ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 119

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্ব_১১৯
#ইসরাত_ইতি

🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

সকাল নয়টার মধ্যে বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। সবাই যে যার কাজে বেরোয়। বাড়িতে থাকে সামিন আর এ বাড়ির মেয়ে বৌরা। আজ ইহানও আছে। মূলত সে আজ দেরি করে বেরুবে। তাদের দলীয় মিটিং আছে বারোটায়।

রিতু আজ বাড়ির নিড়িবিলি সময়টাকে কাজে লাগায়। শেহার বিয়ের পর থেকে একটার পর একটা ঝামেলায় আর হাঁফ ছাড়তে পারেনি সে। আজ আলোকে টানতে টানতে নিচে নামিয়ে সামিনের কাছে গেলো। সামিন তখন ফুরফুরে মেজাজে ইহানের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো চা খেতে খেতে।

রিতুর চঞ্চলতা চোখে লাগার মতো। গিয়ে সরাসরি চেয়ার টেনে বসলো ছেলে আর ভাসুরের সামনে। ইনিয়ে বিনিয়ে নয় বরং সহজ ভাবেই বলে দিলো,“ইহানের জন্য মেয়ে দেখছি।”

ইহান চায়ে চুমুক দিতে গিয়েও দেয়না। ভাবলেশহীন চোখে মাকে দেখে। আলো রিতুর কথায় সায় দিয়ে বলে,“ভালো কথা। শেহাকে উঠিয়ে দেওয়ার দু সপ্তাহে তো ওদের বাড়ির ঝামেলায় কথা টা তোলা হয়নি। আমার কাছে পাত্রীর লিস্ট...”

_পাত্রী একজন পছন্দ করে ফেলেছি আমি ভাবী, আর চিন্তা নেই।

আলোকে থামিয়ে দিয়ে রিতু বললো। হাতের ফোনটাতে একটি মেয়ের ছবি। মেয়েটি সুন্দরী । রিতু ছবিটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সামিন আর ইহানকে দেখিয়ে বলে,“কর্ণেল ইব্রাহিম মাহতাবের মেয়ে মেহেক। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে । বয়স মোটেও কম নয়। ইব্রাহিম ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে তোর বাবা, সেও আগ্রহী। তুই রাজি থাকলে কথা আগাই?”

ইহান ছবিটা দেখেনি, সে দেখছে মাকে। সামিন এবার কেশে ওঠে,বলে,“নাহ ভালোই আছে। ওই ফ্যামিলি তো ভালোই, মেয়েও খুব ভালো হবে হয়তো।”

আলো ইহানের নির্লিপ্ততা দেখে বলে,“দ্যাখ অনেক হয়েছে ইহান। অনেক কথা শুনতে হচ্ছে মানুষের। তুই কেন সুযোগ করে দিচ্ছিস? যেখানে বিয়ে না করার তোর কোনো কারণ নেই। আমাদেরও তো একটা আশা আছে নাকি? তোর বৌ দেখবো না আমরা?”

রিতুর মধ্যে চাপা উত্তেজনা। বারবার চোখের সামনে প্রেরণার মুখটা ভেসে উঠছে। কিন্তু না, সে এটা হতে দেবে না। তার ছেলে অমন একটি মেয়েকে অন্তত ডিজার্ভ করে না। ইহানের দিকে তাকিয়ে বলে,“এতো বেশি সময় দিতে পারবো না আর। যথেষ্ট নাটক করেছিস । এখন কিছু একটা বল।”

ইহান উঠে দাঁড়ালো। রিতুর হাত পা কাঁপছে, ভাবলো ছেলে এক্ষুনি প্রেরণার কথা তুললে সে কি করে নিজেকে সামলাবে? সামিন ভাইয়ার সামনে চেঁচামেচি তো করতে পারবে না, তবে কি করবে?

কিন্তু ইহান রিতুকে চূড়ান্ত অবাক করে দিয়ে ধীরস্থির বললো,“নাটক করবো না। তোমার যেটা ভালো মনে হয় করো।”

রিতু একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ছেলের দিকে। ইহান চলে যাওয়ার পরে মুখটাকে অস্বাভাবিক হাসি হাসি করে সামিনকে বললো,“আমি আজ বিকেলেই ইব্রাহিম ভাইয়ের সাথে কথা বলবো। আজই। একটুও দেরি করবো না।”

সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে হতবাক ইশি দেখছিলো সবকিছু। তারপর পেটে হাত চেপে দোতলায় উঠে ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে প্রথমেই ইরফানকে কল করলো। ইরফান কলটা রিসিভ করলো না। ওকে না পেয়ে ইনুকে দিলো কল ইশি। তাড়াহুড়ো করে যেটুকু জানাবার জানালো। হতভম্ব ইনু কল কেটে সোজা চলে গেলো প্রেরণার কাছে। তার তো দুশ্চিন্তায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে দাদানের জন্য। সে জানে দাদান প্রেরণা আপুকে প্রচন্ড ভালোবাসে, তবে বিয়েতে রাজি হলো কেন? প্রেরণা আপুর মনে একটুও যায়গা হলো না দাদানের? এমন কঠিন মানবীও হয়?

প্রেরণা আজ রেস্তোরাঁয় বসবে। রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে পরলো ইনুর সামনে। ছটফটে ইনু শুকনো গলায় বলল,“জানো আপু বড় দাদানের জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছে। বড় দাদান নাকি বিয়ে করবে।”

প্রেরণা স্থির দৃষ্টিতে দেখলো মিনিট দুয়েক ইনুকে, পর পর ঠান্ডা গলায় বলল,“ওহহ ওকেহ!”

ইনু আরো বেশি ছটফটে হলো, বললো,“ওহ ওকেহ মানে?”

প্রেরণার তাড়া ছিল, কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে বলল,“তো কি বলবো? আলহামদুলিল্লাহ তো বিয়ে হলে বলতাম। পথ ছাড়ো ইনু আমার দেরী হচ্ছে।”

________

মিটিং শেষে অলস সময় পার করছিলো দলের ছেলেরা। ইহান চুপচাপ, গম্ভীর মুখে কিছু কাগজে সই করে যাচ্ছিল। ক্লাবে পাতা পরারও শব্দ নেই। হঠাৎ আপন হাই তুলে বললো,“একটু গান ছাড়তে ইচ্ছে করছে।”

_তো ছাড়বি! অসুবিধা কি?

ইহান জবাব দিতেই নাহিদ লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,“সে সুযোগ নেই। আজ রেস্তোরাঁয় ভাবী আছে। এসে ভীষণ কথা শোনাবে। আচ্ছা ভাই ভাবী এমন কেন বলো তো? আমরা তো ঐ রেস্তোরাঁ থেকে দশ হাত দূরেই থাকি। তবুও সে মনে করে তার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করি ছলে বলে। ভাই ভাবী কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে!”

ইহান চোখ তুললো, ঠান্ডা গলায় বলল,“কে ভাবী?”

অন্তর অবাক হয়ে এগিয়ে এসে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,“কে ভাবী মানে? প্রেরণা আপা!”

হাতের কাগজগুলো ড্রয়ারে রেখে ইহান লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,“উনি তোদের ভাবী নয়। এ ধরণের ফাজলামি করে আমাকে আর ওনাকে ফারদার বিব্রত করবি না। তোরা এখন যা, তিনটার মধ্যে চলে আসবি গোসল সেরে।”

_কিন্তু ভাই আপনি তো ভাবীকে.....

_যেতে বলেছি আমি আপন....!

ইহানের ঐ ধমকটাতে যেন মিইয়ে গেল সবাই । হঠাৎ করে ভাইয়ের এতো রাগ ওঠার কারণ ওরা জানে না, অথচ ভাই নিজেই আগে ভাবী ডাকটা খুব উপভোগ করতো!

ছেলেগুলো বেরিয়ে গেলে ইহান একা থাকলো ক্লাবে। আজ মেয়র আসবে, তাই বাড়িতে যাবে না লাঞ্চে। রিতু কল করে বললো,“খেতে আসবি না?”

_না এখানে খেয়ে নেবো।

_আচ্ছা । আমি আর তোর বড় মা বিকেলে যাবো ইব্রাহিম ভাইয়ের বাড়িতে? ভাবী চায়ের দাওয়াত দিয়েছে। এই সুযোগে সামনাসামনি দেখে আসতাম মেহেককে।

ইহান চুপচাপ থাকলো কিছু মুহূর্ত, অতঃপর সমস্ত গ্লানি ফোঁস শব্দে দীর্ঘশ্বাসের সাথে বের করে দিয়ে বললো,“যা ইচ্ছা করো।”

বেলা সাড়ে তিনটা তখন, মিল টাইম শেষ হয়েছে। এখন আর অর্ডার নেওয়া হবে না লাঞ্চের। শেফরাও বেরিয়েছে। এমতাবস্থায় “স্বাদে-আহ্লাদের” দরজায় ইহান তাজওয়ার মির্জাকে দেখে আফ্রার মাথায় হাত। শুকনো মুখে এগিয়ে আসতেই ইহান আন্তরিক হেসে বলল,“ইউ আফ্রা রাইট? আফ্রা আজ আমি একা খাবো। যেকোনো একপদ দিয়ে। একটু তাড়াতাড়ি!”

বলেই ইহান চেয়ার টেনে বসলো। লোকটাকে খুব ক্লান্ত লাগছে। আফ্রা আর কিছু বলতে পারলো না, ফিরিয়ে দিতে পারলো না। সোজা দৌড়ে গেলো প্রেরণার কাছে, ম্যাম হয়তো একটা ব্যবস্থা ঠিকই করবে।

দুপুরে নিজের মিল নেয়নি প্রেরণা। অর্ধবার্ষিক হিসেব নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। আফ্রা গিয়ে চাপা স্বরে চেঁচিয়ে উঠল,“ম্যাম! ইহান তাজওয়ার মির্জা এসেছে।”

সাথে সাথে উঠে দাঁড়ায় প্রেরণা। দ্রুতপায়ে এগিয়ে গিয়ে বাইরের ঘরে উঁকি মেরে মানুষটাকে দেখলো। গুনে গুনে পনেরোটা দিন পরে দেখলো।

আফ্রা বলতে থাকে,“এখন মিল টাইম শেষ এটা বলিনি ম্যাম। ওনাকে ক্ষুধার্ত লাগলো। ”

_ভালো করেছো।

_তবে ম্যাম উনি কি জানেন না এই সময় আমরা লাঞ্চের অর্ডার নিই না?

_অনেক ব্যস্ত লোক আফ্রা, এতকিছু মনে থাকে? যাও গিয়ে পানি দাও আগে।

_ম্যাম খেতে কি দেবো? বলে দেবো মেন্যু সামান্য আছে? দুই পদ।

প্রেরণা হাঁফ ছেড়ে বললো,“বলার দরকার নেই । ওনাকে বলো দশ মিনিট অপেক্ষা করতে।”

_ওকে ম্যাম।

_আর আফ্রা শোনো।

_জি?

_ওনাকে বলবে না আমি ওনার জন্য ঝটপট মেন্যু বাড়িয়েছি ঠিক আছে? বলবে না আমার কথা।

_অসুবিধা কি ম্যাম? উনি খুশি হবেন।

_সবাইকে খুশি করলে বিপদ আফ্রা। তুমি যাও। পানি দাও।

প্রেরণা বিশ মিনিট সময় লাগিয়ে ডাব চিংড়ি আর পুঁই পাতায় ইলিশ পাতুরি করলো। তার সাথে বাকি দুই পদও পাঠিয়ে দিলো। ঠিক তখুনি হেড শেফ ঝুমা এলো। আফ্রার হঠাৎ ওয়াশ রুমে যেতে হবে তাই ঝুমাকে ট্রে টা বুঝিয়ে দিলো।

প্রেরণা উকি মেরেই তাকিয়ে আছে অদূর থেকে। লোকটা বিয়ে করবে শুনেছে। করাই উচিত। বয়স হচ্ছে। এখন লোকটার সংসারী হওয়া উচিত। এই লোকের বৌ খুবই ভাগ্যবতী হবে। প্রেরণার অনেক দোয়া থাকবে অমন ভালো মনের একজন মানুষের বিবাহিত জীবনের জন্য। ভাবতে ভাবতেই মলিন হাসে প্রেরণা।

ঝুমা গিয়ে মিষ্টি হাসি উপহার দেয় ইহানকে, সালাম দিয়ে ইহানকে খাবার পরিবেশন করে দেয়। ইহান বলে,“এতো পদ কেনো? আমি তো মেন্যু কার্ড দেখিওনি। বলেছি একপদ দিতে চটজলদি।”

ঝুমা হেসে বললো,“তা হয় ভাইয়া?”

ইহান অল্প সামান্য নিয়ে খাচ্ছে। ঝুমা এর মাঝে একটা কান্ড করে বসলো। ওয়াশ রুমে যাওয়ার আগে আফ্রা তাকে এমনিতেই বলতে ভুলে গিয়েছে প্রেরণার শিখিয়ে দেওয়া কথাগুলো। স্বভাবত বাঁচাল আফ্রা বলে উঠলো,“সত্যি কথা বলতে ভাইয়া এখন তো আমাদের মিল টাইমই শেষ।”

খেতে খেতে অবাক চোখে তাকায় ইহান। পর পর পানি খেয়ে বলে,“ওহহ হ্যা! দেখেছো। আশ্চর্য! তো সেটা আমাকে বলবে না?”

_না না ভাইয়া। আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। ম্যাম তো কঠিন গলায় বলেছে আপনাকে যাতে ফিরিয়ে না দিই।

হাত থামলো হঠাৎ ইহানের। চুপ হয়ে রইল। এদিকে ঝুমা ইহান তাজওয়ার মির্জার চোখে নিজের ম্যামকে আরো বেশি ভালো বানানোর প্রয়াশে গড়গড় করে বলতে লাগলো,“ছিলো তো দু'টো আইটেম। ম্যাম তো শুধুমাত্র আপনার জন্য আরো দুটো আইটেম তৈরি করলো, সে কি তাড়া ম্যামের !”

প্রেরণা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ঝুমার দিকে, কপালে হাত তার। এই মেয়েটার এতো কথা বলার দরকার কি? রাগ উঠছে প্রেরণার।

ইহান চুপচাপ খাবারটা নিয়ে বসে ছিলো, হঠাৎ বলে উঠল,“তোমার ম্যাম এগুলো আমার জন্য রেঁধেছে আলাদা করে?”

_জি ভাইয়া।

হঠাৎ করেই কেমন হাঁসফাঁস করে উঠলো ইহানের ভেতরটা। একদৃষ্টে প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকলো দীর্ঘসময়। আর খেতে পারলো না সে। অচেনা ছটফটানি তার কঠিন বুকটাতে হাহাকার লাগিয়ে রেখেছে। ইহান উঠে দাঁড়িয়ে বিল পে করে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যায় স্বাদে আহ্লাদে থেকে।

ঝুমা বোকা বনে গেলো পুরো। কি হলো ব্যাপারটা? লোকটার কি হলো? রেগে গেল? না তো, মুখটা শুকনো হলো কেন?

এদিকে প্রেরণা চুপ করে দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকলো, নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে।

__________

হেমন্তের মাঝামাঝি সময়টাতেই এবছর হাড় কাঁপানো শীত শুরু হলো। এইতো দুসপ্তাহ আগেও তো ছিলো না। হঠাৎ বন্যার পরেই আবহাওয়া বদলে গিয়েছে পুরোপুরি।

অ্যানাটমি ম্যামের প্রেজেন্টেশন রেডি করতে করতে একপলক নিজেকে দেখে নিয়ে মৃদু শ্বাস ফেলল শেহা। তাড়াহুড়োতে নিজের চাদর টা আনতে পারলো না,ভুলে গেলো। শেহার ঠান্ডার ধাত আছে।আজ এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে। বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত হবে, এই ঠান্ডায় বিপদে পরবে সে।

তাড়াহুড়োতে নিজের চাদরটা নিতে না পারলেও উজ্জ্বলের জ্যাকেটটা ব্যাগে ভরে দিয়েছে মনে করে,তবে লোকটাকে জানাতে পারেনি। ওয়াশ রুমে ছিলো যখন শেহা বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। লোকটা কি ব্যাগ দেখবে খুঁজে? না বোধ হয়। তার তো আর জানার কথা নয় তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তার ব্যাগে তার জ্যাকেট ভরে রাখবে। শেহা মিষ্টি করে হাসলো আপনা আপনি। ফোন করলো উজ্জ্বলকে, আজ তিনটা কেস হাতে লোকটার। খুব ব্যস্ত! ধরবে কি না কে জানে!

উজ্জ্বল কলটা রিসিভ করলো, শেহা তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বললো,“খেয়েছেন? আপনার জ্যাকেট পেয়েছেন? আজ রাতে বাড়িতে ফিরবেন? আমি দাদুর কাছে যাচ্ছি। ওখানে দেখা হবে!”

ওপাশে মলিন হাসলো উজ্জ্বল। সামনে ভিআইপি মক্কেলকে বসিয়ে রেখে উঠে চলে গেলো এক কোণে। হাঁফ ছেড়ে বলল,“আজ বাড়িতে ফিরবো। দাদুকে নিয়ে দু'জনেই ফিরবো। দাদুকে আজ রিলিজ দেয়া হবে।”

শেহা নিশ্চুপ হাসে। লোকটার জন্য তার খুব খারাপ লাগছে যদিও। এই দুই সপ্তাহে কত কি যে হয়ে গেল! তাদের প্রথম রাতের পরের দিন ভোরেই নিজাম মাহমুদ চেঁচামেচি করে অসুস্থ হয়ে পরলেন। চেঁচামেচি করেছিলেন একটা সাধারণ বিষয়ে, শেহার শাশুড়ির রেখে যাওয়া গয়না গুলো খুজে পাচ্ছিলেন না তিনি। আর ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনাটা ঘটলো। দু সপ্তাহ ধরে এই হসপিটালের কার্ডিওলজি বিভাগে অবজারভেশনে আছেন নিজাম মাহমুদ। দু সপ্তাহ ধরে তার পেছনেই ছোটাছুটি করছে নবদম্পতি। দু সপ্তাহ ধরে হতে হতেও হয়ে উঠছে না তাদের প্রত্যাশিত সংসারের পবিত্র সূচনা। দু দণ্ড লোকটা শেহার সান্নিধ্যে এলেও, নৈকট্য আর বাড়তে পারেনি। এই এলোমেলো পরিস্থিতিতে দু'জনেই বিব্রত হয়ে পরেছে দফায় দফায়, বারবার।

আর আজ? আজ তো সব স্বাভাবিক? আজ কি শেহা লোকটাকে ভরসা দেবে? মাথার মধ্যে এসবই ঘুরছে শেহার। লজ্জা পেয়ে নিজেই হাসে। ওপাশ থেকে উজ্জ্বল গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,“তুমি খেয়েছো?”

_হ্যা ক্যান্টিনে।

_ওহহ ওকে। আচ্ছা শোনো সকালে তোমার ব্যাগে চাদরটা রেখেছি তোমার, সকালে বলার আগেই তুমি বেরিয়ে গেলে। ঠান্ডা পরেছে খুব, প্রয়োজনে ব্যবহার করো। বাই।

খুবই সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে লোকটা বাক্যগুলো বলে কল কাটলো। কিন্তু বাক্যগুলোর রেশ শেহার মস্তিষ্কে থেকে গিয়েছে দীর্ঘক্ষণ। শেহা অবাক দৃষ্টিতে তার ব্যাগ দেখলো। পর পর ব্যস্ত হাতে ব্যাগের চেইন খুলে বের করলো নিজের চাদরটা। দীর্ঘসময় স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বড় অনুরাগে ছু'লো চাদরটা। চাদরটা খুলে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে শেহা বসে রইল ঘোরের মধ্যে, চুপচাপ।

তারপর হঠাৎ করেই শেহা আবারো কল করলো উজ্জ্বলকে। ওপাশে উজ্জ্বল তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বললো,“জরুরি কিছু বলবে? আমি পরে কলব্যাক করি?”

_না না পরে নয়,এখন বলবো। আচ্ছা এখন কি কদম ফুল পাওয়া যাবে?

হাসে উজ্জ্বল,
_অসম্ভব। কেন?

_তাহলে কি পাওয়া যাবে? দেশী ফুল!

_সদররোডে শিউলি, কনকচাঁপা, দোলনচাঁপা, গাঁদা দেখলাম সকালে।

_আচ্ছা ওতেই হবে। আসার সময় একটু নিয়ে আসবেন প্লিজ?

উজ্জ্বল বুঝতে পারলো না কিছু। শেহা কল কেটে মিটিমিটি হাসলো কিছুক্ষণ। বাকিটা সময় তার মন বসলো না কোনোকিছুতেই, বারবার বড্ড অনুরাগে গাঁয়ের চাদরটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছে, আর মনে করেছে তার দু-সপ্তাহের সংসার জীবনের প্রতিটা দিন। প্রতিটা মুহূর্ত। রোজ সকালে দু'জন দু'জনকে তাড়াহুড়ো করে বিদায় জানিয়ে দু'জনের কাজে বেরোনো। রোজ নিয়ম করে উজ্জ্বল মাহমুদ খানের গাড়ি তাকে নিয়ে যায় ক্লাস থেকে। দু'জনে মিলে রোজ নিজাম মাহমুদকে দেখে।

রাতে “তোমার বাসায় গিয়ে পড়তে বসা উচিত ” বলে শেহাকে আগেভাগে পাঠিয়ে দেয় বাড়িতে উজ্জ্বল, শেহা গিয়ে একটা কি দু'টো আইটেম রান্না করে পড়তে বসে। উজ্জ্বল নিজাম মাহমুদের কাছ থেকে বাড়িতে ফেরে রাত করে। আর প্রতিবারই বেশ লজ্জিত করে রাখে মুখটা বৌয়ের সামনে। যেনো শেহাকে যথেষ্ট সময় না দেওয়ার অপরাধবোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

প্রেজেন্টেশন শেষ করে শেহা সোজা চলে গেলো নিজাম মাহমুদের কেবিনে। নিজাম মাহমুদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। নাতবৌকে দেখে ক্লান্তিমাখা মুখেও চওড়া করে হেসে বলে উঠল,“তোদের কি ভোগান্তি দিচ্ছিরে ছোটো গিন্নি!”

হাসে শেহা, নিজাম মাহমুদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,“অসুবিধা নেই দাদু।”

_অসুবিধা আছে। আলবাত আছে। ঐ ব্যাটাকে এতো করে বলেছি আমার কাছে থাকতে হবে না, মেয়েটার সাথে বাড়িতে গিয়ে সময় কাটা। আমার ভীষণ লজ্জা লাগছে রে ছোটো গিন্নি,নাতিটা এতো বেয়াক্কেল বেরুবে বুঝিনি।

শেহা গাঁয়ের চাদরটাকে পরম আবেগে আরো খানিকটা জড়িয়ে নিয়ে হেসে বলে,“আসলেই বেয়াক্কেল লোক দাদু আপনার নাতি। এমন বেয়াক্কেল লোকই আমি আসলে মনে মনে খুঁজছিলাম।”

নিজাম মাহমুদ কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে বলে,“তাই নাকি? আচ্ছা শোন তোরা হানিমুনে যাবি?”

_অসম্ভব। অত সময় আমার আছে দাদু? এ বছর খুব ব্যস্ত।

_তবে এই কাছে দূরে কোথাও ঘুরতে যা।

_আপনি আগে সুস্থ হোন তারপর।

_আরে আমাকে নিয়ে তোদের কি?

নিজাম মাহমুদের মাথার কাছে বসলো শেহা, বললো,“আপনাকে নিয়ে আসলে আমার অনেক কিছু।”

_তা কিভাবে?

_কারন আপনার নাতি তো সাইকোলজিস্ট। আমি তো আর নই। সংসারে আপনার নাতিকে বুঝে ফিরে চলার জন্য আমার আপনার হেল্প লাগবে তো, আমি তো আর আপনার নাতির মতো মনোবিদ্যা পড়ছি না ! তাই আপনাকে এতো খাতির করছি!

নিজাম মাহমুদ হাসতে থাকে। এর মাঝে উজ্জ্বল চলে আসে। সাদা শার্টের ওপর কালো জ্যাকেটটা আঁটসাঁট হয়ে দারুণ লাগছে লোকটার ক্লান্তি মাখা মুখটা। এসে দাদুকে সালাম দিয়ে শেহাকে একপলক দেখলো, শেহা চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। নিজাম মাহমুদ নাতীকে দেখে বললেন,“আচ্ছা শুনছি তোরা হানিমুনে যাবি না !”

উজ্জ্বল বসলো দাদুর কাছে, অমায়িক একটা হাসি দিয়ে বলল,“হানিমুনে যাওয়ার সময়টা তুমি খেয়ে দিলে বুড়ো। এখন আমি আর শ্রাবন্তী দু'জনেই ব্যস্ত। সামনের বছর যাবো।”

নিজাম মাহমুদ গম্ভীর হয়ে রইলেন। উজ্জ্বল দাদুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,“এ বছরের হানিমুনটা চারদেয়ালের মাঝেই হোক, আমাদের বাড়ির ছাদে কিংবা রোজ তোমার নাতবৌকে কলেজের সামনে ছেঁড়ে দেওয়াতেই হোক। পাহাড়,নদী সামনের বছর দেখবো। তুমি চিন্তা করো না। হানিমুন হবে, অবশ্যই হবে।”

__________

নিজাম মাহমুদকে বাড়িতে এনেছে ঘন্টাখানেক হয়েছে। উজ্জ্বল ফ্রেশ হয়ে দাদুর ঘরে তার ওষুধপত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলো। শেহা ব্যস্ত হয়ে পরলো তার পড়াশোনা নিয়ে। রাতের ডিনার সেরেই এসেছে। সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত শেহা যখন ঘুমে ঢুলু ঢুলু হয়ে পরলো পড়ার টেবিলেই, ফোনে সেট করা এলার্ম বাজলো সে সময়ে। লাফিয়ে উঠে শেহা ধাতস্থ হয়ে সময় দেখলো। রাত সাড়ে এগারোটা, সে দুই ঘন্টা পড়েছে। আর ঐ লোকটাও তাকে ডাকতে আসেনি।

শেহার পড়ার ঘরটা আলাদা করে দিয়েছে উজ্জ্বল, যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।
এই এতো বড় বাড়িতে শেহার শুরুতে ক'দিন কেমন ভয় ভয় করতো। এখন আর করে না।

স্টাডি রুম লক করে শেহা ঘরে ঢুকে দেখলো কিছু দোলনচাঁপা তার পছন্দের ফুলদানিতে, লোকটা রাস্তায় পায়নি ফুলগুলো, অর্ডার করে আনিয়েছে। এতো রাতে এই তাজা তাজা ফুল গুলো দেখে মনটাই ভালো হয়ে গেল শেহার। ঘুম তাড়াতে ওয়াশ রুমে ঢুকে মুখ হাতে পানি দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায় সে। তাকে লাগছে বিধ্বস্ত, পড়াশোনার চাপে শরীর শুকিয়ে ভয়ংকর লাগছে দেখে। আজ এভাবে দেখা দেবে উজ্জ্বলকে? না না!

দ্রুত শেহা সালোয়ার স্যুট পাল্টে শাড়ি পরে নিলো, একটা সবুজ রঙের জমিন আর সোনালি পাড়ের টাঙ্গাইল শাড়ি। চুল গুলো খুলে রেখে হালকা পারফিউম মেখে নিয়ে চুপচাপ গিয়ে বসে রইল বিছানায়। অপেক্ষা করতে লাগলো উজ্জ্বলের জন্য। দম বন্ধ করে।

দাদুকে ঘুম পাড়িয়ে দ্রুত ঘরের দিকে গেল উজ্জ্বল। সাড়ে এগারোটা ছাড়িয়ে বারোটা বেজেছে। লম্বা লম্বা পা ফেলে দোতলায় উঠে দেখলো স্টাডি রুমের বাতি নেভানো,লক করা। উজ্জ্বল মুচকি হেসে সোজা ঘরে ঢুকলো। যতখানি ছটফটানি তার মধ্যে এতক্ষণ ছিলো, শেহার সামনে যেতেই সেসব লুকিয়ে ফেলে নিজেকে এক ধৈর্য্যবান ,শান্ত,নম্র পুরুষের ভোলে সাজিয়ে নিলো। চোখাচোখি হতেই দু'জনে মলিন হাসলো ।

ধীরে ধীরে উজ্জ্বল গিয়ে বিছানায় বসেই হাঁফ ছেড়ে বললো,“তো অনেকদিন পরে একটু গল্প করার সুযোগ পাচ্ছি আমরা।”

_জি।

_বাবার সাথে কথা বলেছো?

শেহার মুখভঙ্গি হঠাৎ পাল্টে গেলো,ফোনটা হাতে নিয়ে বললো,“ভালো কথা মনে করালেন। কথা হয়নি। এখন কল করে দেখি।”

শান্তর সাথে কথা বলেছে শেহা পৌনে একঘন্টা। এতসময় উজ্জ্বল শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছে বৌকে আর মিটিমিটি হেসেছে, তার ধৈর্য্যের পরিক্ষা নিতে তার বৌও কম যায়না। ব্যাপার না! অন্যভাবে,অন্য উপায়ে পুষিয়ে নেবে।

শেহা শান্তর কলটা কাটতে না কাটতেই এলো পরীর ফোন, নিজাম মাহমুদকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে কল করেছে। উজ্জ্বল এবার ঘাবড়ে গেল। পরী মামীর ফোন মানে তিন মামীর ফোন। কমপক্ষে তিন ঘন্টার আগে তার বৌ ফোনটা রাখতে পারবে না। উজ্জ্বল হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে, শেহা মামীদের সাথে সাংসারিক আলাপ পাড়তে ব্যস্ত। হলোও তাই, তিন মামী, ইনু ইশি প্রণমি সবার সাথে মেয়েলি আলাপ সারলো এক ঘন্টায়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নিলো কে কেমন আছে। মুঈন জিজের ট্রান্সফার হবে সম্ভবত, বড় দাদানের জন্য পাত্রী দেখছে, গ্যাস প্রবলেমের জন্য প্রণমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরায় সবাই ভেবেছে বেবি আসবে তাই ইলহাম মির্জা খুশি হয়ে মিষ্টির অর্ডার দিয়ে দিয়েছিল ইরফান-প্রণমির সাথে কথা না বলেই,পরে জানা গেল ঘটনা মিথ্যা। ইরফান প্রণমি টানা একদিন ঘর থেকে বেরোয়নি লজ্জায়। এই হচ্ছে ও বাড়ির নতুন খবর। যেগুলো শেহা জানতো না। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব জেনে নেয় শেহা।
যখন ফোনটা রাখলো তখন শেহা দেখলো উজ্জ্বল শুয়ে আছে। লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসলো শেহা, মিনমিনে স্বরে বলল,“স্যরি। আসলে আমরা একটু বেশি বকবক করি।”

_অসুবিধা নেই। আমি বোর হইনি।

ওর পাশেই সহজ ভঙ্গিতে শুয়ে পরলো শেহা। বললো,“তাই নাকি? এসব মেয়েলি খুচরা আলাপেও বোর হননি?”

ওকে এক হাতে টানলো উজ্জ্বল,মিহি স্বরে বলল,“না আমিও ব্যস্ত ছিলাম অন্য একটা কাজে।”

হঠাৎ এমন আদরে অভ্যস্ত শেহা,খুব কাছাকাছি আসা না হলেও টুকটাক কাছাকাছি আসা হয়েছে একাধিকবার। এমন আদরে সেও সায় দেয়। লাজুক দৃষ্টি জোড়া নামিয়ে বলে ওঠে,“ব্যস্ততা...আমরা দু'জন সবসময় কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকিই। একটুও বিশ্রাম পাচ্ছি না।”

উজ্জ্বল অবলিলায় ওর এক গালে চুমু খেয়ে বলে,“হ্যা। এই যেমন এখনো দুজন ব্যস্ত হবো। তবে দু'জনকে নিয়ে।”

শেহা লাল হয়ে আইঢাঁই করে উঠল, লোকটার গলার স্বর অন্যরকম শোনালো হঠাৎ। চোখ তো তুললোই না,উল্টো গলে যাওয়া মোমের মতো বিছানায় পরে রইল। উজ্জ্বল হাসলো আজ দুষ্টু হাসি, ওর চুল নিয়ে খেলা করতে করতে বললো,“শ্রাবন্তি আমি জানি মৌনতা সম্মতির লক্ষণ।”

চোখ বন্ধ করে নিলো শেহা, ক্ষীণ আওয়াজে বলল,“আপনি ঠিকই জানেন।”

_ফুল নেই বিছানায়। আমি এতো সাদামাটা বাসরের প্ল্যান করিনি।

নৈকট্য বৃদ্ধি পেতেই শেহা একটু গুটিয়ে গেলো, তবুও লোকটার প্রতিটা কথায় জবাব দেওয়ার যে অভ্যাস হয়েছে এই কদিনে,সেই অভ্যাস থেকে বললো,“এটা জরুরি নয় যে খাটে ফুল থাকতেই হবে।”

হেসে ফেললো উজ্জ্বল, বললো,“তবে কি জরুরি?”

_বলবো?

_হু।

ওর শাড়ির আঁচল লোকটার হাতে, ধীরে ধীরে ওকে কব্জা করার সহনীয় পদক্ষেপ গুলো নিচ্ছে লোকটা। শেহা কাঁপছে, গলা কাঁপছে, কাঁপা স্বরেই বললো,“জরুরি হলো....ঐ দু'হাতে আমাকে ফুলের মতো ট্রিট করতে হবে।”

উজ্জ্বল চুপ হয়ে যায়, হাত থেমে যায় ওর। ততক্ষণে শেহাই নিজেকে হারালো, দু'হাতে জড়িয়ে ধরে লোকটাকে বলতে লাগলো,“জরুরি হলো......আমাকে ফুলের মতোই ট্রিট করতে হবে। আমাকে বোঝাতে হবে “আমি পৃথিবীতে আপনার কাছে সবথেকে সুন্দর ফুল।” আমি কিন্তু আমার তুলনাতে,আগে পিছে কাউকে চাইনা, খবরদার চাইনা।”

উজ্জ্বল চেয়ে চেয়ে কিছুক্ষণ দেখলো ছটফট করতে থাকা মেয়েটাকে, পর পর চুপচাপ শুয়ে ফুলের মতোই ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখলো ওকে। একেবারে একটা ফুলের মতো। শেহা আবেশিত হলো, ওরা দুজন আবেশিত হলো।
এর মাঝে উজ্জ্বলের ফোন বেজে উঠতেই দেখলো নিজাম মাহমুদের ফোন। দু'জনে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে বসলো, দু'জন ভীষণ চিন্তিত হলো, দাদুর শরীরটা খারাপ করলো না তো? ব্যস্ত হাতে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নিজাম মাহমুদ হালকা গলায় উজ্জ্বলকে বললো,“শোন তুই স্টাডি রুমে তাইনা? তুই এখন পড়ালেখা রাখ রাম ছাগল। ঘরে গিয়ে বৌটাকে সময় দে। আমার যেন আর ফোন করা না লাগে।”

ঘন প্রশ্বাস ফেলে উজ্জ্বল, দাঁতে দাঁত চেপে বললো,“হ্যা দাদু আমি এক্ষুনি ঘরে ঢুকছি। তুমি প্লিজ আর ফোন করো না। তুমি ঘুমাও। এবং আমাকে প্লিজ তোমার নাতবৌকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দাও। আমি রাম ছাগল নই, ডেস্পারেটলি চাই তোমার নাতবৌকে সময় দিতে! ”

শেহা হাসতে হাসতে ভেঙে পরলো। উজ্জ্বল কল কেটে ফোনটাকে অফ করে ফেলল এইবার। এবার বড্ড অধৈর্য হলো উজ্জ্বল। একে একে অফ করলো তাদের দু'জনের চারটা ফোন। ভালো করে বন্ধ করলো দরজা, বন্ধ করলো জানালা। শেহা হাসি থামিয়ে চুপচাপ দেখতে লাগলো। তার ভদ্র মিষ্টি স্বামীর এক নতুন রূপ আবিষ্কার করলো হঠাৎ। জানালা দু'টো বন্ধ হতেই শেহা অস্ফুটে বলে উঠলো,“হীম হাওয়া তো ঢুকছিলো না, বন্ধ করলেন কেন? চাঁদের আলো ঢুকছিলো।”

উজ্জ্বল এসে ওর ওপর আধশোয়া হয়ে ডান হাতের তর্জনী রাখলো ওর ঠোঁটের ওপর। শেহা হাতটা সরিয়ে দিয়ে বললো,“প্রসিকিউটর সাহেব, বাদীকে কথাও বলতে দিবেন না?”

ওকে একেবারে চুপ করিয়ে দিতে উজ্জ্বল ওর মুখটাই আলতো হাতে চেপে ধরলো। ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,“না, ফুল এতো কথা বলে না। তুমি কোনো ফুলকে কথা বলতে দেখেছো? চুপ থাকো।”

চলমান.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 119 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন