ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 66

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৬৬
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ইনশিরাহ লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে হাপাচ্ছে। মুঈন ওর দিকে তাকিয়ে আছে, নিজেকে একপ্রকার “আহাম্মক” লাগলো মুহুর্তেই! ইনশিরাহর বুকের হাপর ওঠানামা করছে,আর ওর দিকে মুঈনের হতভম্ব দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে, চূড়ান্ত হতবাক হয়ে মুঈন বলে উঠলো,“বেগ ইউ?”

ইনশিরাহ চুপ করে কাঁদছিল। মুঈন একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ধাতস্থ করার চেষ্টা করে নিজেকে। ইনশিরাহ ওর দিকে তাকায় অপরাধীর মতো। মুঈন আরো কিছুক্ষণ ইনশিরাহর দিকে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থেকে উঠে বসলো। কন্ঠে ভীষণ বিব্রতভাব তার, ইনশিরাহর দিকে তাকিয়ে বললো,“বেগিং টু মি? ইনশিরাহ ডিড আই বি রাফ টু ইউ? ডিড আই ফোর্স ইউ?”
মুঈন ভয়ংকর লজ্জায় পরে গিয়েছে। সেই সাথে চূড়ান্ত অপমানিত লাগছে নিজেকে।
ইনশিরাহ কাঁদতে কাঁদতে দুপাশে মাথা নাড়ায়, কাঁদতে কাঁদতেই বলে ফেললো,“প্লিজ ভুল বুঝবেন না। আমি শুরুতে চাইনি আর নাটক টা বাড়াতে, কিন্তু শেষটায় আমি পারলাম না, আমি আটকে গেলাম। আমি কথা গুছিয়ে বলতে পারছি না আপনাকে, আপনি ভুল বুঝবেন না অনুরোধ।”

মুঈন শুধু দেখছিলো ওকে,কি ভীষণ বাজে একটা পরিস্থিতির মোকাবিলা সে করছে সেটা শুধু মুঈনই জানে। ইনশিরাহ বলতে থাকে,“আমি স্বীকার করছি। স্বীকার করছি সমস্যাটা আমার। আমি খুব দ্রুত একজন সাইক্রিয়াটিস্টের শরণাপন্ন হবো! আমি চাই সংসার করতে। মুঈন আমাকে কিছুটা সময় দিন।”

শরীরটা কাঁপছে ইনশিরাহর। মুঈন কি করবে,কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ইনশিরাহর দিকে। খানিক বাদে মুঈনের চোখ মুখের ভঙ্গি বদলে গেলো, তার ভেতরে তীব্র স্ফুটন নিভছে না, নিজের ওপর রাগ দেখাবে নাকি মায়া করবে নাকি হাসবে সে বুঝতে পারছে না। ক্ষনিকের জন্য নিজেকে একটা জোকার লাগছে,ক্ষনিকের জন্য তার সামনে এভাবে শক্ত হয়ে পরে থাকা মেয়েটির জন্য তার অনুভূতি মিশ্র হয়ে যাচ্ছে। মোদ্দা কথা সে পরিস্থিতি বুঝে সেই অনুযায়ী আচরণ করার পরিস্থিতিতেও নেই।

ইনশিরাহ কাঁপা হাতে শাড়ির আঁচল ঠিক করে উঠে বসে, মুঈন বেডের হেডসাইডে পিঠ ঠেকিয়ে দশ সেকেন্ড বসলো,বড় বড় শ্বাস ফেললো। ইনশিরাহ উঠে বসে ভেজা চোখে অপরাধীর মতো তাকিয়ে ছিল মুঈনের দিকে। অমন দৃষ্টি মুঈন সর্বোচ্চ দশ সেকেন্ড দেখার মত ধৈর্য্য রাখলো, আর ধৈর্য্যে কুলোচ্ছে না, তারপর দ্রুত হাতে ভেজা শার্টটা গাঁয়ে পরে হন্তদন্ত হয়ে কটেজের বারান্দায় চলে যায়।
বাতাসের বেগের সাথে পাল্লা দিয়ে কাঁপছিল কটেজের দরজাটা। ইনশিরাহ মাথা ঘুরিয়ে দেখেছে কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ চুল টানলো নিজের, তারপর ধীরে ধীরে গুটিসুটি মেরে বসে মাথাটা হাঁটুতে ঠেকিয়ে দেয়।

আজ রাতের এই বৃষ্টি মুঈনের সাথে শত্রুতা করে ঝরছে। ও যখন বারান্দায় গেলো,‌আবারও নতুন করে ভিজতে লাগলো, বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ভিজতে ভিজতে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকে সে।
ইনশিরাহ সময় নিয়ে ধাতস্থ হলো, তার গলার কাছে সেই অস্থিরতাটুকু নেই আর। মাথা তুললো রাতের সময় দেখার জন্য, তখন সময় রাত একটা বেজে বায়ান্ন মিনিট। আবারও মলিন মুখে দরজার পানে চায় ইনশিরাহ । মুঈন ফেরে না,বহু সময় পেরিয়ে গিয়েছে,একটানা কতক্ষন ভিজছে লোকটা। ইনশিরাহ এবার ফোঁস শব্দে শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়, দ্রুতপায়ে হেঁটে সে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো মুঈনকে। দীর্ঘক্ষণ দেখলো। বিকট শব্দে হঠাৎ বিদ্যুত চমকাতেই,পরপর ইনশিরাহ মুঈনকে বললো,“ভেতরে আসুন, ঠান্ডা লাগবে।”

নিজের সাথে যুদ্ধ করে মুঈন তখন ভীষণ শান্ত, ভীষণ। ঘুরে তাকিয়ে ইশিকে অস্বাভাবিক শীতল কন্ঠে বললো,“ঘুমোও তুমি। আমি আসছি।”

ইনশিরাহ নড়লো না আর মুঈনও আসলো না ভেতরে। এ কেমন বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছে দুজনার! এর সমাধান কে করবে যখন দু'পাশের দু'জন ব্যক্তিই নিজেদের অনুভূতি সামলাতেই ব্যর্থ?

মুঈন চেষ্টা করছে এ রাতে স্বাভাবিক থাকার, আর ইনশিরাহ চেষ্টা করছে সবকিছু স্বাভাবিক করার। যেন এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি দুজন হয়নি কিছুক্ষণ আগে। যেখানে সম্পর্কের উন্নতি সে নিজেও চায় সেখানে হঠাৎ, আচমকা এমন অবনতি তার তরফ থেকে কাম্য নয়। মাথার মধ্যে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। কেমন পাগল পাগল লাগছে,ইচ্ছে করছে অতীতে চলে যেতে, সেখান থেকে সবকিছু মুছে ফেলতে। ইচ্ছে করছে মাম্মা পাপাকে ধরে কাঁদতে, তার মাঝে এতো জটিলতা কেন এর উত্তর জানতে। এমন পাগল পাগল পরিস্থিতিকে একপাশে ঠেলে রেখে সে শুধু ভিজতে থাকা সামনের মানুষটাকে দেখলো। যে লোকটা তার কাছে বিয়ের আগে সোজাসাপ্টা জানতে চেয়েছিলো ইনশিরাহর পাস্ট বদার করে কিনা। ইনশিরাহ জবাব দিয়েছিল করে না। লোকটা ইনশিরাহর এতোটুকু আত্মবিশ্বাস দেখে এগিয়েছে। সবকিছু শুরু থেকে সুন্দর করে সামলেছে, এই টক্সিক আলফা মেলের যুগে এমন সহনশীল পুরুষ কজন হয়? কজন দেখায় এমন ধৈর্য্য? আজ ইনশিরাহ জেনেবুঝে হোক,না বুঝে হোক তার অনুভূতি,তার পৌরুষত্তের সাথে মজা করলো। একপ্রকার বেচারা করে ছাড়লো মুঈনকে। ইনশিরাহ তাকিয়ে তাকিয়ে তাকেই দেখছে।

ধীরে ধীরে ইনশিরাহ এগিয়ে যায় মুঈনের কাছে। ওর পাশে দাঁড়িয়ে আবারও ভিজতে থাকে সে। মুঈন নড়ে না,নড়ে না ইনশিরাহও।

মুঈন ভেতরে না গেলে ইনশিরাহও যাবে না এতটুকু বোধগম্য হলো মুঈনের। কিছুক্ষণ বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে কোনো কথা না বলে চুপচাপ ঘরে ঢুকলো, ইনশিরাহও ঢুকলো তার পিছুপিছু।

খোলা জানালা গুলো মুঈন ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়। ইনশিরাহ কিভাবে স্বাভাবিক হবে আবারও মুঈনের সাথে বুঝতে পারছে না, সে এলোমেলো দৃষ্টিতে আশেপাশে দেখে মুঈনের তোয়ালে এনে ওর সামনে দাঁড়ায়।

অযথা খাটনি এসব ইনশিরাহর, ইনশিরাহ বুঝতে পারছে। তবে মুঈন ওকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে ওর হাত থেকে তোয়ালে আর পোশাক নিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে ভেজা পোশাক পাল্টে নেয়। ফিরে এসে বিছানা গুছিয়ে শুয়ে পরে, মুখভঙ্গি স্বাভাবিক মুঈনের।

ইনশিরাহ দ্রুত গিয়ে নিজের ভেজা শাড়ি পাল্টে এসে বিছানায় একপাশে বসে থাকে চুপচাপ কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে সেও শুয়ে পরে।
আজ মুঈন অন্যদিকে ফিরে শুয়েছে। ইনশিরাহ শুয়েছে তার দিকে ফিরে। কিছুক্ষণ কোনো অজানা অস্থিরতায় ইনশিরাহ ঘুমোতে পারলো না। অথচ টের পেলো,মুঈন ঘুমিয়ে গিয়েছে। একটু নড়লোও না লোকটা, যেভাবে ওপাশ ফিরে শু'লো, সেভাবেই ঘুমিয়ে গেলো।

সারারাত রাত জাগা পাখির মতো জেগে কাটিয়ে দিলো ইনশিরাহ, বারবার ঘড়ি দেখছিলো সে,সময় গড়ায়। শেষ রাত থেকে তিনটা,তিনটা তেত্রিশ, চারটা বারো, পাঁচ টা দুই,সময় দেখতে দেখতে কাটিয়ে দেয়, ভোর যখন ছয়টা ঠিক তখন ইনশিরাহও ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যায়, ধীরে ধীরে।

বেশিক্ষণ ঘুমোতে পারেনি ইনশিরাহ,সাতটার দিকে ইনায়া কল করলো মুঈনের ফোনে। ইনশিরাহ ধরফরিয়ে উঠে বসে,চোখ ডলে নিয়ে দেখলো মুঈনকে,লোকটা ঘুমাচ্ছে। স্ক্রিণে ইনায়ার নাম্বার দেখে অনেকটা সংকোচ নিয়ে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ইনায়া বললো,“জিজু! কি প্ল্যান ছিলো? আপুকে টেনে তুলুন ঘুম থেকে। আমরা রেডি!”

ইনশিরাহ স্বাভাবিক গলায় বলল,“উনি ঘুমাচ্ছে, আমারও শরীরটা ভালো নেই। তোরা যা। আমরা কিছুক্ষণ পরে জয়েন করবো।”

কল কেটে ইনশিরাহ পায়চারি করলো ঘরময় কিছুক্ষণ। তারপর ওয়াশ রুমে ঢুকে তার আর মুঈনের দুজনেরই রাতের ভেজা পোশাক ধুয়ে মেলে দিলো কটেজের বারান্দায়। সারারাত বৃষ্টি শেষে বাইরে তখন ফকফকে রোদ।

ইনশিরাহ ঘরে ঢুকে বিছানায় বসলো আবারও কিছুক্ষণ। দেখলো মুঈনকে। ওকে সরাসরি ডাকলো না প্রথমে, উঠে ঘরময় পায়চারী করে বিভিন্ন ধরনের শব্দ করতে লাগলো, কাজ হলো না তাতে, মুঈন ঘুম থেকে উঠলো না। ইনশিরাহ আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অতঃপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মুঈনের কাছে, বিছানার একপাশে বসে ধীমি আওয়াজে বলে ,“মুঈন!”

দু'বার ডাকলো ইনশিরাহ। তারপর কিছুটা উঁচু গলায় বলে,“মুঈন আপনার কি প্ল্যান ছিলো কোনো? আমরা কি ঘুরতে যাচ্ছি কোথাও আজ?”

হঠাৎ কপাল কুঁচকে ফেলে মুঈন, তার ঘুম ভেঙেছে। চোখ মেলে তাকাতেই ইনশিরাহ আঁতকে ওঠে, মুঈনের চোখ দুটো অস্বাভাবিক লাল হয়ে আছে। চোখ পিটপিট করছিলো মুঈন, ইনশিরাহ উঠে দাঁড়িয়ে চিন্তিত হয়ে বললো,“আপনার কি হয়েছে! চোখ লাল কেন!”

মুঈন আশেপাশে তাকিয়ে উঠে বসলো। ইনশিরাহ এগিয়ে গিয়ে বললো,“জ্বর এসেছে নাকি!”

বলে ইনশিরাহ নিজেই মুঈনের কপালে হাত রাখলো। মুঈনের কপাল ছুঁতেই ইনশিরাহ দ্বিতীয় দফায় চমকায়। আগুন গরম গা। আগুন বললেও কম বলা হবে, হাতটা পুড়ে যাচ্ছিল ইনশিরাহর।

চাপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে বললো ইনশিরাহ,“এতো জ্বর! ডক্টর...আমি একটা ডক্টর ডাকছি।”

মুঈন উঠে দাঁড়ায়, আজ বহুবছর পরে জ্বর তাকে এভাবে কাবু করলো হঠাৎ, শেষ বোধ হয় জ্বর এসেছিলো মুঈন মাস্টার্স পরীক্ষার্থী ছিল তখন। অসুখ বিসুখ খুব কম ছুঁতে পারে তাকে, কারণ তার যে সুশ্রষা করার মানুষ নেই তা অসুখও বোঝে। আজ হঠাৎ জ্বর এলো কেন? মুঈনের এখন বৌ আছে তা দেখে?

আগুন গরম গা নিয়ে টলতে টলতে ওয়াশ রুমের দিকটাতে যেতে যেতে মুঈন এসব কথা ভেবে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।

ইনশিরাহ রুম সার্ভিস কল করে একজন ডক্টর চায়, পরপর প্রিতমকে কল করে জানিয়ে দেয়। ঘুরে দেখে মুঈন টলছে, কাঁপছে কিছুটা। এটা কেমন হলো ইনশিরাহ বুঝতে পারলো না, নাজুক ছিল তার শরীর, জ্বর আসার কথা ছিলো তার, এ যে উল্টো হলো।

দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে মুঈনের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বললো,“বেশি অসুবিধা হচ্ছে? আমি কি ধরবো? আপনি বরং আমার হাত.....”

ওকে হাত দিয়ে ইশারা করে থামিয়ে দেয় মুঈন। নাক বন্ধ, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না ঠিকঠাক মতন , নিঃশ্বাস যা বের করছে, ভীষণ উত্তপ্ত, অসহ্যকর। আচমকা জ্বর মুঈনকে ধরাশায়ী করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। মুঈন ইনশিরাহকে অস্ফুটে বলে,“আ'ম ফাইন।”

গম্ভীর কন্ঠস্বর,কাঁপছিল মুঈন। ইনশিরাহ কটেজের ওয়াল কেবিনেট খুলে মোটা কমফোর্টার বের করলো। জ্বর হলে তার কম সে কম পাঁচটা কমফোর্টার চাপা দিয়ে থাকতে হয়। মুঈনকে বললো শুয়ে থাকতে। মুঈন বিছানায় চুপচাপ শু'লো, অসুস্থ মুখখানা বেশ গম্ভীর, নির্লিপ্ত হয়ে ইনশিরাহর পায়চারি দেখে কিছুক্ষণ, মানুষ হিসেবে একজন মানুষের প্রতি ইনশিরাহর সৌজন্যতা দেখে, তারপর দু'চোখ বন্ধ করে থাকে। জ্বরের তোপে চোখও জ্বালা করছিলো। ভীষণ রকম জ্বলছিল দু'চোখ, মাথাটা ভারি লাগছে। মা থাকলে তাকে মুঈন বলতো মাথা টিপে দিতে। এটা মুঈন কখনও পায়নি, মায়ের ছবিটাও কখনও দেখেনি সে। এতিমখানায় মুঈন যখন জ্বরে পরে থাকতো তখন ওস্তাদ এসে কখনো কখনো কপালে হাত ছোয়াতো, ওষুধ দিতো। ঐ পর্যন্ত ছিলো মুঈনের “জ্বরবিলাশ”।

তারপর ধীরে ধীরে মুঈন বড় হবার সাথে সাথে অসুখ বিসুখ কমে আসলো। এখনও কখনো সখনো বড় জোড় ঠান্ডা লেগে যায়,এমন গা কাঁপানো জ্বর আসেনা। তাও এভাবে হুট করে।

মুঈনের জ্বর বাড়লো। ডক্টর সাড়ে নটার দিকে দেখলো এসে। জ্বর একশো চার। ইনায়া প্রিতম দীর্ঘসময় ধরে এখানে বসে আছে। ওদের তিনজনের ভীষণ উৎকণ্ঠা।

প্রিতম ইনশিরাহর দিকে তাকিয়ে বলে,“এখন মাথায় পানি ঢালতে পারলে বেশ হতো, এই তাপটা যাস্ট সহ্য করার মতো নয়,আমি আমার জ্বর হলে টের পাই। ভাইয়ার মাথায় পানি ঢালতে হবে। ডক্টরের তেমনটাই নির্দেশ। আমি হেল্প করবো?”

ইনশিরাহ একা একটা লোককে কিভাবে সামলাবে বুঝতে পারছে না, তবুও প্রিতমকে বললো,“না, আমি পারবো।”

এতো বড় দানবীয় শরীরটা বিছানায় চুপচাপ পরে আছে। ইনশিরাহ মুঈনের তাপ দেখে কমফোর্টার সরিয়ে দেয়। একটা বালতি এনে বিছানার কাছে সেট করে,বালিশের ওপর টি টেবিলের ওপর থেকে রেক্সিন টা নিয়ে সেট করে রেক্সিনের অগ্রভাগ বালতির সাথে সংযুক্ত করলো। এটা সবথেকে নির্ঝঞ্ঝাট পদ্ধতি, রোগীকে উঠে ওয়াশ রুমে যেতে হয়না। মাম্মা তার জ্বর হলে সবসময় এভাবে পানি ঢালে মাথায়।

মুঈন আবারও বললো,“আ'ম ফাইন। এসব বাদ দাও।”

জ্বরের ঘোরে কেমন প্রলাপ বকার মতো শোনাচ্ছিলো কথাগুলো। অনবরত বলেই যাচ্ছে মুঈন। ইনশিরাহ মগ মগ ভর্তি করে পানি ঢালে। মুঈনের কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য থেমে ওকে দেখে, ইনায়া ওকে সাহায্য করে, শুকনো মুখ করে বলে,“আপু এবার কি হবে রে! আমার ভীষণ খারাপ লাগছে ভাইয়ার জন্য, এতো ভিজলো কিভাবে গতকাল!”

ইনশিরাহ চুপচাপ মুঈনের মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে গতকাল রাতের ঘটনা মনে করে আবারও। মুঈন আরও একবার বললো,“আ'ম টোটালি ফাইন! এসব বাদ দাও।”

সারাদিনে মুঈনের জ্বর কমেনি একটুও। ওদিকে সামিন আলো মেয়ে জামাইয়ের জন্য ভীষণ চিন্তিত হয়ে পরেছে। ইনুর মুখে বিস্তারিত শুনে তারা ঘাবড়ে গিয়েছে বেশি।

ওষুধ টা যে খাইয়ে দেবে, খাবার টুকু খাওয়াতে পারেনি মুঈনকে। মাথায় এতো পানি ঢালার পরেও শরীরের তাপমাত্রা কমেনি। সারাদিনে ওরা তিনজনও কিছু খায়নি। প্রিতম ওদের জন্য খাবার অর্ডার করেছিলো,সেসব রুমে সেন্টার টেবিলে সেভাবেই পরে আছে।

বিকেলের দিকে মুঈনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলো যখন, শরীর থেকে ঘাম ছেড়ে দিলো। দুপুরের পরে লম্বা ঘুমের শেষে, শেষ বিকেলে উঠলো সে। গাঁয়ের তাপ কমেছে,তবে ভীষণ রকমের অসহ্য অনুভূতি হচ্ছিল উত্তপ্ত শরীরটা নিয়ে, মাথা তখনও নিদারুণ যন্ত্রণায় ফেটে পারছিলো, এমন অসহায় করে ছাড়লো মুঈনকে এই হুট করে আসা জ্বর!

ইনু পরীর সাথে কথা বলে ইনশিরাহকে বললো,“আপু। ভাইয়ার শার্ট টা খুলে তার গা মুছিয়ে দাও,মাম্মা বলেছে। আমি আর প্রিতম বাইরে যাচ্ছি।”

ইনশিরাহ বিছানার এক প্রান্তে বসে আছে দৃষ্টি নত করে। মুঈন পাঁচ মিনিট আগে উঠে বসে বেডের হেডসাইডে হেলান দিয়ে হাপাচ্ছিল, নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টায়।
লালাভ দুটি চোখ তুলে হঠাৎ সে দেখলো ইনশিরাহকে। জানালা থেকে আসা শেষ বিকেলের কনে দেখা আলোয় ইনশিরাহর পানপাতার মতো মুখটা সোনালী আভা ধারণ করেছে।
মুঈন পর পর লম্বা দু'টো শ্বাস ফেলে আবারও বললো,“আ'ম ফাইন।যাও,ওসব কিছু করতে হবে না।”

ক্লান্ত ও গম্ভীর স্বর মুঈনের। ইনশিরাহ চোখ তুলে তাকায়। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে ওয়াশ রুমে গিয়ে ওয়াশ রুম থেকে ধোওয়া তোয়ালেটা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে,জল নিংড়ে নিয়ে আসে, এসে দেখে মুঈন সাবেক চোখ বুজে আছে। শক্তপোক্ত, সুদর্শন চেহারায় নিদারুণ ক্লান্তির ছটা।

ইনশিরাহ একটা লম্বা শ্বাস ফেলে গিয়ে মুঈনের কাছাকাছি বসলো, তার ফোন বাজছে। কলটা রিসিভ করতে ওপাশ থেকে আলো উৎকণ্ঠা নিয়ে বলে,“ওষুধটা খাওয়াতে হবে, কিছু খাওয়াও পারলে। গা মুছিয়ে দিয়েছো?”

_এইতো। দিচ্ছি ‌।
ধীমি আওয়াজে মাকে জবাব দিয়ে কল কাটে ইনশিরাহ। অনেকটা সংকোচ কাটিয়ে যখন ইনশিরাহ মুঈনের টি শার্টের নিচের অংশে হাত দিলো ওটা খোলার জন্য,মুঈন ওর হাতটা ধরলো। চোখ মেলে ইনশিরাহকে দেখলো সে কয়েক মুহূর্ত। তারপর ধীরস্থির বললো,“এটা আমি করে নেবো!”

ইনশিরাহ থামলো, সরিয়ে নিলো হাত। অনিমেষ চেয়ে থাকে মুঈনের দিকে। তার বলতে ইচ্ছে করলো,“আমি এটা মন থেকে করছি।”

কেন জানি পারলো না বলতে। গতকাল রাতের ঘটনাগুলো একের পর এক ফ্ল্যাশব্যাকের মতন আসতে থাকে তার মস্তিস্কে। মুঈন টি শার্ট টা খুলে ফেললো, তারপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে গিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে শরীর স্পঞ্জ করে নিয়ে,ধোওয়া জামাকাপড় পরে বেরিয়ে আসে।

ইনশিরাহ ঘরের এক কোণে চুপচাপ বসে থেকে এসব দেখে। বিছানায় আবার যখন মুঈন শু'লো, ইনশিরাহ ওর জন্য একবাটি চিকেন স্যুপ নিয়ে বললো,“এটা খেতে হবে, ওষুধ আছে।”

মুঈন চুপচাপ বাটি থেকে দু চামচের মতো খেলো খাবারটা, তারপর ওষুধ খেয়ে খাটে পিঠ ঠেকিয়ে দু'চোখ বন্ধ করে দিল আবারও।

প্রিতম ইনায়া বিকেল থেকে তিনবার এসে দেখে গিয়েছে, মুঈন ক্লান্তি নিয়েও ওদের বলেছে ঘোরাঘুরি করতে, ওরা যায়নি কোথাও। প্রিতম জানিয়েছে জ্বর কিছুটা কমলেই তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দেবে।

সন্ধ্যা পেরিয়ে নিকষ কালো অন্ধকার রাত নেমেছে। স্নিগ্ধ বাতাসে জানালার পাতলা সাদা পর্দাগুলো নাচছিলো। এই বাতাসে মুঈনের অসুবিধা হতে পারে তাই, জানালা গুলো সব বন্ধ করে দিল ইনশিরাহ । মুঈনকে দেখলো ঘুরে, লোকটা শুয়েছে, ঘুমাচ্ছে নাকি জেগে আছে বোঝা যাচ্ছে না। ইনশিরাহ ডাকতে গিয়েও ডাকে না। আবারও পাপার ফোন, ইনশিরাহ ফোনটা রিসিভ করে একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে মৃদু আওয়াজে বলে,“বলো পাপা।”

_ওর কি অবস্থা এখন?

_জ্বর আছে,একশো দুই।

সামিন কন্ঠে ভীষণ উৎকণ্ঠা নিয়ে বলে,“এটা কিভাবে হলো হঠাৎ। তুমি ঠিক আছো তো?”

_হু।

_খেয়েছে কিছু ও?

_সামান্য কিছু।

সামিন কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে যায়, তারপর বলে,“দেখো আম্মা, জ্বরটাকে ঘন্টায় ঘন্টায় খেয়াল করতে হবে। তুমি এক কাজ করো, তোমার ফোনে অ্যালার্ম সেট করে রাখো, রাতে মাঝে মাঝে উঠে দেখলে ভালো হবে তাইনা?”

ঘাড় ঘুরিয়ে ইনশিরাহ মুঈনকে দেখে পাপাকে বললো,“হু।”

সামিন বলতে থাকে,“কষ্ট হলেও একটু উঠে দেখো, ছেলেটা এতিমখানায় বড় হয়েছে আম্মা, এসব কখনো পায়নি, তোমার বা এ বাড়ির সব বাচ্চাদের মাথার কাছে রাত জেগে বসে থাকার জন্য আমরা ছয়জন ছিলাম, ও তো এসব পায়ওনি। আজ ওর পরিবার তুমি। তুমি বুঝতে পারছো? আমি কি বোঝাতে পারছি?”

ইনশিরাহ একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,“আমি দেখবো ওনাকে, দুশ্চিন্তা করো না। রাখছি।”

কল কেটে ইনশিরাহ নিজে হালকা ফ্রুট সালাদ খেয়ে ডিনার সেরে নেয়। তারপর গুটিগুটি পায়ে হেঁটে যায় বিছানার কাছে।

মুঈন কমফোর্টার গায়ে চাপিয়ে জ্বরের সাথে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। ইনশিরাহ গিয়ে শুয়ে পরলো পাশে।

সে ফোনে এলার্ম সেট করলো না রাতে,ওর চোখে এমনিতেই ঘুম নেই। রাত যখন গভীর হচ্ছিলো, ইনশিরাহ টের পেলো মুঈনের জ্বর বাড়ছে। মুখ দিয়ে কিছু একটা বিড়বিড় করে বলেও। ইনশিরাহ স্পষ্ট শোনে না। পরের বার যখন ইনশিরাহ শুনলো,সে বুঝলো মুঈন তার মাকে ডাকছে।

এতো বড় মানুষটার এ কি হাল! ইনশিরাহ নির্নিমেষ দেখতে থাকে মুঈনের মুখটা।

খানিক বাদে উঠে বসে সে মুঈনের গা থেকে কমফোর্টার সরিয়ে নিলো এটা ভেবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মুঈনের হয়তোবা গরম লাগছে। তারপর শোয়া অবস্থাতেই ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে জ্বর দেখতে হাতটা ছোয়ালো মুঈনের কপালে। মুঈনের গরম লাগছিল না, তার প্রয়োজন পরেছে উষ্ণতার, পুরোপুরি অবচেতন সে জ্বরের প্রকোপে, একটা উষ্ণ শরীর ওর দিকে ঘনিষ্ঠ হতেই মুঈন নিজেকে আরাম দিতে আষ্টেপৃষ্টে ধরলো সে শরীরটা। কিছু বোঝার,কিছু বলার পরিস্থিতিতে সে নেই,তার শরীরটা শুধু আরাম চাইছে, চাইছে উষ্ণতা,চাইছে আশ্রয়।
ইনশিরাহ চমকে উঠলো,গোল গোল চোখে চেয়ে রইল মুঈনের নীলাভ বর্ণ ধারণ করা কঠিন, রুক্ষ মুখটার দিকে।

এই ফরাজী, তাকে এভাবে ধরলো, চেতনা থাকলে এই ফরাজী এটা করতো না কখনোই, গতকাল রাতে ইনশিরাহর থেকে চূড়ান্ত অপমানিত হবার পরে এই লোকটা কখনোই এটা করতো না। ইনশিরাহ চেয়ে চেয়ে দেখছে শুধু। মুঈনের শরীরের উত্তাপে তার সবকিছু জ্বলে যাচ্ছে। তবুও সে নিশ্চুপ থাকে।

মনে পরে মাম্মার বলা কথাগুলো, বিদায়ের সময় মুঈনকে বলেছিলো স্বামী হিসেবে যতক্ষন না পর্যন্ত তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে, ইনশিরাহর কাজকারবার মানিয়ে নিতে। কাল রাতে কি ছিলো ওটা? ইনশিরাহর কাজকারবার কিভাবে ব্যাখ্যা করবে সে।
আকাশ পাতাল ভাবতে শুরু করে ইনশিরাহ। মুঈন থরথর করে কাঁপছে, ইনশিরাহর এতটুকু বিবেকে বাঁধা দিলো অসুস্থ লোকটাকে উপেক্ষা করার সে রাতে, অসহ্য লাগছে অমন তাপ তবুও ইনশিরাহ নড়লো না, ইনশিরাহ ওভাবেই হাত বাড়িয়ে কমফোর্টার টেনে দেয়,মুঈনের দিকে ফিরে একটু কাত হতেই, তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে মুঈন আরো শক্ত করে ধরলো ইনশিরাহকে।
মুহুর্তেই ইনশিরাহর গা কাঁপতে শুরু করে,কারন মুঈনের গাল ঠেকেছে তার বুকে।
এ কেমন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি ইনশিরাহকে আবারও ফেললো ইনশিরাহ জানে না।
গোবেচারা হয়ে চেয়ে থাকা ছাড়া তার কোনো কাজ নেই, ওদিকে শরীর জ্বলছে, এদিকে এতোটা কাছে,তার স্পর্শকাতর স্থানে তার বৈধ পুরুষ অচেতন প্রায় হয়ে আশ্রয় খুঁজছে। যার সাথে কিনা কাল রাতে ইনশিরাহ কুৎসিত এক মজা করেছিলো নিজের অনিচ্ছায়।
আবারও শুরু হলো সেই একই দ্বন্দ।

“অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ,একটি অজানা পুরুষের শরীরের সাথে লেপ্টে থাকা, একটা গা ঘিনঘিনে ব্যাপার।”
আধুনিক বঙ্গদেশে তরুণীদের কাছে একটি চলমান সংজ্ঞা। যারা বিয়ে শব্দটার মানে জানে না, যারা জানেনা এটা বহন করতে। যারা জানে না এর মাধুর্যতা কিভাবে উপভোগ করতে হয়,ঠিক তেমন এক তরুণী নিজের অসুস্থ স্বামীকে ফেরাতে পারেনি সে রাতে। সে একটু বোঝার চেষ্টা করলো এতো ঘনিষ্টতায় তার আসলেই গা ঘিনঘিন করছে কিনা, যেমনটা সে ভেবে এসেছে, দেখলো এমনটা করছে না, তার উল্টো মায়া হচ্ছে মানুষটার জন্য। আচ্ছা এর আগে অসুস্থ হয়ে পরলে লোকটা কিভাবে ধাতস্থ হতো? কাকে ধরতো?

শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা, ইনশিরাহ অনিমেষে চেয়ে থাকে মুঈনের মুখের দিকে, সে তখন বুঝলো, লোকটা তার ধারনার বাইরেও সুদর্শন। আজ এতো কাছে থেকে দেখে বুঝলো। ইনশিরাহর শরীর থেকে ঘাম ছুটছে,এদিকে মুঈনের কাঁপুনি থামছে না। ইনশিরাহ নিজের বুকে একটু চাপ অনুভব করছে এখন,এখন সরা উচিত। কিন্তু কিভাবে,লোকটা ঠিক নেই।
একটা রাত তো,একটু সহ্য করা যায়। এভাবে মানালো নিজেকে, রাত বাড়ছে,রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ইনশিরাহ ডাকলো,“ফরাজী!”

মুঈন জবাব দিচ্ছে না,মাথা,শরীরে তাপমাত্রার বিষ তাকে পুরোটা ধরাশায়ী করে ফেললো। ইনশিরাহ বললো,“মাম্মা পাপার আদরের জামাই।”

কেউ সারা দেয়না। ইনশিরাহ নড়ে না, নড়তেও চায় না।

চলমান......

[ কিছুদিন পারিবারিক কারণে গল্প লেখা হবে না হয়তো,ব্যস্ত থাকবো। আবার দিতেও পারি। তবে না দিলে জানাতে পারবো না।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 66 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন