ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর কারণে বেঁচে আছি

পর্ব 9

লেখক: সাদিয়া ইমু

🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤

পর্ব – ৯

মায়ের প্রত্যাবর্তন! নওশিনের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য এবং জিহাদের পরিবারের অন্ধকার অতীত!

সকাল ১০টা।

হাসপাতালের কেবিনে বসে আছে নওশিন। হাতে ধরা ফোনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। কিছুক্ষণ আগেই পাওয়া মেসেজটা তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

"নওশিন, তোমার মা মারা যাননি। তিনি এখনো বেঁচে আছেন।"

নওশিনের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।

নওশিন: জিহাদ, আমার মা যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে এত বছর আমার কাছ থেকে দূরে ছিলেন কেন?

জিহাদ নওশিনের হাত ধরে বলল,

জিহাদ: সব প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজে বের করব। তুমি শুধু ভেঙে পড়ো না।

নওশিন: জানো, ছোটবেলা থেকে কতবার মাকে খুঁজেছি? কতবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছি, মা কোথায়? বাবা শুধু বলেছে, মা আর নেই।

জিহাদ: এবার তোমার মা নিজেই তোমার কাছে ফিরে আসবেন।

নওশিন: যদি উনি আমাকে চিনতেই না পারেন?

জিহাদ মৃদু হেসে বলল,

জিহাদ: মায়ের কাছে সন্তান কখনো অপরিচিত হয় না।

নওশিন জিহাদের কাঁধে মাথা রাখল।

---

অন্যদিকে — ইমু ও ওভি

কলেজের সামনে একটি বেঞ্চে বসে আছে ইমু ও ওভি।

ইমু: আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

ওভি: জিজ্ঞেস করো, ম্যাডাম।

ইমু: তুমি কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো?

ওভি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

ওভি: তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই তোমার প্রতি আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করত। কিন্তু কখনো সাহস করে বলতে পারিনি।

ইমু: তাহলে এতদিন বলোনি কেন?

ওভি: ভয় ছিল, যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি।

ইমু মুচকি হেসে বলল,

ইমু: বোকা একটা!

ওভি: কেন?

ইমু: ভালোবাসলে হারানোর ভয় নিয়ে বসে থাকতে নেই।

ওভি অবাক হয়ে তাকাল।

ওভি: তার মানে?

ইমু লজ্জা পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলল,

ইমু: তার মানে, আমিও তোমাকে ভালোবাসি।

ওভি আনন্দে ইমুর হাত ধরে ফেলল।

ওভি: সত্যি বলছ?

ইমু: হ্যাঁ, তবে একটা শর্ত আছে।

ওভি: কী শর্ত?

ইমু: নওশিন আর জিহাদের সব বিপদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোনো বোকামি করবে না।

ওভি হেসে বলল,

ওভি: কথা দিলাম।

---

দুপুর — নওশিনের মায়ের সন্ধানে

জিহাদ এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তবুও নওশিনের সঙ্গে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছে।

নওশিন: তোমার শরীরের অবস্থা দেখেছ? তুমি কোথাও যাবে না।

জিহাদ: তোমাকে একা যেতে দিতে পারব না।

নওশিন: তাহলে ওভি আর ইমু আমাদের সঙ্গে যাবে।

ওভি: আমি তো আগে থেকেই প্রস্তুত।

ইমু: তোমরা দুজন কথা কম বলে গাড়িতে ওঠো।

চারজন গাড়িতে করে রওনা দিল।

ফোনে পাওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তারা শহরের বাইরে একটি পুরোনো বাড়ির সামনে এসে থামল।

বাড়িটা বেশ বড়, কিন্তু চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা।

নওশিন ধীরে ধীরে গেট খুলে ভেতরে ঢুকল।

দরজার সামনে দাঁড়াতেই ভেতর থেকে একজন নারীর কণ্ঠ শোনা গেল।

নারী: কে?

নওশিন কাঁপা গলায় বলল,

নওশিন: আমি... আমি নওশিন।

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীকে দেখে নওশিনের চোখ বড় হয়ে গেল।

নারীটির চোখে পানি।

নারী: নওশিন!

নওশিন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,

নওশিন: মা?

নারীটি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দৌড়ে এসে নওশিনকে জড়িয়ে ধরলেন।

মা: আমার মেয়ে! আমার বুকের ধন! এত বছর পর তোকে ফিরে পেলাম!

নওশিন মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগল।

নওশিন: মা, তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গিয়েছিলে? আমি কত খুঁজেছি তোমাকে!

মা: আমাকে ক্ষমা করে দে, মা। আমি ইচ্ছা করে তোকে ছেড়ে যাইনি।

নওশিন: তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে?

মা চোখের পানি মুছে বললেন,

মা: তোর জীবন বাঁচানোর জন্য আমাকে দূরে থাকতে হয়েছিল।

নওশিন: আমার জীবন বাঁচানোর জন্য?

মা: হ্যাঁ। কারণ তোর জন্মের পর থেকেই কিছু মানুষ তোকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।

সবাই অবাক হয়ে গেল।

---

ভয়ংকর সত্যের শুরু

জিহাদ সামনে এগিয়ে এসে বলল,

জিহাদ: আন্টি, আপনি কি জানেন মেহের কেন নওশিনের পেছনে লেগেছে?

মা জিহাদের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চমকে উঠলেন।

মা: তুমি জিহাদ?

জিহাদ: জি।

মায়ের মুখের রং বদলে গেল।

মা: তুমি এখানে কেন এসেছ?

জিহাদ অবাক হয়ে বলল,

জিহাদ: নওশিনকে নিয়ে এসেছি। কোনো সমস্যা হয়েছে?

মা: তোমাকে নওশিনের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।

নওশিন: মা! তুমি এসব কী বলছ? জিহাদ আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ।

মা: তুই বুঝতে পারছিস না, মা। জিহাদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের অনেক পুরোনো শত্রুতা আছে।

জিহাদ: আমার বাবা কী করেছেন?

মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

মা: তোমার বাবা আর আমার স্বামী একসময় খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। কিন্তু একটি শিশুর জন্মের রাতে তাঁদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছিল, যার কারণে আমাদের দুটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

নওশিন: মা, সেই শিশুটি কে?

মা: সেই শিশুটি তুই, নওশিন।

নওশিন স্তব্ধ হয়ে গেল।

নওশিন: আমি?

মা: হ্যাঁ। তোর জন্মের পর হাসপাতালে তোর পরিচয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর সেই ঘটনার পেছনে ছিল মেহেরের বাবা।

জিহাদ: কিন্তু মেহেরের বাবা কেন এমন করবেন?

মা: কারণ তিনি চাইতেন দুই পরিবারের সম্পত্তি ও ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে।

ওভি এবার বলে উঠল,

ওভি: তাহলে মেহের এতদিন পর ফিরে এসে কী চায়?

মা: প্রতিশোধ। সে মনে করে, তার পরিবারের ধ্বংসের জন্য নওশিন দায়ী।

---

সন্ধ্যা — নতুন বিপদ

সবাই যখন ঘরের ভেতরে বসে কথা বলছিল, তখন হঠাৎ বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেল।

ইমু: এ কী! লাইট চলে গেল কেন?

ওভি: সবাই চুপ থাকো।

হঠাৎ ওপরতলা থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো।

জিহাদ: ওভি, তুমি নওশিনদের কাছে থাকো। আমি দেখে আসছি।

নওশিন: না, তুমি একা যাবে না।

জিহাদ: ভয় পেয়ো না। আমি আছি।

জিহাদ ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। ওভিও তার পেছনে গেল।

কিছুক্ষণ পর ওপরতলা থেকে জিহাদের চিৎকার শোনা গেল।

জিহাদ: ওভি! সাবধান!

নওশিন আর ইমু দৌড়ে ওপরে গেল।

ঘরে ঢুকতেই তারা দেখল, মেঝেতে একটি পুরোনো বাক্স পড়ে আছে। বাক্সের পাশে একটি রক্তমাখা ছুরি।

আর দেয়ালে লাল রঙে লেখা—

"নওশিন, তোমার মায়ের কাছে যে সত্য জানতে এসেছ, সেই সত্যই তোমার ভালোবাসাকে শেষ করে দেবে!"

নওশিন ভয়ে মায়ের দিকে তাকাল।

মা কাঁপতে কাঁপতে বাক্সটা খুললেন।

ভেতরে একটি পুরোনো ডায়েরি, কয়েকটি ছবি এবং একটি হাসপাতালের রিপোর্ট।

মা ডায়েরিটা হাতে নিয়ে বললেন,

মা: এই ডায়েরিতে সেই রাতের সব ঘটনা লেখা আছে।

নওশিন: মা, খুলে দেখো!

মা ডায়েরির প্রথম পাতা খুলতেই একটি নাম দেখে চমকে উঠলেন।

সেখানে লেখা—

"জিহাদের বাবা — আসল অপরাধী!"

জিহাদ ডায়েরিটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে গেল।

জিহাদ: অসম্ভব! আমার বাবা কখনো এমন কাজ করতে পারেন না!

ঠিক তখনই জিহাদের ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে লেখা— বাবা কলিং।

জিহাদ ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তার বাবার কণ্ঠ ভেসে এলো।

বাবা: জিহাদ, তুমি যেখানে আছ সেখান থেকে এখনই চলে এসো।

জিহাদ: কেন বাবা?

বাবা: কারণ নওশিনের মা তোমাকে যা বলছে, তার অর্ধেকও সত্যি নয়।

জিহাদ: তাহলে সত্যিটা কী?

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর তার বাবা বললেন,

"কারণ নওশিনের জন্মের রাতেই তোমার নিজের জীবনও বদলে গিয়েছিল। আর সেই সত্য জানলে তুমি কখনো নওশিনের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে না!"

জিহাদ স্তব্ধ হয়ে গেল।

অন্যদিকে জানালার বাইরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল মেহের।

তার হাতে একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে ছোট্ট নওশিনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট জিহাদ।

মেহের মুচকি হেসে বলল,

"এবার দেখব, ভালোবাসা জেতে নাকি অতীতের অভিশাপ!"

চলবে... 🖤

পর্ব ১০ — জিহাদের বাবার ভয়ংকর স্বীকারোক্তি! নওশিন ও জিহাদের সম্পর্কের আসল সত্য কী? মেহের কি এবার তাদের আলাদা করতে পারবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন