#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১০৫
#ইসরাত_ইতি
🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
সিক্ত কপোল দু'টো ছাড়া পেল একদফা বর্ষণ শেষে। প্রণমির বুক কাঁপছে সবেগে, গলার কাছে কিছু একটা চেপে বসেছে, কম্পিত হাত দু'টো বহু কষ্টে তুলে গাল দুটো ছু'লো বিস্ময়,লজ্জা,ভয় ও আড়ষ্টতার ঘোরে, এবং তখুনি আবারো কেউ ওকে মিশিয়ে নিল নিজের সাথে, চমকে ওঠার সুযোগ টুকুও পেল না সে, লোকটা তার কপালে ঠেকালো কপাল। ঐ লোকটার বড় বড় প্রশ্বাস আছড়ে পরছে প্রণমির গোটা মুখে, শিরশিরিয়ে উঠছে লোমকূপ। মুহুর্ত কাটে,অন্দরে চলা তুফান থামিয়ে ইরফান সরলো,দেখল মেয়েটা গুটিয়ে আছে,থ হয়ে আছে। গাঢ় বাদামী দু'টো চোখে ঐ আড়ষ্ট বধূকে চার-পাচ সেকেন্ড দেখে ইরফান উঠে দাঁড়ায়। অক্ষিপল্লব কাঁপছে প্রণমির, জবুথবু হয়ে আছে ফিনফিনে শরীরটা। ইরফান আর দাঁড়ায় না। নিজের শার্ট ঠিক করে চুপচাপ বেড়িয়ে যায় ঘর থেকে।
প্রণমি তখনো ঘোর থেকে বেরুতে পারছিলোই না। গাল দুটো চেপে ধরে কাঁপতে থাকে অবিরত ছন্দে।
ইরফান গিয়ে চুপচাপ মাথা নিচু করে আবার বসতেই প্রেরণা ওকে দেখল,পরপর বলল,“বাড়িতে যাও। বিশ্রাম নাও। কথা হবে।”
জামাই বিদায়ের আগে কফি বানিয়ে খাওয়ায় ওদের প্রেরণা। মুঈন আর ইরফান বেরুতেই প্রেরণা উঠে প্রণমির দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রিতমের ঘর হাঁসি আড্ডায় জমজমাট। প্রেরণা দেখে বোনকে, দু'গালে হাত চেপে ধরে বসে আছে, চোখ কেমন ফ্যাকাশে।
এগিয়ে যায় সে,“কি হয়েছে?”
কাঁপছে প্রণমি,আপুর গলার আওয়াজে চমকে উঠে অস্ফুটে বলে,“কি-কিছু না।”
_এমন করছিস কেন? শরীর খারাপ লাগছে? পোলাও খাবি মুরগি ভুনা দিয়ে?
প্রণমি বলতে পারছে না কিছু। গাল থেকে হাত সরায় না সে,তার মনে হচ্ছে,গালে দাগ লেগেছে ঠোঁটের,আপু দেখে ফেলবে সব। প্রেরণা কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে গিয়ে বোনকে ধরলো,ঠিক তখুনি গা ছেড়ে দিল প্রণমি,ভিরমি খেয়ে পরলো। ভীষণ নড়বড়ে ছিল তার নার্ভ সারাদিনের ধকলে।
ইরফান বাড়িতে পা রাখতেই দেখলো বসার ঘরে কয়েক জোড়া জ্বলজ্বলে দৃষ্টি ওকে দেখছে, মুঈনের সাথে সরাসরি শান্তিনীড়ে পৌঁছেছে ইরফান, এখন অবধি মুখটা খোলেনি সে, মুঈন গোটা রাস্তায় হো হো করে হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করেছে,“অধিক শোকে মানুষ পাথর হয় শুনেছি। তুমি অত্যধিক আনন্দে লোহা হয়ে গেলে ? স্ট্রেঞ্জ।”
ইশি এলো ছুটতে ছুটতে,মুঈন ওর দিকে রাগী চোখে তাকাতেই ওর পা থামলো, এরপর নিজেকে সামলে আস্তে ধীরে হেঁটে এসে ইরফানকে ধরলো , চেঁচিয়ে বললো,“কংগ্র্যাটস! আমি এক্ষুনি যাবো ভাবী দেখতে। কংগ্র্যাটস কংগ্র্যাটস কংগ্র্যাটস!”
ইরফান এই এতক্ষণে মুখ খুললো, ইশিকে সরিয়ে দিয়ে মৃদু ধমকে উঠলো,“সর তো, ভ্যা ভ্যা করিস না, ঘুমাবো আমি।”
আলো, রিতু, পরী একপাশে সরে দাঁড়ায়, ছেলে সারারাত ঘুমায়নি তারা জানে,এক রাতেই কেমন শরীর ভেঙেছে,ওকে অবশ্যই ঘুমাতে দেয়া প্রয়োজন। সিঁড়ির কাছে শেহা দাঁড়িয়ে ছিল, তার মুখ হাসি হাসি,ইরফানকে বলল,“কংগ্র্যাটস রাগী মির্জা।”
ইরফান সামান্য হেসে দোতলায় উঠে যায়, দোতলায় সামিনেরা তিনভাই বসেছিল,বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জরুরি আলোচনা করতে,হাতে আর দু'টো দিন আছে। ইরফানকে দেখেই সামিন বলে,“এসো কথা আছে, জরুরি কথা।”
শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে ইরফান ঘরের দিকে পা বাড়ায়,হাই তুলতে তুলতে বলে,“পরে। আমি ঘুমাবো। রাতের আগে কেউ যেন ডাকতে না আসে।”
ঘরে ঢুকেই শার্টটা ছুঁড়ে ফেলে একটা চেয়ারে, উন্মুক্ত শরীটা নিয়ে উপুড় হয়ে বিছানায় পরলো ইরফান, কত রাজ্যের ক্লান্তি চোখে, খানিক বাদেই তলিয়ে যায় গভীর ঘুমে।
প্রণমি চোখে মুখে পানি দিয়ে একটু ঠিক হলো, তবে হাত দু'টো তখনো কাঁপছে। প্রেরণা বলল,“একটু ঘুম দে। শুয়ে পর।”
বিছানা গুছিয়ে দিয়ে প্রণমিকে শুইয়ে উঠে যেতে নিলে প্রণমি আপুর হাত শক্ত করে টেনে ধরলো। প্রেরণা ঘুরতেই জড়িয়ে ধরল ওকে। প্রেরণা হেসে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,“হয়েছে। আমি রেগে নেই। বিশ্রাম নে।”
তখুনি ড্রয়িং রুমে তার ফোনটা শব্দ করে বেজে ওঠে । বোনকে রেখে গিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিতেই দেখলো মেসেজ এসেছে একটা, ইহান তাজওয়ার মির্জার নাম্বার থেকে। ধন্যবাদ জানিয়েছে প্রেরণাকে। লেখা,
“ধন্যবাদ। আজ যখন দরজা খুললেন, যেভাবে হাসলেন, আমার মনে হয়েছিল অমন বাজে হাসি আপনি হয়তো কখনো হাসেননি। কিন্তু যখন কাঁদলেন,আমার মনে হয়েছে, এতো সুন্দর করে কাউকে আমি কাঁদতে দেখিনি। ধন্যবাদ।”
লম্বা শ্বাস ফেলে প্রেরণা, পর পর দু'বার। লোকটা ইদানিং খুব ফোনকল,মেসেজ করছেন, যেটা আগে করতেন না। এটা কি ঠিক? ঠিক নয়। ইনুকে দেখতে পেয়েই মিনমিনে গলায় প্রেরণা বলে,“এবার তোমার বড় দাদানের একটা হিল্লে করে দাও। অনেক বয়স হলো তো ওনার।”
ইনু ব্যস্ত গলায় বলল,“তা তো সবাই-ই চাই। আসলে দাদান সদ্য সদ্য ছ্যাঁকা খেয়েছে তো। তাই সময় নিচ্ছি আমরা।”
_ছ্যাকা?
_হুম,শা'লী আমার বড় দাদানের প্রস্তাব রিজেক্ট করেছে।
চোখ দু'টো বড় বড় হয়ে যায় প্রেরণার, হতভম্ব হয়ে বলে,“এসব কেমন কথা ইনু?”
_হুম আপু শা'লীই তো,শা'লী গর্দভ।
চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলে ইনায়া। প্রেরণা উঠল ধমকে,“একজন প্রস্তাব রিজেক্ট করেছে বলে তাকে গালাগাল করবে? কি আশ্চর্য! বিহেভ ইয়র সেল্ফ ইনু।”
কথাটি বলেই প্রেরণা হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকে যায় তার। ইনু থমথমে মুখটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আপু এত ক্ষেপলো কেন? গালি তো আপুকে দেয়নি সে,আজব! ভারি আজব ব্যাপার!
সন্ধ্যার পরে ইনু রেডি হয়ে শান্তি নীড়ে চলে যায় প্রিতমের সাথে ঝগড়া করে। ঝগড়ার মূল কারণ ইরফান-প্রণমির বিয়ের অনুষ্ঠান। ইনুর ইচ্ছে ইনু শান্তি নীড়ে থাকবে অনুষ্ঠানে, তার মেজো দাদানের পক্ষে থাকবে। প্রিতমের ইচ্ছে ইনু যাতে তাদের দুই ভাইবোনের সাথ দেয়। এই নিয়ে দুটিতে লেগেছিল খুব, পরে প্রেরণাই সমাধান দিলো। প্রেরণার সিদ্ধান্ত ইনু গায়ে হলুদ ও বাড়িতে কাটিয়ে,কনে তুলে নেয়া অনুষ্ঠানে এবাড়িতে আসবে।
ইনু যাওয়ার পরে বাড়িটা পুরো ফাকা হয়ে গিয়েছে, সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। শুদ্ধের গেম খেলার আওয়াজ ব্যতীত কোনো শব্দ হচ্ছে না গোটা অ্যাপার্টমেন্টে। সন্ধ্যার পরে প্রেরণা একবার উঁকি দিল প্রণোর ঘরে, গাঁয়ে চাদর টেনে শুয়ে আছে ওপাশ ফিরে। ঘুমোচ্ছে বোধহয়। ওকে আর ডাকল না সে,ওপাশে তার ফোন বাজছে। ছুটে গিয়েই দেখল ইশির ফোন। রিসিভ করতেই চেঁচিয়ে উঠলো ইশি,“হেই ডাবল বেয়াইন সাহেবা! ভাবী কোথায়?”
_ঘুমাচ্ছে।
_ইশ তবে উঠিও না। পরে দেখবো।
প্রেরণা হাসে,বলে,“ইরফান মির্জা কি করছে?”
_সারা বিকেল থেকে সন্ধ্যা বুদ হয়ে ঘুমিয়েছে, এখন উঠে অফিসের কাজ করছে, ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে।
_আর বাড়ির সবাই?
_বাড়ির সবাই? সামিন ইয়াসার মির্জা আর ইলহাম মির্জা বড় দাদান আর মুঈনকে নিয়ে বসেছে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলাপ করতে,পরশু তো গায়ে হলুদ। আর একটা দিন আছে হাতে। মাম্মা আর মেজো মা গয়নাগাটি বের করে দেখছে, ছোটো বৌমাকে কি কি দেবে বড় বৌমার জন্য কি কি রাখবে সেসব নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে। ছোটো বাবা আর ছোটো মা এতদিন পর ইনুকে পেয়ে একগাদা খাবার নিয়ে বসে খাওয়াচ্ছে। শেহা বই পড়ছে। শান্ত বাবা এসেছে,সেও গয়না দেখছে মাম্মার সাথে বসে। আমি আচার খাচ্ছি।
একনাগাড়ে সব বলে থামে ইনশিরাহ,প্রেরণা হেসে বলে,“আর তোমার মধ্যে যে আছে সে কি করছে?”
_একটু পরপর মাকে বমি করাচ্ছে।
মিস জেনি ওপাশে ডাকছেন, প্রেরণা ইনশিরাহকে বলে কল কেটে হেটে চলে যায় চিন্তিত ভঙ্গিতে। প্রণমির মাথার কাছে ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মিস জেনির দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ফেলতেই তিনি বলে উঠলেন,“জ্বর এলো যে। কি একটা বিপদ। হঠাৎ করে জ্বর কেন?”
প্রেরণা চোখ কপালে তুলে এগিয়ে গিয়ে প্রণোর কপালে হাত রেখেই চ'ম'কে ওঠে,আসলেই ভীষণ জ্বর।
________
ল্যাপটপ থেকে মনোযোগী দৃষ্টি সরলো তার যখন থপ করে পাশে পরলো একটা ফোন,ফোনের স্ক্রিনে একটা অতি অল্পবয়সী মেয়ের শাড়ি পরা ছবি।
উজ্জ্বল চোখ থেকে রিডিং চশমা খুলে ফেলে। কপাল কুঁচকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় পেছনে এসে দাঁড়ানো নিজামের মুখের দিকে। বলে ওঠে,“সমস্যা কি?’
ভ্রু নাচিয়ে নিজাম মাহমুদ বলে ওঠেন,“এটা কেমন?’
_খুব পিচ্চি।
ফোনটা সরিয়ে দেয় উজ্জ্বল। হাতে তুলে নেয় একটা বই। নিজাম মাহমুদ আশির বৃদ্ধ,স্বভাবত খুব জেদি । জেদ দেখিয়ে উজ্জ্বলের হাত থেকে বইটা কেড়ে বসে পরে, রাগ দেখিয়ে বলে,“তো?”
_তো মানে? আমার বত্রিশ রানিং আর এই মেয়ের উনিশ বিশ হবে সম্ভবত। এর সাথে আমার যায়?
_কেন যাবে না? এইজ ইজ যাস্ট আ নাম্বার।
হাসলো উজ্জ্বল, তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে,“তুমি আর তোমার লজিক!”
_ঠিকই তো বলছি। বয়স দিয়ে কি করবি? মেয়ে হলেই তো হলো।
_হু, তোমার পছন্দ হলে তুমিই বিয়ে করে নাও।
শ্বাস ছাড়েন নিজাম,বলেন,“তোর লন্ডনের সাদা চামড়ার এক্স গার্লফ্রেন্ড গুলোকে বিয়ে করার পাঁয়তারা করছিস নাকি? ওসব হবে না। আমার বাঙালি নাতি বৌ চাই, মুসলিম। নয়তো খুব খারাপ হবে বলে দিলাম।”
আবারো হাসে উজ্জ্বল মাহমুদ,জবাবে বলে,“আমারো চাই বাঙালি বৌ। তবে বালিকা বৌ নয় প্লিজ। দু'দিন পরে আমাকে বুড়ো অপবাদ দিয়ে ভেগে যাবে।”
_তখন আরেকটা বিয়ে করবি। সেটা গেলে আরেকটা। সেটা গেলে আরেকটা।
উজ্জ্বল উঠল,ধরলো বৃদ্ধ দাদুর হাত,টেনে টেনে তার ঘরে নিয়ে যেতে যেতে বলে,“বুঝেছি মাথার স্ক্রু ছুটেছে আবার। ওষুধ খেয়ে ঘুমাও। এত প্রেশার নিলে নাতি বৌ দেখার আগেই অক্কা পাবে।”
_তুই আমাকে জীবিতাবস্থায় নাতি বৌয়ের মুখ দেখাবি বলে মনেও হয়না। হ্যারে,একটা কথা বল, তোর কি কোনো অসুখ আছে? তুই পুরুষ মানুষ তো? তোর মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট আছে তো? এতো গুলো প্রেম করলি থাকলো না কেনো ওরা?
উজ্জ্বল সরু চোখে তাকায়,নিজাম দাঁত বের করে হাসছে,খিকখিক করে কিছুক্ষণ হেসে বলে,“অসুখ নেই? তবে তাড়াতাড়ি বিয়ে করে বাচ্চা নিয়ে প্রমাণ দে। তবে বুঝবো তুই আসল পুরুষ। নয়তো তুই একটা মাকাল ফল।”
_আমি পুরুষ না অন্যকিছু সেটার প্রমাণ যাকে দেওয়ার তাকে দেবো। তুমি ঘুমাবে?
_তোর গার্লফ্রেন্ড টিকলো না কেন হ্যারে? তোর মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট আছে তো? আজকাল তো সমকামীতায় সয়লাব দুনিয়া। দেখি ষাণ্ডা মান্ডা সুস্থ ছেলে,অথচ ভেতরে ভেতরে সে গে। তুই অমন নোস তো? তোর তো বিদেশী বন্ধুর অভাব নেই।
লম্বা শ্বাস ফেলে উজ্জ্বল,হাস্কি স্বরে বিরক্তির সুর,
_ইন্টারেস্ট আছে কি নেই, ঠিক কি পরিমাণ ইন্টারেস্ট আছে সেই ব্যখ্যাও বৌকে দেবো। তোমাকে নয়। ঘুমাও প্লিজ।
দাদুর গায়ে চাদর টেনে লাইট অফ করে দিয়ে উজ্জ্বল নিজের ঘরে ঢুকে বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে পরে, সেভেন বাই সেভেন,একটা রাজকীয় বিশাল বিছানা তার। শোয়ার আগে রোজকার মতো মেডিটেশন করলো। দাদু ভুল জেদ করছে না, যথেষ্ট দেরী হয়েছে। পরিচিত অপরিচিত সবাই কথা শোনাচ্ছে। এবার তার বিয়ের ব্যাপারে ভাবা উচিত। বুড়ো হয়ে যাওয়ার আগে। উজ্জ্বল হাসে, এতক্ষণে দাদুর কথাগুলো মনে করে। “ওরা থাকলো না কেন?”
_ওদের অত ধৈর্য্য নেই যে দাদু তোমার নাতি কে টলারেট করার! তাই থাকল না।
নিচু স্বরে হাসতে হাসতে আপনমনে জবাবটা দিয়ে মৃদু শ্বাস ফেলে উজ্জ্বল।
________
সন্ধ্যার পরে মুঈন আর ইহান বেড়িয়েছে। বিয়ের কার্ড ছাপাতে দিয়ে কেটরিং সার্ভিসের অফিসে গিয়ে কথা বলেছে। রাত আটটা নাগাদ মুঈন বাড়িতে ফিরলো একগাদা শপিং নিয়ে। তার ছুটি শেষ হবে খুব দ্রুত। ইনশিরাহকে এখানে রেখে চলে যাবে সে, ইনশিরাহর জন্য হেল্থ ড্রিঙ্কস থেকে শুরু করে যাবতীয় যা কিছু এখন প্রয়োজন মুঈন কিনে বাড়িতে ঢুকেছে।
সামিন জামাইয়ের কান্ড দেখে,তবে কিছু বলে না। দোতলায় লিভিং রুমে ইনশিরাহ,বসে বসে অফিসের কিছু হিসাব দেখছিল। ওর পাশেই চিন্তিত ভঙ্গিতে বসে আছে ইরফান, দৃষ্টি ল্যাপটপের দিকে তবে ও অন্যমনস্ক ভীষণ। আচমকা ইনশিরাহর ধমকে সম্বিৎ ফিরে পায় সে, তাকিয়ে দেখলো ইনশিরাহ কটমট দৃষ্টিতে দেখছে তাকে। ইরফান ভ্রু নাচিয়ে বলল,“কি?”
_তুই ক্রেডিটের ঘরে ছাপ্পান্ন হাজার বসিয়েছিস কেন আটা মিলের হিসেবে? ওখানে আটাশি হাজার হবে।
লজ্জিত ইরফান, দ্রুত শুধরে নিয়ে বলল,“স্যরি।”
শ্বাস ফেলল ইনশিরাহ। মিনমিনে স্বরে বলল,“তোর মনটাকে একটু স্থির রাখতে বিয়ে করিয়েছি, অথচ তুই আরো বেশি অস্থির হচ্ছিস। এসব ন্যাকামি বাদ দে। প্রণমির সাথে কথা বলবি? কথা বলিয়ে দেবো?”
ইরফান আশেপাশে তাকায়,পর পর চোখ সরু করে বলে,“বৌয়ের সাথে কথা বলতে মন চাইলে আমার ডিরেক্ট বৌয়ের কাছে যাওয়ার সাহস আছে। তুই তোর চিন্তা কর,মুঈন ভাইয়ার কাছে যা।”
প্রণমির জ্বর বিধায় রাতের খাবারটাও খেতে এলো না। প্রেরণা চিন্তিত ভঙ্গিতে প্রিতমকে বলল,“ভাই? ওর যে জ্বর এসেছে,এটা কি ওর বরকে জানানো উচিৎ? আই মিন, আসলে, আমি বুঝতে পারছি না।”
প্রিতম কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর ইনুর ফোনে কল দিয়ে জানিয়ে দিল জ্বরের কথা।
শান্তিনীড়ের প্রত্যেকে অবাক। ইলহাম অবাক হবার সুরে বলল,“দেখে এলাম মেয়েটা সুস্থ। আশ্চর্য তো!”
সামিন খেতে খেতে মলিন মুখে বলল,“ছোটো মেয়ে,টেনশনে এমন হয়েছে। নাথিং সিরিয়াস! সকালে যাবো দেখতে সবাই।”
ইরফান থমথমে মুখে বসে আছে, না কিছু খাচ্ছে, না কারো দিকে তাকাচ্ছে। বাড়ির সবাই ওকে আড়চোখে দেখছে,নিজেরা নিজেরা চোখাচোখি করতে ব্যস্ত তারা। মুঈন শ্বশুর বাড়ির প্রত্যেকের নির্লিপ্ততা দেখে হতাশ। পরপর গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেই বলে উঠল,“ইরফান?”
_হু?
_তুমি কখন যাচ্ছো? এখন না?
ইরফানের ঠোঁটের কোণে হাসি, মনে মনে মুঈনকে বলল,“লাভ ইউ দুলাভাই!”
পরপর ইশারায় বললো,“এক্ষুনি।”
তৎপর হলো আলো,“হ্যা হ্যা। ইরফান তোর যাওয়া উচিত, যা।”
পরী বলে,“খালি হাতে যাস না,কিছু নিয়ে যাস কেমন?”
হাসছে ওরা। ইরফান উশখুশ করছে। ইহান বলে উঠল,“খেতেও হবে না। যেতে চাইলে এখনি যা, আর গায়ের শার্টটা পাল্টে যা, আস্তেধীরে যা। ছোটাছুটি করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
ইরফান গম্ভীর মুখে উঠে দাঁড়ায়। ছোটাছুটি নয়,সবাইকে দেখালো সে খুব ধীরে ধীরে দোতলায় উঠেছে, দোতলায় উঠেই নিজের প্রকৃত রূপে ফিরলো ইরফান,অতি দ্রুত শার্ট পাল্টে বাইকের চাবি আর ওয়ালেট নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়েও আবার ঘরে ঢোকে,গিয়ে আয়নার নিজেকে ভালো করে দেখে। গলার কাছে বোতাম গুলো বখাটেদের মতো খোলা, ওই দু'টো লাগিয়ে শার্টের হাতা দুটোই সমান ভাবে ফোল্ড করে নিচে নামল, বাড়ির সবাই মুখ হাসি হাসি করে রেখেছে। তাদের সামনে গম্ভীরতা বজায় রেখে শান্তি নীড়ের বাইরে পা রেখেই ছুট লাগায় বাইকের কাছে।
________
দরজা খুললো প্রিতম, হা করে ইরফানকে কয়েক পলক দেখে মুখটা বন্ধ করে বলে,“আয়। আয়।”
প্রেরণা এলো,ইরফানকে দেখে ঘড়ির দিকে তাকায় সে। মুখে কোনো প্রকার অভিব্যক্তি নেই তার। শান্ত চোখে ইরফানকে পা-মাথা পরখ করে দেখে, বেশভুষা রাতারাতি চেঞ্জ। মনে মনে হাসে প্রেরণা। ইরফান বারবার চোখ তুলছে আর নিচে নামাচ্ছে, অতঃপর প্রেরণার দিকে একটা ছোট চকলেট বক্স এগিয়ে দিয়ে বলে,“শুদ্ধর।”
নাকের কাছটা কেমন পিটপিট করছে, এতক্ষণ মাথা ব্যাথা ছিলো,এখন নেই। ওষুধ খাওয়ার পর কমেছে। তবে জ্বর আছে বেশ,প্রণমি কাত হয়ে শুয়ে ছিল। প্রেরণার ডাক শুনতেই উঠে বসলো সে, ঘুম কাতুরে কন্ঠে জবাব দিলো,“জি আপু?”
_ইরফান এসেছে।
তড়িৎ নিজের ওড়না সামলায় প্রণো। চোখ দুটো বড় বড় করে ফেলে,আবারো কাঁপতে শুরু করে চোখের পাতা। ইরফান চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রেরণা ঘুরে বলল,“চা খাবে? চা বানিয়ে দেবো?”
ইরফান সামান্য হাসলো,বলল,“ভাত খাবো। খেয়ে আসিনি। দুপুরে যা যা রেধেছিলেন সব গরম করতে থাকুন আপু।”
প্রেরণা কিছু মুহূর্ত ওকে দেখে মাথা নেড়ে চল গেলো। ইরফান হাসলো বাঁকা হাসি, জ্ঞানী আপাকে কমপক্ষে আধাঘণ্টার জন্য ব্যস্ত রাখা গেলো! নয়তো এখানে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার বৌয়ের সাথে সৌজন্য আলাপ করিয়ে দিতো নির্ঘাত। তারপর মুখ হাসি হাসি রেখে বলতো,“আচ্ছা এবার যাও। বিশ্রাম নাও। পরে কথা হবে।”
প্রিতম বা মিস জেনি কেউই আসে না এদিকে। প্রেরণা যেতেই ইরফান দরজাটা ভেজিয়ে দিলো,দরজা ভেজানোর ক্ষীণ “ট্যাট্যা” শব্দে প্রণমি নড়েচড়ে বসে, আবারো গুটিয়ে যায়।
ইরফান দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে, বুকে হাত বেঁধে নিমেষ হীন দেখছে মেয়েটাকে। প্রহর গড়ায়,তবে কেউ কোনো কথা বলে না। প্রণমির অস্বস্তি বাড়ছে একটা কথা ভেবে,ঐ লোক নিশ্চয়ই তাকে দেখছে বেহায়ার মতো। সে অন্ধ,সেটার সুযোগ নিয়ে শুধু দেখেই যাচ্ছে। ওড়না সামলে নিতে নিতে প্রণমি ধীরে বলল,“কেন এসেছেন?”
_জ্বর দেখতে।
তাৎক্ষণিক জবাব ইরফানের।
মৃদু শ্বাস ফেলে প্রণমি বলে,“জ্বর নেই আর, ঠিক আছি।”
ইরফান কোনো জবাব দেয়না। আবারো কিছু সময়ের নীরবতা, খানিক বাদে বিরক্ত হয়ে প্রণমিই উঠে দাঁড়ায়, তার “কেমন কেমন” অস্বস্তিটা বেড়ে যেতেই চোখ বুজে নিয়ে ব্যগ্র কন্ঠে বলে ওঠে,“এভাবে দেখা বন্ধ করেন!”
ইরফান হাসলো নিশ্চুপ, ঠান্ডা গলায় বলল,“কিভাবে দেখছি?”
হাঁসফাঁস করে ওঠে প্রণমি,“যেভাবে দেখছেন সেভাবে।”
_যেভাবে দেখছি সেটা কিভাবে দেখছি?
_ঐভাবে।
_কোনভাবে?
নাক কুঁচকে মৃদু শ্বাস ফেলে প্রণমি উঠে দাঁড়ায়, ছড়িটাও নেয়না, খাটের কিনারা হাতরে দিশা আন্দাজ করে ঘর থেকে বেরুতে নিলেই ইরফান ওর পথ আগলে দেয়। পিছিয়ে যায় প্রণমি, কেঁপে ওঠে মৃদু।
_কোথায় যাচ্ছো!
_আপুর কাছে।
কাঁপা স্বরের আওয়াজ।
_কেন নালিশ করতে?
দু'পাশে মাথা নাড়ায় প্রণো। ইরফান ওকে টেনে এইবার সম্মুখে দাঁড় করায়, ধীরে ধীরে হাতটা কপালে রেখে জ্বর দেখে। প্রণমি পিছিয়ে যায় আচমকা, দুপুরের ঘটনা মনে পরতেই।
ইরফান মেয়েটার ছটফটানি দেখে নিশ্চুপ হাসল,দরজা বন্ধ করলো না, শুধু আওয়াজ করে বোঝালো সে দরজা লাগিয়েছে।
প্রণমি পিছুতে পিছুতে আবার বিছানায় বসে পরলো। ইরফান আবারো দেখতে লাগলো প্রণমিকে,ওর গালের লাল তিল টাকে।
প্রণমি এবার মেজাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই ফেললো,লোকটা স্বভাবে বাদর টাইপ সেটাতো জানে, এ ইচ্ছে করে প্রণমিকে অস্বস্তি দিয়ে মজা নিচ্ছে। একটুও ঠিক করছে না লোকটা এই পরিস্থিতিতে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। এবার প্রণমি দাঁড়িয়ে গটগট করে হেটে দরজার দিকটাতে যায়, আচানক ওর গাঁয়ের সাথে ধাক্কা লেগে উঁচু ল্যাম্পশেডটা পরে যেতে নিলেই ইরফান শক্ত হাতে ধরলো ওকে,সামলে নিয়ে ওকে সরিয়ে আনলো।
ঘটনার আকস্মিকতায় ঘাবড়ে যাওয়া প্রণমি খামচে ধরলো ইরফানের শার্টের কলার, হাঁপাতে লাগলো, কাঁপতে লাগল মুহুর্মুহু। ইরফান ওর মুখ থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে চোখ বড় বড় করে নিজের কলার দেখছে।
প্রণমি ছেড়ে দেয় ক্ষণ বাদ, তবে ইরফান ছাড়ছে না ওকে,আগলে ধরে রেখেছে,ধরেই রেখেছে।
_কি করছেন?
অস্ফুটে শুধায় প্রণমি। ইরফান বলল,“সুযোগের সদ্ব্যবহার।”
তর্জনী তুলে গালের ঐ লাল তিল টানতে স্লাইড করছে মুগ্ধতা মেশানো দৃষ্টি মেলে, প্রণমি নড়চড় করছে খুব। ওকে আরেকটু শক্ত করে ধরে ওর নড়াচড়া থামিয়ে দিয়ে ইরফান বললো, কিভাবে তাকিয়ে আছি জানতে চাও?
কথা বলেনা প্রণো। ইরফানই খানিকটা ঝুকে কন্ঠে আবেদন ঢেলে বলে,“ড্যাব ড্যাব করে, চোখ কোটর থেকে বের করে হাতে নিয়ে, চোখ দুটোকে উটপাখির ডিমের সাইজ বানিয়ে। আরো বাজে ভাবে, ভয়ংকর ভাবে তোমাকে দেখছি। তোমাকে এখন কে বাঁচাবে প্রণমি?”
“বাড়াবাড়ি করছেন আপনি।”
অষ্টাদশী ফিসফিসিয়ে বলে। ফিচেল হাসলো ইরফান,হাত সরিয়ে নিয়ে ফিসফিসিয়েই বলল,“আসলেই তো! এক কাজ করো,আপুকে ডাকো!”
প্রণমি ডাকেনা আপুকে। ইরফান আবারো বলে,“নালিশ করো?”
প্রণমি নালিশ করে না,শুধু কাঁদো কাঁদো মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। বাচ্চাসুলভ রাগে তার নাকের পেশি বারবার সংকুচিত প্রসারিত হচ্ছে। এবং আবারো হাতে টান খেয়ে চমকায়, রেগেমেগে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখুনি ওর হাতের অঞ্জলিতে একটা চকলেটের প্যাকেট রেখে দেয় ইরফান,প্রণমির পছন্দের চকলেট।
________
ইরফান খাচ্ছে আয়েশ করে, সারাদিন পরে, তাও আবার শ্বশুর বাড়িতে। ওর সামনে বসে আছে প্রেরণা আর প্রিতম। খেতে খেতে কাঁচা মরিচও চেয়ে নিলো ইরফান। প্রেরণা স্বাভাবিক গলায় বলল,“আর কিছু দেবো?”
দু'পাশে মাথা নাড়ে ইরফান। প্রেরণা হঠাৎ বলে ওঠে,“ছোটো মানুষ, অত বুঝ নেই। ওকে দেখলে মনে হবে খুব শান্ত গোছের মেয়ে, আদতে তা নয়। ওর ভীষণ জেদ আর চাপা রাগ, চিল্লাপাল্লা করে না, রেগে গেলে নিজের হাত নিজে কামড়ে রক্ত বের করে ফেলে, এমন চাপা রাগ বুঝলে? জানিনা তুমি ব্যপারগুলো কিভাবে সামলাবে, আমার উচিত তোমায় জানানো,জানিয়ে দিলাম।”
খাওয়া থামিয়ে দেয় ইরফান কিছু সেকেন্ডের জন্য, তারপর আবার খেতে শুরু করে। প্রেরণা বলেই যাচ্ছে,“এটা ভয়ের ব্যাপার আসলে আমার কাছে। আই থিংক হতাশ হবো না তোমার থেকে। তবে এর মানে বুঝো না যে ওর অযাচিত মেজাজ ধৈর্য্য ধরে মেনে নিতে বলছি।”
এবারো কোনো জবাব দেয়না ইরফান। প্রেরণা আর কোন কথা বাড়ায় না এই প্রসঙ্গে। আরো দু পিস মাংস তুলে দেয় ইরফানের প্লেটে।
ধীরপায়ে এগিয়ে প্রণমি নিজের ঘরের দরজার পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে, কান খাড়া করে শুনছে খাবার টেবিলে কি কথা চলছে সেসব। হাতের মুঠিতে তার চকলেটের খোসাটা খসখস করছে।
খাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়ায় ইরফান। মুখ হাসি হাসি করে প্রেরণাকে বলে,“আপু এখন উঠি। আপনি বিশ্রাম করুন।”
_দাড়াও প্রণমিকে ডাকছি.......প্রণো,ইরফান যাচ্ছে।
ইরফান থামায় প্রেরণাকে,“এই না আপু। ডাকতে হবে না, ওর অস্বস্তি হয়। এতো অস্বস্তি দেওয়ার দরকার নেই ওকে, ছোটো মানুষ, শি নিড স্পেস না?”
কথাটা শুনে চোখ বড় বড় হয়ে যায় প্রণমির। হতভম্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে সে। এই লোক তাকে অস্বস্তি দিতে চায়না বলছে? অথচ একটু আগে রুমে যা করে গেল? কি ভণ্ড একটা লোক! আপুর সামনে কি ভদ্রলোক সাজছে! আশ্চর্য!
চলমান........
[ এই পর্বটা ফাও পর্ব। কেন লিখেছি জানিনা। গল্প টেনে একলাফে ওদের বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমার শিরা উপশিরায় থাকা জিলিপির প্যাচ গুলো আমাকে প্ররোচনা দিলো,“এই ইতি, একটা ফাও পর্ব লিখে পাঠকের ধৈর্য্য নিয়ে ছিনিমিনি খেল।”
আগামী পর্বে অনুষ্ঠান এবং বিবাহ পরবর্তী জীবন শুরু হবে ওদের। বেয়াদবি মার্জনা করবেন,ভুল ত্রুটি চোখ বুজে এড়িয়ে যাবেন। ধন্যবাদ 🖤]