অধরার। সাফওয়ান ইচ্ছাকৃত করেনি কিছুই,কিন্তু খুব বাজে ভাবেই অধরার স্পর্শকাতর স্থানে ছোঁয়া লেগে যায় তার। অবশ্য এসব ঠাসাঠাসি কনসার্টে এসব স্বাভাবিক,যারা এসব সহ্য করতে পারে তারাই এসব কনসার্টে আসে। তবে অধরা ক্ষে'পে ওঠে যখন দেখে ছেলেটা সাফওয়ান,প্রিতমের বন্ধু। প্রিতম আর প্রিতমের বন্ধুরা ইরফান গ্যাংয়ের চোখে বি'ষ। অধরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটা চ'ড় মারে সাফওয়ানের গালে।

এটাই ছিলো সুত্রপাত। ভীষণ নোংরা ঝামেলা বাধে সেখানে। ইরফান আর প্রিতম সমানে সমান। দু'জন দু'জনকে যথেষ্ট আঘাত করেছে। সাথে তাদের বন্ধুরা তো আছেই। ছোটোখাটো একটা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। অথরিটি সামলাতে না পেরে থানায় ফোন করে পুলিশ ডেকে নেয়।

আপাতত সবাই চুপচাপ। আজকের মারামারিতে প্রত্যেকেই অল্পবেশী চোট পেয়েছে। প্রিতমের ফরসা সুদর্শন গালে আরো একটা কাটা দাগ বসে যাবে বোধহয়। প্রেরনা ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে পর পর দু'বার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দেয়। চশমা ভে'ঙে গিয়েছে প্রিতমের। প্রেরনা তার পার্স থেকে প্রিতমের একটা চশমা বের করে জামির কাছে দেয়। জামি প্রিতমের হাতে দেয়। প্রিতম চশমা পরে আপুর দিকে এক পলক তাকিয়ে মাথা নিচু করে নেয়। সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না আপুর কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইবে। প্রেরনা যে ভাইয়ের ওপর ভীষণ রে'গে আছে তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

থানার ডিউটিরত ও.সি. নাজমুল এসে সেখানে দাঁড়ায়। ইহান তাজওয়ার উঠে দাঁড়িয়ে আন্তরিক হাসি দিয়ে তাকে বলে,“ধন্যবাদ আপনাকে বিষয়টা এভাবে দেখবার জন্য। এখন আমরা যেতে চাচ্ছি!”

_হ্যা অবশ্যই যাবেন।

ও.সি নাজমুলের কথার সুর প্রশ্রয়ের, সব অভিভাবকরা উঠে দাঁড়ায়। নাজমুল সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে,“ভাগ্যিস ডিউটিতে আমি ছিলাম, শিহাব ভাই থাকলে আজকের রাতটা আপনাদের ছেলেমেয়েদের এখানেই কে'টে যেতো। ওরা যা করেছে!”

ইরফান-প্রিতম দু'পক্ষের সদস্যরা নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে। এতো বড় একটা ঝামেলায় পরেও তাদের কোনো হেলদোল নেই। একদল আরেক দলকে চোখ দিয়ে ছুরিকাঘাত করছে।

ইহান শান্ত চোখে ইরফানকে একপলক দেখে নাজমুলকে বলে,“থ্যাংক ইউ এগেইন! ফারদার এমন কিছুই হবে না।”

নাজমুল হেসে বলে,“হোওপ সো! এনিওয়ে, আগামীকাল নতুন এস.পি. জয়েন করবেন নিশ্চয়ই জানেন?”

_জি। আমরা অধীর আগ্রহে তার অপেক্ষাতেই আছি।

নাজমুলের সাথে খুচরো কিছু আলাপ সেরে ইহান ইরফানকে নিয়ে বেরিয়ে পরে।

সবাই দলে দলে নামছে।

থানার গেটের কাছে এসে ইহান তাজওয়ার এবং ইরফানের সাথে পুনরায় মুখোমুখি হয় প্রেরনা এবং প্রিতম। ইহান এক পলক তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছিমছাম গড়নের ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।

ভাই স্কুটারে উঠতেই প্রেরনা স্কুটার উড়িয়ে চলে যায়। ইহান তাজওয়ারের বিএমডব্লিউ চলতে থাকে বিপরীত রাস্তা ধরে।

কিছু সময় পেরোতেই ইহান নীরবতা ভেঙে গুরুগম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,“বোন দু'টোকে বুদ্ধি করে থানায় আনিসনি দেখে তোর ওপর থেকে কিছুটা রা'গ কমিয়ে নিলাম। আজ তোর জন্য যদি ইনশিরাহ আর ইনায়াকে থানায় চক্কর দিতে হতো তাহলে তোকে কি করতাম তা নিজেও জানি না আমি।”

ইরফান চুপচাপ। ইহান বলতে থাকে,“কাল চিটাগাং চলে যাবি। এন্ড ইটস্ ফাইনাল!”

_দাদান you misunderstood! It was just a....

_ Enough! শুনতে চাইনা আমি। রুশফিদের বাড়িতে ওরা?

_হু।

বাকি রাস্তা দুই ভাইয়ের কেউ কোনো কথা বললো না। ইনায়ার বান্ধবী রুশফিদের বাড়ির সামনে এসে গাড়ির গতি শ্লথ হয়, হর্ণ বেজে ওঠে। ইনশিরাহ আর ইনায়াকে ঝামেলার পরপর ইরফান রুশফিদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলো।
হর্ণের শব্দ পেয়ে ইনশিরাহ আর ইনায়া শশব্যস্ত হয়ে রুশফিদের দোতলা থেকে নামতে থাকে। ইনায়ার অন্যান্য বান্ধবীরা আজ এসেছে রুশফিদের বাড়িতে নাইটস্টে করতে,রুশফির বাবা মা আজ বাড়িতে নেই তাই।
সবকটা উঠতি বয়সী মেয়ে ইহান তাজওয়ারের গাড়ির হর্নের শব্দে হুরমুর করে দোতলার জানালা থেকে উঁকি দেয়। বলাই বাহুল্য ইনায়ার দাদানদের ওপর তারা সবাই খানিক দুর্বল! দেখলে একটা দু'টো হার্টবিট মিস করে ফেলে। এই বয়সী মেয়েদের কাছে এ ধরনের পুরুষদের ভীষণ আকর্ষণীয় লাগে। এক ঝলক দেখার জন্য সবাই রীতিমতো একে অপরকে ঠেলছে। কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্য,গাড়ি ততক্ষণে চলে গিয়েছে।

★★★

ভোর চারটা আঠেরো মিনিট...

সুনামি ধেয়ে আসার পূর্ব মুহূর্ত...
শান্তিনীড়ের নিচতলার লিভিং রুমের তিন সেট সোফা দখল করে ছড়িয়ে সিটিয়ে বসে আছে বাড়ির বড়রা। সবাই অপেক্ষা করছে।

বাড়ির পোর্চের নিচে গাড়ি থামতেই ইনশিরাহ একটা ঢোক গিলে নেয়। এতক্ষণ সে বিশেষ পাত্তা না দিলেও এখন বেশ নার্ভাস লাগছে তার। তারা মাতারানী ঐ ঝাঁসি কি রানী অদ্রিতা আলো কনসার্ট যাওয়ার অপরাধের শাস্তি হিসেবে জুতাপেটা করবে নির্ঘাত। কেউ বাঁচাতে পারবে না, স্বয়ং সামিন ইয়াসার মির্জাও না।

দ্বিতীয় দফায় আরেকটা ঢোক গিলে ঘাড় চুলকে ইহানের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় ডাকে,“এই দাদান!”

_হু।

_প্লিজ একটু ম্যানেজ করো! আর কখনও এমন হবে না।

বড় আপুকে এতটা নার্ভাস দেখে ইনায়ার নার্ভাসনেস আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ কি হবে! এই তার কাটা মেজো দাদানের সাথে যাওটাই ভুল হয়েছে!
তেরছা নজরে একবার মেজোদাদানের দিকে তাকায় সে, ইরফান অস্বাভাবিক শান্ত।

ইহান গাড়ি থেকে নামতে নামতে ইনশিরাহকে বলে,“দেখা যাক!”

গুটিগুটি পায়ে,ভীতু বেড়ালছানার মতো দাদানের পিছু পিছু সদর দরজা পেরোয় ইনশিরাহ আর ইনায়া। মাথা নিচু করে রেখেছে বিধায় তখনও দু'জনে দেখতে পায়নি বড়রা সবাই লিভিং রুমে তাদের জন্য অপেক্ষারত। অকস্মাৎ অদ্রিতা আলোর কন্ঠস্বর কানে যেতেই দাঁড়িয়ে পরে দু'জন।

মাথা তুলে তাকাতেই দুবোন ঢোক গিলে নেয়। আলো এগিয়ে এসে মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে ইনশিরাহকে একটা চ'ড় মারবে তার আগেই বলিষ্ঠ হাতে ইহান বড় মায়ের হাত ধরে ফেলে। আলো ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলে,“ছাড় আমার হাত। ছাড় ইহান।”

ইরফান ইনশিরাহকে আড়াল করে নেয় ততক্ষণে। ইনায়া ঠকঠক করে কাঁপছে। আলো ইরফানকে চেঁচিয়ে বলে,“এই এই! তুই ওকে আড়াল করছিস কি? আজ তো তোকে আগে দেখছি।”

_হ্যা তাই দেখো। ওদের কিছু বলো না। আমি জোর করে নিয়ে গিয়েছি ওদের।

গম্ভীর কন্ঠে ইরফান ঠেলতে ঠেলতে ইনায়া আর ইনশিরাহকে দোতলার সিঁড়ির দিকে পাঠিয়ে দেয়। সামিন গম্ভীর কন্ঠে ইরফানের দিকে তাকিয়ে বলে,“একটা অন্যায় করেছো। শাস্তিও অবশ্যই পাবে।”

ইরফান চুপ করে থাকে। ইলহাম মির্জা আর রিতু সোফাতেই বসে থাকে চুপচাপ। ইশমাম আর পরীও শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। সামিন সবার মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে ইরফানকে বলে,“এতো ছোটো তো তুমি নও। ওদের কেনো নিয়ে গেলে কনসার্টে?”

ইরফান আজ দুঃসাহসী একটা কাজ করে বসে, বড় বাবার মুখের ওপরে বলে দেয়,“কাম অন বড় বাবা। ওরা কি ছোটো? ওরা আমার সাথে ছিলো। আর তাছাড়া আমি খুব ভালো করেই জানি বোনদের কিভাবে আগলে রাখতে হয়।”

_হ্যা,খুব আগলে রেখেছিস। তার প্রমাণ আজ পেয়েছি। নাউ সিনক্রিয়েট বন্ধ করে ঘরে যা, ব্রেকফাস্ট টেবিলে এই নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

পেছন থেকে ইহান তাজওয়ারের রাশভারী গম্ভীর আওয়াজ শুনে ইরফান মির্জা আর কিছু বললো না। সোজা হেঁটে দোতলায় চলে যায়।

কনসার্টের ঝামেলা কিংবা থানার ব্যাপারটা ইহান বড়দের থেকে চেপে যায় দুটি কারনে, বড়রা দুশ্চিন্তা করবে আর দুই আরো কথা বাড়বে।

ইরফান দোতলায় ওঠার সাথে সাথে ইলহাম মির্জা তার বড় ভাইকে বলে ওঠে,“দেখলে কেমন বাড় বেড়েছে? ওর একটা ব্যাবস্থা করতেই হবে। মেয়ে দুটোকেও গোল্লায় নিয়ে যাচ্ছে।”

ইহান বাবার কথার পিঠে বলে ওঠে,“তোমরা সবাই প্লিজ যার যার ঘরে যাও। পরে না হয় কথা হবে!”

দোতলার সিঁড়িতে বলিষ্ঠ পায়ে ধুপধাপ আওয়াজ তুলে চলে যেতেই বাড়ির বড়রা সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঘুম তো কবেই উড়ে গিয়েছে। ফজরের আজান দিয়ে দিতেই সবাই ব্যস্ত হয়ে ঘরের দিকে ছোটে।

★★★

ছত্রিশ ঘন্টায় প্রেরনা একটা কথাও বলেনি ভাইয়ের সাথে। অনুনয় বিনয় করেও প্রিতম বোনের কাছে পাত্তা পেলো না। স্বাভাবিক! এতো নিষেধের পরেও একটা ঝামেলায় জরিয়ে গিয়ে রীতিমতো থানায় ছুটতে হয়েছে এবং বোনকেও থানায় যেতে হয়েছে। জীবনে এই প্রথমবার নিজের প্রতি ঘৃ'ণা লাগছে প্রিতমের। কিন্তু তারই বা কি করার ছিলো! ঐ ইরফান মির্জা সব শুরু করেছে! সে শান্ত হয়ে থাকতো কিভাবে!
ইরফানের কথা মাথায় আসতেই চোয়াল শক্ত হয়ে যায় প্রিতমের। ফরসা সুদর্শন মুখটা নীলচে বর্ণের হয়ে যায়। কম্পিউটারের সামনে বসে কিছু কোড সাজাচ্ছিলো সে, এখন আর কাজে মন নেই। আপু রেগে গেলে এমনিতেই প্রিতমের গোটা দিন খারাপ যায়। ঐ মানুষটাকে কষ্ট দিয়ে তার কিভাবে সবকিছু স্বাভাবিক যেতে পারে?

আজ শুক্রবার। সপ্তাহে এই একটা দিন রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে। প্রেরনা আজ বাড়ির কাজে ব্যস্ত ভীষণ। রান্না চাপিয়ে কাজের মেয়েটাকে নিয়ে এপার্টমেন্ট ঝাড়পোছ করছে সে। প্রনমি আর শুদ্ধ মিস জেনির কাছে বসে গল্প শুনছে।

প্রিতম ধীরপায়ে হেঁটে গিয়ে বোনের সামনে দাঁড়ায়। প্রেরনা প্রিতমকে পাত্তা না দিয়ে ওয়ালমেট গুলো মুছতে থাকে। প্রিতম খপ করে বোনের হাত থেকে ওয়ালমেট সরিয়ে নিয়ে নরম গলায় বলে,“আপু প্লিজ!”

প্রেরনার ভ্রু কুঞ্চিত হয়। তবে সে চুপ। প্রিতম পুনরায় বলে,“আপু আর হবে না!”

_অনেকবার তো শুনলাম ভাই! আর কতো?

_আপু আমি কি করতাম? চুপচাপ ওর মা'র খেয়ে চলে আসতাম? হাত ভেঙে,পা ভেঙে আসতাম? তখন তোমার ভালোলাগতো?

এবার যেন প্রেরনা একটু নরম হয়। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,“তো চলে আসতি। ওর সাথে টক্কর দিয়ে তর্কেই বা যেতে হবে কেন?”

_কেন করতাম না আপু তর্ক? রীতিমতো আমাকে ইভটিজার বললো। আমি এমন? বল তুমি,আমি কি ইভটিজার?

প্রেরনা একটা ফোঁস শব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে এই শহরে এলাম। আর এখানে প্রতিদিন কোনো না কোনো ঝামেলা হয়েই চলেছে। তোর জন্য আজ থানায়ও যেতে হলো,আর ওদিকে রেস্তোরাঁয়....”

থেমে যায় প্রেরনা। প্রিতম কপাল কুঁ'চ'কে বোনের দিকে তাকায়, গম্ভীর কন্ঠে বলে,“রেস্তোরায় কি? কি হয়েছে আপু?”

প্রেরনা সেন্টার টেবিলের ওপর থেকে পুরনো ম্যাগাজিনগুলো সরিয়ে নিতে নিতে বলে,“বাদ দে। আই উইল ম্যানেজ!”

প্রিতম নাছোড়বান্দা। বোনের হাত দু'টো ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,“না তুমি বলো!”

কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে প্রেরনা বলে ওঠে,“ঐ আমার রাইভাল পার্টি আছে না গাজী কিচেন? ওরা খুব প্যারা দিচ্ছে রে। আজকাল বেশ রিউমার ছড়ানোর চেষ্টা করছে আমার আর রেস্তোরাঁর নামে।”

প্রিতমের চোয়াল শক্ত হয়, অস্পষ্ট কিছু গালি দেয় ! তারপর বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,“তো তুমি আইনী ব্যবস্থা কেনো নিচ্ছো না এখনও? তোমাকে তো আগেই বলেছি বেশ কয়েকবার!”

_এতো ইজি নাকি ভাই? আমরা ভেসে এসেছি এই শহরে আর ওদের শেকড় এই শহরে। আরে তুই বাদ দে না,ওসব করে আমার কিচ্ছুটি করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ আর না পারবে আমার মনোবল ভাঙতে।

দৃঢ়তার সাথে কথাগুলো বলে প্রেরনা। বোনের হাতটা তখনও প্রিতমের হাতের মুঠিতে। প্রিতম বোনকে লক্ষ্য করে,কন্ঠে তেজ নিয়ে কথা বলতে থাকা এই ভদ্রমহিলার চেহারায় ফুটে উঠেছে অসহায়ত্বের ছাপ,যা সে চাইলেও ঢাকতে পারবে না।

প্রিতম একটা ঢোক গিলে বলে,“এখন এসব কাজ আর করার দরকার কি আপু। তুমি শুধু শুদ্ধকে দেখো,আমি তো টুকটাক ভালোই উপার্জন করছি! রেস্তোরাঁ কর্মচারীদের ওপর ছেড়ে দাও।”

_কর্মচারীদের ওপর ছেড়ে দিলে হয়না ভাই।
এটুকু বলে প্রেরনা একটু দম নিয়ে আবারও বলে,“তুই এতো নাক গলাবি না। আর ভালো উপার্জন করছিস তো কি হয়েছে? নিজেরটা বোঝ, সেভ কর এখন থেকেই। বছর দুয়েক পরেই লাল টুকটুকে বৌ আনবো তোর জন্য।

প্রিতম ঈষৎ লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকায়। প্রেরনা বলে,“এতো বোন পাগলা হোস নারে ভাই, পরে বিপদে পরে যাবি। নিজের উপার্জনে নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করে এখনই টাকা সেভ কর।”

_নিজের পরিবার মানে? তুমি আমার পরিবার নও?

_না।
স্পষ্ট জবাব প্রেরনার, তারপর বললো,“এই যুগে এটা হয় ভাই? তোকে বিয়ে করিয়ে আমি আলাদা সংসার পেতে দেবো তোদের। এখনকার আধুনিক মেয়েদের বিধবা আর শারীরিক প্রতিবন্ধী ননদ নিয়ে সংসার করার মন মানসিকতা নেই। তারা স্বাধীনতা চায়।

_মানসিকতা না থাকলে না থাকুক, আমি অমন মেয়েকে বিয়ে করতেই বা যাবো কেন? অমন মেয়েকে আমি আমার লাইফ থেকে যাস্ট ঘা'ড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো যে আমার বোনদেরকে হিংসা করবে। আমাদের মা বাবা নেই আপু। আমরা তিন ভাইবোনই তিন ভাইবোনের সাহারা,আমাদেরকে আলাদা করার চেষ্টা করা নারীর কোনো স্থান নেই আমার জীবনে।

কথাগুলো শেষ করে প্রিতম ঘরে চলে যায়। প্রেরনা একা একা হাসতে থাকে ভাইয়ের কথা শুনে। এই ছেলেটার জীবনে যেন তেমন কেউ আসে যে ছেলেটাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসবে।

কলিং বেলের আওয়াজে প্রেরনার ঘোর কে'টে যায়। এই সময়ে আবার কে এলো! প্রেরনা যাওয়ার আগেই দেখতে পায় প্রিতম দরজা খুলে দিয়েছে তাই সে নিজের কাজে মন দেয়। দেয়ালের ঝুল পরিষ্কার করতে থাকে উঁচু হয়ে।

রাদিফ প্রিতমের দিকে তাকিয়ে বোকাবোকা হাসি হেসে ভেতরে ঢোকে। আজ প্রেরনার ছুটির দিন তাই টেরেস থেকে নামার সময় ভাবলো কোনো অজুহাতে তার “প্রেরনা জানকে” দেখে যাবে।

তার দৃষ্টি খুঁজছে প্রেরনাকে। প্রিতম খানিকটা অবাক হয়ে বলে,“কিছু বলবে রাদিফ?”

রাদিফ তুতলে বলে,“হু ! হ্যা ওই মানে বিকেলে স্পোর্টস ক্লাবে যাচ্ছো তুমি?”

_হ্যা যাচ্ছি! তুমি কি এটা বলার জন্যই এসেছো?

_হ্যা ওই আর কি। একটু পানি খেতে চাচ্ছি!

_ওহ ওকে, বসো রাদিফ, আমি পানি আনছি।

প্রিতম ডাইনিংরুমের দিকে যেতেই রাদিফ সাবধানী নজরে ভেতরের ঘরে উঁকি দেয়। প্রেরনা উচু হয়ে ওয়ালে ওয়ালমেট গুলো সাজিয়ে রাখছিলো। গায়ের সুতি শাড়িটার রং লাল, আঁচলটা কোমরে গোঁজা। বারবার উচু হওয়ার দরুন পেটের ক্ষুদ্রাংশ,এক চিলতে ফরসা পেট দৃশ্যমান।

রাদিফের শকুনী নজর সিধা ঐ নারী কায়ার একাংশে গিয়ে আটকে থাকে, নিঃশ্বব্দে গিলতে থাকে প্রেরনাকে। তীব্র কামনায় গলার শ্বাস রোধ হয়। লাল শাড়িতে প্রেরনাকে একটা লাল চেরী পাইয়ের মতো লাগছে। রাদিফের ইচ্ছে করছে খেয়ে ফেলতে পুরো।

“রাদিফ!”
প্রিতমের ডাকে রাদিফ চ'ম'কে উঠে ঘুরে তাকায়, বোকা বোকা হাসি হেসে প্রিতমের হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে পানি খেয়ে বেড়িয়ে যায় ফ্লাট থেকে।

প্রেরনা হাত মুছতে মুছতে বসার ঘরে এসে জিজ্ঞেস করে,“কে এসেছিলো ভাই?”

_রাদিফ।

প্রেরনা ভ্রু কুঁচকে ফেলে, এই ছেলেটি ইদানিং নানা অজুহাতে অহেতুক তাদের বাড়িতে আসছে। প্রিতমের দিকে তাকিয়ে প্রেরনা বলে,“কি বললো?”

_তেমন কিছু না। আপু ঐ ছেলেটা অদ্ভুত,হি ওয়াজ স্টারিং অ্যাট ইউ। ওকে বিশেষ পাত্তা দেবে না।

গম্ভীর কণ্ঠে কথাগুলো বলে প্রিতম নিজের ঘরের দিকে যায়। সে রাদিফের দৃষ্টি দেখেছে। ঐ নোংরা দৃষ্টি সম্পর্কে সে অবগত, সেও একজন পুরুষ।

প্রেরনা থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব কি! আর কত!

★★★

দিন কেটেছে তিন কি চার। বাড়ির পরিবেশ এখন বেশ শান্ত। এত দ্রুত শান্তিনীড় শান্ত হবার কথা ছিলো না। কিন্তু তবুও হয়েছে, কারন ইহান থানার ঘটনা নিয়ে বাবা-চাচাদের কাছে মুখ খোলেনি। ইনশিরাহ ক্যামেরা নিয়ে ধেই ধেই করে বনে বাদারে ঘুরতে নামেনি, ইনায়া ট্যুরের কথা তোলেনি, ইরফান সোনাছেলের মতো বাবা ইলহাম মির্জা আর চাচা সামিন ইয়াসার মির্জার সাথে অফিসে গিয়েছে। সবাইকে শান্ত রাখতে তিনভাইবোন পরামর্শ করে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে কাজে দিয়েছে। তাইতো রাতারাতি ইনশিরাহ বেস্ট ফ্রেন্ডের বাড়িতে নাইটস্টে করার পারমিশন পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইনশিরাহর নিয়ত নেক,সে অযথা বান্ধবীদের সাথে মস্তি করার জন্য আসেনি। সবাই মিলে কম্বাইন্ড স্টাডি করে গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট গুলো বুঝে নেবে। আর যাই হোক ফাইনাল ইয়ারে রিটেক খেলে চলবে না। মাতারানী অদ্রিতা আলো,ওয়াইফ অব সামিন ইয়াসার মির্জা তাহলে সোস্যাল সাইটে পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে দেবে।

নিয়ত নেক থাকলেও কোথায় কি হচ্ছে! তিন বান্ধবী মিলে বইগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে কখনো যার যার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে,কখনো এটা সেটা বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করছে।

অবশেষে রাত সাড়ে এগারোটায় তাদের ইচ্ছে হলো ঘুরতে বেরোবে। আজ তারা স্বাধীন। সব চাওয়া তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ইনশিরাহ প্রথমে গাইগুই করলেও পরে তাকেই সর্বোচ্চ উৎসাহিত দেখা যায়। রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে হয়ে এমন স্বাধীনতা বিশেষ পায়নি সে।

তুনাদের বাড়িতে তুনার বাবা মা এবং ভাই নেই, তারা কিছুদিনের জন্য ইন্ডিয়া গিয়েছে। তুনার ভাইয়ের ল্যাম্বরগিনিটা পরে আছে বাড়ির পার্কিং হাউজে। মনে পড়তেই তুনার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চাপে। ইনশিরাহকে বলে,“এই ইনশিরাহ! তুই তো ড্রাইভিং জানিস! চলনা লং ড্রাইভে যাই!”

ইনশিরাহ অবাক হয়ে বলে,“আমি? এতো রাতে? ড্রাইভিং?”

রাত বারোটা প্রায়,বাড়ি থেকে তারা বেরিয়েই পরলো। আবাসিক এরিয়ায় মিনিট দশেক ঘোরাঘুরি করে খুব সাহস জমিয়ে বুকে,একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে ইনশিরাহ হাইওয়েতে নামে। উদ্দেশ্য এখান থেকে ইউনিভার্সিটি রোড পর্যন্ত যাবে।

ইনশিরাহর দুই বান্ধবী তুনা,মানহা উত্তেজনায় ফেটে পরছে। রাতের হাই-ওয়ে চমৎকার উপভোগ্য একটা জিনিস। নিজেদেরকে রাজা-রাজরা মনে হচ্ছে তাদের আর রাস্তার দু পাশে সারি সারি বহুতল ভবন যেন প্রজার মতো দাঁড়িয়ে তাদের কুর্নিশ করছে। তবে এই স্পিডটা তাদের আনন্দ সাদামাটা করে দিচ্ছে। অবশেষে চার বান্ধবী মিলে চুক্তি করে স্পিড বাড়ানোর এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে স্পিডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইনশিরাহ ছুটে চলে সামনে।

তার দুই বান্ধবী চাপা স্বরে মুখ থেকে আওয়াজ করছে। ইনশিরাহর ড্রাইভিং কৌশল দেখে অভিভূত তারা। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই দু'টো চেকপোস্ট পেরিয়ে যায় তারা। চেকপোস্ট দু'টো খালি। ইনশিরাহ অবাক হলেও বিশেষ পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে যেতেই উচ্ছ্বাসে ভাটা পরে তাদের,হর্নের শব্দে। মানহা ঘা'ড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে এক লোক তাদের পিছু নিয়েছে।
মুহুর্তের ব্যবধানে লোকটা রাশভারী গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,“স্টপ দ্য কার!”

ইনশিরাহ কপাল কুঁ'চ'কে ডানে তাকায়। বাইকার তাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছে দেখে সেও গাড়ির স্পিড আরেকটু বাড়িয়ে দেয়। লোকটা আরেকবার বলে ওঠে,“স্টপ দ্য কার!”

ইনশিরাহ লোকটার দিকে তাকায়। হেলমেটের নিচে একজোড়া বুদ্ধিদীপ্ত চোখ। ইনশিরাহ চেঁ'চি'য়ে ওঠে,“Why you chasing us?”

“আই সেইড স্টপ দ্য কার!”
পুনরায় ধ'ম'কে ওঠে লোকটা। মানহা,তুনা বিস্মিত। ইনশিরাহ কন্ঠে তেজ নিয়ে বলে,“স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম আওয়ার কার নয়তো ঘা'ড় ধরে থানায় ঢুকিয়ে দিয়ে আসবো!”

ততক্ষণে লোকটার বাইক ইনশিরাহদের ওভারটেক করে সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দেয়। বাধ্য হয়ে ইনশিরাহ গাড়ির ব্রেক কষে।

মুখে চ বর্গীয় শব্দ করে ইনশিরাহ গাড়িতে বসেই চেঁ'চি'য়ে বলে,“হু দ্য হেল আর ইউ!”

বাইক থেকে নেমে লোকটা টানটান হয়ে দাঁড়ায়। ততক্ষণে সেখানে দুজন কনস্টেবল এসে পৌঁছায় বাইক নিয়ে।

ইনশিরাহ আর ওর তিন বান্ধবী হতবাক হয়ে আশেপাশে তাকিয়ে পুনরায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে হেলমেট পরিহিত লোকটাকে দেখে। লোকটা হেলমেট খুলতেই আরো একবার বিস্মিত হয় ইনশিরাহ। বুদ্ধিদীপ্ত দু'টো চোখ,সুদর্শন চেহারা,চওড়া কপাল, পুরুষালি সৌন্দর্যের কোনোরকম ঘাটতি নেই ঐ লম্বামতো,তামাটে পুরুষটির। যে তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ম নজরে ইনশিরাহর দিকে, মুখমন্ডলে ছেয়ে আছে গাম্ভীর্য।

ইউনিফর্ম পরিহিত কনস্টেবলের মধ্যে থেকে একজন বাইক থেকে নেমেই ঐ বলিষ্ঠ সুদর্শন লোকটাকে বলে,“স্যার...!”

লোকটা ততক্ষণে ইনশিরাহর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কনস্টেবলকে আদেশের সুরে বলে,“কল দ্য ভ্যান। তিনজনকেই ভ্যানে তোলো। অ্যালকোহল ডিটেক্টর কোথায়?”

ইনশিরাহ তাজ্জব বনে গিয়েছে পুরো। মানহা চাপা স্বরে বলে ওঠে,“আয় হায়। এই লোকটা পুলিশ নাকি!”

ইনশিরাহ বিশেষ পাত্তা না দিয়ে বেশ কর্কশ কন্ঠেই প্রশ্ন ছোঁড়ে,“এই কে আপনি!”

লোকটা ইনশিরাহর দিকে তাকায়। ঠোঁটের কোনে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটেও মিলিয়ে যায়। তার পাশ থেকে একজন কনস্টেবল বলে ওঠে,“গলা নামিয়ে বাচ্চা। ইনি নতুন সুপারিনটেনডেন্ট অব দিস এরিয়া পুলিশ!”

ইনশিরাহ সাথে সাথে চোখ বড় বড় করে লোকটার দিকে তাকায়। বুদ্ধিদীপ্ত চেহারায় কঠিন দৃষ্টি। একটা ঢোক গিলে নেয় ইনশিরাহ। ইনি পুলিশ সুপার! আর তাকে কি না ইনশিরাহ বলেছে ঘা'ড় ধরে থানায় ঢুকিয়ে দেবো!
পরপর আরো দুবার ঢোক গিলে ইনশিরাহ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে লোকটার দিকে। লোকটা গম্ভীর কন্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে থাকে,“হাই, আমি মুঈন ফরাজী! তো থানায় যাওয়া যাক?”

চলমান.......

[ আগেই বলেছি গল্পটি কখনোই বাস্তবিক হবে না। বেশি বেশি এক্সপেক্ট করছেন। আমার বিনোদনের জন্য লিখছি, আপনাদের বিনোদনের জন্য লিখছি। এটুকুই।

আর হ্যা, ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করতে হবে, পরবর্তী পর্ব দেবো কখন নিশ্চয়তা নেই। চেষ্টা করবো। না দিলে ক্ষমা করবেন।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন