#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭৩
#ইসরাত_ইতি
🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বেলা করে ঘুমানোর অভ্যাস ওদের কারো নেই,মাঝে মাঝে অনিয়ম যদিও হয়, তবুও ন'টা পেরোতে দেওয়া হয়না। তবে আজ কাঁটায় কাঁটায় ঘড়িতে যখন দুপুর পৌনে বারোটা তখন মস্তিষ্ক সজাগ হতে থাকলো ধীরে ধীরে। মুঈন চোখ মেললো, ওদের রুমের জানালাটা বিশালাকার। সাদা পর্দাটা বাতাসের সাথে চুক্তি করে এলোমেলো হয়ে বাইরের সবটুকু উষ্ণ রোদ ঘরে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে।
রোদের তাপ প্রখর। মুঈনের শ্যামলা নগ্ন পিঠ পুড়িয়ে দিচ্ছে। মুঈন কি করলো! ঘুমন্ত ইশিকে দু'হাতে আগলে নিয়ে রোদ থেকে আড়াল করে নিজেকে আরেকটু পোড়াতে থাকলো। নির্নিমেষ দেখতে থাকলো ইশির মেদুর গালটাকে, ঘুমন্ত ফোলা ফোলা রক্তিম গাল দুটোকে কি উপমা দেয়া যায়? সূর্যটা বড্ড জ্বালাতে চাইছে মেয়েটাকে। না না,উপমা না। একটা কবিতা পড়ে ফেলা যায়।
“ Busy old fool, unruly Sun,
Why dost thou thus,
Through windows, and through curtains, call on us?
Must to thy motions lovers' seasons run?
Saucy pedantic wretch, go chide
Late school-boys and sour prentices,
Go tell court-huntsmen that the king will ride,
Call country ants to harvest offices;
Love, all alike, no season knows nor clime,
Nor hours, days, months, which are the rags of time.”
পিটপিট করে তাকাতে চাইছে ইনশিরাহ। মুঈন হাসলো স্মিত হাসি। ঘুম ঘুম চোখে তখন ইনশিরাহর মনে হলো এমন সুন্দর হাসি সে কখনও দেখেনি,কখনও না। ওর কপালে ঠোঁট বোলালো মুঈন,পরম আদরে আরেকটু কাছে নিয়ে,কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি স্বর খাদে নামিয়ে বললো,“গুড মর্নিং।”
ইনশিরাহ তখনও চোখ পিটপিট করছে,তার ঘুম ভাঙছে না, কেমন মাতাল করা ঘুম এটা, এতো সহজে বিছানা ছাড়তে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। দুচোখের পাতা ভারী হয়ে যায়, দু'চোখ বন্ধ করে নেয় আবারও, ঘুমিয়ে পরতে চায় মেয়েটি।
মুঈন আর ঘাটায় না মেয়েটাকে, ক্লান্ত লাগছে বেচারিকে, ঘুমটা খুব সিরিয়াস বোঝা যাচ্ছে। উত্তপ্ত রক্তিম ফোলা ফোলা গাল দুটোতে টপাটপ দু'টো চুমু খায় মুঈন,তন্দ্রাচ্ছন্ন ইনশিরাহ এতেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, তার আসলেই ঘুমে মাতাল মাতাল অবস্থা।
মুঈন ওকে ছাড়লো,উঠে জানালার কাচ টেনে পর্দাগুলো ভালোকরে টেনে এসি অন করে দিলো। গোটা কামরা অগোছালো লাগছে,মেঝেতে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে ক্রাইম থ্রিলার বই, কফির মগ, ইনশিরাহর শাড়িটা।
মুঈন আড়মোড়া ভেঙে সেসব উঠিয়ে স্বস্থানে রেখে ঘড়িতে সময় দেখে,বেলা বারোটার কাছাকাছি।
শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে দেখলো ইনশিরাহ তখনও বেহুঁশের মতো ঘুমাচ্ছে। মুঈন একপেশে হেসে ওকে কিছুক্ষণ দেখে ঝুমঝুমির মাকে কল করে। ঝুমঝুমির মা আজ সকালে এলো না,ফোন করে মুঈন জানতে পারে দুপুরে এবং বিকেলেও ঝুমঝুমির মা আসতে পারবে না,তার সর্দি জ্বর। একটা লম্বা শ্বাস ফেলে মুঈন তৎপর হয়। তোয়ালে দিয়ে মাথাটা ভালো করে মুছে হন্তদন্ত হয়ে চলে যায় কিচেনে। এতো বেলাতে মুঈন সকালের নাস্তা বানাবে নাকি দুপুরের লাঞ্চ, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবলো।
তারপর ফ্রিজ থেকে চিকেন বের করে ভিজিয়ে রাখলো। চিকন বাসমতি চালের ভাত আর চিলি চিকেন রেধে গা থেকে কিচেন এপ্রোনটা খুলে মুঈন রুমের দিকে এগিয়ে যায়,ফোনটা অবিরত বেজে চলেছে সেই তখন থেকে। গিয়ে দেখলো ইহানের ফোনকল। রিসিভ করতেই ইহান বললো,“ইশি কোথায়? ও ফোন ধরছেনা কেনো?”
_ঘুমাচ্ছে।
অবাক ইহান,বললো,“এতো বেলা করে ঘুমাচ্ছে কেন? এখন বারোটা সাতচল্লিশ বেজেছে। শরীর খারাপ না তো?”
মুঈন চুপ করে আছে, কোনো জবাব দিতে পারলো না, সম্বন্ধিকে বলবে তোমার বোন কাল রাতে ঘুমায়নি,তাই ঘুমাচ্ছে?
মুঈন মনে মনে ভাবতে লাগলো ইহানের কথা। তার চাচাশ্বশুর আর শ্বশুরকে বলে এই একত্রিশ বছর বয়সী আর্মি ম্যানকে বিয়ে করিয়ে দিতে হবে। নয়তো বোনের চিন্তায় এভাবেই অস্থির হয়ে থাকবে সারাদিন, উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করে মুঈনের ঘাম ছুটিয়ে দেবে।
ওপাশে ইহানের হাত থেকে ফোনটা আলো কেড়ে নিয়ে মুঈনকে বলে,“এখনও ঘুমাচ্ছে? কাল ভিজেছিল ও তাইনা? আবার জ্বর বাধিয়েছে?”
সামিন ততক্ষণে আলোর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে মুঈনকে বলে,“সর্দি হয়েছে মানে? তুমি ঠিক আছো?”
_জি বাবা।
ভদ্রছেলের মতো জবাব দিলো মুঈন। ওপাশ থেকে তখন পরী বলে,“এটা ঠিকনা, মেয়েটা দুদিন পরপর জ্বরে পরে,মুঈন তুমি ওকে আমার চেম্বারে নিয়ে এসো বাবা চারটায়, দু'টো টেস্ট করাতে হবে।”
মুঈন কি জবাব দেবে ভাবতে লাগলো, এ বাড়ির একটা লোকও কেউ কারো থেকে কম না। অতঃপর কিছুপল বাদে বললো,“সর্দি হয়েছে সামান্য। টেনশনের কিছু নেই। ওষুধ দিয়ে দেবো।”
_আচ্ছা দিও। আর শোনো, ইরফান আজ ইশির সাথে কথা বলবে, ঘুম থেকে উঠলে ইশিকে বলবে এটা, আর রাতে তোমরা এখানে খাবে আজ বুঝতে পারলে?
_জি।
বিনয়ী উত্তর টা দিয়ে মুঈন কল কাটলো। ফোনটা রেখে তাকায় ইনশিরাহর দিকে, মুঈনের শার্টটা গাঁয়ে জরিয়ে এলোমেলো চুলে ঘুমাচ্ছে হুঁশ হারিয়ে,হাত পা ছড়িয়ে বাচ্চাদের মতো।
একটা অমায়িক হাসি হেসে মুঈন এগিয়ে যায় ওর কাছে। তারপর ধীরে ধীরে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে নম্রস্বরে ডাকে,“মিসেস ফরাজী।”
কপাল কোচকালো ইশি,সে সজ্ঞানেই আছে, মিনিট পাঁচেক হলো ঘুম ভেঙেছে। মুঈনের কথার জবাবে বিড়াল ছানার মিউ মিউ ধ্বনির মতো অস্ফুটে বললো,“কটা বাজে?”
_একটা বারো মিনিট।
আশেপাশের একটা মসজিদে আজান হলো যোহরের। ইনশিরাহ আর দেরী না করে হাই তুলতে তুলতে উঠে বসলো। চোখ মেলে তাকাচ্ছেই না,চোখের পাতা বুজিয়েই বললো,“আমি তাকাতে পারছি না।”
উঠে দাঁড়ায় মুঈন, এলোমেলো বালিশ, বিছানার চাদর ঠিকঠাক করতে করতে জবাব দেয়,“খেয়ে ঘুমাও।”
ধীরে ধীরে উঠছে ইনশিরাহ। কিন্তু তার অবস্থা কাহিল,চোখের পাতা মেলে দু'পা হাঁটবে সেটুকু পারছে না। হঠাৎ ঢুলে পরে যেতে নিলে মুঈন এসে ধরলো ওকে।
ওর অবস্থা দেখে মুঈন হাসতেও পারছে না। এতো ঘুম কোথা থেকে এলো কে জানে। ইনশিরাহ মুঈনের বাহুতে মাথা ঠেকিয়েও ঘুমিয়ে যেতে চায়, মুঈনের বুকে মাথা ঠেকিয়ে রেখে হাই তুলতে তুলতে বললো,“আরেকটু ঘুমাই।”
মুঈন শুনলো না,বললো,“না খেয়ে তারপর।”
দু'হাতে কোলে তুলে নিলো মেয়েটাকে, এইবার ইশির টনক নড়লো। ঘুম ছুটিয়ে চোখ বড় বড় করে দেখলো মুঈনকে, মুঈন এগিয়ে যাচ্ছে ওয়াশরুমের দিকে।
ইশি বললো,“কি হচ্ছে?”
ওয়াশ রুমের সামনে ওকে নামিয়ে দাড় করিয়ে দিলো মুঈন,হাতে এনে দিলো ওর টয়লেট্রিজ। মৃদু ধাক্কা দিয়ে ওকে ভেতরে পাঠিয়ে দিয়ে চলে গেলো টেবিল সেট করতে।
শাওয়ার নিয়ে সম্পূর্ণ ফ্রেশেনআপ হয়ে ইশি বেড়িয়েই দেখলো মুঈন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে টানটান হয়ে।
ইশি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে আবারও পাঁজাকোলা করে তুলে নিলো মুঈন। ইশি বেচারী মিনিটে মিনিটে চমকাচ্ছে লোকটার অতিরঞ্জিত আহ্লাদ দেখে। পরে যেতে নিলে জরিয়ে ধরলো মুঈনের গলা, নাক সিটকিয়ে বললো,“নামিয়ে দাও।”
মুঈন শুনছেই না, ইনশিরাহর সম্মোহিত দৃষ্টি ওর গলার অ্যাডামস আপেলে নিবদ্ধ,পর পর দৃষ্টি সরিয়ে রাগী রাগী ভাব করে বললো,“নামিয়ে দাও, বাড়াবাড়ি করছো।”
মুঈন থামছে না,তবে ইশির কপালে কপাল ঠেকিয়ে ইশির কথার জবাবে বললো,“It's worth it My queen !”
চিত্ত পুলকিত হয় ইশির, একরাশ শিহরণ উথাল পাতাল হয়ে ছরিয়ে পরে ধমনীতে। আবেগে আপ্লুত হয়ে তাকিয়ে থাকে স্বামীর দিকে।
মুঈন ওকে নামিয়ে দিলো,যখন চেয়ারে বসিয়ে দিলো। খেতে খেতে লজ্জিত হয়ে হাসলো ইশি,বললো,“তুমি রেধেছো!”
_হ্যা কেনো?
_না এমনি!
উশখুশ করছিল। মুঈন ওকে দেখে বলে,“কি হলো?”
_তোমার অফিস?
_দুদিন ছুটি দেয়া হয়েছে আমাকে,সবটা গোছাতে।
_এ দু'দিন কি করবো?
_কি করবো! সংসার গোছাবো,আর তোমাকে টুকটাক অনেক কিছু শেখাবো।
খেতে খেতে চোখ তুলে তাকায় ইশি। বলে,“কি শেখাবে ? রান্না?”
_নাহ, রাঁধতে রাধতে হঠাৎ মুড সুইং হয়ে গেলে কিভাবে চুলা অফ করে রুমে গিয়ে ঘুমাতে হয় সেটা।
ইনশিরাহ হেসে ফেলে। মুঈনও হাসছে। খাওয়া শেষ করে উঠলো দু'জন। ইনশিরাহ মুঈনকে আর কোনো কাজ করতে না দিয়ে এঁটো প্লেট গুলো নিয়ে নিজেই গেলো সিংকের কাছে। ধুয়ে মুছে সব সাফ করতে গিয়ে হঠাৎ টের পেলো তার কোমরে আবারও সেই কঠিন দু'টো হাত। কাঁধের কাছে শক্ত কঠিন গালের ছোঁয়া।
ইনশিরাহ কিছু বলার আগেই মুঈন ওর হাত দু'টো ধুইয়ে দিলো। ওর কোমর চেপে ধরে মুঈন ওকে উঠিয়ে দিলো পাশের লোয়ার কেবিনেটে। ইনশিরাহ আশ্চর্য হয়ে দেখছে শুধু। বাকি কাজ টুকু মুঈন করে দেয়, হাত ধুয়ে নিতেই ইনশিরাহ বললো,“কি বাড়াবাড়ি! আমি করে নিতাম তো। এখন বেশি বেশি করছো!”
হাসলো মুঈন। ইনশিরাহ এমন ভাবে হাসতে দেখেনি মুঈনকে কখনো। মুঈন আবারও ইশির কপালে কপাল ঠেকালো। ডানগালটা আলতো করে টিপে দিয়ে বললো,“I said না? It's worth it বৌ।”
ইনশিরাহ চুপ করে গেল তখনই। সেদিন দুপুরে মুঈন তাকে আগলে, মুড়িয়ে নেয় নিজের বুকে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে একটু আবেগী হয়ে কটা চুমুও খায়। ইনশিরাহ শুধু চোখ বুজে আপ্লুত হতে থাকে।
কলিং বেল বেজে ওঠে হঠাৎ। বৌকে ছেড়ে মুঈন গিয়ে দরজা খুলে দেখে সাত তলার টু ইউনিটের আন্টি এসেছে, তার সাথে মুঈন ইনশিরাহর রাতে আলাপ হয়েছে। ভদ্রমহিলা পেশায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। মুঈন ইনশিরাহকে একবাটি শাহী টুকরা দিতে এলেন। তাকে বসতে বললেও বসেননি।
দরজা আটকে মুঈন আবারও ইশির কাছে যায়। আবারও বৌকে আগলে নিয়ে ধীরে ধীরে বলে,“কোথায় ছিলাম?”
ইনশিরাহ পাগল লোকটাকে দু'হাতে ধাক্কা মেরে বলে,“তোমার কথা জানিনা,আমি তো পালাচ্ছিলাম।”
দেয়ালে বারি খায় মুঈন। ইনশিরাহ ছুটতে ছুটতে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মুঈন হতভম্ব চোখে সেদিকে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলে, তারপর টেবিল থেকে ফোনটা আর ওয়ালেট টা তুলে নিয়ে পকেটে ভরতে ভরতে চেঁচিয়ে বলে,“সুপার শপে যাচ্ছি। কিছু লাগলে বলো। কি আনবো?”
দরজায় ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছিল ইনশিরাহ, চেঁচিয়ে বললো,“যা ইচ্ছে । শুধু অসহায়ত্ব নিয়ে এসো না প্লিজ।”
ঠোঁট টিপে হেসে মুঈন দরজা লক করে দিয়ে চলে যায়। ইনশিরাহ ছুটে এসে বিছানায় শোয়। হাসছে সে একা একা,নিজের বেহাল দশা দেখে নিজেই অবাক। কিছুক্ষণ পর নিজের গা থেকে ঘ্রান নেয়, দেখে সে আর সে নেই,তার স্বকীয় ঘ্রানটাও হারিয়ে ফেলেছে, সারা গায়ে ঐ লোকটার ঘ্রান মেখে আছে। হাসছে ইনশিরাহ। সদ্য প্রেমে পরা সপ্তদশী মেয়ের মতো আপ্লুত হয়ে হাসছে।
কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে সে উঠে বসে, ইরফানের কথা মনে পরেছে হঠাৎ, দ্রুত ফোনটা তুলে নিয়ে সে সময় দেখে। দুপুর তিনটা। দেরি না করে হৌপের নাম্বারটা ডায়াল করে সে। কর্তৃপক্ষ ফোন নিয়ে ছুটে যায় ইরফান মির্জার কাছে।
শ্যামবর্ণের গম্ভীর সুদর্শন মুখ, দৃষ্টিতে কৌতুহলী ভাব। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে বোনকে। ইনশিরাহ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে, ইরফান আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,“তোকে এমন লাগছে কেন?”
_কেমন লাগছে?
_অসুস্থ লাগছে,মনে হচ্ছে বহুদিন ধরে তোর স্বামী তোকে কিছু খেতে দেয়নি।
হাসলো ইনশিরাহ। ওর সে হাসিও ইরফানের কাছে কেমন দুর্বল ঠেকে। ইরফান এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,“এখন বল! কটেজ পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে ভাইয়া তোকে কথা শুনিয়েছে কোনো? টিপিক্যাল হাজবেন্ডদের মতো বকেছে তোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে?”
ইনশিরাহ অবাক হয়ে বলে,“এসব কেমন কথা?”
_নো নো, আনসার মি! এমন কিছু করেছে? নয়তো তোকে এমন লাগবে কেন? ঘুমাসনি মনে হচ্ছে! মনোমালিন্য হয়েছে তোদের? দাদানকে বলবো মুঈন ভাইয়ার সাথে বসতে?
ইনশিরাহ কপাল চাপড়াচ্ছে মনে মনে,তার ভাইগুলো,তার পরিবারের সদস্যগুলো এতো পাগল! ইরফানের মুখভঙ্গি গম্ভীর। সে উত্তরটা জানতে চাইছে।
ইনশিরাহ বলে,“ট্রাস্ট মি ইরু ও এমন কিছুই করেনি।”
ইরফান বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, পর পর চোখ জোড়া সরু করে হেসে বলে,“বাপরে! উনি থেকে ও? তোর কি উন্নতি হয়েছে!”
দৃষ্টি নত করে লাজুক হাসি হাসে ইনশিরাহ। ইরফান বিছানার হেড সাইডে হেলান দিয়ে বসে বোনের দিকে তাকায়, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নরম গলায় বললো,“সংসার করছিস,নারে ইশি?”
ভাইয়ের কথার জবাবে উপর নিচে মাথা ঝাঁকায় ইনশিরাহ,বোনের স্নিগ্ধ মুখটা মন ভরে দেখে নিয়ে ইরফান বললো,“সুখী হ।”
খানিক বাদে ইরফান ফুরফুরে মেজাজে ফিরে গিয়ে ফাজলামির সুরে বলে,“এবার ফটাফট আমাকে পাঁচ-ছয়টা ভাগ্নে ভাগ্নী দিয়ে দিস, আই কান্ট ওয়েট ভাই! ইশিরে ইশি, ওদের আমি সারাদিন যাস্ট চটকাবো হাত দিয়ে।”
ইনশিরাহ বললো,“এতোগুলো দিয়ে কি করবি? পালবে কে? তোরা মানুষ করবি?”
_হ্যা, তিনটাকে আমার মতো বানাবো,তিনটাকে ভদ্রলোক ইহান তাজওয়ারের মতো। একেবারে মামুদের লাডলা হবে ওরা দেখিস!
ইনশিরাহ হাসে, কিছুক্ষণ হেসে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,“তুই ইনুকে কল করিস না কেন? জানিস তো ও কত নরম। বেচারী এটা নিয়ে মন খারাপ করে ভীষণ।”
_অস্বস্তি হয় খুব। ভেবলিটা সারাদিন ওর বরের কোলে বসে থাকে কি না! ওকে বলিস ওর বরের কোল থেকে নেমে দূরে গিয়ে আমাকে কল করতে। আমি কথা বলবো।
ইনশিরাহ হাসছে, ইরফান বলে,“ওকে বলিস ও যতটা আমাকে মিস করে ওর মেজো দাদান তার একশো গুণ মিস করে সেটা পুষিয়ে দেয়।”
ভাইয়ের সাথে কথা ফুরায় না ইশির। এই এক বান্দার সাথে আড্ডা দিতে বসলে কথা ফুরাতেই চায়না। অথচ সময় খুব কম হাতে। শেষটায় ইনশিরাহ বলে,“আর মাত্র ক'দিন আছে। ফিরে অফিসে বসবি, রেজাল্ট দিলে আমিও অফিসে বসবো। পাপা আর মেজো বাবাকে ছুটি দিয়ে দেবো। তারপর দাদানকে বিয়ে করিয়ে,তোর জন্যও বৌ আনবো। আমার দুই ভাইয়ের বৌ আমি খুব যত্ন নিয়ে বাছবো।”
ইরফান বললো,“আমার জন্য বৌ আনবি?”
_হ্যা।
_আচ্ছা আচ্ছা মানছি চার বিয়ে জায়েজ কিন্তু তোর এক্সিডেন্টাল ভাবী পারমিশন দেবে? আমি তালাক দিইনি কিন্তু!
তৎক্ষণাৎ চেঁচিয়ে উঠে ভাইকে ধ'ম'ক দেয় ইনশিরাহ,“ইরু!”
কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইনশিরাহ। ইরফান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মৃদু হাসে, ইনশিরাহ রেগে চেঁচিয়ে বলে,“ঐ চ্যাপ্টার টা নিয়ে কোনো মজাও করবি না তুই! এই নিজের ভালো বুঝিস না তুই? গর্দভ! এতো নির্লজ্জ কেনো তুই?”
ভীষণ রেগেছে ইনশিরাহ, ভীষণ। ইরফান বোনকে শান্ত করতে উচ্চশব্দে হেসে ফেলে, কিছুক্ষণ হেসে,হাসি থামিয়ে বলে,“কুল ভাই কুল! মজা করেছি! শান্ত হ! আই হ্যাভ নো ফিলিংস ফর হার ট্রাস্ট মি, প্রতিশোধের অনুভূতিও নেই বোকা! ঠান্ডা হ ইশি! আমি কি আহাম্মক? দেখ আমাকে? আমাকে দেখে আহাম্মক মনে হচ্ছে আমি আবার ওসব করবো? আরে মেয়েটার নামটাই তো ভুলে গিয়েছি, কি যেন নাম, প্রনতি, প্রমিলা, পুবালী, পলাশী....আরে ধূর। বাদ দে! ঠান্ডা হ আপা!”
চলমান......