ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 53

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৫৩
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কাজী বিয়েটা পড়িয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে চলে যাওয়ার পরেও সকলে চুপচাপ। সামিন শুধু মেয়ে জামাইকে চেয়ে চেয়ে দেখছে। আলোও তাই। ইনশিরাহ এতক্ষণের নির্লিপ্ততা ভে'ঙে মাথা তুলে তাকায়। সরাসরি তাকায় তার পাপার দিকে। বাপ বেটিতে চোখাচোখি হয়। সামিন চোখ নামিয়ে নেয়। ইনশিরাহ উঠে দাঁড়িয়ে সোজা হেঁটে তার পাপার কাছে আসে। এসে একেবারে সামিনের পায়ের কাছে বসে,মেঝেতে।
সামিন চ'ম'কে উঠে পা সরিয়ে নেওয়ার আগে ইশি বাবার পা দু'হাতে জড়িয়ে ধরলো।
সবাই একদৃষ্টে দেখছিল ওদেরকে। ইশি পাপার পা জরিয়ে ধরে পাপার দিকে তাকায়, কান্নাভেজা কন্ঠে পাপাকে বলতে থাকে,“আমি তোমাকে সেদিনের পর থেকে ফেস করতে পারিনি পাপা। সামান্য একটু ক্ষমা চাওয়া, সেটাও চাইতে পারিনি কারণ আমি তো ঐ কথাটা বলে তোমার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোমায় ভেঙেছি। আমি চেয়েছি যেদিন তোমার মন প্রশান্ত করা একটা কাজ করবো সেদিন তোমার কাছে খুব করে মাফ চাইবো। পাপা আমি তোমাকে আর মাম্মাকে নিয়ে ওভাবে বলতে চাইনি, না আমি এমন ধারণা পোষণ করি।......”

ঝরঝর করে কেঁদে দিল ইনশিরাহ,সামিন মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখছে মেয়েকে। ইনশিরাহ নিজেকে সামলাতে পারছে না, বলতে লাগলো,“পাপা আমার ভুলটা বুঝি এতটাই ছিলো যার কারণে তুমি শাস্তিও দিলে না, সরাসরি মুখ ফিরিয়েই নিলে?”

সামিন হঠাৎ তার সামনে,পায়ের কাছে বসে থাকা অন্য একটি মেয়েকে আবিষ্কার করলো। ইনশিরাহ কাঁদতে কাঁদতে বলল,“প্রজন্মগত সমস্যা আমার সাথে এই পরিবারের বরাবর ছিলো পাপা। তোমরা ডানে যেতে বললে বায়ে গিয়েছি, বায়ে যেতে বললে ডানে গিয়েছি, তাই বলে আমি তো তোমাদের কারো সাথে এতোটা মানসিক দূরত্ব বজায় রেখে চলিনি। পাপা আজ কেন আমার নিজেকে ব্যর্থ মনে হচ্ছে! পাপা আমি এতটাই ব্যর্থ? তুমি এই প্রশ্নের জবাব দেবে পাপা। আমি জবাব চাই। আমি আমার চরিত্রের দোষ গুণ বুঝতে অপারগ পাপা। আমার পাপা যদি বলে আমি ব্যর্থ,আমি মেনে নেবো।”

ওখানে দাঁড়ানো প্রত্যেকে কেউ কোনো কথা বলছে না। মুঈন চুপচাপ সবাইকে দেখছে। পরিবার খুব জটিল। খুব জটিল এই পরিবার।

সামিন চুপচাপ মেয়ের হাতটা মুঠোয় পুরে নিলো,তবে কিছু বললো না। ইনশিরাহ কাঁদছে, শরীর ভেঙে কান্না আসছে, সামিনের নির্লিপ্ততা তাকে আরো ভয়াবহ কষ্ট দিচ্ছে।
সে আর জবাবের অপেক্ষা না করে ছুটে দোতলায় চলে যায়। আলো শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে হঠকারিতায় সে তার ভাঙা মেয়েটাকে আবার ভেঙেছে।

বাড়ির সবাই তার দিকে তাকায়। আলো শান্ত হয়ে বসে আঁচল দিয়ে দু'চোখ ঢেকে রেখেছে।

_______

প্রিতম চুপচাপ এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে । তার আর ইনুর থেকে গল্পের থেকেও বড্ড জটিল এই গল্পটা। এখানে দু'টো পক্ষ, দু পক্ষ দু পক্ষকে ভীষণ বোঝে। তবুও জটিল হচ্ছে সবকিছু। ভীষণ জটিল।

মুঈন চুপচাপ সামিনকে দেখে ইহানকে বললো,“ডক্টর ডাকবো?”

সামিন হাত দিয়ে ইশারা করে মুঈনকে থামিয়ে দেয়।

নিস্তব্ধতা ছেয়ে আছে গোটা বাড়িতে। ইশমাম গিয়ে পরীর কানে কানে কিছু একটা বললো। পরী মাথা নে'ড়ে ওপরে চলে গেলো।

ইনশিরাহ তখন জানালার কাছে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছে। এখন ভীষণ শান্ত স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে নববধূকে, গাঁয়ের শাড়িটা প্রচন্ড বিরক্ত করছে তাকে। টেনে খুলতে ইচ্ছে করছে। ইনশিরাহ ঘা'ড় ঘুরিয়ে বিছানার দিকে তাকায় , এই বিছানা কি এখন সাজানো হবে! তার যে বিয়ে হয়েছে! আজ রাতে ঐ লোকটা, তার সাথে ইনশিরাহকে থাকতে হবে? নানা প্রশ্ন তার মাথায় আসছে। দু'চোখের পানি গালে লেপ্টে আছে। একটা টিস্যু পেপার দিয়ে ইনশিরাহ দু'গাল‌ মুছে নেয়।

ঠিক তখনই পরী ঘরে ঢুকে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলে,“ইনশিরাহ জামাইয়ের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটা,গল্প কর।”

ইনশিরাহ নিচুস্বরে বলে,“বেশ তো। বিয়ে তো হয়ে গিয়েছে। বেডরুমেই পাঠিয়ে দাও। গল্প করি।”

পরী বলে,“কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যাবে জামাই। রাতে থাকবে না তো, বেডরুমে ঢুকবে না হয়তো। তুই পুল সাইডে যা।”

একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ইনশিরাহ চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে শাড়ি সামলে পুল সাইডে গেলো। মুঈনকে তখন ইনায়া দোতলার লিভিং রুমের বারান্দার দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যায়। বাড়ির বড়রা প্রত্যেকে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।

গলা খাঁকারি দিয়ে ইনশিরাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করলো মুঈন। ইনশিরাহ ঘুরে দাঁড়িয়ে মানুষটাকে দেখলো। মুঈন একটু হাসার চেষ্টা করলো তবে খুব নার্ভাস লাগছে তার হঠাৎ, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা তার ধর্মপত্নী। তার তিন কবুল বলা বৌ, কোনো পরনারী নয়। তার পরিবার এই মেয়েটা। এসব ভাবতেই মুঈনের কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে।

ইনশিরাহ চুপ করে থাকে। মুঈন বলল,“চলো বসি!”

ইনশিরাহ চুপচাপ বসলো। মুঈন তার থেকে কিছুটা দূরেই বসে সরাসরি তাকাল ইনশিরাহর মুখের দিকে। কান্না মুছে খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়েছে মেয়েটা, মুঈন দেখছে শুধু। ধীরে ধীরে বললো,“অবাক লাগছে আমি বিয়েটা এভাবে করলাম!”

_রিগ্রেট ফিল হচ্ছে?

_হ্যা হচ্ছে, বিয়ের শেরওয়ানিটার জন্য হচ্ছে।

ইনশিরাহ মাথা নিচু করে ঠোঁটের কোণে অস্পষ্ট হাসি ফুটিয়ে তুলতে চায়। মুঈন আর কি বলবে বুঝতে পারছে না। এই মেয়েটা নিজে থেকে কথা বাড়ায়না। এই অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে মুঈনকে খুব খাটতে হবে মুঈন বুঝতে পারলো। মুঈন বললো,“অনুষ্ঠানের আগে আমি আর কখনও হয়তো এ বাড়িতে আসবো না। তোমার সাথে সামনাসামনি দেখা হবে না ইনশিরাহ নয়দিনে। আমি তোমার জন্য একটা প্রি ওয়েডিং গিফট নিয়ে এসেছিলাম আজ,আমার হবুকে দেবো বলে কিনেছি ওটা। তবে এখন তো তুমি আমার বৌ, ওটা কি আমি আজ আমার নববধূকে দেয়া প্রথম গিফট হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি?”

ইনশিরাহ চোখ তুলে তাকালো। মুঈন তার পকেট থেকে ধীরে ধীরে একটা ছোট বক্স বের করলো। বক্সটা ইনশিরাহর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,“এটা তোমার!”

ইনশিরাহ হাত বাড়িয়ে ছোটো বক্সটা নিলো। বক্সে কি তা সে দেখলো না, ইনশিরাহ নিচু স্বরে জানতে চাইলো,“আমারও কি আপনাকে কিছু দেয়া উচিত!”

একটা সরল প্রশ্ন। যেটা এই মেয়েটার চরিত্রের সাথে বেমানান। মুঈন কি মনে করে হেসে ফেলে। ইনশিরাহ তাকিয়ে দেখে মুঈনের হাসি। মুঈন বলে,“তোমার মন বললে উচিত, না বললে উচিত নয়।”

ইনশিরাহ বললো,“দুঃখিত আমি এখন কিছু দিতে পারছি না।”

_গিফট টা খুলে দেখবে না?

_ও হ্যা।

ইনশিরাহ বক্সটা খুলে দেখলো একটা ছোট লকেট। মুঈন বললো,“তুমি অলংকার খুব একটা পরো না। এটা যখন পরবে, একেবারে ইচ্ছে হলে তবেই পরবে! কেমন ইচ্ছে জানো? যখন মনে হবে ঐ লকেটটা না পরলেই নয়! পৃথিবীতে ঐ লকেটটার মতো সুন্দর কোন অলংকার নেই!”

ইনশিরাহ লকেটটা মুঠিতে পুরে বসে থাকে। মুঈন ধীরে ধীরে আজকের প্রসঙ্গ টেনে আনে, এ ব্যাপারে ইনশিরাহর সাথে একটু কথা না বলা পর্যন্ত মুঈনের স্বস্তি হচ্ছিল না, বললো,“আন্টি তোমাকে ছোট করে কিছু বলেনি ইনশিরাহ। কি হয় জানো তো, কখনো কখনো পৃথিবীতে অনুভূতি প্রকাশের ধরণ উল্টো হয়ে যায়। এটা মানব চরিত্রের খুব সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। তুমি পালিয়ে যেতে পারো এটা যদি আন্টি ভেবেও থাকে, সেটার পেছনে তোমাকে নিচু করার প্রয়াশ নয়, বরং মা হিসেবে আন্টির তোমার বিপদ নিয়ে উৎকণ্ঠা বেশি ছিলো। আর বিয়েটা আন্টি জেদ করে দিয়েছে এটা ভেবে আন্টির ওপর তীব্র রা'গ চে'পে রাখলে ঐ রাগটুকু আমিও ডিজার্ভ করি কারণ ঐ মুহুর্তে সবার এতো অবুঝ উৎকণ্ঠা, টেনশন দেখে আমারও ইচ্ছে করছিল তোমাকে বিয়ে করে নিতে।”

শেষের কথাটা বলে ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরে মুঈন। ইনশিরাহ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে মুঈনের দিকে। মুঈন বলতে লাগলো,“আমার কনফেস করা উচিৎ, তাই বলে দিলাম।
কিন্তু দেখো,আমি এমন লোক নই। তবুও ঐ মুহুর্তে এই ইচ্ছাটা জেগেছিল। নিজের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা দেখে আন্টির পাগলামীটাকে জাজ করার সুযোগই পাইনি।”

_সব কিছু থেকে আপনি পজিটিভ কিছু পান?

_দুটোই পাই, তবে পজিটিভ জিনিসটাকে হাইলাইট করি আমি।

ইনশিরাহ বললো,“বাদ দিন। এসব আমাকে বোঝাতে হবে না। মাম্মার ওপর আমার কখনই রা'গ আসে না। মাম্মা বাড়াবাড়ি করে, আমিও বাড়াবাড়ি ফিরিয়ে দিই। শোধ বোধ হয়ে যায়।”

মুঈন চুপ করে আছে। ইনশিরাহ ধীরে ধীরে বলতে লাগলো,“দ্রীপ্তর মরার পরে মাম্মার পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া, তৎকালীন সরকার পতন, তারপর একটা মিথ্যা মামলায় পাপার যাবজ্জীবন জেল হওয়া। পাপার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়া। মাম্মার আমাকে নিয়ে শক্ত থাকা, পাপার স্ত্রী হিসেবে মাম্মার মাটি কামড়ে পরে থাকা। পাঁচ বছর পাপার জেল খাটার পরে কেস রিওপেন হয়ে পাপার নির্দোষ প্রমাণ হওয়া । ফিরে এসে রাজনীতি থেকে একেবারে দূরে সরে যাওয়া পাপার। দিন দিন একজন সৎ,তেজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিজের প্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে শুধুমাত্র স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাঁচা, মাম্মার দুনিয়াটাও পাপা আর আমি হয়ে যাই,মাম্মার বিরাট বড় সোস্যাল অর্গানাইজেশন থেকে মাম্মা নিজেকে সরিয়ে নেয়। এসব যখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তখন তাদের ওপর আমার কোনো রাগ থাকে না, আর এই এতকিছুর মাঝেও আমার এই পরিবারটা আমাদের তিনজনকে আগলে রাখে, তাই তাঁদেরও ছোটোখাটো ভুল আমাকে দীর্ঘসময় কষ্ট দেয়না। আমি ঠিক আছি মুঈন।”

ইনশিরাহ কথাটি শেষ করে চুপ করে তার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। মুঈন ইনশিরাহকে কিছুক্ষণ দেখে বললো,“চলো ওঠা যাক। আমার যেতে হবে ইনশিরাহ।”

পাশাপাশি হাঁটছে দুজন। ইনশিরাহর ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল। গায়ের শাড়িটাতে কোনো সেফটিপিন লাগিয়ে দেয়নি পরী। একটু পিচ্ছিল ধরণের হওয়াতে ইনশিরাহর মনে হচ্ছিল খসে পরবে শাড়িটা। কুঁচি গুলো সামনের দিকে বেড়িয়ে গিয়েছে কিছুটা। মুঈন বুঝতে পারছে ইনশিরাহর অসুবিধে হচ্ছে। সে কিছু বলতে যাবে আর অমনি ইনশিরাহ আঁচল সামলাতে গিয়ে বেখেয়ালে শাড়ি পেঁচিয়ে উষ্ঠা খেয়ে পরে যায়। মুঈন দ্রুত তার বলিষ্ঠ পেশিবহুল হাতে ইনশিরাহকে সামলে নেয়। দু'চোখ বন্ধ করে আছে ইনশিরাহ। মুঈন চোখ বড়বড় করে তাকে দেখছে। তার হাত ঠেকেছে ইনশিরাহর কোমড়ে, আঙ্গুল গিয়ে ছুঁয়েছে ইনশিরাহর পেট। ইনশিরাহ এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দূরে সরে দাঁড়ায়। ততক্ষণে বিপদ একটা ঘটেছে। ইনশিরাহর বেনারসীর কুচি গুলো খুলে গিয়েছে পুরোটা, পায়ের কাছে গড়াগড়ি করছে শাড়ি। শুধুমাত্র আঁচল টুকুতে আবৃত সে।‌

হতভম্ব, অপ্রস্তুত মুঈন ঢোক গিলে নেয় বার কয়েক। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব ইনশিরাহ হাশফাশ করছে। কি থেকে কি হলো সে বুঝতে পারছে না। সে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের মতন।

মুঈন দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয়। ইনশিরাহর ইচ্ছে করছে পুলের পানিতে ঝাপ দিতে। মুঈন ইনশিরাহর দিকে না তাকিয়ে আর একসেকেন্ডও সময় না নিয়ে বলে,“কাউকে পাঠিয়ে দিচ্ছি আমি।”

দ্রুতপায়ে হেঁটে মুঈন বারান্দা পেরিয়ে দোতলার লিভিং রুমের কাছে যায়। দেখা হয় ইনায়ার সাথে, মুঈন অপ্রস্তুতের মতো বলে,“ওখানে যাও।”

ইনায়া আপুর এ রূপ দেখে বিস্ময়ে হতবাক। ছুটে গিয়ে জলদি জলদি কুঁচি ঠিক করে ইনশিরাহর কোমরে গুঁজে হতবাক হয়ে বলে,“আপু ভাইয়া করেছে? এখানে!”

চাঁপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে বলেছে ইনায়া! ইনশিরাহর সমস্ত ক্ষোভ, রা'গ এক ন্যানো সেকেন্ডে ইনায়ার ওপর গিয়ে পরলো কথাটি শুনেই । এমনিতেও যা হয়েছে তা এই গাধীর জন্য হয়েছে। ইনশিরাহ নিজের ক্রোধটুকু আর সংবরণ করতে পারলো না। একটা ঠাঁটিয়ে চ'ড় মারলো ইনায়াকে । বেচারি ইনু চ'ড়ের ধাক্কা সইতে না পেরে পুলের পানিতে পরলো। নিজেকে সামলে নিয়ে ইনু গালে হাত চেপে চোখ বড় বড় করে দেখছে ইনশিরাহকে। ইনশিরাহ চেঁ'চি'য়ে উঠলো,“মার কেনো আমি একা খাবো? তুইও তোর ভাগেরটা খা।”

হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ছুটে যায় ইনশিরাহ। ইনায়া পুলের জলে দাঁড়িয়ে আছে রাত একটার সময়। কিছুক্ষণ পরে ওখানে প্রিতম এসেছে ইনায়াকে খুঁজতে খুঁজতে। এসে ঐ অবস্থায় দেখে প্রিতম বললো,“সেকি! পুলে কি করছো! উঠে এসো! ঠান্ডা লাগবে! দেখি হাত দাও। ওঠো।”

প্রিতম হাত বাড়িয়ে দিলে ইনুও হাত বাড়িয়ে প্রিতমের হাত ধরলো, এবং হঠাৎ একটানে প্রিতমকেও পুলের পানিতে ফেললো। ভীষণ হতবাক প্রিতম নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে চশমা খুলে ফেলে ইনায়ার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। ইনায়া বললো,“এতো রাতে ভিজে আমি একা কেন ঠান্ডা লাগাবো। তুমিও ভেজো!”

______

নতুন জামাইকে খাইয়ে বিদায় জানিয়েছে সবাই। মুঈন যাওয়ার সময়টিতে বারবার করে বলেছে যেকোনো অসুবিধায় তাকে একটা কল করতে। অনুরোধ করেছে।‌
প্রিতমও চলে গিয়েছে। এক এক করে লিভিং রুম যখন ফাঁকা হলো আলো আর সামিন তখনও বসে আছে চুপচাপ।

সময় তখন রাত একটা, ইনশিরাহ ঘরে ফিরে বিছানা নিয়েছে। গায়ের বেনারসীটাও খোলেনি সে। এই যে মুঈনের সামনে দৃঢ় থাকা, সবার সামনে এতো বুঝদার সেজে থাকা মেয়েটি রাতের নিস্তব্ধতায় কেমন অবুঝ, অস্থির হলো । কাঁথা মুড়ি দিয়ে হুঁ হুঁ করে কাঁদছে মেয়েটা। কেন কাঁদছে সে বুঝতে পারছে না। নিজেকে এতো ব্যাখ্যা দিয়েছে,এতো বোঝাচ্ছে তবুও কেন কাঁদছে সে বুঝতে পারছে না।

ক্যাচ ক্যাচ শব্দে দরজার নব ঘোরার শব্দ হয়। ইনশিরাহ সতর্ক হয়। ফোঁপানি থামিয়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে কাঁথা মুড়ি দিয়ে থাকে।

কেউ তার দিকে এগিয়ে আসছে সে টের পেলো। ইনশিরাহ জানে এটা কে। ইনশিরাহ চুপ হয়ে থাকে। হঠাৎ কেউ তার থেকে কাঁথা টেনে নেয়। তার মুখটা অনাবৃত করে। ইনশিরাহ সামলাতে না পেরে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে আলো তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়ের কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া মুখটা দেখছে আলো।

ইনশিরাহ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে বুঝতে পারছে না, একবার মন চাইছে মা'কে জরিয়ে ধরে নিজের মধ্যে জমে থাকা অভিযোগ উগ্রে দিতে, একবার মন চাইছে চুপ করে থাকতে।

আলো চুপচাপ কাঁথা সরিয়ে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়। ইনশিরাহ নিরবতা ভেঙে বলে,“বাড়াবাড়ি শেষ হয়নি তোমার? একটু না বলে ঘুমিয়েছি বলে এতো শাস্তি, কান্নাকাটি, এতো জেদ, এতো বাড়াবাড়ি। শাস্তি কি শেষ হয়নি? আমাকে ঘুমাতে দেবেনা?”

আলো চুপচাপ দেখছে মেয়েকে। ইনশিরাহ বলে,“মাম্মা যাও, ঘুমাবো আমি।”

আলো নড়ে না জায়গা থেকে। ইনশিরাহ বলে,“হোয়্যাট? কেন এসেছো? এটা আবার কেমন বাড়াবাড়ি?”

আলো একবার দরজার দিকে তাকিয়ে মেয়েকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,“আরেকজন এসেছে বাড়াবাড়ি করতে।”

ইনশিরাহ ঘা'ড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকায়। সামিন ধীরে ধীরে তার ঘরে প্রবেশ করে। ইনশিরাহ ঝাপসা চোখে তাকিয়ে আছে পাপার দিকে। কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে,“সেই তো চুপ করে থাকো, না শাস্তি দাও,না ক্ষমা করো। তবে কেন এসেছো?”

সামিন গিয়ে মেয়ের পাশে বসে মেয়েকে টেনে বুকে নেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকায় ইনশিরাহ। পাপার বুকে মাথা ঠেকেছে তার। সে বাকহারা।
সামিন মেয়েকে পরম মমতায় আগলে নিয়ে বলে,“আমি ভীষণ স্বার্থপর আম্মা। আমি ভীষণ স্বার্থপর। আমি আমার ব্যাথা নিয়ে এতটাই ব্যাথিত ছিলাম, আমি আমার আম্মার কষ্টকে দূর করার ফুরসত পেলাম না। ইয়া আল্লাহ!”

ইনশিরাহ ভীষণ আশ্চর্য হয়, ঠোঁট কাঁপছে,গলা ধরে আসছে তার। সামিন হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে,“আম্মা তুমি মোটেও ব্যার্থ নও। আমি আমার আম্মাকে নিয়ে তখনও গর্ব করেছি, এখনও করি। একটু অভিমান হয়েছিলো আম্মা। তুমি ধরে নিলে আমি তোমাকে ভালোবাসি না? মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি?”

ইনশিরাহর দু'চোখ বেয়ে দরদর করে পানি ঝরছে, দু'হাতে পাপার গলা আগলে ধরে ভীষণ কাঁদছে। কাঁদছে সামিন।

আলো দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে বাপ বেটিকে। সে কাছে আসে না। তীব্র অপরাধবোধে ভুগছে, দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে মেয়েকে।

সামিন বলতে থাকে,“ভুল তুমি করেছো,সেই ভুল আর যাই হোক আমার আম্মার প্রতি আমার ভালবাসা শেষ করার সামর্থ্য রাখে না।”

একটু থেমে বলে,“তুই কিভাবে আমাকে কথা শোনালি লিভিং রুমে আম্মা। আমার কলিজাটা যে ছিঁড়ে যাচ্ছে। আয়হায় আমার জীবনের সবথেকে বড় পাওয়া,আমার আম্মা আমাকে ভুল বুঝছে। আমি নাকি তাকে ভালোবাসি না, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।”

এটুকু বলে সামিন বলে,“ভীষণ লজ্জা লাগছিল আম্মা। যখনই তোমার সাথে দেখা হয়েছিল ভীষণ লজ্জা লাগছিল। আমি ভেবেছিলাম আমার মেয়ে আমাকে একজন অপরাধীই তো ভাবে। আর...”

সামিনকে কিছু বলতে না দিয়ে ইনশিরাহ হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে বললো,“আমি তোমার আর মাম্মার সম্পর্ককে ভীষণ শ্রদ্ধা করি পাপা, ভীষণ। আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি আর বাড়াবাড়ি মাম্মাকে, যে সবসময় কাকের মতো কাকা করে আমার সাথে, আমাকে একটুও বোঝেনা। তাকেও ভীষণ ভালোবাসি।”

আলো মেঝেতে বসে কাঁদছে। লজ্জা। ভীষণ লজ্জা হচ্ছে তার। ইনশিরাহ মাথা তুলে দেখলো মাকে। পাপাকে ছেড়ে এসে মাম্মার হাত ধরে টানছে, টানতে টানতে বলছে,“এই ওঠো, এটা আবার কেমন বাড়াবাড়ি। ওঠো তুমি।”

মাকে টেনে নিয়ে পাপার পাশে বসিয়ে ইনশিরাহ একসাথে দুজনকে আগলে ধরে অযথা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। কিছু বলে না। আলো বাচ্চাদের মতো কেঁদে বলে,“আমার মা। আমি তোমাকে বুঝতে অপারগ। আমি সত্যিই খুব খারাপ মা আমার আম্মা।”

ইনশিরাহ মায়ের বুকে মাথা গুঁজে কাঁদছে, বাধ ভাঙ্গা কান্না। এখানে তিনজন ব্যক্তি কেউ কাউকে কান্না থামাতে বলছে না। সামিন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,“আমরা দু'জনেই তোমার কাছে অনেক অনেক স্যরি। অনেক অনেক অনেক স্যরি। তুমি আমাদের স্বস্তি আম্মা। তুমি সত্যিই আমাদের স্বস্তি।”

নাক টানে ইনশিরাহ মায়ের বুকে মাথা রেখে সামিনের হাত শক্ত করে একটু যখন সহজ হলো,অভিমানের পাহাড় ভাঙতে বললো,“হয়েছে। জু'তো মেরে আর গরুদান করতে হবে না। একটা লোক,যার সাথে তখনও বিয়ে হয়নি আমার,সে তোমাদের কাছে আমার থেকেও বেশী প্রিয়। তার সামনে আমাকে বকাঝকা করে এখন লুকিয়ে আমাকে আদর দেখাতে এসেছো?”

সামিন মেয়ের কথায় ম্লান হাসে। স্ত্রীর থেকে মেয়েকে টেনে নিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে তার ফোনটা তুলে মুঈনকে কল করে।
এতো রাতে সামিনের কল পেয়ে মুঈন ভীষণ রকমের অবাক। ভেবেছে কোন বিপদ আপদ হলো কি না। অস্ফুটে বললো,“বাবা....”

মুঈনকে কিছু বলতে না দিয়ে সামিন ধরা গলায় বলল,“আমার মেয়ে আমার কাছে স্বস্তি মুঈন। সে কখনোই ব্যর্থ মেয়ে নয়। কখনোই না। আমাকে যদি সৃষ্টি কর্তা বার বার সুযোগ দিতেন,আমি সবসময় আমার এই মেয়েকে,এই স্বভাবের মেয়েকেই চাইবো। আমার মেয়ে কখনোই অযোগ্য নয়। শুনেছো তুমি মুঈন?”

মুঈন ভীষণ রকমের অবাক,অস্ফুটেই বললো,“জি বাবা কিন্তু এসব কথা....”

সামিন পুনর্বার বলে,“এবং আমার মেয়ে আমাদেরকে ভীষণ বোঝে মুঈন। ও ওর মাম্মা পাপাকে ভীষণ বোঝে। তুমি শুনেছো?”

_বাবা কিছু হয়েছে? আপনি ধীরে কথা বলুন।

সামিন বলে,“রাখছি। ভালো থেকো।”

কল কাঁটে। মুঈন বোকার মতো ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে।

ফোন কেটে ইনশিরাহকে আগলে ধরলো সামিন। বাপ বেটিতে পালা করে কাঁদছে। আলো ওদের আর বিরক্ত করবে না তাই উঠে দাঁড়ায়। সামিন আর ইনশিরাহ একই সাথে আলোর হাত টেনে ধরে। ইনশিরাহ বলে,“যেওনা মাম্মা। তুমি পাশে বসে থাকো।”

আলো হুঁ হুঁ করে কাঁদছে। ইনশিরাহ দু'জনকে ধরে রেখে বারবার বলছে,“ছয়টা বছর মাম্মা, পাপা। ছয়টা বছর। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি জানো। নিজেকে এই শতাব্দীর চূড়ান্ত নির্বোধ মেয়ে হিসেবে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। আর কি করলাম আমি, এই সময়টিতে যে দু'জনকে আমার সবথেকে বেশি প্রয়োজন, তাঁদেরও নিজের কথার আঘাতে জর্জরিত করে আগেই ভেঙেছি। তবে মাম্মা আমি এসব ইচ্ছে করে করি না। আমি সবসময় চাই তোমাকে পাপাকে ভালো রাখার, সবসময় চাই। তোমরা আমাকে বোঝো না,এটা ভেবে আমি ইচ্ছে করে করি না উলটো পাল্টা। আমি কেন এতো লাঞ্ছিত হচ্ছি আমি বুঝতেই পারছি না মাম্মা।”

আলো ইশিকে টেনে বুকে নিলো,মেয়ের দু'গালে চুমু খেতে থাকে পাগলের মতন। হাহাকার করতে থাকে,“আমি খুব স্যরি আম্মা। খুব স্যরি। কিন্তু আম্মা তুমি আমার একটা মেয়ে, তুমি তোমার পাপার আমানত। আমার জান তুমি। জীবনের অতি কষ্টের লাঞ্ছনার সময়গুলো আমি তোমার মুখের দিকে চেয়ে নিঃশ্বাস নিয়েছি। আমি কোন কিছুর বিনিময়ে তোমার দুরবস্থা দেখতে রাজি নই। একদমই না। কিন্তু আম্মা সবশেষে খুব ব্যর্থ লাগছে। ক্ষমা চাই আম্মা! আমি তোমাকে ভাঙতে চাইনি। আমি ভাঙতে চাইনি! তুমি মা'কে ক্ষমা করো। ”

ইনশিরাহ কাকে রেখে কাকে জরিয়ে ধরে কাঁদবে বুঝতে পারছে না। শুধু কেঁদেই চলেছে তিনজন। হঠাৎ বাইরে মৃদু শব্দ হতেই ইনশিরাহ মাথা তুললো, বললো,“কে ওখানে? কে?”

ইহান দরজায় এসে দাঁড়ায়। ইনশিরাহ বলে,“আড়ি পাতছিলে দাদান। ব্যাড ম্যানার্স।”

ইহান ম্লান হেসে এগিয়ে গিয়ে ওদের তিনজনের মুখোমুখি হয়ে বসেছে। ইনশিরাহ পাপার বুকে মাথা রেখে ইহানের দিকে তাকিয়ে আছে।

ইহান বলতে লাগলো,“তোমরা সবাই সবার ভুল স্বীকার করছিলে! আমারও তো ইশির কাছে স্যরি বলার আছে।”

ইনশিরাহ বুঝতে পারছে না ইহানের কথা। ইহান বলতে লাগলো,“ইশি আম স্যরি দাদান। তোকে আজ খুজে না পেয়ে আমি ভুঁইয়া ম্যানশনে চলে গিয়েছিলাম খুঁজতে।”

ইনশিরাহ কান্না থামিয়ে চূড়ান্ত হতবাক হয়ে দাদানকে দেখে। ইহান বলে,“তুই আমাকে যা ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারিস তোকে ভুল বোঝার জন্য। আমিও তোর ব্যর্থ দাদান।”

ইনশিরাহ আর কিছু বললো না। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। দরজার কাছে তখন বাড়ির সবাই এসে ভীড় জমিয়েছে। ইনশিরাহ মিছে রাগ দেখিয়ে বললো,“তোমরা সবাই এলে জু'তো মেরে গরু দান করতে?”

_মা,তোর ঘরে তোর ট্রাভেল ব্যাগ একটা এলোমেলো পরে আছে। আরেকটা নেই, তোর আইডি কার্ড নেই। আমরা ঐ সময়ে কি আর ভাবতাম বল?
রিতু কাঁদে আর বলে। ইনশিরাহ বলে,“মাম্মা ঠিক নেই, তোমাদের উচিত ছিলো তাকে বোঝানোর। তোমরা উল্টে উস্কেছো। আর ঐ ইনু। ও যেন আমার চোখের সামনে না আসে কয়েকটা দিন।”

ইনায়া দূরে দাঁড়িয়ে ভেজা চোখে মাথা নিচু করে আছে। একে একে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো সবাই। ইনশিরাহ বললো,“এই যাও তো। তোমাদের এতো আদর এখন ভালো লাগছে না, মাম্মা না হয় মারলো আমাকে,তোমরা কিভাবে চুপ করে দেখেছো? খুব কষ্ট দিয়েছো তোমরা আমাকে। তোমরা খুব খুশি হয়েছো না আমাকে অপদস্থ হতে দেখে? আমি বোঝা হয়ে গিয়েছি সবার! তাইনা? যাও।”

ইশমাম এসে বসলো খাটের এক কোণে। মুঈনকে কল করলো সে, মুঈন কলটা রিসিভ করতেই ইশমাম বললো,“মুঈন।”

_আঙ্কেল সামিন বাবা ঠিক আছে?

_মুঈন। আমরা আমাদের সবথেকে মূল্যবান একটি রত্নকে তোমাকে দিয়েছি। তুমি নিশ্চয় জানো?

_জি আঙ্কেল জানি। বাড়ির পরিস্থিতি ঠিকঠাক?

ইশমাম তার জবাব না দিয়ে বলে,“সে আমাদের বোঝা নয় মুঈন। কখনোই না। বুঝতে পেরেছো?”

মুঈন ভীষণ অবাক হচ্ছে তার শশুরদের কাণ্ড দেখে। সে অস্ফুটে বললো,“জি পেরেছি।”

_আচ্ছা রাখছি। ভালো থেকো।

এবারও কল কাটার পরে মুঈন বোকার মতো ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর দ্রুত ইহানকে কল দেয়। ইহান কলটা রিসিভ করতেই বলে,“ইহান কিছু কি হয়েছে?”

_মুঈন সবাই একটু চিন্তিত তো, তাই তোমাকে ফোন করছে। ক্ষমা করো। এমনিতে সব ঠিকঠাক।

_আর ইশি?
মুঈন জানতে চায়।

_সেও ঠিক আছে।

ইশির প্রতি মুঈনের উদ্বেগ ইশি শুনলো। কল কাটার পরে সে বলে,“এই তো তোমাদের আদরের জামাই। যাকে তোমরা ভীষণ পছন্দ করো। সে কি করেছে? মাম্মা জেদ দেখিয়ে বিয়ে দিতে চেয়েছে, আমিও জেদ দেখিয়ে বিয়েতে মত দিয়েছি। আর তোমাদের সন্টু মন্টু ভদ্রলোক জামাই চুপচাপ বিয়ে করে নিলো, ঐ পরিস্থিতিতে শক্ত হয়ে বলতে পারলো না সে আমাকে ট্রাস্ট করে? সে নাকি এই পরিবারের ছেলের মতো , তাই সেও বিশ্বাস করে আমি পালিয়ে যাওয়ার মতো মেয়ে। আমি কাকে রেখে কাকে দোষ দেবো?”

ইহান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইনশিরাহর দিকে, বললো,“বোকা তুই? তুই পালিয়ে যেতে পারিস এটা ভেবে কেউ কেন তোকে বিয়ে করে নেবে? উলটো তুই এমন মেয়েই নোস এমন বিশ্বাস ঢুকেছে বলেই তো ও তোকে বিয়ে করে নিয়েছে বিনা দ্বিধায়!”

ইনশিরাহ চুপ হয়ে যায়। পাপাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে বাড়ির সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে,“হ্যা। হ্যা। কি মহান দেখলে। এতো কিছুর পরেও বিয়ে করে নিলো আমাকে।”

সামিন ম্লান হাসলো, মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,“মুঈন তোমাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে আম্মা।”

চলমান.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 53 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন