ফন্ট সাইজ:
থিম:
বনজোছনা

পর্ব 3

লেখক: বিনতে ফিরোজ

#বনজোছনা
৩.
আকরাম খান ইদানীং ভীষন ব্যস্ত থাকেন। তার সাথে দুটো কথা বলার সময় বের করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু কাজটা করতেই হতো সাকিনকে। আগামী দুটো দিন তার ছুটি চাই।

প্রতিদিন সকাল ছয়টার সময় আকরাম খান এক গ্লাস অ্যালোভেরার জুস খান। খাওয়া শেষে বাইরে হাঁটতে বের হন। এ সময়টুকু তিনি কারো সাথে কথা বলতে পছন্দ করেন না। বিশেষ প্রয়োজন না তখন হলে পাপিয়া বেগমকেও এড়িয়ে চলেন। এ নিয়ে ভদ্রমহিলার অভিযোগের শেষ নেই। আকরাম খান বেরিয়ে যাবার পরপরই তিনি সে অভিযোগ পেশ করতে শুরু করেন। কার কাছে বলেন কে জানে!

ফজরের পর সাকিন বাইরেই ঘোরাঘুরি করল। ঘরে গেলেই নিঃশব্দ জেঁকে বসে। সেই নির্জনতায় ফজরী বাতাস দুচোখ ছাপিয়ে ঘুম নামায়। অথচ তখন ঘুমুলেই শরীরটা আলসেমির চাদরে ঢুকে পড়ে। তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দিনভর ব্যস্ত রাখতে তখন অসম্ভব বেগ পোহাতে হয়।

আকরাম খান কোনোদিকে না তাকিয়ে ছুটে চলেছেন। বড় বড় পা ফেলে তাকে ধীরে ফেলল সাকিন। ডাকল, “মামা!”
আকরাম ভুরু কুচকে তাকালেন। হাঁটা না থামিয়েই বললেন, “তুইও হাঁটতে বেরিয়েছিস নাকি? গুড, ভেরি গুড!”
সাকিন নিশ্বাস ছাড়ল। আকরাম খান সবসময় নিজের মতো করে ভেবে নিতেই বেশি পছন্দ করেন। ওপর পক্ষের যুক্তি-সাফাইয়ের প্রতি তার আগ্রহ কম।

খানিকটা হাঁটার পর সাকিন বলল, “মামা, একটা কথা ছিল।”
“বলে ফেল। তোকে কথা বলার জন্য কি আদালতের ডেট দিতে হবে নাকি?”
সাকিনের মাঝে কোনরকম ভাবাবেগ দেখা গেলো না। সে বলল, “দুটো দিনের জন্য ছুটি চাচ্ছিলাম। সাবিহা অনেকদিন ধরেই..” হাত উঠিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন আকরাম খান।
“বোনকে দেখতে যাবি যা, এত সাফাই দেয়ার কিছু নেই। এটার জন্য আমার কাছে পারমিশন নেয়ার কী আছে? নিজামের কাছে বললেই যথেষ্ট। টাকা-পয়সা আছে তো তোর কাছে?”
সাকিনের মুখে অস্বস্তি খেলে গেলো। সেটা খেয়াল করে আকরাম একটু উত্তেজিত হয়ে বললেন, “যখন যা লাগে দোকান থেকে নিয়ে নিবি। নাকি নিজাম কিছু বলে?”
“না, চাচা কিছু বলেন না।” তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল সাকিন। নিজাম আকরামের বহুদিনের বিশ্বস্ত লোক। তার নামে কোনো অভিযোগ করা মানে নিজের ছবিতে দাগ ফেলা। উপরন্তু তার অভিযোগের সপক্ষে যখন যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

আকরাম সন্তুষ্ট হলেন, “আচ্ছা পরের মাসের বেতনটা এখনই নিয়ে নে। কবে যাবি?”
“কালকে যেতে চাচ্ছি।”
“আচ্ছা যা। হাঁটতে যাবি আমার সাথে?”
“না, বাসায় যেয়ে একটু পড়ব।”
“সারাদিন তো পড়িস ওই আরণ্যক। শোন, লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়, অত্যধিক চিপলে বিষ হয়ে যায়। যা আরণ্যক পড়, যা।”

সাকিন বাড়ি ফেরত গেলো। এবং সত্যি সত্যিই আসল মলাটের নকল আরণ্যক পড়তে শুরু করল।

নিজাম বেশ হাসিখুশি ছিলেন। কিন্তু যখনই সাকিন বলল, “আগামী মাসের বেতনটা নিতে চাচ্ছিলাম চাচা।” তার মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো।
গম্ভীর কন্ঠে তিনি বললেন, “নতুন মাস আসতে আরও তিন দিন বাকি। চাইর দিনের দিন টাকা দেয়ার নিয়ম। নিয়ম ভাঙতে বলো?”
“আমার একটু দরকার ছিল। মামার সাথে কথা হয়েছে।”
নিজাম বিরক্ত ভঙ্গিতে বললেন, “থাকো খাও মামার বাড়ি। এত দরকার কীসের বুঝি না! শোনো, যুগ-জামানা কিন্তু ভালো না। খারাপ অভ্যাস বানাইও না।”
সাকিন অনড় ভঙ্গিতে বসে আছে। তার স্থির দৃষ্টি বিপরীতের হাসপাতালের গেটে। আকাশ-বাতাসের বিস্তীর্ণ নীরবতাকে নিষ্ঠুরভাবে চূর্ণ করে একটা অ্যাম্বুলেন্সের আবির্ভাব হলো। স্বজনদের আহাজারিকে পেছনে ফেলে আহত একটা দেহ প্রাণহীন স্ট্রেচারে তুলে দেয়া হলো প্রাণ ফিরে পাবার আশায়।

খটমট করতে করতে ড্রয়ার খুললেন নিজাম, “আকরাম ভাইয়ের কথা কী বলো? সে ফার্মেসির কিছু জানে? কয়টা ওষুধ আনছি, কোন কোম্পানি আসে, কাস্টমার কয়টা—কিছুই সে জানেনা। ফস করে টাকা দেন বললেই হয় না, বুচ্ছো? নেও ধরো।”

টাকাটা নিয়ে পকেটে ভরতে সাকিনের মেরুদণ্ডে চিলিক দিয়ে উঠল। মনে হলো ওটা আস্তে করে ঝিমিয়েই নির্জীব হয়ে গেলো।

সারাটাদিন বসে বসে কী সব হিসেব নিকেশ করল সে। যাবার সময় নিজাম গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “কয়দিনের ছুটি নিয়েছ?” সারাদিন তিনি গুম হয়ে ছিলেন। কথাবার্তা তেমন একটা বলেননি।
“দুইদিন।”
“দোকানের মালিক খাতা কলমে আকরাম ভাই হলেও কাজ-কাম কিন্তু আমিই করি। ছুটির কথাটা আমারে বললেও পারতা। আমি কি তোমার উপর অ-ত্যা-চার করি?”
সাকিন শান্ত কন্ঠে বলল, “মাফ করবেন চাচা। পরেরবার থেকে আপনাকে বলে যাব ইনশাআল্লাহ্।”
নিজামের চেহারায় এই এতক্ষণ একটু রোদের দেখা মিলল। তিনি প্রসন্ন কণ্ঠে বললেন, “যাও। দুইদিন বললে দুইদিনেই তো হয় না। বোনের বাড়ি যাবা বছরে একবার। ছুটি বেশি লাগলে থাইকো, সমস্যা নাই। কালকে যাওয়ার আগে একবার ঘুরে যাইও।”
“আচ্ছা।”

পরদিন গুছিয়ে বের হবার সময় পাপড়ি একটু কথা বলার চেষ্টা করেছিল। সাকিন একেবারেই পাত্তা না দেয়ায় সে কোনো সুযোগ পেলো না।

ফার্মেসিতে যাওয়ার পথে সাবিহাকে ফোন দিলো সাকিন। সে কিছু বলার আগেই সাকিন বলল, “সাবিহা, শোন। আমি তোর বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। পথে কিছু কাজ সেরে তারপর যাব ইনশাআল্লাহ্। এক দুইদিন লাগতে পারে। এই কাজের কথা বাড়িতে কেউ জানে না। বুঝেছিস?”
সাবিহা খানিকক্ষণ তব্দা মেরে বসে রইলো। তারপর সতর্ক কণ্ঠে বলল, “যা-ই করো ভাইয়া, সাবধানে থাকবা। মানুষ কিন্তু তোমাকে দুইবার কিনে তিনবার হাঁটে বিক্রি করে দিলেও তুমি ঠিক পাও না। হুশ করে থাকবা যেন, ঠিকাছে?”
সাকিন হেসে ফেলল, “ঠিকাছে।”

ফার্মেসিতে গেলে নিজামকে অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি হাসিখুশি বলে মনে হলো। সাকিনের দিকে একটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে তিনি বললেন, “কাগজটা পড়ে দেখো তো। একটা সই দিয়ে যাও। নতুন কোম্পানি, ভালো চুক্তি হবে।”
“নতুন কোম্পানির সাথে চুক্তি করা কি ঠিক হবে, চাচা? বাজারে কিছুদিন চলুক। তারপর না হয়..” এসব সই-সাবুদ আকরাম নাহয় সাকিনই করে থাকে। ইদানীং এসব কাগজ পড়ে সই দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পান না আকরাম।

কাগজটা পড়ল সাকিন। অন্যসব চুক্তির মতোই। তবু তাকে দোনামোনা করতে দেখে নাজিম এক প্রকার চাপাচাপিই করলেন।
“আরে করো তো মিয়া! একটা কোম্পানি শুরুর সময় যেই দোকান সুযোগ দিবে, তাদের পরে সুবিধাও বেশি দিবে। করো করো!”
ওদিকে বাসের তাড়া। ইতোমধ্যেই সাড়ে নয়টা বেজে গেছে। দশটায় বাস ছেড়ে যাবে। আরেকবার চোখ বুলিয়ে, সই করে বেরিয়ে গেলো সাকিন।

*****

আজ সকালে আর ফরিদ আহমেদের কণ্ঠে গান এলো না। পত্রিকা পড়তে পড়তে একদফা গুনগুন করা তার নিত্যদিনের স্বভাব। তরুণ বয়সে খুব সংগীত ভক্ত ছিলেন। সুরেলা কণ্ঠ সে ভক্তির পালে হাওয়া দিয়েছে। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার ইতিহাসও তার আছে। তার এই অভ্যাসটা পেয়েছে ফাবিহা। তার কণ্ঠও চমৎকার।

কিন্তু বিয়ের পরপর যখন মিরপুরে ছিলেন—তখন সেখানকার এক মসজিদের ইমাম একদিন আলোচনায় বললেন—সংগীত শোনা নাকি হারাম। হারাম শব্দটাও ততদিনে গা সওয়া হয়ে গেছে। ধাক্কাটা লাগলো যখন হুজুর বললেন—গান-বাজনা অন্তরের মদ, ওটা খেলে মন থেকে পরকালের ভাবনা উঠে যায়।
শখের গায়ক, ফরিদ বিষয়টা মানতেই পারছিলেন না। প্রবল কৌতূহল নিয়ে ইমামের কাছে বারংবার প্রশ্ন করলেন—আসলেই কোরআনে এমন আছে হুজুর? সত্যিই গান হারাম?

সঙ্গীতপ্রেমী যুবকের প্রশ্নকে হুজুর বরং ইতিবাচকভাবেই নিলেন। তবু তো একজন শুনতে এসেছে। আজকাল তো মানুষ এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়।

তিনি দরদী কণ্ঠে বললেন, “বাবা রে! মিথ্যা ফতোয়া দিলে তো আমার গলায় আগুনের ছুরি পড়বে। তুমি শিক্ষিত মানুষ, নিজেই যাচাই করে নাও না! সহীহ হাদীসে এসেছে—কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো—মানুষ বাদ্য-যন্ত্রকে হালাল মনে করবে।”
ফরিদ আহমেদ বিমর্ষ কণ্ঠে বললেন, “সমস্যাটা কী হুজুর? কত দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকা যায়।”
হুজুর স্নেহের হাসি হাসলেন, “এটাই তো সমস্যা! দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর পরীক্ষা। পরীক্ষায় তুমি মালিককে স্মরণ করবা, তোমার অন্তর নরম হবে, তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে ফিরে যাবা—এজন্যই তো আল্লাহ দুঃখ দেন। আর তাকে আমরা এড়িয়ে যেতে চাই, অথচ দুঃখ হলো কাটার বাহন, যাতে উঠতে পারলেই মালিকের কাছে যাওয়ার রাস্তা সহজ হয়ে যায়।”

ফরিদ আহমেদ ভগ্নহৃদয়ে বসে রইলেন। আজীবন গান গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়ে আসা মানুষটার জন্য এক বাক্যে গান ছাড়া মুশকিল বই কি!
তিনি বললেন, “গান তো আমার খুব পছন্দের বিষয় হুজুর।”
“শোনো বাবা, গানের কথা যদি ভালো হয় তাহলে গাইতে সমস্যা নেই। কিন্তু বাদ্য কোনোভাবেই শোনা যাবে না। ওটা মনে কৃত্রিম ভাবালুতা তৈরি করে। মেজাজটা নষ্ট হয়ে যায়। মৃত্যুর কথা পানসে লাগে, সমস্ত মনোযোগ দুনিয়ার আফসোসে এসে ঘনীভূত হয়।”

ফরিদ আহমেদ তারপর কয়েকদিন পরীক্ষা করেছেন। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে—শোনার সময় ভাবতে ইচ্ছে করে না—একদিন অন্ধকার কবরে নিঃসঙ্গ অবস্থায় থাকতে হবে। একলা চলো—বলে না একলা ঠিক কোথায় যাব। গন্তব্যটা পরিষ্কার করে না। কেবল উদভ্রান্তের মতো পথে নামিয়ে দেয়। নিষ্ঠুরের মতো তরঙ্গের জালে বেঁধে ফেলে—মন, মনন।
কাজেই, ফরিদের দ্বিমত করার উপায় ছিল না। তার হতাশ চেহারা দেখে হুজুর মায়া করে বলেছিলেন, “প্রিয় জিনিসের বিনিময়ে পাওয়াটাই অন্যরকম মূল্যবান হয়। তুমি চেষ্টা করতে থাকো।”

চেষ্টা তিনি করেছেন। সেই উসিলায় বাজনা ছেড়েছেন আজ বহুদিন। তবে খালি গলা গুনগুনানি আজও থেকে থেকে বেজে ওঠে।

আশি হাজার টাকার চিন্তায় সেই গুনগুনানি হারিয়ে গেলো। ফাবিহা বাবার পায়ের কাছে বসে বলল, “তুমি এমন মন খারাপ করে আছো কেন বাবা?”
“চিন্তা হচ্ছে রে মা। কীভাবে রিজভী ভাইকে সামলাবো বুঝতে পারছি না। সুদের টাকা তো দিতে চাই না। কিন্তু গলায় যদি পারা দেয় আমার কী আর সাধ্য আছে? কলেজটা আজও এমপিও ভুক্ত হলো না।” দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ফরিদ। সতের বছর ধরে তিনি পুষ্পদাম উচ্চ-মাধ্যমিক কলেজের শিক্ষক। যোগদানের পর থেকেই শুনে যাচ্ছেন এই অর্থবছরেই কলেজ এমপিও ভুক্ত হয়ে যাবে। সে অর্থবছর আজও আসেনি। বেতন নিয়েও চলে গড়িমসি। কোচিংটা থাকায় বাঁচোয়া। ওটা দিয়েই কোনওরকমে চলে যাচ্ছে।

“তোমার সাক্ষী কে ছিল? আব্দুর রহমান চাচা না? উনাকে নিয়ে রিজভী চাচার কাছে যাও।”
ফরিদ আহমেদের চেহারায় আলো খেলে গেলো, “একটা কাজের কথা বলেছিস মা! মাথাটা প্যাঁচ খেয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে সকাল থেকে দেখছি আমার গুণধর ছেলে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ও কি সেমিস্টার ফাইনাল দেয়নি রে ফাবিহা?”
ফাবিহা খবরটা এখনও জানেনা। সে বলল, “জানিনা বাবা।”
“এত চিন্তা আমার আর ভালো লাগে না রে মা! ফারদিন অনার্সটা শেষ করলে আমি একটু ভারমুক্ত হই। ও এমন শুরু করেছে কেন? পড়াশোনা কি একেবারেই ছেড়ে দেবে?” তার কন্ঠে হতাশা ঝরে পড়ছে।
“তুমি চিন্তা করো না বাবা। আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলব। তোমার লেখার কী খবর?”
“নতুন একটা প্লট পেয়েছি। দুর্দান্ত হবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু তোর আম্মু তেমন রেসপন্স করল না। প্রথম পাঠক যদি মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় তাহলে কি আর উৎসাহ কাজ করে?”
“আম্মু বাদ। আমি পড়ব। আজকে রাতে পড়ব। ঠিকাছে?”
“আচ্ছা।”
“নাম ঠিক করেছ?”
“না, কেন! তুই করবি না?”
“করব।”
ফাবিহা মায়া মায়া চোখে বাবাকে দেখে গেলো। ফরিদ আহমেদের বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। চেহারায় বলিরেখা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠছে। অথচ ভেতরের শিশু-সারল্য আজও স্পষ্ট।
একজীবনে সঙ্গীতের প্রতি অসম্ভব অনুরক্ত ছিলেন তিনি। বহু কষ্টে সেটাকে ছেড়েছেন। তারপর অনাগ্রহে কলম চালিয়ে আসার কাজটা দিয়েই শখের শূন্যতা পূরণ করলেন। পাঠক হলো তার পরিবারের তিনজন—নূরজাহান, ফারদিন এবং ফাবিহা। নূরজাহান খুব খুঁতখুঁতে পাঠক। একটু এদিক ওদিক হলেই তার আর পছন্দ হয় না। ফারদিন সাইলেন্ট রিডার। তার কোনো বাতচিত নেই। ভালো খারাপ যেটাই হোক—সে বেমালুম চেপে যায়। ফরিদ আহমেদের একমাত্র আদর্শ পাঠক—তার মেয়েটি। ফাবিহা খুব উচ্ছ্বাসের সাথে বাবার লেখা পড়ে। পড়ার সময় ওর চেহারাটা দেখলে মনে হয়—লেখা প্রকাশ করতে না পারার কষ্টটা মেয়েটার হাসি দিয়েই ধুয়ে মুছে যাচ্ছে।

ফাবিহা উঠে দাঁড়ালে ফরিদ বললেন, “আজকে কোচিংয়ে যাবি তো মা?”
“ইনশাআল্লাহ্ যাবো বাবা।” ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর থেকেই ফরিদের কোচিংয়ে পরিয়ে আসছে সে।

ভার্সিটির জন্য যখন ফাবিহা বেরুচ্ছে তখন ফরিদ আহমেদ বারবার আব্দুর রহমানকে কল করলেন। লোকটা ওপাড়ায় থাকে। নিপাট ভদ্রলোক। সুদের বিষয়টা ডিজমিজ করতে তাকে দরকার।

ফাবিহা বেরিয়েই গেছিল। বাবার আর্তনাদ শুনে আবার ফিরে এলো। ফরিদ আহমেদ স্তব্ধ কণ্ঠে বললেন, “আব্দুর রহমান ভাই মারা গেছেন!”

চলমান.

(দেরির জন্য ভীষণ দুঃখিত পাঠক!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন