ফন্ট সাইজ:
থিম:
বনজোছনা

পর্ব 19

লেখক: বিনতে ফিরোজ

#বনজোছনা
১৯.

দীর্ঘ দুটো বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সাকিনের প্রথমদিকে মনে হতো দু'বছর যেন গড়িয়ে গড়িয়ে চার বছর হয়ে গেছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত দিনের সূর্য উদিত হচ্ছে না। কিন্তু মনে হচ্ছে গত দশটা দিনে সময়টা লাফ দিয়ে কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। এটা কি স্থানান্তরের ফল? স্থানান্তরের সাথে কালান্তরের কি সূক্ষ্ম কোনো সংযোগ আছে? কে জানে!

সাবিহা অবশ্য বারবার তাগাদা দিচ্ছিল ওর কাছে যেয়ে ক'টাদিন থাকার জন্য। কিন্তু জুবায়ের আপাতত শহর ছাড়তে নিষেধ করেছে। এ কথাটা সে সরাসরি সাবিহাকে বলতে পারেনি। সারাজীবনই ওর দু'ডিগ্রি বেশি বোঝার অভ্যেস। আর এখন তো অবস্থা আরও ঘোলাটে।

সে বোনকে শান্ত করতে বলল, “কিছুদিন মধ্যেই গ্যাজেট দিয়ে দেবে। সেদিন পত্রিকায় দেখলাম, জয়েনিংয়েও এবার দেরি করবে না। এখন ঘুরতে গেলে হয়? প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে না!”

সাবিহা সন্দেহী কণ্ঠে বলল, “কীসের প্রস্তুতি? তোর কি পড়াশোনা করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে? তুই যাবি, ছাত্র পড়িয়ে চলে আসবি।”

“বললেই পড়ানো যায় নাকি! আগে তো নিজে পড়তে হয়। নাহলে এতগুলো ছেলেমেয়ের সামনে যেয়ে কী বলব?”

সাবিহা বিরক্ত হলো, “সারাজীবন তো পড়েছিসই। এখন আবার পড়তে হবে কেন! মরা পর্যন্ত পড়বি তুই?”

“দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পড়তে হয়।”

“থাক, আর কিছু বলা লাগবে না! আমার কথার উত্তর দে। মামী আমার ফোন ধরে না কেন?”

“তুই মামীকে ফোন দিয়েছিস কেন?” সাকিন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল।

“দিব না কেন? তুই ভয় পেলি কেন এই কথা শুনে? ঘটনা আমাকে খোলাসা করে বল তো, ভাইয়া!”

সাকিন ইতস্তত বোধ করল।
“তেমন কিছু না। রিফাত কেমন আছে?”

“যার যেমন থাকা দরকার তেমনই আছে। তুই বলবি?”

“সাবিহা, প্রথমদিন কলেজে কী পরে যাব বল তো!”

“বাহ! তুই দেখি কথা ঘোরানোও শিখে গেছিস! আমি ফোন কাটলে কিন্তু আর ফোন দিবোও না, ধরবোও না। বুঝিস!”

সাকিন দম ছাড়ল। যতটুকু সংক্ষেপে ঘটনা বর্ণনা করা যায় তাই করল। মাঝে অবশ্য পাপড়ির ঘটনাটা এড়িয়ে গেলো। মরে গেলেও সেটা বোনের কাছে নিজের মুখ বলতে পারবে না সে।

হতভম্ব সাবিহা খানিকক্ষণ কোনো কথাই বলতে পারল না। বেশ কিছুক্ষণ পর তার বিস্মিত কণ্ঠ শোনা গেলো।

“তাহলে তোকে কেন ধরেছে?”

“আমার ঘরে হিরোইন পাওয়া গিয়েছিল।”

“কে রেখেছিল? মামা!”

“জানিনা। আমি দেখিনি।”

“দেখা লাগে? এ তো কানার ভাই অন্ধও বোঝে!” রাগে ফেঁটে পড়ল সাবিহা।
“তুই খবরদার আর ঐ বাড়িতে থাকবি না। আজকেই বের হয়ে যাবি। দরকার হয় রাস্তায় থাকবি।”

“থাকি না, সাবিহা।” ছোট্ট করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল সাকিন। ও বাড়ির কথা মনে পড়লেই জানলার ফ্রেমে আটকে থাকা মরা গাছের কদর্য রূপটা কেবল চোখে ভাসে।

সাবিহা আকাশ থেকে পড়ল, “থাকিস না মানে! তাহলে কোথায় থাকিস?”

“তোর সাথে শেষবার কথা বলার পর থেকে আমি পুলিশের পাহারায় আছি। এখন অবশ্য পাহারা নেই বললেই চলে।”

“ভাইয়া! তুই বাড়ি ছেড়েছিস, থানায় থেকেছিস, পুলিশ তোর উপরে নজর রাখছে—এই এতগুলো কথার একটাও আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করলি না!” সাবিহার বিস্ময় ক্রমেই বিষাদে রূপ নিচ্ছে।

সাকিন অস্থির বোধ করল, “আহা! পুলিশের নজর কি সবসময় অপরাধীদের উপরেই হয়? মাঝে মাঝে তো কাউকে নিরাপদে রাখতেও চোখে চোখে রাখা জরুরি।
রাগ করিস না সাবিহা! তখন তোকে বললে তুই খামাখা চিন্তা করতি। এখানে তোর আমার করার মতো কিছুই ছিল না।”

“আমার চিন্তটুকুও এখন তোর কাছে খামাখা লাগছে? ভালো! খুব ভালো!” সাবিহা নাক টানল। “তুই ওখানেই থাক। তোর মামার কোলের মধ্যে ঢুকে থাক। খবরদার যদি আমার বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিস!” দুর্বল কণ্ঠে হু-ম-কি দিয়ে সাথে সাথেই কল কেটে দিলো সাবিহা। সাকিন অসহায় বোধ করল। বোনটা তো আর ছোট্টটি নেই। কী দিয়ে ওর রাগ ভাঙাবে? দৌঁড়ে যেয়ে এখন ওকে মৃদু শাসনে ধমকে দেবে, নরম আদরে চমকে দেবে—সে সুযোগটাও তো নেই।

সাকিন খুব ভেবে-চিন্তে একটা মেসেজ লিখল,

“আমার ছোট্ট সোনা সাবিহা, ভাইয়ার উপরে রাগ রাখিস না ময়না।

আমার নিজের মামা, যাকে আমি বাবার চোখে দেখেছি, হাজার ভুল জানার পরেও মেনেছি এই লোকটা আমার অভিভাবক। সেই লোকটা যখন নিজের মুখে আমাকে মাদক পাচারকারী বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, যখন সারা দুনিয়ার সামনে আমার সম্মানটা স্রেফ তামাশার বস্তু বানিয়ে দিয়েছিল—তখন আমার কলিজাটা ছিঁড়ে আসতে চাচ্ছিল। যে পরিবারটাকে আমি নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছি, তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেয়াটা মোটেই সুখকর না সাবিহা। আমি কীভাবে বলব, আমার নিজের মামা লোভ সামলাতে না পেরে আমাকে গিনিপিগ বানিয়েছে?

সাবিহা, ছোট থেকে আমি কখনও তোকে রাক্ষস-খোক্কসের গল্প শোনাইনি, জুজু বুড়ির ভয় দেখাইনি। তোকে সবসময় রাজকন্যার গল্প বলেছি, এমন গল্প শুনিয়েছি যেখানে কোনো দুঃখ নেই।

কিন্তু তোর জীবনটা আমি তেমন করে গড়ে দিতে পারিনি। আমি বেঁচে থাকতেও জীবনের অনেকটা সময় তুই ঘুঁটে কুড়ুনীর মতো কাটিয়েছিস। ভাই হিসেবে এটা আমার জন্য চরম ব্যর্থতার বিষয়। এখন আল্লাহ তোকে রানীর মর্যাদা দিয়েছেন। তোর ঘরে সুখের আলো ঝলমল করে। আমি কীভাবে সেই সুখে তোকে দুঃখের গল্প শোনাই বল?

সাবিহা, আমার ছোট্ট পাখি! আল্লাহ শ্রেষ্ঠ সম্মানের সাথেই আমাকে বিপদ থেকে উত্তীর্ণ করেছেন। তিনি চাইলে আগামী সপ্তাহে সাক্ষী দিয়ে এই জঞ্জাল থেকে চিরদিনের জন্য মুক্ত হয়ে যাব। সম্মানের আসনে চাকরি শুরু করারও দেরি নেই। মানুষের জীবনে তো জোয়ার-ভাটা আসেই। তোর ভাইয়া নাহয় তোকে সারাজীবন সুখের জোয়ারের গল্পটাই শুনিয়ে গেলো, ভাটার টানে দুঃখটুকু আমার বুকেই জমা থাকুক। রাগ করবি ময়না?”

সাকিন ঘোলা চোখে দেখতে পেলো একটা পুতুল বাবু তার কোলে বসে আছে। দম বন্ধ করে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ছোট্ট সাকিন—এক নিশ্বাসে এই বাবুটাকে কতগুলো চুমু দেয়া যায়! চুমুর তোড়ে পুতুলের পুরো মুখ ভিজে গেলে মা ছুটে এসে মৃদু শাসন করলেন—করিস কী সাকিন! হায় হায়! সাবিহার পুরা মুখ তো লালা দিয়ে ভরায় ফেলছিস!

সে কথা শুনে বাবার সে কি হাসি! হাসির চোটে তার ভারী শরীর তরঙ্গের মতো কাঁপতে থাকে। সেভাবেই হ্যাসমুখর কণ্ঠে তিনি বলেন, “আরে মুছো না! ভাইয়ের লালার মধ্যেও মায়া আছে। তুই দে বাপ, মরণ পর্যন্ত তোর বোনরে লালা মাখাইতে থাক।”

কী অদ্ভুত কথা! সাকিনের দুর্বল বুকে চাপ লাগে।

—

সকালে গ্যাজেট প্রকাশিত হবার পর দু রাকাত নামাজ পড়ল সাকিন। সালাম ফিরিয়ে মনে হলো—এই এক জীবনে যা কিছু সে পেয়েছে তার বিনিময়ে দু রাকাত নামাজ কিছুই না। কিন্তু সে অতি নগণ্য মানুষ। বিশেষ কীই বা করতে পারে! সাকিন প্রতিজ্ঞা করল—আজীবন এই বিপদের কথা মনে রাখবে। যখনই মনটা অকৃতজ্ঞ হতে চাইবে—তখনই মনে করবে ঠিক কীভাবে এই নিশ্চিদ্র ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে আল-মুহাইমিন তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই কোর্টে গেলো সে। যুগ আধুনিক হয়েছে। ইন্টারনেটের স্পিড বাড়তে বাড়তে পঞ্চম জেনারেশনে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু সে ছোঁয়া সম্ভবত কোর্টের ফাইলকৃত স্তুপে এখনও লাগেনি। ওখানে আজও নেটওয়ার্কিংয়ের ঝামেলা হয়। অপরাধীর সাথে অপরাধের কানেকশনের সিগন্যালটা আজও পরিষ্কার না হওয়ায় মাঝখান থেকে খরচ হয়ে যায় দুচারটে জীবন। সরকারি খাতায় যেগুলো স্রেফ ক’টা সংখ্যা।

সাকিন দূর থেকে জুবায়েরকে দেখল। বেচারা তাকে দেখে একপ্রস্থ হেসেই আবার দৌড় ধরেছে। এক সেকেন্ড থামার সুযোগ পাচ্ছে না। মনে মনে এই ছেলেটার জন্য খুব দোয়া করে সে। সব সাহায্যের মূল্য চোকাতে নেই। কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে ঋণী রাখাই শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।

কোর্ট শুরু হলো নির্দিষ্ট সময়েরও দেড় ঘণ্টা পর। এর মাঝে পাপিয়া বেগম, পাপড়ি, আদিলও এসে বসেছে কোর্টরুমে। ভাই-বোন দুটোকে দেখে মায়া হলো সাকিনের। এই বয়সে কীসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিলো।

খুবই প্রাথমিক আলোচনা হলো। আকরাম খান নিজের জন্য যে উকিল ধরেছেন সে বয়সে একেবারেই যুবক। প্র্যাকটিস শেষ হয়েছে কি না কে জানে! তার কেস যে কোনো প্রতিষ্ঠিত উকিল নিতে চায়নি এটা বেশ বুঝল সাকিন।

এক পর্যায়ে তাকে ডাকা হলো। যা যা প্রশ্নবাণ তার দিকে নিক্ষেপ করা হলো সবগুলোরই ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিলো সে। কোনো গড়মিল হলো না, হবার কথাও ছিল না। তার ক্ষুদ্র এই জীবনে হিসেবের পরিমাণ খুবই কম। সেখানে গড়মিল হবে কোত্থেকে?

বিলাল আর আকরামের নিরবচ্ছিন্ন তর্কাতর্কির মাঝেই সাকিনকে অব্যহতি দেয়া হলো। জুবায়ের এক ফাঁকে বলল, “এই দেশে বিচারের আশা করা আর মরা বাপের মুখের ডাক শোনা একই কথা। তারপরেও যে কেস এই পর্যন্ত এসেছে এই আল্লাহর শুকুর। পরের মাসের শুরু থেকেই আপনার জয়েনিং না? দ্বিতীয় মাসে ইনশাআল্লাহ্ ট্রান্সফার হয়ে যাবেন। কোথায় যাবেন ঠিক করেছেন?”

ভাবতে হলো না। ছোট্ট বোনের ক্রোড়ে ফিরে যেয়ে এবার তার রাগ ভাঙানোর পালা।

সিদ্ধান্তটা নিতে পেরে সাকিন স্বস্তি পেল। বিদায়ের আগ মুহূর্তে জুবায়েরকে আরেকবার জড়িয়ে ধরে পণ করল—প্রতি বছর তেইশে সেপ্টেম্বর সে রোজা রাখবে। এই দিনের একটা আনুষ্ঠানিক স্মৃতি কার্য রাখা উচিত।

*****

বাড়িওয়ালার সাথে রাতেই কথা সাড়লেন ফরিদ। ভদ্রলোকের নাম হীরা চৌধুরী। কণ্ঠ শুনলে মনে হয় হাই স্কুলের চরম রাগী হেড স্যার। এখনই পটকা ফাটানো আওয়াজে ধমক দিয়ে কানের পর্দা ফাঁটিয়ে দেবে। পরিচয় পর্ব গড়াতেই জানা গেলো—ধারণা একটু হলেও সত্যি। ভদ্রলোক প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন।

ফরিদ আহমেদ ভেবেছিলেন অন্য জায়গার মতো এখানেও বাড়ি ভাড়া আকাশ ছোঁবে। কিন্তু দেখা গেলো গম্ভীর লোকটা ভাড়াটে পেয়েই রীতিমতো খুশি। নিজেই বললেন, “এই বাড়িটা বহু আগের। না হলেও চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর তো হবেই। আমি কিনেছি তিরিশ বছর আগে। ঘর অনেকখানি মাটির নিচে চলে গেছে। দেয়ালগুলো ঝকঝক করে না বলে মানুষ পছন্দ করে না। অথচ আমার ছেলের বউ সারাদিন বাড়িতে একা থাকে। ছেলে ব্যবসার জন্য মাসের বেশিরভাগ দিন বাইরে বাইরে কাটায়। একটা ফুল ফ্যামিলি না ওঠানো পর্যন্ত আমি শান্তি পাচ্ছি না।”

ফরিদ আহমেদ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। হীরা জিজ্ঞেস করলেন, “তা ভাইয়ের কী করা হয়?”

“জি আমি পুষ্পদাম উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের শিক্ষক।”

“আচ্ছা আচ্ছা। ছেলে মেয়ে কয়জন?”

“দুইজন। ছেলেটা ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে…” কথাটা বলেই মনে হলো কেটি ডাহা মিথ্যে বলে ফেলেছেন। ফারদিন মোটেই পড়ছে না। ভবিষ্যতে পড়বে কি না তাতেও চরম সন্দেহ রয়েছে। নিশ্বাস ছেড়ে তিনি বললেন, “আর মেয়ে এবার থার্ড ইয়ারে উঠবে।”

“আচ্ছা আপনি কালকে সকালে একবার আসুন।”

“ভাইজান, ভাড়াটা?”

হীরা চৌধুরী বেশ বিরক্ত হলেন। এমন নমঃ নমঃ করা মানুষ তিনি দু’চোখে দেখতে পারেন না। এই লোক ভাড়ার কথা এমনভাবে জিজ্ঞেস করছে যেন তাকে দয়াপরবশ হয়ে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। বিরক্তিটা চেপে রাখলেন তিনি। সাবিহা পরশু দুপুরে ঘুমের ঘোরে খুব ভয় পেয়েছিল। এত বড় বাড়িতে একা ভয় পাওয়ারই কথা। যত দ্রুত সম্ভব ভাড়াটে ওঠাতে হবে।

“কাল আসুন, সামনাসামনি আলাপ হবে ইনশাআল্লাহ্।”

ফরিদ আহমেদ বহুদিন পর স্বস্তি পেলেন। হীরা চৌধুরীর কথা শুনে মনে হয়েছে যেকোনোভাবে হোক তিনি ভাড়াটে ওঠাবেন। সেক্ষেত্রে কিছু কম ভাড়ার আবেদন করলে বোধহয় নাকচ করবেন না। ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে অনেকদিন পর ‘নওরোজ’ এর অষ্টম পর্ব লিখতে বসলেন। তার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঊনিশ বছর বয়সী একটি ছেলে—শাওন। চুরির দায়ে ছেলেটিকে পুলিশ ধরেছে। অথচ শাওন সম্পূর্ণ নির্দোষ। ফাঁদ পেতে তাকে ধরিয়ে দিয়েছে তারই সৎ ভাই। সম্পত্তি থেকে অংশীদার মুছে দিতেই এই পরিকল্পনা।

লিখতে লিখতেই ফরিদ আহমেদের বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। এ দেশে পুকুর চুরির ঘটনা চোখের আড়াল হয়ে যায়, কেলেংকারী হয় কেবল মাছ চুরি নিয়ে ।

পরদিন সকালটা খুব বিশ্রীভাবে শুরু হলো।

ভোরের আলস্য তখনও কাটেনি। এর মাঝেই এক পাওনাদার মহিলা এসে হাজির হলো। সিমি খেয়াল করেছে কিস্তির টাকা তুলতে বেশিরভাগ মহিলারাই আসে। এরা এত ভয়ংকরভাবে মুখ ছোটাতে পারে যে তখন জীবন দিয়ে হলেও কান রক্ষা করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়ে।
আজকের এই মহিলাকে এর আগে দেখেনি সিমি।

সে কেচিগেটে দাঁড়িয়েই হাঁক-ডাক শুরু করল।

“কই! নূরজাহান বেগম কই! সারা দুনিয়ার টাকা দিয়ে আমার টাকা মারার ধান্দা করছে? ওর ধান্দার ভেতর আমি আগুন জ্বালিয়ে দেব!”

নূরজাহান তড়িঘড়ি করে ছুটে এলেন। দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। মহিলার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে খুলে দিলেি সোজা ঝাপিয়ে পড়বে।

নূরজাহানকে দেখেই মহিলা আরও উগ্র হয়ে উঠল, “এই তুই দরজা খুলিস না ক্যান!”

ফরিদ ছুটে এলেন। নূরজাহান তাকে ঠেলে ভেতরে পাঠিয়ে দরজা খুলতেই মহিলা সত্যি সত্যিই ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ফাবিহা ফজর পড়ে কেবলই একটু চোখ বন্ধ করেছিল। ধড়ফড় করে উঠে সে বাইরে ছুট দিলো। বসার ঘরে পৌঁছুতেই দেখা গেলো এক মহিলা তার মায়ের দিকে হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে। যেন খুবলে খাওয়াটুকু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

সে এগিয়ে এসে প্রায় ধমকে উঠল, “কী সমস্যা! এভাবে চিৎকার করছেন কেন! এটা ভদ্রলোকের বাড়ি।”

“উরি আমার ভদ্রলোক! তা টাকা মারা কোন ভদ্রলোকী স্বভাব?”

ফাবিহা জিজ্ঞাসু চোখে মায়ের দিকে তাকালো। তার মুখের ভঙ্গিতেই স্পষ্ট এই মহিলা আসলেই পাওনাদার।

নূরজাহান তার হাত ধরতে গেলে সে ঝটকা দিয়ে সরে গেলো। নূরজাহান মিনতি করে বললেন, “কারো টাকাই পুরোপুরি শোধ করিনি আপা। সবাইকেই একটু একটু করে দেয়ার চেষ্টা করছি। আপনাকেও দিয়ে দেব। দয়া করে আমাকে একটু সময় দিন।”
ফাবিহা সে দৃশ্য সহ্য করতে পারল না। চোখ খিচে বন্ধ করে রইলো। অথচ সেখানেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—নূরজাহান ভিখিরির মতো একজনের সামনে হাত জোড় করছেন।

মহিলা কিড়মিড় করে বলল, “সবাইকে একটু একটু করে দিচ্ছি! ইহ! কথা শুনলে মনে হয় খয়রাতি চালু করছে। এইসব টাল্টি ফাল্টি অন্য জায়গায় দেখাবেন। এই যে আমি বসলাম, অর্ধেক টাকা না দিলে আজকে যাচ্ছি না।” বলেই সোফায় গ্যাট হয়ে বসে পড়ল সে। খুব ভেবে চিন্তেই আজকে এত সকালে এসেছে। সে খোঁজ নিয়ে দেখেছে নূরজাহানের বর আটটার পরপর বেরিয়ে যায়। ওই লোককে শোনাতে পারলেই অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে। অথচ নূরজাহান তাকে ঘরে সিটকিনি দিয়ে বসিয়ে রেখেছে। বিরক্তিতে মুখ বাঁকালো সে।

নূরজাহান বিপন্ন বোধ করলেন। ফাবিহা ধীর কন্ঠে বলল, “মহিলা কত টাকা পায়?”

নূরজাহানের আগে সে মহিলাই উত্তর দিলো, “ষাট হাজার তিনশ তেপ্পান্ন!”

নূরজাহান ছুটে এসে তার সামনে মেঝেতে বসে পড়লেন। কান্না আটকে বোজা কণ্ঠে বললেন, “আপা, তিরিশ হাজার টাকা এখন কোথায় পাবো? দয়া করে ছয়টা মাস সময় দেন। আপনার সব টাকা পরিশোধ করে দিব।”

বিচ্ছিরি একটা গালি দিয়ে মহিলা চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “কী কচু দিবি আমি জানি না! টাকা দিতেই যখন পারবি তাহলে এলাকা থেকে পালাচ্ছিস কেন?”

ফাবিহা প্রায় চিৎকার করে উঠল, “তুই তোকারি করছেন কোন সাহসে! টাকা ধার নিয়েছি বলে কি আপনার কেনা গোলাম হয়ে গেছি? উঠে আসো আম্মু। ওঠো!” মেয়ের ধমকে পড়িমড়ি করে উঠলেন নূরজাহান।

মহিলা এই প্রতি উত্তর মোটেও সহ্য করল না। উড়ে এসে ফাবিহার মুখের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল, “তুই কথা বলিস কোন মুখ দিয়ে! *** তোর রূপ জানি না ভাবছিস? একশ ঘাটের পানি খেয়ে সাধু সাজবি তো রাস্তায় নামিয়ে ইজ্জত দেখিয়ে ছাড়ব!”

ফাবিহার মাথা ঝিমঝিম করছিল। এত জঘন্য গালি সে এ জীবনে শুনেছে কি না সন্দেহ। অথচ আজ তাকে উদ্দেশ্য করেই এসব বলা হচ্ছে। সে মুখ খুলতে পারল না। নূরজাহান তাকে টেনে নিজের পেছনে নিয়ে এলেন। কিছু বলার আগেই সিঁড়িঘরের দরজায় আচমকা কড়াঘাত শুরু হলো, সাথে চিৎকার।

“এই বাড়িতে আরও মানুষ থাকে! বস্তি বানানোর ইচ্ছা থাকলে রাস্তায় যান! সকাল সকাল এসব কী শুরু করেছেন? ভদ্র মানুষের মতো থাকতে না পারলে মাস শেষ হওয়ার আগেই ঘাড় ধরে বের করব!”

সিমি পাথর হয়ে গেছে। কী প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ, কী করলে এই পরিস্থিতির একটা কিনারা হবে সে বুঝতে পারছে না। ফরিদ আহমেদ ঘরের ভেতরে ছটফট করছেন। সাহস করে দরজা খোলার কথা বলতে পারছেন না। তার ভয় হচ্ছে তিনি মেয়ের মুখটা সহ্য করতে পারবেন না। আল্লাহ তাকে এত অথর্ব পিতা কেন বানালেন! অস্থিরতায় বদ্ধ ঘরের ভেতরেই কেঁদে ফেললেন তিনি।

মহিলার মুখ চলছিল বুলেট ট্রেনের গতিতে। নূরজাহান চোখের পানি ফেলে, হাতে-পায়ে ধরেও তাকে রাজি করাতে পারলেন না।

অনেকক্ষণ ঝিম মেরে পড়ে থাকা পর ফাবিহা বলল, “আজকে বিকালে আপনার তিরিশ হাজার টাকা দিয়ে দেয়া হবে।”

নূরজাহান অবাক হয়ে তাকালেন, “কোথায় পাবি তুই টাকা!”

মহিলা মুখ বাঁকাল, “হুহ! মানুষের টাকা ইনকাম করতে দৌড়ানো লাগে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। আর তোর তো শুয়ে…”

“একদম চুপ!” ঘর কাঁপিয়ে ধমকে উঠল ফাবিহা। মহিলা এই প্রথম ফাবিহার চেহারা দেখে ভয় পেলো। রক্ত চোখে তাকিয়ে ফাবিহা বলল, “সোজা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। বিকেলে আপনার বাড়িতে টাকা পৌঁছে যাবে। আর এক সেকেন্ড দাঁড়ালে জান হাতে নিয়ে বের হতে পারবেন কি না সেই গ্যারান্টি দিতে পারছি না।”

মহিলা তৎক্ষণাৎ সোজা হয়ে দাঁড়ালো। এই মেয়ের চোখ-মুখ সুবিধার লাগছে না। একটা অঘটন ঘটাতে সময় লাগবে না। যথেষ্ট হয়েছে, এবার মানে মানে কেটে পড়াই উত্তম মনে করল সে। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আরেকবার চেঁচিয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে গেলো।

“আজকে বিকালে টাকা না পেলে কালকে সকালে পুলিশের মুখ দেখে তোদের ঘুম ভাঙবে!”

নূরজাহান দুহাতে মুখ ঢেকে কান্না থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলেন। ফাবিহা বসে থাকল না। সিমিকে ডাক দিলো। সিমি ধড়মড় করে উঠলে সে বলল, “কাজ করা লাগবে। আয়।”

সিমির সদ্য হুশ ফিরেছে যেন, সে বেশি কিছু বোঝার চেষ্টাও করল না।

দুশো বইয়ের অর্ডার কনফার্ম হয়ে গেছে। একজনই গোটা একশ নেবে। আর তিনজন মিলে বাকি একশ। সেগুলো সব কার্টনে ভরে সিমির সাহায্যে প্যাকেজিং করল ফাবিহা।

শহরের ফার্নিচার রিসাইকেল গ্রুপগুলোতে বুকশেলফের কিছু ছবি দিয়েছিল সে। কাঁঠাল কাঠের এই ফার্নিচার বানাতে খরচ হয়েছিল বিশ হাজার টাকা। যদিও পুরোনো, তবে একটা আঁচড়ও এর গায়ে নেই। কোনোভাবেই এটা পনের হাজারের নিচে বিক্রি করবে না ফাবিহা। পোস্টে অবশ্য সতের উল্লেখ করেছে। গতকাল রাতে একজন পনের বলে দর কষাকষি করেছিল। আজ বিকেলের ভেতরে আর খরিদ্দার না পেলে তার কাছেই বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো সে।

সব গুছিয়ে যান্ত্রিক ভঙ্গিতে সে ফরিদের কাছে গেলো।

“বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলতে যাবে না?”

ফরিদ আহমেদ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বললেন, “যাবো?”

“যাবা। ওঠো। আমি গুছিয়ে আসছি।” ফরিদ প্রায় মেয়ের ঘাড়ে ভর দিয়ে কুন্দকলিতে পৌঁছুলেন। এই যুদ্ধের পর দরদাম করার আর কোনো শক্তি তার মাঝে অবশিষ্ট ছিল না। কেবল একবার ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, “ভাইজান, আমার কলেজের বেতনটা খুব রেগুলার না। ভাড়াটা যদি পাঁচ হাজার করা যায়…”

হীরা চৌধুরী চোখ-মুখ কুচকে তাকালেন। এই লোক আবার নমঃ নমঃ করছে।
“তাহলে আপনাদের ফিক্সড ইনকাম সোর্স কী?”

“কলেজের বাইরেও বাবা পড়ান। আমিও টুকটাক কাজ করছি। আমার আম্মু সেলাইয়ের কাজ করেন।” ফাবিহা স্পষ্ট কণ্ঠে বলল। হীরা চৌধুরী একটু অবাক বলেন বটে। বাপ পারলে কথা বলতে বলতে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়, তাহলে মেয়ের কণ্ঠে ছাইচাপা আগুন কোত্থেকে এলো?

হীরা চৌধুরীকে ভাবতে দেখে ফাবিহা আবার বলল, “আমরা ঘরের যত্ন করেই থাকি আঙ্কেল। আপনার বাড়ি আমাদের কাছে ইনশাআল্লাহ্ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। গতকাল আপনার পুত্রবধূর সাথে দেখা হয়েছে। আমরা মিশুক মানুষ। আশা করি আপুও আমাদের উপস্থিতিতে কমফোর্টেবল ফিল করবেন।”

সাবিহা রিফাতকে খাওয়ালেও তার কান এদিকে ছিল। এই এক বাক্য শুনেই মেয়েটাকে অসম্ভব পছন্দ করে ফেলল সে। তবে উঠে যেয়ে একটু ওকে দেখবে সে সুযোগ ছিল না। রিফাত কান্নার প্রস্তুতি স্বরূপ চোখ পিটপিট করতে শুরু করেছে। একবার কান্না শুরু করলে টানা এক ঘণ্টা সে কেঁদেই যাবে।

হীরা চৌধুরী মেয়েটার স্পষ্ট ভঙ্গিতে মনে মনে খুশি হলেন। বললেন, “তোমার মা বাড়ি দেখতে আসবে না?”

“আমাদের পছন্দের উপরে আম্মু ছেড়ে দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি আজকাল একটু ব্যস্ত। এজন্য আসার সুযোগ পাননি।”

“আচ্ছা। আমি ঘর গুছিয়ে রাখব। আপনারা আগামী মাসে আসছেন তাহলে?”

“ইনশাআল্লাহ্।” বাবার হাত মুঠো করে উঠ দাঁড়ালো ফাবিহা।

দরজার বাইরে যেয়ে ফরিদ বললেন, “আমার ছাত্র পড়ানোর কথা নিয়ে মিথ্যা বললি কেন মা?”

“মিথ্যা হবে কেন? কয়েকদিন ধরে পড়াচ্ছ না। এর মানে তো এই না যে আর কোনোদিন পড়াবে না।”

ফরিদ মেয়ের শক্ত মুখের দিকে তাকালেন। তার মনে হলো এই মেয়েটার জন্য হলেও আরও অনেকদিন তাকে লড়াই করার ধৈর্যশক্তি জোগাতে হবে।

সতের হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে বুকশেলফটা কিনে নিলো ফরিদের এক প্রাক্তন ছাত্র। গ্রুপের মাধ্যমেই সে ফাবিহার সাথে যোগাযোগ করেছে।

বিকেল ফুরোনোর আগেই ফাবিহা কুরিয়ার অফিসে বইগুলো দিয়ে এলো। অর্ধেক টাকা এখন নিয়েছে। বাকি অর্ধেক তারা বই হাতে পেয়ে পরিশোধ করবে জানিয়েছে।

দুশো বইয়ের কেনার দাম হিসেব করেনি ফাবিহা। না হলেও পঞ্চাশ হাজার তো গেছেই। সেগুলো পানির দামে ছেড়ে দিতে তার আর বেশি কষ্ট হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল কখন টাকাটা ওই মহিলার মুখে ছুড়ে মারবে।

সন্ধ্যার আজান দেয়ার জন্য মুয়াজ্জিন তখন প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাইকে তার গলা খাঁকারির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। হাঁটার গতি বাড়ালো ফাবিহা। আজান শেষ হওয়ার আগেই পৌঁছাতে হবে।

মোড় ঘোরার সময় পাশ থেকে এক ছেলে শিস বাজালো। ফাবিহা প্রথমটায় শুনতেই পায়নি। যখন ছেলেটা তার সামনে এসে দাঁড়ালো তখন ওদেরকে দেখল সে। দুজন কিম্ভুতকিমাকার চেহারার ছেলে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মোড়ের দোকানেই এদের যত আড্ডা।

ফাবিহা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে ছেলে দুটো আটকালো।

“আরে আপু দাঁড়ান! এত তাড়া কীসের!”

এত বছর ধরে তাকে দেখছে, কোনোদিন এরা এই সাহস করতে পারেনি। অথচ এই একটা মাসে জীবনটা অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। সবই সজীবের কল্যাণে।

ফাবিহা কোনো উত্তর দিলো না। উল্টো ঘুরে ভিন্ন পথে যাওয়ার চিন্তা করতেই তাকে থমকে দাঁড়াতে হলো। পেছন থেকে একজন তার ওড়না টেনে ধরেছে। কিন্তু ফাবিহার চমকে যাওয়ার কারণ ভিন্ন। তার সোজাসুজি ফারদিন দাঁড়িয়ে আছে, এই দুজনের দলের বাকিদের সাথে। ফাবিহা বিস্মিত হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলো। ভুলে গেল তার ওড়না অন্য কারো দখলে চলে যাচ্ছে।

চলমান~

(আগের পর্বে রেসপন্স কমে গেল কেন পাঠক? 🫠
গল্প কি ভালো লাগছে না?🥹)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 19 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন