ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর কারণে বেঁচে আছি

পর্ব 7

লেখক: সাদিয়া ইমু

🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 💗

🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤

পর্ব – ৭

নওশিনের জীবনের অজানা সত্য ও মেহেরের মৃত্যুর ভয়ংকর রহস্য!

রাত তখন প্রায় তিনটা।

হাসপাতালের করিডোরে পায়চারি করছে ওভি। অন্যদিকে ইমু চুপচাপ বসে আছে। তার চোখেমুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ।

অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে আছে নওশিন। চোখ দুটো কান্নায় লাল হয়ে গেছে। জিহাদের কাঁধে গুলি লেগেছে। ডাক্তার এখনো অপারেশন শেষ করেননি।

নওশিন দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল।

নওশিন: আল্লাহ, জিহাদকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিও না। ওকে ছাড়া আমি বাঁচব কীভাবে?

ইমু নওশিনের পাশে এসে বসল।

ইমু: নওশিন, এভাবে ভেঙে পড়িস না। জিহাদের কিছু হবে না।

নওশিন: সবকিছু আমার জন্য হচ্ছে, ইমু। আমার বাবাকে অপহরণ করেছে, জিহাদ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি আর পারছি না।

ইমু নওশিনকে জড়িয়ে ধরল।

ইমু: তুই একা না। আমরা সবাই তোর পাশে আছি।

ঠিক তখনই ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এলেন।

নওশিন দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

নওশিন: ডাক্তার, জিহাদ কেমন আছে?

ডাক্তার: আপাতত বিপদ কেটে গেছে। তবে ওকে কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।

কথাটা শুনে নওশিনের চোখ দিয়ে আনন্দের পানি গড়িয়ে পড়ল।

নওশিন: ধন্যবাদ, ডাক্তার।

হাসপাতালের কেবিন

সকাল সাতটা।

জিহাদের জ্ঞান ফিরেছে। চোখ খুলেই সে প্রথমে নওশিনকে খুঁজল।

জিহাদ: নওশিন কোথায়?

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওভি হেসে বলল,

ওভি: নিজের জীবনটা আগে বাঁচা, তারপর প্রেমিকার খোঁজ করিস।

জিহাদ: বেশি কথা বলিস না। নওশিন কোথায়?

ঠিক তখনই নওশিন কেবিনে ঢুকল।

জিহাদকে চোখ খোলা অবস্থায় দেখে সে দৌড়ে কাছে গেল।

নওশিন: জিহাদ!

জিহাদ দুর্বলভাবে হাসল।

জিহাদ: এই যে, আমার কান্নাকাটি করা মেয়েটা!

নওশিন: আপনি একদম কথা বলবেন না। জানেন কত ভয় পেয়েছিলাম?

জিহাদ: আরে, তোমাকে একা রেখে কোথাও যাচ্ছি না।

নওশিন চোখের পানি মুছে বলল,

নওশিন: আমাকে আর কখনো এভাবে ভয় দেখাবেন না।

জিহাদ: আচ্ছা, কথা দিলাম।

কিছুক্ষণ পর নওশিনের ফোনে একটি কল এলো।

অপরিচিত নম্বর।

নওশিন: হ্যালো?

অপর পাশ থেকে ভারী কণ্ঠ শোনা গেল।

অচেনা লোক: তোমার বাবাকে দেখতে চাও?

নওশিন চমকে উঠল।

নওশিন: কে আপনি? আমার বাবাকে কোথায় রেখেছেন?

লোকটি হেসে বলল,

অচেনা লোক: তোমার বাবাকে বাঁচাতে চাইলে আজ রাত দশটায় পুরোনো ব্রিজের কাছে আসবে। তবে কাউকে সঙ্গে আনবে না।

নওশিন: আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না!

লোকটি: বিশ্বাস না করলে তোমার বাবার মুখ আর দেখতে পাবে না।

কল কেটে গেল।

নওশিন ভয়ে কাঁপতে লাগল।

জিহাদ: কে ফোন করেছিল?

নওশিন: ওরা বাবাকে আটকে রেখেছে। আজ রাতে আমাকে যেতে বলেছে।

জিহাদ: তুমি একা যাবে না।

নওশিন: কিন্তু ওরা বলেছে কাউকে সঙ্গে নেওয়া যাবে না।

জিহাদ: ওরা যা বলবে, তুমি কি তাই করবে? আমি থাকতে তোমার কিছু হতে দেব না।

ওভির গোপন সত্য

বিকেল চারটা।

ওভি হাসপাতালের ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠ ভেসে এলো।

মেহের: কেমন আছ, ওভি?

ওভি চমকে পেছনে তাকাল।

ওভি: তুমি! তুমি তো মারা গিয়েছিলে!

মেহের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল,

মেহের: সবাই যা জানে, সব সত্যি হয় না।

ওভি: তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে?

মেহের: যে সত্যিটা তোমরা খুঁজছ, সেটা তোমাদের ধারণার চেয়েও ভয়ংকর।

ওভি: নওশিনের সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক?

মেহের কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে বলল,

মেহের: নওশিন শুধু নওশিন নয়। ওর পরিচয়ের পেছনে এমন একটা সত্য লুকিয়ে আছে, যা জানলে জিহাদ নিজেকেই ক্ষমা করতে পারবে না।

ওভি: পরিষ্কার করে বলো!

মেহের: নওশিনের জন্মের সময় যে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক আছে।

ওভি স্তব্ধ হয়ে গেল।

মেহের: আর সবচেয়ে বড় কথা, নওশিনের বাবা জানেন সেই রাতে আসলে কী হয়েছিল।

ওভি: তুমি এতদিন কোথায় ছিলে? আর এখন ফিরে এসেছ কেন?

মেহের: প্রতিশোধ নিতে!

ওভি: কার ওপর প্রতিশোধ?

মেহের মুচকি হেসে বলল,

মেহের: যে আমার জীবন নষ্ট করেছে, তাকে আমি ছাড়ব না।

রাত দশটা — পুরোনো ব্রিজ

নওশিন চুপিচুপি ব্রিজের কাছে পৌঁছাল।

চারদিকে অন্ধকার। দূরে একটি কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।

গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে এল।

নওশিন: আমার বাবা কোথায়?

লোকটি: এত তাড়া কিসের? আগে তোমাকে একটা জিনিস দেখাই।

সে পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করল।

ছবিতে একটি হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নওশিনের বাবা। তাঁর কোলে একটি নবজাতক শিশু। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আরেকজন মহিলা।

ছবিটা দেখে নওশিনের চোখ বড় হয়ে গেল।

নওশিন: এই মহিলা কে?

লোকটি মুচকি হেসে বলল,

লোকটি: তোমার জন্মদাত্রী মা।

নওশিনের পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল।

নওশিন: অসম্ভব! আমার মা তো ছোটবেলায় মারা গেছেন!

লোকটি: তোমাকে যা বলা হয়েছে, সব মিথ্যা।

নওশিন: আপনি মিথ্যা বলছেন! আমার বাবা আমাকে কখনো মিথ্যা বলেননি!

লোকটি: তাহলে তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো। তিনি কেন তোমার মায়ের আসল পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন?

ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত একটি কণ্ঠ শোনা গেল।

জিহাদ: নওশিন, ওর কোনো কথা বিশ্বাস করো না!

নওশিন পেছনে তাকিয়ে দেখল, জিহাদ দাঁড়িয়ে আছে।

নওশিন: তুমি এখানে কীভাবে এলে? তোমার তো হাসপাতালে থাকার কথা!

জিহাদ এগিয়ে এসে বলল,

জিহাদ: তোমাকে একা ছেড়ে দেওয়ার মতো বোকা আমি নই।

ঠিক তখনই লোকটি বন্দুক বের করল।

লোকটি: অনেক হয়েছে! আজ সব শেষ হবে।

একটি গুলির শব্দ হলো।

নওশিন চিৎকার করে উঠল,

নওশিন: জিহাদ!

জিহাদ মাটিতে পড়ে গেল।

নওশিন দৌড়ে গিয়ে জিহাদের মাথা নিজের কোলে তুলে নিল।

নওশিন: জিহাদ! চোখ খোলো! প্লিজ, আমার দিকে তাকাও!

জিহাদ কষ্ট করে চোখ খুলল।

জিহাদ: তোমাকে... বলেছিলাম না... একা কোথাও যেতে না?

নওশিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,

নওশিন: তুমি চুপ করো! তোমার কিছু হতে দেব না আমি!

আর ঠিক সেই মুহূর্তে কালো গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন নওশিনের বাবা!

নওশিন হতবাককিয়ে রইল।

নওশিন: বাবা! তুমি এখানে?

বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

বাবা: নওশিন, জিহাদকে বাঁচাও! কারণ তোমার জন্মের সত্য জানলে ও তোমাকে আর কখনো নিজের জীবনে রাখতে পারবে না!

নওশিনের চোখে পানি জমে উঠল।

নওশিন: বাবা, তুমি কী বলছ? আমার জন্মের সঙ্গে জিহাদের কী সম্পর্ক?

বাবা কাঁপা গলায় বললেন,

বাবা: জিহাদ তোমার জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে আছে, যেটা তুমি কোনোদিন কল্পনাও করোনি!

নওশিন: বাবা, সব খুলে বলো!

বাবা: তোমার জন্মের দিন হাসপাতালে দুটো শিশুর জন্ম হয়েছিল। একজন তুমি, আরেকজন...

ঠিক তখনই পেছন থেকে মেহেরের কণ্ঠ শোনা গেল।

মেহের: আরেকজন ছিলাম আমি!

সবাই পেছনে তাকাল।

মেহের বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

মেহের: এতদিনের লুকানো সত্য আজ প্রকাশ পাবে। নওশিন, তুমি যার জন্য নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত, সে-ই তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য!

জিহাদ অবাক হয়ে মেহেরের দিকে তাকাল।

জিহাদ: মেহের! তুমি বেঁচে আছ?

মেহের হেসে বলল,

মেহের: হ্যাঁ, জিহাদ। আর এবার আমি সব হিসাব চুকিয়ে নিতে এসেছি।

চলবে...

পর্ব ৮— মেহের ও নওশিনের জন্মের রহস্য! জিহাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য কি তাদের ভালোবাসা শেষ করে দেবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন