#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৩৮
#ইসরাত_ইতি
🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ঠিক দুপুর দু'টো নাগাদ নিক্সন,রাজন,সৌভিক,রাফি,অধরা, স্নিগ্ধা,স্নেহা,মমো সহ বাকিদের পুলিশ যার যার বাড়ি থেকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে এসেছে থানায়।
ওরা এখন আ'ত'ঙ্কি'ত, ভীতসন্ত্রস্ত মুখ নিয়ে বসে আছে সুপারিনটেনডেন্ট মুঈন ফরাজীর কেবিনে। মেয়েগুলো মধ্যে অধরা বসে আছে পাথরের মতো, কোনো নড়চড় নেই, অভিব্যক্তিহীন। বাকি তিনজন কাঁদছে নাকি কান্না।
কনস্টেবল দু'জন বিরক্তিতে নাক চোখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে। এই নেকু মেয়ে তিনটাকে যখন ধরে আনা হচ্ছিল তখন এরা চেঁচিয়ে তিন পাড়া মাথায় করেছিলো,“মাম্মা বাঁচাও। পাপা বাঁচাও।”
যেন পুলিশ গুলো ওদের কিডন্যাপ করতে গিয়েছে। এখন এতো কান্নাকাটি কিসের? মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের ক্ষতি করার আগে এসব মাথায় থাকে না? কনস্টেবল গুলোর ইচ্ছে করছে এদের নিজ দায়িত্বে থা'পড়াতে কিন্তু এসপি স্যারের ভয়ে কিছু করতে পারছে না।
নাকি কান্নার শব্দ জোরালো হচ্ছে, যেন নাক দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে চলেছে। মুঈন তিতিবিরক্ত করে মেয়েগুলোর দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ ওদের তিনজনকে দেখে বলে ওঠে,“তোমাদের বয়স ২৬ বছর। যথেষ্ট বুঝদার। এই ধরণের ঘৃণ্য অপরাধের সাথ দিলে কি শাস্তি হয় সেটা একবার মাথায় এলো না? নাকি ভেবেছিলে বাবা মা শিল্পপতি,বড় ঘরের ছেলে মেয়ে তাই কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না?”
নিক্সন একটু পরপর এক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলেছে। তার মুখে কোনো কথা নেই। মুঈন বলতে থাকে,“প্রত্যেকের বাবা মা উচ্চ শিক্ষিত। এমন সম্মানীয় ব্যক্তিদের আজ থানায় চক্কর দিতে হবে তবে আফসোস, তোমাদের ছাড়াতে পারবে না। কেস শুরু হলে বেশি টাইম লাগবে না রায় বেরোতে,কমপক্ষে তিনবছরের গ্যারান্টি দিচ্ছি আমি।”
মেয়েগুলো জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করে দেয়,তবে অধরা কিছুই করছে না। সে রীতিমতো বিভ্রান্ত,তার সাথে কি হতে চলেছে এটা ভেবে। আগামীকাল হবু বরের সাথে বিয়ের শপিংয়ে যাবার কথা ছিলো। অনুভূতি শূন্য হয়ে আছে সে, কান্নাও পাচ্ছে না এই মুহূর্তে।
মুঈন কিছুক্ষণ ওদের আতঙ্কিত মুখবিবর দেখে, অতঃপর হাতের ফাইলে সাইন করে কনস্টেবলকে দিয়ে বলে,“ওসি সাহেবকে দিন। ওদের লকাপে ভরুন।”
_____
শূন্য দৃষ্টিতে জানালায় তাকিয়ে আছে প্রেরণা। মস্তিস্ক পুরোটাই এলোমেলো লাগছে, অদ্ভুত অসহায়ত্বের অনুভূতি ঘিরে ফেলেছে তাকে। এ এক এমন অসহায়ত্ব যা কেবল প্রেরণাই ভোগ করছে। কেন? তার সাথেই কেনো? যদি এতো বিপদ তাকেই দেওয়া হবে তবে সৃষ্টিকর্তা অন্তত কাউকে রাখতেন প্রেরণার অভিভাবক হিসেবে। যখন প্রেরণা এমন অসহায় বোধ করতো তখন একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো কেউ। বিপদে পরলে ঠিকঠাক ভাবে ভে'ঙেও পরতে পারেনা প্রেরণা, একটু কাঁদতে পারেনা আরাম করে। এতো অবিচার কেন তার সাথে?
ও ঘরে অসুস্থ মিস জেনি শুদ্ধকে কোলে নিয়ে বসে আছে। প্রিতম বসার ঘরের সোফাতে বসে আছে উদ্ভ্রান্তের ন্যায়, দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কপালে ঠেকিয়ে। এঘরে তারা চারজন। জানালা থেকে ফকফকা রোদ ঘরে প্রবেশ করছে, গতকালের ঝড়ের পরে আজকে আবহাওয়া চমৎকার, রৌদ্রজ্জ্বল দিন।
ইনশিরাহ প্রেরণার শান্ত হবার অপেক্ষায় ছিলো, বেচারি কেঁদে কেটে নির্জীব হয়ে আছে পুনরায়। ইনশিরাহ খুব সাহস করে এগিয়ে যায়। গিয়ে বসে প্রনমির সামনে, দুহাতে প্রনমির দু'গাল ধরে ঘা'ড় ঘুরিয়ে একবার প্রেরণার দিকে তাকায়, তারপর আবারও প্রনমির মুখের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বিনম্র স্বরে বলতে থাকে,“প্রনমি। আমি জানি তোমার ওপর থেকে কি বয়ে যাচ্ছে। তেমনি তোমাকে বলতে চাই আমাদের ওপর থেকেও খুব বড় একটা ঝড় বয়ে চলেছে, তুমি জানো না ! আঘাত আমরাও পেয়েছি অনেক বড়। এইযে,যে ভাইকে ছোটো থেকে দেখে আসছি, একটু জেদী,একটু রাগী কিন্তু কখনো মেয়েলি কোনো ইস্যুতে ছিলো না, না কখনো নাইট ক্লাবে গিয়েছে, না কখনো মেয়ে বন্ধুদের সাথে ফরেইন ট্যুরে গিয়েছে যা এযুগে অহরহ হচ্ছে, এখন হঠাৎ করে যদি তার নামে কেউ বলে দেয় সে রেপিস্ট তাহলে বোন হিসেবে আমাদের কি হাল বলো? ঐ যে শুনছো তোমার ভাবী কাঁদছে, সে কোথায় যাবে? একপাশে তার স্বামী,একপাশে তার ভাই, বেচারী একটা নির্দিষ্ট যায়গায় স্থির হয়েও থাকতে পারছে না, ওই বাড়িতে এখন সব লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে, তাদের সবাইকে ফেলে রেখে ও তোমাদের কাছে এসেছে যাতে প্রিতম ভাই আর ওর সম্পর্কে কোনো চিড় না ধরে। কিন্তু নিজের ভাইয়ের নামে বারবার রেপিস্ট শুনে শুনে ওর খুব কষ্ট হচ্ছে বিশ্বাস করো। আর প্রনমি....”
এটুকু বলে ইনশিরাহ থামে, তারপর প্রেরণার দিকে তাকায় সে, প্রেরণা চুপচাপ দেখছিলো ইনশিরাহকে, ইনশিরাহ এবার কাঠ কাঠ গলায় বলতে লাগলো,“হ্যা মানছি আমার ভাই একজন ত্রুটিপূর্ণ মানুষ,তবে আমি এটা কখনোই বিশ্বাস করবোনা, ও কোনো মেয়েকে জোর জবরদস্তি ছুঁয়েছে। কখনোই না।”
এটুকু বলে থেমে ইনশিরাহ এবার প্রনমির দিকে তাকায়, আবারও বলতে শুরু করে,“তুমি আর কারও জন্য না হোক, আমাদের দুই বোনের জন্য বলো, ইরফান তোমার সাথে উল্টোপাল্টা কিছু করেনি তাইনা? আমিই ঠিক তাইনা?”
_তো বিয়েটা কেনো করেছে ইনশিরাহ? চেহারা দেখতে নয় নিশ্চয়ই?
প্রেরণা ঠান্ডা গলায় জানতে চায়।
ইনায়া এবার কান্না মিশ্রিত কন্ঠে প্রেরণাকে বলে ওঠে,“তো রে'প করার জন্য বিয়ের প্রয়োজন তো হয়না আপু। মানছি দাদান খুব খারাপ। বিয়েটা জেদ করে করেছে, তাই বলে এভাবে বারবার রেপিস্ট বলবেন না আপু।”
_তো জোরজবরদস্তি বিয়ে করে জোরজবরদস্তি ছোঁয়াটা রে'প নয় বলতে চাচ্ছো? পবিত্র ছোঁয়া?
_সেটা তো এখনও স্পষ্ট হয়নি আপু তাইনা?
প্রেরণা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দেয় দু'বোনের দিকে তাকিয়ে। এদের সাথে তর্ক করতে আর মানসিক জোর পাচ্ছে না প্রেরণা।
ইনশিরাহ প্রনমির দু'গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,“বলো বোন,শুধু এটুকু বলো,নয়তো আমরা দুই বোন শ্বাস আটকে থাকবো, তুমি শুধু এটুকু বলে দাও! ও তোমাকে ছোঁয়নি তাইনা?”
কথাটা বলে কেঁদে ফেললো ইনশিরাহ, রীতিমতো হাহাকার করে উঠলো। প্রনমি ধীরে ধীরে নিজের দু'গাল থেকে ইনশিরাহর হাত সরিয়ে দিলো, নিজের হাত দিয়ে বিছানার চাদর খামচে ধরলো মেয়েটা। ইনশিরাহ আর ইনায়া,দুই বোন দম বন্ধ করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রার্থনা করছে তাদের বিশ্বাস যেন না ভা'ঙে।
প্রনমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো প্রথমে, তারপর ক্লান্তিমাখা কন্ঠে আস্তেধীরে আওড়ালো,“এসব কিছু হয়নি।”
মাত্র তিনটা শব্দ। শুনে সাথে সাথে দুই বোন ভেজা চোখ নিয়ে হাসলো সামান্য। যেন নিজেদের বুক থেকে একটা বড় সর পাথর নেমে গিয়েছে। একটা বড় শ্বাস ফেললো দুবোন।
স্বস্তি পেলো প্রেরণাও, বেচারি বসা থেকে আচমকা শুয়ে পরলো বিছানাতে, দু'চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো ঘনঘন। দু'চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পরছে তরল। খুব বড় একটা ভয় দূর হলো, বুকটা কিছুটা হলেও হালকা লাগছে।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। প্রেরণা উঠে বসে, প্রনমি নিশ্চুপ বসে আছে গুটিসুটি মেরে। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রেরণা ইনায়াকে বলে,“ওর জামাটা পাল্টে দাও তোমরা।”
বলেই প্রেরণা দরজা খুলে চলে গেল লিভিং রুমের দিকে, শুদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে পর্দা ধরে। প্রেরণা গিয়ে দ্রুত কোলে তুলে নেয় তাকে, দু'গাল ভিজিয়ে দেয় তার চুমু খেয়ে, শুদ্ধ মাম্মাকে বলে,“খালামনির কি হয়েছিলো মাম্মা? খালামনি কি হারিয়ে গিয়েছিলো?”
প্রেরণা ম্লান হেসে ছেলেকে বলে,“খালামনি ঘুরতে গিয়েছিলো বাবা। ”
শুদ্ধকে কোলে নিয়ে প্রেরণা এগিয়ে যায় সদর দরজার কাছে, ততক্ষণে প্রিতম এসে দরজাটা খুলে দিতেই দেখতে পায় ইহান দাঁড়িয়ে আছে। প্রেরণা শুদ্ধকে নিয়ে দাঁড়াল ঠিক ইহানের মুখোমুখি।
গায়ে এখন পাঞ্জাবি নেই ইহানের, একটা হোয়াইট শার্ট পরেছে সে। দেখতে অন্যরকম লাগছে হঠাৎ এভাবে লোকটাকে।
প্রেরণা হুট করে বলে ওঠে,“আমি আশা করছি না আপনি ইরফানের ভাই হিসেবে এখানে এসেছেন ইহান! কোনো ধরণের রিকোয়েস্ট করতে!”
ইহান একপলক প্রেরণা আর শুদ্ধকে দেখে, অতঃপর প্রেরণার কথার জবাব না দিয়ে প্রিতমকে বলে,“প্রনমি কোথায়? কি অবস্থা এখন? কথা বলছে?”
_আছে,ঘরে! বসুন ভাইয়া।
ইহান বসে না,প্রেরণার দিকে চেয়ে বলে,“ওর কাছে একটু যেতে পারি?”
প্রেরণা কয়েকপলক ইহানকে দেখে,মাথা নেড়ে প্রনমির ঘর দেখিয়ে বলে,“যান, আপনার বোনেরাও রয়েছে।”
ইহান চোখে মুখে সংকোচ নিয়ে এগিয়ে যায়। দরজায় নক করতেই ইনায়া দরজা খুলে দেয়। প্রনমির জামা বদলে দিয়েছে ইনশিরাহ। বিছানায় বসে আছে চুপটি করে মেয়েটা।
ইহান ঘরের ভেতর পা রেখেই এগিয়ে যায় প্রনমির কাছে, কিছুক্ষণ দেখলো মেয়েটাকে। তারপর পকেট থেকে দু'টো চকোলেট বের করে প্রনমির হাতে রেখে বলে,“চকোলেট পছন্দ করো তুমি? প্রিতম বলেছিলো।”
প্রনমি হাতের মুঠিতে চকোলেট দুটো ধরে বসে থাকে, ইহান স্বাভাবিক গলায় বলে,“তোমার গানের প্রশংসা শুনলাম ইনায়ার থেকে, আমি ভীষণ উদগ্রীব হয়ে আছি গান শুনতে তোমার, সামনে ইনু-প্রিতমের রিসিপশনে শুনবো.....”
চুপ হয়ে রয় প্রনমি। ইহান একটা হাত প্রনমির মাথায় বুলিয়ে ইনশিরাহর দিকে তাকায়,“চল বেরোই।”
_কোথায় যাবো?
ইহান বললো না কিছু, শুধু ইনুর দিকে তাকিয়ে বললো,“খেয়াল রাখিস ওর।”
তারপর ইনশিরাহকে নিয়ে ও ঘর থেকে বেরিয়ে প্রেরণাদের লিভিং রুম পর্যন্ত এসে দাড়িয়ে পরলো।
লিভিং রুমে প্রেরণা ঝগড়া করছে সম্ভবত কারও সাথে,প্রিতম তাকে আটকাচ্ছে বারবার।
সাততলার অ্যাডভোকেট আঙ্কেলের ওয়াইফ এসেছিলো সমবেদনা জানানোর তাগিদে,সাথে আরও দু'জন প্রতিবেশী। ওনারা এসেই স্থান কাল পাত্র না বিবেচনা করেই প্রেরণাকে বলতে শুরু করে,“আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করো,বাজে উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়নি। বিয়ে করেছে।”
প্রেরণার মেজাজ বিগড়ে গেলো। সে আগুনে ঘি ঢাললো ছয় তলার এক আন্টি,ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে লাগলো,“রাগ করো না প্রেরণা। ঐ পরিবার সুপরিচিত একটা পরিবার। প্রনমি একটি ভালো মেয়ে,কিন্তু ওর প্রতিবন্ধকতা তো অস্বীকার করতে পারবে না তুমি! এমন বাড়ির ছেলে ওকে বিয়ে করেছে, ওকে কখনও অমন বাড়িতে বিয়ে দিতে পারতে? ইলহাম মির্জার ছেলে,সামিন ইয়াসারের ভাইপো.....”
প্রেরণা বেশি একটা উচ্চবাচ্য করলো না আর ইনশিরাহ-ইহানের সামনে,শুধু কন্ঠে একরাশ ক্লান্তি আর ঘৃনা নিয়ে মহিলা তিনজনকে ওদের সামনেই বললো,“আমার বোন প্রতিবন্ধী, ওর প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তাই ওকে বিয়ে দিলে একজন পঙ্গুর কাছে দেবো,যার অন্তত মস্তিস্ক কাজ করে, কোনো রাজার উন্মাদ রাজকুমারের সাথে নয়।”
_কিন্তু বিয়ে তো শুনলাম হয়েছে প্রেরণা।
_ওটা বিয়ে হয়নি। আপনারা যান আন্টি। আমরা খুব ক্লান্ত।
ইহান আর ইনশিরাহ প্রেরণার কথাগুলো শুনে একে অপরের দিকে তাকায়, তারপর দুই ভাই-বোন নিচুস্বরে প্রেরণাকে “আসছি” বলে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়।
_____
বিপদের মধ্যে আরেক বিপদ,শেহা ভীষণ অসুস্থ সে-ই সকাল থেকে। রিতু বাদে বাড়ির প্রত্যেকে ভীষণ ছোটাছুটি করছে মেয়েটার কাছে। আলো সকাল বেলা শেহাকে ওভাবে পরে থাকতে দেখে সামিনকে ডেকে নেয়, সামিন শেহাকে মেঝে থেকে পাঁজাকোলা করে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিলো, দীর্ঘসময় কেঁদে চুপ হয়ে যায় শেহা, তিন মামার দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের একমাত্র ভাগ্নিকে নিয়ে, বারবার জিজ্ঞেস করেছে কি হয়েছে,শেহা বলেছে,“খুব বাজে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছে মামা। তোমরা তো জানো আমার এমন হয়।”
শেহার তিন মামা আর দুই মামী বিশ্বাস করলো সেকথা, ইশিতা ম'রার পর থেকে মেয়েটা এমন হয়েছে, ঠিকঠাক ভাবে ঘুমাতে পারেনা, প্রায়শই মা'কে স্বপ্ন দেখে,স্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করে, অসুস্থ হয়।
শেহা ক্লান্ত, রুগ্ন কন্ঠে সবাইকে বললো,“তোমরা এখন বাড়াবাড়ি করছো। আমি নিত্য ম'রা! এতো টেনশন করছো কেনো? যাও মেজো মামীকে সামলাও। আমি ঠিক আছি।”
রেগে ধ'ম'কে তিন মামাকে ঘর থেকে বের করলো শেহা। আলো,পরী কিছুক্ষণ বসে রইলো, মেয়েটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের, তার প্রধান কারণ শেহা অতিরিক্ত ইন্ট্রোভার্ট। ওরা কখনও চেষ্টা করেও শেহার সুবিধা অসুবিধা আন্দাজ করতে পারেনি, কখনোই না, যতক্ষণ না মেয়েটা নিজে মুখ খুলে কিছু বলতো। তবে এই ব্যাপারে ইরফান ছিলো বেশ দক্ষ,ওর মতো করে শেহাকে কেউ বুঝতো না এ বাড়ির।
শেহা নিচু স্বরে তার দুই মামীকেও বেরিয়ে যেতে বললো। একটু বিশ্রাম নেবে সে।
ওরা দুই জা চলে যাবার পরে শোয়া থেকে উঠে বসলো শেহা। গাঁয়ের ওড়না খুঁজে পাচ্ছে না কোথাও। ওড়না রেখেই উঠে দাঁড়ায় সে। খেয়াল করলো শরীরটা কাঁপছে খুব। সকাল থেকে কিছু না খাওয়ার ফল। চোখের চশমাটা খুলে রেখে ধীরপায়ে হেঁটে ওয়াশরুমে ঢুকে চোখে মুখে পানি দিলো সে। তারপর বেরিয়ে এসে একটা তোয়ালে হাতে নিয়ে মুখটা ভালো করে মুছে নিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নেয়, শান্তর নাম্বার ডায়াল করে কল দেয় সে। ফোনটা রিসিভ করে ওপাশ থেকে শান্ত তাড়াহুড়ো লাগিয়ে দেয়,“লিফটে মা,ফ্ল্যাটে ঢুকে কল ব্যাক করি?”
শেহার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ মুখ খিচিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,“বাবা।”
মেয়ের স্বভাবসুলভ ডাক শুনতে না পেয়ে শান্তর ভ্রু কুঁ'চকে ওঠে,বুকটা কেমন করে উঠলো হঠাৎ। পরমুহূর্তেই উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করে,“কি হয়েছে মা? শরীর খারাপ?”
_তুমি অফিস থেকে ইমার্জেন্সি লিভ নিতে পারবে? এয়ারওয়েতে তাড়াতাড়ি এসো।
নিস্তেজ কন্ঠে শেহা বললো।
_কেন?
অবাক হয়ে যায় শান্ত।
শেহা জরানো গলায় বলতে থাকে,“আমি যেতে চাচ্ছি এখান থেকে।”
শান্ত ভীষণ অবাক,বলতে লাগলো,“তো ছুটি পেয়ে কত নাচলি,পুরো ছুটি নাকি মামা বাড়িতে কাটাবি বললি!”
_বাবা....বাবা এসো। নিয়ে যাও আমাকে। প্লিজ।
এটুকুই বলতে পারলো শেহা, তারপর ফোন কাটে সে। শান্ত ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে নিষ্পলক। স্ক্রিনে ইশিতা, শান্ত আর শেহার একটা ফ্যামিলি ফটো, যেটাতে শেহার ফোকলা দাঁতের হাসি ছিলো। এমন করে মেয়েটা এখন আর হাসে না। কেমন বড় মহিলাদের মতো আচরণ করে সবসময়।
ভাবতে ভাবতে শান্ত অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকে,একটা অন্ধকার অ্যাপার্টমেন্ট,যেটাতে ইশিতা নেই, শান্ত অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পরে ইশিতা চেঁচিয়ে ওঠে না,“এই স্যানিটাইজ করো হাত, তারপর মেয়েকে কোলে নাও।”
_____
ইহান একদৃষ্টে দেখছে ভাইকে। দু'ভাই দুজনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মাঝখানে দূরত্ব এক হাতেরও কম যায়গা,তবে প্রাচীর রয়েছে লোহার শিকের। ইনশিরাহ ইহানের থেকে কয়েকগজ পেছনে দাঁড়িয়ে উঁকি মেরে দেখছে ইরফানকে। যে “ভোলাভালা” মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, এখন দেখে মনে হচ্ছে বাচ্চা একটা ছেলে। অবশ্য এই ছেলেটির আচরণ বড় বৈচিত্রময়, একরকম আচরণ করে বিরক্ত হয়ে গেলে আচরণে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। এইযে এখন দেখে মনে হচ্ছে ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেই না।
ইরফানের পেছনে ওর বন্ধুরা বসে আছে মেঝেতে, প্রত্যেকের পরনে হুডি আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। অভিযোগের ভিত্তিতে যাকে যেভাবে পেরেছে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে এনেছে।
এরা অবিকল ইরফানের মতো গোবেচারা মুখ করে বসে আছে। এই গ্যাংয়ের ভণ্ডামি দেখে ইনশিরাহ রীতিমতো অবাক। তার
কাছে মনে হচ্ছে শুধু ইরফান নয়, এদের প্রত্যেককে তিনমাস করে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে রাখা উচিত।
ইহান ভাইয়ের দিকে কিছুসময় শান্ত চোখে তাকিয়ে থেকে প্রথমেই যে কথাটা বললো, তা হলো, “কিছু খাবি?”
ইরফানের বন্ধুরা মাথা তুললো। ইহান তাকিয়ে আছে ইরফানের দিকে জবাবের অপেক্ষায়। ইরফান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে ওঠে,“এক প্যাকেট সিগারেট কিনে দাও।”
ইহান বিমূঢ় চেয়ে রয় ভাইয়ের মুখের দিকে। ইরফান দাদানের অমন দৃষ্টি দেখে সাথে সাথে হেসে ওঠে,বলে,“আই ওয়াজ জোকিং! ডাবের পানি খাবো।”
ইহান তবুও তাকিয়ে রয় ভাইয়ের দিকে। ইরফান বলে,“আমি সত্যিই মজা করেছি দাদান। ট্রাস্ট মি। এবার আমাকে বিশ্বাস করতে পারো,এই লোহার শিক ছুয়ে বলছি!”
ইহান একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ইরফানের বন্ধুদের দেখলো, গম্ভীর হয়ে বললো,“তোমরা কিছু খাবে?”
_আমরাও ডাবের পানি।
ভয়ে ভয়ে, আমতা আমতা করে বললো ওরা। ইহান বলতে লাগলো,“খেয়ে নাও। কেস শুরু হলে,রায় হতে বেশি টাইম লাগবে না। তার আগে যার যা খেতে ইচ্ছে হবে বলবে।”
ইহান কথাটা বলেছে ক্রোধে, ওরা সবাই মিইয়ে গেলো শুনে। নিক্সন ওদের গ্যাংয়ের দয়ালু খ্যাত ব্যক্তি। চিন্তিত গলায় বললো,“ভাইয়া মেয়েগুলোরও কি সাতবছর জেল হবে? আই মিন ওরা তো কেউ সরাসরি ইনভল্ব ছিলো না। আর অধরা! ওর তো নেক্সট উইক বিয়ে!”
ইহান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো নিক্সনের কথায়। দৃষ্টি সরিয়ে ইরফানের মুখে রাখলো। শ্যামলা রঙের ক্লিন শেভ করা গাল দু'টো লাল লাল হয়ে আছে এখনও চ'ড়ের আঘাতে। কিছু মুহূর্ত সেদিকে তাকিয়ে থেকে ইহানের শক্তপোক্ত হাতটা তার আনমনেই ইরফানের গালে রাখে, কৌতুহলী দৃষ্টিতে আঘাতের দাগ গুলো দেখে,যেখানটাতে লাল হয়েছে বেশি। ইরফান কিছুটা চ'ম'কে ওঠে,পরপর হেসে বলে,“ব্যাথা পাইনি দাদান!”
ইহান হাত সরিয়ে গলা খাঁকারি দেয়। পুনরায় গম্ভীর হয়ে যায় ইহান।
তারপর ইনশিরাহর দিকে তাকিয়ে বলে,“তুই কথা বল! আমি আসছি!”
ইহান চলে যায় সেলের সামনে থেকে, ইনশিরাহ এগিয়ে যায় ভাইয়ের নিকটে, চোখ দু'টো ফুলে আছে কাঁদার ফলে তার। ইরফান হেসে বললো,“তুই আমার জন্য কেদেছিস! ওরে বাপরে!”
_তুই এতো খারাপ কেন?
ইনশিরাহ মেজাজ দেখিয়ে বলে।
_জানিনাহ। আচ্ছা শোন, আমার বিয়ে করা বৌ কি মুখ খুলেছে! মানে ঠোঁট নেড়েছে?
ইনশিরাহ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,“তা জেনে তোর কি? এখন নিজের কথা ভাব! বৌ বৌ করিস না। এনাফ!”
_ঠিক তা না, ও , মানে, ওকি কাল রাতের ঘটনায়,মানে....
_কি মানে মানে করছিস! স্পষ্ট করে বল।
বিরক্তি ইনশিরাহর কন্ঠে।
ইরফান একটা লম্বা শ্বাস ফেলে নিচুগলায় ইনশিরাহকে বলতে থাকে,“একটা ছোট্টো কাজ করবি? তোর তো ভালোই খাতির ওদের সাথে। ও বাড়িতে যাবি,তোর ভাবীর কানে কানে গিয়ে বলবি, আমি গতকাল রাতে এক মুহুর্তের জন্যও ওকে ওই চোখে দেখিনি যেমনটা ওর বোন আমাকে অপবাদ দিলো। মানে এমন কোনো চিন্তাও আসেনি আমার মাথায়। না আমি ঐ মনোভাব নিয়ে ওকে ছুয়েছি যেটা ওর ছয় বছরের সময়ে হয়েছিলো। ওর লাইফে যাস্ট একটা বাজে অ্যাক্সিডেন্ট ঘটিয়ে দিয়েছি আমি রাগের মাথায় তবে ওর ছোটোবেলার দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। এটা ওকে বলবি। বলবিই,নট ফর হার ,বাট ফর মি!”
দৃঢ়তা ইরফানের কন্ঠে।
_পারবো না!
_পারবি। আরেকটা কথা প্রিতমের কানে কানেও একটা কথা বলবি।
_কি?
_বলবি, “তোর বোনটা ভীষণ সুন্দর।”
_আচ্ছা বলবো।
_ইনুকেও কানে কানে একটা কথা বলবি।
_কি?
_বলবি, ও আমাকে হেট করলেও আমি ইনুকে ভীষণ ভালোবাসি।
ইনশিরাহর চোখ ভিজে উঠলো, ভেজা চোখ টিস্যু পেপারে মুছে বললো,“আর কাকে কি বলতে হবে?”
_সব থেকে বিশেষ মানুষকে একটা বিশেষ মেসেজ দিবি আমার তরফ থেকে।
_কাকে? কি মেসেজ?
_বিশিষ্ট জ্ঞানী প্রেরণা আপাকে, বলবি তার জু'তোর স্টানটা চমৎকার ছিলো, জেঠান দেখে মাইন্ড খাইনি। উনি আমার শাশুড়ি স্থানীয়া। তবে এভাবে রেপিস্ট বলে দেওয়ায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছি আমি। এটা উনি ঠিক করেননি। ভেরী ব্যাড।
ইনশিরাহ হাসলো বিদ্রুপের হাসি, বললো,“তো অপবাদ দেবেনা? বিয়ে করেছিস কেন তবে স্টুপিড! গোটা একটা রাত মেয়েটাকে আটকে রাখলি!”
_তাও ঠিক,তোর কথায় লজিক আছে।
_কেন এমন করলি!
কাঁপছে ইনশিরাহর গলা।
_শোন, একটা লোকের সাথে তোর সাত বছরের শত্রুতা। মানে তুই ইট মারলে সে পাটকেল মারবে, তো হঠাৎ দেখলি সে তোর বোনকে নাকি প্রচুর ভালোবাসে, এটা তোর কাছে কতটুকু বিশ্বাস যোগ্য? করবি বিশ্বাস?
_না,করবো না। তাই বলে আমি তাকে উন্মাদের মতো মেরে দিয়ে আসবো না, প্রতিশোধ নিতে তার বোনকে তুলে এনে বিয়ে করবো না।
_তুই কেনো বিয়ে করবি? তুই তো মেয়ে!
হাসতে হাসতে বলে ইরফান।
ইনশিরাহ চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে বলে,“স্টপ। তোর ভাড়ামি ভাল্লাগছে না!”
_আচ্ছা অফ গেলাম। তোর এই কথাটাতেও লজিক আছে। তার মানে আমিই খারাপ।
আবারও হেসে ফেললো ইরফান।
ইনশিরাহ ভাইয়ের দিকে কিছুক্ষণ নিষ্প্রভ তাকিয়ে থেকে বললো,“তুই অসুস্থ ইরফান! তুই বুঝতে পারছিস?”
_পারছি।
_আমার একটা কথা রাখবি?
_কি?
_এই বিপদ উতরে যদি যায় তবে ট্রিটমেন্ট নিয়ে একেবারে শান্ত একটা ছেলে হয়ে যা!
_তোদের হজম হবে না! সত্যি বলছি!
_এখন তো বদহজম হয়ে গিয়েছে বাড়ির সবার। এতো রাগ! এতো রাগ! এখন কেমন লাগছে? একটুও রিয়ালাইজেশন আসেনি? অবশ্যই এসেছে! ভালো লাগছে খুব এখন? ঐ মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে না? বাড়ির সবার জন্য খারাপ লাগছে না?
ইরফান চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। ইনশিরাহ আবারও কেঁদে ওঠে ফুঁপিয়ে। ইরফান বোনের দিকে তাকিয়ে থাকে অপলক। কাঁদতে কাঁদতে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ইনশিরাহর। ছোট থেকে ইরফান ইনশিরাহ পিঠোপিঠি হওয়ায় ওদের সম্পর্ক যেমন ছিলো দা-কুমরো, তেমনি দু'জন ছিলো দু'জনের ঢাল।
ইরফান বোনকে অমন কাঁদতে দেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে,“স্টপ ইশি!”
_ড্যু ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া তোর ক'বছরের জেল হবে? এতো উন্মাদ কেউ হয়?
কাঁদতে কাঁদতেই বললো ইনশিরাহ।
ইরফান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে ইনশিরাহকে বলে,“আচ্ছা বাদ দে! শোন দেখবি আমি এক হাতে তালি বাজাতে পারি!”
_দেখা।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইনশিরাহ।
ইরফান লোহার শিক গলিয়ে হাত বাইরে বের করে ইনশিরাহর গালে পরপর তিন-চারটে চাপড় মে'রে বলে,“এই দেখ, এভাবে এক হাতে তালি বাজায়।”
কান্না থামিয়ে গালে হাত দিয়ে হতবাক হয়ে ইরফানের দিকে তাকিয়ে আছে ইনশিরাহ।
ইরফান হাসছে। বোনের কান্না থামিয়েছে তাকে চ'ম'কে দিয়ে মির্জা বাড়ির অর্ধ উন্মাদ ছেলে ইরফান মির্জা। হঠাৎ করে হেসে ফেলেছে ইনশিরাহও। ইরফানের বন্ধুরা ওদের দুই ভাইবোনকে অবাক চোখে দেখছিলো, সিরিয়াস কথাবার্তা বলতে বলতে এখন দাঁত বের করে হাসছে দু'জন।
_সারাদিন কি করেছিস? খুব মশা এখানে?
হাঁসি থামিয়ে বলে ইনশিরাহ।
_গতকাল রাতের কথা ভেবেছি।
ইরফান হাসি থামিয়ে পুনরায় গম্ভীর হয়ে বলে,“ও কি বলেছে!”
_কে?
_ওই তোর অ্যাক্সিডেন্টাল ভাবী।
_তোর খুব প্রশংসা করেছে। বলেছে তুই খুবই নাইচলি ট্রিট করেছিস ওকে কাল,তোর মতো মানবিক লোক হয়ই না এই দুনিয়ায়।
_ইনডিড! শত্রুর বোনকে ওর থেকে ভালো ট্রিটমেন্ট দেওয়া যায়ও না।
_প্রিতম কিন্তু দিয়েছিলো ইনায়াকে,নেপালে!
_হাহ! ওর সমস্যা আছে,ওর একটা শখ সবসময় হিরো সাজার।
_তোর যেমন ভিলেন সাজার শখ!
_কারেক্ট! তোর এই কথাতেও লজিক খুজে পেলাম। আচ্ছা শোন, প্রিতমকে আরেকটা কথা বলবি।
_কি?
_বলবি,এবার ওর সাথে জিতে ভালো লাগেনি।
ইনশিরাহ একদৃষ্টে দেখছে ভাইকে, ইরফান খুব দ্রুত মুখভঙ্গি বদলে তাকে বলে,“আচ্ছা শোন না! দাদানকে ভয়ে বলতে পারিনি,আই নিড আ সিগারেট। তুই একটা দিয়ে যা।”
দুঃখী দুঃখী মুখ করে ইরফান বললো। ইনশিরাহ চোখ ছোট ছোট করে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, হতভম্ব হয়ে। এর মাঝে ইহান এলো ডাবের পানি নিয়ে।
ইহান ওদের দু'জনকে ওভাবে নিচুস্বরে ফুসুরফুসুর করে কথা বলতে দেখে বললো,“হোয়্যাট?”
ইনশিরাহ আচমকা সেলের শিক গলিয়ে হাত ঢুকিয়ে ইরফানের চুল খামচে ধরে ঝাকুনি দিয়ে চেঁ'চি'য়ে বলে,“ভালো হ! ভালো হ স্টুপিড! ভালো হ....দাদান,এখান থেকে চলো,এই উন্মাদটাকে আমার আর সহ্য হচ্ছে না!”
চলমান......