#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১১৪
#ইসরাত_ইতি
🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
শুকনো শাড়ি গায়ে জড়িয়ে বিছানায় বসে আছে প্রেরণা। নিচে সম্ভবত আংটি বদল হচ্ছে। সে যায়নি সেখানে। তার ইচ্ছে বাড়িতে ফেরার, তবে যেতে দেয়নি এ বাড়ির লোক।
ইনু এলো এক মগ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি নিয়ে, দরজায় দাঁড়িয়েই সে বারকয়েক ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখলো শুরুতে। দু'টো ফাঁকা ঢোক গিলে শেষে ডাকলো,“আসবো আপু?”
প্রেরণা চোখ তুলে তাকায়,তবে কিছু বললো না। ইনু ওর হাতে কফি দিয়ে দূরে সরে দাঁড়িয়ে অবাক বিস্ময় নিয়ে দেখতে লাগলো প্রেরণাকে। মনে তার খুব কৌতুহল, দু'চোখের বিস্ময়। বড় দাদানের পছন্দের মানুষ তবে আপু? কিভাবে? এটা কিভাবে হয়?
_কিছু বলবে?
প্রেরণার প্রশ্নে চমকে উঠে ইনু দু'পাশে মাথা নাড়ে ঘনঘন, তারপর আরো একটা ফাঁকা ঢোক গিলে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।
আচ্ছা আপুর সাথে কি দাদানের সম্পর্ক হয়েছে? নাকি দাদান এক তরফা? আপু কি রাজি হবে? মেজো মা রাজি হবে?
ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি বেয়ে নামছে ইনু, দু'বার উষ্ঠাও খেলো যার ফলে।
নিজাম মাহমুদের ব্লেজারের পকেট থেকে বের হলো দুইটা আংটি। একটা উজ্জ্বলের হাতে,একটা শেহার হাতে। বাড়ির সকলের মুখ হাসিহাসি। অবশেষে একটা সুন্দর আয়োজিত বিয়ের সূচনালগ্নের স্বাক্ষী হতে পেরেছে সবাই। ইশির বিয়েটা আয়োজিত হলেও আংটিবদলে ইশি-সামিনের মনমালিন্যের দরুন কেউ ততটা উপভোগ করতে পারেনি অনুষ্ঠানটা।
নীল খুলে শেহা এখন পরেছে সাদা। উজ্জ্বলের নীল শার্ট আর শেহার সাদা সালোয়ার স্যুট মিলেমিশে ওদের পাশাপাশি লাগছে একটা আকাশের মতো। গোটা লিভিং রুমে চকচক করছে দু'জনের জুটি, পাশাপাশি। শেহা চোখ তুললো দীর্ঘসময় পরে। দেখলো লোকটা তাকেই দেখছে। এতদিনে, এতক্ষণে শেহার মাথায় কিলবিল করে উঠলো একটি কথা। এই পুরুষ লোকটা এতো সুন্দর কেন? পুরুষের এতো সুন্দর হতে নেই। ক্লাসের বান্ধবীদের কাছে শেহা রাগী মির্জার গল্প করতো যখন,ওরা বলতো,“তোর রাগী মির্জা তো খুব কালো।”
শেহা হেসে বলতো,“ভালোই হয়েছে রাগী মির্জা কালো। সংসারটা শান্তির হবে। ইনসিকিউরড থাকবো না সবসময়। বেশি সুন্দর স্বামী থাকলে মেয়ের সারাজীবন চলে যায় বেহায়া মেয়েদের নজর কাটাতে কাটাতে।”
আজ কপাল ফেরে এক অতি সুদর্শন লোকের জায়াই হতে চলেছে সে। শেহার হিংসে লাগছে নিজের ওপরই। আবার চিন্তা হচ্ছে,এই লোক কি খুব অহংকারী হবে?
“কিরে শেহু আংটি পরা!”
ইশির ডাকে শেহা মৃদু চমকে উঠে ঘোর থেকে বেড়িয়ে দেখলো লোকটা তার আঙুলে আংটি পরিয়ে দিয়েছে। অবাক বিস্ময়ে শেহা নিজের বা হাত দেখছে চোখ বড় বড় করে। হাত কাঁপছে শেহার,এক পলক চোখ তুলে ঐ লোকটাকেও দেখলো। যে তাকিয়ে আছে শান্ত চোখে, ঐ চোখে ভীষণ আগ্রহ শেহার জন্য। এমন আগ্রহ দেখানো চোখ দুটোও শেহার জীবনে প্রথম। আসলেই লোকটা তার প্রতি অনেকটা আশা রেখে এই সম্পর্কে এগোচ্ছে?
“আংটি অনামিকায় পরাতে হয় শেহা!”
লোকটার ভারি স্বরে হালকা করে বলা কথাটিতে শেহা বেশ লজ্জা পেলো। ঘোরের মাঝে উজ্জলের তর্জনীতে আংটি পরিয়ে দিচ্ছিলো শেহা।
নিজাম মাহমুদ হেসে উঠলেন হো হো করে,বললেন,“আমার এতো সুদর্শন নাতীকে দেখে বারবার এভাবে হুঁশ হারালে তো বিপদ দাদুভাই। তোমাকে আমার ছন্নছাড়া নাতীর হুঁশ ঠিক রাখতে নিয়ে যাচ্ছি। তাকে দেখে দেখে নিজের হুঁশ খোয়াতে নয়।”
শেহা মাথা নিচু করে নিয়ে নিজের আংটির দিকে তাকিয়ে থাকে। বুকটা অজানা কারণে অসম্ভব কাঁপছে তার,মনে হচ্ছে এক্ষুনি পরে যাবে। সে দুলেও উঠলো। উজ্জ্বল হতবুদ্ধি হয়ে ওকে ধরলো।
প্রত্যেকের উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলায় না শেহা।
একপলক তার খুব নিকটে,তাকে ধরে ফেলা মানুষটাকে দেখেই রাগী মির্জার দিকে তাকায় সে। প্রণমির হাতটা ইরফান ধরে রেখেছে শক্ত করে।
শেহার খুব বাসনা জেগে উঠলো হঠাৎ, হ্যা অমন করেই কেউ তারও হাত ধরুক। লোকটা যেই হোক, ভালোবেসে অমন শক্ত করে হাত ধরায় যা যা মিশে থাকে, সেসব কিছু মিশে থাকুক। ধরুক শেহার হাত,এই লোকটাই ধরুক। এই অপরিচিত লোকটা, শেহা ধীরে ধীরেই পরিচিত হোক এই হাত দুটোর সাথে।
__________
বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়েছে শেহা-উজ্জ্বলের। নিজাম মাহমুদ বা সোহানুর ইসলাম শান্ত, কেউই চায়না ব্যাপারটাকে বেশিদিন ঝুলিয়ে রাখতে। পরের সপ্তাহে বিয়ে হবে,ছেলে মেয়ে বিয়ের পরে দুমাস কথা বলে বলে সহজ হবে। তারপর কুরবানীর ঈদের পরে অনুষ্ঠান করে শেহাকে নিয়ে যাবে উজ্জ্বল নিজের বাড়িতে। বিয়ে না করে এতো মেলামেশা শান্ত পছন্দ করছে না, তার মেয়েটা এতিম,দুঃখী। হুট হাট একটা দূর্ঘটনা ঘটতে কতক্ষন?
শেহা আপত্তি করেনি বড়দের সিদ্ধান্তে, বরং সে খুশি বিয়ের পর দুমাস দূরত্বে থেকে লোকটাকে চেনা জানা যাবে,বোঝা যাবে অন্তত। সে অনুযায়ী নিজের মানসিকতা গড়তে পারবে। শেহা আপত্তি করেনি দেখে উজ্জ্বলও আপত্তি করেনি।
আংটি বদলের অনুষ্ঠান প্রেরণা দেখেছে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, চুপচাপ। অসামাজিক সে নয়। দেখা হয়ে গেলে আবার গিয়ে ইশির ঘরে শুয়ে থেকেছে। রাতের ডিনারে প্রেরণা থাকেনি। ডিনার শেষে উজ্জ্বল মাহমুদ এবং নিজাম মাহমুদ বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে,যেতে যেতে উজ্জ্বল শেহার দিকে একপলক তাকিয়েছে, মুখ ভরা আন্তরিক হাসি লোকটার। শেহা চোখ নামায় নি, বরং উজ্জ্বলের খুবই নিচুস্বরে বলা কথাটা,“ফোনে কথা হবে!” শুনে শেহা মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি জানিয়েছে নির্দ্বিধায়।
মেহমান বিদায় নিলে তবেই প্রেরণা নেমেছে, নেমে জেনেছে শুদ্ধ খায়নি, কেউ জোর করেও খাওয়াতে পারেনি ওকে। বাধ্য হয়ে প্রেরণা পোলাও মাংস মাখিয়ে নিলো, মাকে দেখেই অমনি শুদ্ধ ভদ্র ছেলেটি হয়ে চুপচাপ খেয়ে নিল খাবার টা।
খাওয়া শেষে প্রেরণা সকলকে বলে বিদায় নিতে চাইলেই আলো আর পরী ওকে ধমকে ধমকে থাকতে বাধ্য করলো আজকের রাতটা। কখনো তো প্রেরণা বেড়ায়নি কুটুম বাড়িতে। প্রেরণার কথাই কেউ শুনলো না। শেষটায় সামিন আর ইলহাম একটা লম্বা ধ'ম'ক দিতেই চুপ হয়ে গিয়েছে সে।
রাত তখন এগারোটা, শান্ত খেয়ে দেয়ে ঘরে ঢুকেই দোর লাগালো, ভীষণ আবেগী হয়ে পরেছে সে এই মুহুর্তে। কাউকে দেখাতে চায়না সে তার এই আবেগ শুধুমাত্র একজনকে ছাড়া। বিছানায় বসে ফোনের স্ক্রিনে ইশিতার ছবিটা দেখলো,গলা কাঁপছে তার,বলছে,“তুমি দেখেছো ইশুপাখি? মেয়ের বিয়ে দিচ্ছি আমি! মেয়ে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করছে ইশুপাখি। আমরা লাভ ম্যারেজ করেছিলাম বলে তুমি সবসময় বলতে না লাভ ম্যারেজে শান্তি নেই মেয়ের বিয়ে দেবে পারিবারিক ভাবে? দেখো সত্যিই মেয়েটা বাবার পছন্দে বিয়ে করে নিচ্ছে। কত বুঝদার মেয়েটা আমার! ও কেন কাউকে একতরফা ভালোবেসে একা একা গুমরে মরবে বলো তো? এসব কি ও ডিজার্ভ করে? আমার চোখে তো কিছুই এড়ায়নি ইশুপাখি, এখন বোকা মেয়েটা ভালো থাকুক। আমি যেভাবে মেয়েটাকে বুঝি, ওর বর ঠিক ওকে এভাবেই বুঝুক!”
_________
নিচে হৈচৈ হচ্ছে , বাড়ির লোকগুলো ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসেছে বিয়ের আলাপ পারতে। প্রেরণা আরেক বাড়ির পারিবারিক আমেজের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ হতে চায়না, তাকে শুতে দেয়া হয়েছে নিচতলার গেস্ট রুমে,সে শুদ্ধকে দুধটা খাইয়ে সেখানে চলে যাবে।
শুদ্ধ দুধ খাবেনা তাই ছোটাছুটি করছে,আর প্রেরণা দুধের গ্লাস নিয়ে ঘুরছে ওর পিছু পিছু।
খপ করে ইহান ধরে ফেললো শুদ্ধকে, ধরেই কোলে ওঠালো, বাড়ির সবাই যখন কথায় ব্যস্ত,তার মাঝে রিতুর চোখে এই দৃশ্যটা এড়ায়না। সে এক ধ্যানে দেখছে ওদের তিনজনকে।
প্রেরণা দাঁড়িয়ে গেলো,আর এগোলো না সে। শুদ্ধর গাল টিপে দিয়ে ইহান বলতে থাকে,“মাম্মা অসুস্থ না খুব? মাম্মাকে কেউ এতো কষ্ট দেয়?”
_কিন্তু আমি ওটা খাবো না।
_কেন?
_ওটা মজা না।
_দুধ তো মজা না,এটা সত্যি বলেছো। তবে দুধ খেলে কি হয় জানো?
_কি হয়?
_ইহান আঙ্কেলের মতো মাসেল হয়।
শুদ্ধ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে,বিস্ময় নিয়ে বলে,“দুধ খেলেই এমন মাসেল হয়?”
_জি। রোজ একগ্লাস। যে বাচ্চা দুধ ফাঁকি দেয়, সে কখনো এমন হতে পারে না।
শুদ্ধকে ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে প্রেরণার দিকে শান্ত, গভীর চোখ দু'টো নিয়ে তাকায় ইহান। প্রেরণা আইঢাঁই করে উঠে চোখ নামিয়ে নেয়। ইহান অস্পষ্ট হেসে ধিমি আওয়াজে বলল,
“ওটা আমার হাতে দিন।”
_আপনি শুদ্ধকে আমার কাছে দিন।
স্পষ্ট জবাব প্রেরণার। ইহান ওকে চেয়ে চেয়ে দেখলো মিনিট খানেক,বলল,
_কিন্তু শুদ্ধ তো যাবেনা, আপনি বরং আমাদের কাছে আসুন।
প্রেরণা চমকে উঠে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে আশেপাশে। সবাই যে যার কথাতে ব্যস্ত। এই লোকের মাথা ঠিক নেই,ঠিক নেই একেবারেই। এর অস্বাভাবিক আচরণ কারো চোখে পরতে খুব একটা দেরি নেই। প্রেরণার বদনাম হতেও খুব একটা দেরি নেই।
প্রেরণা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেবিলের ওপর দুধের গ্লাসটা রেখে চলে যায়,ইহান সামান্য হেসে গ্লাসটা তুলে শুদ্ধকে খাইয়ে দিচ্ছে। এবং শুদ্ধ খাচ্ছেও,আর ইহান বলছে,“হ্যা গুড বয়! দ্যাটস মাই বয়!”
রিতু থমথমে মুখে শুধু দেখেই যাচ্ছে ছেলেকে এক কোণে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,হাত দিয়ে খামচে ধরে রেখেছে শাড়ির আঁচল।
________
ইরফানকে ধরে টানতে টানতে ছাদে নিয়ে যাচ্ছে ইনু আর ইশি। ওদের গতির সাথে পেরে না উঠে ইরফান ধমকে উঠলো ইশিকে,“হচ্ছে টা কি? এভাবে হাটছিস কেন? মুঈন ভাইয়াকে ফোন করবো?”
ইনশিরাহ জবাব না দিয়ে ওকে ঠেলে ছাদে নিয়ে দরজা লাগিয়ে দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়, শক্ত গলায় বলল,“আগে বল দাদানের পেটে কি চলছে?”
_দাদানের পেটে কি চলছে সেটা আমি কি করে জানবো? একটা এন্ডোসকোপি করিয়ে দেখ।
বলেই উচ্চশব্দে হেসে উঠলো ইরফান। ইনু ইশি সেই হাসিতে তাল মেলায় না। ইশি কপাল কুঁচকে বলতে থাকে,
_তবে তুই অমন করে তখন হাসলি কেন পুলে?
_আমি নরমাল ভাবে হাসলেও তোদের কাছে মনে হয় রহস্য করছি! এই আমাকে তোরা সহজ ভাবে কবে নিবি বল?
বলেই ইরফান গিয়ে ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়ায়। ইনু আর রাখ ঢাক রাখলো না, কাঁচুমাচু মুখ করে বললো,“দাদান আপুকে পছন্দ করে তাইনা মেজো দাদান? এইবার আমার সংসারে অশান্তি হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।”
ইরফান আড়চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,“দাদান আমার জেঠানকে পছন্দ করলে তোর সংসারে আগুন লাগবে কেন?”
_ও তুমি বুঝবে না, আপু যা রাগী আর জটিল। এই দাদান আপুকে পটাতে পারবে না, উল্টো আমার ননদ আর আমার স্বামী আমাকে কথা শোনাবে, বলবে আমার একটা ভাইও ভালো না।
ইরফান সরু চোখে তাকায়,ইনু ঢোক গিলে বলে,“আমি কোনো ঝামেলা চাইনা আর!”
_তোর সংসারে ঝামেলা হতো বেশিরভাগ সময় তোর কারণে। এসব ব্যাপারে কথা না বললেই হয় তোর। তোর ননদ আর বর নিশ্চয়ই তোকে সেধে সেধে খোঁচায় না,উল্টো তুই সেধে সেধে ভাইদের হয়ে লড়তে যেতিস!
চোখ বড় বড় করে তাকায় ইনু । অবিশ্বাসের সুরে বলে,“যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর? তুমি এখন প্রিতমের সাইড নিচ্ছো? কি ভণ্ড তুমি!”
হেসে ফেলে ইরফান। ইশি অধৈর্য হয়ে বলে,“এই তোদের এইসব আজাইরা প্যাচাল রাখ। আমার টেনশন হচ্ছে আমার দাদানের জন্য! এটা সত্যিই ইরফান? শেষে প্রেরণা আপুকে মনে ধরলো তার?”
গা ছাড়া ভঙ্গিতে ইরফান বুকে হাত বাঁধল,“সেটা আমি কিভাবে বলবো। তোর বড় দাদানকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।”
_এও সম্ভব হবে? হলেও কিভাবে হবে?
_সেটাও বড় দাদানকে গিয়ে বল, আমি তো একজনকে পছন্দ করেছি,সাফসাফ সবাইকে জানিয়েছি। এখন বড় দাদান যদি নিজের অনুভূতি যক্ষের ধনের মতো লুকিয়ে রেখে বসে বসে বুড়ো হয় তাতে আমার কি? আমাদের কি বল? তোর দাদানকে গিয়ে বল ঐ দূর থেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে পছন্দের মানুষকে আর রাত্তির বেলা না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সিগারেট টানতে। সে আইবুড়ো থাকলে আমারই ভালো, বাড়ির সব সম্পত্তি আমার আর প্রণোর বাচ্চারা পাবে তখন,আমার কোনো লস নেই।
বলতে বলতেই হাই তুললো ইরফান। ইশি আর ইনু সাংঘাতিক মুহুর্তেও পেট চেপে হেসে ফেললো ইরফানের কথা শুনে।
“তুই শুধরাবি না তাইনা ইরু?”
_নাহ।
ইশি চিন্তিত মুখ করে বলে উঠলো,“এটা কখনো হবে না! প্রেরণা আপু রাজি হবেই না। দাদান কষ্ট পাবে আবারো। দাদান এটা কি করলো বলতো? কোন যুক্তিতে এতো বড় পদক্ষেপ নিলো?”
_যে যুক্তিতে তুই সাঈম ভুইয়াকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলি। যুক্তির নাম “পিরিতের ঠ্যালা”!
মুখটা থমথমে হয় ইনশিরাহর, ইরফান হাই তুলে বলে,
_কেউ কষ্ট পাবে না,ঐ মহিলার অওকাত নেই আমার সহজ ভদ্রলোক দাদানকে এড়িয়ে যাওয়ার। দেখবি এমন ভাবে দাদানের প্রেমে পরবে,পুরো ইতিহাস হয়ে যাবে। এখন আমি ইনুকে একটা কাজ দিতে চাই।
ইনু উৎসুক হয়ে তাকায়,“কি মেজো দাদান?”
শার্টের হাতা গুটিয়ে নিতে নিতে ইরফান গুরুগম্ভীর স্বরে বলে,“তোর পি ফর প্রিতমকে বলে দিবি দুদিন পর পর জ্ঞানী আপার বিয়ের কথা তুলে আমার দাদানকে যেন ডিপ্রেশন না দেয়, তাহলে কিন্তু থাবড়া খাবে। আমি চাইনা দাদান অধৈর্য হয়ে তুলে আনুক ঐ মহিলাকে। আমার ইচ্ছা ওনাদের খুব সুন্দর একটা বিয়ে হবে । আমার দাদান সর্বোচ্চ সুখী হবে।”
_তাই বলে তুমি বোনের স্বামীকে থাবড়া দেওয়ার কথা বলতে পারলে?
ঠোঁট উল্টে বললো ইনু। ওর কান টেনে দিয়ে ইরফান জবাব দিলো,“ওলে বাবালে। থাক কষ্ট পাস না।”
দুই বোন ভারি দুশ্চিন্তায় পরেছে। সবটা না হয় সামলে নেয়া যাবে, তবে মেজো মা? এই প্রশ্নের জবাবে ইরফান হেসে জবাব দিয়েছে,“মাম্মাকে সামলে নিতে পারবো আমি আই গেস। ধূর, সব দুশ্চিন্তা আমার মাথায় দিবি? সর তো! ওদিকে বৌটা হয়তো একা একা ভয় পেয়ে কাঁদছে ঘরে বসে!”
ওদেরকে সরিয়ে দিয়ে ইরফান গটগট করে হেটে ছাদ থেকে নিচে নামলো। ঘরের সামনে গিয়ে থামলো তার পা। অনিমেষে চেয়ে থাকলো ভেতরে।
প্রণমি গায়ের ওড়না খুলে রেখে বিছানার চাদর নিয়ে কিছু একটা কাজ করছিলো। আচমকা কারো অস্তিত্ব টের পেয়ে ওড়নাটা তুলে গা ঢেকে বললো,“এটা আপনি?”
দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রণমির নিখুঁত সৌন্দর্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখছে ইরফান। নিদারুণ কোমল স্বরে সাড়া দিলো,“জিইই।”
কে বলেছে ইরফান মির্জা শোধরায় নি? পাল্টায়নি? ইরফান মির্জা ঠিক কতটা পাল্টেছে তা ইরফান মির্জা টের পায় এই মেয়েটির সামনে এলে। কেমন পা মাথা শীতল হয়ে যায় ওর,নিজের সত্তাকে হারিয়ে বসে থাকে পুরোপুরি।
প্রণমি সংকোচ নিয়ে বলে,“দেখুন না বেডশিট টা পাল্টে দিয়েছি। তবে এটা কি উল্টো বিছিয়েছি আমি? ঠিক বুঝতে পারছি না।”
ইরফান এগিয়ে যায় সরল কোমল মেয়েটির দিকে। বিছানার চাদরটা উল্টো ছিলো,তবে ইরফান সেসব কিছু না বলে বললো,“বিছানার চাদর উল্টো নাকি ঠিক,এটা বড় কথা নয়।”
_তবে বড় কথা কি?
প্রণমি প্রশ্নটা শেষ করতে পারলো না ঠিক তখুনি ও টের পেলো ওর মাথার নিচে বালিশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো লোকটা তাকে সাপের মত পেঁচিয়ে ফেলেছে, কিছু বলার আগেই ওর মুখে আলতো হাত রাখলো ইরফান, অস্ফুটে বললো,“বড় কথা হচ্ছে আমাদের ঘুমটা কতটা স্বস্তির হবে এখানে সেটা!”
এমন করে সবসময় লোকটা! এমন অতর্কিতে আক্রমণ। প্রণমি ঘাবড়ে যায় সবসময়,পর পর সয়ে নেয়। কি আর করা? এমন অদ্ভুত, অগোছালো আর দস্যি লোককে নিজে বেছেছে সে। কেঁদে বুক ভাসিয়েছে এর জন্য।
___________
শুদ্ধ ঘুমিয়েছে, ছেলের মাথায় এতক্ষণ বিলি কাটছিল প্রেরণা। ও ঘুমিয়ে যেতেই প্রেরণা উঠে বসলো। নিদারুণ এক অস্থিরতায় ঘুম নেই তার দু চোখে, তাছাড়া এই বাড়িটা অপরিচিত। অপরিচিত স্থানে তার ঘুম আসেনা এতো সহজে। ঘরের ভেতরেই পায়চারী করছে,কুটুম বাড়ি দেখে ঘরের দরজা খোলেনা। খুব কফির তেষ্টা পাচ্ছিল, তবুও সংকোচে আসেনি।
শেষ রাতের দিকে যখন প্রেরণা ক্লান্তিতে একটু ঘুমিয়ে পরলো, ঘুমোতে সে পারলো না ঠিক ঠাক,ঘুমের মাঝে আবার একটা দুঃস্বপ্ন দেখলো সে,সে দেখলো সে হাসতে হাসতে এগিয়ে যাচ্ছে একটা লোকের কাছে। লোকটা তার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। লম্বা চওড়া লোকটা। প্রেরণা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেললো পুলে। লোকটা যখন নিজেকে সামলে নিয়ে পানির মধ্যে থেকে মাথা তুললো,তখন প্রেরণা দেখলো লোকটা ইহান তাজওয়ার মির্জা। প্রেরণা খিলখিল করে যার সাথে হাসছে খুনসুটি করে। ইহান তাজওয়ার মির্জাও হাসতে হাসতে উঠলো,পর পর প্রেরণার সাথে কিছুক্ষণ ছোটাছুটি করে প্রেরণাকে ধরে ফেলল। প্রেরণা পারলো না পালাতে। ওকে কোলে তুলে নিয়ে ইহান নামলো পুলে। এবং প্রেরণা এটা খুব উপভোগ করছিল, উপভোগ করছিল ঐ লোকের উষ্ণতা।
শেষ রাত্তিরের দুঃস্বপ্ন ভেঙে যেতেই প্রেরণা ধরফরিয়ে উঠে বসলো। দুঃস্বপ্নের ঘোর থেকে বেরিয়েই কেঁদে ফেলল ঝরঝর করে। মুখ চেপে ধরে রাখলো। কান্নার শব্দ জোড়ালো হতে দিলো না বেশি।
সাইক্রিয়াটিস্ট দেখিয়েছে প্রেরণা দুদিন আগে, তিনি বলেছেন প্রেরণা ভেতরে ভেতরে নাকি ফাঁকা তাই এমন স্বপ্ন দেখে। কিন্তু প্রেরণা তো ফাঁকা নয়। তার বিয়ে হয়েছিল এক লোকের সাথে, সে কেন ফাঁকা হবে? তবে কি প্রেরণা দুশ্চরিত্রা? হ্যা দুশ্চরিত্রাই। নয়তো এমন মধুময় স্বপ্নে কেন পরপুরুষ আসবে? কেন? কেন শাওকাত ওয়াসীতও আসে? এভাবে কেন প্রেরণা চরিত্র খোয়ালো নিজের?
ফজরের আজান দিয়েছে ততক্ষণে। সারারাত না ঘুমিয়ে ক্লান্ত প্রেরণা ক্লান্ত ভঙ্গিতে বিছানা ছেড়ে নামলো। তার জ্বর এসেছে সে টের পেলো, তীব্র জ্বর।
আর না, আর এভাবে চলতে দেয়া যায়না। প্রেরণাকে সংযম শিখতে হবে, সে চরিত্র হীনা নয়। মোটেই চরিত্র হীনা নয়।
শুদ্ধকে জোর করে ঘুম থেকে তুলে প্রেরণা হাত মুখ ধোয়ালো। বাইরে তখনো আলো ফোটেনি সকালের। প্রেরণা তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে বেরিয়েই দেখলো রিতুকে। ফজরের নামাজ আদায় করে রিতু কেবলমাত্র চা বসিয়েছে চুলায়। প্রেরণাকে ওভাবে দেখে গম্ভীর গলায় বললো,“কোথায় যাচ্ছো এই ভোরে ছেলেটাকে নিয়ে?”
তাড়াহুড়ো লাগিয়ে প্রেরণা বললো,“একটু ইমার্জেন্সি আছে আন্টি। সবাইকে কাইন্ডলি বলে দিবেন।”
শুদ্ধ চোখ মেলে তাকাতেও পারছে না। ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে প্রেরণা। রিতু অবশ্য আটকায় না, বাকিদের মতো আহ্লাদ করে। উল্টো বাড়ির গাড়ির ড্রাইভার ডেকে দেয় কোয়ার্টার থেকে।
বাইরে গাড়ির শব্দ পয়ে ইহান তখন নিচেই নামছিল, মাঝপথে নেমে দেখলো রিতুকে, বললো,“কে কোথায় যাচ্ছে এতো সকালে?”
_প্রেরণা।
_হোয়্যাট? এই ভোরে? তুমি যেতে দিলে?
চোখ মুখ কঠিন করে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে রিতু, পর পর বলে,“কোনো কিছুতে কারো আগ্রহ না থাকলে ন্যাকামি করে আমি জোর করতে পারিনা তাকে। তোরা যেভাবে করিস!”
বলেই চলে গেলো গটগট করে রান্নাঘরে। ইহান চোখ বড় বড় করে মায়ের কঠিন রূপটা দেখছে। মায়ে-ছেলেতে চোখে চোখেই কথা হচ্ছে।
________
মাত্র দুদিন পেরিয়েছে শেহা উজ্জ্বলের আংটিবদলের। দিনে তিন কি চারবার শেহা কথা বলছে উজ্জ্বলের সাথে। দু'জনে চেষ্টা করছে বিয়ের আগেই সহজ হতে। এবং তারা পারছেও। কথাবার্তা আপাতত ঐ শপিং-টপিং আর একাডেমিক বিষয়েই হচ্ছে বেশি। শান্ত আগামীকাল যাবে রাজশাহী, আসবে শেহার বিয়ের দিন। এদিকে শেহার মামা মামীরা দফায় দফায় নানা ধরনের প্ল্যানিং করছে বিয়ে নিয়ে,এই এতো রাত্তিরেও আলোচনা করছে কি থেকে কি করবে। ইশিতা মির্জার একমাত্র মেয়েটা, ইশিতার সম্পত্তি শান্ত বুঝে নেয়নি, শেহার বিয়ের সময় সবটা বুঝিয়ে দেবে ভাগ্নিকে সামিন।
বাড়িতে মুঈন এসেছে। ইমার্জেন্সি তাকে হেড কোয়ার্টারে আসতে হয়েছিলো একটা সেমিনারে। রাতটা শ্বশুর বাড়িতেই থাকবে, বৌয়ের কাছে।
শেহা তখন দোতলার বারান্দায় বসে উজ্জ্বলের সাথে কথা বলছিল, রাতে দুই মিনিট কথা হয় তাদের, দুই মিনিট কুশল বিনিময় করতে করতেই কেটে যায়। উজ্জ্বল জানতে চায় এতো সদস্য নিয়ে গঠিত শেহার পরিবারের কথা আর শেহা জানতে চায় নিজাম মাহমুদের কথা, উজ্জ্বল হাসতে হাসতে তার দাদুর গল্প করে। শেহা ভীষণ মজা পায় এমন প্রাণখোলা লোকের কথাবার্তা শুনে। আজো কথা বলে কল কেটে যখন শেহা বারান্দা থেকে বেরিয়ে এলো,দেখতে পেলো বড় দাদানকে। ইহানকে কেমন অস্বাভাবিক লাগছে। শেহা কিছু জানতে চাওয়ার আগেই ইহান ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো।
গতকাল প্রেরণা তাকে সবকিছু থেকে ব্লক করে দিয়েছে। সবকিছু থেকে। ইহানের নাম্বার,ইহানের সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট। সবকিছু ব্লক করেছে ঐ মহিলা। কেন? ইহান তাজওয়ার মির্জা কি করেছে? ভালোবাসি ভালোবাসি বলে হেদিয়ে তো মরছে না! তবুও কেন এতো কঠিন হবে ঐ মহিলা? ইহান বুঝতে পারছে না তার এতো রাগ উঠছে কেন, দুনিয়া উল্টে ফেলতে ইচ্ছে করছে কেন। ফোনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিছানায় বসে থাকে চুপচাপ। ইহান কখনোই তার লিমিট ক্রস করেনি, কুটুম্বিতার কথা মাথায় রেখেছে সবসময়, বরং লিমিট ক্রস ঐ মহিলা করেছে।
সেদিন রাতে ইহান খেতেও যায়নি। ঘর থেকেই বেড়োয়নি। বড়রা ভেবে নিলো সামনে অপজিশন পার্টির সমাবেশ, হয়তো তাই তার মাথা ঠিক নেই। শুধুমাত্র ইরফান, ইনশিরাহ আর রিতু টের পেলো কিছু ঘটেছে। কিছু তো অবশ্যই ঘটেছে।
খাবার টেবিলে রিতু এবার কথাটা তুললো, স্বামী, ভাসুর, আর দেবরকে বললো ইহানের বিয়ের কথা। ইলহাম বিরক্ত হয়ে বলল,“এখন ওর বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামানোর সময়? দেখছো শেহাকে নিয়ে ভাবছি সবাই।”
মুখটা থমথমে করে রিতু বললো,“ছেলে একটা অঘটন ঘটালে তখন টের পাবেন সকলে।”
আলো হেসে ফেললো, বিশ্বাস নিয়ে বললো,“ইহান আর অঘটন? তোর মাথা গিয়েছে রিতু। এখন বাদ দে এই টপিকটা। নিজাম চাচা টপ লেভেলের পাত্রীর লিস্ট আমাকে দিয়েছে। শেহার বিয়ের পরে দেখবো। এখন না।”
রিতুর কথাকে কেউ পাত্তা না দিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমোতে গেলো। রিতু গভীর রাত পর্যন্ত জেগে রইল বড় ছেলের দুশ্চিন্তায়। এতো বিবেচক একটা ছেলে হঠাৎ করে এতো অবুঝ হলো তার? এতটা?
ঘুম আসে না রিতুর চোখে। লিভিং রুমে বসেই ঝিমায়। আচ্ছা কেমন হয় যদি প্রেরণাকে গিয়ে সে বুঝিয়ে বলে ইহানকে যাতে পাত্তা না দেয়? তার ছেলে সুদর্শন, উপযুক্ত, ঐ মেয়ে এখন না রাজি হোক,রাজী হতে কতক্ষন? তাই আগেভাগেই গিয়ে যদি প্রেরণাকে সাবধান করে দেয়? তবে কি প্রেরণা চেতে যাবে তার ওপর? ঢোক গেলে রিতু, ঐ মেয়েকে বিশ্বাস নেই, চেতে গিয়ে যদি সামিন ইয়াসার মির্জা আর ইলহাম মির্জার কাছে নালিশ দেয়? তখন এই বাড়ির সুশীল ব্যক্তিগুলো আর ভোলাভালা বাচ্চাগুলো সবাই রিতুকে নেগেটিভ ভাববে। এ কোন ঝামেলা হতে চললো সামনে?
এসব কথাই যখন রাত জেগে জেগে ভাবছিল রিতু, ঠিক রাত দেড়টার সময় তার ঘোর কাটে কলিং বেলের আওয়াজে। অনবরত বেল টিপছে কেউ। রিতু অবাক হয়ে এগিয়ে যায়, ততক্ষণে বাড়ির অনেকেই চোখ ডলতে ডলতে নিচে নেমেছে।
দরজা খুলেই রিতু অবাক চোখে তাকিয়ে রইল উজ্জ্বলের মুখের দিকে। বাড়ির কর্তারা দেখছে উজ্জ্বলের পা-মাথা। এত রাতে,বাড়িতে পড়া ট্রাউজার আর টি-শার্ট পরে সদর দরজায় উদ্ভ্রান্তের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়ির এক হবু জামাই, উজ্জ্বল মাহমুদ। নামকরা লইয়ার। শান্ত মানুষটাকে অস্থির লাগছে। শেহা আর ইশি বাদে সবাই নিচে নেমে অবাক বিস্ময়ে দেখছে উজ্জ্বলকে। কিছু কি হয়েছে? শান্ত হবু জামাইকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই উজ্জ্বল অস্থির হয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে বলে ওঠে,“আঙ্কেল বিয়েটা কি একটু এগিয়ে আনা যায়? আজ রাতেই? প্লিজ আঙ্কেল। আপনি শেহাকে ডাকেন। আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই!”
চলমান......