ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 99

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_৯৯
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

অচেনা নাম্বার দেখে ধরবে না ভেবেও কলটা ধরলো ইহান। এক এক করে যখন হসপিটাল থেকে মির্জা বাড়ির লোক গুলো বেরোচ্ছিল ঠিক তখন।
হসপিটালে প্রণমির সাথে থাকবে প্রেরণা,কেবিনে গিয়ে বসে আছে সে।

ফোনটা কানে চেপে ধরে ইহান দাঁড়িয়ে পরলো যখন, রিতুও দাঁড়ায়। ওপাশ থেকে ইরফানের নিরুদ্বেগ কন্ঠস্বর,“দাদান আমি!”

_তুই?

_দাদান এক কনস্টেবলের নাম্বার।

_কি করছিস? খেয়েছিস?

রিতু কিছু একটা আঁচ করে বড় ছেলের দিকে এগিয়ে যায় । ওপাশ থেকে ইরফানের কন্ঠস্বর,“মাম্মা?”

_আছে, ঠিক আছে। তুই রাখ! রেস্ট নে।

_আর ও ?

থামলো খানিক ইরফান,পর পর বললো,“সত্যিই ঠিক আছে?”

_আছে। ঠিক আছে।

_একটু গলা শুনবো।

হাঁফ ছাড়ল ইহান, অনীহা প্রকাশ পায় কন্ঠে,“ভাই তুই ঘুমা!”

_দাদান প্লিজ!

রিতু বড় ছেলের দিকে দৃষ্টি মেলে ফিসফিসিয়ে বলে,“কি চাইছে?”

ফোনের স্পিকার চেপে ধরে ইহান লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,“বৌয়ের গলা শুনবে! ঠিক আছে কি-না যাচাই করছে।”

রিতু নির্লিপ্ত হয়ে চেয়ে রয় মিনিট খানেক, তারপর নিস্পৃহ ভাব নিয়ে বড় ছেলেকে বলে,“নিয়ে যা।”

_মাম্মা? কি বলছো?

_নিয়ে যা!

পুনর্বার বলাতেই ইহান ফোনটা কান থেকে নামিয়ে এগিয়ে চললো কেবিনের কাছে, দরজার সম্মুখে গিয়ে দাড়াতেই প্রেরণা উঠে দাঁড়ায়,“একি আপনারা এখনও যান নি? কত রাত হলো যে!”

_আসতে পারি?

_জি অবশ্যই।

ইহান এগিয়ে যায়,চোখ রাখে প্রণমির দিকে, বেডে বসে আছে চুপচাপ। ইহান নম্রকন্ঠে ডাকলো,“প্রণমি?”

ফোনের ওপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ইরফান,যেন নিঃশ্বাস অবধি নিচ্ছে না সে। প্রণমি ইহানের কন্ঠে নড়েচড়ে বসল,চোখের পাতা কাঁপল, শ্বাস ফেলে নিজের কন্ঠস্বর স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,“জি।”

_খাবে কিছু? লাইক চকলেট? সাম সুইটস?

প্রেরণা দেখছে ইহানকে, তার ভাই বোনদের প্রতি এই বাড়তি যত্ন কিংবা আন্তরিকতা,অমন শক্ত পোক্ত শরীরে এই কোমলতা,এই শুদ্ধতা, অমন ভারী কন্ঠে এতো নম্রতা হঠাৎ হঠাৎ যখন তাকে কারো কথা মনে করিয়ে দেয়, তীব্র গ্লানিতে মাটিতে মিশে যায় প্রেরণা। চোখ নামিয়ে হাশফাশ করে ওঠে সে, দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

প্রণমি মাথা ঝাঁকায়। কিছু খাবে না। ইহান আবারও বলে,

_কেন ভাইয়া? তুমি তো পছন্দ করো?

_ইচ্ছে নেই ভাইয়া।

ইরফান শুনলো,সুমিষ্ট কম্পিত স্বর। দু'চোখ বুজে শ্বাস নেয়,লম্বা একটা শ্বাস। ইহান বললো,“আচ্ছা। আমি যাই হ্যা?”

_ভাইয়া শুনুন।

সেকেন্ড যেতেই ইহানকে ডেকে উঠলো সে,পা থামলো ইহানের। প্রেরণা ও মনযোগী হলো। প্রণমি বললো,“উনার কি অনেক বছরের জেল হবে?”

ইরফানের মুখটাতে সারাটা দিন পরে,এই এতক্ষণে ছেয়ে যায় ঘুটঘুটে নিকষ কালো অন্ধকার। পা-মাথা অসহায় বোধ করলো আচানক। বড় বড় শ্বাস ফেলে সে।

ইহান-প্রেরণা কেউই জবাব না দেওয়ায় প্রণমি গুটিয়ে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, হঠাৎ একটা ফাঁকা ঢোক গিলে বলল,“ভাইয়া?”

_হ্যা প্রণমি?

সময় নিচ্ছে প্রণমি,ওর ছটফটানি দেখে ইহান এগিয়ে যায়,“কিছু বলতে চাও? বলতে চাও? বলো?”

চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরছে প্রণমির,হাত দিয়ে আলগোছে মুছে নিয়ে বললো,“কনফেশন দিতে চাই। উনাকে তো সামনাসামনি বলতে সুযোগ পাবো না। আসলে,ঐ দিন ভুল ভেবে আমি... আমি ভেবেছি ওটা উনি, একই পারফিউমের ঘ্রাণ। কলে ভাইয়াকে বলেছি ওনার কথা...ভাইয়া এলো, ওনাকে মারলো, আসলে! আসলে।”

প্রণমির কথা এলোমেলো,কন্ঠে অসহ্যকর কিছু এসে গেঁড়ে বসেছে,বলতে দিচ্ছে না তাকে। ইহান প্রেরণা একে অপরের দিকে তাকায়, তারপর ইহান প্রণমিকে বলে,“শান্ত হও। তোমার কোন দোষ নেই প্রণমি! ভুল হতেই পারে। আমরা সবাই ভুল করি।”

_উনি এসেছিল তালাক দেবে আমায়,সেটা জানাতে। আমার তরফ থেকে শুকরিয়া বলে দিবেন, শুকরিয়া, যে উনি এসেছিলেন, আমায় বাঁচিয়েছিলেন।

বলেই ঝরঝর করে কেঁদে দিল প্রণমি,প্রেরণা আগলায় বোনকে,আপুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে সে। যেমন হোক লোকটা, তাকে ঘিরে প্রণমির অনুভূতি প্রশ্নবিদ্ধই থাকুক না কেন, তবুও তো উনি এসেছিলেন, আল্লাহ তাকে পাঠিয়েছিলেন, একসময় যে এসেছিলেন হিংস্রতা নিয়ে, তার সেই হাত দু'টোই সেদিন নিদারুণ স্বচ্ছতায় ঢেকেছিলো প্রণমির লজ্জা। দু'টো হাতের মধ্যে বিস্তর ফারাক, তাকে ভুল বুঝেছে অবচেতন মনে, এই গ্লানি নিয়ে প্রণমি থাকতে পারছিল না।

ইহানের ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটে উঠল, নম্রকন্ঠে বলল,“যাকে ঘিরে তোমার এই কনফেশন। তুমি তাকেই বলো, যদি দেখা হয়, কথা হয়। আসছি।”

প্রেরণাকে বলে বেড়িয়ে যায় ইহান। ফোনটাকে শক্ত করে হাতে ধরে রেখেছে, ফোনের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা চুপচাপ শুধু শ্বাস ফেলছিলো,কলটা কেটে ফোনটা দিয়ে দেয় কনস্টেবলকে। বসে পরে থাকে নিষ্প্রভ হয়ে দীর্ঘসময়, যোজন যোজন দূরে থাকা মেয়েটিকে মনে মনেই বলে,“তুমি এমন ভাবে আমার কথা জানতে চাও আমি চাইনি। কক্ষনো চাইনি।”

_______

ঘুমিয়ে পরতে হবে দ্রুত, আগামীকাল ছুটতে হবে কোর্টের চত্বরে, অবশ্য ঘুম তো আসবে না, শুধু চেষ্টা করে যাবে।
দোতলায় উঠতে উঠতে ইয়াসার মির্জার নাম্বারে একটা কল এলো, অচেনা নাম্বার। ঘড়ির দিকে তাকায় সামিন। রাত দু'টো প্রায়, হসপিটাল থেকে ফিরে সবাই যে যার ঘরের দোর লাগিয়েছে।

কলটা রিসিভ করে সালাম দিতেই ওপাশ থেকে অচেনা কোনো কন্ঠস্বর ভেসে এলো,“স্লামালেকুম মির্জা সাহেব।”

_ওয়ালাইকুমুস সালাম।

_চিনবেন না, বহু পুরনো শুভাকাঙ্ক্ষী। ফোন দিয়েছি একটা কথা জানতে।

_কি কথা?

_আচ্ছা বলেন তো? দেশের অর্ধেক রং তামাশার খবর ক্যান আপনাদের বাড়ি থেকে হয়?

_মানে?

_মানে আর কি! আপনাদের বাড়িটাই সিনেমা,আর আপনার পরিবারের লোকজন। কখনো আপনার মেয়ে আপনার জামাইয়ের কটেজ উড়িয়ে দেয় আগুন লাগিয়ে, কখনো আপনার জামাই ট্রান্সফার খায় বিনা দোষে, আবার বান্দরবান গিয়া নেতার সাথে ঝামেলা বাঁধিয়ে রোজ খবরে আসে, আবার কখনো আপনাদের বাড়ির ছেলে মেয়ে তুলে আনে, রিহ্যাব যায়, আবার যায় জেলে। মানে কি আর বলবো!

চুপচাপ শুনলো সামিন, মেজাজ উচাতে ইচ্ছে করছে না তার, শীতল গলায়ই জবাব দিলেন,“আপনি যেই হন, আমাদের বাড়ির খোঁজ খবর রাখার পাশাপাশি এই বর্ষায় দিনে দু'টো করে গাছ লাগাবেন। আমাদের দুর্দিন কেটে যাবে, আপনার আনন্দও ফুরিয়ে যাবে তবে গাছ গুলো থেকে যাবে। ধন্যবাদ।”

কল কেটে সামিন ফোঁস শব্দে শ্বাস ছাড়ে, এই দুর্দিনে শত্রুরা চরম খুশি, উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে না পেরে কল করছে সকাল থেকে।

ইশির ঘরের বাতি জ্বলছিল তখনও,ভেতর থেকে মেয়েটার গলার আওয়াজ আসছে, সামিন কিছুক্ষণ সেদিকে চেয়ে থেকে ওকে ডাকল, মুঈনের কল কেটে ইশি বেরিয়ে আসতেই একটা ধাক্কার মতো খায় সামিন, বহুদিন পরে দেখা মেয়েটার সাথে, মেয়েটা, যে সবসময় তার চোখের সামনে থাকতো।

“আসার পর থেকে কথা হয়নি তোমার সাথে আম্মা, মুঈনের কি অবস্থা?”

_পাপা ও খুব দুঃখপ্রকাশ করছে আসতে পারেনি বলে।

_আমরা বুঝি। ওকি ওখানে ঝামেলা করছে কারো সাথে?

_পাপা ও তো নিজের কাজ করছে!

হাঁফ ছাড়ল সামিন, একসময় অসীম সাহস তার বুকেও ছিলো,যখন সে মুঈনের বয়সী ছিলো, ওকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

_আর কিছু বলবে পাপা?

সামিন মেয়ের মুখ পানে চেয়ে থাকে মিনিট খানেক,পর পর মাথা নাড়ায়। ইশি চলে যাওয়ার পরে ওর ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামিন, বিয়ে দিলে মেয়েগুলোর সাথে দূরত্ব বেড়ে যায় বাবাদের, এভাবে মেয়েকে হঠাৎ দেখে বুকে জড়িয়ে একটু আদর করাতেও যে অস্বস্তি, সংকোচ হবে বুঝতে পারেনি। ভীষণ বেদনাদায়ক এই বাস্তবতা।

_______

ইরফান মির্জার কেসের শুনানির প্রথম দিন। কোর্টের বাইরে বিশাল মিছিল ঠেলে গাড়ি গুলো এগোতে পারছিল না। ডিফেন্স প্রসিকিউটর উজ্জ্বল মাহমুদকে নেমে যেতে হলো গেটের সামনেই, এই সুযোগটা লুফে নিলো লোকাল সাংবাদিকেরা। তাকে পাকড়াও করে জানতে চাইলো,“আপনি কেসটা হাতে নিয়ে কি মনে করছেন?”

উজ্জ্বল জবাব না দিয়ে এগোতে লাগলো, সে কি মনে করছে? সে তো জ্যোতিষ নয়, সে পরিশ্রমে বিশ্বাসী, চেষ্টা করবে সর্বোচ্চ।

তরুণ এই উকিল এক তুড়িতে কেস জিতে যায়, সে কি করে এমন একটি কেস হাতে নিলো যেখানে আসামীকে ছাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই এটা বেশ অবাক করার বিষয়, ওদের কৌতুহল নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কোর্টের বাইশগজ এরিয়ায় চলে যায় উজ্জ্বল প্রসিকিউশন টিমের কাছে । জানতে চায় সবকিছু তৈরি কিনা।

শুনানির শুরুতেই আদালতে উজ্জ্বল মাহমুদ পেশ করে কিছু কাগজপত্র, যেগুলো ল্যাব থেকে এসেছে। দু'জন জজ কাগজগুলো দেখলেন, জানতে চাইলেন কেসের সাথে কাগজগুলোর সম্পৃক্ততা ঠিক কি?

_ওগুলো,এই কেসের অন্যতম প্রধান সাক্ষীর ডিএনএ রিপোর্ট,যার স্যাম্পল আমরা রাদিফ খানের নখ থেকে সংগ্রহ করেছি। যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আক্রমণের সময়ে ভিকটিমের হাতে নখ বসিয়ে ছিলো সে।

ইরফান গম্ভীর হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলো শুধু, শুনানি শুরু হবার সাথে সাথেই সে স্বীকার করে নিয়েছে তার দোষ। উজ্জ্বল মাহমুদ চেষ্টা করছে কেসটাকে খানিকটা ঢিলে করতে। মির্জা বাড়ির লোকজন বিরস মুখে বসে আছে, আদালত কক্ষ এতো রাজ্যের মানুষের চাপে গুমোট হয়ে উঠেছে, জজরা কাগজপত্র দেখতে এবং দু'পক্ষের উকিলের সাথে নিচু গলায় কিছু একটা আলাপ করতে ব্যস্ত।

ইনশিরাহর গা গুলোচ্ছে এই গুমোট পরিবেশে,এতো লোকের চাপাচাপি, গুঞ্জন আর গা গোলানো নানা রকমের পারফিউমের ঘ্রাণে হঠাৎ বমি ভাব হতেই ইলহাম মির্জা ওকে ধরে ফেললেন।

“আম্মা ঠিক আছিস?”

কপালে হাত চেপে রেখেছে ইনশিরাহ,“জানিনা মেজো বাবা,গা গুলোচ্ছে এই গরমে।”

_কত করে বললাম আসিস না। বাড়িতে যাবি?

ইনশিরাহ মাথা নেড়ে ভাইয়ের দিকে তাকায় , যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। ভাইকে ফেলে সে যাবে না এখান থেকে।

খানিক বাদে নিজের প্রসিকিউশন টিমের সাথে আলোচনা শেষে উজ্জ্বল মাহমুদ সিনিয়র ও জুনিয়র জজকে বলল,“আমি বয়ানের জন্য মিসেস প্রণমিকে আনতে চাচ্ছি। আপনি অনুমতি দিন।”

মুহুর্তেই হাশফাশ করে ওঠে ইরফান,সবেগে ঘাড় ঘুরিয়ে সম্মুখ সাড়িতে বসে থাকা পরিবারের দিকে তাকায়, কিছু পল হতভম্ব হয়ে সবাইকে দেখে আর ধৈর্য্য ধারণ করতে পারল না, উজ্জ্বলের ওপরেই চেঁচিয়ে উঠল,“আর ইউ আউট অফ ইয়র মাইন্ড? ওকে কেন আনবেন এই পরিবেশে?”

_কারন সে সাক্ষ্য দেবে।

_সাক্ষ্য ফর হোয়্যাট? আর ইউ ইনসেন? মেয়েটা অসুস্থ।

সামান্য হাসলো উজ্জ্বল,বলল,“উনি সুস্থ! উনি ওনার ভাইয়ের সাথে আদালত চত্বরেই উপস্থিত আছেন। আমরা ডাকলেই আসবে।”

দু'পাশে ঘনঘন মাথা নাড়ায় ইরফান, ভীষণ ক্রোধে ফাটছিল সে,“কি জিজ্ঞেস করবেন ওকে? হোয়্যাট ননসেন্স ইজ দিস! ”

উজ্জ্বল এবার হতাশ, এমন পাগল হলে তো কেস ঢিলে করা যাবে না এটা পাগলেও বোঝে, তবে ইরফান মির্জাকে স্টাডি করে বুঝেছে সে গতরাতে এ পাগলের থেকে কম নয়।

সিনিয়র জজ ইরফানকে ধমকালেন,“ইউ প্লিজ বিহেভ ইয়র সেল্ফ!”

তখন সরকারি উকিল ফোড়ন কাটেন,“দেখলেন মি লর্ড? নিজের প্রসিকিউটরের সাথেই এর আচরণ কি রকম?”

ইরফান থামলো না,“গো টু হেল উইদ ইয়র আচরণ,অ্যান্ড স্টপ দিস ননসেন্স। ও অসুস্থ,ও বলবে ওর সাথে কি হয়েছিল? বর্ণনা করবে? শুনতে চাইনা আমি, শোনার দরকার নেই আপনাদেরও। আমি আমার দোষ স্বীকার করেছি, শাস্তি, জরিমানা যা দেয়ার দিন।”

রাগে কাঁপছে শক্ত পোক্ত শরীর, কঠিন চোয়াল। পাপা,বড় বাবাকে এমন একটা বোধহীন উকিল ঠিক করার জন্য কিছু বলল না,চেচালো ইহানের ওপর,“কেমন কমনসেন্স নেই উকিল ধরেছো তোমরা? সবাই বোধ হারিয়েছো?”

হেসে ওঠে উজ্জ্বল মাহমুদ,স্বভাবত ভীষণ ঠান্ডা মাথার মানুষ সে,ঠান্ডা গলায় কনস্টেবলকে বললো,“মিসেস প্রণমিকে ডেকে আনুন ১০২ নং কক্ষ থেকে।”

কাঠগড়ার রেলিং ধরে চেঁচিয়ে ওঠে ইরফান,“ওকে যদি উল্টোপাল্টা কিছু জিজ্ঞেস করেছেন না? আপনি আমার হাতে এখানে মা'র খাবেন কসম!”

এবারও জবাবে হাসে উজ্জ্বল। ইরফান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,“ও যদি কাঁদে না! এখানে এই তামাশা করার জন্য আপনার পুরো টিমকে পেটাবো আমি! মাইন্ড ইট!”

আদালতে উপস্থিত আমজনতা হাসতে থাকে, আসামী নিজের উকিলের ওপর ক্ষেপেছে তাই। সামিন চেঁচিয়ে ওঠে,“ইরফান বিহেভ ইয়র সেলফ।”

ইহান, ইলহাম ইশমাম তাকিয়ে থাকে হতাশ দৃষ্টিতে। এই ছেলে এতো অবুঝ কেন!

আদালত দেখছে উজ্জ্বল মাহমুদের ধৈর্য্য,যে কিনা নিজেরই মক্কেলের ক্রোধের শিকার, হেসে ইরফানকে বলছে,“ইরফান মির্জা, দেশবাসী জেনে গিয়েছে আপনি আপনার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসেন,এখন আপাতত এতো জাহির করবার প্রয়োজন নেই এই আদালতে, আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতে পারবেন, আপাতত আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দিন।”

কথাটা শুনে আবারও হেসে ওঠে আমজনতা, ইরফান রাগী চোখে তাকিয়ে থাকে উজ্জ্বলের দিকে। এর মাঝেই কক্ষের দরজায় কনস্টেবলের পিছু পিছু এসে দাঁড়ায় প্রণমি,প্রিতমের হাত ধরে আছে সে। কক্ষের গুঞ্জন কমে আসে। সকলে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে মেয়েটাকে। ইরফানের চঞ্চল, এলোমেলো দৃষ্টি এতক্ষণে গিয়ে স্থির হয় তার এক্সিডেন্টাল বৌয়ের মুখবিবরে, নিমিষেই বুকটা তীব্র দহনে পুড়ে যেতে চাইল,যখন ওর দৃষ্টি নামলো প্রণমির ব্যান্ডেজ করা আঙুলে।
মনে পরে গেলো সেদিন,কতটা উন্মাদনা ছিলো মেয়েটার মধ্যে, ওকে জরিয়ে ধরে দমিয়ে রাখতে পারছিলো না, জিদ্দি প্রণমি ছটফট করছিল,“আমাকে ছাড়ুন তো!”

ওকে থামাতে প্রিতম এসে এক চ'ড় মারতেই মেয়েটা জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পরেছিল ইরফানের বুকে। সেই দেখেছিল,আর এই দেখছে, এখন কোন উন্মাদনা নেই, কেমন শান্ত নদীর মতো, এক সমুদ্র স্নিগ্ধতা এসে জড়ো হয়েছে ঐ গোল মুখে। গায়ে একটা সাদা রঙের চুড়িদার সেট। প্রিতমের হাত ধরে চুপচাপ গিয়ে দাঁড়াল সম্মুখে। একেবারে চুপচাপ, চেহারায় নেই কোন ভাব।

ইরফান অনিমেষ চেয়ে রইল তার বিরক্তিবতীর মুখপানে। উজ্জ্বল মাহমুদ তৎপর হলো, “আপনার নাম প্রণমি?”

_জি।
ঠান্ডা স্বর প্রণমির গলায়, কাঁপছিল না মোটেও।

_আপনাকে এখানে কি জন্য আনা হয়েছে জানেন?

মৃদু শ্বাস ফেলল প্রণো,“জি। যা জানতে চান প্রশ্ন করুন।”

মেয়েটি অন্ধ, সম্মুখে দেখে ওখানে উপস্থিত জনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, শুরু হয় গুঞ্জন কেসের ফলাফল নিয়ে। ঠিক এটাই উজ্জ্বল চায়, তার ভাষায় “সিম্প্যাথি ইজ এভরিথিং।”

হাসিমুখে সে প্রণমিকে বলে,“যা জানতে চাইবো তাই বলবেন? সত্যি বলবেন? নাকি মিথ্যা বলবেন?”

_সত্যি বলব।

_আবার নিজের স্বামীকে বাঁচাতে মিথ্যা বানিয়ে বলবেন না তো?

মজা করলো উজ্জ্বল। আচানক চমকে ওঠে প্রণমি, এতক্ষণের নির্লিপ্ততা সরে গিয়ে অস্বস্তি এসে ভর করলো সুশ্রী মুখটাতে, থেমে গেলো কক্ষের গুঞ্জন। প্রণমি হাঁসফাঁস করে উঠে বলল,“প্রথমত উনি আমার স্বামী নন। দ্বিতীয়ত আমি একটা দূর্ঘটনার শিকার হয়েছি, আমি জানি না কোনো মেয়ে এসব নিয়ে মিথ্যাচার করতে পারে কিনা!”

মানুষগুলো ভীষণ কৌতুহলী হয়ে ওকে দেখছে, ইরফানের দৃষ্টি সরলোই না মেয়েটার মুখ থেকে।

উজ্জ্বল হাসলেন,“উনি আপনার স্বামী না? কিন্তু এই কাগজ তো তা বলছে না, নিউমার্কেটের কাজী অফিস থেকে সংগ্রহ করেছি, বিয়ে রেজিস্টার হয়েছে গত মার্চে।”

মির্জা বাড়ির মানুষগুলোর মুখ থমথমে,ইশির হঠাৎ মাথা ঘোরে, ইহান উদ্বিগ্ন ভীষণ,“কিরে?”

_কিছুনা। শুনতে দাও।
ফিসফিসিয়ে বলে ইনশিরাহ।

উজ্জ্বলের কথায় প্রণমি আইঢাঁই করে উঠল,কিছুটা সময় নিয়ে আস্তে ধীরে বলল,“আসলে আমাদের তালাকের কথা চলছে।”

_ও আই সি। যাই হোক, কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলাম। মাফ করবেন মি-লর্ড। তো এবার, প্রণমি, বলুন তো সেদিনের কাহিনী। আমরা সবাই শুনতে চাচ্ছি।

ইরফান দু'পাশে মাথা নাড়ে,কেমন কাঁপছিল ওর গলা,ও ভয় পাচ্ছে,“প্রণো! ইটস্ ওকে! ডোন্ট গিভ অ্যাটেনশন টু হিম!”

ঐ লোকটার মৃদু স্বর কানে যেতেই প্রণমি কাঁপল,এই কাঁপন এক অজানা অস্বস্তির,দূর্বোধ্য প্রণমির কাছে। তবে সে শুনলো না ইরফানের কথা, ভীষণ নিরুদ্বেগ তার কন্ঠস্বর।

_________

গোটা ঘরময় পায়চারী করছে শেহা। দুশ্চিন্তায় শরীর কাঁপছে সবেগে। কিন্তু সে যেতে পারছে না। মামারা আর বড় দাদান গিয়েছে কোর্টে। সে যেতে চেয়েছিল, মামারা রাজী হয়নি। মামীদেরও যেতে বারণ করে দিয়েছে। তবে ইশি আপু গিয়েছে। এখন কাউকে কল করা যাবে না তাই কল করলোও না শেহা, ওড়নার কোণ কচলাতে কচলাতে ছুটছে ঘরময়, তসবীহর মতো পাঠ করছে-যাই হোক, শুধু মানুষটার ভালো হোক, সবসময় ভালো হোক!

ওর ছটফটানি থামিয়ে হঠাৎ কল আসে ইহানের,শেহার হাত কাঁপছে, কোনো মতে কলটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে ইহান বলল,“একটু কোর্টে আয়?”

_ওখানের কি অবস্থা দাদান?

_বিরতি দিয়েছে জজ। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। পাবলিক ঝামেলা করছে বাইরে। তুই আয়, ইশির শরীরটা ভালো নেই,ওকে নিয়ে যা। আমরা কেউ মনে হয়না বিকেলের আগে যেতে পারবো।

_প্রণমি বয়ান দিয়েছে?

_হু আয়।

শেহা দেরী করলো না,ছুটে গিয়ে ঘর থেকে পার্সটা নিয়ে বেরিয়ে পরলো। মামীরা পেছন থেকে ডাকলেও শুনলো না।

আদালত চত্বরে মানুষ উপচে পরছে, সবই প্রতিবন্ধী স্টুডেন্ট। মিছিল তুলছে,“এই বিচার অন্যায্য।”
পুলিশ বহুত সংবেদনশীলতার সহিত সামলাচ্ছে তাদের। ভিড় ঠেলে শেহা এগিয়ে গেলো চত্বরের ভেতরে, এখানটা বেশ নিড়িবিলি, ওখানেই দাঁড়ায় সে, বড় দাদান দাঁড়াতে বলেছে এখানটায়। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠতেই দেখলো শান্ত কল দিয়েছে,কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শান্ত বলল,“কিরে খবর কি?”

_বাবা বড় দাদান বলেছে এখন বিরতি দিয়েছে জজ, দুপুর দেড়টায় শুরু হবে শুনানি।

_ওহহহ।

একটু থেমে আমতা আমতা করছিলো শান্ত, মেয়ে তার প্রতি ক্ষেপে যাবে,তবুও বড় সাহস সঞ্চয় করে বলল,“আম্মু! আজ বিকেলে পাত্রের মা হয়তো তোমাকে কল করবে, দুমিনিটের জন্য একটু কথা বলে নিও।”

ভীষণ আশ্চর্য হয় শেহা, কন্ঠে একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলে,“বাবা রাগী মির্জার এই সময়ে তুমি এসব বলছো? তুমি কাল দেখে গেলে সব!”

_আমি তো সরাসরি না করতে পারিনা তাদের আম্মু। এটা অভদ্রতা।একটু বোঝো!

হুট করে কল কেটে দিল শেহা,তার গা কাঁপছে রীতিমতো বাবার ওপর রাগে। রোজ রোজ অসুস্থ হয় বাবা, হঠাৎ চেয়েছে মেয়ের বিয়ে দিতে, মামাদের সাথে আলোচনা করে পাত্রও দেখছে, কোনো কিছুতেই তো আপত্তি করেনি শেহা, বাবা মামাদের ওপরে কথা সে বলবেই না, যেহেতু তার ইচ্ছেকেই আল্লাহ মানলেন না, তাই শেহা চায় অন্তত বড়রা খুশি থাকুক, তারা হ্যাপি থাকলেই সে হ্যাপি, তাই বলে এই পরিস্থিতিতে মাথাভর্তি রাগী মির্জার জন্য দুশ্চিন্তা নিয়ে পাত্রের মায়ের সাথে আলাপ পারতে হবে? কখনোই না, এটা বাবা কি করে বলল?

________

বিরতি ত্রিশ মিনিটের জন্য। ইরফান আবারও তখন পুলিশ হেফাজতে, এদিকে ওর বাড়ির লোকজন কেউ মুখে দেয়নি কিছু। তারা নতুন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পশ্চিমে বসে আছে, উজ্জ্বল মাহমুদ সেখানটায় যেতেই সামিন তাড়াহুড়ো গলায় বলল,“বাবা, আমাদের ছেলেটা পাগল! ও তোমাকে যা বলেছে রাগ রেখো না প্লিজ!”

নির্মল হাসলো উজ্জ্বল,“আংকেল ট্রাস্ট মি! আমার কখনো রাগই ওঠে না! এটা আমার একটা অসুখ,আপনারা কেউ দুশ্চিন্তা করবেন না। বাই দ্যা ওয়ে? ইহান তাজওয়ার মির্জা কোথায়?”

_আমার মেয়ে অসুস্থ হয়েছে হঠাৎ,ওকে গেটের বাইরে গাড়িতে তুলে দিতে গিয়েছে।

আশেপাশে তাকায় উজ্জ্বল,দূরে প্রণমি নির্বিকার চিত্তে বসে আছে, তার দু'পাশে প্রিতম এবং ইশমাম। ওর মুখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে উজ্জ্বল সামিনকে বলল,“শি ইজ স্ট্রং! আল্লাহ ব্লেস হার!”

সামিন আর ইলহাম জবাব দেয়না, উজ্জ্বল বলে,“চা খাবেন আপনারা? আসলে আমি ঘন্টায় ঘন্টায় চা খাই। নয়তো মাথা ঠিক থাকে না।”

ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা নিয়ে চা খেতে চাইলো না ইলহাম,সামিন। উজ্জ্বল বললো,“ঠিকাছে তবে আমিই খাই গিয়ে!”

আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ছোটো অনুমোদিত চায়ের দোকান থেকে কাপটা নিয়ে দূরে চলে যায় উজ্জ্বল,গেটের বাইরে বেশ শোরগোল, বাচ্চা বয়সী মেয়েদের মিছিল। দৃষ্টি মেলে সেদিক দেখে হাসে সে স্মিত। মনের মধ্যে কেসটা নিয়ে আশাবাদী সে, এই কেসটা হাতে নিয়েছে নির্দ্বিধায়, ভীষণ কৌতুহলী হয়ে, কেসটার শেষ পর্যন্ত পরিশ্রম করবে সে।
চা শেষ হতে না হতেই উজ্জ্বল মাহমুদের ফোন বেজে ওঠে। কেয়ারটেকারের নাম্বার থেকে কল আসছে বাড়ির, নিশ্চয়ই তার দাদু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে দিয়েছে তাই।
একটা লম্বা শ্বাস ফেলে উজ্জ্বল, বাবা মা মরা এতিম উজ্জ্বলকে ছোটো বেলা থেকে ঠিক যতটা আদরে বড় করেছে দাদু, এই বৃদ্ধ বয়সে উজ্জ্বলকে জ্বালাতন করে তার দ্বিগুণ পুষিয়ে নিচ্ছে।

কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে প্রাক্তন ব্যারিস্টার নিজাম মাহমুদ বলে উঠলেন,“কই তুই আহাম্মক!”

_আছি কোর্টে। তুমি খেয়েছো?

_না তুই আয়।

_সময় হবে না দাদু।

_তা কেনো হবে? বাল নিয়ে পড়লি বারণ করলাম তাও, এখন খুনী সন্ত্রাসীদের হয়ে কেস লড়িস!

_দাদু,একসময় তুমিও এটা করতে, ভুলো না।

হেসে ওঠে নিজাম মাহমুদ। উজ্জ্বল বলে,“রাখছি। সন্ধ্যায় থাকছি।”

বিরতির সময় শেষ, দাদুর সাথে কথা বলতে বলতে দ্রুত যখন এগিয়ে যাচ্ছিল উজ্জ্বল, অন্যমনস্কতায় ক্লার্ক অফিসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কারো সাথে হঠাৎ ধাক্কা লাগে, অতটা খেয়াল করেনি উজ্জ্বল, মনোযোগ ছিলো দাদু ওষুধ খেয়েছে কি না এই প্রশ্নে, যেতে যেতেই ছোটো করে সরি বলে। তারপর ঠিক পাঁচ কদম, পেছন থেকে মিহি কিশোরী সুলভ কন্ঠের ধ'ম'কে পা থামে তার,“চোখের মাথা খেয়েছেন?”

উজ্জ্বল চকিতে ঘুরে তাকায়,এতটা সে খেয়াল করেনি,সে ভেবেছে কোনো ছেলের সাথে ধাক্কা লেগেছে হয়তো। শেহা তাকিয়ে আছে তার সামনে ধবধবে সাদা শার্ট,ফরমাল প্যান্ট পরা যুবক ছেলেটির মুখের দিকে, মেজাজ তো বাবা গরম করেই রেখেছে, তারপর আবার দাদান কল ধরছে না, ইনশিরাহ আপুকে নিয়ে কোথায় আছে বোঝা যাচ্ছে না, আশেপাশে বুড়ো কাকাদের মতো লোকরা যেতে যেতে তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে এখন আবার এই উটকো লোক, রাস্তা সাড়ে পাঁচ ফিটের, এর তবুও শেহার গাঁয়ে ধাক্কা লাগিয়ে যেতেই হলো। ধাক্কায় চশমা পরেছে ছিটকে। তুলে নিয়ে চোখে লাগিয়েই কটমট করে তাকিয়ে আছে সে।
অস্বস্তি পা মাথা ছেয়ে গেলো উজ্জ্বলের, ফেসেছে সে বুঝে গেলো। মৃদু শ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে বলল,“স্যরি। আমি খেয়াল করিনি!”

রাগ উপচে পড়ছে দু চোখের কোটর থেকে মেয়েটার, উজ্জ্বল ঘাবড়ে গিয়েও শান্ত থাকল, ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করতে হবে বিষয়টিকে,মেয়েটা খুবই বিব্রত হয়েছে হয়তো, সে নম্র স্বরেই বলল,“মনযোগ ফোনে ছিলো আমার।”

আচমকা নিজের শান্ত স্বভাব থেকে বেরিয়ে শেহা এই অচেনা সুদর্শন যুবকের ওপর চড়াও হলো,“হ্যা মনযোগ থাকে ফোনে আর চোখ থাকে মেয়েদের গাঁয়ে। সেজন্য ছ ফিটের খালি রাস্তায়ও ধাক্কা খেতে হয়।”

ভীষণ রাগে কাঁপছিল মেয়েটা, দৃষ্টি নামায়না উজ্জ্বলের থেকে। বাকরুদ্ধ উজ্জ্বল পিচ্চি দেখতে মেয়েটার আকস্মিক শব্দ আক্রমণে, বিমূঢ় হয়ে,বোকা বোকা হয়ে তাকিয়ে থাকে মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালের ভাসা ভাসা চোখ দুটোতে।

চলমান........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 99 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন