ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 72

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭২ [ ১ম অংশ ]
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

[ ১ম অংশ ]

“ একজোড়া বাবুই আর তাদের খড়কুটোর সংসার ‌স্পেশাল পর্ব ”

সকালের নাস্তাটা আজ মুঈন শ্বশুর, চাচাশ্বশুর, সম্বন্ধির সাথে খাচ্ছে। ইনশিরাহ একটা ঢিলেঢালা মেরুন রঙা টিশার্ট আর কালো পালাজো পরে, এলোমেলো বেশে ছোটো মা আর মেজো মায়ের সাথে ছোটাছুটি করে সবাইকে খাবার পরিবেশন করে দিচ্ছে।

খেতে খেতে সামিন অনেক কথাই বোঝাতে থাকে জামাইকে, বিভিন্ন সান্ত্বনা বাণী দিতে থাকে। এক জীবনে তার কত সম্মান ছিলো, পরিস্থিতি তাকে কোথায় টেনে নামিয়েছিলো, আবার দিনশেষে সব ফিরে পাওয়া। এসব মুঈনকে এ কারণেই বলে কারণ অল্পবয়সী ছেলে,যেন নতুন উদ্যমে সব শুরু করতে পারে। ইনশিরাহকে উদ্দেশ্য করেও অনেক কথাই বলে সামিন, গতকাল না বললেও আজ খানিকটা গম্ভীর কন্ঠে অভিযোগ তোলে মেয়ের মনভুলো স্বভাবটা নিয়ে। সর্বোপরি ওদের দু'জনকে বোঝায়, সবকিছু ভুলে প্রফুল্ল মনে, নতুন উদ্যমে যেন সামনের দিনগুলি উপভোগ করে।
ইহান,ইশমাম এবং ইলহাম সবাই-ই একে একে একইভাবে বুঝিয়েছে ওদের দুজনকে।

ইনায়া ও বাড়িতে ছিলো। ব্রেকফাস্ট টেবিলে পাপার কথাবার্তা শুনে তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়,কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তাকে কখনো পাপা এভাবে তার সংসার নিয়ে পরামর্শ দেন না, আপুকে যেভাবে দেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইনায়া। সে তো ডিজার্ভ করেই না এসব।

শেহা এসেছে ভোররাতে, শান্ত ছুটি পায়নি দেখে আসতেই পারেনি, ফোনকলে কিছুক্ষণ কেঁদেছে ইনশিরাহ আর মুঈনের সাথে। ইশিতা দ্রীপ্ত মারা যাওয়ার পরে দুর্ঘটনার কথা শুনলেই বুকটা ধুকপুক করে ওঠে তার।
শেহা তার বড় মামীর পুড়ে যাওয়া চুলগুলোতে একটা কাট দিয়ে দেয় সকাল সকাল, এতো লম্বা চুলগুলো ঘাড় অবধি এখন। বড় মামার খুব কষ্ট হবে এসব দেখে,যখনই দেখবে।

তবে সামিন তার স্ত্রীর নতুন লুকটা দেখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে বলে,“তোমাকে ভীষণ স্মার্ট লাগছে এই হেয়ারকাট টাতে আছিয়া।”

নিতান্তই স্ত্রীর মন খারাপ দূর করতে প্রশংসাটি করা, আলো তা জানে। হেসে জবাব দেয়,“ধন্যবাদ।”

স্বামী-স্ত্রীতে দোতলার পশ্চিম পাশের ঘরটাতে বসে গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করে। জামাই মানবে না,মেয়ে মানবে না, তাই দু'জন একটা চোরা পন্থা অবলম্বন করেছে, পাঁচ লাখ ক্যাশ কোনো না কোনোভাবে লুকিয়ে ওদের ব্যাগে রাখতে হবে। এতে সাহায্য দরকার শেহা আর ইনায়ার। ওদের দু'জনকে ওপরে ডেকে নিয়ে সামিন দরজা বন্ধ করে আলোকে নিয়ে শেহা আর ইনায়ার সাথে পরিকল্পনাটা করে নেয়।

অফিস থেকে ছুটি নেওয়া হয়েছে, মুঈন নাস্তা সেরে নিচতলা থেকে দোতলায় ইশির ঘরে আসতেই দেখতে পেলো ইশি ভীষণ ব্যস্ত। কাবার্ড খুলছে, ওয়াল কেবিনেট খুলছে। জামাকাপড় সব তুলে এনে বিছানায় রাখা ব্যাগে ভরছে।

মিঠিকে কোলে নিয়ে একটু আদর দিয়ে মুঈন বিছানার একপাশে বসলো, অবাক হয়ে জানতে চাইলো,“এসব কি করছো?”

_এগুলো সাথে নেবো। আমাদের যে পোশাক নেই সে খেয়াল আছে?
জামাকাপড় সব ব্যাগে ভরতে ভরতে জবাব টা দিলো।

_তো ফ্ল্যাট দেখে বিকেলেই তো সব কেনাকাটা করবো।
মুঈন বললো গম্ভীর হয়ে।

_অযথা এসবের পেছনে আর খরচা করার কি দরকার। কিনলেও অল্প কিছু শপিং করে নেবো। কতকিছু কেনার আছে আন্দাজ আছে? মার্কেট গেলে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হবে, তাছাড়া এ বাড়িতে এসব তো পরেই থাকে!

একেবারে একটা পাকা গিন্নী যেন, কথাবার্তায় তেমনটাই মনে হচ্ছে ইনশিরাহকে।

মুঈনের দিকে তাকালোও না, তাড়াহুড়ো করে জবাব দিয়ে বারান্দার দিকে যায়,তার প্ল্যান্টস গুলোও নেবে সে সাথে করে। আর নেবে এ বাড়িতে ছোটোবাবার লাইব্রেরী থেকে কিছু বই, মুঈন বই পড়ে রাতে ঘুমানোর আগে।

মুঈন চেয়ে চেয়ে মেয়েটিকে দেখে, মেয়েটির চঞ্চলতায় মুঈন খুশি হয়না, হয় গর্বিত। বুকের মধ্যে সুপ্ত আনন্দ নেচে ওঠে নিজের এতো আদরের বধূটিকে এভাবে,এই রূপে আবিষ্কার করে হঠাৎ।

শেহা আর ইনায়া এসে,ইনিয়ে বিনিয়ে বলে মুঈন আর ইনশিরাহকে লাইব্রেরিতে পাঠিয়ে দিয়ে ইনশিরাহর ব্যাগে গোপনে টাকা গুলো রেখে দেয়,সাথে রাখে একটা চিঠিও।

এগারোটার দিকে এই বাড়ির বড় মেয়ে জামাই বাড়ি থেকে বেড়োবে, ফ্ল্যাট খোঁজার আর ঝামেলা রইলো না, মুঈনের পছন্দ অনুযায়ী এরিয়ায় একটা তিন রুমের ছিমছাম ফ্ল্যাট ইহানের দলের ছেলেরা দেখে রেখেছে। বাড়ির সবাই ব্যস্ত মেয়ে জামাইয়ের দ্বিতীয় বিদায়ের আয়োজন করতে। রিতু চিপস,ইন্সট্যান্ট স্ন্যাকস থেকে শুরু করে ঘরে তৈরি সব শুকনো খাবার বক্স ভর্তি করে দেয়, পরী কিছু গিফট বক্স দেয়, সেসব ইহান গাড়িতে তোলে।

মাম্মা,পাপা,বাড়ির সবার থেকে দোয়া নিয়ে ইশি আরও একবার তার স্বামীর সাথে নিজের সংসারের জন্য রওনা দেয়,যে সংসারটা গড়তে হবে তার নিজেরই।

নিউটাউন রোডের ডি ব্লকে, চিন্ময় লেন সারণিতে একটা এগারো তলা ভবনের সাত তলায় তাদের সংসার হবে। যদিও একমাসের ব্যাপার, কটেজ পেয়ে গেলে সেখানে উঠবে তারা।
তিনটে বেডরুম,একটা ড্রয়িং কাম ডাইনিং,একটা কিচেন, দু'টো বারান্দা, তিনটে ওয়াশরুম। ফ্ল্যাটের ভাড়া অফিস থেকে দেয়া হবে।

ঝা চকচকে শূন্য ফ্ল্যাটটাতে ঢুকে ইশির মনটা কেমন খা খা করে উঠলো। মুঈন গিফট বক্স গুলো খালি ফ্ল্যাটের একপাশে রেখে দেয়। সাথে মিঠিকে কোল থেকে নামায়। ইনশিরাহ মুখটা মলিন করে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে।
মুঈন এগিয়ে যায়, ইনশিরাহর কাঁধে একটা হাত রেখে বলে,“কি হয়েছে?”

লোকটাকে দেখে ইশি, আবারও তীব্র অপরাধ বোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে,বলে,“সব কত দিন ধরে একটু একটু করে জমিয়েছিলেন। কিনেছিলেন এসপি‌।”

ওর মুখের দিকে কয়েক পল তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটিয়ে মুঈন আরো শক্ত করে ওর কাঁধ চেপে ধরে বলে,“সব আমি একা একটু একটু করে জমিয়েছিলাম, কিনেছিলাম। সংসারটা দু'জনের,এবার সব দু'জন মিলে, দু'জনের পছন্দে কিনবো।”

ইনশিরাহ দৃষ্টি নত করে হাসে। মুঈন ওর কাঁধ থেকে হাতটা সরিয়ে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলে,“চলো আমাদের আরেঞ্জ ম্যারেজের সংসারটাকে আরেঞ্জ করে ফেলি। অ্যান্ড ইউ গার্ল! আজ খুব পরিশ্রম করতে হবে, কয়েক দফায় মার্কেট যেতে হবে। অনলাইন থেকে কোনো কিছু নিচ্ছি না। দাঁড়িয়ে থেকো না, হেল্প মি! চলো আগে একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলি।”

সমস্ত মলিনতা এক নিমিষেই নাই হয়ে যায় মেয়েটার। ফ্ল্যাটে একটা ফ্যানও নেই,তবে বারান্দা থেকে ফুরফুরে হাওয়া আসছিলো। দু'জনে লিভিং রুমের জায়গাটাতে,মেঝেতে হাঁটু ভেঙে বসলো। ইনশিরাহ বললো,“তার আগে দেখতে হবে আপনার সেভিংস কেমন আছে।”

_আমাদের সেভিংস বলো।
পকেট থেকে ওয়ালেট বের করতে করতে মুঈন জবাব দিলো।

ইনশিরাহ মুচকি হেসে সাথে সাথে বিড়বিড়াল,“আমাদের সেভিংস।”

কার্ডে তেতাল্লিশ হাজার আছে, দুদিন আগে স্যালারি পেয়েছে,দুই হাজার খরচ করেছে সেখান থেকে। দু'টো একাউন্ট আছে মুঈনের,একটাতে তেইশ হাজার টাকা,অপরটাতে এক লাখ আশি হাজার টাকা। এই হচ্ছে মুঈনের স্থাবর সম্পত্তি। ও হ্যা,মুঈনের বাইকটা অক্ষত আছে যদিও।
দারুণ ভাবে চলে যাবে এসব দিয়ে। ইনশিরাহ হিসেব করে বললো,“দুই লাখ ছিচল্লিশ হাজার টাকা।”

মুঈন লিস্ট করতে শুরু করে, ইনশিরাহ সব দেখেশুনে ওকে আইডিয়া দেয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে দুই লাখ ছিচল্লিশ হাজার টাকা অনেক টাকা মনে হলেও এই টাকা খুবই সামান্য পরবে ইনশিরাহ মুঈনের উপযোগী একটা সংসার সাজাতে। পাপা কি পরী এসি ছাড়া থাকতে পারেনা মুঈন জানে, অপরদিকে একটা ফ্রিজ নিতেই হবে একটা সংসারে,বিছানা, হাঁড়িপাতিল, ডাইনিং টেবিল,সোফাসেট থেকে শুরু করে সবকিছু। মুঈন ভীষণ চিন্তিত তবে ইনশিরাহর কাছে ভাবভঙ্গি প্রকাশ করছে না।

ইনশিরাহ এতোটাও অবুঝ নয়,যখন লিস্ট সাজানো হলো তখন লিস্টে এসি দেখে বললো,“নব্বই হাজার টাকা চলে যাবে!”

মুঈন খুঁটিনাটি সব লিস্ট করতে ব্যস্ত, তার চিন্তার বিষয়টা সে প্রকাশ করছে না।

ইনশিরাহ ঘেঁটে ঘেঁটে সবকিছুর দাম দেখছে,তার আইডিয়া নেই যদিও। প্রাথমিক হিসেবে দেখলো সবকিছু মিলিয়ে চার থেকে সাড়ে চার লাখের খরচা,তাও মধ্যম মানের জিনিস কিনলে তবেই। তারপর এই মাসের বাজার সদাই তো বাকিই রয়ে গেলো।

মুঈন আর ইনশিরাহ মলিন মুখে দুজন দুজনের দিকে তাকায়। সবকিছুই প্রয়োজনীয়, লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

ইনশিরাহ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,“সিলিং ফ্যানে এই গরম কুলোবে?”

কেমন কাঁচুমাচু মুখ করে বললো, মুঈনের হাসি পাচ্ছে মেয়েটিকে দেখে,একটা বাচ্চা লাগছে হঠাৎ মেয়েটাকে। ইনশিরাহ নিজের মধ্যে কোনো দ্বিধা রাখলো না, সে তার সুবিধা অসুবিধা সব সময় স্পষ্ট শেয়ার করে সেটা সবার জানা। বললো,“একটা কাজ করলে কেমন হয় এসপি?”

মুঈন ভ্রু নাচিয়ে জানতে চায়,“কি?”

_আমরা এসিটা নেই। বেড টা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আসলে আমি বেড ছাড়া ঘুমাতে পারলেও এসি ছাড়া পারবো না। আপাতত একটা হাই ম্যাট্রেস কিনি?

আবারও মুখটা কাঁচুমাচু করে বলে ইনশিরাহ। আজ এতো এতো আদুরে লাগছে স্পষ্টভাষী মেয়েটাকে,মুঈনের মিনিটে মিনিটে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে ঐ কাঁচুমাচু করে রাখা মুখটাতে। তবে তাকে দেখে মনে হচ্ছে না তার ভেতরে এমন কিছু চলছে। সে মাথা নাড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে বিজ্ঞের ন্যায় বললো,“ভালো আইডিয়া। বেড টাও বাদ। একটা ম্যাট্রেস কিনে নিবো। অসুবিধা হবে না তো আবার? সামনের মান্থ এবং পরের মান্থের স্যালারি মিলিয়ে একটা বেড নিয়ে দেবো।”

ইনশিরাহ ত্বরিত মাথা নাড়ে। নতুন করে লিস্ট সাজানো হয়, বেড টা তারা নেবে না, সোফাসেট তো আগেই বাদ।

ইশি বলতে লাগলো,“আচ্ছা এখন আবার বলুন তো কি কি বাদ গেলো।”

মুঈন বলে,“সোফাসেট।”

_অসুবিধা নেই, মেহমান আসলে আপাতত মেঝেতে বসাবো। এতে মেহমান আসলে আসবে,না আসলে নাই। আর?

_টিভি।

_দেখিনা! অত সময় কই? আর?

_ওয়াশিং মেশিন।

_লাগবে না, ঝুমঝুমির মা আর আপনি আছেন!

এ পর্যায়ে ইশি হেসে কুটিকুটি হয়। আর মুঈন ওকে দেখতে থাকে। কিছুক্ষণ হেসে ইশি বলে,“আর কি কি বাদ এসপি?”

_ডাইনিং টেবিল সেগুন কাঠের বাদ। নরমাল ছোটো একটা আপাতত নেবো।

_নরমাল হলে অসুবিধা নেই,ভাত-ই তো খাবো, ডাইনিং টেবিলের কাঠ তো নয়!

হেসে ফেলে মুঈন ইনশিরাহর কথায়। ইনশিরাহ আবারও হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয় মুঈনের সাথে। এরপর ইনশিরাহ লিস্ট দেখে,

এসি,ফ্রিজ,স্টোভ,রাইসকুকার, ইন্ডাকশন , দু'টো মোটামুটি দামের কাবার্ড,টয়লেট্রিজ,কিচেনওয়্যার অ্যান্ড একসেসোরিজ লিস্টে রেখে বাড়তি বা যেগুলো না কিনলে খুব একটা অসুবিধা নেই আপাতত সেগুলো বাদ দিয়ে দেয় ওরা।

এর মাঝে ইহানের মেসেজ আসে মুঈনের কাছে, মেসেজের রিপ্লাই টা ইশি দেয়। ইহান দেখতে চেয়েছে বোনের কাছে লিস্টটা, সরল মনে ইশি লিস্টের ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয় ভাইয়ের কাছে।

দেয় ঘন্টার মতো ঐ ফ্ল্যাটে দু'জন বিশ্রাম নেয়,হাত পা ছড়িয়ে মেঝেতে শুয়ে থাকে পাশাপাশি,খোলা বারান্দা থেকে ভেসে আসা স্নিগ্ধ বাতাসে গা জুড়ায়, মিঠি গোটা ফ্ল্যাটময় পায়চারি করতে থাকে।
দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হতেই মুঈন লিস্ট নিয়ে উঠে বসলো, তাড়া লাগিয়ে ইশিকে বলে,“চলো বেড়িয়ে পরি, একদফা কিনে দুপুরে লাঞ্চ সেরে বিকেলে ঘরটা গুছিয়ে নেবো।”

ইনশিরাহ মাথা নাড়ে,মুঈন বলে,“ভালো কথা! মাস্ক পরে নাও।”

_মাস্ক কেন?

_যেভাবে ভাইরাল হয়েছি তাতে পথেঘাটে লোকজন ধরে অটোগ্রাফ না নিয়ে যায়!

ইনশিরাহ হেসে মাস্ক লাগায়,ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে ওঠে। এসেছে ইহান তাজওয়ার, ওরা দুজন অবাক হলো যখন দেখলো তার পেছন থেকে একে একে মাথা বের করে দাঁত বের করে হাসছে ইনায়া শেহা তুনা মানহা তাজরী। এবং আছে ইহানের দলের ছেলেরা,আছে ইলেকট্রিশিয়ান, এবং আরো দুজন হেল্পিং হ্যান্ড।

ওরা দুজন যারপরনাই অবাক,ওদেরকে পাত্তা না দিয়ে সবাই হুরমুর করে ঘরে ঢুকে ওদের বলে,“এই সরে দাঁড়াও। আমাদেরকে যায়গা দাও।”

ঠেলতে ঠেলতে মুঈন আর ইশিকে ঘরের এককোণে দাড় করিয়ে দিলো তুনা।

ইহানের দলের ছেলেরা একে একে এসি,ফ্রিজ, সবকিছু নিয়ে ঘরে ঢোকে। মুঈনকে টু টা সাউন্ড করার সময়টুকু না দিয়ে দুপুর দেড়টার মাঝে সবকিছু সেট করে দিয়ে ওদের ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে দিয়ে চলে যায় ইহান।

ছেলেরা চলে যাওয়ার পরে মুঈন একটু রাগী রাগী গলায় ইহানের সাথে কথা বলে, ইহান ওসব গায়ে না মেখে মুঈনের হাতে একটা বিল তুলে দিয়ে বলে,“এতো রেগে যাওয়ার কিছু হয়নি। বিলটা তোমাকেই দিতে হবে। আমরা যাস্ট সাহায্য করে দিয়ে গেলাম। বিশ্রাম নাও।”

মোট বিল এসেছে এক লাখ ছিয়াশি হাজার টাকা। বাকি টাকা যা বাঁচিয়েছে মুঈন ইশি,তা দিয়ে বাকি কিছু কেনাকাটা, এমাস টা চালিয়ে নিতে হবে। এটাই একজোড়া বাবুই পাখির পরিকল্পনা।

চলমান....

দ্বিতীয় অংশ সন্ধ্যা ছয়টার পরে পোস্ট হবে।

#দ্বিতীয়_অংশ সংক্রান্ত জরুরী নোটবার্তা : প্রিয় পাঠক, এই পর্বের দ্বিতীয় অংশটি মোটামুটি ১৮+ কন্টেন্টে ঠাশা থাকবে। যদিও এ নিয়ে কোনো নোটবার্তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম কিছুদিন আগে,তবুও দিলাম। যারা পড়তে ইচ্ছুক, মানসিক ভাবে প্রস্তুত তারাই দ্বিতীয় অংশটি পড়বেন, আর যাদের অস্বস্তি হয় তারা অংশটি এড়িয়ে যাবেন। অংশটি না পড়লেও কাহিনী বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হবে না।
শালীনতার সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম,আপনার সাথে আমার মিলবে না, এটাই স্বাভাবিক, যেহেতু গল্পের শুরুতেও বলে দিয়েছি প্রাপ্তমনস্কদের জন্য তাই বিষয়টি টক্সিক না করার অনুরোধ থাকবে। আর অহেতুক বিষয়টি নিয়ে দু পক্ষ অস্বস্তিতে ভোগার চেয়ে নোটবার্তার মাধ্যমে সতর্ক তো করেই দিলাম। হ্যাপি রিডিং। ❤️#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭২ [ ২য় অংশ ]

[ ২য় অংশ ]

ওরা সবাই দুপুরে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে মুঈন ইশির সাথে লাঞ্চটা একসাথেই করে চলে যায়।

বড় বড় জিনিসগুলো তো কেনা শেষ, বাকি যা আছে সেগুলো কিনতে মুঈন আর ইনশিরাহ আসরের পরে রেডি হলো, বিকেলে গরম কিছুটা কম ছিলো। অম্বরে নীলচে কালো মেঘের ঘনঘটা। হাওয়া দিচ্ছে খুব। এরকম ইদানিং হচ্ছে,একটানা তিন চারদিন কাঠফাঁটা গরম দিয়ে একটুখানি বৃষ্টি হয়। কিছুসময়ের জন্য,অথবা দীর্ঘসময়ের জন্য।
এই ফ্ল্যাটটার একটা চমৎকার দিক ইনশিরাহর চোখে পরেছে। পেছনের দিকে একটা বিশাল বড় মাঠ,সবুজ ঘন জঙ্গল। এই উন্নত শহরে ডেভেলপারদের চোখে এই যায়গাটা এখনও পরেনি নির্ঘাত।
পশ্চিমের বেলকোনীতে কোনো রেলিং নেই, এটা মুঈনের পছন্দ হয়নি। খুবই বিপজ্জনক,এসেই সে এদিকের দরজাটাতে পার্মানেন্ট লক দিয়ে রাখতে চেয়েছিলো, ইনশিরাহ রিকোয়েস্ট করার পরে আর কিছু করেনি। ঝুমঝুমির মাও ইনিয়ে বিনিয়ে ইনশিরাহর পক্ষ নিয়ে মুঈনকে বলেছে,“বাদ দেন স্যার। এতো দুশ্চিন্তার কি আছে? আপনেগো বাচ্চা কাচ্চা থাকলে না একটা কথা আছিল। ম্যাডাম তো আর বাচ্চা না।”

মুঈন বিড়বিড় করে বলেছিলো,“বাচ্চার থেকে কমও না।”

কংক্রিটের রেলিংয়ে একটা বাবুই পাখি দেখে ইনশিরাহ উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে । জোরে জোরে মুঈনকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দেখায়,এই পাখিটা এখন বিলুপ্ত প্রায় শহরে। পশু পাখির প্রতি ইনশিরাহর আলাদা টান।
চাপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে ওঠে,“যাই ক্যামেরাটা নিয়ে আসি আমার, একটা ছবি তুলবো।”
মুহুর্তেই পা থমকিয়ে ঘুরে তাকায়। মনে পরে যায় সবকিছুর সাথে তার শখের ক্যামেরা দুটোও শেষ হয়ে গিয়েছে।

শুকনো মুখটার অভিব্যাক্তি দেখে মুঈন সবটা বুঝে নিয়ে ইশিকে কাছে টানে, কাধে থুতনি ঠেকিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,“নেক্সট স্যালারি পেয়ে একটা ক্যামেরাও নিয়ে দেবো।”

হেসে ফেলে ইনশিরাহ, হঠাৎ হাঁসি থামিয়ে বলে,“তা নেক্সট স্যালারি পেয়ে আপনি আর কি কি করবেন এসপি?”

_রাতে ফিরে লিস্ট করবো!

সন্ধ্যার আগে দু'জন লোকাল মার্কেটে যায় নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিতে।
লোকাল মার্কেট ঘোরার আইডিয়াটা ইনশিরাহর ছিলো। দু'টো শপ ঘুরে ইনশিরাহ নিজের জন্য তিনটে টিশার্ট নিলো,নিলো দু'টো পাজামা। মুঈন শুরুতে দোনামোনা করেছে দেখে ইনশিরাহ হাসতে হাসতে বলে,“আপনি ভেবেছেন আমি বুঝি খুব এক্সপেনসিভ ব্র্যান্ডের পোশাক পরি? এসপি, আমার টিশার্ট গুলি সব এই ধরণের লোকাল মার্কেট থেকেই কেনা,কম দামী ফেব্রিক্সের, কোয়ালিটি যুতসই না। অবশ্য মাম্মা পাপার থেকে শপিংয়ের ব্যাপক টাকা নিতাম, তারপর এসব দোকান থেকে ড্রেস কিনে বাকি টাকা শিশুকল্যাণ এজেন্সিকে দিয়ে দিতাম লুকিয়ে।”

হাসছে ইনশিরাহ। খিলখিলিয়ে হাসছে। মুঈন ওর দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ হয়ে। ইনশিরাহ ওর কাছে এসে বললো,“আপনার বৌ পাপা কি পরী আদুরে,এসি ছাড়া চলেনা টাইপ মেয়ে হতে পারে, তবে খরুচে নয় এসপি। ডোন্ট ওরি! চলুন ওদিকটায় যাই, ওয়াশ রুমে পরার চপ্পল নেই, চলুন সেগুলো ঐ ভ্যান থেকে কিনি। একশো নিরানব্বই টাকা জোড়া।”

খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে মুঈনকে টানতে টানতে নিয়ে যায় ইনশিরাহ। আর মুঈন শুধু ওকে দেখতে থাকে অবাক হয়ে, এই রূপগুলো কাঠিন্যের আড়ালে এতদিন লুকিয়ে রেখেছিলো এই মেয়ে? কি সুন্দর! কি ভয়ংকর সুন্দর!

এক ফাঁকে ফরাজী নিজে একটা গোপন কান্ড করে বসলো, ইনশিরাহকে ঐ লোকাল মার্কেটের আইসক্রিম পার্লারে বসিয়ে একটা শাড়ি কিনে ফেললো সে,এটা যখন মুঈনের শার্ট কিনতে গিয়েছিলো তখন মুঈন পাশের দোকানে ম্যানিকুইনের গায়ে দেখেছিলো। সাদা শিফনের শাড়ী। পাড়ের কাছে হালকা সিলভার সিকোয়েন্সের কাজ।

কিন্তু ধরা পরে গেলো ইনশিরাহর কাছে, ইনশিরাহ গম্ভীর মুখে শাড়িটা দেখতে থাকলো । মুঈন অপ্রস্তুতের মতন বললো,“আরে এমনি নিলাম। পরার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনি! এমনি! এমনিই!”

ইনশিরাহ মুঈনের কাঁচুমাচু মুখ দেখে অল্প মাথা নেড়ে বলে,“আচ্ছা বুঝলাম। এমনিই। চলুন যাই। বৃষ্টি নামবে। আর জ্বর বাঁধাতে চাইনা।”

বুকশপ থেকে তিনটে ক্রিমিনাল ডায়েরী নিলো ইনশিরাহ বেছে বেছে, তারপর একটা ক্যাব নিয়ে ওরা যখন অ্যাপার্টমেন্টে ফিরলো তখন রাত সাড়ে নয়টা,বাইরে ঝমঝমে বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।

এতো এতো শপিং করে ক্লান্ত ইনশিরাহ ম্যাট্রেসে ধপ করে শুয়ে পরলো। এর মাঝে ও বাড়ি থেকে লাগাতার ফোন করে যাচ্ছে সবাই ‌। ক্লান্ত ইনশিরাহ কথা বললো না,মুঈন সবাইকে সামলে একটা লম্বা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে টেবিল সেট করলো। ঝুমঝুমির মা রেঁধে রেখে গিয়েছে।

ইনশিরাহ ততক্ষণে ম্যাট্রেস থেকে উঠে চটপটে হলো, নতুন শপিং,ও বাড়ি থেকে আনা পোশাক গুলো গুছিয়ে কাবার্ডে রাখতে হবে।

মিঠিকে খাবার দিয়ে, রুমে এসে যখন ব্যাগের জিপার খুললো তখন ভীষণ অবাক হলো ইনশিরাহ,ব্যাগের মধ্যে এতো গুলো টাকা ক্যাশ দেখতে পেয়ে। পাশে এসে দাঁড়াল মুঈন। দু'জনে ভীষণ হতভম্ব। বুঝতে বাকি রইল না কাজটা কাদের। ইনশিরাহ বিব্রত হয়ে টাকা গুলো তুলে নিয়ে মুঈনের দিকে ফিরে বললো,“আমি বুঝিয়ে বলেছিলাম পাপাকে। আচ্ছা মাইন্ড করবেন না,আমি আগামীকাল ওনাদের বুঝিয়ে টাকা গুলো ফেরত দিয়ে দেবো।”

মুঈন কিছু বলছে না, ভীষণ দ্বিধা হচ্ছে তার। একটা কথা ভেবে দ্বিধা হচ্ছে, এই ব্যাপারগুলো নিয়ে শশুর শাশুড়িকে কিভাবে ফেস করতে হয়! জানেনা মুঈন।
ঠিক তখন ব্যাগের মধ্যে একটা চিরকুট পেলো ইনশিরাহ। কৌতুহলী হয়ে চিরকুট টা খুললো সে, মুঈনও কাছে এসে চিরকুট টা পড়ে। সামিনের হাতের লেখা,

“এগুলো নবদম্পতি, মুঈন ফরাজী এবং ইনশিরাহ বিনতে সামিনের জন্য দোয়া....”

সামিন ইয়াসার মির্জা।
অদ্রিতা আলো।
ইলহাম মির্জা।
ইশমাম মির্জা।
হুমায়রা রিতু।
রুকাইয়া পরী।
ইহান তাজওয়ার মির্জা।
ইনায়া।
শেহা।

চিরকুটের একপ্রান্তে বাড়ির সকলের স্বাক্ষর। মুঈন আর ইশি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলে। মুঈন কি বলবে বুঝতে পারছে না। ইনশিরাহ ক্যাশগুলো ব্যাগে ভরে নিতে নিতে বলে,“আমার পরিবারটা একটু ন্যাকা তাইনা?”

হাসলো মুঈন,বললো,“হ্যা। ন্যাকা। এমন একটা ন্যাকা পরিবার আমার কখনো ছিলোই না।”

হাতের টাকাগুলো নিয়ে দ্বিধায় পরেছে ইনশিরাহ। মুঈন ওর অপ্রস্তুত ভাব দেখে টাকা গুলো সরিয়ে রেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে,“এগুলো তোমার অ্যাকাউন্টে রেখে দিও। আমি মাইন্ড করিনি!”

ইনশিরাহ তুলে রাখলো টাকা গুলো। দু'জনে রাতে ডিনার সেরে নেয়, ইনশিরাহ ঢুকলো ওয়াশ রুমে,একটা কর্মোদ্যম দিনের শেষে গোসল সেরে একটা লম্বা ঘুম দেওয়ার পরিকল্পনা তার। মুঈন চোখে রিডিং চশমা পরে হাতে তুলে নিলো ক্রাইম থ্রিলারটা,বর্ষণ মুখর একটি রাতের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী এটা।
বাইরে তুমুল বর্ষণ,শীত লাগতে শুরু করেছে। একটা নতুন কমফোর্টার কেনা হয়েছে,ওয়াল কেবিনেট থেকে সেটা বের করে রাখলো মুঈন। ম্যাট্রেসের ওপর চাদরটাও গুছিয়ে রাখলো, ঠিকঠাক করে রাখলো বালিশ দুটোও। ঠিক তখনই ইনশিরাহ বেড়োলো। মাথায় হালকা গোলাপি রঙের তোয়ালে পেঁচিয়ে। শীতে কাপছিলোও সে। গায়ে কালো রঙের একটা ঢিলেঢালা টি শার্ট।

কাঁপতে কাঁপতে আয়নার সামনে যায়,একটা ছোটো আয়না কেনা হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে মাথা থেকে তোয়ালেটা এক টানে খুলে,ভেজা চুলগুলো মুছে নিতে থাকে। মুহুর্তেই শ্যাম্পুর কড়া সুঘ্রাণে আলোড়িত হয় গোটা কামরা।

বিছানা গোছাতে গোছাতে মুঈন ত্বরিত ঘুরে তাকায়, শ্বাস রোধ হয়ে এলো তার যেন, এতো স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় স্নিগ্ধ সুবাসে মাথাটা ঝিমঝিমিয়ে উঠতে চাইলো। সে শুধু নির্নিমেষ দেখছে চঞ্চল হাতে চুল মুছতে থাকা মেয়েটিকে,পেছন থেকে।

ওদিকে ইনশিরাহ এক নাগাড়ে বলেই যাচ্ছে এই ফ্ল্যাটটির সুবিধা অসুবিধা। পানির লাইনের ফ্লো খুব কম,তবে পরিবেশ ভালো,ইত্যাদি ইত্যাদি। মুঈন কিছু শোনেওনি সেসব। সে দেখছে ভেজা চুল থেকে টুপ টুপ করে ঝরতে থাকা পানির ফোঁটা। পরপর নিজেকে সামলে নিয়ে দৃষ্টি নত করে হাসলো সামান্য।

ইনশিরাহ হঠাৎ মুঈনকে ডাকলো,“ঐ একটু আসুন তো এদিকে। আসুন।”

ঘোর কেটে যাওয়ায় মুঈন এগিয়ে যায়। ইনশিরাহ গলার লকেটের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে মুঈনকে ওটা দেখিয়ে বলে,“লকটা আটকে গিয়েছে,খুলে দিন,আমি আঙুলে ব্যাথা পেলাম।”

চুপচাপ এগিয়ে যায় মুঈন, দাঁড়ায় ইশির পেছনে। দু'হাত যখন লকটা খোলার উদ্দেশ্যে ইনশিরাহর ঘাড়ের পেছনে রাখলো, দু'টো উষ্ণ হাতের স্পর্শে ইনশিরাহ নিজেই কাঁপল। মুঈন লকটা খুলতে খুলতে হঠাৎ তার চোখ আটকালো ইনশিরাহর ঘাড়ের পেছনে বড় কালো তিলটাতে। এটা এইমাত্র আবিষ্কার করলো মুঈন। চেইনের লক খোলার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে দেখতে থাকলো সেটা। ইনশিরাহ নড়ে না, পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মুঈন কি করলো, বেচারা পুরুষ মুঈন, যা ঘটানোর তাই ঘটিয়ে ফেললো। বেহায়ার মতো একটা চুমু খেয়ে বসলো সেই তিলে অকস্মাৎ।

ইনশিরাহ চমকালো, পরমুহূর্তে স্থির হলো, জমতে জমতে জমেই গেলো। আবারও অস্থির হলো মুঈন। বেচারা কি করবে? নিজেকে কিভাবে আটকাবে? বৌ-ই তো, তিন কবুলের বৌ, বড় আদরের বৌ। লকেটের লক না খুলে অস্থির হয়ে ইনশিরাহর ঘাড়ে নাক ঠেকিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেললো। তাকে আবারও ওস্কাতে চাচ্ছে এই বৃষ্টির ঝমঝমে আওয়াজ। লেলিয়ে দিতে চাইছে তাকে। ইনশিরাহ কাঁপল, নিজের টি-শার্ট এক হাতে খামচে,চেপে ধরে অস্ফুটে আওড়ায়,“কি করছেন ফরাজী?”

_আবারও হ্যাংলার মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলছি।
অস্পষ্ট বলে মুঈন।

ইনশিরাহর কি যেন হলো, কেমন নরম হয়ে মৃদু আওয়াজে বললো,“দীর্ঘশ্বাস? এখানে?”

ওর ভেজা ভেজা চুল গুলো সরিয়ে কাঁধ,ঘাড় আরেকটু উন্মুক্ত করে আরেকটু দখল করে মুঈন মোহগ্রস্তের ন্যায় বললো,“হ্যা। এখানেই।
দীর্ঘশ্বাস ঠিকঠাক যায়গায় ফেলতে হয়,
সাবধানে চুল সরিয়ে ঘাড়ের পাশে,
যেন তুমি টের পাও আমি আসলেই অসহায়।”

ইনশিরাহ নরম হয়ে উঠলো,তবুও বললো,“এটা কার কবিতা কপি করে দিলেন এসপি।”

মুঈন ওকে পেছন থেকে আগলালো, ইশির কোমরে বিচরণ করছে ওর দৃঢ় হাত, ওর ঘাড়ে একটা একটা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে মুঈন বললো,“মনে আসছে না লোকটার নাম, স্বপ্নীল চক্রবর্তী সম্ভবত। মস্তিস্ক অতিরিক্ত দীর্ঘশ্বাসের চাপে হ্যাং হয়ে গিয়েছে ইশি।”

কথার ছিড়ি দেখে ইনশিরাহ খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে, বাচ্চাদের মতোন। মুঈন মাথা তুলে ওর দিকে তাকায়। ইনশিরাহ হাসি থামিয়ে তাকায়,ঐ মদ্যক চাহনির এতো জোর, ইনশিরাহ পরিস্থিতি হাস্যরসাত্মক করতে পারবে না কোনোভাবেই। ইনশিরাহ ঘুরে মুঈনের পোলো টি শার্টের গলার কাছের বোতামে অযথা আঙ্গুল চালিয়ে মুঈনের চোখে চোখ রেখে বলে,“আপনি বুঝি অনেক অসহায়?”

আস্কারা পেয়ে ওকে ত্বরিত ঘুরিয়ে নিয়ে মুঈন আবারও ওর কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বললো,“খুব ইশি খুব! আমি ভীষণ অসহায়।”

ঘাড়ের কাছে আরেকটু নিচে আবারও অসামাল উৎপীড়ন, ইনশিরাহ থিতু হয়ে বললো,“এটা আবার কী এসপি?”

_দীর্ঘশ্বাস ফেলছি । দীর্ঘশ্বাস ঠিকঠাক যায়গায় ফেলতে হয়,
সাবধানে চুল সরিয়ে ঘাড়ের কাছে,আরেকটু নিচে,
যেন তুমি টের পাও আমি আসলেই অসহায়।

অস্থির হয়ে আবারও বিড়বিড়ায় মুঈন। ইনশিরাহ দু'চোখ বন্ধ করে দম নিলো। মন মস্তিস্ক আবেগ অনুভূতি দ্বিধা সংকোচের যুদ্ধে জয়ী এক নারী বড্ড অনুরাগে ছুঁলো স্বামীর গাল। আবারও বললো,“আপনি সত্যিই খুব অসহায়?”

_আমি বেচারা! ট্রাস্ট মি!
তৎক্ষণাৎ জবাব মুঈনের।

ইনশিরাহ আবারও দম ফেলে দু'চোখ মেলে আয়নায় মুঈনকে দেখে , হঠাৎ কি হলো তার, মৃদু আওয়াজে বললো,“শাড়িটা পড়বো?”

_যদি তোমার ইচ্ছে হয়।
ওর ঘাড়েই আশ্রয় নিয়ে মুঈন জবাব দেয়।

_হচ্ছে। আমার ইচ্ছে হচ্ছে।
আবারও অনুরাগ নিয়ে জবাব দিলো ইনশিরাহ।

মুঈন ওকে ছাড়লো। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে ইনশিরাহ সাদা শিফনের শাড়িটা কাবার্ড থেকে বের করে পাশের ঘরে গিয়ে পরে আসলো,যে ঘরে মিঠিকে রাখা হয়েছে।
শাড়িটা বড্ড ঝামেলা করে পরেছে,সুন্দর হয়নি,তবে রেডিমেড ব্লাউজটা গায়ে ফিট হয়েছে পারফেক্ট ভাবে। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিতেই মুঈন মাথা তুলে তাকায়। ইনশিরাহ দরজায় ঠেশ দিয়ে কিছু মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে এগিয়ে যায় মুঈনের কাছে। মুঈন তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখতে থাকে এক অপার্থিব নারীকে। সে যেভাবে কল্পনা করেছিলো তার থেকে সহস্রগুণ লাস্যময়ী, আকর্ষণীয়া এই নারী এই শাড়িটাতে।

নিচু ম্যাট্রেসে বসে থাকা মুঈন,ইশির হাত ধরে টেনে কোলে বসিয়ে কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে দিলো। ধীরে ধীরে বললো,“কোথায় ছিলাম?”

_একটা কবিতা বলছিলেন।

মুঈন আবারও ইশির অল্প ভেজা চুল গুলো সরিয়ে কাঁধে চুমু খেয়ে বলতে থাকে,“চুমুটাও ঠিকঠাক যায়গায় খেতে হয়, যাতে কেউ বুঝতে পারে আমি কতটা অভাগা।”

ওসব কথার জবাব না দিয়ে ইনশিরাহ বললো,“এসপি! এরপর?”

_এরপর সংসার। স-ং-সা-র।
পরম আবেগে ওকে দু'হাতে আগলে ধরে মুঈন বলে। ইনশিরাহ ধীরে ধীরে বিগলিত হয়, এমন কঠিন মেয়ের এমন করুণ রূপটা দেখে মুঈন বললো,“তা তোমার উত্তর পেয়ে গিয়েছো?”

দু'চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাঁকিয়ে ইনশিরাহ বলে,“ঐ পাগল পাগল লাগা, হালকা তবুও পরিপূর্ণ লাগাটা সুস্থতা আমার, আরেঞ্জম্যারেজোফোবিয়া কেটে গিয়েছে। আর পাঁচটা বাদামী মেয়ের মতো ইশি ধপ করে,হুট করে,ধপাস করে তার স্বামীর প্রেমে পরে গিয়েছে। হুট করে, হুট করে। এতো কম সময়ে! কি আজব। কি আজব।”

চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে ইনশিরাহ। ওর সহজ সরল সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি মুঈনকে চূড়ান্ত উস্কে দেয়। ইনশিরাহর কাঁধে আবারও নাক ঠেকিয়ে লম্বা শ্বাস ফেলে। ইনশিরাহ চোখ বন্ধ করে বলে,“এখন এটা কি ছিলো?”

_দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘশ্বাস ঠিকঠাক যায়গায় ফেলতে হয়.....

আর কিছু বলতে পারলো না মুঈন। পাশের ঘরে শব্দ হলো। ইনশিরাহ উঠে মুঈনের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে যায় মিঠিকে দেখতে। ও ঘরে হাওয়ায় টেবিল থেকে বই পরে শব্দ হয়েছে। খোলা জানালা আটকে দিয়ে ইনশিরাহ আবারও রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মুঈন বিছানায় বসে আছে। ইনশিরাহ ওর কাছে এগিয়ে যেতেই আবারও টেনে কোলে বসিয়ে আদুরে গলায় মুঈন বলল,“কোথায় ছিলাম?”

_আমি আপনার কোলে ছিলাম আর আপনি ছিলেন ঐ আপনার অসহায়ত্বের কবিতাতে।

মুঈন কালবিলম্ব না করে ওকে জরিয়ে ধরলো, ধরে বলে,“ওটা বাদ, নতুন একটা বলছি।
জরিয়ে ঠিক এভাবে ধরতে হয়, দু'হাতে শক্ত করে, বৌয়ের পালানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে, যাতে সে বুঝতে পারে সামনে তার ঘোর বিপদ।”

ইনশিরাহ লজ্জায় আড়ষ্ট হয়। মুঈন মেয়েটাকে আর লজ্জা দিতে একটা শব্দ খরচ করতে চায়নি । হালকা শরীরটা শুইয়ে দিয়ে ওর কপালে প্রগাঢ় এক চুমু খায় মুঈন। চোখ বন্ধ করে নেয় ইশি।
ধীরে ধীরে মুঈন আবারও আশ্রয় নেয় ইশির ঘাড়ে, গলায়, আরেকটু নিচে। দু'হাতে ওর ঘাড়ের কাছে টি শার্টের কলার চেপে ধরে ইশি বললো,“এখন এটা কি হচ্ছে ফরাজী?”

মুঈন ফরাজী আকুল হয়, ব্যাকুল হয়, ঐ রাতে শেষ বারের মত কবিতাটা বলে,“দীর্ঘশ্বাস ফেলছি । দীর্ঘশ্বাস ঠিকঠাক যায়গায় ফেলতে হয়,
সাবধানে চুল সরিয়ে ঘাড়ের পাশে,গলায়, আরেকটু নিচে, কিংবা আরেকটু নিচে।
যেন তুমি টের পাও আমি আসলেই অসহায়।”

ইনশিরাহ চোখ বন্ধ করেই বলে,“আপনি আসলেই খুব অসহায়?”

_ভীষণ বৌ। ভীষণ। বিশ্বাস করো!

_তো আমাকে কেন বলছেন? আমি কি করবো?
চোখ বন্ধ করে ছটফটিয়ে বলে ইশি।

_একটু স্বস্তি দেবে,ব্যস!
অস্থির হয়ে ওঠে মুঈন।

ইনশিরাহ হেসে ফেলে। মুঈন ওকে হাসতে না দিয়ে উল্টো অনুরোধের সুরে বলতে থাকে,“আমি অসহায়, বেচারা, আমার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে ইনশিরাহ বিনতে সামিন,একটু স্বস্তি দাও আমাকে।”

কেমন অনুরোধ,কেমন আকুলতা। ইনশিরাহর সাধ্যি আছে তা উপেক্ষা করার? নেই!
ইনশিরাহ চুপ হয়ে যায় তখনই। কেমন কঠিন,নাক উঁচু, বাপের বখে যাওয়া কন্যাটা কেমন বাধ্য মেয়ে হয়ে গেলো সে রাতে, শুধু চুপ করে দেখেছে একজন ধৈর্য্যশীল পুরুষের পাগলামি, সহ্য করে গিয়েছে। টের পেয়েছে তার গা ঘিনঘিন করেনি,একটুও না। বরং আবেশে চোখ বেয়ে জল নামিয়েছে টুপটুপ করে। আবারও দেখেছে ধৈর্য্যশীল লোকটার পাগলামি, যার সাথে তার আরেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছে,যাকে সে হুট করে ভালোবেসে ফেলেছে,হুট করে যার বধূ হয়েছে।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছন্দে এগিয়ে চলেছে রাত, সময় গড়িয়েছে কয়েক ঘণ্টা। দেয়াল ঘড়ির রোবটিক আওয়াজ তাই জানালো। বৃষ্টি থামেনি ও রাতে। অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে ঐ অসময়ের বর্ষণধারা সিক্ত করেছে দু'টো বাবুই পাখির বেচারা মন। উস্কেছে তাদের, ভীষণ উস্কেছে।
ইনশিরাহ স্বামীর বাহুডোরে বন্দি। দৃষ্টি তার তামাটে পুরুষটির মুখশ্রীতে নিবদ্ধ, খাঁড়া নাক,দৃঢ় চোয়াল, প্রশ্বস্ত কপাল,সবকিছু আজ বড্ড অনুরাগ নিয়ে দেখে ইনশিরাহ। মুঈন একটু আগেই ঘুমিয়েছে, তামাটে রুক্ষ গালটায় নরম হাত বুলিয়ে ইনশিরাহ দেখছিলো শুধু ওকে, কিছুক্ষণ আগেও যার উষ্ণ স্পর্শ গুলো লেপ্টে দিয়েছে ইনশিরাহর নরম তনুতে পবিত্রতা, পরিপূর্ণতার ছাপ‌।
হঠাৎ ইনশিরাহর কফির তেষ্টা পেলো। কোনোমতে ঘুমন্ত মুঈনের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে সে অত রাতে একা একা কফি বানিয়ে খেতে খেতে তুনাদের কল দিলো, তুনারা অতরাতে ইনশিরাহর কল পেয়ে ভীষণ অবাক, ভীষণ অবাক বান্ধবীদের আরো অবাক করে দিয়ে ইনশিরাহ চেঁচিয়ে উঠলো,“তোরা সবাই শোন, আরেঞ্জ ম্যারেজ ইজ নট স্ক্যারি অ্যাট অল!”

একটু থেমে ইনশিরাহ আবারও বললো,“এবং আমি ঠান্ডা মরা মাছ নই। আমি বরফখণ্ড, আই গট আ ওয়ার্ম অ্যান্ড জেন্টল হ্যান্ড টু বি মেল্টেড!”

ওর পাগলামির মাথামুণ্ডু বুঝতে অপারগ ওর বান্ধবীরা। ইনশিরাহ কল কেটে ঘুরে দাড়াতেই চমকায়, দেখে মুঈন উঠে গিয়েছে, এবং ওকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে। ইনশিরাহ চোখ রাখতে পারে না পুরুষটির চোখে, কেমন অসহ্য এই অনুভূতি, লজ্জা, তাকালোই না মুঈনের দিকে,ওর উদোম শরীরটা ইনশিরাহকে লজ্জা দিয়ে মেরে ফেলতে চাইছে। মুঈনের অবাক, বিস্মিত,ঘোর লাগা দৃষ্টি পা মাথা দেখতে লাগলো ইনশিরাহকে, শ্যামলা তনু ঢেকেছে মুঈনের শার্টে।

আলাদা এই নিগূঢ় সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে দেখার তৃষ্ণা পেল আবারও ফরাজীর। বাইরের বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ, মুঈনের হৃদস্পন্দন ছাপিয়ে রাখতে পারে না। উঠে চলে আসে ইশির কাছে। কোনো কথা হয়না, মুঈন কিছু বলে না। এবার বড্ড বেপরোয়া হয়ে ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে বিছানার দিকে পা বাড়ায়, ইনশিরাহর মুখের ওপর পরছে ওর উষ্ণ শ্বাস। আর মোহগ্রস্তের ন্যায় ইশি তার স্বামীকেই দেখে।
আবারও যখন ইনশিরাহ বুঝলো অসহায় একটা লোক তার কাছে স্বস্তির আবদার করছে, বড্ড আকুলতার সাথে। ইনশিরাহ অস্ফুটে বললো,“এখন এটা আবার কি হচ্ছে ফরাজী!”

_আধিপত্য বিস্তার করছি!
চূড়ান্ত সংবেদনশীল স্পর্শগুলি মাখিয়ে দিতে দিতে মুঈন ধৈর্য্য নিয়ে জবাব দেয়।

_কেন?
ইনশিরাহ অবুঝ আজ,সে শুধু উত্তর গুলো শুনতেই প্রশ্ন করে বারবার।

_তোমার স্বামী বলে!
মুঈনের দৃঢ় জবাব।

বেচারা স্বস্তি পেতে মরিয়া, ইশি আজ উদার। বেচারার যন ভাঙে না। আজ এই বেচারার মন ভাঙলে ইশির পাপ হবে,ঘোর পাপ। আরো একবার যখন দু'জনে ভালোবাসার চাদরে দু'জনকে মুরিয়ে দিলো, ইশি বড্ড অনুরাগে তার স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে ফিসফিসিয়ে বললো,“এই ফরাজী ! আমি তোমাকে তুমি করে বলি? আমার না আপনি আজ্ঞেতে পোষাচ্ছে না।”

চলমান........

[ শরীরের অবস্থা জানতে চেয়েছেন অনেকেই, আমি ভালো নেই। গল্পের আশাতে রোজ কেউ অপেক্ষা করবেন না, আমার সাধ্যে কুলোলে অবশ্যই দিবো। কয়েকটা দিন ধৈর্য্য ধরুন।🙏 ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 72 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন