🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤
একটি রোমান্টিক থ্রিলার উপন্যাস
🌸 পর্ব ৫ — বাবার মুখোশের আড়ালে 🌸
রাত ১১টা ৩০ মিনিট।
নওশিন নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। তার হাতে মেহেরের পুরোনো ছবিটা।
নওশিন: বাবা, তুমি আপুর মৃত্যুর আগের রাতে ওর সঙ্গে দেখা করেছিলে। কিন্তু এতদিন আমাকে বলোনি কেন?
নওশিনের বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে চেয়ারে বসে পড়লেন।
বাবা: কারণ আমি চাইনি তুই এমন একটা সত্য জানিস, যেটা তোর জীবন ধ্বংস করে দেবে।
নওশিন: আমার জীবন তো এখনই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে! সবাই আমার কাছ থেকে কিছু না কিছু লুকাচ্ছে। তুমি অন্তত সত্যিটা বলো।
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
বাবা: তিন বছর আগে মেহের আমার কাছে এসেছিল। সে বলেছিল, জিহাদকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আমি রাজি ছিলাম না।
নওশিন: কেন?
বাবা: কারণ জিহাদের পরিবারের সঙ্গে একটা পুরোনো শত্রুতা ছিল। আমি চাইনি আমার মেয়ের জীবন বিপদে পড়ুক।
নওশিন: তাই বলে আপুর ভালোবাসা কেড়ে নেবে?
বাবা: আমি শুধু ওকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম, মা।
নওশিন: তাহলে আপু মারা গেল কীভাবে?
বাবা এবার চোখের পানি মুছে বললেন—
বাবা: সেদিন রাতে আমি মেহেরকে শেষবারের মতো বোঝাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও আমার কথা শুনতে চায়নি। রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরই দুর্ঘটনার খবর পাই।
নওশিন বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
নওশিন: তাহলে তুমি নির্দোষ?
বাবা উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ এলো।
দুজনেই চমকে উঠল।
বাবা: নওশিন! তুই নিজের ঘরে যা। দরজা বন্ধ করে রাখবি।
নওশিন: কিন্তু বাবা—
বাবা: আমি যা বলছি তাই কর!
নওশিন দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
🌑 কালো গাড়ির ভেতরে
বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়ির লোকটি ফোনে কথা বলছিল।
অচেনা লোক: স্যার, মেয়েটা এখন সব জানতে চাইছে।
অজানা কণ্ঠ: ওর হাতে কি ডায়েরিটা আছে?
অচেনা লোক: জি, স্যার।
অজানা কণ্ঠ: তাহলে ডায়েরিটা যেভাবেই হোক নিয়ে আসো। ওই ডায়েরিতে এমন কিছু আছে, যা বাইরে এলে আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলবে।
অচেনা লোক: বুঝেছি, স্যার।
লোকটি ফোন রেখে বাড়ির পেছনের দিকে এগিয়ে গেল।
🖤 অন্যদিকে — জিহাদ ও অভি
জিহাদ নিজের ঘরে বসে মেহেরের দেওয়া চিঠিগুলো পড়ছিল। হঠাৎ তার ফোনে নওশিনের একটা মেসেজ এলো।
"জিহাদ, আমার খুব ভয় করছে। বাবা কিছু কথা বলেছে, কিন্তু আমি এখনো সব বুঝতে পারছি না। তুমি কি আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবে?"
মেসেজটা পড়ে জিহাদ সঙ্গে সঙ্গে ফোন করল।
জিহাদ: নওশিন, তুমি ঠিক আছ?
নওশিন: জানি না। আমার মনে হচ্ছে কেউ আমাদের বাড়ির আশপাশে আছে।
জিহাদ: তুমি দরজা বন্ধ করে রাখো। আমি আসছি।
জিহাদ ফোন রেখে গাড়ির চাবি নিল।
অভি তাকে দেখে বলল—
অভি: আবার কোথায় যাচ্ছিস?
জিহাদ: নওশিনের বাসায়।
অভি: আমিও যাব।
জিহাদ: তুই কেন যাবি?
অভি: কারণ তুই বিপদে পড়লে তোকে উদ্ধার করার দায়িত্ব আমার। আর ইমুও আমাকে বলেছে নওশিনের খোঁজ রাখতে।
জিহাদ মুচকি হাসল।
জিহাদ: বুঝেছি। নওশিনের চেয়ে ইমুর চিন্তা বেশি!
অভি: চুপ কর! গাড়িতে ওঠ।
🌸 নওশিনের বাড়ি — ভয়ংকর রাত
রাত ১২টা ১৫ মিনিট।
নওশিন নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ জানালার পর্দা নড়ে উঠল।
সে ভেবেছিল বাতাসে নড়ছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর জানালার কাচে কারও ছায়া দেখতে পেল।
নওশিন: কে ওখানে?
কোনো উত্তর নেই।
সে ভয়ে ফোনটা হাতে নিল। ঠিক তখনই ঘরের দরজা আস্তে করে খুলে গেল।
নওশিন চিৎকার করে উঠল।
নওশিন: কে আপনি? আমার ঘরে কেন এসেছেন?
কালো পোশাক পরা লোকটি দ্রুত তার দিকে এগিয়ে এল।
লোকটি: ডায়েরিটা দিন। তাহলে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না।
নওশিন: কোন ডায়েরি? আপনি কে?
লোকটি: বেশি প্রশ্ন করবেন না। ডায়েরিটা দিন!
নওশিন ডায়েরিটা বুকে চেপে ধরল।
নওশিন: এটা আমার আপুর শেষ স্মৃতি। আমি কাউকে দেব না!
লোকটি তার হাত থেকে ডায়েরি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
ঠিক তখনই নিচতলা থেকে জিহাদের কণ্ঠ ভেসে এলো।
জিহাদ: নওশিন!
লোকটি ভয় পেয়ে জানালা দিয়ে পালিয়ে গেল।
জিহাদ দৌড়ে ঘরে ঢুকল।
জিহাদ: নওশিন! তুমি ঠিক আছ?
নওশিন কিছু না বলে জিহাদকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
নওশিন: আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।
জিহাদ তার মাথায় হাত রেখে বলল—
জিহাদ: আর ভয় নেই। আমি এসেছি।
কিছুক্ষণ পর নওশিন নিজেকে সামলে নিল।
নওশিন: জিহাদ, লোকটা আপুর ডায়েরি নিতে এসেছিল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো বড় রহস্য আছে।
জিহাদ: হ্যাঁ। আর সেই রহস্য আমাদের জানতে হবে।
🌷 ইমু ও অভি — ভালোবাসার প্রথম স্বীকারোক্তি
অন্যদিকে অভি বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিল। ঠিক তখনই ইমুর ফোন এলো।
অভি: হ্যালো, মিস ইমু!
ইমু: কোথায় আপনি?
অভি: নওশিনদের বাড়িতে।
ইমু: এত রাতে সেখানে কী করছেন?
অভি: আপনার বান্ধবীকে বাঁচাতে এসেছি।
ইমু: নিজের খেয়াল রাখবেন।
অভি একটু অবাক হলো।
অভি: কী বললেন? আবার বলেন তো!
ইমু: কিছু না! রাখছি।
অভি: ইমু?
ইমু: জি?
অভি: আপনাকে আমার সত্যিই অনেক ভালো লাগে।
ইমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
ইমু: আগে বিপদটা শেষ হোক। তারপর আপনার কথার উত্তর দেব।
অভি হেসে বলল—
অভি: কথা দিলাম, অপেক্ষা করব।
🌑 ডায়েরির শেষ পাতার রহস্য
রাত ১টা।
জিহাদ, নওশিন ও অভি বসে মেহেরের ডায়েরি পড়ছিল।
হঠাৎ নওশিনের চোখ পড়ল ডায়েরির শেষ পাতায়। সেখানে একটা ছোট পকেট সেলাই করা ছিল।
পকেট খুলতেই একটা মেমোরি কার্ড পাওয়া গেল।
অভি: আরে! এটা আবার কী?
জিহাদ: সম্ভবত মেহেরের রেখে যাওয়া প্রমাণ।
জিহাদ মেমোরি কার্ডটি ল্যাপটপে লাগাল।
কিছুক্ষণ পর একটি ভিডিও চালু হলো।
ভিডিওতে মেহেরকে দেখা যাচ্ছে। সে খুব ভয় পেয়েছে।
মেহের: জিহাদ, যদি তুমি এই ভিডিও দেখো, তাহলে বুঝবে আমি হয়তো আর বেঁচে নেই। একটা কথা মনে রেখো, আমার মৃত্যুর জন্য তোমাকে কেউ দায়ী করলে বিশ্বাস করবে না। কারণ আসল অপরাধী এমন একজন, যাকে আমরা সবাই বিশ্বাস করি।
ভিডিওতে মেহের একটু থামল।
তারপর বলল—
মেহের: আর নওশিন... আমার ছোট্ট বোন। ওকে কখনো একা ছেড়ে দিও না। ওর জীবনেও বিপদ আসতে পারে।
ভিডিওটি শেষ হয়ে গেল।
নওশিন চোখ মুছতে মুছতে বলল—
নওশিন: আপু জানত, ওর কিছু হতে পারে। তবুও কেউ ওকে বাঁচাল না!
জিহাদ নওশিনের হাত ধরল।
জিহাদ: আমি কথা দিচ্ছি, মেহেরের মৃত্যুর আসল রহস্য খুঁজে বের করব।
হঠাৎ ভিডিওর নিচে আরেকটি ফাইল দেখা গেল।
ফাইলের নাম— LAST_SECRET_721
অভি ফাইলটি খুলতেই একটি গাড়ির ছবি দেখা গেল।
গাড়ির নম্বরের শেষের তিনটি সংখ্যা—৭২১।
জিহাদ ছবিটা দেখে চমকে উঠল।
জিহাদ: এই গাড়িটা আমি চিনি!
অভি: কার গাড়ি?
জিহাদ কাঁপা কণ্ঠে বলল—
জিহাদ: এটা নওশিনের বাবার গাড়ি!
নওশিনের চোখ বড় হয়ে গেল।
নওশিন: কী বলছেন আপনি? বাবা?
ঠিক তখনই নওশিনের ফোনে একটা কল এলো।
স্ক্রিনে লেখা— বাবা কলিং...
নওশিন কাঁপা হাতে ফোনটা ধরল।
নওশিন: হ্যালো, বাবা?
ওপাশ থেকে বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠ শোনা গেল।
বাবা: মা, তুই কোথায়? তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আয়। আমি তোকে একটা সত্যি বলতে চাই।
নওশিন: কী সত্যি, বাবা?
বাবা: মেহেরকে যে গাড়িটা ধাক্কা দিয়েছিল, সেটা আমার গাড়ি ছিল। কিন্তু সেদিন গাড়িটা আমি চালাচ্ছিলাম না!
নওশিন স্তব্ধ হয়ে গেল।
নওশিন: তাহলে কে চালাচ্ছিল?
বাবা উত্তর দেওয়ার আগেই ফোনের ওপাশে একটা বিকট শব্দ হলো।
তারপর লাইন কেটে গেল।
নওশিন চিৎকার করে উঠল—
নওশিন: বাবাআআ!
জিহাদ দ্রুত উঠে দাঁড়াল।
জিহাদ: অভি! গাড়ি বের কর। আমাদের এখনই যেতে হবে!
কিন্তু তারা জানত না, নওশিনের বাবাকে ইতিমধ্যেই অপহরণ করা হয়েছে।
আর অপহরণকারীর ফোনে তখন একটি নতুন মেসেজ এলো—
"পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করো। এবার জিহাদকে শেষ করতে হবে।"
চলবে... 🖤🥀
🌑 পর্ব ৬ — অপহৃত বাবা ও জিহাদের জীবনের শেষ রাত!
নওশিনের বাবাকে কে অপহরণ করল? গাড়িটি সেদিন কে চালিয়েছিল? আর জিহাদকে শেষ করার পরিকল্পনা কার?