ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 106

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১০৬
#ইসরাত_ইতি

🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

কমিউনিটি সেন্টারের সম্মুখে সাড়ি সাড়ি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। আকাশে সিঁদুর রাঙা মেঘ, মাগরিবের ওয়াক্ত পূর্ববর্তী আকাশের ম্যাদাটে আলোর নিচে এসে দাঁড়ালো ওরা, হলের বিশালাকার আঙ্গিনায়। কনে বিদায় হবে এখান থেকেই।

ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীরটা নিয়ে এগিয়ে যায় প্রেরণা,চলছে না পা,শরীরটাকে কেউ এসে ধরলে খুব ভালো হতো।

প্রণমিকে ধরে রেখেছে ইনু আর ইশি। অবিরত কেঁদে কেঁদে শরীরের অবস্থা করেছে বেহাল। গাঁয়ের মেজেন্ডা রঙের বেনারসী,আর মাথার ওপরে সোনালি পারের দোপাট্টার অবস্থাও বেহাল। শুভ্র শেরোয়ানি পরনে ইরফান পাশে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ, আড়চোখে দেখছে শুধুই মেয়েটাকে। গাঁয়ে হলুদ থেকে আজকের এই অনুষ্ঠান, পুরোটা সময় দাঁত বের করে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করা ছেলেটা হঠাৎ মুখ কালো করল,নামিয়ে আনলো মেঘ সমান গম্ভীরতা। এই অনুভূতি কেমন? ইশি,ইনুর সময় সে টের পেয়েছিল। কালো মুখে প্রিতমকে দেখে সে ঘাড় ঘুরিয়ে, চশমার নিচে ভেজা দু'টো পুরুষালি চোখে পানি। পুরুষ মানুষ শব্দ করে কাঁদে না তাই কেউ টের পাচ্ছে না।

প্রেরণা এগিয়ে যায়,গিয়ে বোনের সামনে দাঁড়িয়ে অবাক বিস্ময়ে বোনকে পা-মাথা দেখলো। দেখতেই থাকলো। পর পর ইশির দিকে তাকিয়ে কান্না আটকে বলল,“শাড়িটা বড্ড ভারী পরেছে এতটুকু শরীরে। গিয়ে পাল্টে দিও প্লিজ?”

চাপা কান্না জোরালো হয় প্রণমির, উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পরলো আপুর বুকে। এবং আরো একদফা বান ভাসিয়ে কান্নার রোল পরলো। ইরফান দূরে সরে দাঁড়ায় তৎক্ষণাৎ, এই দৃশ্য দেখে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে বার্তা বয়ে চলছে তার নতুন দায়িত্ব, এবং যে প্রতিশ্রুতি সে সবাইকে দিলো সেটি রক্ষা করার। চঞ্চল দৃষ্টি স্থির হয় মেঝেতে। প্রেরণা কান্না মুছিয়ে ওর দিকে তাকায়,বেশি কথা বাড়াতে চায়নি সে, ছোটো করে বলল,“যাও।”

এই অনুষ্ঠান কনে বাড়ির, প্রেরণাদের আত্মীয় স্বজন নেই তেমন,ওদিকে ইরফানের সিদ্ধান্তে বেশি বরপক্ষ আসেনি। যারা না এলেই নয়,তারা এসেছে, ইরফানের বন্ধুরা এসেছে। বড় অনুষ্ঠান হবে বরের বাড়িতে।

হাঁপাচ্ছে প্রেরণা, হাঁপাতে হাঁপাতে বোনকে সরিয়ে দেয়,প্রণমি ছাড়ে না। সে ছাড়বেই না এমন। বোনের দুগালে পরম আদরে দুটি চুমু খেয়ে প্রেরণা বলে,“কি শিখিয়েছি এই দু'দিন? মাথায় থাকবে?”

অঝোর ধারায় কাঁদছে প্রণমি, জবাব দিচ্ছে না। প্রেরণা আশেপাশে তাকায়, প্রণমির শ্বশুর বাড়ির লোক গুলোকে এভাবে দাড় করিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এভাবে কেঁদে কেটে অপ্রস্তুত সে করতে চায়না। বোন বিদায় করে বাড়িতে যাবে। ইহানের দিকে তাকায় সে একপলক,তাকায় ইলহামের দিকে,নিরেট ঠাণ্ডা স্বরে বলে,“নিয়ে যান। দেরী হয়ে যাবে।”

_আমার কথাটা রাখলে না মা? চলো আমাদের সাথে?

সামিনের কথায় স্মিত হাসলো সে, শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে বলল,“এটা হয়না আঙ্কেল। রিসিপশনে যাবো।”

সকাল থেকে বুঝিয়েও ওকে কেউ রাজি করাতে পারেনি, মির্জা বাড়ি থেকে আলো আর পরী বহুবার বলেছে, প্রেরণা রাজিই হয়নি।

মোট তিনটা গাড়ি ও বাড়ির। একটায় গিয়ে মুঈন বসলো ড্রাইভিং সিটে, আরেকটায় বসলো ইহান। আরেকটায় মুরব্বিরা যাবে।

এদিকে প্রণো বোনকে ছাড়েনা, গায়ে হলুদ থেকে গুমরে মরেছে এই ভয়ে। প্রেরণা বারবার ঠেলে দিচ্ছে প্রণমিকে, ইরফানকে দেখে এতক্ষণে সে মুখ খুলল, ঝরঝর করে কেঁদে উঠে বলল,“আমারো একটা দায়িত্ব। জানিনা আমি তোমার হাতে তুলে দিয়ে কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে বুক ভরা প্রত্যাশা আমার। আমার বোন কাদুক, হ্যাঁ ও কাদুক অসুবিধা নেই। তবে ওর চোখের পানি যেন গাল অবধি পৌঁছানোর আগে মোছা হয় কেমন? ছোটো থেকে জান প্রান এক করে বড় করেছি.... আমি আশাহত হলে,আমার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হলে আমি লজ্জায় মরে যাবো....!”

একজন মা বাবা-সম বোনের এই গভীর আর্তনাদের বিপরীতে হতচকিত হয়ে শুধুই চেয়ে থাকে ইরফান। প্রিতম এসে প্রেরণাকে আগলে নিয়ে ইরফানের দিকে তাকায়, ভাঙা গলায় বলে, “তুই জানিসও না আমরা আমাদের কি তুলে দিয়েছি তোর হাতে, একদমই জানিস না। শোন ইরফান, আমার বোনটা যেন ভালো থাকে কেমন? ও ভালো মা-বাবা পায়নি, আমি ভালো ভাইয়া চেয়েও হতে পারিনি, ও খুব চমৎকার একজন হাসবেন্ড ডিজার্ভ করে এতো না পাওয়ার মাঝে, জরিমানা হিসেবে, করে না বল?”

ক্রন্দনরত দুই ভাইবোনের চোখের আকুতি দেখে চোখ নামিয়ে নেয় ইরফান। অতঃপর খানিক বাদে নিজের ডান হাতটা তুলে প্রিতমের দিকে বাড়িয়ে অস্বাভাবিক শীতল স্বরে বলে,“করে।”

প্রিতম ইরফানের হাত দেখলো,পর পর বুঝে নিয়েই ছোটো বোনের হাতটা তুলে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সরে এলো,এসে আপুকে ধরলো।

ইরফান আর দাঁড়ালো না, চুপচাপ প্রণমিকে নিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে যায় গাড়ির দিকে। ওদের পিছু পিছু ইনশিরাহ,শেহা আর ইনু। প্রণমি কান্না থামিয়ে চুপ হয়ে আছে যখন ওর হাত ধরেছে একটা শক্ত হাত, অত্যন্ত মোলায়েম ভাবে। বড় বড় দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত আর কোনো শব্দ করছে না প্রণমি। ইনু গাড়িতে ওঠার আগে পিছনে ফিরে দেখল প্রিতম আর আপু একে অপরকে ধরে কাঁদছে পাগলের মতো। ইহান ওকে তাড়া দিল,“ওঠ যাবি না?”

ইনু আবারো একপলক দেখলো প্রেরণা প্রিতমকে,পর পর ইহানকে বলল,“আমি ওদের কাছে থাকবো। আমি কনে পক্ষ।”

বলেই ছুট লাগিয়ে গিয়ে ধরলো বড় ননদকে, শান্ত করতে। ইহান তার বোনের বুঝ দেখে খুশি হয়ে মৃদু হেসে গাড়ি স্টার্ট করলো।

গাড়িতে বসিয়েই প্রণমির মাথা থেকে দোপাট্টা খুলে ফেলল ইনশিরাহ, ইরফান বসেছে প্রণমির ডানপাশে চুপচাপ, যে নরম কোমল হাতটা ধরেছিল,সেটা তখনো ছাড়েনি। প্রণমিও ছাড়িয়ে নেয়নি, চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে ইশির কাধে মাথা রাখলো।

গাড়ি মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরেছে, সামনের দু'টো গাড়িতে মৃদু মিউজিক বাজছে। বৌ-বরের গাড়িতে কোনো শব্দ নেই। সকলেই চুপচাপ,আসলে তারা বুঝতে পারছে না প্রেরণা প্রিতমের এত আদরের ছোটো বোনটাকে কিভাবে স্বান্তনা দেবে।

মাগরিবের আজান হলো,রিতু ওয়াক্তের নামাজ এবং সেই সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে উঠে লম্বা মোনাজাত শেষ করে জায়নামাজ গোছাচ্ছিল যখন, আলো এলো হাঁপাতে হাঁপাতে,“রিতু গাড়ি এসেছে সদর রোডের কাছেই, তবে আসতে দেরি হবে না। চল নিচে।”

রিতু এক মনে বিড়বিড় করছে,“হে আল্লাহ ছেলেটাকে একটু সংসারী করো,ছেলেটাকে একটু ধীরস্থির করো, ধৈর্য্য দিও, বুঝ দিও আর বৌকে পেয়ে যেন আমাকে ভুলে না যায় সেটাও দেখো,আমি তো খারাপ শাশুড়ি হবো না বলো? আমি যেন কষ্ট না পাই!”

চোখ বন্ধ করে জপ করছে রিতু। আলো আর পরী শব্দ করে হেসে উঠল, এবং হাসতেই থাকল পেট চেপে। রিতু চোখ মেলে তাকাতেই আলো বলে,“সব একবারেই চাইবি? তাইলে ওটা বাদ রাখবি কেন, নাতি না নাতনি লাগবে সেটাও চা আল্লাহর কাছে।”

রিতু উঠলো, গম্ভীর হয়ে বলল,“ওরা এসেছে?”

_হু চল।

_ঐ মেয়ে এসেছে? প্রেরণা?

বিরক্ত হলো পরী,“ঐ মেয়ে ঐ মেয়ে করো কেন ভাবী? এখনও এতো রাগ? ইদানিং খুব খিটখিটে হচ্ছো। শাশুড়ি টাইপ। প্রণমির সাথে উল্টো পাল্টা করো না খবরদার!”

সদর দরজা খোলা,অথচ একজন মহিলাও নেই দরজায়। বিরক্ত হয়ে সামিন ওদের সদর দরজায় দাড় করিয়ে রেখে আলোকে ডাকতে ডাকতে দোতলায় উঠলো। ইলহাম,ইহান, ইশমাম আর শান্তও দোতলায় চলে গেল। এখন এসব বাচ্চাদের রীতি অনুষ্ঠানে তাদের থাকার প্রয়োজন নেই।

প্রণমি শান্ত একেবারে,একটা শান্ত নদীর মতো শান্ত। আপু শিখিয়ে দিয়েছে তাকে শান্ত থাকতে, এ বাড়ির লোকগুলোর আপ্যায়ন খুব আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করতে। কেঁদে কেটে কাউকে বিব্রত করতে চায়না সে। ইরফান আড়চোখে অনিমেষে বধূর ফরসা স্নিগ্ধ মুখটাই দেখছিল,হাত তখনো ছাড়েনি সে।

সদর দরজার কাছে প্রতিবেশী থেকে লোকজন এসে দাঁড়িয়েছে, বাচ্চা বয়সী ছেলেমেয়েরা সব, এ বাড়ির বৌ দেখবে বলে, ইরফান ভাইয়ার বৌ দেখবে বলে তারা খুবই উৎসাহিত।

মুরব্বি মহিলা বা পুরুষ কেউ নেই। সেই সুযোগে ইশি একটু মজা করে মুরব্বি ভাব ধরে প্রণমির মাথায় শাড়ির আঁচল তুলে দিয়ে ইরফানকে বলল,“এবার ওকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকতে হবে।”

_সিরিয়াসলি?

_হুম,তোর বাপ চাচারাও এমন করতো।

হাসির রোল পরলো সবার মাঝে, প্রণমি গুটিয়ে গেলো। লোকটা তো এমনিই বেপরোয়া,তার ওপর এরা লাই দিচ্ছে।

নিক্সন পেছন থেকে চেচালো,“ভাই নাটক কম কর। এই কথা তুই-ই ইশিকে শিখিয়ে দিয়েছিস আমরা জানি। এখন কোলে নে,আমরা গৃহপ্রবেশের ছবি তুলবো। তাড়াতাড়ি।”

আবারো হেসে উঠলো সবাই, অথচ ধীরে ধীরে গুটিয়ে যাচ্ছে প্রণমি। ইরফান একপলক ওকে দেখল, পরপর কোলে তুলে নিতেই সবাই হাত তালি শুরু করে দিল। নিক্সন তুলল কিছু চমৎকার ছবি স্বামী স্ত্রীর।
ইরফান ভয়ে পাংশুটে হয়ে যাওয়া প্রণমির মুখের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই কপাল চাপড়ে ইশি চেঁচিয়ে উঠলো,“আরে কোথায় যাচ্ছিস আহাম্মক?”

_রুমে?
দ্বিধান্বিত স্বর ইরফানের।

ইশি আবারো কপাল চাপড়ে বলে,“রুমে নয় গেস্টরুমে। লোক আসছে বৌ দেখতে। আহাম্মক কোথাকার!”

ইরফান কপাল কুঁ'চ'কে ফেলল,“গালি দিচ্ছিস কেন? আমি জানি এতো কিছু? আশ্চর্য!”

_তাই বলে সোজা রুমের দিকে হাটা ধরবি? তোর কমনসেন্স দেখে আমার সেন্স হারাতে ইচ্ছে করছে।

মুঈন থামালো দুই ভাইবোনের ঝগড়া, মেজাজ দেখিয়ে বলল,“তোমরা ঝগড়া করো। ওদিকে নতুন মেয়েটার যে অস্বস্তি হচ্ছে বোঝো? আশ্চর্য ধরনের আক্কেল তোমাদের।”

ইরফান লজ্জিত হয়ে গেস্ট রুমে চলে গেল, বিছানায় আলতো করে বসিয়ে দিয়ে ঝুঁকে প্রণমিকে প্রশ্ন ছুঁড়ল,“ইউ ওকে?”

গত দু'দিন পরে এই প্রথম ইরফান তার সাথে কথা বলল,গায়ে হলুদে ভিডিও কলে দেখেছে শুধু প্রণমিকে। নিজের অস্বস্তি সরিয়ে ফেলে প্রণমি মৃদু মাথা ঝাঁকায় শুধু।

সরে দাঁড়ায় ইরফান,গায়ের শেরোয়ানি টা বড্ড বিরক্ত করছে,এটাকে বদলাতে হবে তাই গেস্টরুমের দরজায় পা রাখতেই দেখলো আলো,রিতু,পরী এসেছে।
ছেলের মাথায় আদর করে হাত বুলায় তিন জা। ইরফান তৎক্ষণাৎ গম্ভীর হয়ে নিচুগলায় বলল,“প্রতিবেশী থেকে যারা আসছে, উল্টো পাল্টা মন্তব্য করলে আমার মার খেয়ে বেরুবে বলে দিলাম।”

আলো আশ্বস্ত করলো ওকে,“মাথা ঠান্ডা কর। কেউ উল্টোপাল্টা মন্তব্য করবে না, চাঁদ এনেছিস তুই। মানুষ উল্টো তোকে পচাবে। বলবে বামুনের ঘরে চাঁদ।”

ইরফান লজ্জিত হয়ে হেসে দোতলায় চলে গেলো। রিতু গিয়ে ছেলের বৌকে জড়িয়ে ধরে আদর করলো, আপ্যায়ন করলো নিজের হাতে, শরবত খাইয়ে দিল। গাল আগলে ধরে বলল,“আমি কে হই তোমার বলো?”

_শাশুড়ি।
অস্ফুটে জবাব প্রণমির। রিতু হাসে,বলে,“না মা। মা ডাকবে। কেমন?”
প্রণমি ভদ্র মেয়ের মতো দু'পাশে মাথা নাড়ায় ।

ওদিকে প্রেরণা আর প্রিতম দেখছে বোনকে, ভিডিও কলে। ইশির হাতে ফোনটা।

রাতের খাওয়া শেষে ইনশিরাহ যখন প্রণমির শাড়িটা খুলে একটা সালোয়ার স্যুট পরিয়ে দিতে চাইলো, পরী বাঁধা দিয়ে বলল,“আজ একটা শাড়িই পরা। এতো সুন্দর লাগছে ওকে। ইরফান একটু নিড়িবিলি দেখবে। একটু সাজিয়ে দিস। অবশ্য এই মেয়ে সেজে কি করবে। সাজলে বাড়াবাড়ি লাগবে। থাক সাজানোর প্রয়োজন নেই।”

শেহা বেছে বেছে একটা লাল মসলিন শাড়ি এনে ইনশিরাহর হাতে দিল, গাঁয়ের ভারী শাড়িটা পাল্টে ওটাই পরিয়ে দিয়ে ওরা দোতলার লিভিং রুমে বসলো। যতই সময় যাচ্ছিল,প্রণমি স্বাভাবিক থাকতে চেয়েও আরো অস্বাভাবিক হয়ে উঠল,মুখ ক্রমশ অন্ধকার হচ্ছে। শেহা ঝুকলো ওর দিকে,কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,“ভয় হচ্ছে?”

প্রণমি চুপ। শেহা মলিন হেসে বলল,“আমাদের রাগী মির্জা খুব ভালো স্বামী হবে। এটা মাথায় ঢুকিয়ে নাও। লিখে নাও। অযথা ভয় পেয়ো না।”

প্রণমি অযথা ভয় পাচ্ছে না? লোকটার ভণ্ডামি তাকে চ'ম'কে দিচ্ছে কবুল বলার পর থেকে, ভয় পাবে না একে? প্রণমিকে স্বস্তি দেওয়ার মতো কিছু করেছে এখনও এই লোক?

শেহা ওর সামনে বসে ওর গা থেকে ভারী গয়না গুলো খুলে নিয়ে ওর চুলে লম্বা বেনী করে দেয়, বারবার চেয়ে চেয়ে প্রণমিকেই দেখে, হঠাৎ খুব সতর্ক হয়ে চোখই সরিয়ে নেয়, রাগী মির্জার সুখে নজর লাগাতে ইচ্ছুক নয় সে।

বাড়ি ভর্তি মেহমান গিজগিজ করছে, ইরফান বন্ধুদের সাথে হাতে হাতে যখন সবার শোয়ার ঘরের ব্যবস্থা করছিল তখন ওর ডাক পরলো দুধ মধু রিচ্যুয়ালের জন্য। একটা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি গায়ে চাপিয়েছে শেহার জোরাজুরিতে। পরিশ্রম করে ঘাম ছুটেছে, মুখ হাতে পানি দিয়েই বসলো গিয়ে প্রণমির পাশে। প্রণমি গুটিয়ে গেল।

ভিডিও কলে থাকা প্রেরণা,প্রিতম আর ইনুকে উদ্দেশ্য করে এবার মুঈন বলে উঠলো,“দেখা হয়েছে? এবার ভাই রাখি। বাকিটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার। আপনাদের দেখার দরকার নেই।”

দোতলার লিভিং রুমে জমায়েত হয়েছে সবাই। রাত এগারোটা পেরিয়েছে। বড়রা যে যার ঘরের দোর এঁটেছে। ক্লান্ত প্রণমিকে জোর করে বসিয়ে রেখে ছোটো সদস্যরা। শেহা এলো একটা চাদর নিয়ে। ইরফান আর প্রণমির ওপর চাদরটা রাখতেই প্রণমি বলল,“এটা কেনো দিচ্ছেন?”

_তুমি জানো না? এটা একটা মজার রীতি,মজা করে করা হয় বিয়েতে। তোমরা একে অপরের মুখ না দেখে দুধ মিষ্টি খাবে চাদরে মুখ ঢেকে।

প্রণমি ধীরে জবাব দিলো,“জানি। আমি বলতে চাইছি, এটা দিয়ে আমাকে ঢাকবেন না, আমি তো দেখতেই পাইনা ‌! ওনাকে ঢাকুন।”

কথাটা বলেছে প্রণমি স্বাভাবিক গলায়। ওর কন্ঠে একটা প্রহসনের সুর ছিল, ইরফান ঘাড় ঘুরিয়ে বিমূঢ় হয়ে চেয়ে রইলো ওর দিকে কিছু পল। তারপর নিজের মাথা থেকে চাদরটা সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর হয়ে শেহাকে বলল,“এসব দিয়ে ঢাকতে হবে না। এমনি খাওয়া আমাদের।”

শেহা দুধ, মিষ্টি,মধূ খাইয়ে যখন দিচ্ছিল। ইনশিরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হঠাৎ বলে উঠল,“এই ইরু। আমার মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে একটা কথা ভেবে।”

_কি?

_প্রণমি এতো ফরসা,তুই তো একটা কালো মানিক। আমার নান্না মুন্না ভাইপো ভাইঝির এক্সাক্ট গাঁয়ের রঙটা কেমন হবে?

নিমিষেই হোহো করে হেসে উঠলো সবাই। প্রণমি গেল সিটিয়ে,লজ্জায়। মুখটা হলো আরো থমথমে। ইরফান বুঝলো, পর পর ইশিকে জবাব দিলো,“এক কাজ কর, ওকে যেতে দে। এরপর আমি তোকে ক্যালকুলেশন করে বের করে বলছি। ওকে যেতে দে।”

প্রণমিকে ওরা যেতে দিতে চায়নি এতো সহজে, ইরফান চোখ রাঙালেও কাজ হয়নি। বারোটা অবধি গানের আসর বসিয়েছে সবাই। ইহান এসে সব কটাকে ধমকেছে বলে ছাড়া পেয়েছে প্রণমি। ওকে নিয়ে ইনশিরাহ বসিয়ে দিয়েছে বিছানায়। ফুলে ফুলে সজ্জিত যেই বিছানা।
তবে ওরা কেউ দমে যায়নি, ইরফান ঘরে ঢোকার আগেই বাঁধা পেল। ইনশিরাহ বলল,“পঞ্চাশ হাজার দে!”

একটুও বিলম্ব করেনি ইরফান। বড় বাবার কাছ থেকে সে আগেই লাখ খানেক টাকা চেয়ে এনেছে,সে তৈরি এদের মোকাবেলা করতে। দরদাম করে সময় নষ্ট করার মতো ধৈর্য্য তার নেই। বিয়ের গেট ধরেছিল দুপুরে,তখনও পঞ্চাশ চেয়েছে। সাথে সাথেই ইরফান দিয়ে দিয়েছে। এবারো তাই। ওর বন্ধুরা সিটি বাজিয়ে বলে উঠলো,“ভাই। তুই তো ভেরী ডেঞ্জারাস!”

প্রণমি শুনছিলো সবটা, ক্রমশ ওর মুখটা হচ্ছে মলিন। বাড়িতে ঢোকার পর থেকে ক্রমবর্ধমান উৎকণ্ঠা তাকে পিষে দিচ্ছে। লোকটার এতো তাড়া কেন? সবকিছু এতো তাড়াহুড়ো করে করছে কেন? গলার কাছে কেমন চিনচিনে অনুভূতি হচ্ছে তার। অথচ লোকটার সম্পর্কে ধারণা তার কত বদলেছিল, গত দু'দিন ধরে লোকটা তাকে হতাশ করছে কেন? প্রণমির মনের ভুল? এমন হলে প্রণমি খুব দুঃখ পাবে। হয়তো সেই দুঃখ কাউকে বলতে পারবে না প্রণমি। এক অদ্ভুত আবেগে জর্জরিত হয়ে লোকটাকে স্বীকার করেছে সে, আল্লাহ যেন তাকে হতাশ না করে। লোকটা যদি আত্মকেন্দ্রিক হয়,তবে আজ, এই রাতেই প্রণমি পাথর হবে। আবেগ পুষবে না, প্রেম আনবে না, শুধু সংসারই করবে সে। যে সংসার সে আবেগের বশে চেয়ে ফেলেছে।

গুটিয়ে গিয়ে শাড়ি খামচে ধরে বসে আছে প্রণমি। দরজা লাগানোর শব্দ পেলো হঠাৎ। দরজা লাগিয়েই ইরফান দরজায় ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, অনিমেষের চেয়ে রইল বধূর দিকে। লাল শাড়ি,লম্বা চুলে বেনী, মাঝখানে সিঁথি কাটা, ঘোমটা নেই মাথায়। এই অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী অবশেষে তার ঘরে? কি আশ্চর্য! কি আশ্চর্য!

সারাদিনের ঝক্কিতে ইরফান এমন করে আশ্চর্য হতে পারেনি। ধীরে ধীরে দৃষ্টি নামিয়ে দেখল প্রণমির হাত, নার্ভাসনেসে খামচে ধরেছে চাদর। ইরফান ওসব দেখে অস্পষ্ট হেসে এগিয়ে গেলো। টিশার্ট আর ট্রাউজার বের করে পাঞ্জাবিটা পাল্টে গিয়ে বসল প্রণমির সামনে। প্রণমি ভেতরে ভেতরে হাঁসফাঁস করছে। ইরফান বলল,“মোহরানার টাকা তোমার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছি। যদিও ওটা আমার ইনকাম করা নয়। অল্প কিছুদিন হয় চাকরি করছি, ওভাবে জমাতে পারিনি।”

প্রণমি কিছুই বলছে না, ইরফান সাইড টেবিল থেকে একটা চকলেট বক্স তুলে নিয়ে প্রণমির হাতে তুলে দিয়ে বলল,“ইশি বলছিলো প্রথম রাতে কিছু দিতে হয়, আপাতত পকেট সত্যিই ফাঁকা। স্যালারি পাবো বিশদিন পরে। আমি অন্তত এই জিনিসের টাকা ধার করতে চাইনি পাপার থেকে। ওয়ালেটে যা ছিল,তা দিয়ে এগুলো কিনলাম।”

উৎকণ্ঠা চেপে রেখে প্রণমি আন্তরিক হাতে বক্সটা নিলো যখন, ইরফান টেবিল থেকে একটা ওষুধ আর পানি এনে ওর হাতে দিয়েই বলল,“ওষুধটা খাও।”

নিমিষেই কেঁপে উঠল প্রণমি,হাত থেকে ফেলল চকলেটের বক্স। চোখের পাতা কাঁপতে লাগলো, লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,“কি-কিসের ওষুধ?”

ইরফান সরল মনের মানুষ এখন,বধূর উৎকণ্ঠার কারণ ধরতে না পেরে অবাক হয়ে বলল,“তখন না ওদের বলছিলে মাথাব্যথা করছে? হাদী দু'টো ওষুধ দিতে ভুলে গিয়েছে। নাও খাও, কাপছো কেন? কি হয়েছে? শরীর খারাপ?”

স্থির হলো প্রণমি, সেকেন্ডে নিজেকে সামলে নিয়ে ওষুধটা নিয়ে খেল,হাত তখনো কাঁপছে ওর। ওকে পানি খাইয়ে ইরফান গ্লাসটা রেখে দেখতে থাকলো প্রণমিকে। প্রণমি বুঝতে পারছে,সে ধীরে ধীরে নিজে থেকেই বলল,“বিছানার কোন পাশে শোবো?”

_কেন?

_ঘুমাবো।

_ঘুমাবে না।
দৃঢ় ভাবে বলল ইরফান।

চমকায় প্রণমি। বলে,“মানে?”

_মানে ঘুমাবে কেন? আমাদের বাসর রাত আজ?

প্রণমি আইঢাঁই করছে, কান্না চেপে বসলেও কিছু বলল না আর,এই লোক যদি তাড়াহুড়ো দেখিয়ে তার আবেগ পিষে দেয়,দিক। এই লোকের তো কোনো অপরাধ হবে না, পৃথিবীর কোনো আইনেই হবে না। প্রণমি কে তাকে দোষারোপ করার? যেখানে সুযোগ সেই দিয়েছে?

এসব কথা বলে মনকে শান্ত করলেও প্রণমির কান্না পেল যখন ইরফান ওর কাঁধ চেপে ধরলো দু'হাতে। কেঁদেই ফেলতো প্রণমি তবে কাঁদল না যখন দেখলো তাকে বিছানায় ঠেলে শোয়ানো হয়নি বরং আলতো হাতে কাঁধে হাত রেখে বিছানা থেকে নামানো হচ্ছে।
নরম স্বর ইরফানের,বলল,“নামো।”

অবাক প্রণমি, বললো,“কোথায়?”

ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ইরফান বললো,“বাসর করতে!”

বিস্ময়ে হতবাক প্রণমি,টের পেলো ইরফান ওর কাঁধ থেকে হাত নামিয়ে পেছন থেকে আলতো করে ওর দু'টো হাত ধরে ধীরে ধীরে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে কোথাও। ঘরের দরজার কাছে এসে থামলো ইরফান, দরজা খুলে উকি দিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল সবাই ঘুমিয়েছে কিনা,দেখতে পেলো সব রুমের দরজা বন্ধ। হাঁফ ছাড়ল ইরফান। প্রণমির কাছে গিয়ে আবারো ওর পেছনে দাঁড়িয়ে পেছন থেকে দু'টো হাত আলতো করে ধরল,বলতে লাগলো,“আমার ঘরটা সবচেয়ে পূর্ব পাশের ঘর। দরজা দক্ষিণ মুখী। বলো কি মূখী?”

_দক্ষিণ মুখী।
অবাক হয়ে অস্ফুটে বলল প্রণমি।

ইরফান ওকে নিয়ে ঘর থেকে বেরুলো,“গুড। চল এবার ডানে ঘুরে বিশ কদম এগোই। এটা ইনুর ঘরের দরজা। কার ঘর?”

_ইনুর!

_গুড। আচ্ছা তবে এবার বলি, পূর্ব পাশে মোট চারটা ঘর, আমার ঘরের পর ইনুর ঘর, তারপর বড় বাবার, তারপর মাম্মা পাপার। তাহলে প্রতিটা রুমের দরজা থেকে আরেক রুমের দরজায় যেতে যদি বিশ কদম লাগে, তাহলে তোমার শ্বশুর শাশুড়ির ঘরে যেতে কয় কদম লাগবে?

_ষাট কদম।
প্রণমি সাথে সাথে জবাব দিলো। ইরফান হাসলো,“গুড। তোমার ব্রেইন খুব শার্প শুনেছি। আচ্ছা এবার চলো মাম্মা পাপার ঘর অবধি গিয়ে বাম পাশে ঘুরি।”

ওরা ষাট কদম পরে ডানপাশে ঘুরলো, ইরফান বললো,“এখান থেকে সোজাসুজি নিচতলার সিঁড়ি । বিশ কদম যেতে হবে। বাম পাশে আরো চারটে ঘর,ইশির,বড় দাদানের,দ্রীপ্তর আর ছোটো বাবার, ক্লিয়ার?

প্রণমি দু'পাশে মাথা নাড়ায়। ইরফান বলে,“তবে এবার বলো তুমি জরুরি প্রয়োজনে নিচে যেতে হলে সিঁড়ির কাছে কিভাবে যাবে?”

_আপনার ঘর থেকে বেরিয়ে ডান পাশে ঘুরবো,ষাট কদমে আপনার মা বাবার ঘরের সামনে গিয়ে বাম পাশে ঘুরে বিশকদমে সিঁড়ি।
থেমে থেমে জবাব দিলো প্রণমি।

_এক্সিলেন্ট। ইউ আর গ্রেট। পেছনে ঘুরলেই ছাদের আর সুইমিং পুলের রাস্তা বুঝলে। তবে ঐ পথ কাল চেনাবো, চলো নিচ ঘুরিয়ে আনছি।

প্রণমি টের পেলো তার সমস্ত শরীর এক অদ্ভুত উত্তেজনায় কাঁপছে,তবে সেখানে ভয় নেই। এই লোকটার প্রতি আর একটুও খারাপ লাগা নেই তার। ইরফান ওকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,“এটা দোতলার লিভিং রুম বিশ বাই বিশ ফিট। বাড়িটা বেশ বড়, তোমার পথ মুখস্থ করতে সময় লাগবে।”

ইনুর ঘরের সামনে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়েছে ততক্ষণে শেহা। সে ছিলো দোতলার পূর্বের বারান্দায়। এসে দীর্ঘসময় ধরে ইরফান আর প্রণমিকে দেখে মলিন হেসে চুপচাপ গিয়ে ইনুর ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল।

ইরফান প্রণমিকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে,বলছে,“এই সিঁড়িতে মোট বাইশটা ধাপ। এগারোটা ধাপের পরে একটা থান আছে। সিঁড়িটা বাঁকানো। থানে পৌঁছে বায়ে ঘুরতে হবে, কোথায় ঘুরতে হবে?”

_বায়ে।

_গুড।

ওরা সিঁড়ি বেয়ে নামলো। প্রণমি শাড়ির আঁচল এক হাতে সামলে আছে,ওর আরেক হাত ইরফানের হাতে। ইরফান ওকে হিসেব করিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে কোথায় বসার ঘরের সোফাসেট, কোথায় গেস্ট রুম, কোথায় কিচেন, কোথায় নিচতলার বারান্দা, কোথায় ডাইনিং রুম।

আর প্রণমিকে সাথে সাথে সেসব মুখস্থ করে বলতে হচ্ছে ইরফানকে। ইরফান বলতে থাকে,“আমি ছাড়াও এই বাড়িটা সম্পর্কে তোমার অনেক কিছু জানতে হবে। আমাকে না হয় ধীরে ধীরে জানলে, এই বাড়িটাকে আজ রাতেই জেনে নাও।”

প্রণমি চুপ হয়ে ছিলো একেবারে,কিছু সময় পর বলে ওঠে,“আপনি মানুষকে খুব চমকে দিতে পছন্দ করেন তাইনা?”

হাসে ইরফান, ধীরে ধীরে বলে,“না। আমি আমার যা মনে আসে করি, অবুঝ মানুষগুলো চমকায়। এটা তো আমার দোষ না!”

প্রণমি মাথা নিচু করে নেয় আবারো। ইরফান এসে আবার ওর হাতটা শক্ত করে ধরলো।

_কোথায় যাচ্ছেন?

_এটা তো করিডোর, করিডোর হয়ে দশ কদম পরে সদর দরজা। এসো দেখাই।

_সদর দরজা কেন?

_সিড়ি থেকে নেমে ডানে ঘুরে বসার ঘর, বাইশ বাই বাইশ ফিট, পনের কদম সোজা হেটে করিডোর, তারপর দশকদমে সদর দরজা। আমার সাথে যখনি ঝগড়া ঝাটি করবে, তোমার আপুর ভাষ্যমতে তোমার নাকি চাপা রাগ। তো ঐ রকম রাগ দেখিয়ে আপুর কাছে যদি চলে যেতে চাও,তাই সদর দরজা চিনিয়ে দিচ্ছি।

মজা পেয়ে শব্দ না করে প্রণমি হাসে,ফিরতি প্রশ্ন করে,“তো তাহলে সদর দরজার বাইরেটা চিনিয়ে দেবেন না? যাবো কিভাবে তবে?”

_বাইরেটা চিনতে হবে না।
নিরেট ঠাণ্ডা স্বরে বলে ইরফান।

_কেন?

ওকে এনে সদর দরজার সামনে দাঁড় করিয়েও ঘুরিয়ে নিল ইরফান,ওর সামনে দাঁড়িয়ে ওর দিকে ঝুকলো,আদুরে হাতে ওর একটা গালে হাত রেখে বড্ড আবেগী হয়ে একটা চুমু খেলো প্রণমির গালের লাল তিলে, তারপর ওর হাতটা ধরে আলতো টান দিয়ে নম্র স্বরে আকুলতা ঢেলে বলল,“কারন আমি তোমাকে সদর দরজার বাইরে পা রাখতেই দেবো না, এভাবে এখান থেকেই রাগ ভাঙিয়ে,ক্ষমা চেয়ে টেনে ঘুরিয়ে, ফিরিয়ে নিয়ে যাবো ঘরে।”

মৃদু চমকালো প্রণমি ঐ কথাটায়। আবেগের বশে লোকটাকে স্বীকার করা অষ্টাদশীর কোমল হৃদয়, হঠাৎ বুঝে গেল সে এবার শব্দ করেই তার স্বামীর প্রেমে পরে গেল। তাই চমকালো প্রণমি। চোখের পাতা কাঁপতে লাগলো, কাঁপতে লাগলো ঐ হাতটা,যে হাতটা কেউ শক্ত করে ধরে রেখেছে।

চলমান.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 106 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন