ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 85

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৮৫
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ফজরের আজান দিয়েছে মিনিট পাঁচেক হলো, সিনিয়র মির্জারা মসজিদ থেকে ফিরেছেন, শ্বশুরদের সাথে মুঈনও ছিলো। রিতু নামাজ আদায় করে রান্নাঘরে,এবং আলো নিজের ঘরের কাবার্ড থেকে মেয়ের জন্য কিছু নকশিকাঁথা বের করছে, এগুলো রেহেনা মানে ইনশিরাহর নানুমনি সেলাই করে রেখে গিয়েছে নাতনির জন্য।এগুলো ইনশিরাহ মুঈনকে দিয়ে দেবে সাথে করে সে।
ইনশিরাহ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে ছিলো তখনও। শুধু ইনশিরাহ নয়,মরার মতো পরে পরে ঘুমাচ্ছে এই বাড়ির আদরের বুড়ো বাচ্চাগুলো সবাই। গতকাল রাতে, ইশি মুঈন চলে যাবে বলে প্রত্যেকে রাত দুটো অবধি জেগে আড্ডা দিয়েছিল,তাই জন্য এই দশা।
আলো কিছুক্ষণ সবাইকে ডাকাডাকি করে ক্লান্ত হয়ে নিচে নামলো, জামাইয়ের জন্য নিজের হাতে নাস্তা না বানালে শান্তি পায়না সে, পরী সকাল সকাল একজন সিরিয়াস ডেলিভারি পেশেন্ট দেখতে ছুটেছে পাশের ব্লকে।

শ্বশুরদের সাথে মুঈন ড্রয়িং রুমের সোফাতে বসে সকালের চা টা খেয়ে দোতলায় উঠে এসে ইশিকে ঘুম থেকে তুললো। চোখ জোড়া ঘুমে আচ্ছন্ন, সারারাত না ঘুমানোর ফলস্বরূপ চোখের আশপাশটা ব্যাথায় টনটন করছে মেয়েটার। মুঈনের ডাকে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বসে।

সামিন এসে হাক ডাক ছেড়ে বাকিদের তোলার চেষ্টা করে, আজ ইহানেরও যেন ঘুম ভাঙতে চাইছে না।
ইশমাম মির্জা ফোন করলেন নিজ জামাইকে, সকালের নাস্তাটা আজ সবাই একসাথে করবেন তাই। কল করেই ইশমাম মির্জা জলদগম্ভীর স্বরে বললেন,“কখন আসছো?”

_এক্ষুনি বাবা।
মিনমিনিয়ে উত্তর দেয় প্রিতম।

_বেশ তাড়াতাড়ি এসো।

_নিশ্চয়ই বাবা।

_প্রেরণাকে নিয়ে আসতে বলে দিয়েছে ইনশিরাহ। ওকে নিয়ে এসো।

_দেখছি বাবা।

_আচ্ছা রাখছি।

_জি বাবা।

ইশমাম কল কেটে ফোঁস করে একটা শ্বাস ছাড়লো, এই ছেলে বাবা ডাক ছাড়া একটা লাইনও বলে না, মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে ইশমামের,অতিভক্তি চোরের লক্ষন, শুধুমাত্র এই কথাটাই মনে হয়, তবে মাঝে মাঝে ভীষণ ভালোও লাগে, বাইরের একটা ছেলে কতটা সাবলীল ভাবে তাকে বাবা বলে ডাকছে এটা ভেবে।

শ্বশুরের দায়িত্ব পালন করে ইশমাম মির্জা উঠে দাঁড়ায়, ততক্ষণে দেখতে পায় ইনু চোখ ডলতে ডলতে নামছে, মেয়েকে দেখে হতাশ ইশমাম। কি স্বাস্থ্যের হাল দিনকে দিন কি বানিয়ে ছাড়ছে !

খাবার টেবিলের কাছে গিয়ে ইশমাম পরীকে না পেয়ে আলোকে বললো,“ও কি কাজ করে ও বাড়িতে খুব? একটু আলাদা ডেকে জানতে চেয়ো তো।”

আলো অবাক হয়ে বলে,“কাজ করলে কি? ওটা তো ওর বাড়ি।”

ইশমাম কিছু বলে না,আলো বলতে থাকে,“তুমি শুধু রেজাল্টের কথা ভাবো। মেয়ে তার বাড়িতে অবশ্যই কাজ করুক। এমনিতেও এসব না শিখিয়ে আমরা ভুল করেছি,চরম ভুল, একজনকে দেখো,কাজ করতে গিয়ে এখন ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্য এর জন্য তোমরা তিন ভাই আমাদের থেকে একচুলও কম দায়ী নও,যখনই ওদের কাজ শেখাতে যেতাম তখনই চেঁচিয়ে উঠতে,“নাআআ। আমার আম্মারা কাজ করবে না।”

ইশমাম হাসতে হাসতে সেখান থেকে প্রস্থান নেয়, আলো আর বাড়ির বৌদের এ ধরণের খোঁচাখুঁচি কথা শুরু হলে সারাদিন চলতেই থাকে। তাই অল্পতেই কেটে পরলো সে।

ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ভেজা চুলে টাওয়াল পেঁচিয়ে ইশি বেরিয়ে নিজেদের ব্যাগেজ গুলো চেক করে নিতে থাকে। মুঈন ততক্ষণে পোশাক পাল্টেছে, ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে পরবে তারা,নতুন পরিবেশ,নতুন গন্তব্যে।

ইশিকে তেরছা নজরে একপলক দেখে মুঈন চোখ সরিয়ে নেয়,এখন মুখমণ্ডল স্বাভাবিক, এই মেয়ের চঞ্চলতা দেখে মনে হচ্ছে ট্রিপে যাচ্ছে এক সপ্তাহের জন্য।

নিজের জন্য একটা সালোয়ার স্যুট বের করে সেটা পরে নেয় ইশি। মুঈন নিচে নামে।

সবাই প্রিতমের অপেক্ষায় ছিলো,প্রিতম এসেছে একা,সাথে করে প্রেরণাকে নিয়ে আসেনি। গতকাল রাতের ট্রেনে ফিরেছে প্রেরণা, মাথাব্যথা থাকায় আসতে পারেনি,তবে ইনশিরাহ মুঈনের জন্য গিফট পাঠিয়েছে প্রিতমের কাছে।

ইহান ইরফান দুই ভাই-ই সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ নিচে নামলো, সবসময়ের মতো বোনের ব্যাগপত্র গাড়িতে ওঠাচ্ছে দুই ভাই,বাড়ির দারোয়ান থাকা সত্ত্বেও।

ব্রেকফাস্ট টেবিল জমজমাট। হাসি আলাপে মুখরিত হলেও মুঈন আড়চোখে তার স্ত্রীকে দেখছিলো,যত সময় গড়াচ্ছে উজ্জ্বল মুখটা মলিন হচ্ছে ইশির।

অবশেষে সেই সময় এলো,যখন এই বাড়ির লোকজন তৃতীয় দফায় বড় মেয়ে জামাইকে বিদায় জানাতে শান্তনীড়ের পোর্চের নিচে সমাবেত হলো।
এইবার আলো কাঁদছে, ভীষণ কাঁদছে। এইবার খুব কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে। ওকে ধরে রেখেছে সামিন।
ইনশিরাহ মায়ের কান্না দেখে নিজেকে শক্ত করে,যেটুকু মন নরম হয়েছিল সেটুকুও কাউকে বুঝতে না দিয়ে মায়ের দুগালে চুমু খেয়ে,হাসতে হাসতে গাড়িতে উঠলো। এমন ভাব করলো যেন সে সত্যিই বেশ আনন্দিত, গাড়িতে উঠেও জানালার বাইরে মুখ বের করে মাম্মা পাপাকে উড়ন্ত চুমু দিয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানায়।

ড্রাইভিং সিটে ইহান,পাশের সিটে ইরফান। মুঈন বসেছে ইনশিরাহর পাশটাতে। সবার বিষণ্ণ মুখ পেছনে ফেলে রেখে গাড়ি চলতে শুরু করে। ইনশিরাহ নিজের সিটে গা এলিয়ে দু'চোখ বন্ধ করে বসে থাকে কিছুক্ষণ। আচমকা নিজের বা হাতটাকে একটা শক্ত দৃঢ় হাতের মুঠোয় টের পেতেই দু'চোখ মেলে তাকায় সে । মুঈনের দু'টো গাঢ় বাদামী চোখ শান্ত ভঙ্গিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে ,তার নরম কোমল হাতটাকে নিজের হাতের মুঠোয় বন্দি করে রেখে চুপচাপ।

পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা,পার করেছে সাত ঘণ্টা, মাঝখানে দুবার বিশ্রামের জন্য থামিয়েছিলো গাড়িটা। ইহান, ইরফান,মুঈন, ইনশিরাহ সবাই পালা করে ড্রাইভ করতে করতে বেশ উপভোগ করেছে জার্নি টা। এখন ইনশিরাহর মন খারাপ নেই বললেই চলে, যত সময় গড়াচ্ছে তার চোখে মুখে ছাপিয়ে যাচ্ছে একটা চাঁপা উত্তেজনা।

ড্রাইভিং সিটে তখন মুঈন ছিলো,তার পাশে ইহান, গাড়ি কেবল বান্দরবান সদর হয়ে লামার রাস্তায় এগোচ্ছে, মুঈনের পোস্টিং লামা হয়েছে। পাহাড়িয়া রাস্তা, অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, উঁচু উঁচু পাহাড় দেখতে দেখতে ইনশিরাহর চোখ ছানাবড়া। বিস্ময়াভিভূত হয়ে শুধু দেখছে জানালার বাইরে উঁকি দিয়ে। মনে হচ্ছে সে অন্যজগতে চলে এসেছে। এক অন্য ভুবনে। ঘাড় ঘুরিয়ে ব্যাগ থেকে তড়িঘড়ি করে ক্যামেরা বের করে ফটাফট দু তিনটে ছবি তুলে নেয় আদিবাসী নারীদের,যারা হাইওয়ের পাশ ঘেঁষে যাচ্ছিলো। এই ক্যামেরাটা গত সপ্তাহে মুঈন গিফট করেছে এ মাসের স্যালারি পেয়েই।
ইনশিরাহর তরুণী মনটা হঠাৎ কিশোরী মেয়েদের মতো হয়ে যায় অন্য ভুবনের সান্নিধ্যে এসে, তারা ক্রস করছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এরিয়া। রাস্তার দু ধারে ছোটো ছোটো টিলার ওপরে হরিণ শাবক দেখে মুগ্ধ নয়নে হা করে তাকিয়ে থেকে দুম করে চেঁচিয়ে ওঠে,“এসপি এটা কি! এ তো মহানগরীর চেয়েও সুন্দর, যেন স্বপ্নপুরী!”

ওর বাচ্চামি দেখে সবাই চুপচাপ হাসে। ইনশিরাহ তখন আপ্লুত হয়ে বলে,“ট্রান্সফার থেকে যদি দারুন কিছু হয় তবে ট্রান্সফারই ভালো।”

মুঈন ড্রাইভ করছে, ইহান রাগী চোখে বোনের দিকে তাকায়, এ ধরণের হালকা রসিকতা তার পছন্দ হয়নি। ইনশিরাহ নিজের বের করে রাখা দাঁতের পাটি আড়াল করে নেয় বড় দাদানের রাগী দৃষ্টি দেখে।

মুঈনকে কার্যালয়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে তারা ফের রওনা হয় কটেজের উদ্দেশ্যে। মুঈন এখান থেকে তার হাজিরা দিয়ে তারপর যাবে।
রাত আটটা বাজে ইনশিরাহরা কটেজে পৌঁছায়, ওখানে গিয়ে দেখতে পায় কটেজ একেবারেই পরিপাটি। শুধু জিনিসপত্র গুলো গুছিয়ে নিতে হবে।
জানতো আজ রাতে কিছুই হবে হবে না, আজ রাতের খাবারটা তারা সাথে করেই নিয়ে এসেছিল। সাংবাদিকদের সাথে মিটিং শেষ করে মুঈন দ্রুত ফিরলো নিজের কার্যালয় থেকে।

রাত তখন দশটার কাছাকাছি, চারজন মিলে কটেজটা পুরো গুছিয়ে নিলো আসবাবপত্র সাজিয়ে। মুঈনের শত বারণ সত্তেও ইহান আর ইরফান শোনেনি। দুই ভাই হাতে হাতে তৃতীয় দফায় সাজিয়ে দিলো বোনের সংসারটা। পাশাপাশি দু'টো রুম, একটা রুমে এসি রয়েছে,আরেকটা রুমে নেই। মুঈন ইহান আর ইরফানকে এসি রুমটা ছেড়ে দিলো থাকতে। দুই ভাই তো মরে গেলেও ঐ রুমে থাকবে না বলে পণ করেছে, অগত্যা হাল ছেড়ে দিয়ে মুঈন ইশি নিজেদের ঘরে শু'লো। আর মির্জা বাড়ির দুলালেরা সেদিন রাতটা বোনের বাড়িতে একটা নরমাল রুমে পার করে দিলো খুশি খুশি, ডিফেন্স ক্যারিয়ারে ইহান এসবে অভ্যস্ত হলেও ইরফান নয়, তবুও বোনের বাড়িতে নিজের আয়েশের জন্য একটুও ভ্রুক্ষেপ হলো না তার।

________

মুঈন ইশির নতুন সংসারের আজ পাঁচদিন। ইহান ইরফান পরেরদিন ভোরেই ফিরেছে ঢাকায়। এখন যে যার কাজে ভীষণ ব্যস্ত।

শান্তিনীড়ের মহিলারা ব্যস্ত তাদের গৃহিণী জীবন নিয়ে। এদের মধ্যে পরী একটু ব্যতিক্রম। সে পেশাজীবী মানুষ,তার ব্যস্ততা আছে। তবে আলো আর রিতুর সারাদিন কাটে নিজেদের বুড়ো স্বামীর সাথে বুড়ো বয়সের আলাপ পেড়ে, রান্নাঘরে অথবা মেয়ে জামাইদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে।
বাড়ির পুরুষেরা ওল্ড ক্লাবে জয়েন হয়েছে সময় কাটাতে, বিকেলে বিকেলে গল্ফ খেলতে চলে যায়, অফিসের দায়িত্ব ইরফানকে দিয়ে।

ইরফান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ঘরে বাইরে নিজের কাজগুলো করছে, ওর নামে আর কোনো কম্প্লেইন আসেনি দেখে আগের তিক্ততার ভয় কিছুটা কমেছে বড়দের মাঝে। এখন দুই ভাইয়ের জন্য দেখেশুনে বৌ নিয়ে আসলেই তাদের ঘাড় থেকে মহা দুশ্চিন্তা নেমে যাবে।

ভদ্রবেশে অফিসে যায় ইরফান, সন্ধ্যার আগে আগে বাড়ি ফেরে, বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে আড্ডা দেয়। রিতু যেখানে সেখানে সিগারেটের টুকরো খুঁজে পায়না আর, খুব গোছালো হয়েছে ইরফান। মায়ের মন এসব দেখে স্বস্তি পায়। তার দিন কাটে আল্লাহর নাম নিয়ে,ইহানের কানের কাছে বিয়ের কথা তুলে তিনবেলা এবং ইনশিরাহকে বাচ্চা নেওয়ার কথা বলতে বলতে।

এইতো এভাবে কাটছে সবার স্বাভাবিক জীবন, নির্ঝঞ্ঝাট প্রতিদিন।

নিউটাউন রোডের আপার ক্যাফেটা বলতে গেলে রাজনৈতিক আড্ডাখানা। এখানে যখন একটি দল আসে তখন গোটা ক্যাফেটাই ব্লকড হয়ে যায়, ইহান মাঝেমাঝে ছেলেদের নিয়ে চলে যায়। আজ যেমন এলো, বিকেলে ঘন্টাখানেক এই ক্যাফেতে কাটিয়ে বিল পে করে যখন ক্যাফের বাইরে পা রাখলো ঠিক তখন আচম্বিতে কারো সাথে হুট করে ধাক্কা লাগে ইহানের, নিজেকে সামলে নিয়ে আগন্তুককে স্যরি বলার সময়টিতে ঘুরে তাকাতেই ইহান দাঁড়িয়ে পরলো, থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সেই নারীও।
মিনিট খানেক হলো ইহান কথা বলতে ভুলে গিয়েছে,যখন হুঁশ এলো, চোয়াল শক্ত করে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলেই সেই মহিলা ডাকলো,“ইহান কেমন আছিস!”

চুপচাপ দাঁড়িয়ে পরলো ইহান। যদিও সে নির্বিকার। তোশা এগিয়ে এসে ওর মুখোমুখি দাঁড়ায়,নিজে থেকেই ছটফটিয়ে বলে,“কেমন আছিস তুই? কি করছিস এখানে!”

_ফাইন! আই হ্যাভ সাম বিজনেস টু টেইক কেয়ার অফ।
রাশভারী গলায় জবাব ইহানের।

তোশার পরনে স্লিভলেস কুর্তি, আর্মিতে আছে, যার সাথে তোশার বিয়ে হয়েছে সেও ইহানেরই ঘনিষ্ট বন্ধু। যার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে ইহানকে ধোঁকা দিয়েছিল।
তোশা ইহানকে দেখে,সেই পরিচিত গম্ভীর মুখ, তাকায় ওর হাতের দিকে। এক হাত পাঞ্জাবির পকেটে রেখে আরেক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। তোশা হাসার চেষ্টা করে বললো,“ইনু ইশির বিয়ে হয়েছে শুনলাম।”

_হু।
অল্প কথায় জবাব ইহানের। তোশা কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছে না, সব কিছু বাদ দিয়েও মাধ্যমিক লাইফ থেকে ইহানের খুব ভালো বন্ধু ছিল সে। হঠাৎ এতদিন পরে দেখা হওয়ায় ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পরলো, ভুলে গেলো তিন বছর আগে সে কি করেছিল ইহানের সাথে।

ইহান অস্বস্তিতে পরেছে, তার রাগ-অনুভূতি কিছুই অবশিষ্ট নেই বাকি। ঠান্ডা গলায় তোশাকে বললো,“তোর হাজবেন্ড কেমন আছে? কোন ক্যান্টনমেন্টে এখন?”

তোশা নিজের স্বামীর কথা চেপে গিয়ে বললো,“আমি যশোর ক্যান্টনমেন্টে। এখন ছুটিতে, আমি প্রেগন্যান্ট ইহান।”

ইহান ওর দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে রোবটিক আওয়াজে বলে,“কংগ্রাচুলেশন।”

সামান্য হেসে তোশা বললো,“প্লিজ আমাকে নির্লজ্জ ভাবিস না,তোকে অনেকদিন পর দেখে এতো ভালো লাগছে। পুরোদস্তুর পলিটিশিয়ান হয়েছিস, নানা যায়গায় তোর পোস্টার দেখি। ভালোই লাগে!”

ইহান নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে। তোশা বলে,“তোর রাফনেস নেই আগের মতো, কেমন ঠান্ডা হয়েছিস।”

ঠোঁট বাঁকিয়ে সামান্য হাসলোও ইহান। তাদের পাশ ঘেঁষে ঠিক তখন একটা স্কুটি এসে থামে। স্কুটিতে প্রেরণা ছিলো, এখানে আপারের পাশের বুটিকসে তার একটু কাজ আছে বলে এলো।
তাড়াহুড়ো করে নেমে প্রেরণা মুখোমুখি হয় ইহান আর তোশার, আপারের বিপরীতে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে, রাস্তায় স্থান সংকুলান। প্রেরণা মাথা তুলে ওদের দেখতেই দাঁড়িয়ে পরলো। তার হাতে একটি বক্স। ইহান প্রেরণাকে দেখতে পেয়েই ভীষণ অস্বস্তিতে পরে গেলো,এমনটা কেনই বা তার হলো সে বুঝতে পারলো না । তোশা তাড়াহুড়ো করে ইহানকে “বাই” বলে নিজের গাড়িতে উঠতেই প্রেরণা এগিয়ে এলো,ইহানকে সালাম দিলো। ইহান সালামের জবাব দিয়েই বললো,“ফ্রেন্ড, এ্যাকচ্যুলি!”

প্রেরণা তৎক্ষণাৎ চোখ বড় বড় করে তাকালো ইহানের চোখে, গম্ভীর ইহান তাজওয়ারের হুটহাট এমন অস্বাভাবিক আচরণে অবাক হতেই হয়। লোকটা এমন ভাবে বললো যেন প্রেরণা জানতে চেয়েছে মেয়েটা কে! ভারি অদ্ভুত ঠেকলো প্রেরণার কাছে।

অমায়িক হেসে প্রেরণা বললো,“আপনাকে এখানে পেয়ে ভালো হলো, আসলে ইনু পায়েশ রেধেছিল,এবং ও চায় এটা শান্তিনীড়ের সবাই খাবে। ওর কোচিং আছে বিধায় বক্স ভরে আমাকে দিলো, বললো আপনার পার্টি অফিসে রাখতে। আমার এখানে কাজ ছিলো, আপনাকে তো পেয়েই গেলাম এখানে, এটা আপনি নিয়ে নিলে আমার আর পার্টি অফিসে যেতে হবে না কষ্ট করে। নিবেন?”

ইহান হাত বাড়িয়ে বক্সটা নিলো। প্রেরণা ইতস্তত করে বললো,“মাইন্ড করলেন?”

_মাইন্ড করবো কেন?
ধীরে ধীরে প্রশ্নটা করলো ইহান।

_আপনি নেতাশ্রেণীর লোক, এভাবে বক্স হাতে ধরিয়ে দিলাম। একটা প্রেস্টিজের ব্যাপার আছে তো!

বলেই প্রেরণা হেসে ফেললো,হাসি থামিয়ে বললো,“মজা করেছি। আসছি।”

কি সুন্দর হাসি! এই মহিলা যখন হাসে একেবারে চোখ দিয়ে হাসে, সরাসরি ইহানের বক্ষপটে গিয়ে আঘাত করলো সমুদ্রনীলার হাসির ঝংকার। প্রেরণা তার দৃষ্টি সীমার বাইরে যাওয়া অবধি ইহান ওকে দেখলো, পরপর একটা বিষয় মাথায় আসতেই অস্বস্তিতে নিজের মাথার চুল টানলো ইহান। সে প্রেরণাকে আগ বাড়িয়ে কেন বলতে গেলো তোশা ইহানের ফ্রেন্ড? কি ভেবেছে ভদ্রমহিলা কে জানে ! নিজের প্রতি বিরক্তিতে মুখটা তেতো করে,হাতে বক্স নিয়ে কপাল কুঁ'চ'কে দাঁড়িয়ে আছে ইহান।

_________

অফিসের কাজগুলো ইশি ভালোই সামলাতে পারছে, ইরফান যদিও খুব হেল্প করে। দিনে মোট তিনঘন্টা ব্যায় করে হিসেব দেখে বাকি সময়টা নিজের ইচ্ছেমত কাটায়। এখানে আসার পরে একজন কেয়ারটেকার এবং বুয়া পেয়েছে খুবই যোগ্য। সবকিছু মিলিয়ে নিড়িবিলি আর স্নিগ্ধ মুঈন ইশির সংসার। সকালে মুঈন অফিসে চলে যায়,ইশি অফিসের কাজ নিয়ে বসে পরে। দুপুরে একসাথে লাঞ্চ, বিকেলে মুঈন অফিসে থাকে, ইশি চলে যায় ক্যামেরা নিয়ে কাছে কোথাও, কোনো টিলাতে ছবি তুলতে, অথবা চলে যায় কাছে কাছের লোকাল মার্কেটে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কিনতে টুকটাক।

রাতে মুঈন ফিরলে দুজন মিলে ডিনার সেরে স্টাডি রুমে বসে, ইশি ঠিক করেছে সিভিল সার্ভিস এক্সামে বসবে। এই ব্যাপারে একটা জেদ ঢুকেছে তার মাথায় হঠাৎ, একদিন কথায় কথায় যখন শুনতে পায় মুঈনের সব বন্ধুদের স্ত্রীরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, হুট করে মুঈন সেদিন খুব প্রশংসা করে ফেলেছিল তাদের। সেদিন ইশির ভীষণ হিংসে হয়েছিল, মুঈন জানলোও না কিছু সেসব কথা। ফটোগ্রাফি ছেড়ে হঠাৎ মাথায় বিসিএসের ভূত চেপে বসেছে দেখে মুঈন খুব অবাক হয়, পরে ইশির হঠাৎ আগ্রহ দেখে মুঈন নিজ দায়িত্বে ওকে পড়াতে বসায়। দু'টো অনলাইন কোচিংয়ে ভর্তি করে দিয়েছে ওকে।

আর রাতে যখন ডিউটি করে বাড়িতে আসে, ঘুমানোর আগে দশটা থেকে সাড়ে এগারোটা, এই দেড় ঘণ্টা খুব ভালো করে ওকে সাহায্য করে মুঈন। এই বিষয়ে ইশির একটুও অলসতা নেই, মুঈনও সারাদিন খেটে এসে অলসতা করে না,ক্লান্ত হয়না,এই ব্যাপারে খুব সিরিয়াস।

তবে আজ ইশির মন বসছে না পড়াতে, একটু স্পেস খুঁজছে সে। এই বিসিএস প্রিপারেশনের চক্করে মুঈনের সাথে প্রেমময় মুহূর্ত খুব কম কাটানো হচ্ছে। কেমন যেন রোবটিক দাম্পত্য।

আজ মুঈন বিছানায় বই নিয়ে বসলো,চোখে তার রিডিং চশমা। ইশিকে টেনে কোলের কাছে নিয়ে গম্ভীর গলায় বললো,“আজ কিছু ইম্পরট্যান্ট টপিক দাগিয়ে দিচ্ছি, ম্যাথ এখান থেকে করবে বুঝলে?”

ইশি দোনামোনা করছে, মুঈন বললো,“শরীর খারাপ নাকি?”

_না, তবে আজ থাক।

_শরীর খারাপ না হলে থাকবে না, বিসিএস মুখের কথা না। এসো আজ একঘন্টা দেখবে। বাকিটা কাল সকালে।

মুঈন ম্যাথের কিছু ইম্পরট্যান্ট চ্যাপ্টার ক্লিয়ার করছিলো,ইশির ওসবে মন নেই, সে মুঈনকে দেখছে, রিডিং চশমা পরায় শ্যামসুন্দর মুখটা একটা প্রফেসরের মতো লাগছে, সুদর্শন উষ্ণ প্রফেসর,যাকে দেখে ভার্সিটির শত শত তরুণী মুগ্ধ হয়।
ইশিকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে মুঈন বলে,“নাও,এখন এখান থেকে এই দু'টো সলভ করো।”

ইশি শুনছে না,গাইগুই করছে। মুঈন বললো,“করো বলছি।”

ইশির মাথায় দুষ্টুমি চাপলো, কখনো মুঈনের চশমা খুলে নিচ্ছে, কখনো ওর অ্যাডামস আপেলে চিমটি কাটছে, কখনো ওর মাশেল দেখছে। মুঈন বাচ্চাদের মতো কর্মকাণ্ড দেখে বললো,“পড়ার সময় পড়া। স্টপ দিস।”

ইশি থামলো,বললো,“তুমি না কেমন জানি হয়ে গিয়েছো এসপি!”

_কেমন হয়ে গিয়েছি?

_কেমন অনাগ্রহী আমার প্রতি।

_এটা কেমন কথা ইশি? কেমন বেহুদা কথা?
বিরক্ত হয়ে বলে মুঈন।

_বেহুদা কথা নয়, হ্যা আমাকে পড়াবে। পড়ানোর সময় তুমি খুব সিরিয়াস হয়ে যাও মানলাম, তাই বলে আমাকে নোটিসও করবে না তুমি? আজ আমি তোমার পছন্দের নাইটিটা পরেছি। দুই একটা কমপ্লিমেন্ট তো পেতে পারি।

মুঈন এতক্ষণে খেয়াল করলো, রানী গোলাপী রঙের একটা সফট সিল্কের নাইটি, এটা মুঈনে ভীষণ পছন্দের। পরলে তার বৌয়ের দিকে তাকালে মুঈনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, অথচ আজ খেয়ালই করলো না, সারাদিনের ব্যস্ততায় মুঈনের মাথা সবসময় ঠিক থাকে না আজকাল। রোমান্টিকতা আসে না।

মুঈন লজ্জিত হলো, ইশিকে কাছে টেনে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে নিজের ভুল কনফেস করে বললো,“আ'ম স্যরি বৌ! ইউ আর লুকিং সো অ্যাডোরেবল লাইক আ পিংক কিটেন!”

ইশির মন ভুললো না, এতোটা হালকা ইম্যাচিওর আচরণ মুঈনের সাথে সে করেনি আগে,আজ অকারণে ব্যাপারটাকে টানলো,বললো,“এটা হয়তো স্বাভাবিক, বিয়ের পরে প্রথম প্রথম স্বামীরা দু চোখে বৌ ছাড়া কাউকে দেখতে পায়না, একেবারে বৌয়ের কাছে পরে থাকে,আর দুদিন গেলে তখন ঐ আকর্ষণ,ঐ ব্যাকুলতা খুঁজেই পাওয়া যায়না, তখন তারা অফিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। বাঙালি পুরুষ আফটার অল! আমি তো চাইনা তুমি সবসময় দেখো আমাকে! ওসব আহ্লাদ চাইনা। আমি চাই যখন যখন আমি তোমার মনের মতো করে সাজবো,তখন আমাকে দেখো। অথচ তোমার চোখই পরে না আমার দিকে।”

মুঈন শান্ত চোখে ইশির দিকে তাকিয়ে আছে। ইশি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,“তুমি, মাম্মা পাপা,এরা আমাকে কত বুঝিয়েছো বিয়ের ব্যাপারে! এইবার আমি কিছু বলি ফরাজী? আমি নিজে যতটুকু বুঝেছি তোমাকে বলি?
শোনো তবে,বিয়ে হচ্ছে এমন একটা টার্ম,এই সম্পর্ক হচ্ছে এমন একটা সম্পর্ক যেটা লালন করতে হয়, প্রতিটা দিন,প্রতিটা মিনিট,নয়তো শুকিয়ে যায়,ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়।”

মুঈন নির্নিমেষ দেখছে ইশিকে। ইশি চুপ হয়ে যায়, সে এতগুলো কথা মুঈনকে কেনো বললো সে নিজেও বুঝতে পারছে না হঠাৎ।

তবে মুঈন বুঝে নিলো সবটা, আসলে বৌ লোকের মনটা এমন, সম্পর্কের শুরু থেকে মুঈনের কথায় কথায় ওকে কাছে টেনে নরম আদর দেওয়া, কথায় কথায় ওর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করা, ওকে যখন তখন চুমু খাওয়া, বা দু'জনের রোমান্টিক মুহূর্ত, এসব পরিস্থিতির চাপে আর হয়ে ওঠে না আগের মতো। মুঈন সময় দিতে পারে না,কিংবা ক্লান্ত থাকলে হয়ে ওঠে না। এসব দিন দিন নোটিস করে ইশি তার অবচেতন মনে গেঁথে রেখেছে,আজ কথায় কথায় বলে ফেললো মুঈনকে।
করে ফেললো নিরব অভিযোগ।
মুঈন শুকনো হাসি হাসে, এই মেয়েরা এতো বোকা, ওরা যদি বুঝতো সারাদিন একটা পুরুষের উপর দিয়ে কতটা ধকল যায়। বিয়ের পর নতুন নতুন ইশিকে কোলে তুলে ঘরময় পায়চারী করেছে, আহ্লাদে আহ্লাদে ভরিয়ে রেখেছে, নারীমনে গেঁথে গিয়েছে ঐ সুখ। বাস্তবতা বোঝেনি, ভাবেনি এই ব্যাপারগুলো তো সবসময় করা সম্ভব না একজন স্বামীর পক্ষে।

ইশি শুয়ে পরলো ওপাশ ফিরে, তার হঠাৎ মনটা খারাপ হলো, মুঈন বই খাতা সরিয়ে রেখে ওকে কোলে তুলে নিলো। ইশি উদাস গলায় বললো,“অভিযোগ করিনি আমি, ছাড়ো।”

মুঈন ছাড়ে না। তীর্যক হাসি হাসে। ইশি সে হাসি দেখে অভিমানে ফেটে পরে,তবে বুঝতে দেয়না। শান্ত স্বরে বলে,“আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড ইউ। তুমি ক্লান্ত থাকো, ক্লান্ত থাকলে এসব রোমান্টিক কথা আসে না মুখে, অলরাইট!”

মুঈন এবার হাসিতে ফেটে পরে, কিছুক্ষণ হেসে বলে,“দিনকে দিন টিনেজার মেয়েদের মতো হয়ে যাচ্ছো।”

_হ্যা সেটাই।
অভিমানে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত ইশি। কিন্তু মুঈনের পুরুষালি শক্তির কাছে অপারগ। মুঈন ওকে কোলে নিয়ে পুরো কটেজ ঘুরে বললো,“এই যে সামনের একসপ্তাহের রাইড আজকে করিয়ে দিলাম। হ্যাপি?”

তারপর মিঠির দিকে তাকিয়ে বলে,“তুই সাক্ষী কিন্তু ,তোর মা যেন পরে অস্বীকার না করে!”

ইশি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায়। পারেনা। ওকে বিছানায় শুইয়ে মুঈন ওর ওপর আধশোয়া হলো,ইশি মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। মুঈন জোর করে তার দুগাল চেপে নিজের দিকে ফিরিয়ে চোখে চোখ রাখে ইশির, ইশি আবারও মুখটা ঘুরিয়ে নেয়। এভাবে আধাঘণ্টা চলে যাওয়ার পরে মুঈন শেষমেশ রাগ দেখিয়ে বলে,“বাড়াবাড়ি হচ্ছে। আমি সব অভিযোগ শুনেছি না ? স্বীকার করেছি না?”

ওকে ধাক্কা মেরে ওঠে ইনশিরাহ, মুঈন হাত টেনে ধরে আবারও গম্ভীর হয়ে বলে,“বাড়াবাড়ি হচ্ছে।”

টেনে ইশিকে আবারও শুইয়ে দেয়। আদুরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হেসে ফেলে ইশি, তার রাগের নাটকটা আর চালিয়ে যেতে পারলো না। ধরা খেয়ে গেলো সে। মুঈন কয়েকমিনিটের জন্য হা করে তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে,“ওরে নাটকবাজ! এই ব্যাপার তবে! দাঁড়াও।”

বলেই দু'টো হাতে আটকে দিলো ইশির দু'টো হাত। হঠাৎ মুঈনের এমন আক্রমণে হকচকিয়ে ওঠে ইশি। ছটফটিয়ে ওঠে। এবারও ছাড়া পেতে মরিয়া সে। ওকে পুরোটা আয়ত্বে নিয়ে মুঈন বললো,“অনেক বাড়াবাড়ি! অনেক বাড়াবাড়ি! এখন করো বাড়াবাড়ি দেখি!”

ইশি ছটফট করছে,বলছে,“মুঈন অভিযোগ করবো না। আমি অংক করবো। আর এমন করবো না,আমি পড়তে বসবো। পড়াও আমাকে‌।”

হাসছে মুঈন। দু'হাতের বাঁধন দৃঢ় করে ইশির গালে গাল ছুঁইয়ে বললো,“অংক পরে। আগে বাড়াবাড়ির হিসেব টা বুঝে নিতে চাই।”

চলমান......

[ অসুস্থ। কাল গল্প নাও পেতে পারেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 85 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন