#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭৪
#ইসরাত_ইতি
🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আজকে ওজন মেপে দেখেছে একাত্তর কেজি। অথচ দু'দিন আগেও টানা টানা সত্তরে ছিলো, ইনায়া হতাশ, ভীষণ হতাশ। গত একমাস ধরে করতে থাকা পরিশ্রম তার জলে চলে গিয়েছে পুরো। কমে তো নি, উল্টো এক কেজি বেড়ে ইনায়ার চর্বি কমানোর স্পৃহা নিভিয়ে দিলো।
ছোটো থেকেই মির্জা বাড়ির এই মেয়েটার স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ছিলো,বলা যায় মায়ের পেট থেকেই নিয়ে বেড়িয়েছে এসব। তারপর ছোটো থেকে জাঙ্কফুড খাওয়ার ঝোঁকটা কমাতে পারেনি বড়রা শত চেষ্টা করেও। তাই আজ ইনুর এই হাল।
ইদানিং প্রিতমের পাশে নিজেকে বড্ড বেমানান লাগে,মন ছোটো হয় খুব যখন ঐ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী লোকটা তাকে আদর দিয়ে ছোঁয়।
আয়নার সামনে ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রিতম এগিয়ে যায়। ওর কোমর পেঁচিয়ে ধরে ফোলা ফোলা গাল দুটোতে নাক ঘষে বলে,“কি? টেনশন কি ধার করে এনে করা হচ্ছে?”
_একটু স্লিম হতে চাই।
কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে ইনায়া। প্রিতম মেয়েটাকে রাগতে পারে না। শুধু কাছে টেনে নিয়ে বলে,“আমি তো চাইনা। আমি সেই ইনায়াকেই চাই যে ইনায়াকে আমি ভালোবেসেছি, ফুঁসলিয়ে বিয়ে করেছি, স্লিম ইনায়াকে দিয়ে আমি কি করবো?”
ইনায়া নিশ্চুপ। প্রিতম ওর খোলা চুলগুলো একটা ক্লাচারে আঁটকে দিতে দিতে বলে,“যাও গিয়ে পড়তে বসো। এতো ফাঁকিবাজ হয়েছো!”
কলিং বেল বেজে ওঠে, বাড়িতে কেবল প্রনমি, প্রিতম আর ইনু। প্রেরণা রেস্তোরাঁয়,মিস জেনি শুদ্ধকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছে।
গিয়ে দরজা খুলেই কিছু সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে ইনায়া। ইশমাম মিষ্টির প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে। পাপাকে দেখে দু'চোখ ভিজে ওঠে মেয়েটার। পাপা তার এখানে আসেইনা খুব একটা,অথচ সে শোনে প্রায়ই ইশি আপুর ওখানে যায়। আজ হঠাৎ কি মনে করে এসেছে ইনায়া জানেনা, সে শুধু সুযোগটা লুফে নিয়ে পাপার বুকে ঝাঁপিয়ে পরে।
নিজেকে সামলে নিয়ে ইশমাম মেয়ের মাথায় একটা হাত রেখে বলে,“ভেতরে ঢুকতে তো দাও।”
প্রিতম বেড়িয়ে শ্বশুরের মুখোমুখি হতেই সালাম দিলো। বিনিময়ে সালামের জবাব পেলো ক'র্কশ কন্ঠে। প্রিতম এমনটাই আশা করেছে। ইশমাম ওদের সাথে যতখানি আন্তরিকতা দেখালো,তার চেয়েও বেশি দেখালো প্রনমির সাথে। মেয়েটিকে ও বাড়ির বড়রা আদর করে খুব। মাথায় হাত বুলিয়ে ইশমাম জানতে চায়,“তুমি গানের ক্লাসে যাওনি আজ আম্মু?”
_গলা ভেঙেছে আংকেল আইসক্রিম খেয়ে।
প্রনমির গলার অবস্থা বেহাল। এমতাবস্থায় গান গাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে যায়নি আজ। ইনায়াকে উদ্দেশ্য করে প্রনমি বলে,“ভাবী আংকেলের জন্য শরবত নিয়ে এসো।”
ইশমাম হেসে মেয়েটিকে টেনে আবারও পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলায়,কি মিষ্টি একটা মেয়ে, এতটুকু কমতি আল্লাহ দেয়নি মেয়েটার স্বভাবে অথচ চোখ দু'টো! তার ওপর শুনেছিল মানসিক সমস্যাও হয় মাঝে মাঝে। বড্ড মায়া-ই লাগে দেখলে এই মেয়েকে।
ইশমাম ইনুকে বলে,“আমাদের সবার জন্য শরবত নিয়ে এসো যাও।”
ইনু ত্বরিত মাথা নেড়ে ছুটে যায় কিচেনে। প্রিতম দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে শ্বশুরের দিকে। সে বুঝতে চাইছে তার শ্বশুরের মতিগতি, কিন্তু পারছে না।
শরবত খেতে খেতে ইশমাম প্রনমির সাথে গল্প করে। তার পড়াশোনার কথা শোনে ইশমাম, কিভাবে প্রনমি নিজের পড়াশোনা শেষ করেছে সেসব জানতে চায়। প্রণমির এই লোক গুলোকে খারাপ লাগে না, এদের কন্ঠে প্রণমি দরদ খুজে পায়,তাই বরাবর এদের সম্মানের সহিত ট্রিট করে সে,আপু বলেছে একজনের অন্যায়ের জন্য কখনো অন্যলোককে কষ্ট দেয়া,তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা উচিত না।
প্রিতম একটা শার্ট চাপিয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে ইনুকে ডেকে বলে,“বাবাকে দেখো। আমি বাজারে যাচ্ছি।”
শরবত খেতে খেতে মাথা তুলে তাকায় ইশমাম, একপলক জামাইকে দেখে চোখ সরিয়ে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,“আমি দুপুরে খাবোনা, আমার একটা ইনভিটেশন আছে।”
প্রিতম থামলো, হাত থেকে শরবতের গ্লাসটা সরিয়ে রেখে ইশমাম আবারও বললো,“তোমার সাথে কথা আছে, তাই এখানে আসা।”
ইনু প্রিতম দু'জনেই অবাক হয়ে দেখছে ইশমামকে। ইশমাম ইশারায় প্রিতমকে বসতে বলে সরাসরি জানতে চাইলো,“অস্ট্রেলিয়া যেতে উঠেপড়ে লেগেছো শুনলাম!”
প্রিতম এবার বুঝতে পারলো বিষয়টা। ইনু জামাই শ্বশুরের মাঝে আজ ঢুকবে না তাই মুখে কুলুপ আটলো। ইশমাম বলতে লাগলো,“ইরফান আর ক'দিন পর চলে আসছে বলে?”
প্রনমি নামটা শুনেই নড়েচড়ে বসল,চোখে মুখে ছেয়ে আছে অস্বস্তি আর বিরক্তি মেয়েটার। ইদানিং এই নামটা শুনলে তার রাগও হয়না,ভয়ও হয়না। ঐ উটকো,উগ্র লোকটাকে শুধুমাত্র বিরক্ত লাগে। বিরক্ত লাগে কারণ এতো সুন্দর একটা পরিবারের অপদার্থ ছেলে, একটা বিরক্তিকর ফালতু পাগল লোক,ওকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ওকে শুধু বিরক্ত লাগে।
প্রিতম কোনো জবাব না দেওয়াতে ইশমাম বলতে লাগলো,“অভিভাবক হিসেবে আমাদের নাই-ই ধরতে পারো,কিংবা তোমাদের জীবনে আমাদের মুরব্বিদের কি কাজ ভাবতে পারো,তবে আল্টিমেটলি অভিভাবক আমরা তোমাদের। সেখান থেকে একটা কথা বলতে চাই, ঐ লাইফটা দূর থেকে ঝকঝকে,রিল্যাক্সিং লাগতে পারে বাস্তবে তা নয়, আমি জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় বিদেশ বিভূঁইয়ে কাটিয়ে দেখেছি। যতদূর দেখলাম তুমি ব্রিলিয়ান্ট, এখানেই চাইলে চমৎকার কিছু করতে পারবে, সে হিসেবে ভেবে দেখতো পারো আরও একবার। আর তাছাড়া.....”
একটু থামলো ইশমাম,বললো,“এক মাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থাকে। দু তিনবছর পরে এসে আমাদের মুখ দর্শন করবে,এতে কেন জানি সায় দিতে ইচ্ছে হলো না, এটা আমার আবেগের যায়গা থেকে বললাম। যদিও তোমাদের কাছে আমার আবেগের দাম কতটুকু তোমরাই ভালো জানো।”
ইনু তাকিয়ে আছে পাপার দিকে, সে জানতো এমন কিছু হবে। তাকে যখন প্রিতম অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা বলেছিলো,সে প্রিতমের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়েছে শুধু,তার সায় ছিলো না মোটেই। সে চায়না কোথাও যেতে,এখানে, আপনজনের মাঝে থেকেই সে মানুষ হতে চায়, সংসার করতে চায়।
প্রিতম কিছু বলছে না শশুরের কথার জবাবে,চুপ করে আছে শুধু। ইশমাম প্রনমির মাথায় হাত বুলিয়ে উঠে দাঁড়ায়,মেয়ে জামাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,“আসছি। তোমাদের অ্যাপার্টমেন্টের পেছন কুমুদিয়া অ্যাপার্টমেন্টে আমার এক কলিগের বাসায় ইনভিটেশন আজ। ভালো থেকো।”
প্রিতম চুপচাপ উঠে দাঁড়িয়ে শ্বশুরকে সালাম দেয়। ইনায়া তখন বলে,“পাপাকে আমি এগিয়ে দিয়ে আসছি।”
প্রিতম আর গেলো না,বুঝে নিলো বাপের সাথে আলাদা কথা বলবে ইনু,তাই ওখানেই থামলো।
বাপ বেটিতে যখন গ্রাউন্ড ফ্লোরে পৌছাল ঠিক তখন ইনু পাপার হাত টেনে ধরে নরম গলায় বললো,“পাপা।”
ইশমাম দেখলো মেয়েটিকে, পরপর মাথা ঘুরিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,“সংসার করার বয়স তোমার হয়নি, বেশি চাপ নেওয়ার দরকার নেই। প্রেরণা মেয়েটার সাথে মানিয়ে গুছিয়ে ধীরে সুস্থে সব করো,শেখো। পড়াশোনাটা ছেড়ো না।”
ইনু হুট করে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ইশমামকে, কিছুক্ষণ চুপ করে কাঁদল, ইশমাম লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,“তোমার প্রতি অখুশি নেই, যেভাবে সুখী হতে ইচ্ছে করে হও, শুধু নিজের স্বপ্নের কথা ভুলে যেও না,যেটা আমারও স্বপ্ন।”
ইনু কোনো কথা বলছে না, ইশমাম মেয়ের চোখ মুছিয়ে দিয়ে মাথায় একটা চুমু খেয়ে বলে,“মন খারাপ লাগলেই স্বামীকে নিয়ে ও বাড়িতে যেও। আমারও মেয়ে জামাইকে আপ্যায়ন করতে ইচ্ছে হয় ভাইয়ার মতো।”
গম্ভীর কন্ঠে কথাগুলো বলে ইশমাম লম্বা কদমে এগিয়ে যায় সামনে। ইনু ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ঝাপসা চোখে কিছুক্ষণ বাবার যাওয়াটা দেখে চোখ মুছে ঘুরে লিফটের কাছে যায়।
আজ এই অ্যাপার্টমেন্টের লিফটা ফাঁকা, ছুটির দিন তাই চাপ নেই। হুট করে কোথাও থেকে রাদিফ এসে লিফটে ঢুকে পরে। ইনায়া অস্বস্তিতে জড়োসড়ো হয়। এই ছেলেটাকে সে এখানে আসার পরের দিন থেকে সহ্য করতে পারে না,এর নজরে খুব খারাপ কিছু দেখে ইনায়া, বিরক্ত লাগে দেখলেই।
রাদিফ ওকে দেখে চওড়া হেসে বললো,“হ্যাললোওও ভাবী জি! কেমন আছেন?”
_জি ভালো আপনি ভালো আছেন?
তাড়াহুড়ো জবাব দিয়ে ইনু ফোন ঘাটতে ব্যস্ত হয়ে পরে, আর কোনো কথোপকথনে সে যেতে চাইছে না এই লোকের সাথে।
রাদিফ ওকে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে,পা থেকে মাথা। অতঃপর দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয় নিতম্বের দিকে, প্রিতম ভাইয়ের বৌটা মারাত্মক সুন্দরী। একেবারে তুলতুলে সুন্দর। এটাকে প্রিতম ভাই কিভাবে পটিয়েছে কে জানে! রাদিফের ইচ্ছে করে একটু ছুঁয়ে দেখতে ঠিক কতটা নরম। এমনিতেও ভারী স্বাস্থ্যের মেয়েদের প্রতিও আলাদা ঝোঁক রাদিফের।
লিফট আট তলায় থামলে ইনু ওড়না সামলে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যায়, রাদিফ বাঁকা হাসে কিছুক্ষণ। এই মেয়েগুলোর ঢং দেখলে রাদিফের হাসি পায়, এতো ভয় পাওয়ার কি আছে? রাদিফ কি চেপে ধরতো লিফটে? রাদিফ কারো কনসেন্ট ছাড়া কখনও এগোয়না, অত আহাম্মক না রাদিফ!
প্রেরণা জানের কথা মনে পরে যায় রাদিফের,জানটাকে ইদানিং দেখাই যায়না, বিজনেস নিয়ে ব্যস্ত। আজ সময় করে যাবে, কেন পাত্তা দিচ্ছে না সোস্যাল সাইটে জানতে চাইবে। বড্ড বেশি দেমাগ এই মহিলার।
ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাদিফ, দেমাগী মেয়ে তার সবথেকে বেশি পছন্দের।
______
পর পর তিনটে জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচি সাজাতে ইহান সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ছেলেদের নিয়ে তার পার্টি অফিসে। এর মাঝে মেয়র এবং প্রেসক্লাব থেকে লোক এসেছিলেন,তাদের সাথে একটা মিটিং শেষ করতে হয়েছে সরকারি কলেজের ছাত্রসংঘের সদস্যদের ব্যাপারে।
রাজনীতিতে সরব লোকটা, আর্মি থেকে বেরিয়ে এসে এটাকেই নিজের প্যাশন বানিয়ে রেখেছে এটা এক কথায় সবাই মানে।
দলের সভাপতির থেকেও ইহান তাজওয়ারের ঠাটবাট বেশি,এর কারণ সে মির্জা বাড়ি কিংবা সামিন ইয়াসার মির্জার ভাইপো বলে নয়, বরং ওর পরিশ্রম। বড় বাবাকে দেখে ইহান শিখেছে, বড় বাবা তার রাজনীতি করাকে সায় না দিলেও বলেছে, যদি উদ্দেশ্য তোমার জনসেবাই হয় তবে একটুও কার্পণ্য করবে না তুমি।
ইহান করেও না। তার ধ্যান জ্ঞান,ঐ পরিবার আর রাজনীতি।
আপন এসে আড়াইটা নাগাদ উশখুশ করতে থাকে। ইহান তখন অন্তরের সাথে স্কেজিউল ফিক্সড করে নিচ্ছিল । মাথা না তুলে বলে,“ঝেড়ে কাশ।”
_খিদে পেয়েছে।
_তো অর্ডার করে নে।
আপন উশখুশ করতে করতে বললো,“ভাত খাবে সবাই! আশেপাশে বিশ্বস্ত কোনো স্পাইস হোটেল তো নেই,স্বাদে আহ্লাদে ছাড়া।”
শেষের কথাটা মিনমিন করে বলে আপন। ইহান মাথা তুলে তাকায়, আপনের দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বরফ ঠাণ্ডা গলায় বলে,“ স্বাদে আহ্লাদে থেকে অর্ডার করে নে।”
_ওনারা ডেলিভারি সার্ভিস দেয়না!
ইহান কিছুক্ষণ সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,“চল আমিও যাবো। এবং শোন, ওখানকার মহিলা স্টাফদের দিকে তাকানো, তাদের অতিরিক্ত জ্বালাতন করা কিংবা শিষ বাজানোর মতো ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস করলে আজ লাথি মেরে মেরে এক একটাকে বের করবো! মাথায় থাকবে?”
ছেলেগুলো ভাইয়ের কথায় মাথা নাড়ায় ত্বরিত বেগে। তাদের মাথায় থাকবে। ইহান চেয়ার ঠেলে পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, এর মাঝে রিতু ফোন করে,ফোনটা রিসিভ করে ইহান বললো,“লাঞ্চ এখানে কোথাও করে নিচ্ছি মাম্মা। তুমি খেয়ে নাও।”
সপ্তাহে তিনদিন প্রেরণা “প্রেরণা কেটরিং সার্ভিস অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের” অফিসে বসলে,তিনদিন বসে স্বাদে আহ্লাদেতে। আজ তার পালা পরেছে রেস্তোরাঁয়। সকাল থেকে ভীষণ ব্যস্ত,আজ স্যালারি শীট করতে হয়েছে বলে, সাব্বির ছুটিতে, বাকি দু'জনকে দিয়ে এসব কাজ করিয়ে প্রেরণা স্বস্তি পায়না।
ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে দেখলো আফ্রা তার দিকে ছুটতে ছুটতে আসছে। প্রেরণা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। আফ্রা বলে,“ম্যাম তাজওয়ার মির্জা এসেছেন,তার ছেলেদের নিয়ে। কি করবো?”
খানিকটা অবাক প্রেরণা, ইহান কখনো এখানে আসেননি বলে,সে উকি দিয়ে দেখলো সবাইকে। আফ্রা বলতে থাকে,“ম্যাম কি করবো? মিলটাইম তো শেষ! আমাদের স্টাফদের জন্য আছে খাবার। ওনাদের কি বলবো?”
ছোটো খাটো একটা মুসিবত হলো প্রেরণার। আবারও উঁকি দিয়ে দেখলো লোকগুলোকে, দেখলো ইহানকে। তার বেশ খারাপই লাগছে, কখনো আসে না লোকগুলো আর এভাবে আজ ফিরিয়ে দেবে! বেলা আড়াইটা বেজেছে, সবাইকে ক্লান্ত লাগছে! নিশ্চয়ই খেটেছে বেশ!
কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রেরণার, আফ্রা আবারও বললো,“ম্যাম কি করবো?”
একবার উঁকি দিয়ে বাইরে তাকায় প্রেরণা, একবার আফ্রাকে দেখে, অতঃপর বলে,“উনাদের গিয়ে বলো মেন্যু সামান্য কম আছে, এতে চলবে কি না! নয়তো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলো,আমি কিছু একটা করছি।”
আফ্রা অবাক হয়ে ম্যামের কথায় মাথা নাড়ায়, প্রেরণা শাড়ির আঁচল ডান কাঁধে জরিয়ে নিতে নিতে বলে,“আর হ্যা,মিল টাইম যে শেষ,এসব কথা বলার দরকার নেই। ভদ্রভাবে জানতে চাইবে ওনাদের জন্য আর কিছু করবো কি না?”
ইলিশের পাতুরি,ঘন ডাল,সাদা ভাত, চিংড়ি পটল। এসবই ছিল তখন মেন্যুতে। মাংস নেই,নেই ডেজার্ট আইটেম।
আফ্রা জানতে চায় গিয়ে,“স্যার দুঃখিত, আপাতত মেন্যু কম আছে, অনুগ্রহ করে আমাদের কিছু সময় দিবেন?”
ইহান হাতঘড়িতে সময় দেখে রাশভারী আওয়াজে বললো,“যা আছে নিয়ে আসুন। উই ক্যান ম্যানেজ।”
খাবার গুলো পরিবেশন করে স্টাফরা চলে আসে প্রেরণার কাছে। প্রেরণা তখন স্টাফদের জন্য ভাত বসিয়েছে। ওদের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,“আজ তোমরাও ম্যানেজ করে নাও, অভুক্ত লোকগুলো কে ফিরিয়ে দেওয়া কি ঠিক হতো বলো?”
সবাই হেসে মাথা নাড়ায় ম্যামের কথাতে। তাদের কাছে প্রেরণা ম্যাম অদ্বিতীয়া, প্রেরণা ম্যামের তুলনা তিনি নিজেই।
_______
ঘুরে ঘুরে মেয়ে জামাইয়ের সংসার দেখছে আলো আর সামিন। মোটামুটি ফাঁকা ফ্ল্যাট,নেই তেমন কোনো আসবাব। তবে যা আছে সব কিছু গুছিয়ে রাখা।
ইনশিরাহ মায়ের পিছু পিছু হাঁটতে হাঁটতে সবকিছু মা বাবাকে দেখিয়ে বলছে কোনটা কত দাম দিয়ে কিনেছে, ঠকেছে কিনা জানতে চাইছে মাম্মা পাপার কাছে। যেহেতু সে আর মুঈন উভয়ই এসবে কাঁচা।
একটা ফ্লাওয়ার ভাস তুলে মা বাবাকে দেখিয়ে বলে,“মাম্মা পাপা দেখো। এটা বার্গেইনিং করে আমি আর মুঈন নিউমার্কেট থেকে সাতশ টাকায় কিনেছি। এমন মাল অনিন্দ্য থেকে দশ হাজারে নিতে পারতে বলো? আমরা জিতেছি না মাম্মা পাপা?”
আলো মেয়ের সরল প্রশ্ন শুনে মেয়ের সরল মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর একটা হাতে মেয়ের গাল ছুঁয়ে নরম গলায় বলে,“তুমি আর মুঈন দু'জনেই জিতেছো মা।”
সামিন পরিতৃপ্তির হাসি হাসে। আলো এটা কেন বললো ইনশিরাহ এতো বুদ্ধিমতি হয়েও তৎক্ষণাৎ বুঝলো না। সে ঘুরে ঘুরে কিছু পেইন্টিংস দেখাতে লাগলো মাম্মা পাপাকে । তখন কলিং বেল বেজে ওঠে, ইনশিরাহ গিয়ে দরজা খুলে দিতেই দেখলো একটা ক্লান্ত সুদর্শন শ্যামলা মুখ, ইনশিরাহকে দেখে নিমিষেই যার মুখের ক্লান্তি নাই হয়ে গিয়েছে । ইনশিরাহ কিছু বলার আগেই লোকটা ঘরে ঢুকে ইনশিরাহকে দু'হাতে আগলে সোজাসুজি শূন্যে তুলে নেয়। ইনশিরাহ হাশফাশ করে ফিসফিসিয়ে বলে,“কি করছো টা কি!”
মুঈন হেসে বললো,“It's worth it!”
ইশি চাপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে বললো,“It's worth it-এর বাচ্চা! তোমার শশুর শাশুড়ি এসেছেন!”
ততক্ষণে আলো সামিন এসে দাঁড়ায় সেখানে। চোখ বড় বড় করে মেয়ে জামাইকে দেখে চোখ নামিয়ে নেয়। মুঈন বোকার মতো কিছু মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে ধপ করে ইশিকে ফেলে দেয় মেঝেতে। আঁতকে ওঠে ইশি। দাঁত খিচিয়ে বলে,“ফেললে কেনো!”
মুঈন ফাঁকা ঢোক গিলে বলে,“It's worth it !”
যে ঘর থেকে বেরিয়েছে,আলো সামিন হন্তদন্ত সে ঘরে চলে যায় আর এক মুহূর্তও দেরি না করে।
ইনশিরাহ মেঝেতে বসে কাতরাচ্ছে। মুঈন ওকে টেনে তুলে করুণ কন্ঠে বলে,“সরি হ্যা? খুব সরি বৌ!”
ফ্রেশ হয়ে ভীষণ লজ্জিত ভঙ্গিতে শশুর শাশুড়ির কাছে যায় মুঈন। আলো টিফিন ক্যারিয়ার থেকে খাবার গুলো বের করে টেবিলে রাখে। মেয়ে জামাইয়ের জন্য রেঁধে এনেছে আজ।
সময় নিয়ে অস্বস্তি কাটিয়ে মুঈন শ্বশুরের সাথে গল্প করে, ইশি তার মাকে সাহায্য করে। কথায় কথায় মুঈনই কথাটা তোলে সামিনের কাছে, তার এক বন্ধুর বোন সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে, তার জন্য ছেলে খোঁজা হচ্ছে, মেয়েটি বেশ ভালো, সুন্দরী,ম্যাচিওর এবং মার্জিত। মুঈন শ্বশুরের কাছে পারমিশন চায় ইহানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবে কিনা।
সামিন আশ্চর্য হয়ে বলে,“ইহান তোমার বন্ধু মানুষ, তুমি কথা বলবে, এতে আমার পারমিশন নেওয়ার কি আছে? তুমি কথা বলো, কালই বলো ওর সাথে।”
________
সন্ধ্যার আগে আগে, রেস্তোরাঁ থেকে প্রচন্ড মাথাব্যথা নিয়ে প্রেরণা ফিরেছে। আজ তাদের সপরিবারে ইনভিটেশন আছে তাদের অ্যাপার্টমেন্টের নয় তলার কর্ণেল আংকেলের মেয়ের বিয়েতে। একটা কমিউনিটি সেন্টারে হবে বিয়েটা।
বাড়িতে ঢুকে প্রেরণা দেখে সবাই রেডি, ইনু একটা বেনারসী সিল্কের শাড়ি পরেছে,প্রনমীকেও সাজিয়ে দিয়েছে আর শুদ্ধকেও। তার ভাইয়ের বৌ আদুরে হলেও কখনো অহংকারী নয় এটা বারবার বুঝিয়ে দেয়,প্রেরণা ভীষণ খুশি মেয়েটার ওপর। ওর দিকে তাকিয়ে ইনু বলে,“আপু আপনার জন্য সাদা জামদানি টা বেছে রেখেছি, ফটাফট রেডি হন।”
বোনের ক্লান্ত মুখটা দেখে প্রিতম এগিয়ে এসে বলে,“ইজ এনিথিং রং আপু?”
_ভাই,তোরা যা। আমার না ভীষণ মাথা ব্যথা করছে, আমি যাবো না রে।
প্রেরণাকে সত্যিই কাহিল লাগছে খুব। মিস জেনি বললো,“সেরকম হলে আমিও যাবো না প্রেরণা মামনি।”
_না মিস জেনি, আপনি সবসময় স্যাক্রিফাইস করেন। আজ যান, আমি বাচ্চা মেয়ে নই। ওষুধ খেয়ে ঘুমাবো। শুদ্ধ, তুমি মামী মনিকে বিরক্ত করবে না মোটেও ঠিক আছে?
শুদ্ধ ভদ্রছেলের মতো মাথা নাড়ায়। ওদের বুঝিয়ে সুজিয়ে পাঠিয়ে দিয়ে প্রেরণা অ্যাপার্টমেন্টের দরজা লক করে বিছানায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলো, সিলিংয়ের দিকে দৃষ্টি দিয়ে। এই ফাঁকা অ্যাপার্টমেন্টের ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমটাতে নিজেকে লাগছে ধূ ধূ মরুভূমিতে একটা বিন্দুর মতো নিঃসঙ্গ। আচ্ছা এখন যদি প্রেরণা মরে যায় তবে?
উল্টোপাল্টা কথা মাথায় আসতে দিলো না প্রেরণা,জীবনে এসব উল্টোপাল্টা চিন্তা কখনো ভেবেও দেখেনি, সে বরাবর বাঁচতে চেয়েছে, নিজের জন্য না হলেও কারো না কারো জন্য। ছোটোবেলায় ভাই-বোন দু'টো, তারপর মেজর ওয়াসীত শরিফের জন্য, তারপর ছেলেটা।
উঠে বসলো প্রেরণা, একটু কড়া লিকার খেলে হয়তোবা এই ফালতু মাথাব্যথাটা কমে যাবে। ইন্ডাকশনে চা বসিয়ে প্রেরণা সদর দরজার কাছে যায়, কলিং বেল বেজেছে বলে, দরজা খুলেই দেখলো দরজার বাইরে রাদিফ হাসিহাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে। মুহুর্তেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল প্রেরণার, তবুও প্রকাশ করলো না। বললো,“কিছু বলবে?”
_খানিকটা সোডা দরকার প্রেরণা আপু।
_হ দাঁড়াও,দিচ্ছি।
রাদিফকে দরজার কাছেই দাড় করিয়ে রেখে প্রেরণা এগিয়ে গেলো কিচেনের কাছে। রাদিফ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলছে,“তুমি আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কেন এক্সেপ্ট করো না প্রেরণা আপু?”
_আমি অতটা অ্যাক্টিভ নই সোস্যাল সাইটে।
সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়ে ওয়াল কেবিনেট থেকে সোডার বোতলটা নামাতে একটু উঁচু হতেই টের পেলো তার উন্মুক্ত কোমরে দু'টো শক্ত পুরুষালী হাত,পেছন থেকে ধরেছে তাকে।
প্রেরণা আঁতকে উঠে ঘুরে দাড়াতেই রাদিফ কেমন নেশালো কন্ঠে বললো,“প্রেরণা ট্রাস্ট মি এসব কেউ জানবে না।”
মস্তিস্ক কিছুক্ষণের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে প্রেরণার, পর পর গাঁয়ের সমস্ত শক্তি খরচ করে রাদিফের গালে একটা চ'ড় বসিয়ে দেয়।
রাদিফ ঐ চ'ড়ে একটুও বিচলিত হয়না উলটো বলতে থাকে,“আমি জানি তুমি কি চাও! ন্যাকামি করবে না প্রেরণা! কেন নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো!”
প্রেরণা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,“কি জানো তুমি।”
_এইযে, তুমি কত একা! তোমার চোখ বলে দেয় তুমি কি চাও।
দু'চোখ বন্ধ করে প্রেরণা দম নেয়, তারপর বলে,“কি বলে আমার চোখ?”
_তোমার কাউকে দরকার! এটা তোমার ঐ নীল চোখ দুটো দেখলে আমি বুঝতে পারি। কাম অন প্রেরণা,ইউ ক্যান ট্রাস্ট মি! তোমার একটুও সম্মানহানি হবে না! এটা শুধু আমাদের দুজনের সিক্রেট থাকবে।
প্রেরণা কিছু বলতে পারছে না,তার হাত পা অসাড় হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। রাদিফ প্রেরণার হাত ধরে বললো,“প্রেরণা তুমি জানো না আমি কতটা তোমাকে চাই! ট্রাস্ট মি তোমার পাঁচ বছরের না পাওয়া, শূন্যতা পুষিয়ে দেবো, আমি তোমাকে ডিসাপইন্ট করবো না। একটু ভরসা তো করে দেখো।”
থরথর করে কাঁপছিল প্রেরণা, নিজেকে সামলে নিয়ে রাদিফের ডান হাতের কনুই খপ করে ধরলো,পর পর ওর কনুইয়ের অপর পাশে একটা দাগ দেখে প্রেরণা বললো,“ড্রাগ নাও তুমি?”
রাদিফ কিছু বলেনা। প্রেরণা উত্তেজিত হয়নি, শুধু ধীরে ধীরে বললো,“বেড়োও এখান থেকে রাদিফ ভালোয় ভালোয় বলছি!”
রাদিফ এগিয়ে এলো প্রেরণার কাছে,বললো,“ঢং করবে না, এটা জোরাজুরি নয় প্রেরণা, তুমি নিজেও জানো তোমার কি নেই! যেটা আমি তোমাকে দিতে পারি! এতে রিস্ক থাকবে না......”
আর কিছু সহ্য করতে পারলো না প্রেরণা,রাদিফের হাতটা ইন্ডাকশনে চেপে ধরলো প্রচন্ড তেজে। চেঁচিয়ে উঠলো রাদিফ তীব্র যন্ত্রণায়। প্রেরণা খানিক বাদে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে কন্ঠে তেজ নিয়ে বললো,“এখানে আসার পর থেকে সময়ে অসময়ে তোমার পাপার থেকে আমি হেল্প পেয়েছি। সেই কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে আজকের মতো ছাড় দিলাম,নয়তো তোমার মতো ড্রাগ এডিক্ট,পর্ণ এডিক্ট ছেলেদের সাথে কি করতে হয় আমার জানা আছে! আউট! আজকের পর থেকে আমার সামনে পরারও চেষ্টা করবে না।”
পুড়ে গিয়েছে রাদিফের হাত,যন্ত্রণাটুকু গিলে ফেলে প্রেরণার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে থাকে।
প্রেরণা দম নিয়ে ওকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। তারপর ওর মুখের ওপর দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে দরজায় ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘসময়।
সময় গড়ায়, অকস্মাৎ প্রেরণা বিকট চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। অ্যাপার্টমেন্ট গুমোট হয়ে যায় সেই চিৎকারে,কান্নায়। এরপর শুধু কাঁদতেই থাকে দু'হাতে মুখ ঢেকে। কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পরে নিস্তেজ হয়ে।
কি নিদারুণ করুণ সেই দৃশ্য,কেমন পাগলের মতো কাঁদছিল মরুভূমিতে একা মেয়েটা। কাঁদতে কাঁদতে আশেপাশে তাকায় প্রেরণা, দেখতে পায় শাওকাত তার সামনেই চুপ করে বসে আছে, দেখছে প্রেরণাকে সহানুভূতি মাখা দৃষ্টিতে। প্রেরণা রেগে চেঁচিয়ে উঠলো,বললো,“কি বললো ঐ জানোয়ারটা? আমি একা? আমি তো সত্যিই একা! ভীষণ একা আমি, ভয়ংকর একা ওয়াসীত শরিফ! আপনি কিভাবে আমাকে একা করে দিলেন এভাবে! আমাকে কেন সাথে করে নিয়ে গেলেন না! আমি ভীষণ একা মেজর ওয়াসীত! ভীষণ ভীষণ ভীষণ!”
বুকে হাত চেপে রেখে উন্মাদের মতো কাঁদছে,শুধু কাঁদছে। আর কিছু বলেনা মেয়েটা, শুধুই কাঁদে, মানুষ মরলে যেভাবে কাঁদে সেভাবে, গোটা অ্যাপার্টমেন্টের দেয়ালও হয়তো সে রাতে কেঁদেছে ওর কান্না দেখে।
প্রিতমেরা রাতে দাওয়াত খেয়ে যখন ফিরলো,রাত তখন বারোটা প্রায়। শুদ্ধ মামার কোলে ঘুমিয়ে আছে। বাইরে দাঁড়িয়ে কলিং বেল টেপার পরেও প্রেরণা যখন দরজা খুললো না তখন পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকলো ওরা।
অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতেই ইনু আর মিস জেনি একসাথে চিল্লিয়ে উঠলো। প্রেরণা মেঝেতে পরে আছে লবিতেই।
চ'ম'কে যায় ওরা, প্রিতম তাড়াহুড়ো করে ঘুমন্ত শুদ্ধকে একটা সোফায় শুইয়ে দিয়ে ছুটে যায় প্রেরণার কাছে, আপুর মাথাটা কোলের ওপর উঠিয়ে ডাকতে থাকে,“আপু! এই আপু! তোমার কি হয়েছে! আপু চোখ খোলো!”
চলমান........