ফন্ট সাইজ:
থিম:
বনজোছনা

পর্ব 22

লেখক: বিনতে ফিরোজ

#বনজোছনা
২২.

আট লাখ সত্তর হাজারের ঋণ কমে তিন লাখে নেমে আসাটা মোটেই চাট্টিখানি কথা নয়। ফাবিহার মনে হচ্ছিল মাথার উপর থেকে উহুদ পাহাড় সরে গেছে। বহুদিন পর বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিল সে। তাও কতদিন হবে? সে গুনতে পারছিল না। ছয় মাস কি হবে? না বোধহয়। বোধহয় আরেকটু কম। দুঃখের সময়টা মানুষের কাছে বড় দীর্ঘ বোধ হয় বলে তার হিসেব ক্যালেন্ডারের পাতার সাথে মেলে না।

প্রথম দিন রুদ্ধ চোখে বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেনি সে। কেবল বাড়িওয়ালার কথাগুলো শুনে গেছে— আলো ঝলমল করে না, দেয়াল চকচকে নয়, খোলামেলা বলে মানুষ পছন্দ করে না। কিন্তু যখন তার চোখের উপর থেকে দুশ্চিন্তার ভারী পর্দাটা সরে গেল, তারপরই ফাবিহা অনুভব করতে পারল—কুন্দকলি— কী চমৎকার একটা বাড়ি!

এখানকার সকালটা বড় আলসে। চট করে সে জেগে ওঠে না। তার ঘুম ভাঙানির প্রক্রিয়াটাও বড় শৈল্পিক। রাতের সাথে খুব একটা লুকোচুরি খেলে সূর্য যখন জিতে যায় তখন তার বিজয়ী অবয়ব খুব ধীরলয়ে পূবাকাশে উঁকি দিতে শুরু করে। সেই পূর্বীয় আড়মোড়া ভাঙা আলোটা পড়ে দেয়ালের কাধ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ওই কাকূড়চূড়ার মাথায়। মুহূর্তেই সবুজাভ আলোর বিচ্ছুরণে পুরো আঙিনা ঝলমলিয়ে ওঠে। মাথা দুলিয়ে দিনকে স্বাগত জানায় শিউলির পায়ের কাছে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা ভাট ফুলের দল। রোদ্দুরের এই সুর নিমের বন্ধনী টপকে, কৃষ্ণচূড়ার ডাল মাড়িয়ে খানিক জিরিয়ে নেয় নারিকেলের চিরল পাতায় বসে। ওখানে মাদুর বিছিয়ে বসে দেয়ালের ওপারে একলা দাঁড়িয়ে থাকা তাল গাছটার সাথেও কিছু আলাপ সেড়ে নেয়। তারপর খুব কায়দা করে, বড় আয়েশ করে টোকা দেয় ফাবিহার জানালায়। একটা পাল্লা খুলে এ ডাকের অপেক্ষাই রোজ করে সে। ডাকটা আসতেই ঝিমিয়ে থাকা আরেকটা পাল্লা খুলে দিয়ে ঘরটাকে পুরোপুরি জাগিয়ে তোলে।

পুরনো হয়ে যাওয়া মেঝেতে চেয়ে চেয়ে ফাবিহা শুধু দেখে— সকালের কি নৈসর্গিক রূপ! যদি ঋণের এ বিপদটা না হতো, যদি আগের বাড়িওয়ালা তাদের বের করে না দিত, যদি এই বাড়িওয়ালাও তাদের অনুমতি না দিত— তবে এই সকালটা কী কোনোদিন তার দেখা হতো! ভাবতে ভাবতে তার চোখ মুদে আসে। স্রেফ একটা সকাল দেখার জন্য কত অসংখ্য বেড়িবাঁধই না তাকে টপকাতে হলো!

কুন্দকলির বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার অধিবাসীরাও যে কতখানি সুন্দর এটা ফাবিহা টের পেয়েছিল এখানে আসার দুদিন পর। নতুন ভাড়াটে স্ট্রোক করেছে শুনে সাবিহা আপার সে কি ছোটাছুটি! দ্বিতীয় দিন তো তাকে রান্নাই করতে দিল না! নিজেই অগ্রগামী হয়ে তাদের সবার জন্য রান্না করে হাসপাতালে নিজে দেখতেও গেল। তবে দোষের মাঝে একটা হলো মেয়েটা বড় বেশি চিৎকার করে। তার ছোট বাচ্চাটা একেবারেই কথা শোনে না।

হীরা চৌধুরী লোকটা একটু নয়, বেশ অনেকখানিই গম্ভীর। চেহারার নকশাটাই ওরকম যে কথা বলার আগে দুবার না ভাবলে চলে না। পাটভাঙা সকালে তিনি পত্রিকা নিয়ে নিচে নেমে আসেন। উঠানের মাঝে রাখা স্টিলের চেয়ারটা যত্নের সাথে মোছামুছি করে আয়েশ করে বসেন টানা দেড় ঘন্টার জন্য। ঠিক সাড়ে আটটায় যখন সাবিহা উপর থেকে হেড়ে গলায় ডেকে বলে— “বাবা আপনি আসবেন নাকি আমি বাড়ি থেকে বের হব!”— তখনই পেপারটা দুমড়ে মুচড়ে বগলের তলায় নিয়ে উপরে ছুটে যান হীরা। এমন নয় যে সাবিহা ডেকে ডেকে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তার ধরনটাই অমন। যতক্ষণ পারবে চুপ করে সহ্য করে যাবে, যখন আর সম্ভব হবে না তখন তার ক্রোধের শিকার যে কেউ হতে পারে। এমনকি গম্ভীরমুখো হীরা চৌধুরীও। ভীষণ ঠান্ডা এই ভদ্রলোক পুত্রবধূর হু-ম-কি-ধামকি বেশ আনন্দের সাথেই গ্রহণ করেন বলে ফাবিহার ধারণা।

পরিবারটার সাথে বেশ মিশে গেছে ওরা। বিশেষ করে সিমি। দিনের অর্ধেকটা সময় তাকে রিফাতের পেছনে দৌড়ে কাটাতে হয়। সাবিহা অবশ্য নূরজাহানের অনুমতি নিয়েছেন। ওই বিচ্ছুটাকে সিমি বেশ সামলাতে পারে। তাতে সাবিহার জ্বালা কিছুটা কমে বটে।

দিনের বাকি অর্ধেকটা সিমি খুব ব্যস্ততার সাথে পার করে। নূরজাহানের সেলাই কাজের একমাত্র এবং প্রধান সহকারী সে। কাথাঁ পেড়ে দেয়া থেকে কাঠের প্লেট দিয়ে নকশার ছাপ বসানো, সোজা সেলাই করার কাজগুলো একচ্ছত্রভাবে সিমির দখলে। নূরজাহানের মাঝে মাঝে মনে হয়, সিমি আগের চেয়ে অনেক বেশি খাটা-খাটুনি করছে। ‌‌‌যেন বুঝিয়ে দিতে চাইছে—তাকে রেখে নূরজাহানের মোটেই লস হয়নি।

সবকিছুর নতুন শুরু হলেও একটা ফাঁক তখনও রয়ে গেছিল। মাথার উপরে তখনও তিন লাখের দৈত্য ঘাপটি মেরে বসে আছে। তাকে ভুলে যাওয়া মানেই সুদের ঘর লাফিয়ে লাফিয়ে লাখ ছুঁয়ে ফেলা। ফলে ফের একই অংক। আবার চার লাখ, পাচঁ লাখ, আবার নাভিশ্বাস উঠে দম বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু ফরিদের কলেজে দুমাসের বেতন দেয়নি। রেকর্ডিং থেকে পাওয়া ওই টাকা আর সেলাইয়ের সামান্য কিছু দিয়ে সংসার চললেও কারো ঋণ পরিশোধ হচ্ছে না। কুন্দকলির অস্ত যাওয়া সূর্য যখন আকাশের বুকে এক পোচ রঙ ছিটিয়ে বিদায় নেয়, সে মোহে ডুবতে ডুবতেও খাবি খেয়ে উঠে পড়তে হয় ফাবিহাকে। মাঝে মাঝে তার মনে হয় সে বোধহয় মোম। অনিঃশেষ পুড়তে থাকাই যার নিয়তি, ছাই হয়ে যাওয়া যার বারণ।

ভয়েস ওভারের কাজে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে ফাবিহা। এই একমাসের মাঝেই টানা তিনটে উপন্যাসে কন্ঠ দিয়ে ‘খসড়া’র নিয়মিত দর্শকদের মাঝে আলোচনায় চলে এসেছে। সৌমিক নিজেও তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। অন্যদের এক ঘন্টায় কম করে হলেও দশ-বারোটা রিটেক লাগে। সেখানে ফাবিহার রিটেক এই অবধি কখনো এক শটে পাচেঁর উপরে যায়নি। এই মসৃণ কাজের জন্য ইতোমধ্যেই অনেকের নজরে আসতে শুরু করেছে সে। বেশ নামকরা একটা টেক্সটাইল কোম্পানি থেকে তাকে বিজ্ঞাপনে ভয়েস ওভার দেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বড় কোম্পানি মানেই বেশি টাকা, আর বেশি টাকা মানেই তাড়াতাড়ি কিস্তি মাফ। ফলে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে গেলেও সেটা প্রকাশ করেনি ফাবিহা। তাদের কাছে ভেবে দেখার জন্য একটু সময় চেয়েছে। যত যাই হোক, নিজের কাঙালপনা বাইরে বলে বেড়ানোর মতো আত্মমর্যাদাহীন সে নয়।

কিন্তু কীভাবে কীভাবে যেন এই খবরটা সৌমিক পেয়ে গেল। সেটা অবশ্য শুরুতেই বুঝতে পারল না সে।

একদিন রেকর্ডিং শেষে সৌমিক প্রস্তাব দিলো, “ফাইভারে কাজ করবে ফাবিহা?”

এমন প্রস্তাব সৌমিক আর কাউকে দিয়েছে বলে ফাবিহা শোনেনি। সে বলল, “এত দিকে কাজ করলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয় না ভাইয়া।”

সৌমিক মাথা নাড়ল, “তা ঠিক, তবে এসব প্ল্যাটফর্মে অল্প পরিশ্রমে বেশি আয়। ডলারের হিসেব তো। তুমি কাজ করলে আমি তোমাকে রেফার করে দেব।”

“ভেবে জানাবো ভাইয়া।” সেদিনের আলাপ ওখানেই থেমে গিয়েছিল।

তারপর একদিন মিলিসহ আরো একজনের উপস্থিতিতে সৌমিক জিজ্ঞেস করল, “সকালে খাওয়া হয়েছে তো?”

ফাবিহা ভেবেছিল প্রশ্নটা সবার উদ্দেশে করা। সে ক্লান্ত ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, “না ভাইয়া। সময় পাইনি।” অন্য কেউ কোনো উত্তর দিল না।

সৌমিক তৎক্ষণাৎ হোটেল থেকে খাবার অর্ডার দিলে ফাবিহা বেশ বিব্রত বোধ করল। আর কেউ খাচ্ছে না দেখে সে লজ্জা পেলেও এই ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি।

কিন্তু যেদিন সৌমিক ‘তেতুল বনে জোছনা’র রেকর্ডিংয়ের জন্য তাকে নির্ধারিত অংকের চেয়ে দুহাজার টাকা বেশি দিলো—সেদিনই খটকাটা জোরাল হলো ফাবিহার।

সে টাকা হাতেই সৌমিকের কাছে প্রশ্ন করল, “আমাকে তো আট হাজার দেয়ার কথা ছিল ভাইয়া। এখানে দুই হাজার বেশি আছে।” টাকাটা ফিরিয়ে দিতে গেলে সৌমিক ল্যাপটপ স্ক্রিনের দিকে চোখ রেখেই বলল, “রাখো।”

ফাবিহার কপাল কুচকে এলো। প্রশ্নাত্মক কণ্ঠে সে বলল, “সরি?” ধাম করে তার কণ্ঠের মূল্য এতখানি বেড়ে গেছে— এটা বিশ্বাস করা কষ্টের। কর্মক্ষেত্রে সিনিয়র হয়েও মিলি যেখানে এখনও ছয় হাজার টাকা পায়।

ফাবিহা সন্দেহী কণ্ঠে বলল, “সবার স্যালারি কি বাড়ানো হয়েছে?”

সৌমিক উত্তর দিলো না। তার নিরুত্তর ভঙ্গিটাই ফাবিহাকে খোঁচাতে থাকল। ধীর ভঙ্গিতে সৌমিকের বিপরীতে ঠিক তার মুখোমুখি বসে বলল, “কিছু মনে করবেন না ভাইয়া। এই সেক্টরে আমার এক্সপেরিয়েন্স দুই মাসেরও কম। সেখানে অন্যদের তুলনায় আমার স্যালারি বাড়ার কারণ বুঝতে পারছি না।”

সৌমিক এক পলক তার দিকে তাকিয়ে ফের স্ক্রিনে চোখ ফেলল। এই প্রথম তাকে বিব্রত হতে দেখে অবাক হলো ফাবিহা। সে অনড় ভঙ্গিতে বসে রইলো। পুরো একটা রুমই পার্টিশন করে দুটো বানানো হয়েছে। দরজা ছাড়া সে পার্টিশনের ওপাশ থেকেই মিলিদের হুল্লোড় শোনা যাচ্ছে।

সৌমিক যখন বুঝল ফাবিহা উত্তর না নিয়ে নড়বে না তখন সে ল্যাপটপের স্লিপ বাটনে ক্লিক করে ফাবিহার দিকে তাকালো। ছোট করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল, “ফাবিহা, তুমি সম্ভবত এখনও আমাদের আপন মনে করতে পারোনি।”

সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কথা বলায় ফাবিহার কপালে ভাঁজ পড়ল।
“এ কথা কেন বলছেন, ভাইয়া?”

“কারণ আছে বলেই বলছি।” সৌমিক মাথা নাড়ল। “যদি নিজেদের মানুষ বলে মনে করতে তাহলে তোমার কষ্টটা অন্য কারো মুখ থেকে শুনতে হতো না।”

ফাবিহা তখনও চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে আছে।

সৌমিক পার্টিশনের দিকে তাকিয়ে বলল, “মানুষের জীবনে ক্রাইসিস আসেই। একেক জনের জীবনে একেক ভাবে আসে। কিন্তু সেটা চেপে যাওয়াতে তো কোনো সমাধান নেই। এমন একটা বিপদে পড়েছ, এটা আমাকে অন্তত জানাতে পারতে!”

ফাবিহার কপালের ভাঁজ সমান হয়ে গেল। বিস্মিত হয়ে সে ভাবতে থাকল—সৌমিক কীভাবে এসব জানতে পারল! সে কি ভুল করে কাউকে বলে দিয়েছে?

সৌমিক সরাসরি ওর দিকে তাকিয়ে বলল, “এই ঋণের কাহিনী যতদিন গড়াবে তত বাড়বে। অ্যাজ ফাস্ট অ্যাজ পসিবল এটা ক্লোজ করতে হবে। যেহেতু…”

“এজন্য আপনি আমার স্যালারি বাড়িয়ে দিয়েছেন!” হতম্ভম্ব কণ্ঠে বলল ফাবিহা। “আমার কাজের জন্য নয়? আমার অসহায়ত্বের জন্য?”

সৌমিক সোজা হয়ে বসল, “অসহায়ত্বের কথা আসছে কেন! তোমার কাজের বেসিসেই তোমাকে টাকা দেয়া হয়েছে। ফ্রি ফ্রি কিছুই দেয়া হয়নি। তুমি ভালো কাজ করেছ প্লাস তোমার টাকা দরকার…”

“আমার টাকা দরকার মানে যোগ্য আরও পাঁচজনকে দমিয়ে আমি টাকা নেব? ভাইয়া, আপনি কি সেদিন শুধু আমাকে এজন্যই খাইয়েছিলেন যে আমি বাসায় খেতে পাই না?” ফাবিহার চোখে অবিশ্বাস।

সৌমিক তটস্থ বোধ করল, “ফাবিহা, এত পেঁচিয়ে ভাবার কিছুই হয়নি। আমার বোন আজকে বিপদে পড়লে কি আমি তাকে হেল্প করতাম না? তুমি জিনিসটাকে বেশি জটিল করে ফেলছ। তোমাকে তোমার প্রাপ্য দেয়া হয়েছে। ব্যস! আর কিছু না।”

ফাবিহা অনেকটা সময় থম মেরে বসে রইলো। তাকিয়ে রইলো সৌমিকের চেহারার দিকে, অথচ ওর মুখ থেকে অনর্গল বের হওয়া একটা শব্দও সে শুনতে পেলো না।

ফাবিহা ফিসফিস করে বলল, “সেদিন আপনি আমাকে ফাইভারে কাজ করার অফার দিয়েছিলেন, এমন অফার তো আর কাউকে দেননি। সেটাও কি আমাকে করুণা করে? আমার যোগ্যতার জন্য নয়!”

সৌমিক হাল ছাড়ার ভঙ্গিতে শ্বাস ছাড়ল। ফাবিহার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমাকে হেল্প করাটা আমার কর্তব্য মনে হয়েছে, এজন্য আমি আমার দিক থেকে যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি। তুমি এটাকে অন্যভাবে কেন ব্যাখ্যা করছ!”

ফাবিহা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ভগ্ন কণ্ঠে বলল, “আপনার থেকে এটা এক্সপেক্ট করিনি ভাইয়া!” চূড়ান্ত অপমানে তার কণ্ঠ ভিজে আসছে। বহু কষ্টে সে ভেজা ভাব দূরে সরিয়ে বলল, “যোগ্যতার বেশি যেটা দেয়া হয়ে সেটা আর প্রাপ্য থাকে না, করুণা হয়ে যায়। কারো কোনো ধরনের করুণা নিয়ে আমি লড়াই করতে চাই না। এতদিনে যে আত্মবিশ্বাস আপনি তৈরি করে দিয়েছিলেন, সেটা এক মুহূর্তেই ভেঙে দিলেন। বেয়াদবি মাফ করবেন ভাইয়া, এই বছরখানেকের যুদ্ধে চূড়ান্ত অপমানটা আপনিই আমাকে করলেন।”

শরীরটা টেনে হিঁচড়ে স্টুডিও থেকে বের হলো ফাবিহা। তার যদি সামর্থ্য থাকত তবে এমুখো আর কোনোদিন হতো না! পুরো শরীরটা অবশ লাগছে। সৌমিকের কেন মনে হলো সে টাকা দিলেই ফাবিহা হাত পেতে নিয়ে নেবে? তার কাজকেই এই দোহাই বানানো! ঝাপসা চোখে চারদিকে দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকলো সে। ফুটপাথে ওঠার সময় একবার হোঁচট খেলো। আর সহ্য করতে না পেরে ওখানে বসেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল সে। দুহাতে মুখ ঢেকে এই লজ্জা লুকানোর একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালালো। তাকে মানুষ করুণা করতে চায়! এই দুঃসহ যন্ত্রণার বোঝা কোথায় রাখবে ফাবিহা!

—

ফরিদ আহমেদ সকালের রোদ পোহাবার ছুতোয় একটু চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন। সেই সুবাদে হীরা চৌধুরীর সাথেও বেশ কিছু কথাবার্তা হয়েছে। ভদ্রলোকের কথার শুরু হয় প্রবন্ধ দিয়ে, শেষও হয় প্রবন্ধ দিয়ে। প্রবন্ধের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং গল্প-উপন্যাসের অঘোষিত শত্রু এই লোকটাকে ফরিদ নাম দিয়েছেন প্রবন্ধ চৌধুরী। অবসরপ্রাপ্ত গম্ভীর হেড মাস্টারের সাথে নামটা খাপে খাপ মিলে যায়।

বিকেলে নাতিকে উঠোনে ছেড়ে দিয়ে হীরা চেয়ারে বসে ছিলেন। তিনি ভেবেছেন এই চেয়ারটা বাড়ির পেছনের আঙিনায় নিয়ে যাবেন। এখন নিচ তলায় তিনজন মেয়ে থাকছে। যখন তখন এখানে এসে বসে থাকাটা মোটেই শোভনীয় নয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা পুরোপুরি কাটে না। দোতলা থেকে নেমে ওদের বারান্দা পেরিয়েই মূল দরজা দিয়ে বের হতে হয়। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এটা খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ভাড়াটে না থাকায় একরকম অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন হীরা। এখন মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে। যখন তখন ওদিকে যাওয়া যায় না। উঠোনটা না দেখেও তিনি থাকতে পারেন না। সমাধান হিসেবে ভেবেছিলেন দরজার সামনে এসে গলা খাঁকারি দেবেন। তা অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে দিনে চোদ্দবার উঠতে নামতে যেয়ে অনবরত কাশাকাশির ফলে ওটা মোটামুটি স্থায়ী হয়ে গেছে। কী এক যন্ত্রণা!

হাঁটতে হাঁটতে ধূপ করে পড়ে যাওয়া নাতির দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে একটা সমাধানের চিন্তা করছিলেন হীরা।

এর মাঝে ফরিদ একটা প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে এসে তার সামনে বসলেন। দরাজ কণ্ঠে বললেন, “ভাইজান কেমন আছেন?”

“আছি।” গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন হীরা। এঁদের পরিবারটা তার পছন্দ হয়েছে। বাড়িঘরের যত্ন করে থাকছে। মেয়েটা মোটেই ফাঁকা বুলি ছোঁড়েনি।
“আপনাদের কী অবস্থা? বাড়ি কেমন লাগছে?”

ফরিদ হেসে বললেন, “চমৎকার লাগছে! আমাকে আপনি বলছেন কেন ভাইজান! আমি বয়সে আপনার ছোটই হব। আমার এসএসসি নাইন্টি ওয়ানে।”

“আমার এইটি।” ঠান্ডা কণ্ঠে বললেন তিনি। রিফাত ছুটতে ছুটতে একবার গেটের দিকে যাচ্ছে আবার এদিকে এসে দাদার পায়ে ঘাস ফেলে দিচ্ছে। আবার ছুটে যাচ্ছে ঘাস আনতে। খেলাটা খেলে সে যে খুবই মজা পাচ্ছে এটা তার চোখেমুখে স্পষ্ট।

ফরিদ খুব আমুদে কণ্ঠে বললেন, “আপনার বাড়িটা ভাইজান লেখালেখি করার জন্য খুব উপযুক্ত! এমন স্মৃতিকাতর আবহে বসে উপন্যাস লেখা শুরু করলে আর থামার উপায় নেই। গতকাল রাতে টানা তিন হাজার শব্দ লিখে তারপর দম নিয়েছি!”

হীরা চৌধুরী চোখা চোখে তাকিয়ে বললেন, “লেখালেখি করা হয় নাকি?”

“জি, ওই একটু-আধটু।” সলজ্জ কণ্ঠে বললেন ফরিদ।

“কী লেখেন?”

“গল্প, উপন্যাস। মাঝে মাঝে কবিতা লেখার চেষ্টা করি, কিন্তু ওটা ঠিক আসে না। তবে দু-একটা কাপলেট লিখতে পারি।” এতদিন পর লেখালেখি নিয়ে আলাপ করার মানুষ পেয়ে ফরিদের চেহারার উজ্জ্বলতা বেড়ে গেলো।

হীরা কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন, “গল্প, উপন্যাস লেখা একটা বোগাস কাজ! কোনো আউটপুট নেই, প্রোডাক্টিভিটি নেই! মনে যা এলো, লিখে দিলেই হয়ে গেল!”

তার মুখ বাঁকানো কথায় ফরিদের এতক্ষণ ধরে জ্বলজ্বল করে চেহারাটা ধপ করে নিভে গেল। কাষ্ঠ হেসে তিনি বললেন, “গল্প, উপন্যাস কিন্তু ভাইজান সমাজের মনন তৈরিতে অনেক ভূমিকা রাখে। এর প্রভাবও একেবারেই কম নয়। নাহলে দেখেন, এক বাকের ভাইয়ের ফাঁসি আটকানোর জন্য মানুষ রাস্তায় কেন নামবে? প্রধানমন্ত্রীকেও কেন হস্তক্ষেপ করতে হবে!” ফরিদের মন হলো খুব শক্ত একটা টোপ ফেলেছেন। ভেবেই আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন তিনি।

হীরা বিরক্ত গলায় বললেন, “বাঙালি জাতি হলো ইমোশনাল ফুল! এদের তিনবেলা ভাতের বদলে ইমোশন বেড়ে দিলে গপগপ করে খেয়ে আরও মজা বলবে! প্রবন্ধ পড়ে না বলেই এই সমাজের চিন্তা-ভাবনা এখনও খুচরো আবেগে আটকে আছে। হেহ!”

ফরিদ আহমেদের চেহারায় আবার অমাবস্যা ঘনালো। আলোচনাটা ক্রমেই তর্কে রূপ নিচ্ছে। একটা যোগ্য জবাব না দিকে পুরো উপন্যাস জাতিকে ছোট করা হবে ভেবে ফরিদ চুপ থাকতে পারলেন না। উশখুশ করতে করতে তিনি বলেই ফেললেন, “প্রবন্ধ তো ভাইজান জরুরি, এতে সন্দেহ নেই। এটা হলো সরাসরি মেডিসিন। একেবারে ডাইরেক্ট কাজ করে! কিন্তু উপন্যাস ডাল-ভাতের মতো। পেটও ভরে, পুষ্টিও হয়। প্রবন্ধ সব দলিলিক বিষয় নিয়ে ভারী আলোচনা করে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের তো ওসব ভারী আলোচনা গ্রহণ করার মতো বুঝ নেই। তাদের মাঝে সেই দলিলের প্রভাব তৈরিতে প্রচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করে উপন্যাস। অবচেতন মনে এমন একটা ছাপ ফেলে যে মানুষ মনে-প্রাণে সেই যুক্তিতে বিশ্বাস করে।” নিজেকেই মনে মনে বাহবা দিলেন ফরিদ। কী একখানা বক্তব্য!

হীরা অসম্ভব বিরক্ত হয়ে ফরিদের দিকে তাকালেন। বিতৃষ্ণা ভরা কণ্ঠে বললেন, “তা এটা কি চুরি হলো না? ডাইরেক্ট মেডিসিন খাওয়ানো যাচ্ছে না দেখে চুরি করে ভাতের ভেতর মিশিয়ে দিলাম! সরাসরি মানুষের সাথে কোনো মোকাবেলা হবে না, লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের সাব-কনশাস মাইন্ডে পুশ করে দেব! এই ভিশন নিয়েই আপনি লেখালেখি করছেন? বাহ! চমৎকার!”

ফরিদ কোনো উত্তর দেয়ার আগেই ফাবিহা দরজায় এসে হাজির হলো। এবং রিফাতের মিনি উসাইন বোল্ট বেগের সাথে মোটামুটি একটা সংঘর্ষ বেঁধে গেলো। মুহূর্তেই ছিটকে পড়ল রিফাত। তাড়াতাড়ি ওকে কোলে নিয়েই ঠোঁট ওল্টানো ভঙ্গিটা দম ফাটানো কান্নায় রূপ নিলো। এতদিন এই ছেলে একলা থেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আচমকা এত মানুষের চেহারা সহ্য করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে গেছে। সে নতুন নতুন মুখগুলো দেখলেই তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে।

ফাবিহা প্রচণ্ড বিব্রত হলো। শিশুদের কোলে নেয়ার পর তাদের কান্নাটা যে কি অপমানের—সেই অভিজ্ঞতার সাথে যারা পরিচিত হয়নি তারা কীভাবে বুঝবে! এ এক নীরব চপেটাঘাত! সদ্য অপমান সহ্য করে আসা ফাবিহার জন্য এই চপেটাঘাত সয়ে নেয়া কঠিন হলো। সে দ্রুত রিফাতকে তার দাদার কোলে হস্তান্তর করে দিলো।

ফরিদ মেয়েকে সাথে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। এবং তখনই হীরা চৌধুরীকে মনে মনে প্রবন্ধ চৌধুরী নামটা দিয়ে দিলেন।

দিন সন্ধ্যাকে দেখেই ঝিমিয়ে পড়েছে। পশ্চিমাকাশে রেড অ্যালার্ট জারি হতে দেখেই ঝিঁঝিঁ পোকা কোলাহল শুরু করে দিয়েছে। এই বাড়িতে দিনটা বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।

বিকেলে পাওয়া আট হাজার টাকার চার হাজার মায়ের হাতে রেখে বাকি চার হাজার দিয়ে রাতেই এক কিস্তি পরিশোধ করে দিলো ফাবিহা। নূরজাহান বারবার করে জিজ্ঞেস করলেন, “মুখটা শুকনো দেখাচ্ছে কেন মা? কিছু হয়েছে? বল আমাকে!”

ফরিদ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “কষ্ট তো সব ও-ই করছে। বাড়ির আরেক অপদার্থ জন্ম নিয়েছে পঙ্গু জীবন কাটানোর জন্য! আমাদের মাফ করে দিস মা রে!”

মানুষ দুটোর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য হলেও ফাবিহাকে হাসতে হয়। তার শুকনো মুখ দেখে যারা নিজের হাসি কবর দিতে পারেন— তাদের কাছে মন খারাপ হস্তান্তর করে দেয়ার মতো পাষন্ড ফাবিহা নয়।

খেয়ে ঘরে যেতেই সিমি গুটি গুটি পায়ে দরজায় এসে হাজির হলো। তার বুকে বালিশ জড়ানো। ফাবিহা ভুরু কুচকে বলল, “কী চাই?”

সিমি আমতা আমতা করে বলল, “আপনার সাথে থাকি ছোট আপা?”

রান্নাঘরের পাশের ঘরটা সিমির। সেখানেই ও এই কদিন যাবৎ থেকে এসেছে।

ফাবিহা বলল, “কেন? তোর ঘরে কী সমস্যা?”

সিমি আরও খানিকটা এগিয়ে এসে চাপা কণ্ঠে বলল, “রান্নাঘরের বাইরেই একটা সুপারি গাছ। বড় বড় পাতাগুলো রাত্রে জানালায় এমন জোরে বারি মারে! ভয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে ছোট আপা। আবার ওই ঘরের দরজাটাও কেমন! শুধু ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করে। অনেক ভয় লাগে আমার!” কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল সিমি।

ফাবিহা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, “আচ্ছা। শুয়ে পড়।”

সিমি নিচে শুতে গেলেই ওকে এক ধমক দিল ফাবিহা।

“সোজা উপরে শুবি! এদিক ওদিক করলে একদম ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দেব!”

খুশিতে খলবল করতে করতে সিমি বিছানায় কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে পড়ল। মুহূর্তের মাঝেই তার ভারী নিশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া গেলো।

ঘুমাতে পারল না কেবল ফাবিহা।

থেকে থেকেই বিকেলের ঘটনাটা বুকে ঘাই মেরে যাচ্ছিল। অনেক চেষ্টা করেও মনটা ঘোরাতে পারল না সে। তখন হঠাৎ মনে পড়ল অনেকদিন যাবত কুরআন পড়া হচ্ছে না। দু’সপ্তাহ অথবা তারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। একটা অর্থসহ কুরআন টেবিলেই ছিল। সেটা টেনে নিয়ে ফিতা দেয়া পৃষ্ঠাটা খুলল ফাবিহা। নূরজাহান বোধহয় চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলেন।

অর্থ পড়তে পড়তে তার ঝিমুনি এসে যাচ্ছিল। টেবিলে হেলান দিতে দিতে শরীরের অনেকখানি এলিয়ে দিয়েছিল সে। আর এক আয়াত পড়ে পৃষ্ঠাটা শেষ করে বন্ধ করে রাখবে, ঠিক সে সময় সূরা আহযাবের বত্রিশ নম্বর আয়াত তার দুচোখের ঘুম পুরোপুরি কেড়ে নিলো।

“হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষক কণ্ঠে কথা বলো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি (কুপ্রবৃত্তি) আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদাচারণমূলক ও শিষ্টাচারসম্মত কথা বলবে।”

বারবার পড়ল ফাবিহা। নবিপত্নীদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে দেখে দম ছাড়তে চাইলেই নিচের টীকায় নজর আটকালো। ওখানে স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে, নবিপত্নীদের সম্বোধন করা হলেও এই আদেশ মূলত প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য।

ফাবিহার বুক ধড়ফড় করতে শুরু করল। তার কাজই তো কোমল কণ্ঠে কথা বলা! এবং সেটা কেবল একজনকে নয়, পুরো দুনিয়াকে শোনানো। কুরআন বন্ধ করে চেয়ার ছাড়ল সে। লাইট বন্ধ করে বিছানায় যেতে যেতে ভাবল— এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সে আছে, নিয়মটা নিশ্চয়ই এত কঠিন হবে না।

চোখে ঘুম নামলেও বুকে শান্তি নামলো না।

পরদিন আরেকটি নতুন রেকর্ডিংয়ের কাজ ছিল। আসতে দেরি হতে পারে এটা জানাতেই ফরিদ বললেন, “কেন? আজকেও রেকর্ডিং আছে?”

“হ্যাঁ বাবা।”

ফরিদ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “দোয়া করি মা, আল্লাহ সহজ করুন।”

ফাবিহার নিশ্বাস তখনই আটকে গেলো। যাঁর নিয়ম ভাঙার কাজ করতে যাচ্ছে, সে কাজে তাঁর কাছেই সাহায্য কামনা করা! এ কেমন প্রহসন! এটা কি স্রেফ মশকরা নয়!

“তুমি কার সাথে তামাশা করছ, ফাবিহা!” কেউ যেন চিৎকার করে বলল! অথচ উঠোনে কেউ নেই। সাবিহার উচ্চকণ্ঠও আজ শোনা যাচ্ছে না।

ফাবিহার গলা শুকিয়ে এসেছিল। গতকাল সৌমিকের কাজে তার অপমানবোধ হয়েছে বলে সে রাগে ফেঁটে পড়েছিল, যদিও সে প্রকাশ করতে পারেনি, কিন্তু অনুভূতিটা তো মিথ্যে নয়। তবে আজ মালিকের বিধি ভেঙে তাঁর কাছেই বিধি ঠিক করার আর্জি জানানোটা কি তাঁর অপমান নয়! ফাবিহার বুকটা ধ্বক করে উঠল। গতকাল বিকেলে সে টেক্সটাইল ওই কোম্পানিকে ইমেইলে কনফার্মেশন পাঠিয়েছে যে বিজ্ঞাপনের কাজটা সে করবে। অন্তত এখানে তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই যাচাই করা হয়েছে।

আজ, এই ক্ষণে মনে হলো— সে আসলে কী করছে?

সুদের সাগরে ডুবে, সেই সাগর থেকে উত্তরণের জন্য আরেক নিষিদ্ধ পথে পা বাড়িয়েছে। আর আশা করছে শীঘ্রই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সে আশা করছে— এই পথের কষ্টের বিনিময়ে সে প্রচুর নেকি পাবে। কোন সে পথ? যেখানে নিয়ম ভাঙ্গাটাই নিত্যকার নিয়ম! এভাবেই সে একদিন পরকালের শরৎ পাবে! কী দুঃসাহসিক প্রহসন!

ভাবনাটা ফাবিহাকে অসাড় করে দিলো। ছোট্ট একটা ইটের টুকরোর সাথে বেঁধে সে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে পড়ে গেল।

চলমান~

(সন্ধ্যার পরে লিখতে বসেছি বলে দেরি হয়ে গেল। খুব সরি! আর অসংখ্য ধন্যবাদ! চারশ না হোক, এই যে আমার আবদারে আপনারা এমন উজাড় হয়ে সাড়া দেন— এটাই আমার কাছে যথেষ্ট! খুব খুব খুব ধন্যবাদ 🥹

বাই দ্য ওয়ে! ছবির বাড়িটার সাথে কুন্দকলির সবটা যদিও মেলে না, তবে সেই আবহের সাথে অনেকখানি মিল আছে, বলুন?)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 22 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন