ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর কারণে বেঁচে আছি

পর্ব 4

লেখক: সাদিয়া ইমু

🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤

একটি রোমান্টিক থ্রিলার উপন্যাস

🌸 পর্ব ৪ — নিজের ঘরেই শত্রু! 🌸

রাত ১২টা।

নওশিন নিজের ঘরে বসে আছে। তার হাতে একটা ছোট কাগজ। কিছুক্ষণ আগেই কেউ তার ঘরের দরজার নিচ দিয়ে কাগজটা ঢুকিয়ে দিয়েছে।

কাগজে লেখা—

"তোমার বোনের হত্যাকারী তোমার নিজের ঘরেই আছে।"

লেখাটা পড়ে নওশিনের হাত কাঁপতে লাগল। তার মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরতে লাগল। কে এই মানুষ? কেন তাকে বারবার ভয় দেখানো হচ্ছে? আর তার পরিবারের কেউ কি সত্যিই মেহেরের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত?

নওশিন দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বের হলো। কিন্তু করিডোরে কাউকে দেখা গেল না।

নওশিন: কে? কে আছেন বাইরে?

কোনো উত্তর এলো না।

সে ভয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর জিহাদের নম্বরে কল করল।

জিহাদ: হ্যালো, নওশিন?

নওশিন: জিহাদ, আমার খুব ভয় করছে।

জিহাদ: কী হয়েছে? তুমি কাঁদছ কেন?

নওশিন: কেউ আমার ঘরের দরজার নিচে একটা কাগজ রেখে গেছে। তাতে লেখা, আমার বোনের হত্যাকারী নাকি আমাদের বাড়িতেই আছে।

কয়েক সেকেন্ড জিহাদ চুপ করে রইল।

জিহাদ: তুমি দরজা বন্ধ করে রাখো। কারও জন্য খুলবে না। আমি আসছি।

নওশিন: কিন্তু এত রাতে...

জিহাদ: তোমার কিছু হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। প্লিজ, ভয় পেয়ো না।

কল কেটে জিহাদ দ্রুত গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

🌸 পরদিন সকাল — নওশিনের বাড়ি

সকাল ৯টা।

নওশিনের মা নাশতার টেবিলে বসে আছেন। নওশিন সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে।

মা: কী হয়েছে মা? রাতে ঘুমাসনি?

নওশিন: মা, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব।

মা: বল।

নওশিন: মেহের আপুর মৃত্যুর সময় তুমি কোথায় ছিলে?

প্রশ্নটা শুনে মায়ের হাত থেমে গেল।

মা: হঠাৎ এসব প্রশ্ন করছিস কেন?

নওশিন: আমি আপুর ডায়েরি পেয়েছি। সেখানে লেখা আছে, আপু নাকি জিহাদকে নির্দোষ বলেছিল।

মায়ের চোখে পানি চলে এলো।

মা: পুরোনো কথা ভুলে যা মা। সব সত্যি জানলে তুই কষ্ট পাবি।

নওশিন: আমি আর অন্ধকারে থাকতে চাই না।

মা উঠে নিজের ঘরে চলে গেলেন।

নওশিন বুঝতে পারল, তার মা কিছু একটা জানেন। কিন্তু কেন তিনি বলতে চাইছেন না?

🖤 কলেজে — জিহাদের সন্দেহ

কলেজের বাগানে জিহাদ আর অভি বসে আছে।

অভি: তুই কাল রাতে নওশিনের বাসায় গিয়েছিলি?

জিহাদ: হ্যাঁ।

অভি: সাবধানে চলিস। ব্যাপারটা কিন্তু অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে।

জিহাদ: আমি জানি। মেহেরের মৃত্যুর সঙ্গে যারা জড়িত, তারা আবার ফিরে এসেছে।

অভি: তোর সন্দেহ কার ওপর?

জিহাদ পকেট থেকে একটা পুরোনো ছবি বের করল।

ছবিতে তিনজন মানুষ ছিল—জিহাদ, মেহের এবং নওশিনের বাবা।

জিহাদ: মেহের মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে এই ছবিটা তুলেছিলাম। সেদিন ওর বাবা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।

অভি: তারপর?

জিহাদ: মেহের আমাকে বলেছিল, তার বাবার কাছে এমন একটা গোপন তথ্য আছে, যা প্রকাশ হলে অনেক মানুষের জীবন বদলে যাবে।

অভি: তাহলে তুই কি নওশিনের বাবাকে সন্দেহ করছিস?

জিহাদ: আমি কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না। কিন্তু সত্যিটা জানতে হবে।

ঠিক তখনই ইমু এসে তাদের সামনে দাঁড়াল।

ইমু: কী ব্যাপার? এত গম্ভীর আলোচনা কী নিয়ে?

অভি: দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে!

ইমু: আপনার মতো মানুষের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ থাকলে তো শেষ!

অভি হেসে উঠল।

অভি: আচ্ছা, আপনি কি আমার সঙ্গে একটু ঘুরতে যাবেন?

ইমু: কেন?

অভি: আপনার মুখে হাসি দেখতে।

ইমু লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাল।

🌷 নওশিন ও জিহাদ — না বলা অনুভূতি

কিছুক্ষণ পর নওশিন কলেজে এলো। জিহাদ তাকে দেখেই কাছে গেল।

জিহাদ: তুমি ঠিক আছ?

নওশিন: হুম।

জিহাদ: রাতে ঘুম হয়েছে?

নওশিন: না। ভয় লাগছিল।

জিহাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

জিহাদ: আমার একটা কথা শোনো। যতদিন আমি আছি, তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেব না।

নওশিন: কিন্তু আপনার নিজের জীবনেই তো এত বিপদ!

জিহাদ: তোমার বিপদের সামনে আমার নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় নেই।

নওশিনের চোখে পানি চলে এলো।

নওশিন: আপনি কেন আমার জন্য এত চিন্তা করেন?

জিহাদ মুচকি হেসে বলল—

জিহাদ: কারণ তোমার চোখে পানি দেখলে আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে।

নওশিন কিছু বলল না।

জিহাদ আস্তে করে তার হাত ধরতে গেল। কিন্তু নওশিন হাত সরিয়ে নিল।

নওশিন: আগে আমাকে সব সত্যি বলুন। তারপর বিশ্বাসের কথা বলবেন।

জিহাদ মাথা নিচু করল।

জিহাদ: ঠিক আছে। তোমার কাছ থেকে আর কিছু লুকাব না।

🌑 বিকেল — পুরোনো বাড়িতে অভিযান

জিহাদ আর অভি সিদ্ধান্ত নিল, মেহেরের পুরোনো বাড়িতে যাবে। বাড়িটা প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ।

বাড়ির দরজা খুলতেই ধুলাবালি আর পুরোনো জিনিসের গন্ধ পাওয়া গেল।

অভি: জায়গাটা দেখে আমার কিন্তু ভয় করছে।

জিহাদ: ভয় পেলে বাইরে দাঁড়া।

অভি: আরে ভাই, বন্ধুর জন্য জীবন দিতেও রাজি। তবে ভূতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করব না!

জিহাদ হেসে ফেলল।

দুজন ঘরের ভেতরে ঢুকে খোঁজাখুঁজি শুরু করল। হঠাৎ জিহাদের চোখ পড়ল দেয়ালের পাশে রাখা একটা কাঠের আলমারিতে।

আলমারি খুলতেই একটা ছোট বাক্স পাওয়া গেল।

বাক্সের ভেতরে ছিল কিছু চিঠি, একটি পেনড্রাইভ এবং একটা চাবি।

জিহাদ চিঠিগুলো পড়তে শুরু করল।

একটি চিঠিতে লেখা—

"জিহাদ, যদি কোনোদিন আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে নওশিনকে সত্যিটা জানাবে। আমাদের পরিবারের মধ্যে একজন বিশ্বাসঘাতক আছে। সে আমাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চায়।"

চিঠির নিচে মেহেরের স্বাক্ষর।

জিহাদের চোখ ভিজে উঠল।

অভি: কী লেখা আছে?

জিহাদ: মেহের জানত, তার জীবনে বিপদ আসছে। কিন্তু সে কাউকে বলতে পারেনি।

হঠাৎ পেছনের ঘর থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো।

দুজন দ্রুত সেদিকে এগিয়ে গেল।

ঘরের ভেতরে কাউকে দেখা গেল না। কিন্তু জানালাটা খোলা।

জিহাদ জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকাল। দূরে একজন কালো পোশাকের মানুষ দৌড়ে পালাচ্ছে।

জিহাদ: অভি! ওকে ধর!

অভি দৌড়ে বাইরে গেল। কিন্তু লোকটিকে আর পাওয়া গেল না।

ফিরে এসে অভি বলল—

অভি: লোকটা পালিয়ে গেছে।

জিহাদ মুঠো শক্ত করল।

জিহাদ: ওরা জানে আমরা সত্যের কাছাকাছি চলে এসেছি।

🌙 রাত — ভয়ংকর আবিষ্কার

নওশিন নিজের ঘরে বসে মেহেরের ডায়েরি পড়ছিল। হঠাৎ ডায়েরির শেষ পাতার ভেতর থেকে একটা ছোট ছবি পড়ে গেল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মেহেরের পাশে একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে। ছবির পেছনে লেখা—

"আমার সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষ।"

নওশিন ছবিটা ভালো করে দেখল।

তারপর তার পুরো শরীর কেঁপে উঠল।

কারণ ছবির মানুষটি আর কেউ নয়—তার নিজের বাবা!

ঠিক তখনই দরজা খুলে বাবা ঘরে ঢুকলেন।

বাবা: কী দেখছিস মা?

নওশিন কাঁপা হাতে ছবিটা বাবার সামনে ধরল।

নওশিন: বাবা, এই ছবিতে তুমি কেন?

বাবার মুখ মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

বাবা: ছবিটা তুই কোথায় পেলি?

নওশিন: ডায়েরির ভেতরে। বাবা, তুমি কি আপুর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত?

বাবা কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু দরজা বন্ধ করে দিলেন।

তারপর ধীরে ধীরে বললেন—

বাবা: নওশিন, আজ তোকে এমন একটা কথা বলব, যেটা জানার পর হয়তো তুই আমাকে আর বাবা বলে ডাকতে চাইবি না।

নওশিনের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।

নওশিন: কী কথা, বাবা?

বাবা কাঁপা গলায় বললেন—

বাবা: মেহেরের মৃত্যুর আগের রাতে... আমিই শেষবার ওর সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

নওশিন স্তব্ধ হয়ে গেল।

ঠিক তখনই বাইরে থেকে একটা বিকট শব্দ হলো। সবাই জানালার দিকে তাকাল।

বাড়ির গেটের সামনে একটি কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে।

গাড়ির ভেতর থেকে একজন লোক ফোনে বলল—

অচেনা লোক: স্যার, মেয়েটা সব জেনে গেছে। এবার কী করব?

ফোনের ওপাশ থেকে উত্তর এলো—

অজানা কণ্ঠ: এবার নওশিনকে সরিয়ে ফেলো। তার আগে সে যেন পুরো সত্য জানতে না পারে।

চলবে... 🖤🥀

🌑 পর্ব ৫ — বাবার মুখোশের আড়ালে!

নওশিনের বাবা কী লুকাচ্ছেন? মেহেরের মৃত্যুর রাতে আসলে কী হয়েছিল? আর জিহাদ কি সময়মতো নওশিনকে বাঁচাতে পারবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন