#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_২৫
#ইসরাত_ইতি
🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
“আট লক্ষ তেপান্ন হাজার সাতশ একত্রিশ টাকা।”
দু'টো অ্যাকাউন্ট থেকে মুনাফা বাদ দিয়ে মোট এই ক'টাকাই প্রেরণা দেখতে পেলো। বাকি তিনটা অ্যাকাউন্টে প্রেরণা হাত দিতে পারবে না এখনই। ওগুলো শুদ্ধর, শুধু আর শুধুমাত্র শুদ্ধর।
বিছানায় ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকে বসে হিসেবটা পরিস্কার করে উঠে বসলো সে। চোখ ব্যথা করছে খুব। চোখ ডলতে ডলতে উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে ব্যস্ত সে। দিনকে দিন রোগা হচ্ছে,বুড়িয়ে যাচ্ছে কেমন। মুখটা একটা নামী কোম্পানির ফেইসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে চুলটা আঁচড়ে নিলো। তাকে দশতলায় যেতে হবে মিস্টার রাশিদ খানের কাছে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস খান উভয়েই ব্যাংক কর্মকর্তা। প্রেরণা একটা বড় অ্যামাউন্টের লোন তুলতে চাচ্ছে,তাই তাদের কাছে ধরণা দিতে হবে খুঁটিনাটি জানতে।
হাই তুলতে তুলতে আলগোছে সুতির শাড়িটা ডান কাঁধে জরিয়ে নিতেই পাশের ঘর থেকে সুমধুর সুর ভেসে এসে তার কানকে প্রশান্ত করে দেয়। প্রেরণা চকিতে ঘুরে দরজার দিকে চায়।
“তোমরা যে বলো দিবস রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা। সখী ভালোবাসা কারে কয়...
সে কি কেবলই যাতনাময়!”
প্রেরণা মুগ্ধ, বিমোহিত, আপ্লুত। প্রনমির কন্ঠস্বর তাকে সবসময় মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রনমি যখন গান গায় তখন প্রেরণার কাছে মনে হয় তার মা এলিজা মরিয়ম গাইছে।
শুদ্ধ বিছানায় ঘুমোচ্ছে, ইদানিং বিকেলে-ই ঘুমিয়ে যায় ছেলেটা। প্রেরণা সন্তর্পণে দরজাটা ভেজিয়ে রেখে চলে যায় প্রনমির কাছে।
“সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ ।”
কারো অস্তিত্ব টের পেতেই গান থামালো প্রনমি। প্রেরণা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বললো,“ভালোবাসা কখনোই যাতনাময় নয় প্রনমি। ভালোবাসা সবসময় সুখের।”
প্রনমি মৃদু হাসলো। বললো,“সে তুমি শাওকাত ওয়াসীতকে পেয়েছিলে কি না! তাই বলছো। যারা শাওকাত ওয়াসীতকে পায়নি রবি ঠাকুর তাদের হয়ে প্রশ্নটি তুলেছেন।”
_তুই-ও পাবি। এখন বল, শাওকাত ওয়াসীতের মতো চাই নাকি আরো কিছু গুণ লাগবে?
প্রনমি লাজুক হাসলো। প্রেরণা ঘরে ঢুকে বোনের মুখোমুখি বসে বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,“বল কেমন বর চাই?”
_আপু যাও তো!
বিরক্তি দেখিয়ে বললো প্রনমি। প্রেরণা দৃঢ়তা নিয়ে বললো,“যাবো কি? আমার বোনকে আমি তেরো রাজ্যের রাজপুত্র ডেকে স্বয়ম্বর সভা করে তারপর বিয়ে দেবো। আমার বোনের এমন বিয়ে দেবো না আমি! এমন ছেলের সাথে বিয়ে হবে তোর এই গোটা শহরে তাক লেগে যাবে বুঝলি!”
মুখে হাত চেপে হাসছে প্রনমি। হাসতে হাসতেই বলছে,“তা শোনো না আপু, আমি তো অন্ধ। প্লিজ এমন অন্ধ পাত্রকে এনো না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যতীত যেকোনো প্রতিবন্ধী এনো। নয়তো আমি তার থেকে এই সুন্দর পৃথিবীর বর্ণনা কিভাবে শুনবো?”
হাসতে হাসতে চোখের কোণে পানি এসে গিয়েছে প্রনমির। তবুও হাসি থামছেই না। পাগলের মত হাসছে। প্রেরণার মুখটা হঠাৎ করে শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গিয়েছে। একটা মৃদু শ্বাস ফেলে প্রসঙ্গ পাল্টে বলে,“গান টা ভালো করে প্রাকটিস কর। গান বাংলার রিয়েলিটি শোতে তোর নামে ফরম তুলবো আমি।”
বাধ্য মেয়ের মতো মাথা ঝাঁকায় প্রনমি। প্রেরণা কথা না বাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়।
ডাইনিং টেবিলে তখন খেতে বসেছে প্রিতম। আজ একটু বেলা করেই বসলো। হাতে কিছু কাজ ছিলো তাই। প্রেরণা এসে ভাইয়ের প্লেটে খাবার তুলে দিতে গিয়ে আড়চোখে দু-তিন বার ভাইকে লক্ষ করে। ছেলেটা কেমন উদাস থাকছে কিছুদিন যাবত। নেপাল থেকে ফিরেছে দু মাস পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও ট্রমাটাইজ কিনা বুঝতে পারেনা প্রেরণা, হতে পারে কাজের চাপ।
ভাইয়ের পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে ভাইয়ের পিঠে হাত রাখতেই প্রিতম খাওয়া থামিয়ে দিয়ে বোনের দিকে তাকালো।
“কিছু কি হয়েছে ভাই?”
_কই না তো! কি হবে?
নিচুস্বরে জবাব দেয় প্রিতম। তারপর ঝটপট খেতে থাকে।
প্রেরণা উঠে দাঁড়িয়ে বললো,“কাজের প্রেশার টা এতো নিস না। একটু সময় দে নিজেকে। আর শোন, ফুপি তোর জন্য মেয়ে দেখছে। আমি বলেছি। মানসিকভাবে প্রস্তুত হ।”
প্রিতমের হাত থেমে যায়। প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকে চুপচাপ, বোনের কথায় কোনো জবাব না দিয়ে। খানিক বাদে বলে ওঠে,“আপু শোনো....!”
প্রেরণা দশ তলায় যাবে বলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ভাইয়ের কথায় থামলো,“হ্যা বল...”
_নাহ কিছু নাহ। যাও তুমি।
প্রেরণা বুঝতে পারলো না কিছুই,তবে ঘর থেকে বেরোলো। এদিকে খেতে খেতে-ই প্রিতম হাতে তুলে নিলো ফোনটা। তখন থেকে নোটিফিকেশনের টুং টাং ঝংকার তার কর্নগোচর হচ্ছিলো। বার্তালাপ বাক্সখানায় ঢু মারতেই দেখলো কুড়ি খানেক মেসেজ। সর্বশেষ যে মেসেজটি ছিলো সেটি হলো,“এই দু'টো শাড়ির মধ্যে কোন শাড়িটা পরবো প্রিতম। ডিসাইড করতে পারছি না,তুমি বলবে প্লিজ?”
প্রিতম হেসে ফেললো। একদৃষ্টে মেসেজটা কিছুক্ষণ দেখে বিড়বিড় করে বললো,“জামি ঠিকই বলে, নিব্বি একটা!”
____
ইনায়ার মনে হচ্ছে সে এইমাত্র একটা বিশ্বযুদ্ধ জয় করে ফেলেছে। জীবনে কখনো শাড়ি না পরা মেয়েটা আজ এই প্রথম, সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় সফল হলো। তার পরা শাড়িটা কাঁচা হলুদ রঙের একটি কাঞ্জিভরম শাড়ি। ইনায়ার গাঁয়ের টকটকে রংটার সাথে মিলে গিয়েছে বেশ। শাড়ি আঁচল গুটিয়ে রেখে সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। স্বাস্থ্য কিছুটা ভারী হওয়ায় দু-তিনটে কুচি কম পরেছে। তবুও বেশ গোছানো লাগছে সবটা। হাত ভর্তি লাল রঙের কিছু চুড়ি পরে চুলটা আঁচড়ে পিঠে ছড়িয়ে দিয়েছে সিল্কি রেশমী চুলগুলো।
ঠোঁটে হালকা লিপগ্লস লাগিয়েছে, ইনায়ার ঠোঁট দুটো এমনিতেই রক্তিম। কোনো প্রসাধনী মাখেনি গালে অথচ হেলদি ত্বক চকচক করছে। সেজেগুজে নিজেকে দেখে নিজেই খানিক লজ্জা পেয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে ইনায়া ঘর থেকে বেরিয়ে আশেপাশে একবার ভালো করে দেখে নেয়, তারপর শাড়ির কুঁচি সামলে নিয়ে ছুট লাগায় ইনশিরাহর ঘরের দিকে। ঘরের দরজায় পা রাখা মাত্রই থমকালো ইনায়া। ইনশিরাহর ঘরে তখন ছিল ইনশিরাহ, ইরফান, পরী আর রিতু। ওরা লুডু খেলছিলো।
মুম্বাই থেকে ট্রিটমেন্ট নিয়ে সপ্তাহখানেক হলো ফিরেছে পরী। মোটামুটি সুস্থ সে। ছয় মাসের ফুল বেড রেস্ট দেওয়া হয়েছে তাকে। এমতাবস্থায় চেম্বারে বসতে পারছে না।
ঘাবড়েছে ইনায়া মেজো দাদানকে দেখে। যার ভয়ে সে এতক্ষন আশেপাশে দেখে এসেছে,এখানে এসে সে-ই বাঘটাকেই পেলো।
ওরা সবাই হা করে ইনায়াকে দেখছে। পরীর চোখে মুখে চাপা আনন্দের ছটা মেয়েকে দেখতে পেয়ে। ভারী স্বাস্থ্যের মেয়েটার রূপ,লাবন্য দিনকে দিন বাড়ছে। শাড়িতে একেবারেই পরিনত নারী লাগছে মেয়েটিকে।
রিতু আর পরী মিলে মেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইনায়া আড়ষ্ট হয়ে ইনশিরাহকে বললো,“আপু পুল সাইডে চলো না আমার দু'টো ছবি উঠিয়ে দেবে।”
ইনশিরাহ তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। দুবোন পুল সাইডে যাওয়ার পথে সামিনের সামনে পরলো। ইনায়াকে দেখে আপ্লুত তার বড় বাবা। মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,“এক্কেবারে রানীর মতো লাগছে আমার ছোটো আম্মাকে।”
ইনশিরাহ হাসতে হাসতে বলে,“হ্যা পাপা মোটি রানী।”
ইনায়া লজ্জা পেলো। সামিন ওয়ালেট থেকে একটা দু হাজার টাকার কচকচে নোট ইনায়ার হাতে ধরিয়ে দিলো ইনায়ার প্রথম শাড়ি পরা উপলক্ষে। বললো চকোলেট কিনে খেতে। ছোটোবেলার মতোন।
পুল সাইডে এসে ফটো বুথের সামনে দাঁড়ায় ইনায়া। পারিবারিক অনুষ্ঠান গুলোর জন্য স্থায়ী ভাবে এই বুথটা করা হয়েছে। ইনশিরাহকে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে ইনায়া বললো,“আপু ছবিতে আমাকে যেন মোটা না লাগে বুঝেছো? ফোনটা উল্টো ধরে ছবি নাও।”
_চুপচাপ দাঁড়া। আমাকে শেখানোর প্রয়োজন নেই কিভাবে ছবি তুলতে হয়।
একনাগাড়ে বারোখানা ছবি তুলে থামলো ইনশিরাহ। ইনায়া ছুটে এসে ছবিগুলো দেখলো। সবকটা ছবি-ই ভীষণ সুন্দর হয়েছে। লম্বা একটা ধন্যবাদ দিলো বোনকে। তার চোখ দিয়ে ঠিকরে বেরিয়ে পরছে তার উচ্ছ্বাস। ইনশিরাহ আড়চোখে বোনের মুখে উপচে পড়া আনন্দ দেখে বললো,“আচ্ছা বলতো, হঠাৎ শাড়ি পরলি কেন!”
ফোনের স্ক্রিণে আঙুল চালনা বন্ধ হলো ইনায়ার। আস্তে ধীরে বোনের মুখে পানে দৃষ্টি রেখে আমতা আমতা বললো,“এমনিই।”
ঘরের দরজা শুধুমাত্র ভেজিয়ে রেখে সামিন ঘুরে দাঁড়ায়। আলো বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। দিনকে দিন দুর্বল হয়ে পরছে ভদ্রমহিলা। ক্লান্ত থাকে বেশিরভাগ সময়ই। এছাড়াও নানাবিধ শারীরিক জটিলতা তো রয়েছেই। চলনে বলনে সে-ই তেজ নেই আগের মত। এগিয়ে গিয়ে বিছানায় স্ত্রীর পাশে শুয়ে পরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে দুহাতে আগলে ধরতেই আলো ঘুম ভে'ঙে হকচকিয়ে ওঠে।
আলোর হঠাৎ এভাবে চ'মকে যাওয়াতে চ'ম'কে যায় সামিনও। গলার স্বর খাদে নামিয়ে আলো রাগের সহিত বলে,“কি হচ্ছে টা কি? দিন দিন কি যুবক হচ্ছেন নাকি?”
সামিন মহাবিরক্ত এমন ক্ষুদ্র অপমানে। সে পাল্টা জবাব দেয়,“কি আশ্চর্য! বুড়ো হয়েছি বলে বৌকে জাপ্টে ধরে শুতেও পারবো না?”
আলো চোখ সরু করে তাকিয়ে আছে। খানিক বাদে বললো,“কেন পারবেন না? বৌকে কোলে নিয়েও শুয়ে থাকতে পারবেন। আপনাদের খায়েশ তো বুড়ো হলে চার ডিগ্রী বে'ড়ে যায়। কিন্তু বুড়ো হয়েছেন বলে আজকাল দরজা লাগাতে ভুলে যান। তারপর এই যে রং-ঢং করতে আসেন। এখন ছেলেমেয়ে গুলো ঘরে ঢুকলে কি ভাববে? বেয়াক্কেল লোক।”
একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে সামিন উঠে বসলো। মুখটা কেমন গম্ভীর হয়ে উঠেছে তার। সোজা গিয়ে দরজার সিটিকিনি তুলে এসে বিছানায় ওপাশ ফিরে শু'লো।
সে তার স্ত্রীর আচরণে মাইন্ড করেছে,সেটাই বোঝাতে চাচ্ছে। আলো শাড়ির আঁচল মুখে চে'পে কিছুসময় হেসে সামিনের পাশে শুয়ে তাকে পেছন থেকে আলতো করে জরিয়ে ধরলো। মুহুর্তেই ইয়াসার মির্জার অভিমানের বেলুন চুপসে গেলো। কারন ইয়াসার মির্জা নির্লজ্জ,তার বৌয়ের কাছে।
স্বামীর কাঁচাপাকা চুলে হাত বুলিয়ে আলো আদুরে গলায় বলতে লাগলো,“শেহাটাকে দেখি না মাসখানেক হলো। ওকে গিয়ে নিয়ে আসুন না। এতো ভালো ভালো রান্না গলা থেকে নামে না আমার। সপ্তাহখানেকের জন্য নিয়ে আসুন।”
_আনবো। শান্তর অফিস থেকে ছুটি পাক। ও এখন রিটায়ারমেন্ট নিয়ে নিলেই পারে। অযথা খাটনি।
_কি আর করবে। একাকিত্ব দূর করছে কাজের মাঝে থেকে।
_সেজন্যই তো বারবার পাত্রী দেখতে চেয়েছি।
হঠাৎ কিছু একটা মনে পরলো সামিনের। উঠে বসলো। উঠলো আলো-ও। সামিন ফোনটা হাতে নিয়ে কিছু একটা দেখে বললো,“ভালো কথা মনে পরেছে। জামিলের ছেলে জাহিনের খালাশাশুড়ি আছে বুঝলে। পূবালী ব্যাংকে চাকুরী করে। বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি। ভদ্রমহিলা বন্ধ্যা তাই কখনও বিয়ে হয়নি, ভাইবোন মানুষ করেছে আজীবন। এখন এই বয়সে আপনজনেরা ধরে বেঁধে সংসারে বাঁধতে চাইছে। জামিল বললো শান্ত রাজি থাকলে সে কথা এগোবে।”
আলো আপত্তির সুরে বললো,“কিসব বলেন? শান্ত ভাইয়া মানবে না।”
_দেখি,আগে আসুক। শেহা সেদিন আমাকে সরাসরি বলেছে ফোনে ওর বাবাকে বিয়ে করিয়ে দিতে চায়। এখন একটা বিহিত করতেই হয় বুঝলে!
আলো ম্লান হেসে বললো,“ও অনেক বুঝদার হয়েছে তাইনা মেয়র সাহেব। ঠিক ইশিতা আপুর মতো হয়েছে ও।”
_হু। মা'টাকে অনেক ভালো রাখুক আল্লাহ।
_____
“এই পেপার্স গুলো ভালো করে দেখে দিন আঙ্কেল। এখানে কোনো ভুল আছে কিনা।”
রাশিদ খান চশমাটা খানিকটা ঠেলে মনোযোগ দিলেন ডকুমেন্ট গুলোতে। অস্ফুটে বললেন,“না পেপার্স ঠিক আছে তবে ত্রিশ লক্ষ টাকা লোন। কি করবে?”
প্রেরণা নড়েচড়ে বসলো। স্মিত হেসে বললো,“কেটরিং সার্ভিসের বিজনেস শুরু করতে চাচ্ছি। ছোটো পরিসরে।”
এক কাপ চা প্রেরণার সামনে এনে রাখলো রাশিদ খানের স্ত্রী পলি। প্রেরণার কথায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ই বিস্মিত। পলি বললো,“আর তোমার রেস্তোরাঁ?”
_সেটাও থাকবে।
পলি হেসে বললো,“পারোও বটে তুমি। দম আছে।”
রাশিদ খান কাগজপত্র সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বললো,“সব-ই ঠিক আছে। ঝামেলা হবে না। তবে লাগলে বলো,আমি হেল্প করবো।”
প্রেরণা বিনয়ের সাথে মাথা ঝাঁকায়। রাশিদ খান ইভিনিং ওয়াকে চলে যেতেই পলি প্রেরণার মুখের দিকে তাকায়। মেয়েটিকে ভদ্রমহিলা পছন্দ করেন। যথেষ্ট ভালো মেয়ে তা-ই,
আফসোস মাখা কন্ঠে বলে,“আচ্ছা প্রেরণা! তুমি এতো সাদামাটা কেন থাকো বলো তো? তুমি কি বুড়ি হয়ে গিয়েছো নাকি? কখনও একটু সাজতে দেখি না। এমন করে প্লিজ থাকবে না আর!”
প্রেরণা চা খেতে খেতে হাসলো, অতঃপর অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বললো,“আন্টি। বিধবা, বাচ্চার মা'দের সাজাটা সবাই আপনার মতো স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে না। সমাজের এই সবাই-টাকে আমি বড্ড মান্য করি। নয়তো মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় গালে মেকআপ চ'ড়াতে সত্যি বলছি।”
হেয়ালি করেছে প্রেরণা, বুঝতে পারলো পলি। প্রেরণা চায়ের কাপ রেখে উঠে দাঁড়ায়, পলিকে বলে,“আসছি আন্টি।”
দরজার কাছে এগিয়ে যেতেই প্রেরণা থ'ম'কে দাঁড়িয়ে যায়। মুহুর্তেই তার চোখ মুখ ছেয়ে যায় অস্বস্তি আর বিরক্তিতে। ঠিক এই কারণেই প্রেরণা মিস্টার খানের ফ্ল্যাটে আসে না সচরাচর।
রাদিফ প্রেরণার দিকে মুখ হাসি হাসি করে তাকিয়ে আছে। অদ্ভুত স্বরে বলে,“কেমন আছো প্রেরণা.......আপু।”
প্রেরণা কপাল কুঁচকে ফেলে। বিরক্তি নিয়েই বলে,“হু। তুমি ভালো?”
প্রশ্নটি করে উত্তরের অপেক্ষা করে না প্রেরণা। ত্রস্ত পায়ে হেঁটে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সে বুঝতে পারে না রাশিদ খান আর পলি খানের এই ছেলেটি এতোটা অদ্ভুত কেনো। দেখলেই প্রেরণার রা'গ উঠে যায় আজকাল।
_____
গ্রীষ্মের দাবদাহে অতিষ্ঠ শহুরে জীবন, আজকাল দিনের বেলাতে বাইরে বেরোনোটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে সবার। কিন্তু জামির মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব গরম সে একাই সহ্য করছে। চারদিন যাবত গৃহবন্দি জামির আজ টনক নড়েছে গ্রুপে প্রিতমের মেসেজ চোখে পরতেই। প্রিতম জানিয়েছে সে সবার সাথে দেখা করতে চায়। জরুরি কথা আছে।
ব্যাপারটা ভীষণ গোলমেলে। গত দুমাস ধরে তাদের তিন বন্ধুকে পাত্তা না দেওয়াতে প্রিতমের সাথে দফায় দফায় ঝগড়া হয়েছে ওদের। দেখা করতে চাইলে দেখা করতো না,ঠিক ভাবে কথা বলতো না কারো সাথে। কেমন যেন গুটিয়ে নিয়েছিলো নিজেকে সবকিছু থেকে। আজ কি হলো?
জামি জলদি করে সাফওয়ান আর শুভকে ফোন করে বিষয়টা নিয়ে বিশদ গবেষণা করেও কোনো হেতু খুঁজে পায়নি প্রিতমের এমন “আজিব” কর্মকাণ্ডের।
_____
“দ্য মুন টকস” শহরের সবথেকে বড় “লাভ গার্ডেন”। লাভ গার্ডেন বলা হলো কারণ এটি দেখতে একটি পার্ক হলেও এখানে লাভ বার্ডদের আনাগোনা-ই বেশি।
জামি-সাফোয়ান-শুভ তিনজনই যারপরনাই অবাক প্রিতম তাদের মিটিং প্লেস এখানে ঠিক করেছে বলে। ক্লাবে আসতে বলাতেও রাজি হলো না।
আশেপাশে আনাচে কানাচে লাভ বার্ডদের ছড়াছড়ি। বিশালাকার এই পার্কে বিভিন্ন ধরণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও আছে যেমন আইসক্রিম শপ, কফি কর্ণার। সবাই সেখান থেকে নিচ্ছে , প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে বেঞ্চিতে বসে আড্ডা দিচ্ছে আর খাচ্ছে।
ওরা একটা অর্জুন গাছের নিচে গোলাকার টেবিল দেখে বসলো। এইখানটা নিরিবিলি। বসে প্রিতমকে ফোন করতে যাবে ঠিক তখনই প্রিতমের লাল রঙের বাইকটা ধুলো উড়িয়ে পার্কে ঢুকলো,এসে থামলো ওদের পাশেই।
হেলমেট সরিয়ে ওদের তিনজনের সামনে এগিয়ে এসে একটা চেয়ারে বসলো সে। জামি-শুভ-সাফোয়ান নড়েচড়ে বসে। প্রিতমকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে,“কি ব্যাপার বলতো। ডুমুরের ফুল। আজ জরুরি তলব?”
ওরা খেয়াল করলো প্রিতম মিটিমিটি হাসছে। মিনিটে মিনিটে অবাক হচ্ছে ওরা। প্রিতম বারে বারে ফোন হাতে নিয়ে কাউকে মেসেজ করছে এবং আশপাশটা দেখছিলো। ওরা তিন বন্ধুও প্রিতমকে অনুসরণ করে চারিদিকে তাকায়।
জামি বলে,“কেউ আসবে নাকি? তোর ব্যপার-স্যাপার কি!”
প্রিতম ফোন করলো তার কাঙ্খিত ব্যক্তিকে। ফোন কানে ধরে রেখেই ওদের বললো,“আজ তোদের সাথে কারো পরিচয় করিয়ে দিতে চাই আমি।”
তিনজন পুনর্বার বিস্মিত দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। একসাথে বলে উঠলো,“কার সাথে?”
কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি প্রিতমের ফোন রিসিভ করেছে। প্রিতম নিচু সরে বললো,“কতক্ষণ লাগবে আর?”
_পেছনে দেখো।
সুমিষ্ট কন্ঠস্বর জবাব দেয়।
প্রিতম তৎক্ষণাৎ ঘুরে যায়, ওর তিন বন্ধুও উঁকি দেয় অদূরে। পার্কের প্রধান ফটকের ধারে সারি সারি গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে এক তরুণী। সাদা-গোলাপী চুড়িদার পরনে। চুলগুলো উঁচু করে বাঁধা। তরুণী এক পা দু'পা করে এগোচ্ছে।
ততক্ষণে ওদের তিন বন্ধুর মুখ হা হতে হতে চোয়াল ঝুলে যাওয়ার মতো অবস্থা।
শ্বাস আটকে রেখে একপলক তরুনীকে দেখছে, একপলক প্রিতমকে। প্রিতম হাসি মুখে তাকিয়ে আছে কাঙ্ক্ষিত তরুণীর মুখপানে। মাস্ক পরিহিত, গোলগাল ভারী স্বাস্থ্যের, মায়াবী আয়তাকার চোখের তরুণী ধীর কদমে এগিয়ে এসে প্রিতমের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
ওদের থেকে চোখ ফিরিয়ে জামি-সাফোয়ান-শুভ নিজেরা নিজেদের দেখলো। চোখে মুখে বিস্ময় ভাব, হতভম্ব হয়েই তিনজন সমস্বরে বলে ওঠে,“নিব্বি আর প্রিতম?”
____
ঝামেলা আর প্রেরণা সম্ভবত এক-ই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। আপাতত এই কথাটা মাথায় আসছে তার। প্রেরণার জীবনে সমস্যা গুলো ঠিক বুমেরাংয়ের মতো। যত প্রেরণা নিজেকে সামলে নিয়ে সেগুলোকে দূরে ছুঁড়ে মারে,সেগুলো ঘুরে প্রেরণার গাঁয়ে এসে পরে।
স্কুটি থেকে নেমে ক্লান্ত দুটি পায়ে হেঁটে যায় রেস্তোরাঁর ভেতরে। ততক্ষণে সবকিছু লণ্ডভণ্ড।
চারিদিকে কাঁচের টুকরো ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে। সাবধানী হয়ে না হাঁটলেই প্রেরণার পায়ে বিধতো নির্ঘাত।
এককোণে রেস্তোরাঁর সব স্টাফ,শেফ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। প্রেরণা ওদের মুখের দিকে তাকালো, তবে বললো না কিছু-ই । ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পরলো সে, আপনা আপনিই তার হাত চলে যায় কপালে। পাথুরে দৃষ্টিতে আবারও সবকিছুতে চোখ বুলিয়ে দেখলো তার আড়াই লক্ষ টাকার জিনিস পত্র ভাঙচুর হয়েছে। রাগে কাঁপছে গা, কান্নাও পাচ্ছে রাগে।
সাব্বির এগিয়ে এলো। আফ্রা দিলো প্রেরণাকে পানি। পানি খেয়ে শাড়ির আঁচলে ভেজা ঠোঁট মুছে প্রেরণা উঠে দাঁড়াল, তেজী গলায় বললো,“আমি থানায় যাচ্ছি।”
স্টাফরা সবাই প্রেরণার পথ আটকে দিল। অনুনয়ের সুরে বললো,“ম্যাম। দু'পক্ষের নেতারা আসছে। সালিশ বসবে।”
_সালিশ? কিসের সালিশ হবে এর? সালিশে আমি আড়াই লাখ টাকা পাবো? এতটাকা দেবেন এই নেতারা? কারা আসছে? নাম বলো।
_ম্যাম লাবিব চৌধুরী আসছে, ইহান তাজওয়ার মির্জাও আসছে।
প্রেরণা দাঁড়িয়ে যায়। সাব্বির প্রেরণার সামনে এসে দাঁড়ায়,“ম্যাম শান্ত হোন। থানা পুলিশ করে কখনও কিছু হয় না! ওনাদের আসতে দিন। আর আমি আমাদের দালানের মালিককে ফোন করেছি তিনিও আসছেন।”
প্রেরণা ভ্রু-কুচকে তাকিয়ে বললো,“সাগর ভুঁইয়া? তার কাজ কি সালিশে ?”
_ম্যাম তিনি মুরব্বি প্রভাবশালী ব্যক্তি। আপনার দলটা ভারি থাকবে। এছাড়াও তিনজন প্রেসক্লাবের সদস্য আসছেন। একটা বিহিত করবেন-ই ওনারা। শান্ত হোন।
প্রেরণা বুঝ নিলো,শান্ত হয়ে বসলো। আস্তে ধীরে বললো,“ঘটনা কি ঘটেছিলো সেটা আবারও বলো।”
_ম্যাম আজ আবার দু-দলের দশ বারোজন করে এসেছিলো খেতে। কথায় কথায় ঝগড়া লাগে,আর বাকিটা তো আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। কেউ কারো থেকে কম নয়, কোনো দল নিজেদের নেতার নামে আজেবাজে কথা শুনতে ইচ্ছুক নয়। তিনজন আহতও হয়েছে ওদের মধ্যে।
প্রেরণা চুপচাপ বসে রইলো। রাজনীতি,এই রাজনীতি ব্যাপারটাকেই প্রেরণা ভীষণ অপছন্দ করে। ঠিক একারণেই। তবে ইহান তাজওয়ার মির্জার মধ্যে হিংস্রতা খুব কম পরিলক্ষিত হয়েছে। বলতে গেলে প্রেরণা কখনও ঐ লোকটার আচরণে তেমন কিছুই দেখেনি। বিষয়টা ফিল্মি হলেও সত্যি। প্রেরণার কাছে লোকটাকে সিনেমার সুশ্রী সৎ নেতা মনে হয়,অথচ বাস্তবে যাদের অস্তিত্ব আছে কিনা সন্দেহ। এই নেতাদের তাদের উগ্রমেজাজী চ্যালা সম্প্রদায়-ই ডুবিয়ে ছাড়বে।
স্টাফরা সবাই পরে থাকা চেয়ার গুলো তুলে সাজিয়ে রাখে। কাঁচের টেবিল গুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে।
মেঝে ঘন্টাখানেকের মধ্যে পরিষ্কার করে চেয়ার গুলো গোল করে সাজিয়ে রাখে,এখানে একটু পরে সালিশ বসবে।
নিচের রেস্তোরাঁর বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্বাদে-আহ্লাদের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে খ্যাকখ্যাক করে হাসছিলো গাজী কিচেনের মালিক মহসিন। প্রেরণার বিপদে সে ভীষণ মজা পেয়েছে। একদলা থুতু মাটিতে ফেলে বললো,“মাগিদের কাজকারবার। এখন ঠ্যালা সামলা!”
লাল রঙের বিএমডব্লিউটা এসে স্বাদে আহ্লাদের সামনে এসে থামে ঠিক বিকেল চারটা সাতে।
নেমে খনিকের জন্য দাঁড়িয়ে লম্বা পা ফেলে ভেতরে ঢোকে সে। রেস্তোরাঁ তখন গমগম করছিলো পুরুষ মানুষের হাকডাকে। এখন এখানে সালিশ বসবে। সমঝোতা হলে প্রেরণা ক্ষতিপূরণ পাবে। নয়তো যেতে হবে আইনি লড়াইয়ে। যেটা করলে জানা কথা,প্রেরণা পাবে “বাবাজি কা ঠুল্লু।”
সাগর ভুঁইয়া এসেছেন কিছুক্ষণ আগেই, চার বছর আগে প্রেরণা বিশ লক্ষ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে চার বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছিলো এই দালানটি। দালানটি সাগর ভুঁইয়ার। প্রত্যেক মাসে যাকে আঠেরো হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হয় প্রেরণার। আরো এসেছে রুলিং পার্টির ছাত্র সংগঠনের নেতা লাবিব।
ইহান গিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতেই প্রেসক্লাবের দুজন সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে ইহানের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। বিষয়টা লাবিবের পছন্দ হয়না,তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
ইহান সবার মুখের দিকে একপলক করে তাকায়, অতঃপর দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয় সাগর ভুঁইয়ার দিকে। কেউ কাউকে পাত্তা দিলো না যেন। শুধু দেখাদেখির সালাম বিনিময়।
প্রেরণা এতোজন পুরুষকে একসাথে দেখে কিছুটা অস্বস্তিতে পরলো। আঁচলটা টেনে হালকা ঘোমটার মতো করে দিয়ে এগিয়ে আসতেই ইহান ঘুরে দাঁড়ায়।
অত্যল্পকাল শতাব্দীসম নীল অন্ধকারে দৃষ্টি মেলাতেই ইহান থ'ম'কে যায়। সে এখানে একটা সিরিয়াস ইস্যুর সুরাহায় এসেছে,ভুলে গেলো ক্ষনিকের জন্য। বড় মাকে বলা “তেমন কিছুই না বড় মা, খানিক মুগ্ধতা” কথাটি স্মরণে আসতেই সে টের পেলো, সামনের ভদ্রমহিলা ইহানের অস্বস্তি বারিয়ে দিচ্ছে তার কদমে কদমে। যা ইহানের ব্যক্তিত্বের সাথে বেমানান। বেহায়া চোখ ঐ নীল থেকে সরাতে পারছে না। মাথার ভেতর কোথাও একটা থেকে দু-তিনজন নাম না জানা কেউ শুধায় তাকে,“কেন বলো তো ইহান মির্জা? বারবার তোমার সাথে এই মহিলার সাক্ষাৎ হয় কেন? আর সবথেকে বড় কথা সাক্ষাৎ গুলো ঝামেলাবিহীন হয়না কেন? হুমকি ধামকি আপা নাকি ঝামেলা আপা! কে এ?”
চলমান.....
[ গল্পটা নেপাল থেকে ওদের বাড়ি ফেরার পরে দুমাস এগিয়েছে। এ দুমাসে অনেক কিছু হয়েছে । বিস্তারিত নেক্সট পর্বে জানতে পারবেন। গল্পটা মাত্র শুরু হয়েছে কিন্তু ।]