ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 95

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৯৫ [ ১ম অংশ ]
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

[ ১ম অংশ ]

ফোনের স্ক্রিনে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে প্রেরণা, পাঁচবার রিং হবার পরে ইহান ফোনটা রিসিভ করতেই প্রেরণা খুব করে চাইলো বলতে,“আপনাদের বাড়ির ছেলে ক্ষে'পেছে?”

নিজেকে সংযত করে প্রেরণা বললো,“কি হয়েছে ইহান? ইরফান কিছু বলেছে? এভাবে হুট করে বেড়িয়ে গেলো যে!”

ইহানের কন্ঠস্বর শান্ত।
_নো,নট অ্যাট অল! কোনো অসুবিধা নেই। আপনি উকিলের সাথে কথা বলুন, মঙ্গলবার ও থাকবে!

প্রেরণা কল কেটে মুখ হাসি হাসি করে বসে থাকে কিছুক্ষণ, বহুদিন পরে বেশ আয়েশ করে একটু ফিরনি খেলো, ভাবতে পারেনি সবকিছু এতো সহজে হবে, অন্তত ইরফানকে এতো সহজ করে প্রেরণা নেয়নি, কিন্তু প্রেরণার ভাগ্য সুপ্রসন্ন! এবার ভালোয় ভালোয় প্রণমির পা থেকে এই অহেতুক সুতাটা কেটে ফেলে প্রণমির একটা বিয়ে দিতে হবে। মেয়েটা বড় হয়েছে যথেষ্ট, বিয়ের বয়স হয়েছে। ওর কাউকে দরকার। ভাই বোন নয়, একান্ত নিজের কাউকে দরকার ওর।

ইহান ফোন কেটে বড় বাবা আর পাপার দিকে তাকায়, কিছুক্ষণ আগে ইরফান বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে। এর মাঝে প্রেরণার ফোন এসেছে, ইলহাম ইহানকে বলে,“কি বললো প্রেরণা!”

_জানতে চাইলো কোনো ঝামেলা হচ্ছে কি না!

_ওকে বলে দে মামলা দিয়ে ডিভোর্স নিতে,এ ছেলে হাতের বাইরে গিয়েছে! আমার আর কিছু করার নেই! এই ছেলের ওপর দাবি নেই আমার।
হতাশ গলায় ইলহাম আওড়ায়।

_স্টপ! এখনও সময় আছে ইলহাম, মঙ্গলবার পর্যন্ত!

_কিন্তু ভাইয়া!

_মঙ্গলবার পর্যন্ত.... বললাম তো!

সামিন কথাটা বলে দোতলায় উঠতে থাকে,তার কানে বাজছে,“বড় বাবা! আমার চোখে দেখো,মিথ্যা বলছি না আমি, একটু হেল্প করো আমার! একটু সময় এনে দাও!”

বাকিদের নিচে রেখে পরী ছুটতে ছুটতে উপরে উঠে সামিনের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,“ভাইয়া! রাগবেন না! তবে আমরা বোধহয় এইবার ইরফানের প্রতি কঠোর বেশি হচ্ছি! দেখুন অন্তত বুঝিয়ে যদি প্রণমির সাথে একটু কথা বলিয়ে দেওয়া যায়, ওদের সিদ্ধান্তটা না হয় ওরা নিক, হ্যা ঠিক এটা ভালোবাসার বিয়ে নয়, তবুও সমঝোতা হোক সবার মাঝে! প্রেরণা তো প্রণমিকে কথাই বলতে দিচ্ছে না এই ব্যাপারে। যেখানে বিষয়টা প্রণমির।”

_স্বাভাবিক রিতু, ইরফান ওর বোনের লাভার নয়, কিডন্যাপার!

_মানছি, তবুও প্রণমি যদি ইরফানকে সময় দেয়? বড় ভাবী যেমন আপনাকে দিয়েছিল...

শান্ত চোখে সামিন পরীকে দেখে বলে,“প্রণমি আলো নয়, ঠিক যেমন ইরফান আমি নই, আমাদের আলাদা কাহিনী ছিল, ওদের আলাদা কাহিনী। এসব বেহুদা কথা রাখ, আমাকে ভাবতে দে! পরের মেয়ের জন্য চিন্তা হলে, নিজের ছেলের জন্যও চিন্তা আছে আমার, বাট যে যেটুকু করে মাশুল তাকে দিতেই হয়।”

ইশি ফোনের স্ক্রিনে ভাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, শ্যামলা মুখটা বড্ড কঠিন,কপালে নিলচে শিরা দৃশ্যমান,বহু কষ্টে নিজের উন্মাদনা দমিয়ে রাখার প্রয়াস। অসুস্থ শরীরে ইশি অস্ফুটে বলে,“তুই পাগল ইরু! তুই পাগল!”

_এই এই,তুই আমার চোখ দেখ! তুই আমাকে সবথেকে বেশি জানিস ইশি, তোর কি মনে হচ্ছে আমি বদমায়েশি করবো? এই বাল বল না!

ব্যগ্র কন্ঠস্বর,ইশি ভাইয়ের চোখের দিকে মিনিট খানেক দেখে দু'পাশে মাথা নাড়ে।

_তো তোর বাপ-চাচাকে বোঝা প্লিজ! শা'লা দুনিয়ার সবাই আমার বিরুদ্ধে গেলে ক্যামনে কি হবে?

_ইরু, এসব কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল! প্রণমির চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দে মঙ্গলবার!

ইরফান ছটফটানি থামিয়ে তাকায় বোনের দিকে, ইনশিরাহ বলে,“তুই মিথ্যা বলছিস না তবে অসম্ভব কিছু বলছিস, ঝামেলা আর বাড়াস না! খামোখা!”

_খামোখা?

_এটা হয়? প্রণমি তোকে চায়?

_তো সেটার জন্যই তো সময় চাইছি! তোর বাপ-চাচারা তো শুনছে না!

_ইরু কুল ডাউন! এক্ষেত্রে সবার হাত পা বাঁধা। ও বাড়িতে তোর বোন দেওয়া আছে এটুকু মাথায় রাখতে হবে তাই না? তুই আবার ঝামেলা শুরু করছিস, প্রিতম ভাইয়া এবার ধৈর্য্য রাখবে? ইনুকে যদি সাফার করতে হয়?

ইরফান চুপ হয়ে যায়, ইশি নরম হয়ে বোঝাতে থাকে,“ভাই বোঝার চেষ্টা কর এটা অসম্ভব! আরে তুই যা করেছিলি তুই জেলে থাকতি এতদিনে,বুঝিস? এখন প্রণমির হাত চাইছিস! এটা হয়?”

আর বুঝ নিতে রাজি না ইরফান, চুপচাপ কলটা কেটে একের পর এক সিগারেট ধরাতে লাগলো। শান্তিনীড় থেকে বাইক নিয়ে একটানে এসেছে রাফির বাড়িতে, রাফি, নিক্সন দু'জন ওর দু'পাশে বসে আছে।
সবটা শুনে নিক্সন বলে,“ভাই মাইনকার চিপা বলতে কিছু শুনেছিস কখনও? তুই এক্কেবারে মাইনকার চিপায় পরেছিস! কোনো পথ নেই!”

রাফি সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে বললো,“শা'লা ঐ প্রিতমের আপুটাকে আমি ঠিক ধরেছিলাম, তুখোড় বুদ্ধিমতী!”

_হু,তা বৈকি,নয়তো এই শহরে একা মহিলা দু'টো বিজনেস সামলায়? ভীষণ চালাক!
নিক্সন জবাব দেয়।
ইরফান চুপচাপ সিগারেট টানছে। রাফি নিক্সনের কথার পিঠে বলে,“একেবারে পাশার দান উল্টে দিয়েছে ঠান্ডা মাথায়, চেকমেট দেওয়ার সুযোগ না রেখেই! আ'ম শিয়র ইরফান গাইগুই করলে উনি মামলা করবেই!”

নিক্সন ইরফানের দিকে তাকিয়ে বলে,“ভাই! তুইনা আমার ভালো ভাই? কেন অহেতুক জেদ করছিস! একটা অন্ধ মেয়ে....”

ইরফান শান্ত চোখে নিক্সনের দিকে তাকাতেই নিক্সন দমে যায়, বিড়বিড় করে বলে,“আচ্ছা শোন! একটা বুদ্ধি দিই! তুলে নিয়ে পালিয়ে যা!”

_নো ওয়ে! আমি আর ওকে কষ্ট দেবো না!

_এছাড়া আর কোনো উপায় নেই,আপনি বেহুদা খাটনি দিতেছেন! না ঐ মাইয়া পটবে,না ওর পরিবার,না তোর পরিবার!

ইরফান উদাস হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়। রাফি এ পর্যায়ে হেসে ফেলে,বলে,“শাহরুখ খানের একটা ডায়লগ আছে না? যদি তুমি কোনো কিছুকে মন থেকে চাও তো সমস্ত দুনিয়া তোমাকে সেটি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লেগে পরে, তোর ব্যাপারে উল্টো, সমস্ত দুনিয়া তোকে ঐ জিনিসটা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে! তুই তো ভিলেনই রয়ে গেলি!”

তিন বন্ধু দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকে, ইরফানের সবকিছু অসহ্য লাগছিল। সে উঠে দাড়াতেই নিক্সন বললো,“কিরে বল,এখন কি করবি? আমার তো মাথা কাজ করছে না!”

_যা-ই করি ডিভোর্স দেবো না!
শান্ত দৃঢ় আওয়াজ ইরফানের।

_সেচ্ছায় মামলা খাবি?
হতবাক রাফি আর নিক্সন!

ইরফান বাইকের চাবি নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,“প্রয়োজনে!”

রাত দশটা তখন, বাড়ির সবাই দোতলায় ছিলো, ইরফানের অপেক্ষায়। রিতু একটা কথাও বলেনি ছেলের সাথে,সে শুধু দেখছে কোথায় কোথায় জল গড়িয়ে যাচ্ছে।

ইরফানকে দেখে পরী উঠে বলে,“চল আগে ভাত খেয়ে নে!”

_খাবো না ছোটো মা!

সামিন বললো,“দাড়াও।”

ইরফান গিয়ে চুপচাপ বড় বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ইলহাম কিছু বলতে যাবে সামিন তাকে চোখের ইশারায় থামিয়ে দেয়, অতঃপর ইরফানকে বলে,“পাচ ঘন্টা বাইরে কাটিয়ে এলে, এখন বলো, সিদ্ধান্ত কি তোমার? ডিভোর্স দেবে?”

_না।
টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে বড় বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে জবাব দেয় ইরফান। ইহান রাগান্বিত হতেই ইরফান তাকে বলে,“দেবো না দাদান। তোমাদের যা সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছে হয় নাও!”

স্থবির সামিন,ইলহাম রাগে গজগজ করছে, ইশমাম নরম হয়ে বলে,“ইরফান! বুঝতে পারছিস কি বলছিস?”

_জি, সজ্ঞানে বলছি! কি যেন পরামর্শ দেবে তোমরা প্রেরণা আপাকে? সেটা দাও। আমি কোনো ডিভোর্স দিচ্ছি না।

সামিন এবার রাগলো না,শান্ত স্বরে বললো,“খাম খেয়ালি পনা যথেষ্ট করেছো!”

_আমি তোমাদের সবাইকে অনুরোধও করেছি বড়বাবা!

_যেটা কখনো হয়না, হাস্যকর!

ইরফান চুপ করে আছে, ইলহাম বলে,“এখন এটা নিয়ে একটা দাঙ্গা হোক তুই চাস? কি ভেবেছিস আমরা বাঁচিয়ে নেবো?”

_না,এমন কিছুর আশা আমি করছি না।

এবার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সামিন বলে,“এতো জেদ! এতো জেদ আসছে কোথা থেকে তোমার? দু'দিন জেলের ভাত খেলে এসব বেড়িয়ে যাবে। বোঝো বাস্তবতা?”

_না বাস্তবতা কি? বোঝাও আমাকে!

ইলহাম ইরফানকে চ'ড় মারতে উদ্যত হয়,“তুই ভাইয়ার সাথে তর্ক করছিস আবার!”

সামিন হাত টেনে ধরে ইলহামের। ইরফান বড়বাবার চোখের দিকে নরম দৃষ্টি দিয়ে বলে,“বড় বাবা! একবার তালাক হলে তো সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে! আমি কোনোভাবেই এটা হতে দেবো না! আমি আদায় করতে চাই আমার খুশি!”

_আদায় আদায় আদায়। সবকিছু গায়ের জোরে হয়না এটাও বুঝতে হবে তোমাকে।

_আমি গায়ের জোরে চাচ্ছি না বিধায়ই সময় চাইছি তোমাদের সবার থেকে! নয়তো তোমরা জানো আমি....

সামিন ভয়ংকর এক ধমক দেয় ইরফানকে,“ব্যস। অনেক হয়েছে! এতো পাওয়ার কোথা থেকে আসে তোমার? তুমি এতো বড় ঘরের ছেলে বলেই তো এতো কনফিডেন্ট? দু'দিন এই বাড়ির পরিচয় ছাড়া চলে দেখাও, তাহলে বুঝবো কত দম!”

ইরফান তাকিয়ে আছে, ইলহাম তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে,“ঠিক বলেছো ভাইয়া। ছোটো বেলা থেকে অর্থ প্রাচুর্যের মধ্যে থেকে ওর এমন অবস্থা হয়েছে যে ধরে নিচ্ছে যা চাওয়া হয় তাই-ই হয়তো পাওয়া যায়। দু'দিন রাস্তায় ঘুরলে বুঝতো ওর অওকাত কি!”

ইরফান চেয়ে চেয়ে বাবা চাচাকে দেখছে, পরপর বলে,“এসবের সাথে আমার অওকাতের কি সম্পর্ক?”

_সম্পর্ক আছে! এতো বিত্ত বৈভবের মধ্যে থেকে একটা আত্ম অহমিকা তোমার মধ্যে তৈরি হয়েছে, যার শিকার বানাতে চলেছো প্রণমিকে, ভেবেছো চাইলেই প্রণমিকে হাসিল করবে, এতটা সহজ? দু'দিন জীবনের সংগ্রাম দেখলে এসব জেদ দূর দূর করে পালাবে!

ইরফান চুপ করে রইলো দীর্ঘসময়, তারপর জেদ চাপলো মাথায়, বললো,“চ্যলেঞ্জ করছো আমার অওকাত নিয়ে?”

সামিন মাথা নাড়ায়,“না,তোমাকে বোঝাতে চাইছি প্রণমি তোমার জেদ, জেদ আমি এ বাড়ির বৌ করে ঘরে তুলবো না যদি না ও তোমার ভালোবাসা হয়।”

একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ইরফান,বলে,“ঠিকাছে! তো কিভাবে প্রমাণ করতে পারি ও আমার জেদ নয়?”

_এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে দেখাও,প্রণমিকে তুমি নিজে বোঝাও, এবং ওর পরিবারকেও! আমাদের থেকে কোনো রকমের অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা না করে। ইভেন তোমার বন্ধু বান্ধবদের থেকেও! পারলে নিজের ক্ষমতা, অবশ্যই পজিটিভিটি দিয়ে করে দেখাও! এসব ঘাড়ত্যাড়ামি সাইডে রেখে!

সামিন অত্যন্ত শান্ত স্বরে কথাগুলো আওড়ায়। ইরফান এক এক করে বাবা,চাচা,ভাই,মা,ছোটো চাচীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,“বেশ!”

এরপর ইরফান নিজের ওয়ালেট বের করে দু'টো কার্ড বের করে সেন্টার টেবিলের ওপর রাখে। খুলে দেয় তিন লাখ টাকা মূল্যের হাতের ঘড়িটাও, ওয়ালেট থেকে নগদ অর্থ বের করতে নিলে সামিন বললো,“ওটা তোমার স্যালারি সম্ভবত! রাখতে পারো!”

ইলহাম পাশ থেকে বলে,“এখন বেড়িয়ে যা, চাকুরিটা কেড়ে নিচ্ছি না কারণ ওটা তুই নিজের যোগ্যতায় পেয়েছিস।”

ইরফান ঘুরে ঘুরে সবাইকে এক পলক দেখলো, সবাই স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,কেউ ওর দিকে তাকায় না, রিতুও না। ইশমাম বলে ওঠে,“মেজো ভাইয়া, ও এতো রাতে কোথায় যাবে!”

_টাকা আছে, সামান্য কামাই করতে শিখেছে, থাকার যায়গা ম্যানেজ করে নেবে, এতো বড় বড় অকাজ করার মুরোদ থাকলে এটুকুও পারবে।

ইরফান আর কিছু বলে না, সামিন বলে,“সাবধানে থেকো! সময় মাত্র কয়েকটা দিন, মঙ্গলবারের আগে সবটা সামলে দেখাও। যেভাবে বলেছি ঠিক সেভাবে।”

_______

ঠিক রাত সাড়ে বারোটার সময়ে ইরফান পনেরো হাজার নগদ এবং আরো উনিশ হাজার অ্যাকাউন্টে নিয়ে একটা মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেলে উঠলো,এই হোটেলটা তাদের ছিলো, পরে বিক্রি করে দিয়েছিল। টাকার পরিমাণ খুবই কম, দুমাসের স্যালারি ইরফান দু হাতে খরচ করেছে, তার সেভিংস ছিলো না বললেই চলে নিজের স্যালারি থেকে। এই টাকাগুলো তার আগামী কয়েক দিনের খরচা! বাড়ি থেকে বেড়োনোর সময় ইরফান নিজের অতি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়েছে মাত্র, এছাড়া সে খালি পুরোপুরি।

অত রাতেও প্রণমিকে জেগে থাকতে দেখে প্রেরণা এগিয়ে যায়,মিস জেনি ঘুমিয়েছে। প্রণমি নিজের বিছানায় চুপচাপ বসেছিল।

প্রেরণা ডাকলো,“ঘুম আসছে না প্রণো?”

_এইতো আপু ঘুমাবো।

_মাথায় ঠান্ডা তেল লাগিয়ে দেবো?

দুইবোন মিলে ড্রয়িংরুমের বাতি জ্বেলে বসলো। প্রণমির নির্লিপ্ততা দেখে প্রেরণাই বলে,“তোর কি মনের মধ্যে দ্বিধা আছে প্রণো?”

চমকে ওঠে প্রণমি। বলে,“কেন আপু?”

_এই যে, যত যাই হোক, কবুল বলেছিস, স্বামীর প্রতি অদৃশ্য এক টান অনুভব করতেই পারিস অলৌকিক ভাবে!

প্রণমি বলে,“কি যে বলো না আপু!”

প্রেরণা হাসে, বোনকে আগলে নিয়ে বলে,“সব ঠিক হয়ে যাবে প্রণো। খুব ভালো বিয়ে দেবো তোর! একটা ভদ্রলোকের কাছে!”

_আমি বিয়ে করবো না। এছাড়া তোমরা যা ভালো মনে করো।

প্রেরণা প্রণমির চুলে বিনুনি কাটে,প্রণমি বলে,“আচ্ছা আপু! উনি কি ডিভোর্স দেবেন?”

_হু, কেনো দেবে না? সবাই বললো তো দেবে। তুই চিন্তা করিস না, একবারে সব মিটমাট করবো। যা ঘুমা।

______

দুপুর থেকে অস্থির হয়ে আছে রিতুর মনটা, কিন্তু সে নিজেকে সামলে রেখেছে, স্বামী, ভাসুরের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে শুধু। ছেলের জন্য বুক পুড়লেও তার আঁচ কাউকে পেতে দিচ্ছে না।

ইরফান অফিসে গিয়েছিল আজ যথাসময়েই,অফিস করেছে চুপচাপ, বাবা চাচার সাথে দেখাও হয়েছে, ইহানের সাথেও দেখা হয়েছে,ইহান একটা কাজে অফিসে গিয়েছিল, স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়নি অফিশিয়াল বিষয় ছাড়া।
দুপুরে ইরফান খেয়েছে একটা রেস্তোরাঁয়, মির্জা বাড়ির লোকগুলোও খেয়েছে নামমাত্র,রান্না হয়েছিল নিরামিষি তরকারি, কারো মন ভালো নেই তাই।

অফিস শেষ করেই ইরফান ছুটে চলে যায় ছায়ানটে ঐদিন বিকেলে, তার দৃষ্টি খুঁজছে প্রণমিকে। ওস্তাদজি ইরফানকে দেখতে পেয়েই বললো,“তুমি নিয়মিত আসছো না যে ইরফান? কোনো অসুবিধা?”

ইরফান ওসবের জবাব না দিয়ে বলে, তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলে,“ওস্তাদ জি! আমি একটু প্রণমির সাথে কথা বলতে চাই।”

প্রণমির কপালে ভাঁজ পরে, ইরফান মিস জেনির দিকে তাকিয়ে ভীষণ নম্রস্বরে বলে,“মিস জেনি প্লিজ! আর আসবো না আমি ছায়ানটে, আজ কথা বলতেই হবে আমার!”

মিস জেনি ইরফানের অনুরোধ ফেলতে পারে না,প্রণমিকে বলে,“মামণি একটু শোনো কি বলতে চায়! আমি বাইরে আছি!”

চলমান...

[ ২য় অংশের লিংক কমেন্টে ]#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৯৫ [ ২য় অংশ ]

প্রণমির রাগ হচ্ছে, ভীষণ রাগ হচ্ছে, কিন্তু সে বুঝতে দেয়নি। ইরফান তার মুখোমুখি বসা, আবারও ধীরস্থির বললো,“আমি তোমার থেকে একটু সময় চাচ্ছি প্রণো!”

খুবই শান্ত স্বর, নেই কোনো জেদ। প্রণমি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে,“আপনি ভাবলেন কি করে এটা হবে? মানে টা কি ইরফান মির্জা? আমি আপনার সাথে নরম হয়ে এতদিন কথা বলেছি দেখে ভেবে নিয়েছেন আমার কাছে এই বিয়েটার অস্তিত্ব আছে? এই বিয়েটা আমি মানি?”

ইরফান তাকিয়ে আছে, প্রণমি বলতে থাকে,“আপু ভাইয়া হয়তো বিয়েটা মানে, তাই ডিভোর্স নিয়ে ওনাদের এতো মাথাব্যথা, আমি মানি না, তাই আপনি আমাকে তালাক দিলেন কি না দিলেন তাতে কিচ্ছু এসে যায়না আমার। আপনার যা ইচ্ছা করুন!”

ইরফান আরও নরম হলো, নিজেকে সংযত রেখে মৃদু আওয়াজে বললো,“প্রণো! আমাকে বোঝার চেষ্টা করো! আমি শুধু কিছুটা সময় চাইছি! বলিনি সব কিছু ভুলে আমাকে স্বামী বলে মানতেই হবে। শুধু সময় চাইছি প্রণো। আমি একটু চেষ্টা তো করতে পারি!”

_আমি চাচ্ছি না আপনি চেষ্টা করুন, কি চেষ্টা করবেন? কি হাস্যকর কথা বললেন তাইনা ইরফান মির্জা? কিডন্যাপ করেছেন, জোর জবরদস্তি বিয়ে করেছেন, হুট করে ভালোবাসা হয়ে গেলো? ভালোবাসা এতো স্বস্তা? আপনি আমার কাছে একজন কিডন্যাপারই থাকবেন, আমার স্বামী না। প্লিজ যান আপনি এখন এখান থেকে,আজ আপু আসবে এখানে, আপনাকে এখানে দেখলে আরেকটা ঝামেলা হবে। এসব নাটক বন্ধ করে,এখন যান!

ইরফান শান্ত হয়ে দেখতে থাকে প্রণমিকে,প্রণমি বলে,“কি? এখন কি? তুলে নিয়ে যান আমাকে! এছাড়া আর কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।”

ইরফান আর একটা কথাও না বলে উঠে দাঁড়ায়,ঠিক তখনই ছায়ানটে এসে পৌঁছায় প্রেরণা। সামনে চ্যানেল আই তে একটা গানের শোতে প্রণমি অডিশন দেবে প্রেরণার ইচ্ছে,সে ব্যাপারে ওস্তাদ জির সাথে কথা বলতেই আসা।

ইরফান মির্জাকে ছায়ানটে দেখে যতটা না হতভম্ব হয়েছে প্রেরণা,তার থেকেও বেশি হতভম্ব হয়েছে নিজের বোনের এমন নির্লিপ্ত ভাব দেখে। ইরফান মুখোমুখি হয় প্রেরণার, প্রেরণার ভেতরটা রাগে জ্বলে গেলেও ওখানে কোনো রকম সিনক্রিয়েট সে করেনা। বোনের হাত ধরে চুপচাপ বেড়িয়ে যায়।

অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে রাগে ফেটে পরে প্রেরণা। ওর চেঁচামেচির শব্দে প্রিতম ইনু ঘর থেকে বেরিয়ে আসে, বোনের ওপর চেঁচিয়ে প্রেরণা জানতে চায়,“কতদিন ধরে চলছে এসব?”

প্রণমি চুপ করে আছে,মিস জেনি পাশ থেকে আমতা আমতা করে বলে,“প্রেরণা মামনি শোনো! তুমি যা ভাবছো তা নয়!”

_তা নয় তো কি মিস জেনি? ঐ ছেলে ওর কে হয় যে এভাবে এসব গোপন করেছে? আর আপনি? আপনি তাতে সাথ দিলেন?

_আপু মিস জেনিকে আমি বলতে নিষেধ করেছি!
কাপা গলায় প্রণমি বলে। প্রেরণা ক্ষেপে উঠেছে,“হ্যা তা তো বুঝতে পেরেছি! এখন দয়া করে বল ঐ ছেলের সাথে তোর কি নয়তো এক চ'ড় মারবো তোকে!”

প্রিতম গিয়ে বড় আপুকে আটকে জানতে চায়,“আপু কি হয়েছে? ওকে বকছো কেন?”

প্রেরণা থেমে থেমে প্রিতমকে সবটা বলতেই প্রিতম হতভম্ব হয়ে প্রণমিকে দেখে, প্রণমি নিজের সাফাই গাওয়ার জন্য বলতে থাকে,“ভাইয়া বিশ্বাস করো ওনার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই আমার, সত্যিই নেই! আমিতো লুকিয়েছি যাতে কোনো ঝামেলা না হয় তাছাড়া উনি আমাকে বিরক্ত করার জন্য যেতেন না....”

চেঁচিয়ে উঠল প্রেরণা,“ন্যাকামি হচ্ছে? ফাজিল মেয়ে একটা, ঝামেলা চায়না তাই কিডন্যাপের হয়ে সাফাই গাইছে, বেশি পেকেছিস তুই? এতগুলো দিন চলে গেলো,আমি কিছুই জানতে পারলাম না!”

ইনু ভাইবোনদের মাঝে আর ঢোকে না, চুপচাপ নিজের রুমে গিয়ে বসে থাকে।

“আহাম্মক মেয়ে! ঐ ছেলে তোর কাছে কেন যায় বুঝিস না? তোর ব্রেইন ওয়াশ করতে, তোর ব্রেইন থাকলে তো বুঝবি! করবি? স্বামীর সাথে সংসার করবি? আমি তাহলে ডিভোর্স থামিয়ে দিই? দেবো থামিয়ে?”

এতোটা ক্ষিপ্ত প্রেরণা কখনও হয়নি বোনের ওপর,প্রণমি নিশ্চুপ কাঁদে,বলে,“না আপু,এমন কিছুই না!”

প্রিতম বড় আপুকে বোঝায়,“আপু শান্ত হও। ওকে বকাবকি করে তো লাভ নেই। যা হয়েছে হয়েছে ,এখন জিজ্ঞেস করো ওর আর ইরফানের মধ্যে কোনো বোঝাপড়া হয়েছে কিনা, যদি ও ওর স্বামীর সাথে থাকতে চায় তাহলে আমার বোন মির্জা বাড়িতে দিয়ে আসবো আমি। যে মেয়ে এতো বড় কথা ভাইবোনের থেকে লুকাতে পারে সে তো যথেষ্ট বড়,ও-ই নিক ওর জীবনের সিদ্ধান্ত, তুমি আমি নাক না গলাই।”

প্রণমি কাপা গলায় বলল,“ভাইয়া ভুল বুঝছো তোমরা আমায়, এমন কিছুই না, তোমরা আমার সব, ঐ লোককে চাই না আমি, চাই না!”

ইনু ঘরে বসে ইরফানকে কল দেয়, ইরফান তখন দ্য মুন টকসের পাশ ঘেঁষে হাঁটছিল,একজন হুজুরের সাথে কিছুক্ষণ আগে তার কথা হয়েছে, সদররোড মসজিদের হুজুরের কথাগুলো কানে বাজছে ইরফানের,“একবার তালাক হয়ে গেলে বাবা ঐ মেয়ে ইহজনমে তোমার জন্য হারাম! তালাক দিলে তাকে পুনরায় গ্রহণ করতে পারবে না তুমি, যদিও দেশের আইন এটা গায়ে মাখে না, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা বিরাট পাপ!”

______

গতকাল মাঝরাত থেকে মিস জেনি অসুস্থ, সকালে প্রেরণা আর দেরি না করে মিস জেনিকে ডক্টরের কাছে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, একটা রেগুলার চেক-আপ নিতো আগেও, গত একমাসে নিচ্ছে না। প্রেরণা বিরক্ত,“আমি কতদিক মনে রাখবো মিস জেনি? আপনি যদি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন গাফিলতি করেন।”

জবাবে মিস জেনি শুধু হাসে, শুদ্ধ বায়না ধরেছে তাকেও নিয়ে যেতে হবে, প্রেরণা ওকে বুঝিয়ে রেখে যেতে পারেনি, অগত্যা সাথে করে নিয়ে গিয়েছে। ইনু গিয়েছে ভার্সিটিতে, এই সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস আজ, প্রিতম পৌঁছে দিয়ে এসেছে। বাড়িতে শুধু প্রিতম আর প্রণমিই ছিলো। প্রণমি ঘর থেকে বেড়োয়নি, গতকাল সন্ধ্যায় ভাইয়া আপু চূড়ান্ত রাগারাগী করার পর থেকে মুখ শুকনো করে ঘরেই ছিলো। তার রাগ হচ্ছিল শুধুমাত্র ইরফান মির্জার ওপর।

প্রিতম দুবার ডেকেছে প্রণোকে, গতরাতে রাগারাগী করলেও এখন নরম হয়ে বোঝায় বোনকে,“এতো বোকা হলে হয়না প্রণো। যা করছি তোর ভালোর জন্য করছি, তুই মাঝখান থেকে এতো বড় একটা বোকামি করলি? যদি কোনো অঘটন ঘটতো?”

প্রণমি নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,“স্যরি ভাইয়া!”

_আচ্ছা ঠিকাছে, ইটস্ ওকে! কফি খাবি? কফি বানিয়ে দেবো?

মাথা নেড়ে হ্যা বলে প্রণমি। প্রিতম কিচেনের দিকে গেলেও কফি বানাতে পারলো না, ইনুর কল এসেছে, তার ব্লিডিং হচ্ছে হঠাৎ করে, শরীরটা ভালো লাগছে না।

প্রণমি শুনে বললো,“শিগগির যাও ভাইয়া!”

_তুই,দরজা খুলবি না অন্য কেউ এলে,ঠিক আছে?

_ঠিক আছে তুমি যাও।

প্রিতম বেড়িয়ে যাওয়ার পরে আধাঘণ্টার মতো একা বসেছিল প্রণমি,এর মাঝে হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠতেই প্রণমি ছড়ি নিয়ে সদর দরজার কাছে যায়। এই সময়ে কে হতে পারে ভাবল প্রণমি, দরজার সাথে কান চেপে রেখে জানতে চাইলো,“কে?”

_আমি ইরফান মির্জা।
বাইরে থেকে শান্ত স্বরে জবাব দেয়। প্রণমি চ'ম'কে ওঠে, একবার ভাবলো ভাইয়াকে কল করবে, পর পর নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দরজা খোলে,আজ এই লোকের একদিন কি তার একদিন!

দরজা খুলে দিতেই প্রণমি বলে,“কি চাই?”

_প্রেরণা আপুর কাছে এসেছি, উনি কোথায়?

_নাটক? আপনি মোটেই প্রেরণা আপুর কাছে আসেননি,আপনি এসেছেন আমাকে জ্বালাতে, আমি যাস্ট অবাক হচ্ছি এতোটা নির্লজ্জ একজন লোক কি করে হয়?

ইরফান চুপ করে প্রণমিকে দেখছে,তার মুখভঙ্গি কঠিন,তবে কানে বাজছে বড় বাবার কথাটা,“পারলে নিজের ক্ষমতা, অবশ্যই পজিটিভিটি দিয়ে করে দেখাও! এসব ঘাড়ত্যাড়ামি সাইডে রেখে! পারলে ওদের বোঝাও ধৈর্য্য নিয়ে!”

প্রণমি বলে,“আপনাকে কিছু বলার নেই আমার! কুত্তার মতো পিছে পরে আছেন আমার! কি চান? আমার থেকে কি চান? না কোনো অনুশোচনা আছে না আছে লজ্জা,এখন বলছেন সংসার করতে চান আমার সাথে! অদ্ভুত! মানবিক বিয়ে করবেন? এতো দয়া আপনার শরীরে! রাজা রামমোহনের বংশোধর! অন্ধ মেয়ের প্রতি এতো দয়া জেগে উঠেছে? আসুক মঙ্গলবার! তালাক না দিলে একেবারে কুরুক্ষেত্র বাধাবো আমি। বেড়িয়ে যান বাড়ি থেকে!”

ইরফান চুপচাপ শুনলো প্রণমির কথা গুলো,প্রণমি বড় বড় শ্বাস ফেললো। বলতে লাগলো,“বেড়িয়ে যান বলছি নয়তো আমি লোক জড়ো করবো!”

হাপাচ্ছে প্রণমি, কেঁদে ফেলেছে হঠাৎ, ইরফান ওকে বেশ কিছুক্ষণ দেখে একটা লম্বা শ্বাস ফেললো,বললো,“যাচ্ছি আমি। দরজা লাগিয়ে নাও তুমি!”

অতি শীতল শোনালো বাক্যটা, প্রণমি চমকায়।‌ ইরফান আবারও বলে,“আমি প্রেরণা আপুর কাছেই এসেছিলাম,তোমার হাত চাইতে, তোমাকে জ্বালাতে নয়। কুত্তার মতো পরে নেই আমি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

জবাব নেই প্রণমির, ইরফান বলে,“আর শোনো, কুত্তার মতো পরে থাকবো না আর, তবে তালাক এতো সহজে আমি দিচ্ছি না। তোমরা তিন ভাইবোন যা খুশি করতে পারো। দরজা লাগাও।”

আদেশের সুর ইরফানের কন্ঠে,প্রণমির আর সহ্য হয়না উগ্র জেদী লোকটাকে। ঠাশ করে দরজা চাপিয়ে দিয়ে দরজায় ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ।
তার কেমন অস্থির লাগছে, কেনো এই অস্থিরতা সে বুঝতে পারছে না।

সময় পেড়োয়,একা বাড়িতে বড্ড হাঁসফাঁস লাগছে,আপু অথবা ভাইয়াকে ফোন দিতে চাইলো মনটা,ওয়াচটা রুমে,প্রণমি নিজেকে সামলে নিয়ে রুমের দিকে যেতে নিলে আবারও কলিং বেল বেজে ওঠে, প্রণমি এবার দাঁতে দাঁত চেপে দরজা খোলে, নাকে লাগে আবারও সেই পরিচিত আনকমন পারফিউমের ঘ্রাণ। রেগেমেগে বলে,“লজ্জা নেই তাইনা? লজ্জা নেই? আবারও এসেছেন?”

রাদিফ ওকে দেখছে, সে নিজের মধ্যে নেই, ডুলছিলো। মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগ নেয়ার প্রভাবে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছে,তাকে লাগছে অনেকদিনের ভুখা একটা জংলি হায়েনার মতো, দৃষ্টি তার চকচক করছে প্রণমির ধবধবে ফর্সা পদযুগল দেখে।

প্রণমি চেঁচায়,“কথা বলছেন না কেন ইরফান মির্জা, আবার কি?”

রাদিফ দুলতে দুলতে ঘরে ঢোকে, গোটা অ্যাপার্টমেন্ট ফাঁকা, এই মেয়ে অন্ধ। একটু যদি রাদিফ সুযোগ নেয়,কেউ বুঝতে পারবে না আজ! নিজের তৃষ্ণা চেপে রাখতে পারছে না সে!

প্রণমির ফ্রকের নিচে সুগঠিত স্তনযুগলের আকৃতি বোঝা যাচ্ছে,একটু কি হামলে পরবে আজ? গোটা অ্যাপার্টমেন্টে কেউ তো নেই। বেশি সময় নেবে না রাদিফ! এই মেয়ে কিছু টের পাবেনা!

প্রণমি আর কিছু বলার আগেই রাদিফ ওকে জাপটে ধরে,জমে যায় প্রণমি,রাদিফকে ধাক্কা দিয়ে প্রণমি বলে,“ইরফান মির্জা বিহেব ইয়র সেল্ফ! করছেন টা কি!”

রাদিফ বাকা হাসে,তাকে অন্য কেউ ভাবছে মেয়েটা? এইতো সুযোগ! নিশ্চিন্তে মজা নিয়ে ভেগে যাওয়া যাবে।

রাদিফ ওকে চেপে ধরে আরো,প্রণমি চূড়ান্ত হতবাক হয়ে দু'হাতে ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়,টের পায় এক হাতে কেউ দরজা চাপিয়ে দিচ্ছে। ডুকরে কেঁদে ওঠে প্রণমি,সে এতো বোকা কেন? কেন এভাবে দরজা খুললো?
চেঁচিয়ে বলে প্রণমি,“ইরফান মির্জা আমি কিন্তু চেচাবো।”

বলেই চেঁচাতে চায় প্রণমি, নেশাগ্রস্ত রাদিফ ওর মুখ চেপে ধরে। প্রণমি হু হু করে কাঁদছে, পুরুষালি শক্তির কাছে সে অপারগ,এক সময় কোনোমতে নিজেকে সে ছাড়িয়ে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে বলে,“এটা সত্যিই আপনি ইরফান মির্জা?”

টের পাচ্ছে পাশবিক হাত দুটো ওর স্পর্শকাতর স্থান ছুয়ে দিচ্ছে অমানুষের মতো, প্রণমি হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,“আমি না বিশ্বাস করতে পারছি না,আপনি আসলেই এতোটা নিচ?”

সাথে সাথে আবারও ওর মুখ চেপে ধরে রাদিফ, প্রণমির চোখ বেয়ে জল বেড়োয়,সে তড়পাতেই থাকে, নিচ-ই তো! ঐ লোকটা তো কিডন্যাপার! একটা জানোয়ার! প্রণমি কি করে ভাবলো ইরফান মির্জা এমন কিছু করতে পারে না? কত বোকা প্রণমি!

আর পেরে ওঠে না প্রণমি, শরীরের সমস্ত শক্তি ফুরিয়ে আসে, রাদিফ ওকে টেনে নিয়ে একটা নরম গদিতে ফেলে, একফাকে প্রণমি আবারও হাহাকার করে,“ইরফান মির্জা এটা করবেন না! আমি সংসার করবো আপনার সাথে! এটা করবেন না প্লিজ!”

কেউ ওর হাত বাঁধার চেষ্টায়, পুরোপুরি নগ্ন করছে মেয়েটিকে,প্রণমি অবশ হচ্ছে ধীরে ধীরে,প্রাণপনে বলছে,“আল্লাহ মেরে ফেলো আমাকে,মেরে ফেলো!”

চলমান.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 95 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন