#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৬৭
#ইসরাত_ইতি
🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ,সাথে সমুদ্রের মৃদু গর্জন। একটা লম্বা গাঢ় ঘুমের সমাপ্তি ঘটিয়ে দিলো।
কাল রাতে ওভাবেই,হুট করে ইনশিরাহ ঘুমিয়ে গিয়েছিলো, একটিবারও উঠে মুঈনের জ্বরটা দেখতে পারেনি,বৌ হিসেবে এই কর্তব্য টা পালন করতেও সে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু টেরও পায়নি সে,ঘুমটা এতো গাঢ় ছিল।
মুঈনের ঘুম ভাঙলেও ইনশিরাহ ছিলো তখন নিদ্রায়। ঘুম ভাঙতেই যখন মুঈন টের পেলো,সে কত ঘনিষ্ট হয়ে ইনশিরাহর শরীরে মিশে আছে, ভীষণ বিব্রত হলো সে। ইনশিরাহর বুকের কাছে তার মাথা ঠেকেছিলো,একটা হাত ছিলো ইনশিরাহর কোমরে। দু'জনকে এই অবস্থায় আবিষ্কার করা মাত্রই ক্লান্ত,জ্বরে ভাঙ্গা শক্ত শরীরটা হুট করে সরিয়ে নিলো মুঈন।
ইনশিরাহ নড়ে উঠলো,চাইলো চোখ মেলে। ধরফরিয়ে উঠে বসে দু'চোখ ডলে ইনশিরাহ। পর পর ঘুম ঘুম ক্লান্ত মস্তিস্কে হানা দিলো মুঈনের জ্বরের ব্যাপারটি। হরবরিয়ে বললো,“জ্বর.... আপনার জ্বর,আমি রাতে দেখিনি, ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম...কি অবস্থা!”
মুঈনের চোখ দুটোতে সংকোচ এসে ভীড় করেছে সেই কখন, সে অনেকটা দূরে সরেছে, জলদগম্ভীর অসুস্থ কন্ঠে জবাব দিলো,“ঠিক আছি।”
মুঈন ততটাও ঠিক ছিলো না, ইনশিরাহ হাত বাড়িয়ে থার্মোমিটার নিয়ে জ্বর দেখে মুঈনের,এখন স্বাভাবিক তাপমাত্রা, তবে ক্লান্ত শরীর, যতদূর বুঝতে পারলো গতকাল রাতে মৃদু হাইপোথার্মিয়ার মতো হয়েছিল মুঈনের। ইনশিরাহ মুঈনের মুখভঙ্গি দেখে। পরপর নিজেদের পরিস্থিতি অনুধাবন করে। দু'জনে একই কমফোর্টারের নিচে বসে আছে বিছানাতে।
মুঈন বিছানা থেকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে নেমে দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।
ইনশিরাহ নেমে পরীকে কল লাগায়, গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত মুঈনের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে জানতে চায় কোন কোন ওষুধ টা কনটিনিউ রাখবে। ব্রেকফাস্ট ঘরেই আনা হয়েছে, প্রিতম ইনায়া এসেছে। মুঈন সামান্য হেসে ওদের বলে,“তোমাদের ভুগতে হলো!”
ইনুর মুখটা আসলেই মলিন লাগছে, বিয়ের পর একটার পর একটা ঝামেলা সামলেছে,আর এবার, হানিমুন হতে হতেও হলো না।
প্রিতম হেসে বলল,“ইনুর মিডের পরে আবার আসবো। আপনি, ইনশিরাহ,আমি আর ইনু।”
ওরা সেদিন বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলো, এই গল্পের দু'টো জুটি, নিজেদের প্রথম হানিমুনের স্বাদ আস্বাদন করে।
_______
আজ নিয়ে এই দুদিন, মনে হচ্ছে প্রেরণার ওপর দিয়ে রোলার চালানো হচ্ছে। সে মূলত কেটরিং সার্ভিসের অফিস সামলায়,আউটডোর সামলায় সাব্বির এবং আরও দু'জন অ্যাসিস্ট্যান্ট।
এই প্রথম দু'টো ইভেন্ট একসাথে সামলে নিতে হচ্ছে তাদের, এনএন গ্রুপের মালিকের মেয়ের এংগেজমেন্ট এবং “এখন সময়” টিভির চেয়ারম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক ইভেন্টে “প্রেরণা কেটরিং সার্ভিস এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে” হায়ার করা হয়েছে । সাব্বিরকে এনএন গ্রুপের ইভেন্ট সামলানোর দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণা এসেছে এখন সময় টিভির চেয়ারম্যান মুত্তালিব মোর্শেদের ইভেন্ট লিড করতে।
ছুটতে ছুটতে স্লিপার পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। গায়ে সে-ই এক রঙা মলিন শাড়ি। মহিলা স্টাফরা আহ্লাদ করে বলেওছিল,ম্যাম একটু সাজুন। এলিট শ্রেণীর প্রোগ্রাম বলে কথা।
প্রেরণা না করেছে, সে এখানে কাজে এসেছে, সেবা দেবে, পেমেন্ট নেবে,চলে যাবে। তার আবার সাজতে হবে কেন?
অল্পসময়ের মধ্যেই প্রেরণা দারুণ ভাবে গুছিয়ে নিয়েছে বিজনেস, দুজন নামকরা ফুড ব্লগারের তফসিলে শহরে তার কেটরিং সার্ভিস মোটামুটি পরিচিতি পেয়েছে। অতটা লাভ না হলেও কর্মচারীদের বেতন দিয়ে শুদ্ধ আর প্রনমির জন্য যথেষ্ট জমাতে পারছে।
এ ধরণের এলিট শ্রেণীর লোকসমাগম প্রেরণা এরিয়ে চলে বরাবর,অথচ তার কর্মের সাথেই সম্পর্কিত এসব।
সকাল এগারোটা, শাড়ির আঁচল সামলে প্রেরণা নিজের কর্মচারীদের কাজের তদারকি করছিলো, তার মেজাজটা ভীষণ চটে আছে বিগত একঘন্টা থেকে। ঠিকঠাক ভাবে নিজের কাজটা সে করতে পারছে না, তার ইচ্ছে করছে তার পেছনের লোকটাকে মেরিনেট করে ছোটো ছোটো ডিব্বা ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে। তাতে যদি মাথাটা ঠাণ্ডা হয়।
লোকটার নাম রুবায়েত আশরাফ। একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানির মালিক এবং একজন নাট্যপরিচালক। বিজনেস শুরু করার পর পর প্রেরণার সাথে দুবার কথা হয়েছিল লোকটার সাথে,প্রেরণা কেটরিং সার্ভিসের একটি বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য,প্রেরণা গিয়েছিলো তার অফিসে কথা বলতে। শেষমেশ কাজটা হয়নি, তবে তখন থেকে লোকটা নির্লজ্জের মতো প্রেরণার পিছু পরেছে, নানাভাবে প্রেরণার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। লোকটার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি, বৌ-বাচ্চা আছে।
আজ এই ইভেন্টে হুট করেই দেখা আপদটার সাথে। সে-ই থেকে প্রেরণার পিছু পরেছে । নানা বাহানায় কথা বলতে আসছে। ক্ষমতাসীন লোকদের সামলাতে হয় ঠান্ডা মাথায়,প্রেরণা হঠকারী হয়নি, এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রেরণা, শুধু সহ্য করে গিয়েছে।
স্টাফরা প্রেরণার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছিল,একটু বিশ্রাম নিতে প্রেরণা একটা নিড়িবিলি স্থানে যায় কিছু সময়ের জন্য। আজকের এই অনুষ্ঠানের একজন গেস্ট ইহান তাজওয়ার মির্জা।
এসেছে কিছুক্ষণ আগে, প্রেরণার সাথে এই ইভেন্টে হুট করে দেখা হতেই দু'জনে অবাক হয়ে দু'জনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। পরপর সালাম দিলো প্রেরণা। শুধু ইহান নয় আরো নেতাশ্রেনীর লোকজনে ভর্তি এই ইভেন্ট।
আত্মীয় বলে-ই কথা বলতে পারছিলো না প্রেরণা, কুশল বিনিময় করে নিজের কাজে মন দিলো শুধু।
খানিক বাদে রুবায়েত আশরাফ আবারও তার পেছনে এসে দাঁড়ায়, ড্যাবড্যাব করে পা-মা আবারও প্রেরণাকে অবলোকন করে বলে ওঠে,“আপনি সত্যিই খুব পরিশ্রমী মিস! রিয়ালি ইম্প্রেসিভ।”
আবারও ফোঁস শব্দে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে প্রেরণা, সৌজন্যতার হাসি হেসে দ্রুত পায়ে সেখান থেকে কেটে পরে।
______
দু'দিন আগেই ওরা ফিরেছে। মুঈন দু'দিন বাড়িতে থেকে ছুটিটা শেষ করেছে। এর মাঝে আলো-সামিন,মুঈনের শশুর বাড়ির সবাই এসে মুঈনের সাথে দেখা করে গিয়েছে।
আজ সকালের ঘটনা, ইউনিফর্ম পরে মুঈন আজ ব্রেকফাস্ট টেবিলে আসার আগেই ইনশিরাহর ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। জলদি জলদি চুলগুলোকে একটা ক্লাচারে আটকে নিয়ে টেবিল সেট করে দিয়েছিলো।
ঝুমঝুমির মা সকালে নাস্তা বানিয়ে দিয়ে চলে যায়,আবার সকাল সাড়ে এগারোটার পরে এসে দুপুরের রান্না করে।
টেবিলে সবজি খিচুড়ি এবং ডিমভাজা,ইলিশ মাছ।
মুঈন বসে সেসব খাবারের দিকে তাকায়। ইনশিরাহ আমতা আমতা করে বললো,“আমি এসব করতে বলেছি,অসুখ থেকে উঠলেন,ভেবেছি ভালো লাগবে।”
মুঈন ওর দিকে একপলক তাকিয়ে নিজের প্লেটে খাবার তুলে নেয় চুপচাপ, ইনশিরাহও খেতে বসলো। রোজ মুঈন টুকটাক যা কথা বলে আজ তাও বলছে না খেতে খেতে। অসুখের পরে লোকটাকে ক্লান্ত লাগে খুব।
খিচুড়ির সাথে কাঁচা পেঁয়াজ খায় মুঈন, ইনশিরাহ উঠে একটা পেয়াজ কেটে নিয়ে আসতে যায়, ফলাফল তার আঙুল কাঁটে। ইনশিরাহ অতিষ্ট হয়ে উঠছে নিজের অক্ষমতায়, বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়েছিল তার আঙুলের দিকে।
মুঈন খেতে খেতে সেসব খেয়াল করে। খাওয়া ততক্ষণে শেষ মুঈনের। চুপচাপ হাত ধুয়ে উঠে ঘর থেকে ফার্স্ট এইড বক্সটা এনে ইনশিরাহর হাতের আঙ্গুলটা ব্যান্ডেজ করে দেয়। ইনশিরাহ দেখেছিলো লোকটাকে চুপচাপ। গম্ভীর মুখভঙ্গি লোকটার। ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেলে মুঈন আসছি বলে বেড়িয়ে যায়।
গতকাল মির্জা বাড়ি থেকে মেহমান এসেছিল মেয়ে জামাইকে দেখতে, ঘরের সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে, ঝুমঝুমির মা'কে নিয়ে ইনশিরাহ সেসব গুছিয়েছে সাড়ে এগারোটার পরে।
ঝুমঝুমির মা রান্না সেরে চলে যাওয়ার পরে ইনশিরাহ টেবিল সেট করে, একা বসে অপেক্ষা করতে থাকে মুঈনের,এর আগে লাঞ্চে বাড়িতে আসতো,আজ কি তাও আসবে না বুঝতে পারছে না। অনেকটা দেড়ি হয়েছে আজ।
লোকটা আগে স্বাভাবিক ভাবে যেটুকু কথা বলতো,যেটুকো ছু'তো সেসব বন্ধ করে দিয়েছে। এটা নিয়েও ইনশিরাহর মনে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়েছে, ইনশিরাহ তো সময় চেয়েছে, লোকটার থেকে মুক্তি নয়। এ কেমন বিশ্রী অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সে। এর শেষ কবে হবে?
ঠিক দুপুর একটা পঁয়তাল্লিশে ইনশিরাহ মুঈনকে কল করে। কলটা রিসিভ হতেই ইনশিরাহ বলে,“খেতে আসবেন না?”
_না,তুমি খেয়ে নাও, একটু ব্যস্ত।
তাড়াহুড়ো করে বলে কল কাটে মুঈন, এক অদ্ভুত পীড়া ইনশিরাহর গলার কাছে এসে হামাগুড়ি খায়। এতোটা রিয়াক্ট! শুধুমাত্র ইনশিরাহ ফিজিক্যালি ইনভল্ব হয়নি বলে! হয়নি তো হয়নি! জোর করে নিয়ে নিতো! গায়ে শক্তি ছিলো না? ইনশিরাহ সেদিন রাতে নাটক করলে,লোকটাও তো এখন নাটকই করছে! তখন ভালোমানুষী দেখিয়ে এখন এমন করছে কেন?
হঠাৎ রাগ ধরে যায় ইনশিরাহর, আবারও নিজের চুল টানে। খানিক বাদে শান্ত হয়, তারপর থম মেরে কিছুক্ষণ বসে থেকে চোখ মুখ কঠিন করে উঠে দাঁড়ায়। খাবারগুলো একটা টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে নেয়। তারপর আলমারি থেকে একটা শাড়ি বের করে ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল দেখে শাড়িটা গাঁয়ে জরায়, একেবারেই বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছে ইনশিরাহর, বেশ সময় লাগে, অসংখ্য সেফটিপিন দিয়ে শাড়িটা আটকাতে হয়। শেষমেশ সে সফল।
অতঃপর লম্বা লম্বা পা ফেলে টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে কটেজ লক করে বেরিয়ে যায়। কেয়ারটেকারের সাথে দেখা হয় গেটের কাছে দাঁড়িয়ে,তখন বলে,“আমি আপনার স্যারের কার্যালয়ে যাচ্ছি। এদিকটা দেখবেন।”
_______
কেক কাটা, আলোচনা সভা, প্রেস ব্রিফিং শেষে পার্টি শুরু হয়েছে। লোকের ইনফরমাল আলাপ, হাসাহাসি প্রেরণার বিরক্ত লাগে, তার হাতের নোটবুক নিয়ে সে তার টিমের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলো, খাবার সার্ভ ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা সেটা দেখতে।
ঘুরে ঘুরে রুবায়েত আশরাফ প্রেরণার কাছেই চলে আসে। ভদ্রমহিলা দারুণ আকর্ষণীয়া,চলনে বলনে কথাবার্তায় তার কাছে আলাদা লেগেছে, প্রথম যেদিন প্রেরণা কথা বলতে এসেছিলো, রুবায়েত আশরাফ সেদিনই বুঝে গিয়েছে এর মাঝে আলাদা কিছু আছে। যেটা তাকে চুম্বকের মতো টানছে।
ইহান এই কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় দাঁড়িয়ে ছিল, এখন সময় টিভির চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে বলতে নিচের দিকে দৃষ্টি দিলো সে, এখানে আসার পর থেকে কোনোকিছুই তার চোখ এড়ায়নি, তার চোখ ঘুরেফিরে ঠিকই তার সমুদ্রনীলার ওপর স্থির হয়। রুবায়েত আশরাফকে নিয়ে তার আপাতত মাথাব্যথা হচ্ছিল না, ওটাকে একটা ছুঁচোর সাথে তুলনা করা যায়। তবে এখন ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। ইহান ঘাড় ঘুরিয়ে দোতলায় দেখলো, রুবায়েত আশরাফ সস্ত্রীক এসেছে,অথচ স্ত্রী রেখে আরেক মহিলাকে বিরক্ত করার চেষ্টা, এদিকে তার বৌ চেনা ভাবীদের সাথে গয়না গাটি নিয়ে শো অফ করতে ব্যস্ত। এটা তেমন কিছু না, বর্তমানের সোস্যাল মিডিয়ায় সবথেকে হাস্যজ্জ্বল জুটির ভেতরের চিত্র। ইহান আরও কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে এখন সময় টিভির চেয়ারম্যান মুত্তালিবকে বলে নিচতলায় নামে।
প্রেরণা আবার বিরক্ত হলো এই ছুঁচোটাকে দেখে, অসহায়ের মতো আশেপাশে তাকায় সে, এই বদমাশটা সরাসরি কিছু বলছেও না যে সে সিনক্রিয়েট করবে, ভদ্রভাবে এড়িয়ে গেলেও ছ্যাবলামি করতে চলে আসছে। কি বিপদ! প্রেরণা নিজের জিহ্বাতে শান দিতে থাকে। আরেকটু ধৈর্য্য ধরে দেখবে সে, তারপর এ্যাকশন। তাতে যা হয় হোক।
রুবায়েত একটা সফট ড্রিংকসের গ্লাস হাতে প্রেরণার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আবারও, কেমন অসভ্যের মতো প্রেরণার দিকে চেয়ে আছে, কন্ঠে মধু মিশিয়ে বলে,“একটা কথা বলুন, আপনি কি কখনও মডেলিংয়ের জন্য আমার এজেন্সিতে ছবি দিয়েছিলেন? পাঁচ বছর আগে? ভীষণ চেনা লেগেছে আপনাকে প্রথম দেখাতেই।”
প্রেরণা একটা লম্বা শ্বাস ফেলে নিজের ক্রোধটুকু সংবরণ করে বলে,“না।”
_ওহহ, তবে আপনার ফেসিয়াল স্ট্রাকচার কিন্তু মডেলদের মতো, তাই হয়তো আমার এমনটা মনে হচ্ছে।
প্রেরণার গা রিরি করে উঠলো তৎক্ষণাৎ । আর সহ্য হলো না, মুখ দিয়ে অতি ভয়ংকর কিছু কথা বলতেই যাবে তখন পরিচিত সেই পুরুষ কন্ঠস্বর হঠাৎ তার পেছন থেকে ডেকে ওঠে,“আরে রুবায়েত ভাই যে!”
প্রেরণা ঘুরে তাকায় ইহানের দিকে। ইহান ওদের কাছে এগিয়ে যায়, রুবায়েত আশরাফ হাসলো ইহানকে দেখে,হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,“তাজওয়ার মির্জা। আপনার সাথে দেখা হয়নি এসে। কি অবস্থা? পার্টি থেকে নমিনেশন পাচ্ছেন শুনলাম!”
ইহান কোনো সৌজন্য আলাপে গেলো না, সরাসরি বললো,“এইতো সব ভালো, আপনি এখানে? ভাবীকে দেখলাম কিছু খুঁজছিল, জিজ্ঞেস করতেই বললো, তার ছাগলটাকে কোথাও পাচ্ছে না খুঁজে।”
প্রেরণার মুখটা হা হয়ে গেলো কিছু সময়ের জন্য, পরপর শাড়ির আঁচল চেপে ধরলো মুখে। রুবায়েত লোকটা বুঝতে পারলো না কথাটা,বললো,“ছাগল? এখানে ছাগল কেন খুঁজবে?”
ইহান বলে,“হয়তো আমি শুনতে ভুল করেছি। তবে আপনাকেও হয়তো খুঁজছিল, বলছিলো তার ভ্যানিটি ব্যাগ ক্যারি করতে হবে, সে বড্ড ক্লান্ত। যান গিয়ে দেখুন।”
লোকটার মুখ কেমন থমথমে হলো,ইহানের দিকে তাকিয়ে মেকি হাঁসি হেসে, সৌজন্য করমর্দন শেষ করে দোতলার দিকে পা বাড়ায়।
ইহান চোখমুখ শক্ত করে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করে বলে,“ইদুরমুখো কোথাকার!”
প্রেরণা ভীষণ হাসছে,নিশ্চুপ হাসছে। ইহান ঘুরে তাকাতেই সে হাসি থামিয়ে চুপ হয়ে যায়, ইহান ওকে কিছুক্ষণ দেখে, তারপর বলে,“শুদ্ধ কোথায়?”
_স্কুলে।
_আপনি ইভেন্ট লিড করছেন কবে থেকে?
_আজ নিয়ে দু'টো ইভেন্ট সামলেছি।
ইহান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ বীনা সংকোচে বলে ওঠে,“ও কি আপনাকে বিরক্ত করেছে এর আগে?”
প্রেরণা চোখ তুলে তাকায় ইহানের দিকে। হঠাৎ খুব অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছিল তার। জবাবে দু'পাশে মাথা নাড়ে সে।
ইহান বলে,“আপনার সাথে তো অ্যাসিস্ট্যান্ট রয়েছে দেখছি, ওদের একজনকে সাথে নিয়ে কাজটা করুন। তবে আর এ ধরণের লোক কাছে ঘেষবে না অযথা।”
প্রেরণা আর কথা বাড়াতে চাইলো না, আশেপাশের সবাই ওদের দেখছে। এখানে প্রেরণা কাজে এসেছে, আলাপ চারিতা করতে নয়। সে ইহানকে আসছি বলে স্থান ত্যাগ করে। ইহান দেখতে থাকে ওকে।
দূরে ওদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো দু জোড়া চোখ, ওদের মধ্যে একজন হঠাৎ ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে সাগর ভুঁইয়াকে কল করে, সাগর ভুঁইয়া কলটা রিসিভ করতেই লোকটা বলে,“কাকা! আপনি আজ আসলেন না! এইখানে তো লাফড়া চলতেছে! ইহান তাজওয়ারের সাথে ঐ রেস্তোরাঁ মাগির। মুত্তালিব কাকার পার্টিতে।”
সাগর ভুঁইয়া শুনে হাসলো কিছুক্ষণ,বললো,“কি করছে?”
_গায়ে গা ঘষাঘষি করে কথা বলে,নির্জন জায়গায়। দেবো নাকি একটা ক্যাচাল লাগিয়ে?
_পারলে লাগাও।
হাসতে হাসতে কল কাঁটে সাগর ভুঁইয়া।
______
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গেটে পা রাখতেই কতগুলো উৎসুক দৃষ্টি ইনশিরাহকে দেখতে লাগলো। সামিন ইয়াসার মির্জার কন্যা, এবং এসপি স্যারের বৌ সে। তাকে তো একটু কৌতুহল নিয়েই দেখবে।
টিফিন ক্যারিয়ার হাতে ইনশিরাহ একজন কনস্টেবলের দিকে এগিয়ে যায়। দূর থেকে দুজন কনস্টেবল আসে, একজন আরেকজনকে বলে,“এই দেখো! এসপি ভাবী যে।”
ইনশিরাহ কনস্টেবলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর হয়ে বলে,“আপনার স্যার?”
_কেবিনে।
ইনশিরাহ দাঁড়ালো না, হন্তদন্ত হয়ে হেঁটে চলে যায় মুঈনের কেবিনে। কারো থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধও করলো না।
কেবিনে মুঈন ছিলো না, একজন কনস্টেবল ছুটতে ছুটতে এসে ইনশিরাহকে বলে,“ভাবী স্যার কেবিনে নেই, স্যার নতুন অফিসারকে ট্রেনিং দিচ্ছেন।”
মুঈন বলেছিল সে ব্যস্ত,সে সত্যিই ব্যস্ত। ইনশিরাহ দালানের দোতলা থেকে উঁকি দিয়ে দেখলো মুঈন এসপি কার্যালয়ের পেছনের মাঠে।
হাস্কি আর ভারি কন্ঠস্বরের ধ'ম'ক কর্ণগোচর হয় ইনশিরাহর। কাউকে ধমকাচ্ছে লোকটা।
এই কন্ঠস্বরের সাথে ইনশিরাহ সেদিন রাতের কন্ঠস্বরের তুলনা করে। এই লোকটা,এই জাঁদরেল আর ক্যাটকেটে লোকটাই কি সেদিন রাতে কন্ঠে অমন আকুলতা ঢেলে ইনশিরাহকে কতকিছু বলেছিলো! যা ইনশিরাহ শুনেও নিজের অন্তর্দ্বন্দ্বে বোঝার চেষ্টা করেনি!
ইনশিরাহ লজ্জা পেলো,লোকটা আসলেই ব্যস্ত অথচ লোকটার ইগো নিয়ে ইনশিরাহ এতক্ষণ কত কথা শুনিয়েছে মনে মনে।
কেবিনে ফিরে ইনশিরাহকে দেখে ভীষণ অবাক হয় মুঈন। ইনশিরাহর গাঁয়ে একটা গোলাপী রঙের সুতি শাড়ি, পরেছে এলোমেলো করে। মুঈন ওকে দেখে প্রথমে কিছুই বলেনি, পরে অস্ফুটে আওড়ায়,“তুমি!”
ইনশিরাহ এগিয়ে গিয়ে টিফিন ক্যারিয়ারটা ডেস্কের ওপর রেখে নিচু স্বরে বলে,“হ্যা আমি। আপনার লাঞ্চ।”
মুঈন একপলক ইনশিরাহকে দেখে,দেখে টিফিন ক্যারিয়ারটাকে। ইনশিরাহ তখন প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে।
মুঈন ওকে চুপচাপ কিছুক্ষণ দেখে উঠে গিয়ে,হাত ধুয়ে এসে বসলো। গম্ভীর স্বরে বললো,“খেয়েছো?”
ইনশিরাহ নিজের জন্যও খাবার বেড়ে নিয়ে বলে,“না। খাবো।”
খাচ্ছে দুজন চুপচাপ। ইনশিরাহ খাচ্ছেও না,খাবারটা প্লেটে নাড়াচাড়া করছে শুধু, মুঈন তা খেয়াল করে, তবে কিছু বলে না। ইনশিরাহ আর পারছে না, ভীষণ অধৈর্য হয়ে মুখ খোলে হঠাৎ, বলে,“আমি সংসারটা করতে চাই মুঈন ট্রাস্ট মি!”
মুঈন খাওয়া থামায়, ওর দিকে না তাকিয়ে খুবই শান্ত স্বরে বলে, “হ্যা তো?”
_আমি মাম্মা পাপা,আমি বা আপনি কাউকেই ডিসাপইন্ট করতে চাইনা,না সে ইনটেনশনে আমি বিয়ে করেছি।
মুঈন শুনতে থাকে, ইনশিরাহ বলে, “আমার সমস্যাটা হচ্ছে আমাকে মানুষ যতটুকু বোঝে, তারচেয়েও বেশি ভুল বোঝে।”
মুঈন চুপচাপ খাচ্ছে। ইনশিরাহ বলতে থাকে,“মুঈন! হোয়াই ইউ বিহেবিং লাইক দিইজ উইদ মি! মুঈন সময় চেয়েছি আমি, মুক্তি নয়। আমি আপনাকে অস্বীকারও করিনি তো! আর অমন নাটক, মুঈন আপনার কাছে ভরসা পেয়েছি বলেই তো করেছি! নয়তো আমি তো আগেই বলেছি আপনাকে কাপুরুষ ভাববো না, আপনি যা ইচ্ছা করবেন। আমি চাইছি স্বাভাবিক হতে,অথচ আপনি নিজেই গুটিয়ে যাচ্ছেন।”
মুঈন খাওয়া থামিয়ে ইনশিরাহর দিকে তাকায়,বলে,“কিভাবে বুঝলে আমি গুটিয়ে যাচ্ছি?”
_আপনার আচরণ বলছে।
মুঈন চুপ হয়ে যায় পুরো। ইনশিরাহ অধৈর্য হয়ে বলতে লাগলো,“এভাবে কি দেখছেন! আরেহ আমি উপন্যাসের কোনো চরিত্র হলে লেখিকাকে অনুরোধ করতাম আমাকে আগাগোড়া শুদ্ধ বানিয়ে দিতে, আমি বাস্তব মুঈন, সবকিছু সীমার, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আমার, আমার কারো হেল্প দরকার! আমি তো বললাম আমি সাইক্রিয়াটিস্ট দেখাবো!
মুঈন ওকে একদৃষ্টে দেখতেই থাকে, কিছুক্ষণ পর বলে,“ইশি এটা আমার অফিস! বাড়িতে যাও। আমি রাতে ফিরে,আমরা আলোচনা করবো।”
_না এখানে কথা হবে।
_না বাড়িতে কথা হবে।
_বললাম না এখানে।
_বললাম না বাড়িতে।
_না এখানে এখানে এখানে!
_বলেছি যেতে!
ধমকে ওঠে মুঈন।
ইনশিরাহ থিতু হয় মুঈনের ধমকে। মুঈন টেবিলের ওপর থেকে টিফিন ক্যারিয়ারটা গুছিয়ে ইনশিরাহর হাতে দিয়ে শান্ত স্বরে বলে,“বাড়িতে যাও। আমি রাতে তাড়াতাড়ি ফিরবো।”
ইনশিরাহ অগোছালো অনুভূতি নিয়ে কটেজে ফেরে। গাঁয়ের শাড়িটা খোলে না সে। সোজা বিছানায় শুয়ে পরে। মাম্মা পাপা কল করলে সেটাও ধরে না। মিঠির ডাকে উঠেছিল এক ফাঁকে। মিঠিকে খাবার দিয়ে আবারও যখন শু'লো তখন তার ফোনে একটা মেসেজ আসে।
হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে স্ক্রিণে তাকাতেই সে বিমূঢ় চেয়ে রয়। সাঈমের মেসেজ।
“ইনশিরাহ বিনতে সামিন, এতোবার কল করছি, ফোন ধরছো না। একটু দেখা করতে পারি? প্লিজ! ”
পা-মাথা তীব্র ঘৃণা আর রাগে জমে যায়, চোখ জ্বালা করে ইনশিরাহর।কিছুক্ষণ মেসেজ টা দেখে সে।
বুকে সেই অসহ্য যন্ত্রণাটা এসে তোলপাড় শুরু করে। সে দম নেয়, দীর্ঘশ্বাস ফেলে, হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে,কাপা আঙ্গুল চালিয়ে উত্তর পাঠায়,“হোয়াই নট!”
তখন সময় সন্ধ্যা সাতটা, ইনশিরাহ যখন রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকলো, সাঈম তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে নির্নিমেষ। ইনশিরাহর গাঁয়ে একটা শাড়ি। কুচির সাথে সমঝোতা করে হাঁটছে মেয়েটা। সাঈম দেখছে মেয়েটিকে,আগের থেকে রূপ খুলেছে,যাকে সে ঠান্ডা মরা মাছ বলেছিল।
ইনশিরাহ দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যায়,তার মুখভঙ্গি কঠিন। সাঈমকে দেখে ওর কোন ভাবান্তর নেই যেন। সাঈম ওকে দীর্ঘক্ষণ দেখে,দেখে শুকনো হাসি হাসে,যে হাসিতে প্রাণ নেই। প্রথম কথাই ছিলো,“বসো!”
ইনশিরাহ বসলো না, সাঈমকে ভীষণ অবাক করে দিয়ে শুরুতেই একটা চ'ড় মারে সে।
আশেপাশের কিছু মানুষ ওদের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নেয়।
সাঈম গালে হাত রেখে ইনশিরাহর দিকে তাকিয়ে আছে। ইনশিরাহ এবার চেয়ার টেনে বসে, হতভম্ব সাঈমের দিকে তাকিয়ে বলে,“এটা বাকি ছিলো তাই না সাঈম?”
সাঈম চুপচাপ বসলো। ইনশিরাহর গলা কাঁপছে, বলছে,“কেন করছো এমন?”
_কি করছি?
_আমাকে বিরক্ত করছো!
সাঈম চুপ করে আছে, ইনশিরাহ নিজেকে সামলে নিয়ে রেগে বলে,“কি চাও তুমি? আর কি চাও? চ'ড় মারার শোধ নেওয়া শেষ হয়নি? আর কি করবে? কেন যোগাযোগের চেষ্টা করছো? ওহ,এখন আমার আর তোমার ছবি মিলিয়ে আমাদের ঘনিষ্ট মুহুর্তের ভুয়া ছবি বানিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করবে? আমার স্বামীর কাছে আমাকে ছোট করবে? না না,বলো,বলো আর কত নিচে নামার ইচ্ছা হচ্ছে সাঈম ভুঁইয়া।”
সাঈম একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে, ইনশিরাহ হঠাৎ কেঁদে ফেললো, পরমুহূর্তে নিজের চোখের পানি মুছে নেয়।
সাঈম বলে,“স্বামীর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আতঙ্কে আ'ত'ঙ্কি'ত হচ্ছো দেখছি! টান জমেছে স্বামীর প্রতি?”
ইনশিরাহ জবাব দেয়না। সাঈম হাসে সামান্য,বলে,“সে কি তোমাকে আমার মতো জ্বালাতন করে?”
_না সে আমাকে সম্মান করে, শুধু আর শুধু সম্মান করে, আমাকে মুগ্ধতা নিয়ে দেখে শুধু। আমি তার কাছে ঠান্ডা মরা মাছ নই।
চেঁচিয়ে বলে ইনশিরাহ। সাঈম এবারও শুকনো হাসে, ইনশিরাহ বলতে থাকে,“তোমার ইনটেনশন কি আমি জানি না তবে তুমি যদি ভেবে থাকো আমাকে ফুসলানোর ট্রাই করে বিবাহিতা আমিটার চরিত্রে দাগ লাগাবে তবে ট্রাস্ট মি সাঈম,এমনটা তো এ জন্মেও হবে না! আমি এক লোকের বৌ! আর কখনও কল করবে না আমাকে,নয়তো আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো!”
সাঈম চেয়ে থাকে শুধু। কথাগুলো বলে হাঁপাতে থাকে ইনশিরাহ।
দু'জনে দু'জনের দিকে সম্পূর্ণ বিপরীত অনুভূতি নিয়ে তাকিয়ে আছে। ওদের দেখছিলো কয়েক জোড়া উৎসুক চোখ, তাদের চোখে মুখে পৈশাচিক হাসি লেপ্টে আছে। লিয়াকত চৌধুরীর ছেলেরা, ইয়াসার মির্জাকে অপদস্থ করার এমন সুন্দর সুযোগটি আর হাতছাড়া করেনি,সামিনকে কল করে জানালো,“এক সময়ের শুদ্ধ মানুষ ইয়াসার মির্জা,এসে দেখে যান আপনার বিবাহিতা মেয়ে স্বামী রেখে পুরাতন প্রেমিক নিয়ে কি করতে ব্যস্ত! আর হ্যা,চিন্তা করবেন না,আপনার সৎ অফিসার জামাইকেও ইনফর্ম করে দিচ্ছি। চাপ নিবেন না। দু'জনে এসে ধন্য করুন নিজেদের!”
চলমান.........