ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 108

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে‌ [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১০৮
#ইসরাত_ইতি

🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

নিজাম মাহমুদ একপ্রকার জোর করেই এসেছেন আজ। আগামীকাল বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে তাদের নিমন্ত্রণ আছে, তবে তিনি একটা কারণে আসতে পারবে না। হঠাৎ করেই ভাবলেন অনেক বছর ধরে দেখা হয়না এই পরিবারটির সাথে তার, আজ দেখা করে যাওয়া যাক।

উজ্জ্বল দাদুর পাশেই চুপচাপ বসে আছে। মুখোমুখি সোফাতে এ বাড়ির কর্তা সামিন আর তার ভগ্নিপতি শান্ত, ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখেছে আন্তরিক হাসি।

ধীরপায়ে সিঁড়ি বেয়ে শেহা নামতেই সামিন বলে উঠলো,“মা। চিনিস ওনাকে?”

শেহা চোখ তুলে দেখলো নিজামকে,দেখলো উজ্জ্বলকে। দু'জনের চোখাচোখি হলো, শেহা দেখলো লোকটার মুখে সেই চিরায়ত হাসি।

শান্ত এতক্ষণ হাসিখুশি কথা বলছিলো নিজাম আর উজ্জ্বলের সাথে, শেহাকে দেখতে পেয়েই বলল,“মা চা নিয়ে এসে দাদুকে দাও।”

শেহা আন্তরিক হেসে মাথা নেড়ে চুপচাপ কিচেনে যায়। চা নিয়ে ফিরে এসে উজ্জ্বল আর নিজামকে দিতেই সামিন বলে উঠলো,“তুই তো কনসালট্যান্ট খুজছিলিস। এই উজ্জ্বল কিন্তু একজন সাইকোলজিস্ট। তোকে বলেছি একথা?”

শেহা আবারো চোখ তুলে উজ্জ্বলকে দেখল,আবারো চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিয়ে বসলো বড় মামার পাশে। উজ্জ্বল কিছুটা কৌতুহলী ভঙ্গিতে তাকিয়েছে ওর দিকে। গোলগাল একটা মুখ, দুগালে হলদেটে আভা। মেধাবী ডাক্তার এই তরুণীর মস্তিষ্কে বুঝি রোগ আছে?

শেহা প্রসঙ্গ পাল্টে নিচুগলায় নিজামকে বললো,“দাদু আমি না ভুল করে জিজ্ঞেস করিনি আপনাকে, আমি চিনি দিয়েছি চায়ে। আপনার কি ডায়াবেটিস আছে? ওটা সরিয়ে নেব?”

নিজাম মাহমুদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটিকেই দেখছিলো, আজকাল এই আশির বৃদ্ধ যেখানেই যান অল্পবয়সী তরুণীদের দেখতে থাকেন চোখ কান খুলে, হুটহাট প্রস্তাব দিয়ে ফেলেন নাতীর জন্য। শেহাকেও দেখছেন সেভাবে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। মেয়েটা সুন্দরী, লম্বায় তার নাতীর বুক বরাবর হবে। তার নাতী উকিল আর এই মেয়ে ডাক্তার হবে। একেবারে উপযুক্ত জুটি। রাজযোটক যাকে বলে। শেহাকে দেখার বিশ মিনিটের মাথায় তার মাথাতে এসব কথা ঘুরছে। সবচেয়ে বড় কথা এই মেয়েটি ইশিতার গর্ভের সন্তান। পাত্রী বিচার করার নিয়ম হলো পাত্রীর মায়ের চরিত্র দেখে পাত্রীকে বিচার করতে হয়। ইশিতা ছিল লাখে একটি মেয়ে, এখনো নিজামের মনে আছে মেয়েটির কথা, এই শেহা মেয়েটির মুখটা পুরোটাই মায়ের আদলে তৈরি করেছেন সৃষ্টিকর্তা।

হাসলেন নিজাম,বললেন,“ডায়াবেটিস নেই। তবে হার্ট নিয়ে ভুগছি খুব।”

শেহা চুপচাপ বসে আছে, কথা আগালেন নিজাম মাহমুদ,“আমাকে তোমার মনে নেই। তবে তোমাকে আমার মনে আছে, তুমি ছোটো থাকতে খুব আসা হতো এ বাড়িতে। তোমার বড় মামা বারবার জেলে যেত রাজনৈতিক ঝামেলায়,আমি ছুটিয়ে আনতাম। কত যে স্মৃতি আছে তোমাদের সাথে আমার!”

_তাই নাকি?

শেহা উৎসুক হলো। নিজাম মাহমুদ মাথা নেড়ে বললো,“হু, একদিন তোমাকে আর ইশমাম মির্জার মেয়ে দুজনকে একসাথে কোলে নিয়েছিলাম, তুমি দিয়েছিলে পেশাব করে আমার গাঁয়ে।”

বলেই নিজাম মাহমুদ হেসে ওঠেন। উজ্জ্বল হতভম্ব হয়ে তার দাদুর মুখের দিকে তাকিয়েই থাকে, কি অনায়াসে মেয়েটাকে বিব্রত করে দিল, এজন্যই এই বুড়োটাকে নিয়ে কোথাও যায়না সে!

শেহা কাঁদো কাঁদো মুখে নিজামকে কয়েক সেকেন্ড দেখে তাকায় নিজামের পাশে বসা সুদর্শন লোকটার দিকে। বৃদ্ধ পারলেন এভাবে তার মানসম্মানের ফালুদা করতে একটা ছেলের সামনে?

উজ্জ্বল বিব্রত,চেয়ে আছে শেহার মুখে,চোখে আকুতি তার,যেন বৃদ্ধ আধা পাগল দাদুর হয়ে বলছে,“স্যরি!”

শেহা বিব্রত ভঙ্গিতে হাসার চেষ্টা করে উঠতে উঠতে বলে,“আমি আসছি!”

_আরে উঠো না। বসো বসো। দেখি তোমাকে দাদুভাই। তা তুমি এখনো কি ডালিম খোসা সহ খাও? চা আর হরলিক্স একসাথে মিশিয়ে খেতে তুমি।

শেহা মাথা নিচু করে আছে, উজ্জ্বল দাদুকে সবার সামনে বকতে পারছে না,কেবল একটা হাত আলতো করে নিজামের হাতে রেখে অস্ফুটে বলে,“এবার আমাদের ওঠা উচিত তাইনা দাদু? ওনাকে ছাড়া উচিৎ। উনি ব্যস্ত!”

সামিন বলল,“এখন উঠবে কেন? আলো আসছে, কইমাছ ভেজে খাওয়াবে কাকাকে। দুপুরে যেতে পারবে না তোমরা।

নিজাম উৎসুক হয়ে শেহাকেই দেখছে। কি সুন্দর মার্জিত পোশাক এর। একটুও নষ্ট আধুনিকতার ছাপ নেই। চোখ জুড়িয়ে যায় দেখে। সে বলতে থাকলো,“বেশ বড় হয়েছে মেয়েটা তোমার শান্ত। আমি যেন ইশিতাকেই দেখি।”

শান্ত স্মিত হেসে বললো,“হ্যা। বড় হয়েছে মা আমার । বিয়ের কথা ভাবছি ওর, পাত্র দেখছি।”

নড়েচড়ে উঠল নিজাম, ভীষণ উত্তেজিত হয়ে খুশি খুশি গলায় বলল,“তাই নাকি? আমিও তো উজ্জ্বলের জন্য মেয়ে খুঁজছি!”

অমনি চোখ বড় বড় হয়ে যায় হাসিখুশি উজ্জ্বলের। উজ্জ্বলের মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ তাকে ইঙ্গিত দিলো,“উজ্জ্বল এক্ষুনি এই বৃদ্ধকে আটকা,নয়তো এক্ষুনি বেফাঁস একটা কথা বলেই ফেলবে ।”

পর পর উজ্জ্বলের ডান হাতের নখ নিজাম মাহমুদের হাতে বসেছে, অস্ফুটে চিবিয়ে চিবিয়ে দাদুকে বলছে,“আই কান্ট টেইক দিস এনিমোর! লাগাম টানো দোহাই।”

শেহা চোখ নামিয়ে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ছুটে গেলো রান্নাঘরে। নিজাম মাহমুদ নাতীর খামছি খেয়ে সামলে নিলেন নিজেকে,মুখটাকে হাসিহাসি করে বললেন,“মানে আমিও আমার নাতীর জন্য পাত্রী খুজছি। বাট ব্যাড লাক, উপযুক্ত পাত্রীই পাচ্ছি না!”

শান্ত এতক্ষণে নিজামের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে উজ্জ্বলের দিকে মনযোগ দিলো। ভীষণ কৌতুহলী দৃষ্টিতে দেখতে থাকলো উজ্জ্বলকে পা থেকে মাথা।

________

মেরুন সালোয়ার স্যুটের ওড়না প্রণমির মাথায় তুলে দিয়ে মমো ডাকলো ইরফানকে,“হয়েছে তোর বৌয়ের সাজ। আয় এসে দেখে যা।”

বাইরে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো ইরফান। কাউকে না পেয়ে বান্ধবী মমোকে পাঠিয়েছে প্রণমির কাছে। ঘরে ঢুকতেই মমো বেড়িয়ে গেলো। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে প্রণমি, ওড়না মাথায় তুলে, গায়ে সামান্য স্বর্ণালঙ্কার। ইরফান এগিয়ে গিয়ে মুখোমুখি দাঁড়াতেই প্রণমি টের পেলো। ওর হাতে ইরফান তুলে দিল ফোনটা,ভরাট স্বরে বলল,“আপু ভাইয়া, কথা বলো।”

বিছানায় এককোণে বসে প্রণমি নিচুস্বরে ভাইয়া আপুর সাথে কথা বলছে, ইরফান বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে নির্নিমেষ দেখছে বৌকে। কল কেটে প্রণমি নিচুগলায় বলল,“ওনারা সবাই কোথায়?”

_আছে নিচে সবাই।

_ওহহ। আমি কি একটু শুতে পারি? খুব টায়ার্ড।

আশ্চর্য হলো ইরফান,উঠে টেনে নিলো প্রণমিকে,“এই এসব কি? শোয়ার হলে শোবে কি আশ্চর্য!”

_না মানে, একটার পর একটা রিচ্যুয়াল করছে তো সবাই আনন্দ করে, ওনাদের আনন্দ ভালো লাগছে।

ইরফান সামান্য হেসে প্রণমিকে শুইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে এসে পাশে শুয়ে পরলো প্রণমির থেকে দূরত্ব নিয়ে, বলল,“এখন কোনো রিচ্যুয়াল নেই। এখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে। তুমিও বিশ্রাম নাও, আমরা দুপুরে লাঞ্চ শেষে বের হবো।”

_কোথায়?

_ঘুরতে। নদীর পাড়ে।

হাসলো প্রণমি সামান্য,“কিন্তু আমি তো কিছু দেখতেই পাবো না। ”

ইরফান কিছু পল চেয়ে থেকে বলে উঠলো,
_তোমার দেখার জন্য নিয়ে যাচ্ছি না তো নদীর পাড়ে।

_তবে?

_নদী তোমায় দেখবে সেজন্য নিয়ে যাচ্ছি।

একেবারে ধীরস্থির বলল কথাটা ইরফান। লোকটার কথায় প্রণমি আবারো বিভোর হয়, রাঙা মুখটা ঘুরিয়ে নেয় অন্যপাশে লোকটাকে বুঝতে দেবে না তাই। ইরফান শুয়ে শুয়ে পা নাচাচ্ছে, হঠাৎ আনমনে গেয়ে উঠল,“তোমারে দেখিবে পরানো ভরিয়া, আসমান জমিন দড়িয়া।”

প্রণমি আরেকটু গুটিয়ে যায় লজ্জায়, নতুন নতুন প্রেমে পরা ষোড়শী কিশোরীর মতো দুলতে থাকে ভেতরে ভেতরে। ইরফান গান থামিয়ে বললো,“উপস স্যরি তুমি তো আবার আজগুবি গান পছন্দ করো না রবীন্দ্র সঙ্গীত ছাড়া।”

প্রণমি উঠে বসে,ওর হাত চেপে ধরে ইরফান,“যাচ্ছো কোথায়? আমি কি বিরক্ত করলাম তোমাকে গান গেয়ে?”

অনুভূতি চেপে রেখে প্রণমি দু'পাশে মাথা নেড়ে বলল,“আমার বিশ্রাম নেয়া শেষ। তাই যাচ্ছি।”
_______

দুপুরে একযোগে খেতে বসেছে সবাই বাড়ির নতুন বৌকে নিয়ে। এ বেলায় আলো খাইয়ে দিচ্ছে প্রণমিকে। হাসি আড্ডার মাঝখানে আলো সামিনকে বলে উঠল,“নিজাম কাকাকে রেখে দিতে পারলেন না? এক বেলা খাওয়াতাম।”

_সে-ই থাকলো না,জোর করেছিলাম।

শান্ত হঠাৎ নড়েচড়ে উঠে সামিনের দিকে তাকিয়ে বলল,“একটা কথা ভাইয়া, একটা জরুরী কথা।”

_কি?

খেতে খেতেই সবাইকে বলে দিলো শান্ত,নিজাম মাহমুদ যাওয়ার পরপরই তাকে কল করে প্রস্তাব দিয়েছে শেহার জন্য।

শেহা ওখানে ছিলো না তখন। বড়রা সবাই প্রস্তাবের বিষয়টা খুব স্বাভাবিক ভাবে নিলেও কিঞ্চিত রেগে গেল ইহান ইরফান। ইহান বলল,“তুমি কিছু বলেছো?”

_সেটাই তো আলোচনা করতে চাইছি, ছেলেটার সম্পর্কে ঢের শুনেছি, দু'দিন সামনাসামনি দেখেছি। আমার এমনিই পছন্দ ছিল। তবে শেহার জন্য ভাবিনি। আজ তো প্রস্তাব পেলাম, এটা নিয়ে ভাবা উচিত না বল?

বিরক্ত ইরফান,“পাগল হয়েছো শান্ত বাবা? মানছি উজ্জ্বল মাহামুদ অমায়িক পার্সন এবং অনেক উপযুক্ত তাই বলে আমাদের শেহুর সাথে? শেহু কত পিচ্চি! বয়সের গ্যাপ অনেক!”

শান্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই জবাব দেয় ইরফানকে,“বয়স কি খুব বেশি? একটা ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয় তো এই বয়সেই। তোদের বয়সী কয়টা প্রতিষ্ঠিত ছেলে দেখাতে পারবি আমাকে? দেখা! আমি তো দেখি না! দুয়েকটা দেখলেও তাদের বুঝ ব্যবস্থা থাকে হাঁটুর নিচে।”

ইহান বলে উঠল,“তো উঠেপড়ে লেগেছো কেন ওকে এখনি বিয়ে দিতে? ও বুড়ি হয়েছে যাচ্ছে? পড়াশোনা রানিং।”

শ্বাস ফেললো শান্ত,“সে তোরা আমার জায়গায় থাকলে বুঝতি যদি তোদের মা মরা একটা মেয়ে থাকতো, তাও আবার চাপা স্বভাবের। ওকে তো আমি দেখি সারাদিন। কি বিষন্ন থাকে। ওর একটা সঙ্গী দরকার ইহান। আমি বাবা হয়ে আর পারছি না ওর বিষন্নতা কাটাতে,ওর মন বুঝতে।”

ইহান চুপ হয়ে গেল,ইরফান বলল,“বিয়েতে তো আমাদের আপত্তি নেই। বলছি আরেকটু কমবয়সী পাত্র....”

সামিন বলে উঠলো,“যদি শান্তর ঠিক মনে হয়,তবে দেখাদেখি করতে পারো। আমার পরামর্শ এটি। তবে সবটাই শেহার থেকে অনুমতি নিয়ে। সত্যি বলতে উজ্জ্বলকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে, খুবই প্রগতিশীল চিন্তাধারার ছেলে, তার ওপর সাইকোলজিস্ট, জ্ঞানী। আর আমাদের চাপা স্বভাবের শেহু মার জন্য আর কি চাই? যদি আমার থেকে সাজেশন চাও তো আমি বলবো,“অল ওকে। গো অন‌। বয়সের ব্যাপারটা আমাদের নয়, শেহার বিবেচনা। ওর মতামত নেবো আগে।”

ইলহাম ইশমামও সায় দিল,বলে উঠলো,“সত্যিই। হাতের কাছে কত উপযুক্ত একটা পাত্র। সুন্দর, শিক্ষিত, মাল্টি ট্যালেন্টেড।”

থমথমে মুখে বসে আছে ইরফান,ইহান। পরী ওদের দুই ভাইকে বলল,“এতো খুতখুত করছিস কেন? আমরা বড়রা একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখিই না এইবার। সব তো তোদের কথা মতোই হয়ে এসেছে।”

ইহান জবাব দিলো,“শেহুকে কষ্ট দিয়ে কোনো দেখাদেখি নয়।”

রিতু বলল,“সবই ঠিক, তবে একটা সমস্যা আছে। উজ্জ্বলও এতিম ছেলেটা। এ বাড়ির একটা বাচ্চাও কি শ্বশুর শাশুড়ির আদর পাবে না?”

ইলহাম বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,“এই তোমাদের মহিলাদের বাতিক। এটা কোনো সমস্যা হলো?”

_সমস্যা ভাবলেই সমস্যা। দাম্পত্য জীবনে শ্বশুর শাশুড়িরও গুরুত্ব অনেক। অবশ্য আজকাল তো সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবে নেন আপনারা মুক্তমনা বলে, যদি এখন আপনার বড় ছেলে এক বাচ্চার মা বিয়ে করে নিয়ে আসে তখনো বলবেন,সব ঠিক আছে। কারণ আপনারা মুক্তমনা!”

ইহান খাচ্ছিল, মায়ের কথা শুনে কেশে উঠল আচানক, কাশতে থাকলো অনবরত। চমকে উঠল ইরফানও। দাদানের দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে তাকিয়ে রইল নির্নিমেষ। দুই ভাই-ই অপ্রস্তুত। ইহান খাওয়া শেষ না করেই উঠে চলে গেল।

অবাক হলো সবাই, টেবিলে গুঞ্জন উঠল,“আশ্চর্য ছেলেটার কি হলো?”

________

ইনশিরাহ গিয়ে দাঁড়াল ঘরের সামনে। প্রণমিকে শেহা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে শাড়ি পরিয়ে, একটা কলাপাতা রঙের সবুজ শাড়ি আর সাথে সাদা ব্লাউজ। দু'হাত ভর্তি করে পরিয়ে দিয়েছে সবুজ চুড়ি, চুলে বিনুনি করে দিচ্ছে এখন।
ইরফান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে ইনশিরাহকে দেখে ভ্রু নাচিয়ে বলল,“কি?”

ইনশিরাহ চিন্তিত ভীষণ। বাড়ির সবার আপত্তি অমান্য করে এই বৃষ্টি বাদলার দিনে এই ছেলে অতদূরে, নদীর পাড়ে যাবে নাজুক মেয়েটাকে নিয়ে। তার চিন্তা হচ্ছে, ঘরে ঢুকে ভাইকে বলল,“যাবিই তুই?”

_হু।

_পারবি তো?

এবার মেজাজটা হারিয়েই ফেলে ইরফান, ঘুরে দাঁড়িয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,“না রে আমি পারবো না। এক কাজ কর, তুই চল, তোর বরকে নে, তোর বাপ-চাচা, তোর মা-চাচী, বড় দাদান আর তার দলের লোক, এই বাড়ির দাড়োয়ান, পারলে জ্ঞানী আপাদেরও ডাক। তারপর আমাদের গলির কুত্তা টমিকেও নে,
কারণ আমি এতোটাই অযোগ্য অপদার্থ যে বৌকে নিয়ে ঘুরতেও পারবো না, আমাদের দরকার পরবে তোদের। চল চল, সবাই চল। খুব মজা হবে!”

হড়বড় করে বলে ইরফান লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলছে। তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,“কি ভাবিস কি আমাকে তোরা?”

প্রণমি চুপচাপ ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রেখে বসে আছে।
ইনশিরাহ ঠোঁট ফুলালো,“ধূর রেগে যাচ্ছিস কেনো! চিন্তা হয় তো! আচ্ছা যা এনজয় কর। তবে কোথাও নেমে ওর হাত ছাড়িস না ভুলেও কেমন?

ইরফান জুতোর ফিতে বেঁধে নিয়ে এসে বিছানায় বসে থাকা প্রণমির হাত আগলে ধরে তাকে ওঠায়, শান্ত ভঙ্গিতে ইনশিরাহকে জবাব দেয়,
_সেটা তো এই জনমে না।

________

ইহান নিমেষ হীন চেয়ে চেয়ে দেখছে শুদ্ধকে,দেখছে প্রেরণাকে। একটা লোক শুদ্ধকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে পরম স্নেহে। মনে হচ্ছে লোকটা শুদ্ধর খুব অধিকারের কেউ। প্রেরণা হেসে হেসে কথা বলছে লোকটার সাথে।

সেকেন্ড ফ্লোর থেকে নিচতলায় গ্রাউন্ডে দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে ইহান। এখানে,এই শপিং মলে তার কিছু কাজ ছিল। হঠাৎ এভাবে প্রেরণাদের দেখতে পেয়েই দাঁড়িয়ে পরলো সে। লোকটা শুদ্ধকে দু'গালে চুমু খাচ্ছে, প্রেরণার মুখ দেখে মনে হচ্ছে প্রেরণার অতি আপন কেউ, হাসি থামছেই না মুখ থেকে, অথচ প্রেরণা এভাবে হাসে না সবসময়।

ইহান এগিয়ে যায়,ওরাও এস্কেলেটর চ'ড়ে দোতলায় উঠছে, লোকটা এরপর বিদায় নিয়ে চলে যায় । প্রেরণা আর শুদ্ধ হাত নেড়ে ঘুরে দাড়াতেই মুখোমুখি হয় ইহানের। শুদ্ধ ইহান আঙ্কেলকে দেখা মাত্রই ছুটে এসে কোলে উঠে গেল প্রেরণাকে বিব্রত করে। ইহান ওর দু'গালে চুমু খেয়েই তাড়াহুড়ো করে বলল,“উনি কে ছিলেন শুদ্ধ?”

প্রেরণা চোখ তুলে তাকায়, মুহুর্তেই অস্বস্তি ছেয়ে যায় তার গোটা মুখে, এটা কেমন প্রশ্ন লোকটার? যে-ই থাকুক সে এভাবে জানতে চাইবে কেন? এমন আচরণ যায় এই লোকটার সাথে? মাঝে মাঝে লোকটা অনেক এলোমেলো হয়। ইহান উত্তরটা জানতে আগ্রহী, সে কোনো ম্যানার্সের ধার ধারলো না, আবারো বলে উঠলো,“কে উনি?”

_চাচ্চু।

শুদ্ধর জবাব পেয়েই ইহান প্রেরণাকে দেখে। পরপর নিজেকে সামলে নিয়ে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রেরণা বলে ওঠে,“প্রণমিকে নিয়ে ইরফান বেড়িয়েছে শুনলাম।”

_চিন্তা করবেন না, ওরা পারবে।

অল্প হাসে প্রেরণা,“চিন্তা করাটা একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে বুঝলেন।”

ইহান ওর কথার জবাব না দিয়ে শুদ্ধকে বলল,“মুখ ভার কেন? মাম্মা বকেছে? খেলনা কিনে দেয়নি?”

_আর বলবেন না, এসেছি প্রয়োজনীয় শপিংয়ে। বারবার বলেছি এসোনা আমার সাথে, আমি ব্যস্ত থাকব। বলেছে একটুও জ্বালাবে না আমাকে, উনি গুড বয় হয়েই থাকবে। এখানে এসেই গেমিং জোনে যেতে চাইছে। ওদিকে রাজ্যের কাজ পরে আছে আমার।

ইহান হাসল,হাত ঘড়িতে সময় দেখে বলল,“আপনি যান, আপনার শপিং শেষ করুন। আমি নিয়ে যাচ্ছি ওকে। আমি আপাতত ফ্রি। এক ঘণ্টায় হবে না আপনার শপিং?”

অপ্রস্তুত প্রেরণা, মিনমিন করে বলে,“জি। তবে আপনি যান,এসবের প্রয়োজন নেই।”

বলেই শুদ্ধকে ইহানের কোল থেকে টেনে নিতে চাইলে ইহান পিছিয়ে গিয়ে কপাল কুঁচকে ফেলে,ধরে ফেলে প্রেরণার হাতটা।

চমকায় প্রেরণা, বিব্রত হয় ইহানও। ত্বরিত হাতটা ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর হয়ে বলে,“আপনি যান।”

শুদ্ধও ইহান আঙ্কেলের গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে । প্রেরণা হতাশ দৃষ্টিতে ছেলেকে কয়েক সেকেন্ড দেখে বলে,“এভাবে লাই দেবেন না ওকে। এটা ঠিক না!”

ইহানের মুখ গম্ভীর, আওয়াজ গম্ভীর,বলল,“ব্যখ্যা করুন কেনো ঠিক না?”

_একদিন ফলস পজিশনে পরতে হবে আপনার এই আদরের জন্য। আমাদের দু'জনকে সাফার করাবে।

বলেই প্রেরণা গটগট করে হেঁটে চলে যায় সেখান থেকে। ইহান শুদ্ধকে নিয়ে সটান দাড়িয়ে আছে,চেয়ে আছে প্রেরণার প্রস্থানের দিকে। আচমকা অস্ফুটে বিড়বিড় করে ওঠে,“আপনি আমাকে যে পজিশনে ফেলে রেখেছেন তার চাইতে খারাপ পজিশনে নিশ্চয়ই ফেলবে না?”

শুদ্ধ বোঝেনা ওসব কথা,বলে উঠলো,“মাম্মা তোমাকে কি করেছে আঙ্কেল?”

হাসে ইহান,ওর গালে আরেকটা চুমু খেয়ে গেমিং জোনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলে,“অনেক কিছু বেটা!”

________

গাড়ি থেকে হাত ধরে ধরে প্রণমিকে এনে দাঁড় করালো ইরফান চরে। পাথুরে চর, জুতা খুলে রেখে হাঁটছে প্রণমি,পায়ের নিচে ভেজা পাথর আর গা হিম করা ঠান্ডা আবহাওয়া, ঝিরঝিরে বৃষ্টি। প্রণমির ভীষণ ভালো লাগছে ব্যাপারটা।
ইরফান খুশি খুশি মুখে বধূর চোখে মুখে লেপ্টে থাকা হাসিই দেখছিলো।

“নদীতে বোট আছে?”
প্রণমির উচ্ছ্বসিত স্বর যা সে শান্ত স্বভাব দিয়ে চেপে রেখেছে।

_হুম আছে, তবে ওঠা যাবে না, আবহাওয়া অনুকূলে নেই।

ওকে ধীরে ধীরে একটা মস্ত পাথর খন্ডে বসিয়ে দিল ইরফান। প্রণমি বলল,“যায়গাটা এতো নিরিবিলি কেন?”

_পর্যটন এরিয়া এখান থেকে দুই কিলোমিটার আগেই ছেড়ে এসেছি। লোক নেই এদিকটায়, এজন্যই আসা।

_কেন?

_নদী তোমাকে শান্তিতে, নিভৃতে দেখবে তাই।

প্রণমি হাসিহাসি মুখ করে উঠে দাঁড়ায়,“আমি হাঁটব। আমাকে বলে দিন কাঁটা,পাথর নেই নাকি আছে।”

লিলুয়া বাতাসে কলাপাতা রঙের শাড়ির আঁচল দুলছে একটা নির্দিষ্ট তালে। প্রণমি হাঁটছে,ওর চুরির রিনিঝিনি আওয়াজে মুখরিত হয়েছে আশপাশটা।

ইরফান প্রণমির পিছু পিছু হাঁটছে পকেটে ডান হাত ঢুকিয়ে। দৃষ্টি একবার প্রণমির পায়ে, একবার ওর শাড়ির আঁচলে।
হঠাৎ প্রণমি থেমে যায়, পায়ের নিচে কিছু আটকেছে। ঝুকে ওটা তুলে হাতে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে জিনিসটা কি। ইরফান এগিয়ে যায়,বর্ণনা করতে থাকে,“পেটমোটা,সবুজ,একটা করে পাতা আছে, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।”

_কচুরিপানা?

_ইয়েস। জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে।

হাসে প্রণমি,“আমরা নদী থেকে কতটা দূরে?”

_বারো কদমের মতো।

_শব্দ নেই কেন?

_নদী শান্ত,ঢেউ নেই। পানি ঘোলাটে।

প্রণমি চুপ হয়ে যায়, এতো কিছু সে ইমাজিন করতে পারছে না। তার মন খারাপ হয় হঠাৎ। বেকার বেকার এলো সে। ইরফান সামান্য হেসে ওর দিকে দীর্ঘসময় তাকিয়ে থেকে ওকে কোলে তুলে নেয় হঠাৎ। প্রণমি চমকায়,“কি করছেন কি!”

নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে পাথর ডিঙিয়ে নদীর দিকে এগিয়ে যায় ইরফান, বলে,“তোমার সেন্স অব টাচ খুব ভালো তাইনা?”

_জি।
অস্ফুটে জবাব প্রণমির,ইরফানের বুকের কাছের শার্টটা খামচে ধরে অসহ্য আবেগে স্তম্ভিত হয়ে আছে সে।
পাথরের ওপর পা বিছিয়ে বসলো ইরফান,প্রণমির হালকা শরীরটা আগলে নিয়ে বসিয়ে নিলো কোলের কাছেই, ডান হাতটা শক্ত করে ধরে ডুবিয়ে দিলো নদীর জলে, ভরাট স্বরে বলল,“নিজেই দেখো নদী শান্ত নাকি না! ছোও। ফিল করো!”

কাঁপল প্রণমি অমন ছোঁয়ায় আচানক, লোকটার থুতনি ঠেকেছে ওর ডান কাঁধের কাছেই, প্রশ্বাসে শিহরিত হয়ে উঠছে মেয়েটা বারবার, এমন শিহরণ কখনো পায়নি সে, কখনো না। মেয়েটা অস্ফুটে বলে,“স্পর্শের সাথে সাথে বর্ণনার প্রয়োজন হয় আমার ।”

ইরফান প্রণমির হাত নিয়ে খেলা করছে, আদুরে ভঙ্গিতে বলছে,“স্রোত নেই, প্রবাহ ঠাণ্ডা,শান্ত,ধীর, দেখো। একেবারে একটা প্রণমির মতো শান্ত বুঝেছো?”

প্রণমি লাজুক হেসে চুপচাপ মাথা নাড়ায়,সে বুঝেছে। ইরফান ওকে আরেকটু মিশিয়ে নিয়ে ঘোর লাগা স্বরে ওর কানের কাছে বলতে থাকে,“আবার এটা কখনো কখনো ভীষণ তেজী হয়ে ওঠে, একেবারে প্রণমিরই মতো বুঝেছো?”

প্রণমি এবারো মাথা নাড়ায়। ইরফান এবার প্রণমির ভেজা দুইহাত আগলে ধরে ওর মুখেই স্পর্শ লাগিয়ে বলল,“এই নদী, একেবারেই এই প্রণমির মতো হয়ে আছে এখন। বুঝেছো?”

_বুঝেছি।

প্রণমি জবাব দেয়। পর পর বলে,“এখানে আর কি কি আছে?”

_এখানে? কিছু পাথর নুড়ি, কচুরিপানা, আর দুয়েকটা কাকড়া হাটি হাটি পা পা করছে।

_কাকড়া মানে ক্র্যাব?

_জি, দেখোনি?

_না এটার কথা শুনেছি শুধু। দু'টো সাঁড়াশির মতো হাত থাকে,ধারালো।

_চলো তবে ধরে ধরে দেখাই তোমায়।

ইরফান ওকে টানলে প্রণমি গুটিয়ে যায়,“এই না,কামড়ে দেবে তো!”

আদুরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়, ইরফান দুষ্টুমি করে টানছে ওকে,“আরে একটু ধরে দেখোই না।”

প্রণমি সরিয়ে নেয় নিজেকে। একপর্যায়ে ইরফান হাসতে হাসতে ওকে নিয়ে পরে যায়, লোকটার দস্যিপনায় ঘাবড়েছে মেয়েটা,ঘাবড়ে আবার লোকটাকেই শক্ত করে ধরে রেখেছে। লোকটার হাসির দমকে সেও কাঁপছে। হঠাৎ চৈতন্য ফিরে পায় প্রণমি একা,মিশে আছে লোকটার সাথে,সে চৈতন্য ফিরে পেলেও আর লোকটাকে ছাড়লো না, ধরে রাখলো, আর অনুভব করতে লাগলো দস্যিপনাকে, অনুভব করতে থাকলো প্রণমির ভয় লাগছে না, লোকটার এই দস্যিপনায় প্রমাণ হয় লোকটা আগ্রাসী হবে না, লোকটা নরম কোমল এক প্রেমিক হবে,অনেক দুষ্টু প্রেমিক,যে প্রেম প্রণমির জীবনে কখনো আসেনি,কেউ আনতে পারেনি,এই লোক জোর করে এনেছে।

বৃষ্টি শুরু হলো, ইরফানের হাসি থামল, সম্বিৎ ফিরে পেতেই প্রণমির খোলা পিঠ থেকে তার শক্ত দু'টো হাত ছাড়িয়ে নিয়ে প্রণমিকে আলগা করলো। মেয়েটাকে গভীর ভাবে ছুঁয়ে ফেলেছে সে,এই ছোঁয়া কি প্রণমির ওপর ভারি পরলো? দুঃখিত বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল যখন হঠাৎ বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকাল। শব্দে প্রণমিও চমকে গিয়ে আবারো আশ্রয় নিলো লোকটার প্রশস্ত বুকেই,শক্ত বাহুতে গাল ঠেকিয়ে হাপাচ্ছে মেয়েটা। খুবই বিশ্রী মেঘের ডাক। ইরফান ধরে রেখেছে ভীত প্রাণটাকে। সময় গড়াতেই নিদারুণ নম্রগলায় বলে,“আমাদের যাওয়া উচিত প্রণমি?”

প্রণমি নড়ে না,তার চোখ বেয়ে ফোটায় ফোটায় পানি গড়িয়ে পরছে, বৃষ্টিতেও ভিজে যাচ্ছে। হঠাৎ ধরা গলায় বললো,“বৃষ্টির ফোটা গুলো বড় বড় নাকি ছোটো ছোটো?”

ইরফান দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটার কান্নাভেজা কন্ঠ শুনে। প্রণমির অসহ্য হয়ে উঠলো সবকিছু,কপট রাগ দেখিয়ে বললো,“জবাব দিতে পারছেন না?”

_বুঝতে পারছি না প্রণো।

_তবে আমি জানবো না কেমন বৃষ্টি গায়ে মাখছে আমার?

ইরফান বোঝার চেষ্টা করছে এই মেয়ের কি হয়েছে, ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেই ওর কপালের সাথে লেপ্টে থাকা ভেজা চুল গুলো কানে গুজে দিয়ে বলে,“কি হয়েছে?”

হঠাৎ কেঁদে দিল প্রণমি,চাপা স্বরে বলল,“আপনি দেখতে কেমন?”

ইরফান চুপ হয়ে রইল। প্রণমি লোকটাকে ধরে রেখে বুকে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদছে। আপু বলেছিল,“প্রণো আবেগ বড্ড খারাপ জিনিস।” হ্যা টের পাচ্ছে প্রণমি। সেই ছায়নটের দিনগুলো থেকে,প্রণমির অজান্তেই একটু একটু করে জমা এই আবেগ কষ্ট দিচ্ছে প্রণমিকে, এই লোকটাকে সে কখনো দেখবে না,এই লোকের ছবিটা কল্পনা করতে পারবে না এই লোক যখন তাকে গভীর ভাবে ছোবে। শুধু টের পাবে কেউ তাকে ছোঁয়,প্রণমির শরীর শুধু জানবে, প্রণমির চোখ নয়! অর্ধেক মিলন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে প্রণমির স্বামীর সাথে। এই লোকের ছবি সে কখনোই ইমাজিন করতে পারবে না,এই লোক তো আর কামিনী ফুল না যে সাদা রং আর কয়েকটা পাপড়ির আদল বসিয়ে কল্পনা করে নিলো সে। এই লোক মানুষ,এই লোকের চোখে মায়া আছে, এই লোকের ঠোঁট, এই লোকের চোয়াল চিবুক, এই লোকের হাসি সবকিছু থেকে বঞ্চিত প্রণমি। কি করে ওসব কল্পনা করবে প্রণমি?

হুট করে মেয়েটার এসব মনে পরেছে। নদী বৃষ্টি কচুরিপানা এসব কিছু দেখবে না সে। সে একটিবার শুধু এই লোকটাকে দেখতে চায়,একঝলকের জন্য। যাকে প্রণমি চেয়ে কেঁদে বুক ভাসিয়েছে বোকার মতো,যে এইমাত্র যখন প্রণমির খোলা নরম পিঠে হাত রেখেছিল,অথচ প্রণমির গা ঘিন ঘিন করেনি,কি অবলীলায় প্রণমি টের পেয়েছে তার আরাম লাগছে,মানুষটা তার স্বামী বলে। এই যে এতো সরল প্রণমি, এই সরল মনটা প্রণমির দেখতে চায় মানুষটাকে, একটিবার।

বৃষ্টির ঝাপ বাড়ছে। প্রণমি ফোঁপানি থামায় না, ইরফানকে বলেও না কিছু। ইরফান এই হাহাকার দেখে এক অবুঝ তরুণীর, হঠাৎ আবিষ্কার করে সে চাঁদ পেয়েছে চাঁদ। তার মতো অভাজনকে দেখতে এই মেয়ের ছটফটানি? ঐ জ্ঞানী আপার নাক উঁচু বোনের? বিয়ের মাত্র ক'দিন পেরিয়েছে? কতখানি মায়া মেখেছে মেয়েটা? ধরে রাখলো মেয়েটিকে ইরফান, হাঁসফাঁস করছে তার বক্ষপট, অবিশ্বাস্য সুরে প্রশ্ন করছে,“আসলেই এসব আমার জন্য প্রণো? সত্যিই?”

চলমান......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 108 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন