ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর কারণে বেঁচে আছি

পর্ব 8

লেখক: সাদিয়া ইমু

🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤
পর্ব –🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤

পর্ব – ৮

মেহেরের ভয়ংকর সত্য! নওশিনের জন্মরহস্য ও জিহাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা!

রাত তখন প্রায় এগারোটা।

পুরোনো ব্রিজের নিচে চারদিকে অন্ধকার। নওশিনের চোখে পানি, জিহাদ মাটিতে পড়ে আছে। তার কাঁধ থেকে আবারও রক্ত ঝরছে।

সামনে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে মেহের।

মেহের: কী হলো জিহাদ? আমাকে দেখে এত অবাক হচ্ছ কেন? ভেবেছিলে আমি মরে গেছি?

জিহাদ কষ্ট করে উঠে বসার চেষ্টা করল।

জিহাদ: মেহের, তুমি এসব কী করছ? নওশিনকে এর মধ্যে টানছ কেন?

মেহের হেসে বলল,

মেহের: কারণ নওশিনের জীবনটাই আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

নওশিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,

নওশিন: আপনি আমার কাছে কী চান? আমার বাবাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? আর আমার জন্মের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক?

মেহের: এত প্রশ্ন! উত্তর পেতে চাইলে তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো।

নওশিন বাবার দিকে তাকাল।

নওশিন: বাবা, তুমি সব জানো? আমাকে বলো, আমার মা কে? আমার জন্মের সময় কী হয়েছিল?

নওশিনের বাবা মাথা নিচু করে ফেললেন।

বাবা: নওশিন, তোমাকে একটা সত্য বলার সময় এসেছে। তোমার জন্মের দিন হাসপাতালে তোমার মায়ের সঙ্গে আরও একজন মহিলা ভর্তি ছিলেন। তাঁর নাম ছিল মাহিরা। তাঁরও একটি মেয়ে হয়েছিল।

নওশিন: তারপর?

বাবা: সেই রাতেই হাসপাতালে আগুন লাগে। সবাই ছোটাছুটি করছিল। সেই সুযোগে দুটি শিশুকে নিয়ে ভয়ংকর ঘটনা ঘটানো হয়।

মেহের চিৎকার করে বলল,

মেহের: মিথ্যা! পুরো সত্যটা বলো!

বাবা কাঁপা গলায় বললেন,

বাবা: হাসপাতালের একজন নার্স ভুল করে দুই শিশুর পরিচয় বদলে দিয়েছিল। তারপর থেকে অনেক বছর ধরে সবাই ভুল পরিচয় নিয়েই বড় হয়েছে।

নওশিন হতভম্ব হয়ে গেল।

নওশিন: তাহলে আমি আসলে কে?

মেহের: সেই উত্তরটাই তো আমি এতদিন ধরে খুঁজছি।

ঠিক তখনই দূর থেকে পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনা গেল।

মেহের চারদিকে তাকিয়ে দ্রুত পেছাতে লাগল।

মেহের: আজ তোমাদের ছেড়ে দিলাম। কিন্তু মনে রেখো, এই গল্প এখানেই শেষ নয়।

সে অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে গেল।

জিহাদ আবার দুর্বল হয়ে পড়ল।

নওশিন: জিহাদ! চোখ খোলো!

জিহাদ: আমি ঠিক আছি... তুমি ভয় পেয়ো না।

নওশিন: আর একটা কথা বলবে না। তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

---

হাসপাতালে — রাত একটা

জিহাদকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ডাক্তার জানালেন, গুলির ক্ষত গুরুতর হলেও আপাতত সে স্থিতিশীল।

নওশিন কেবিনের পাশে বসে জিহাদের হাত ধরে আছে।

নওশিন: তুমি কেন বারবার আমার জন্য নিজের জীবন বিপদে ফেলো?

জিহাদ চোখ খুলে মৃদু হাসল।

জিহাদ: কারণ তোমাকে হারানোর ভয় আমার নিজের মৃত্যুর ভয় থেকেও বেশি।

নওশিন: আমি তোমাকে হারাতে চাই না, জিহাদ।

জিহাদ: তাহলে একটা কথা দাও।

নওশিন: কী?

জিহাদ: যত বড় বিপদই আসুক, আমার ওপর বিশ্বাস হারাবে না।

নওশিন চোখের পানি মুছে বলল,

নওশিন: কথা দিলাম।

জিহাদ: আর শোনো, তোমার বাবাকে আমরা খুঁজে বের করব। মেহেরের সব রহস্যও জানব।

নওশিন: কিন্তু তোমার কিছু হলে?

জিহাদ: তোমার কারণে বেঁচে আছি, নওশিন। তোমার জন্যই বাঁচতে চাই।

নওশিন জিহাদের হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।

---

অন্যদিকে — ইমু ও ওভি

হাসপাতালের ছাদে দাঁড়িয়ে আছে ইমু ও ওভি।

ইমু রাগী চোখে ওভির দিকে তাকিয়ে বলল,

ইমু: তুমি আমাকে একটা কথাও জানাওনি কেন?

ওভি: কোন কথাটা?

ইমু: মেহের বেঁচে আছে, এটা তুমি আগে থেকেই জানতে?

ওভি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

ইমু: ওভি, আমি তোমার কাছ থেকে কিছু লুকাতে চাই না। তাহলে তুমি আমার কাছ থেকে কেন লুকাও?

ওভি: কারণ তোমাকে বিপদের মধ্যে ফেলতে চাইনি।

ইমু: আর তুমি যদি বিপদে পড়ো, তখন আমার কী হবে সেটা ভেবেছ?

ওভি ইমুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

ওভি: তুমি কি সত্যিই আমাকে নিয়ে এতটা ভাবো?

ইমু চোখ নামিয়ে বলল,

ইমু: হ্যাঁ, ভাবি। অনেক বেশি ভাবি।

ওভি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইমুর হাত ধরল।

ওভি: তাহলে আজ একটা কথা বলি। তোমাকে আমি শুধু বন্ধু ভাবি না, ইমু।

ইমু অবাক হয়ে তাকাল।

ইমু: তাহলে কী ভাবো?

ওভি: আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

ইমুর চোখে পানি চলে এল।

ইমু: আগে সব বিপদ শেষ হোক। তারপর তোমার কথার উত্তর দেব।

ওভি মুচকি হেসে বলল,

ওভি: আমি অপেক্ষা করব।

---

পরদিন সকাল — একটি অচেনা বাড়ি

একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে মেহের।

তার সামনে টেবিলে রাখা একটি পুরোনো ফাইল। ফাইলের ওপরে লেখা—

নওশিন — জন্মসংক্রান্ত তথ্য।

মেহের ফাইল খুলে একটি ছবি বের করল।

ছবিতে নওশিনের মা, নওশিনের বাবা এবং আরও একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে।

মেহের ছবির পুরুষটির মুখে হাত বুলিয়ে বলল,

মেহের: তুমি ভেবেছিলে সব সত্য চিরদিন লুকিয়ে রাখতে পারবে? এবার তোমার মেয়েই সব জানতে পারবে।

ঠিক তখনই ঘরের দরজা খুলে গেল।

একজন লোক ভেতরে ঢুকে বলল,

লোকটি: ম্যাডাম, কাজ হয়ে গেছে।

মেহের: কোন কাজ?

লোকটি: জিহাদের বাবাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

মেহেরের ঠোঁটে ভয়ংকর হাসি ফুটে উঠল।

মেহের: তাহলে এবার আসল খেলা শুরু হবে।

---

হাসপাতাল — সকাল দশটা

নওশিনের ফোনে একটি মেসেজ এল।

অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো।

"তোমার বাবাকে খুঁজছ? তাহলে তোমার মায়ের কবরের কাছে যাও। সেখানে এমন একজনের দেখা পাবে, যাকে তুমি মৃত ভেবেছিলে।"

নওশিন মেসেজটা পড়ে থমকে গেল।

ঠিক তখনই জিহাদ জিজ্ঞেস করল,

জিহাদ: কী হয়েছে?

নওশিন: জিহাদ, কেউ আমাকে মায়ের কবরের কাছে যেতে বলেছে।

জিহাদ: তুমি একা যাবে না। আমিও যাব।

নওশিন: কিন্তু তোমার শরীরের এই অবস্থা!

জিহাদ: তোমার সঙ্গে থাকার জন্য এতটুকু কষ্ট আমি সহ্য করতে পারব।

ঠিক তখনই ওভি দৌড়ে কেবিনে ঢুকল।

ওভি: জিহাদ! একটা ভয়ংকর খবর আছে!

জিহাদ: কী হয়েছে?

ওভি: মেহের শুধু নওশিনের জন্মরহস্য জানে না। সে তোমার পরিবারের অতীতও জানে।

জিহাদ: পরিষ্কার করে বল।

ওভি ফোনে একটি ছবি দেখাল।

ছবিতে জিহাদের বাবা এবং মেহের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।

ছবির পেছনে লেখা—

"এই দুই পরিবারের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সেই রাত থেকে, যেদিন নওশিন জন্মেছিল।"

জিহাদ ছবিটা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল।

জিহাদ: এটা কীভাবে সম্ভব?

ঠিক তখনই নওশিনের ফোনে আরেকটি মেসেজ এল।

"নওশিন, তোমার মা মারা যাননি। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। আর তিনি তোমার কাছ থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ—জিহাদের পরিবার!"

নওশিনের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল।

নওশিন কাঁপা গলায় বলল,

নওশিন: জিহাদ... আমার মা যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে এত বছর কোথায় ছিলেন?

জিহাদ নওশিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

কেউ কোনো উত্তর দিতে পারল না।

আর হাসপাতালের বাইরে কালো গাড়িতে বসে থাকা এক নারী জানালার কাঁচ নামিয়ে মৃদু হাসলেন।

নারীটি ফোনে বললেন,

"মেয়েটাকে আর লুকিয়ে রাখা যাবে না। এবার মায়ের সঙ্গে মেয়ের দেখা হবেই।"

চলবে...

পর্ব ৯ — নওশিনের মায়ের প্রত্যাবর্তন! জিহাদের বাবার সঙ্গে কী সম্পর্ক? ভালোবাসা নাকি রক্তের সম্পর্ক—কোন সত্য বদলে দেবে তাদের জীবন? 🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন