ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর কারণে বেঁচে আছি

পর্ব 15

লেখক: সাদিয়া ইমু

ধরন: রোমান্টিক থ্রিলার, রহস্য, বন্ধুত্ব ও আবেগ
পর্ব ১৫ — মধ্যরাতের কবরস্থান ও জিহাদের বাবার ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন!
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা।
হাসপাতালের কেবিনে আরমান হোসেনের জ্ঞান ফিরেছে। নওশিন বাবার হাত শক্ত করে ধরে বসে আছে। পাশে ইমু দাঁড়িয়ে, আর ওভি বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে।
হঠাৎ জিহাদের ফোনে আবার মেসেজ এলো।
অজানা নম্বর:
“সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, জিহাদ। রাত বারোটার আগে পুরোনো কবরস্থানে না এলে তোমার মাকে আর জীবিত পাবে না।”
জিহাদ ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরল।
নওশিন: তুমি একা কোথাও যাবে না, জিহাদ।
জিহাদ: নওশিন, এটা আমার মায়ের ব্যাপার। আমি তাঁকে হারাতে পারব না।
নওশিন: আর তোমাকে হারানোর ভয়টা কি আমার নেই?
জিহাদ কিছুক্ষণ চুপ করে নওশিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
জিহাদ: তুমি আমার সঙ্গে যাবে না। জায়গাটা নিরাপদ নয়।
নওশিন: বিপদ শুধু তোমার একার নয়। এতদিন আমরা একসঙ্গে লড়েছি, এবারও একসঙ্গে লড়ব।
ইমু: আমিও যাব। তোমাদের দুজনকে একা ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
ওভি: তাহলে আমিও যাচ্ছি। এত রহস্যের শেষটা এবার আমাকেও জানতে হবে।
আরমান দুর্বল কণ্ঠে বলে উঠলেন—
আরমান: তোমরা কেউ বুঝতে পারছ না, ওরা তোমাদের সেখানে নিয়ে যেতে চায়। এটা একটা ফাঁদ!
নওশিন: বাবা, তুমি জানো কারা এসব করছে?
আরমান চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
আরমান: জানি না পুরো সত্যিটা। তবে একটা কথা মনে রেখো, জিহাদের বাবাকে মৃত বলা হলেও তিনি কখনো মারা যাননি। আর তাঁর ফিরে আসার পেছনে এমন একজন আছে, যাকে তোমরা সবাই বিশ্বাস করো।
সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।
---
রাত ১১টা ৫৫ মিনিট।
পুরোনো কবরস্থান। চারদিকে অন্ধকার, ঠান্ডা বাতাস আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। দূরে একটা পুরোনো কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে জিহাদ।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
“অনেক বড় হয়ে গেছিস, জিহাদ!”
জিহাদ দ্রুত পেছনে ফিরে তাকাল।
একজন মধ্যবয়সী লোক কালো কোট পরে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে বয়সের ছাপ, কিন্তু চোখ দুটো পরিচিত।
জিহাদ অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল।
জিহাদ: বাবা!
লোকটি মৃদু হাসল।
জিহাদের বাবা: হ্যাঁ, আমি ফিরে এসেছি।
জিহাদ দৌড়ে বাবার কাছে যেতে চাইলে লোকটি হাত তুলে থামিয়ে দিল।
জিহাদের বাবা: কাছে আসিস না। আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দে। তুই কি জানতে পেরেছিস, তোর জন্মের রাতের আসল ঘটনা?
জিহাদ: আপনি কোথায় ছিলেন এতদিন? মা কেঁদে কেঁদে শেষ হয়ে গেছেন! সবাই বলেছে আপনি মারা গেছেন!
জিহাদের বাবা: সবকিছুর পেছনে একটা কারণ ছিল।
ঠিক তখনই নওশিন, ইমু আর ওভি সেখানে এসে পৌঁছাল।
নওশিন: আপনি বেঁচে আছেন, অথচ এতদিন সবাইকে অন্ধকারে রেখেছিলেন কেন?
জিহাদের বাবা নওশিনের দিকে তাকিয়ে থমকে গেলেন।
জিহাদের বাবা: তুমি এখানে কেন এসেছ?
নওশিন: সত্যিটা জানার জন্য।
লোকটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
জিহাদের বাবা: তাহলে শোনো। তোমাদের জন্মের রাতে শুধু দুটি শিশুর পরিচয় বদলানো হয়নি। সেই রাতে এমন একটি কাজ হয়েছিল, যার সত্যি প্রকাশ পেলে অনেক সম্মানিত মানুষের মুখোশ খুলে যাবে।
ওভি: আমার জন্মের সত্যিটা কী?
জিহাদের বাবা এবার ওভির দিকে তাকালেন।
জিহাদের বাবা: তোমার পরিচয় নিয়ে তোমাকে এতদিন মিথ্যা বলা হয়েছে। কিন্তু তোমার জন্মদাতা কে, সেটা জানার আগে তোমাকে একটা জিনিস দেখতে হবে।
তিনি কোটের ভেতর থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন।
ছবিতে তিনজন মানুষ—জিহাদের বাবা, রাশেদ খান এবং আরেকজন নারী।
নারীটিকে দেখে ইমু চমকে উঠল।
ইমু: এ তো...!
নওশিন: তুমি চেনো তাঁকে?
ইমু কাঁপা কণ্ঠে বলল—
ইমু: এই নারীকে আমি আগে দেখেছি। উনি আমাদের কলেজে একদিন এসেছিলেন। নওশিনের খোঁজ করছিলেন।
জিহাদের বাবা: ঠিক ধরেছ। এই নারীই সবকিছুর মূল সাক্ষী।
নওশিন: উনি কে?
জিহাদের বাবা উত্তর দেওয়ার আগেই চারদিকে গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল।
সবাই মাটিতে ঝুঁকে পড়ল।
জিহাদ: সবাই নিচু হও!
একটা গুলি এসে জিহাদের বাবার কাঁধে লাগল। তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন।
নওশিন চিৎকার করে উঠল—
নওশিন: জিহাদ! তোমার বাবা!
জিহাদ বাবাকে ধরে বসে পড়ল।
জিহাদ: বাবা, চোখ খুলুন! আপনার কিছু হবে না!
জিহাদের বাবা কষ্ট করে চোখ খুললেন।
জিহাদের বাবা: জিহাদ... সাবধানে... তোমাদের মধ্যে একজন...
কথাটা শেষ করার আগেই তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন।
ওভি দ্রুত চারপাশে তাকিয়ে বলল—
ওভি: যে গুলি করেছে, সে এখনো আশেপাশেই আছে!
ইমু: ওইদিকে কেউ দৌড়ে যাচ্ছে!
জিহাদ দৌড়ে অন্ধকারের দিকে ছুটে গেল। কিন্তু কাউকে খুঁজে পেল না। শুধু মাটিতে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন দেখতে পেল।
ফোনের স্ক্রিনে একটা ছবি খোলা।
ছবিতে নওশিন, ইমু, জিহাদ ও ওভি—চারজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।
ছবির নিচে লেখা—
“চারজনের মধ্যে একজনই আসল বিশ্বাসঘাতক। আর সেই বিশ্বাসঘাতককে তোমরা নিজেরাই ভালোবাসো।”
জিহাদের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
---
অন্যদিকে হাসপাতালে আরমানের কেবিনে একজন নারী প্রবেশ করল।
নারীটি ধীরে ধীরে আরমানের বিছানার কাছে এসে দাঁড়াল।
আরমান চোখ খুলে তাঁকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন।
আরমান: তুমি! এতদিন পর এখানে কেন?
নারীটি মৃদু হেসে বলল—
“কারণ খেলা শেষ করার সময় হয়ে গেছে, আরমান।”
আরমান: নওশিনের কাছ থেকে দূরে থাকো!
নারীটি ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো কাগজ বের করে আরমানের সামনে ধরল।
নারী: এই কাগজটা যদি নওশিন দেখে ফেলে, তাহলে সে আর কখনো তোমাকে বাবা বলে ডাকবে না।
আরমানের চোখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।
ঠিক তখনই নারীর ফোন বেজে উঠল।
ফোনের ওপাশ থেকে একজন বলল—
“ম্যাডাম, জিহাদের বাবাকে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো বেঁচে আছেন।”
নারীটি ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল—
“তাহলে এবার দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুরু করো।”
ফোন রেখে সে আরমানের দিকে তাকাল।
নারী: এবার নওশিনের পালা।
চলবে...
পর্ব ১৬-তে:
- জিহাদের বাবা কি বেঁচে যাবেন?
- ছবির সেই রহস্যময় নারী কে?
- চার বন্ধুর মধ্যে বিশ্বাসঘাতক কে?
- আরমানের কাছে থাকা কাগজে কী লেখা?
- নওশিন কি জানতে পারবে তার জন্মের রাতের সম্পূর্ণ সত্য?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 15 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন