ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 14

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১৪
#ইসরাত_ইতি

কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫

পোখারা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।

নেপালি সময় বেলা তিনটা নাগাদ ইনায়াদের ফ্লাইট গিয়ে অবতরণ করে। কনভেয়ার বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে ভিসার জন্য লাইন লাগায় সবাই, যেহেতু অন অ্যারাইভাল ভিসা। সব শেষে সিকিউরিটি চেকিং শেষে মিসেস মৈথি ইনায়াদের পাঁচ বান্ধবীকে গাইড করতে করতে হাঁটতে থাকে। তাদের দলটাকে দেখে এমন লাগছে যেন একজন মেষপালক কিছু মেষশাবকদের খেদিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

জুনি বিরক্ত হয়ে তার মাম্মাকে বললো,“মাম্মা স্টপ! ইশমাম আঙ্কেল নেই এখানে!”

_নেই তো কি? আমি কথা দিয়েছি না তাকে?

ছয় বান্ধবী দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটতে থাকে। মিসেস মৈথির তাদের পরিবারের কাছে কথা দেওয়ার চক্করে না তাদের টূরের পনেরো দিন ঘেটে “গুবলেট” হয়ে যায়। খুব একটা স্বাধীনতা যে পাওয়া যাবে না তা নিশ্চিত ভাবে বলাই যায়।

কাস্টমস অফিসারের কাছে কাস্টম ডিক্লারেসন ফরম দেখিয়ে ইমিগ্রেশন এজেন্টের কাছে তৃতীয় দফায় জবাবদিহি করে সবাই তখন খুব ক্লান্ত হয়ে পরেছে।

রুশফি বিরক্ত হয়ে মিসেস মৈথিকে বললো,“আন্টি এতো নখরা করছে কেন এরা?”

মৈথি হেসে বললো,“সেরকম কিছুই না বেটা। ইটস নরমাল। প্রযুক্তির উন্নতি সাধন যেমন হয়েছে, অপরাধ তেমনই বেড়েছে। সিকিউরিটির জন্য এসব।”

সব ঝামেলা শেষ করে মিসেস মৈথি দলনেত্রীর মতো পাঁচ বান্ধবীর দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,“সো গার্লস! এই ট্রিপে আমি তোমাদের আন্টি নই, ধরে নাও আমিও তোমাদের বান্ধবী। নির্বিঘ্নে আনন্দ করবে তোমরা,তবে হ্যা। একটা কথা মাথায় রাখবে, বড় মুখ করে তোমাদের মাম্মা পাপার থেকে তোমাদের চেয়ে এনেছি আমি। আমার মুখটা রেখো।”

জুনি যারপরনাই বিরক্ত হয়ে বলে,“মাম্মা এনাফ, খুব টায়ার্ড আমরা। চলো শিগগিরই। এই উর্দী পরিহিত মানুষগুলো তোমাকে পাগল ভাবছে। প্লিজ চলো, নানু বাড়ি চলো।”

মুভি লাউঞ্জে এসে সবাই থামে। মৈথি মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলে,“পোখারা মেইন টাউন থেকে চার কিলোমিটার দূরে জোমসোম, মুসলিম কমিউনিটিদের এলাকা। ওখানে আমার বাপের বাড়ি। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে একটা প্রি-পেইড ক্যাব নিয়ে সোজা সেখানে যাবো। গট ইট গার্লস?”

মেয়েরা মাথা নাড়ায়। মৈথি বলতে থাকে,“ওকে দেন মানি এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড সিমকার্ড নিতে হবে, তো সবাই এক সাথে যাবো না। প্রথমে তিনজন আমার সাথে চলো,বাকি তিনজন লাগেজ নিয়ে এই লাউঞ্জেই ওয়েট করো, ওয়াটার ফলস উপভোগ করো। ঠিক আছে? আমরা দশ মিনিটের মধ্যে ফিরছি।”

বুদ্ধদেবের বিশালাকার মূর্তির মাথার ওপর ওয়াটার ফলস। পোখরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের অন্যতম একটি নিদর্শন। ইনায়া,রিন্তু আর জুনি লাগেজ গুলোর পাহাড়াদার হিসেবে মুভি লাউঞ্জেই দাঁড়িয়ে আছে। বাকিরা মিসেস মৈথির সাথে এয়ারপোর্টের মানি এক্সচেঞ্জ এন্ড ব্যাংকিং জোনে গিয়েছে ।

জামি হাপাচ্ছে। হাপাতে হাঁপাতে ঝুঁকে হাঁটু ধরে আছে। কান দিয়ে গরম ধুঁয়া বের হচ্ছে যেন তার। প্রিতম দাঁড়িয়ে পরে,ঘুরে জামির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁ'চকে বলে,“প্রবলেম কি?”

_আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আমার খিদে পেয়েছে।

শুভ হতবাক হয়ে বলে,“ফ্লাইটে রাক্ষসের মতো খেলি,এর মধ্যে খিদে পেয়ে গেলো?”

_আমার খিদে পেয়েছে! আমি আর কিছু জানি না ব্যস! চল ফুড লাউঞ্জে চল। না না। এয়ারপোর্টের সামনে সেই বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় যাবো।

প্রিতম এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে,“ওকেহ । চল । তারপর বাকি কাজ করা যাবে।”

চার বন্ধু মিলে রওনা দেয়। জামির মুখটা অনবরত নড়ছে। সে ফ্লাইটের খাবারগুলোর সম্পর্কে রেটিং দিচ্ছে বন্ধুদের।

“বুঝলি। ঐ কেবিন ক্রু গুলো যতটা মিষ্টি, খাবার গুলো ততটাই জঘন্য ছিলো!”

সাফওয়ান বলে,“তো ঠুস ঠুসকে খেলি কেনো?”

_ভদ্রতা। ভদ্রতার খাতিরে।
গম্ভীর হয়ে জামি জবাব দেয়।

শুভ মুখে চ বর্গীয় শব্দ করে বলে,“তুই আর তোর ভদ্রতা! ”

চার বন্ধু মিলে এয়ারপোর্টের এক্সিটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। ইনায়ারা তিন বান্ধবী দাঁড়িয়ে ছিলো ঠিক বিপরীতেই মুভি লাউঞ্জের লবিতে।

ইনায়াকে সর্বপ্রথম জামি দেখতে পেয়ে চোখ বড় বড় করে চাঁপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে বলে,“আরিব্বাস!”

প্রিতম শুভ আর সাফওয়ান দাঁড়িয়ে পরে। জামির দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই খানিকটা অবাক হয় তারা।

ইনায়ারা কেউই তাদের তখনও দেখেনি। জামি বলে,“এই ইরফানের ঐ নিব্বি বোনটা না? ওয় ক্যামতে টপকালো এখানে!”

প্রিতম ইনায়ার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে জামির দিকে তাকায়,ভ্রু কুঞ্চিত হয় তার,বলে,“নিব্বি?”

_আরে হ ভাই। পুরাই নিব্বি। লাস্ট ইয়ার ভার্সিটির প্রোগ্রামের কথা মনে আছে? ইরফান এই নমুনাটাকে নিয়ে এসেছিলো প্রোগ্রামে। তখন কোনো জুনিয়র সম্ভবত ভুল করে ওর সাথে ধাক্কা খেয়েছিলো। অনেক চিপাচিপি ছিলো তাই। এই নিব্বি আকাশ পাতাল এক করে কাঁদতে কাঁদতে ইরফানকে বলেছে,“দাদান দাদান ওই ছেলেতা আমাকে ধাক্কা মেলেছে।”

শুভ আর সাফওয়ান হোহো করে হাসছে। প্রিতমও হেসে ফেলে, বলে,“হোয়্যাট!!! মেলেছে? এভাবে কথা বলে মেয়েটা?”

সাফওয়ান বলে,“আরে না ভাই। জামি বাড়িয়ে বলছে। এমনিতে একটু আহ্লাদী মেয়েটা। বড়লোকের মেয়ে না? তাই হয়তো।”

প্রিতম মাথা ঘুরিয়ে একপলক ইনায়াকে দেখে হাঁটতে শুরু করে। জামি বলতে থাকে,“এটাকে এর ফ্যামিলি সুদূর নেপাল আসতে দিলো? আশেপাশে ইরফান মির্জা নেই তো? থাকতেই পারে। তুই যেখানে,ইরফান সেখানে। তোর গন্ধ শুঁকে শুঁকে চলে আসে “তার কাটা” টা। ”

শুভ মাঝখান দিয়ে বললো,“না। ট্যুরে এসেছে সম্ভবত,ওর বান্ধবীরা পাশেই দাঁড়িয়ে। দেখ দেখ মেকআপ নিচ্ছে নিব্বি গুলো।”

জামি বলে,“ওও ইরফান নেই। চল তাহলে ওদের একটু জ্বালিয়ে আসি।”

প্রিতম চুপচাপ হাঁটছে। জামি,শুভ আর সাফওয়ান উচ্চশব্দে হাসছে ইনায়া আর ওর বান্ধবীদের দেখে। প্রিতম বলে,“ডোন্ট মেক ফান অফ দেম। সবাই প্রনমির বয়সী।”

জামি মুখ বিকৃত করে বললো,“এহহহ! প্রনমি আর ওরা এক হলো? আমাদের প্রনমি একটা লক্ষি বাচ্চা।”

“আর ওরা চার ভাইবোন এক একটা নমুনা।”
সাফওয়ান বলে।

শুভ বললো,“ঠিক বলেছিস। মির্জা বাড়ির চার নমুনা।”

প্রিতম বলে,“বকবক না করে চল এখান থেকে।”

ইনায়া প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে। তার রীতিমতো ঘুম পাচ্ছে। মিসেস মৈথি আর ওরা তিনজন এখনো আসেনি। সে আড়েআড়ে রুশফি আর জুনিকে দেখছে ‌। সবাই মেকআপ নিচ্ছে। ইনায়া কোনো আগ্রহ পাচ্ছে না এসবে। সে খেয়াল করছে তার হঠাৎ খুব অস্থির লাগছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা তার সাথে খারাপ হতে চলেছে। ইনায়ার মাঝে মাঝে এরকম হয়। তার ওপর এই সুদূর নেপালে পরিবারের কেউ নেই। ইনায়া পরিবার ছাড়া কোথাও এক মুহুর্ত থাকেনি। স্বাধীনতার জন্য হাশফাশ করতে থাকা ইনায়া টের পেলো তার স্বৈরাচারী পরিবারকে সে ভীষণ মিস করছে। মাত্র তো এসে পৌঁছালো, এখনই তার খারাপ লাগছে ভীষণ!

মিসেস মৈথি ওদের তিনজনকে নিয়ে ফিরে বাকিদের নিয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করলো। ছয় বান্ধবী মিলে তখনই আবদার করলো এয়ারপোর্টের সামনে নেপালি হালাল রেস্তোরাঁ “ওয়ান্স আপন আ টাইমে” খেতে যাবে। রেস্তোরাঁ টির সুনাম তারা বহু শুনেছে বিখ্যাত ফুড ব্লগারদের থেকে। মিসেস মৈথি সায় দিলো। এমনিতেও বাচ্চাগুলো ফ্লাইটে কিছু খেতে পারে নি ঠিকঠাক। নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে ভীষণ। ওরা সবাই এয়ারপোর্ট এরিয়া থেকে বেরিয়ে সেই বিখ্যাত নেপালি হালাল রেস্তোরাঁয় ঢুকলো।

রেস্তোরাঁটা বিশালাকার। ইনায়ারা একটা আট চেয়ারের টেবিল বুক করে ফেললো। যখন ওরা বসে গসিপ করতে শুরু করেছে দূর থেকে ওদের দেখলো জামি। প্রিতমকে খোঁচা মেরে বলে,“দেখ দেখ। এখানেও চলে এসেছে।”

_তো?

_না এমনিই।

_বকবক না করে খা। ওদের ওভাবে স্টক করতে থাকলে আবার অপবাদ দেবে তোদের ইভটিজার বলে।

জামি, সাফওয়ান আর শুভ চোখ সরিয়ে নেয়। ইনায়াদের টেবিল থেকে কিচিরমিচির শব্দ আসছে।

প্রিতম শুধু কফি নিয়েছে, শুভ আর সাফওয়ান কিছুই নেয়নি। তবে জামি নিয়েছে প্রচুর খাবার,সে একমনে খাচ্ছে। তার অন্যদিকে কোনো হুশ নেই।

শুভ বলে,“মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নে ভাই। এভাবে খেতে থাকলে দম আটকে ম'রে যাবি।”

জামি কারো কথায় কান না দিয়ে খাওয়া শেষ করে হাপাচ্ছে। প্রিতম বিরক্ত হয়ে ওয়াটার বোতল জামির কাছে এগিয়ে দিয়ে বলে,“তুই শোধরাবি না। নে পানি খা।”

জামি পানি খেয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে, তারপর চেয়ার ঠেসে বসে থাকে।

সাফওয়ান বলে,“কিরে ভ্যাবদা মে'রে গেলি কেন? অতিরিক্ত গিলে খারাপ লাগছে?”

জামি মাথায় নাড়ায়।

_তো? এমন করছিস কেন?

জামি অস্ফুটে বললো,“হাগা পেয়েছে।”

প্রিতম হতভম্ব হয়ে জামির দিকে তাকায়। এই ছেলেটার মুখে কোনো লাগাম নেই। তারপর আশেপাশে তাকায়। ভাগ্যিস বাঙালি নেই আশেপাশে!

জামির দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে প্রিতম বলে,“হোয়্যাট ইজ দিস!”

_কেন? তোদের হাগা পায় না?

শুভ প্রিতমকে বলে,“ভাই স্কচ টেপ আছে। থাকলে দে তো!”

_আমার মুখ বন্ধ কেনো করবি? তোদের ওয়াশরুম পায়,আমার হাগা পায়। এতো হেয় করে দেখার কি আছে?

★★★

যে যা পেরেছে অর্ডার করেছে,খেতে পারবে কি পারবে না তার বালাই নেই। ইনায়া খাবার নিয়ে শুধু নাড়াচাড়া করছিলো,কোনো বিশেষ টেস্ট পাচ্ছে না সে।

কিছু সময় বাদে সাইমা মুখ কাঁচুমাচু করে উচ্চস্বরে বাকিদের বলে ওঠে,“এই রে!”

নিধি বললো,“কি হলো!”

_মেবি, আই গট মাই পি'রি'য়ড!

_রিল্যাক্স,পুরো রেস্তোরাঁর লোকদের চেঁচিয়ে শোনানোর কিছু হয়নি। চল ওয়াশরুম ওদিকে।

সাইমাকে কভার করে নিধি ধীরে ধীরে হেঁটে যায় ওয়াশরুমের দিকে। বাকিরা সবাই খেতে থাকে।

জামি তার তিন বন্ধুকে বসিয়ে রেখে ছুটতে ছুটতে ওয়াশরুমের কাছে আসে। রেস্তোরাঁর বিখ্যাত কিচেন এবং টেরেস সাইটের মধ্যবর্তী স্থানে পাশাপাশি জেন্টস অ্যান্ড লেডিস টয়লেট। জামি সোজা হেঁটে মেন চিহ্নিত ওয়াশরুমে ঢুকতেই থ'ম'কে দাঁড়িয়ে যায়। গুনে গুনে তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে বি'কট চিৎকারে তার কানে তালা লেগে যায়।

সাইমা দু'গালে হাত চেপে ধরে আ'ত'ঙ্কি'ত হয়ে চিৎকার দেয়,“আআআআআআআআআআআআআ।”

সাইমার আতঙ্ক সংক্রমিত হয় জামির মাঝে ‌। সাইমার অনুরূপ দু হাতে গাল চে'পে ধরে জামি ভীত কন্ঠে চিৎকার দেয়,“আআআআআআআআআআআআআআ।”

ভেতরের টয়লেট থেকে নিধি বেরোয় তৎক্ষণাৎ। বেরিয়ে এসে জামিকে দেখে সেও চিৎকার দিয়ে ওঠে,“আআআআআআআআআ।”

তিনজন তিন কোণে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছে। জামি কিছু বলার আগেই স্পষ্ট ইংরেজিতে জামিকে নিধি একটা গালি দিয়ে বলে,“মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকেছেন। আমি এক্ষুনি সিকিউরিটিকে ডাকছি!”

_ওয় হ্যালো। সিকিউরিটিকে তো ডাকবো আমি। পুরুষদের ওয়াশরুমে ঢুকেছো তোমরা।

_হোয়্যাট!

_জি হ্যা!

বাইরে তখন জটলা লেগে গিয়েছে। চিৎকারের আওয়াজে মিসেস মৈথি এবং বাকি মেয়েরা রেস্তোরাঁর ওয়াশরুম সংলগ্ন করিডোরে ব্যাগেজ ফেলে রেখে ভেতর ঢোকে।

নিজেদের টেবিল থেকে প্রিতম,শুভ আর সাফওয়ান ছুটে আসে, ব্যাগেজ রাখে করিডোরে, ঢুকে পরে ওয়াশরুমে।

জামি ঈগলের মতো তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাইমার দিকে। সাইমা জোরে জোরে ডাকছে,“সিকিউরিটি!”

নিধি বলে,“আরে কলিং এলার্ম টিপে দে কুইক!”

ইনায়া আর মিসেস মৈথি ওদের কাছে এসে দাঁড়ায়। ওরা দুজন খেকিয়ে বলে ওঠে,“এই লোকটা লেডিস ওয়াশরুমে ঢুকেছে।”

প্রিতম ভেতরে ঢুকতেই ইনায়ার মুখোমুখি হয়। ইনায়া চোখ বড়বড় করে প্রিতমকে দেখছে। আরে এসব কি! এই লোক এখানে কিভাবে! অনেক কথাই তার মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে হঠাৎ করে। তবে আপাতত সে মনোযোগ দেয় ঝামেলায়।

জামি ক্ষ্যাপা কন্ঠে সাইমাকে বলে,“ও আচ্ছা তাই? এটা লেডিস ওয়াশরুম? মামনি একটু বাইরে এসে দেখো তো তবে।”

প্রিতম সবার মুখের দিকে তাকিয়ে এবার বলে উঠলো,“হোয়্যাটস গোয়িং অন!”

দু'জন সিকিউরিটি এসে ততক্ষণে সেখানে পৌঁছায়। সাইমা আর নিধি তাদের জানায় কি হয়েছে। সিকিউরিটি গার্ড দুজন জামির দিকে তাকায়। জামি তাদের বলে,“এরা দু'জন বদ্ধ পাগল। ওকেহ, তো চলো সবাই। বাইরে গেলেই তো বুঝতে পারবে বিষয়টা।”

_স্যার এটা তো লেডিস টয়লেট!
সিকিউরিটি দু'জনের মধ্যে একজন বলে ওঠে।

জামি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
_রিয়েলি? তো এটা কি? এটা? কি এটা?

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আঙুল উঁচিয়ে থ্রিডি সাইন বোর্ড টা সবাইকে দেখিয়ে চেঁ'চি'য়ে ওঠে জামি,“কি এটা? আন্সার মি! চিত্রটি লেডিসের?”

সিকিউরিটি দু'জন থতমত খেয়ে যায়। নিধি আর সাইমা চোখ বড় বড় করে সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। কি অদ্ভুত! এটা পাল্টে গেলো কিভাবে ? তারা তো স্পষ্ট “women!” লেখা দেখেছিলো।

সাইমা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সিকিউরিটি গার্ডকে বলে,“কিন্তু পাচ মিনিট আগেই তো এখানে Women লেখা ছিলো।”

জামি তেঁতে ওঠে,বলে,“প্রমান পেয়ে এখনও তর্ক! নিব্বির দল!”

ইনায়া চেঁচিয়ে ওঠে,“নিব্বি কে? আর সম্ভবত এখানে একটা ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে,আগে ক্লিয়ার হয়ে নেই।”

সিকিউরিটি গার্ড দু'পক্ষের ঝগড়াঝাঁটির মধ্যে বলে ওঠে,“স্টপ! আসলে আপনাদের কারো দোষ নেই। আসলে কোনও দুষ্ট লোক সম্ভবত সাইনবোর্ড দু'টো অদলবদল করে দিয়ে গিয়েছে। এমন আরো একবার হয়েছিলো।”

প্রিতম রাগী গলায় বলে,“এতো নিরাপত্তার পরেও এমন দুষ্টু লোক কিভাবে এসব করে? এই আপনাদের সিকিউরিটি? ওয়াশরুমের সাইনবোর্ড রাতারাতি অদলবদল হয়ে যায়, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে?”

একজন সিকিউরিটি অফিসার আমতা আমতা করে বলে,“স্যার ক্যামেরা ফুটেজ দেখে আসল কালপ্রিট কে ধরতে পারবো।”

_সো হোয়্যাট? অঘটন তো একটা ঘটেই গিয়েছে,নাউ গো। নিরাপত্তা বাড়ান। নয়তো কম্প্লেইন ডেস্কে চিঠি যাবে আপনাদের নামে।

যথারীতি ধ'ম'কে বলে প্রিতম। সিকিউরিটি গার্ড মাথা নাড়িয়ে সাইনবোর্ড ঠিক করে চলে যায়।

ইনায়া , মিসেস মৈথি আর তার বান্ধবীরা প্রিতমদের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিতম ঘুরে সাইমা আর নিধির দিকে ফিরে গম্ভীর কন্ঠেই বলে,“সরি। ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট!”

জামি প্রিতমের ওপর চেঁ'চি'য়ে ওঠে,“এই তুই ওদের সরি বলছিস কি রে? সরি সস্তা? ভুল কে করেছে? আমি করেছি?”

ইনায়া জামিকে বলে,“একটা ঝগরুটে লোক তো আপনি! প্রমান তো হয়েই গেলো এটা লেডিস টয়লেট। পরোক্ষভাবে হলেও দোষ আপনার। ভিতরে ঢুকেও বুঝতে পারলেন না কোনটা লেডিস টয়লেট আর কোনটা নয়?”

জামি পাল্টা মুখ বিকৃত করে বলে,“অতকিছু খেয়াল করার সময় দিয়েছে তোমার ঐ ফ্রেন্ড দু'টো? দেখেই শেয়ালের মতো হুক্কা হুয়া শুরু করে দিয়েছে।”

নিধি ক্ষে'পে গিয়ে বলে,“আমি শেয়াল? এই! এই! আপনি কি? মোটা পান্ডা কোথাকার।”

জামি নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে ক্ষে'পে যায় , তাকে কেউ মোটা বললে তার মাথা ঠিক থাকে না,মেয়েরা বললে তো একদমই না। সে তৈরি হচ্ছিলো মেয়ে গুলোকে কুৎসিত কিছু গালি দিতে, ইংলিশ বাংলার সংমিশ্রণে কিছু অদ্ভুত সুন্দর গালি।

প্রিতম তার বন্ধুকে খুব ভালোভাবে চেনে। একটা অঘটন এখানে ঘটতে চলেছে নির্ঘাত। তার আগেই প্রিতম‌ জামির মুখ চেপে ধরে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। শুভ, সাফওয়ান আর প্রিতম কেউই জামিকে থামাতে পারেনি, জামি বলে ওঠে,“আমি মোটা পান্ডা? তিন স্তর মেইক আপ লাগানো শাকচুন্নীর দল! তোমরা এক একটা...”
আবার মুখ চেপে ধরলো প্রিতম। জামিকে আর কিছু বলতে দিলো না।

মিসেস মৈথি পরেছে বিপদে। শুরুতেই এমন একটা বিশ্রী ঝামেলায় পরতে হলো। সে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করছে, ব্যর্থ হয়ে সে চেঁচিয়ে তার মেয়েদের বলে,“গার্লস! স্টপ। চলো এখান থেকে।”

ইনায়া একপলক প্রিতমের দিকে তাকিয়ে জামিকে বলে,“আজ বুঝতে পেরেছি,মেজো দাদান কেনো আপনাদের সহ্য করতে পারে না। আপনারা সহ্য করার মতো লোকই নন।”

এই কথাটা প্রিতমের খুব লাগলো। কথাগুলো কর্নগোচর হতেই ভ্রু কুঞ্চিত হয় তার, ইনায়ার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,“কি বললে?”

_যা বলেছি শুনতে পাননি?

প্রিতম রাগটাকে হজম করে শান্ত হয়ে বলে,“আচ্ছা! তোমার মেজো দাদান খুব ভালো বুঝি!”

_আলবত! অ্যাটলিস্ট সে মেয়েদের সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে না!

শুভ বলে,“আর তোমরা যাচ্ছেতাই বলে যাবে,আমরা শুনবো? ওরে আবদার রে খুকুমণির দল....”

জামি বলে,“আরে নিব্বির দলকে আর কি বোঝাবি!”

ইনায়া ক্ষে'পে গিয়ে জামির দিকে দুই পা এগিয়ে গিয়ে বলে,“আপনিইইই.....”

প্রিতম জামিকে সরিয়ে ইনায়ার দিকে শান্ত চোখে তাকায়। ইনায়া দমে যায়।

তারপর বলে,“কোন কুক্ষনে এখানে এসেছিলাম। কি দুর্ভাগ্য আমাদের।”

জামি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,“হ্যা হ্যা আমাদের যেন খুব সৌভাগ্য তোমাদের সাথে দেখা হলো বলে। খুশির চোটে আমাদের মরে যেতে ইচ্ছে করছে।”

_অসহ্য!
ইনায়া বলে।

_হ্যা হ্যা আমাদের যেন খুব সহ্য!
জামি পাল্টা জবাব দেয়।

প্রিতম গম্ভীর কন্ঠে বন্ধুদের বলে,“এনাফ! চল এখান থেকে। অনেক হয়েছে।”

_হ্যা সেটাই। চল।

জামিকে টানতে টানতে প্রিতম,সাফওয়ান এবং শুভ গিয়ে ব্যাগেজের কাছে দাঁড়ায়। সবার ব্যাগেজ করিডোরে পরে আছে,যেখানে ইনায়াদের ব্যাগেজ রাখা ছিলো।

মিসেস মৈথি মেয়েদের তা'ড়া দেয়। ওরা ছয় বান্ধবীও দ্রুত এসে প্রিতমদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মুখ বিকৃত করে যার যার লাগেজ তুলে নেয়।

ইনায়া এসে দেখলো সে যেখানে তার ট্রলি ব্যাগটা রেখেছিল,ব্যাগটা ঠিক তার অপজিটে পরে আছে। তার খুব রাগ হলো। ব‌্যাগ গুলো সব এলোমেলো হয়ে আছে।

প্রিতমরা চার বন্ধু নিজেদের লাগেজ তুলে সোজা হেঁটে সেখান থেকে চলে যায়।

★★★

বাইরে প্রি-পেইড ক্যাব গুলো দাঁড়িয়ে। মিসেস মৈথি মেয়েদের একপাশে দাড় করিয়ে রেখে একটা ক্যাব নিয়ে নেয়।
রিন্তু আর রুশফি সবার সামনের সাড়িতে বসে।
জুনি আর ইনায়া মাঝখানের সাড়িতে এবং সাইমা আর নিধি সবথেকে পেছনের সাড়িতে বসে। বিশালাকার ক্যাবটির ডিকিতে ব্যাগেজ তুলে মিসেস মৈথি মাঝের সাড়িতে,ইনায়ার পাশে গিয়ে বসে। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেয়।

কিছুক্ষণ আগের তিক্ত ঝামেলার কথা বেমালুম ভুলে সবাই এখন বেশ চনমনে। গল্প জুড়ে দিয়েছে সবাই। ইন্টারনেট ঘেঁটে সব তথ্য বের করতে থাকে। মিসেস মৈথি বলে,“গুগলকে কি প্রশ্ন করছো? এটা আমার জন্মভূমি। বলো কি জানতে চাও মেয়েরা।”

রুশফি মিসেস মৈথিকে বললো,“আচ্ছা আন্টি, আপনি তো এখানে দু'বছর পরপর আসেন। আপনার খারাপ লাগে না?”

মৈথি হেসে বলে,“খারাপ লাগে বৈকি। তবে তোমার আঙ্কেল আমার সব খারাপ লাগা দূর করে দেয়। মন খারাপ হতেই দেয়না।”

ইনায়া কৌতুহলী হয়ে বলে,“জুনিদের নানুবাড়ি জোমসোম কেন?ওখানে সংখ্যালঘু মুসলিমরা কিভাবে থাকে।”

_জোমসোম এরিয়াতে তো তোমাদের নানুর বর্তমান বাড়ি। সেখানে তার চিকেনের বিজনেস আছে। তোমার নানুর আসল বাড়ি,মানে আমাদের পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাঁকে জেলায়। নেপালের পচানব্বই শতাংশ মুসলিমদের বাস সেখানে।

তাদের ক্যাব পোখারার আঁকাবাঁকা মসৃণ, আধুনিক রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে জোমসোমের দিকে। ইনায়া কৌতুহলী হয়ে বলে,“আংকেলের সাথে তোমার লাভ ম্যারেজ ছিলো। কিভাবে কি হলো,বলো না।”

_আমাদের লাভস্টোরি?

_হ্যা।

_আমাদের লাভস্টোরি ইউনিক, ইন্টারেস্টিং কোনো লাভস্টোরি ছিলো না। ঐ তো, তোমাদের আঙ্কেল ট্যুরে এসেছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল আমাদের এলাকায়। দস্যুদের হাতে পরে তারা। সবকিছু ছিনতাই হয়ে আমাদের পাড়ায় আশ্রয় নেয়,তখন আমরা পুতালিবাজার থাকতাম। আমার বাবা তাদের আশ্রয় দেয়। সেখান থেকেই প্রথম দেখায় দুজন দুজনের প্রেমে পরি।

পাঁচ বান্ধবী হা করে সব কথা শুনছিলো,অস্ফুটে বিস্ময়সূচক কন্ঠে বললো,“ওয়াও! সো ফিল্মি!”

মৈথি হেসে বলতে থাকলো,“ফিল্মিই তো। কখনও ভেবেছি? নেপালী একটা মেয়ের শশুর বাড়ি হবে পাশের দেশে।”

ইনায়া বলে,“এটাকে ডেস্টিনি বলে আন্টি। আমার মেজো মা সবসময় বলে,আল্লাহ তোমার সাথে যাকে লিখে রেখেছে, সুদূর কাজাকিস্তান হলেও নিয়তি তোমাকে টানতে টানতে তার কাছে নিয়ে যাবে।”

রুশফি হেসে বলে,“তাই নাকি! তাহলে ডেস্টিনিই নিশ্চয়ই আমাদের টানতে টানতে এখানে নিয়ে এসেছে ইনায়া, তোর নিশ্চয়ই এখানে বিয়ে হবে।”

জুনি দাঁত বের করে বলে,“আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেবো তোর।”

ইনায়া চোখ রাঙায় ওদের। সবাই হাসছে। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে জোমসোম মিউনিসিপ্যালিটি রোডের দিকে। রাস্তার দুধারে আধুনিক সুউচ্চ দালান, মৈথির বর্ননায় আগে যেখানে পাহাড় ছিলো।

ইনায়া জানালা থেকে দৃষ্টি দেয় বাইরে। এসি অফ করে প্রাকৃতিক বাতাসের স্নিগ্ধতার স্বাদ নিচ্ছে সে।

রিন্তু বলে,“এখানে ইনায়ার ডেস্টিনি হলে মন্দ হয়না। নেপালি ছেলেদের চেহারা সাউথ কোরিয়ানদের মতো কিছুটা। ইনায়ার তো কোরিয়ান ছেলে পছন্দ। ওর তো পুরো জমে যাবে। আর আমাদেরও।”

রিন্তুর কথায় হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে সবাই। হেসে ফেলে ইনায়াও। গাড়ি তাদের জোমসোমের বুদ্ধ মন্দির অতিক্রম করেছে। ইনায়া ওদের সবার দিকে তাকিয়ে বলে,“আজ বিকেলের প্ল্যান কি?”

_প্ল্যান? না বাচ্চারা।‌ আজ শুধু রেস্ট। যা করার কাল থেকে করো।

আদেশের সুর মৈথির কন্ঠে। জুনি বিরক্তি প্রকাশ করে মায়ের কথায়,“মা শুরু হয়ে গেলো তো? তুমি কিন্তু বলেছিলে, এখানে এসে আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না।

মৈথি হার স্বীকার করে নেয়। বলে,“আচ্ছা যা ইচ্ছা করো। আগে তো বাড়িতে পৌঁছে নিই!”

★★★

হোটেল হিমালায়া ইন। পোখারা সিটির সুপরিচিত পর্যটক হোটেলগুলোর একটি। ক্যাব থেকে নেমে সবাই ব্যাগেজ নিয়ে রিসিপশনে যায়। দু'টো রুম আগেই বুকিং করে রেখেছিলো তারা অনলাইনে।

একটা রুমে শুভ এবং সাফওয়ান থাকবে,আরেক রুমে জামি এবং প্রিতম।

কি- কার্ড দিয়ে দরজা আনলক করে ভেতরে ঢুকে ব্যাগেজ রেখেছে প্রিতম বিশালাকার আধুনিক রুমের বিশাল বেড টাতে গা এলিয়ে দেয়। জামি জানালার পর্দা সরিয়ে মুখ দিয়ে বিস্ময়সূচক বাক্য আওড়ায়,“ওয়াহ রে প্রিতম! মাউন্ট ভিউ! বেছে বেছে জবরদস্ত রুমটা নিয়েছিস! আচ্ছা ঐ মাউন্ট টার নাম কি?”

প্রিতম উঠে বসে,চোখ থেকে চশমা খুলে মুছতে মুছতে বলে,“গুগল কর!”

_তুই থাকতে গুগল কেনো রে!

_আমাকে সব জান্তা মনে করিস?

_ইউনিভার্সিটির ব্রাইট বয় তুই।

_সরি,বইয়ে “রিপাবলিক অব নেপাল” বলে কোনো চ্যাপ্টার ছিলো না!

প্রিতম উঠে দাঁড়ায়। লম্বা জার্নিতে মাথা ধরেছে বেশ। একটা অষুধ খেয়ে নিতে হবে এক্ষুনি। হ্যান্ড ব্যাগের কোথাও মেডিসিন খুঁজে না পেয়ে সে প্রেরনাকে মেসেজ পাঠায়,“আপু মেডিসিন?”

ওপাশ থেকে প্রেরনা উত্তর দেয়,“লাগেজে। খুললেই পেয়ে যাবি।”

প্রিতম ফোন রেখে হ্যান্ড ব্যাগ থেকে লাগেজের রিমোট কন্ট্রোলার বের করে পাসওয়ার্ড দিতে গিয়ে দেখে পাসওয়ার্ড কাজ করছে না।

কিছুটা বিরক্ত হয়ে পুনরায় চেষ্টা করে সে, বিফল হয় এবারও। একাধিকবার ভুলভাল পাসওয়ার্ড দেওয়াতে পাঁচ মিনিটের জন্য অফ হয়ে যায় রিমোট কন্ট্রোলার টা।

জামি এগিয়ে আসে,
“কিরে এটাকে নিয়ে দাপাদাপি কি করছিস!”

_পাসওয়ার্ড কাজ করছে না।

_ভুলে গিয়েছিস?

_একদম না, পাসওয়ার্ড আমার আপুর প্রনমির বার্থডে ডেট,পর্যায়ক্রমে!

_তবে?

_বুঝতে পারছি না।

আরো কিছুক্ষণ চেষ্টা করে প্রিতম হাল ছেড়ে বলে,“হ্যাক করতে হবে!”

_তারপর?

_খুলে যাবে,তবে লকটা পার্মানেন্টলি নষ্ট হয়ে যাবে‌। এছাড়া কোনো ওয়ে নেই।

“আচ্ছা তাই কর।”.
জামি নিজের ব্যাগ খুলতে খুলতে জবাব দেয়।

পাঁচ মিনিটের মাথায় ব্যাগের লকটাকে খুলে ফেলে প্রিতম। নিজের হ্যাকিং দক্ষতার ওপর অতি প্রসন্ন সে। মাথা ব্যাথার ঔষুধের কথা মনে পরতেই তাড়াহুড়ো করে ব্যাগের উপরের পার্ট তুলতেই সে হতভম্ব হয়ে যায়।

মুহূর্ত কে'টে যায়, প্রিতম জামির দিকে তাকায়। জামি হেডফোন লাগিয়ে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে মাউন্ট দেখতে দেখতে গানের তালে তালে দুলছে। প্রিতম একটা ঢোক গিলে পুনরায় ব্যাগের দিকে তাকায়‌।
এটা অন্য কারো ব্যাগ। কোনো মেয়ের। উপরেই মেয়েদের কিছু ইনার সেট রাখা । লাল, বেগুনী, গোলাপী রঙের ব্রা। প্রিতম একটা ঢোক গিলে ধপ করে লাগেজ বন্ধ করে ফেলে।

মুখ থেকে অস্ফুটে বের হয়,“হোয়্যাট দ্যা হেল আর দিইজ!”

চলমান.....

#বিশেষ_নোট

গল্পে প্রাপ্তমনস্ক স্ট্যাম্প লাগিয়ে দেবো কাল থেকে। এটা আগে আমার মাথায় আনা উচিত ছিলো,ভুল করলাম। যদিও অশ্লীলতা দেবো না তবে প্রাপ্তবয়স্ক বিষয় গুলো উঠে আসতে পারে গল্পের খাতিরে।

আর হ্যা,
আপনারা যেরকম ভাবছেন গল্পটা সেরকম হলেও ঠিক ওরকম হবে না,তবে ঠিক ওরকম হবে কিন্তু সেরকম হবে না,বাট ওরকম হবে তবে আসলেই সেরকম হবে না ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 14 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন