ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 75

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৭৫
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পিটপিট করে চোখ মেলছে প্রেরণা। তার কাছে মনে হচ্ছিলো বিগত কয়েকদিন ধরে সে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু আদতে তা নয়, মাথাটা ভারি হয়ে থাকায় এমন ঠেকছে। বুকটাও কেমন জ্বালা করছে অল্পস্বল্প।
যতদূর মনে পরছে গতকাল রাতে তার প্যানিক অ্যাটাকের মতো হয়েছিল, সচরাচর যা হয় প্রেরণার।

দুর্বল শরীরটা টেনেটুনে জোরপূর্বক উঠিয়ে বসে, তাকায় আশেপাশে। প্রিতম পায়ের কাছে বসে ঝিমাচ্ছে সকাল সকাল। বোনের নড়াচড়ার অস্তিত্ব টের পেয়ে মাথা তুলে তাকিয়ে উদ্বিগ্নতার সহিত বলে,“আপু! এই আপু! ঠিক আছো?”

হাই তোলে প্রেরণা,যদিও শরীরটা দুর্বল ভীষণ। ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললো,“ঘুমাসনি ? এখানে বসেছিলি! কি আজব!”

প্রিতম উঠে দাঁড়ায়, ত্বরিত গিয়ে বোনের পাশে বসে দু'হাতে বোনকে গালে ধরে কেমন করুণকন্ঠে বলে,“এই আপু। কি হয়েছিলো? কে কি বলেছে? বলো আমাকে! কি হয়েছিলো বলো না!”

প্রেরণা ভাইকে শান্ত করে বলে,“শান্ত হ! শান্ত হ! কিচ্ছু হয়নি,প্লিজ শান্ত হ!”

প্রিতম রেগে যায়,বলে,“তোমার সমস্যা কি জানো আপু? তুমি মনে করো তুমি অনেক বেশিই বোঝো,যা বোঝো সেটাই ঠিক।”

_আশ্চর্য এখানে আমার বোঝা না বোঝার কথা আসছে কেন? আমি বলেছি কিছু হয়নি,শান্ত হ! উত্তেজিত হোস না,দ্যাটস ইট।

_কিছু তো হয়েছে! বলো কে তোমাকে কি বলেছে? বলো!

ছেলেটার ভাবগতিক দেখে প্রেরণা আরও নির্লিপ্ততায় মুড়িয়ে নেয় নিজেকে। এসব তো তার জীবনে কম হয়নি! চেনাজানা বিশ্বস্ত ছেলে থেকে শুরু করে রাদিফ,সবাই তাকে এভাবেই ট্রিট করেছে, ঝৈ ঝামেলা চায়না প্রেরণা, কি হবে? প্রিতম গিয়ে দু ঘা বসাবে, তারপর? তারপর কি হবে? কজনকে দু ঘা বসাবে প্রিতম? ছয় তলার আরাফ ভাই, দশ তলার শাবাব, তিন তলার জাবির। কজনকে পিটিয়ে প্রিতম তাদের ফেরাবে, তারপর তারা আর কু নজর দেবে না প্রেরণার দিকে, আসতে চাইবে না প্রেরণার একাকিত্ব ঘোচাতে, সরাসরি না হলেও দৃষ্টি দিয়ে বলবে না,“প্রেরণা জোরাজুরি নয়, তুমি রাজি থাকলেই হবে। তোমার সম্মান হানি হবে না।”

প্রিতম বোনকে ভালো করে লক্ষ্য করে বলে,“এই সব তুমি ছেড়ে দাও,বাদ দাও প্লিজ বাদ দাও। আমি যা আর্ন করি তা দিয়ে চলে যাবে আমাদের। প্লিজ বাদ দাও আপু।”

প্রেরণা ভাইয়ের উসকোখুসকো চুল,উদ্ভ্রান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে বলে,“পাগল তুই? এমনি শরীর খারাপ লাগছিল। আমার কর্মস্থলেও কিছুই হয়নি!”

_ডক্টর বলেছে অতিরিক্ত স্ট্রেস থেকে এমন হচ্ছে!

_হ্যা,কদিন একটু স্ট্রেস বেশি যাচ্ছিলো। আর তুই এসব কি বলছিস? বি প্রাকটিক্যাল ভাই! তোর আর্নিংয়ে চলে যাবে মানে? তোর আর ইনুর ফিউচার নেই? সেভিংস করতে হবে না? ফাজিলের মতো কথা বলবি না। বুঝিস তুই কি বলছিস? শুদ্ধ আর প্রনমির জন্য খাটতে হবে আমাকে, এসব বেহুদা নয়, তোর যা আয় সেটা তোর,ইনুর, তোদের বাচ্চার জন্য। আর অস্ট্রেলিয়া চলে গেলে তো কথাই নেই।

_আমি যাবো না,আমি কোথাও যাবো না। আমি তোমাকে ফেলে কোথাও যাবো না।
প্রিতম বোনকে শক্ত করে ধরে বসে থাকে,একটু নড়চড় করে না,

প্রেরণা ওকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে,“ভাই ঠিক আছি! ডোন্ট ওরি ভাই!”

_তোমার বিয়ে দেবো আমি!
অকস্মাৎ কথাটা বোনের মুখের ওপর প্রিতম বলে দিলো। প্রেরণা ভাইয়ের মুখের দিকে তাকায় চোখ বড়বড় করে। প্রিতম ত্বরিত মাথা নেড়ে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলে,“তোমার কিছু বাদ দিতে হবে না, শুধু তোমার বিয়ে দেবো আমি। বিয়ে দেবো।”

ভীষণ মেজাজ খারাপ করে প্রেরণা নিজের গা থেকে ভাইয়ের হাতটা সরিয়ে দিয়ে ধ'ম'কে ওঠে,“এক্কেবারে বেয়াদবের মতো কথা বলবি না, আমার লাইফের ডিসিশন কি তুই নিবি?”

প্রিতমের মাথায় জেদ চেপে যায়, চেঁচিয়ে বলে,“কেন? প্রনমির লাইফের ডিসিশন আমি তুমি নিইনা? আমার লাইফের ডিসিশন তুমি নাও না? তো আমিও তোমার লাইফের ডিসিশন নেবো। ফুপিকে কল করবো আমি। বিয়ে দেবো তোমার।”

প্রেরণাও রেগে গিয়ে প্রিতমকে বকতে থাকে, প্রিতমও চেঁচাতে থাকে। বাইরে লিভিং রুমে বসে সব শুনছিল ইনায়া,প্রনমি আর মিস জেনি। এক পর্যায়ে হাঁপিয়ে গিয়ে প্রেরণা ভাইকে বলে,“ভাই বিশ্বাস কর! আমি এভাবেই ঠিক আছি। আমি খারাপ নেই। আমি একটুও খারাপ নেই। তুই যা,মাথা ঠাণ্ডা কর। যা।”

ইনু প্রেরণার জন্য একবাটি গরম স্যুপ নিয়ে এসে প্রিতমকে বললো,“আচ্ছা এখন বাদ দাও। ও বাড়ি থেকে মেহমান আসবে, তারা এসব শুনবে এসে ? রাগ কমাও দু'জনে। প্লিজ!”

সকাল বেলা মির্জাবাড়ি থেকে ও বাড়ির গিন্নিরা এসেছে প্রেরণাকে দেখতে, রাতে শুনেছে তারা প্রেরণার অসুস্থতার কথা। সকালে উঠে নানা পদ রেঁধে সাথে করে নিয়ে এসেছে আলোরা তিন জা।

প্রেরণার বিছানায় একপাশে আলো বসেছে, রিতু আর পরী একটু দূরে, চেয়ারে। প্রেরণার মাথায় হাত বুলিয়ে আলো বললো,“এমন হলো কি করে মা? ভয় পেয়েছিলে?”

_আন্টি এমন হয় মাঝেমাঝে।

ওরা তিন জা সহানুভূতি নিয়েই দেখতে থাকে মেয়েটিকে, একদিনেই মেয়েটাকে খুব অল্পবয়সী,রোগা পটকা লাগছে।

কথায় কথায় আলো বলে,“আজ তোমাদের সবার নিমন্ত্রণ ছিলো আমাদের বাড়িতে।”

একটা শুকনো হাসি হেসে প্রেরণা বললো,“আপনাদের বাড়ির ছেলে আসবে আজ?”

ওরা তিন জা নিশ্চুপ। প্রেরণা বলতে লাগলো,“ইনু প্রিতমকে নিয়ে যান।”

ওকে বিশ্রাম নিতে বলে আলো,রিতু,পরী বেড়োলো প্রেরণার কক্ষ থেকে। বেড়িয়েই রিতু মুখোমুখি হলো প্রনমির। লিভিং রুমে একটা সোফাতে চুপ করে বসে ছিল,শুদ্ধকে নিয়ে।
মেয়েটাকে রূপ দিতে একটুও কার্পণ্য করেননি সৃষ্টিকর্তা, অথচ ভাগ্য! রিতু খুব কমই কথা বলে মেয়েটার সাথে, একজন মা হিসেবে নিজের অপরাধী ছেলের কথা মনে পরে যায় বিধায় অতটা আদর করতে সে পারেনা, তবে আলো আর পরী খুব আদর করে মেয়েটাকে।

_______

সকাল সকাল মর্নিং ওয়াক শেষে ইনশিরাহ উত্তপ্ত মেজাজ নিয়ে ফিরলো অ্যাপার্টমেন্টে। আজ মুঈনের সাথে তার একসাথে যাওয়া হয়নি, মুঈন গিয়েছিলো তার বন্ধুদের সাথে, ইনশিরাহ গিয়েছে তার বান্ধবীদের সাথে। অ্যাপার্টমেন্টে ফিরেই দেখলো মুঈন তার আগেই ফিরেছে, ফ্রুট জুস বানাচ্ছে।

বৌয়ের মেজাজ সপ্তম আকাশে দেখে মুঈন হেসে বললো,“কার সাথে লাগলো?”

গা থেকে জ্যাকেটটা খুলে ইনশিরাহ একটা চেয়ারে ছুঁড়ে মেরে চেঁচাতে থাকে,বলতে থাকে,“ঐ বুড়ি! ঐ আহাম্মক বুড়ি! আমি সোস্যাইটির ক্লাবে যেতেই পারিনা জানো, সারাক্ষণ শুধু প্রশ্ন, বিয়ে হয়েছে আড়াইমাস,বাচ্চা নেবো কবে! মানে টা কি! আমি পাগল হয়ে যাবো ঐ মহিলার অত্যাচারে মুঈন।”

জুসের গ্লাসটা ইশির দিকে এগিয়ে দিতে দিতে মুঈন বললো,“চিত্রা আন্টি? কুল, উনি মুরব্বি মানুষ। আর এসব মুরব্বিদের সহজাত আচরণ। আমাদের উচিত এসব কথা যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া। বেয়াদবি করে কিছু বলো নি তো?”

জুসটা খেয়ে দু'পাশে মাথা নাড়ে ইশি,বলে,“কিছু বলতে পারিনি দেখেই তো রাগে গা কাঁপছে দেখছো না , কিছু বলে দিলে ঠান্ডা হতো মেজাজ।”

_সোজা সাপ্টা কথা বলা ভালো তবে কখনো কখনো মুরব্বিদের সাথে এমন আচরণ না করাই উচিত ইশি। একটা বয়সের পর মানুষ নিজের জীবনের অবসর পেয়ে জাগতিক অন্যান্য ব্যাপারে খুব কৌতুহলী হয়ে ওঠে, এমন স্বভাব কেউ ইচ্ছে করে বানায় না ইশি, হয়তো আমি তুমিও এমন হবো ঐ বয়সটিতে। নেক্সটে এসব ব্যাপারে কথা তুললে বলবে,“আল্লাহর ইচ্ছে যেদিন হবে সেদিন বেবি নেবো। সুন্দর করে বলবে ঠিক আছে?”

ইনশিরাহ এবার একটু নরম হয়ে হাসলো,মাথা ঝাঁকিয়ে বললো,“হু।”
তারপর চলে গেলো কিচেনের কাছে, দু'টো স্যান্ডউইচ খেয়ে বেড়োবে তারা,যাবে শান্তিনীড়ে। আজ ইরু আসবে।

মুঈন চঞ্চল রমনীকে কিছুক্ষণ দেখে, আচরণে, শারীরিক গঠনে, মানসিকতায় একটা বাচ্চা-ই, যতই তাল গাছের মতো লম্বা হোক আর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলুক না কেন। এই মেয়ে তার তিনটা বাচ্চাকে কিভাবে সামলাবে!
মুঈন রোজ ডিউটি থেকে বাড়িতে এসে দেখবে,বাচ্চারা কাঁদছে, সাথে ইনশিরাহও কাঁদছে হাত পা ছুড়ে। এরপর সবাইকে এক এক করে কোলে তুলে কান্না থামাতে হবে মুঈনের।
ভাবতে ভাবতে মুঈন হাসলো, ইনশিরাহ স্যান্ডউইচ রেডি করে নিয়ে এসে টেবিল সেট করে মুঈনকে বলে,“একি হাসছো কেনো?”

_এমনি। চলো খেয়ে বেড়োই।

আলোরা বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে ইহান সোফা থেকে উঠে এসে দাঁড়ায়। কন্ঠে উৎকণ্ঠা এবং কৌতুহল মেশানো ছিলো,বললো,“কি অবস্থা এখন প্রেরণার?”

রিতু খানিকটা হকচকিয়ে যায় ছেলের উৎকণ্ঠা দেখে, পর পর জবাব দেয়,“ঠিক আছে এখন।”

হালকা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইহান চলে যায়। ওরা তিন জা নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। আজ ছুটির দিন,বাড়িতে পুরুষ লোকগুলো আড্ডা জমাবে,বাড়িটা গমগম করবে, তার ওপর আজ ইরফান আসবে।

ইনশিরাহ মুঈন এগারোটা নাগাদ শান্তিনীড়ে গিয়েছে।

মহিলারা রান্নাঘরে ব্যস্ত, সামিন দুই মেয়েকে নিয়ে ভিডিও কলে শান্ত আর শেহার সাথে কথা বলছে, ইলহাম ইশমাম বেড়িয়েছে বাড়ি থেকে,তারা হৌপে যাবে।

মুঈন এসে শশুরের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলো।

এক পর্যায়ে ইহান আর সে যখন আলাদা হলো, হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলো পুলসাইডে। ইহান মুঈনকে বললো,“সাতার কাটবে?”

_কাটতে পারি। তার আগে তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।

পুলসাইডের বেঞ্চিতে বসলো দুজন, মুঈন সরাসরি জানতে চাইলো,“তোমার কোনো পছন্দের মানুষ আছে?”

_হঠাৎ এই কথা?

_সরাসরি বলো,বোন জামাই আর সম্বন্ধি বাদ দিয়ে আমরা কিন্তু বন্ধুও, জানতে চাই আমি।

ইহান চুপ করে আছে। মুঈন ওর ফোন থেকে একটা ছবি বের করে ইহানের দিকে ফোনটা দিয়ে বলে,“রিচি তালুকদার। তুমি চেনো, প্রফেসর সাইমন তালুকদারের ছোটো বোন। মেয়ে হিসেবে পারফেক্ট বলা যায়। ইনশিরাহ আর আমি প্রাথমিক ভাবে ওকেই সিলেক্ট করে রেখেছি তোমায় দেখাবো বলে।”

একটু থেমে মুঈন বলে,“মেয়ে ভীষণ ভালো, আমি আসলে আমার নিজের জন্যও এতোটা খুঁটিয়ে মেয়ে দেখিনি যেমনটা তোমার জন্য দেখছি!”

শেষটায় হাসলো মুঈন। ইহান মুঈনের ফোনের ছবিটার দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়, মুঈন বলে,“পছন্দ থাকলে বাড়িতে সবাইকে না জানানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না, অমন ফ্যামিলি তোমার নয় যে তোমার পছন্দকে অগ্রাহ্য করবে।আচ্ছা তুমিও তোমার বোনদের মতো অপোনেন্ট পার্টির কারো প্রেমে পরোনি তো?”

হেসে ফেললো মুঈন। ইহানও সামান্য হাসলো। অতঃপর কিছুক্ষণ পর বললো,“অপোনেন্ট পার্টি নয়, তবে এক অসম্ভবের প্রেমে হয়তো পরেছি,হয়তো না। আমি না আসলে কনফিউজড। এটা ইনফ্যাচুয়েশন হতেও পারে। আমি সঠিক ব্যাখ্যা খুঁজে না পাওয়া অবধি এগোতে চাই না। হয়তো এগোনো হবেও না কখনো। এটা খুব কমপ্লিকেটেড!”

মুঈন ভীষণ অবাক হয়ে বললো,“রিয়েলি! কে সেই লাকি গার্ল! নামটা তো বলো! ঠিকানা তো দাও। প্রস্তাব দিই, বিয়ে হোক, তারপর কমপ্লিকেটেড নাকি পরে বুঝে নেবো!”

হাসছে ইহান। একটা ঝকঝকে পাথরের টুকরো তুলে পুলে ছুড়ে মেরে বলে,“আমি মজা করছি না, এটা কমপ্লিকেটেড! এই অনুভূতির জবাব হুট করে দেয়া যায়না, সময় নিতে হয় মুঈন।”

_কত সময়? আমরা অলরেডি একত্রিশ ইহান।

ইহান জবাব না দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। মুঈনের ফোনে রিচি তালুকদারের ছবির দিকে তাকিয়ে বলে,“এসব দেখাদেখি করো না! আমার সময় লাগবে।”

ইশি ঠান্ডা জুস নিয়ে আসে ওদের কাছে। ইহান ওদের দুজনকে গল্প করতে বলে পুলসাইড থেকে চলে যায়।

ইনশিরাহ গিয়ে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলে,“দেখিয়েছো দাদানকে ছবিটা?”

_হু,পাত্তা দিলো না। বললো সময় চাই।

ইনশিরাহ মুখ শুকনো করে ঠান্ডা জুসের গ্লাসটা পাশে রেখে বসলো, মুঈন ওর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,“এই তোমাদের সব ভাইবোনের সবকিছুতে সময় চাওয়া একটা বৈশিষ্ট্য তাইনা? এতোটা সময় আমি বিসিএসের প্রিপারেশনের জন্যও নিইনি।”

ইনশিরাহ হেসে কুটি কুটি হলো, মুঈন বৌকে হাসাতে পেরে খুশি। ওকে টেনে কাছে নিয়ে দেখতে লাগলো, আজ একটা লাল রঙের সালোয়ার স্যুট পরেছে নিজের ইচ্ছেতে।

নিচতলায় নেমে ইহান দেখলো বাড়ির সবাই একসাথে বসে আছে। এরা একসাথে হলে এদের প্রসঙ্গের অভাব পরেনা। হেন জিনিস নেই যা নিয়ে এরা আলাপ না পারে। ইনু ডাইনিংয়ের ওখানে বসে আমভর্তা খাচ্ছে।

ইহান গিয়ে বসলো সবার কাছে।

এক কথায়,দুই কথায় যখন আহসান পরিবারের গসিপ উঠলো, রিতু বড্ড আফসোস মাখা কন্ঠে প্রেরণার ব্যাপারে বলতে লাগলো, মেয়েটার জীবনে শান্তি নেই,ইত্যাদি ইত্যাদি। আলো আর পরী দু'জনেও তাল মিলিয়ে বলতে লাগলো।
ইহান চুপচাপ শুনছিলো, হুট করে রিতু সামিনকে বলে উঠলো,“ভাইয়া একটা কাজ করলে কেমন হয়?”

_কি কাজ?
অবাক হয়ে জানতে চায় সামিন।

_রাজন ভাইয়ের ছেলে মুহিবের সাথে প্রেরণার বিয়ের কথাটা তুলবো প্রিতমের কাছে?

মুহুর্তেই হা হয়ে গেলো সবাই,ইহান একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মায়ের মুখের দিকে। সামিন হতভম্ব হয়ে বলে,“হোয়্যাট!”

_ভাইয়া দেখেন ভালো হবে, দুজনকেই আমরা চিনি, মুহিবের বয়স কি বেশি? একচল্লিশ তেমন বেশি বয়স না, কত ভালো একটা ছেলে, তাছাড়া মুহিবের মেয়েটাও প্রেরণার কাছে ভালো থাকবে!

কথাটা বলে শেষ করতে পারলো না রিতু, অকস্মাৎ ইহান কেমন ধ'ম'ক দিয়ে উঠলো মা'কে, বললো,“এসব কেমন আচরণ মাম্মা? কেমন আচরণ এসব? তুমি পাগল হয়েছো? ডিসগাস্টিং!”

_ডিসগাস্টিংয়ের কি হলো!
হতবাক হয়ে বলে রিতু।

সামিন ইহানের দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বলে,“শাট আপ ইহান!”

তারপর রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে,“এটা ঠিক না রিতু! এভাবে আমাদের নাক গলানো উচিত নয়।”

ইহানের হঠাৎ এতো বেশি মেজাজ খারাপ হলো কেন সে বুঝতে পারছে না, ঘনঘন দুবার নিঃশ্বাস ফেলে বললো ,“আচ্ছা তোমাদের মহিলাদের আর কোনো কাজ নেই? বিরক্ত লাগছে মাম্মা!”

আলো পরী চাচা ভাতিজার প্রথম ধমকেই চুপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রিতু অবুঝের মতো বলে,“আমার তো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। রাগ কেন করছিস? মুহিবের বয়স দেখে? আরে কি অদ্ভুত, প্রেরণারও তো বয়স হয়েছে, একজন বিধবা মেয়ের জন্য এর থেকে ভালো সম্বন্ধ হয়? দু'জনের পিছুটান আছে,তাই দু'জন দু'জনকে খুব ভালো করে বুঝবে। সর্বোপরি মুহিব চমৎকার একজন মানুষ,তুইও জানিস সেটা!”

ইহান নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে চুপচাপ বসে থাকে। সামিন উত্তর দেয়,“ওদের ফ্যামিলি থেকে কেউ বিয়ের কথা তুলেছে? তুমি কেন আগ বাড়িয়ে এসব করবে? ওরা বিরক্তও তো হতে পারে।”

_তুলেছে তো, তুলেছে! ইনুর জামাই তুলেছে, ইনুকে জিজ্ঞেস করুন!

ইহান মাথা তুলে তৎক্ষণাৎ ইনুর দিকে তাকায়। ইনু আমভর্তা গলায় আঁটকে কাঁশতে থাকে অবিরত। আসার সময় গাড়িতে সে মা চাচীদের সাথে কথায় কথায় বলে দিয়েছে প্রিতম প্রেরণার বিয়ে দিতে চাচ্ছে।

ইহান কেমন গম্ভীর কন্ঠে ইনুকে বলে,“প্রিতম বিয়ে দিতে চাচ্ছে ওনার?”

দাদান এতো রেগে কথা কেন বলছে ইনু বুঝতে পারছে না,সে উপর নিচে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো,“হ্যা।”

_প্রেরণা রাজি?

ইনু দু'পাশে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,“নাহ!”

ইহান চুপ হয়ে যায় তখনই। অতঃপর উঠে দোতলায় চলে যায়। সামিন তখন রিতু,আলো আর পরীকে উদ্দেশ্য করে বলে,“রাজি না। এসব ব্যাপারে এগিয়ো না। ও তো আমাদের শান্ত নয় যে অধিকার খাটিয়ে একটা কথা বলবো, তোমাদের যতই সৎ উদ্দেশ্য থাকুক, এটা মেয়েটার বিরক্তির কারণ হতে পারে। মেয়েটা এমনিতেই ঝুট ঝামেলার মাঝেই থাকে।”

উঠে চলে যায় সামিনও, ইনুও চলে যায়। আলো আর পরীও চলে যায়, বসে থাকে রিতু একা। একটা সামান্য ব্যাপারে ইহান এভাবে রিয়াক্ট করলো! মনটা উদাস হয়ে উঠেছে রিতুর।

দুপুরে প্রিতম এলো শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টি নিয়ে। ইরফানকে নিয়ে তখনও বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি ইলহাম আর ইশমাম।

বাড়ির দুই জামাইকে রিতু আর পরী সযত্নে বেরে খাওয়াতে থাকে। আলো একটা প্লেটে খাবার নিয়ে খাইয়ে দিতে থাকে মেয়ে দুটোকে। আজ বিকেলেই আবার বাড়িটা খালি করে চলে যাবে ওরা,মনটা এখনই উদাসী লাগছে সবার।

ঠিক তখন বাড়ির গাড়ির আওয়াজ শোনা যায় ইয়ার্ড থেকে। খাওয়া রেখে লাফিয়ে ওঠে ইনু আর ইনশিরাহ, চেঁচিয়ে বলে,“ইরফান মির্জা!”

আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা দুই বোনের মধ্যে। বড়রা হাসছে আর দেখছে ওদের। ডাইনিংয়ে থমথমে মুখ নিয়ে বসে আছে প্রিতম।

চলমান........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 75 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন