ফন্ট সাইজ:
থিম:
বনজোছনা

পর্ব 29

লেখক: বিনতে ফিরোজ

#বনজোছনা
২৯.

বহু পুরোনো সবুজ রঙের একটা ফ্যান মাথার ওপর ঘড়ঘড় করে ঘুরছে। ঘোরার সময় ওর পাখাগুলো এমনভাবে দুলে ওঠে যে মনে হয় এক্ষুণি খুলে পড়ে যাবে। ফ্যানটা নিজের ঘরে নিতে চেয়েছিলেন ফরিদ, ফাবিহা কোনোমতেই রাজি হলো না।

ছাদের দিকের কিছু পলেস্তারা খসে গেছে। দেয়ালের কিছু কিছু জায়গায়ও নোনা ধরেছে। সকালের ত্যারছা রোদে হালকা হলুদের মাঝে ওই সবুজ শ্যাওলার অংশটুকু বড় বেখাপ্পা দেখাচ্ছে।

দক্ষিণের দেয়ালে একটা আলমারি। জিনিসটা সকলে ব্যাবহার করলেও কারো ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শেষমেষ এটার জায়গা হয়েছে এ ঘরে। সে আলমারির পেছন থেকে উঁকি দিচ্ছে যুগ পুরনো একটা ক্যানভাস। উপহার দিয়েছিলেন তার এক সহকর্মী। কিন্তু চমৎকার সে বাগানের দৃশ্যে একটা বিশাল প্রজাপতি থাকায় সেটাকে চোখের আড়ালে ঠায় নিতে হয়েছে।

আলমারির পাশেই আড়াই হাতের জানালা। কাঠের পাল্লা থেকে থেকেই বাতাসের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে। আটকে রাখার মতো কিছু নেই বলে এটাই তার নিয়ম। খুব আয়োজন করে শরৎকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সে।

টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ডায়েরি তৈরির সরঞ্জাম। ফরিদ একদৃষ্টে খানিকক্ষণ ওগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন। ধীরে সুস্থে উঠে যেয়ে এমনভাবে স্পর্শ করলেন— যেন নবজাতক কোনো শিশু। একটু কঠিন হাতে ধরলেই ব্যথা পাবে। এই কাজ থেকে মন লাভ পায় মেয়েটা? কখনও আলাপ করা হয়নি। হিসেব করা হয়নি— এ জীবনে মেয়ের থেকে ঠিক কতখানি তিনি দুহাত পেতে নিলেন।

উড়ন্ত পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে ফরিদ নিজের সিদ্ধান্ত আরেকবার ঝালাই করে নিলেন। শরীরটা সায় দেয় না বটে, তবে অথর্বের মতো এভাবে বসে থাকাটাও শাস্তি। তিনি ঠিক করেছেন আবার ছাত্র পড়ানো শুরু করবেন। আজকাল টিউশনির দাম বেড়ে হাজার ছড়িয়ে পনেরশ ছুঁয়েছে। বহুবছর ধরে তিনি পাঁচশ টাকা দিয়েই পড়িয়েছেন। কোচিং বন্ধ হবার কয়েকমাস আগে অবশ্য তাল মিলিয়ে তিনিও বেতন হাজার করেছিলেন। টিকতে পারেননি। এ বেলায় ভাবলেন সাত-আটশর মাঝে পড়াবেন। প্রকৃতপক্ষেই যদি কারো আর্থিক দুরাবস্থা থেকে থাকে সেও একটু লাভবান হলো, পাশাপাশি তিনি কম টাকায় পড়াচ্ছেন— এই উসিলায়ও যদি দুটো ছাত্র হয়, তবু সেটুকু লাভ।

মেয়ের ঘর থেকে বেরিয়ে ছেলের ঘরের সামনে দাঁড়ালেন ফরিদ। দরজা চাপানো। একটু ধাক্কা দিয়েই শব্দ করে খুলে গেলো। ফারদিন কাঁথা গায়ে দিয়ে উপুড় হয়ে ঘুমুচ্ছে। বাড়িতে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ ঘুমায়। চোখ খুলেই বাইরে চলে যায়। জীবনটা এভাবে খরচ করে ফেলছে কেন ও!

“ফারদিন!” শক্ত কণ্ঠে ডাক দিলেন ফরিদ। সে একবার নড়ে আবার ঘুমে তলিয়ে গেল।

“ফারদিন!” ধমকে উঠলেন তিনি। ফারদিন চোখ খুলে একটু দেখল। বিরক্ত হয়ে বলল, “কী সমস্যা!”

ফরিদের রাগ আকাশ ছুলো। দুর্বল কণ্ঠে সবটুকু জোর দিয়ে তিনি ধমক দিলেন, “কী শুরু করছিস তুই! জীবনটা কী মনে হয়? রাস্তার ফকিরও তো ভিক্ষা করে খায়! তুই কী করছিস?”

ফারদিন উঠে বসল। নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, “তুমি কি আমাকে ভিক্ষা করতে বলছ?”

“আমি বললেই করবি? যা কর! নিজের পেট নিজে চালিয়ে বোঝ দুনিয়া কীভাবে চলছে!”

ফারদিনের মাঝে কোনো বিকার দেখা গেলো না। রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফরিদ বললেন, “কী চাস তুই! কী করতে চাস আমাকে বল! আমি বেঁচে থাকতে তো তোর শরীর চালানো দেখতে পাবো না। আমি মরলে তুই মানুষ হবি?”

নূরজাহান আড়ালে থেকে সব শুনছিলেন। ছুটে এসে স্বামীকে ঘর পাঠিয়ে দিলেন। ভেজা লালাভ চোখে ছেলের কাছে গেলেন। শীতল কন্ঠে বললেন, “তোর সমস্যাটা কী ফারদিন?”

“কোনো সমস্যা নেই। যা ছিল সেগুলো বাদ দিয়ে দিয়েছি।”

“পড়াশোনা করাটা সমস্যা?”

“সবার সবকিছু ভালো লাগবে এটা ভাবার কোনো মানে নেই।”

“তোর কি কোনো দায় দায়িত্ব নেই? পড়াশোনা করবি না তো একটা কাজ কর। চোখের সামনে দেখছিস তোর বাবার শরীরের কী অবস্থা হয়েছে, ঋণের যন্ত্রণায় ফাবিহা পর্যন্ত রক্ত পানি করে দিচ্ছে! তাও তুই বসে বসে খাস কীভাবে? একটুও লজ্জা লাগে না!”

“মেয়ে খাওয়াচ্ছে তারটাই খাও না!” বিরক্ত হয়ে বলল ফারদিন।

“কেন ও খাওয়াবে? কেন খাওয়াবে তোকে! তোর মতো অমানুষকে না খাইয়ে মেরে ফেলা উচিত!” কম্পিত কণ্ঠে বলতে বলতে চলে গেলেন তিনি। ফারদিন বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ল। জামা-কাপড় পাল্টে বাইরে চলে গেলো। ঘর থেকে সব ঠিক পেলেন ফরিদ। তার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হলো। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে এলেন।

ছোট থেকেই ফারদিনের পড়াশোনার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। সেসব আমলে নেননি ফরিদ। নিজের সবটুকু শ্রম ব্যয় করেছেন ছেলেমেয়ে দুজনের পেছনে। এসএসসি, এইচএসসি কোনোমতে পাশ করল ফারদিন। ফরিদ ভেবেছিলেন এবার একটু দুনিয়া চিনবে, বাবার কষ্ট বুঝবে। কিন্তু তার কিছুই হয়নি।

পড়াশোনায় মন না থাকলেও বদ সঙ্গের দোষ ছিল না তার। নিজের মতো ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু সমস্যা যেটা ছিল সেটাও মারাত্মক, অলসতা। নড়তেই তার বেজায় বিরক্তি। সে ছেলের মাথায় যখন বিদেশ যাওয়ার ভূত চাপলো, তখন ভয়ই পেলেন ফরিদ। বিদেশের মাটিতে টেকা চাট্টিখানি কথা নয়। দেশে বাবা-মা মুখে তুলে খাইয়ে দিয়েছে বলে কষ্ট বোঝেনি। তার এই আরামপ্রিয় ছেলে যে দূরে যেয়ে একটা দিনও টিকতে পারবে না এটা সে না বুঝলেও তিনি খুব ভালো মতোই জানতেন। কাজেই এক বাক্যে ওর প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। সেদিন থেকেই সম্ভবত অলসতার সাথে আরও একটা কারণ যুক্ত হলো। ছেলেটা কোনোদিনই তাকে বুঝল না। বুঝল না তার দুটো টিউশনি বেশি করানোর মানে। লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ছাত্র পড়ানোর কারণটাও জানার চেষ্টা করল না। বুকে হাত দিলেন ফরিদ। চিনচিনে একটা ব্যথা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাবা হিসেবে তিনি খুব বিশেষ কিছু নন। এ দেশের বাকি চার পাঁচটা বাবার মতোই তার অবদান। সম্ভবত বিশেষ কিছু করতে পারেননি বলেই ছেলের মন পেলেন না। ভাবতে ভাবতে তার শরীরটা ক্রমশ অবশ হয়ে আসছিল।

হীরা চৌধুরী অনেকক্ষণ যাবৎ ফরিদকে লক্ষ্য করছেন। মাথাটা আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পরতে দেখে তিনি আশঙ্কা বোধ করলেন। এগিয়ে যেয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “এই যে, লেখক সাহেব! কী অবস্থা?”

নিভু নিভু চোখে তাকালেন ফরিদ। ধাতস্ত হতে বেশ কিছুটা সময় লাগল। ফিসফিস করে বললেন, “আসসালামু আলাইকুম ভাই!”

হীরা তীক্ষ্ণ চোখে দেখলেন। কাউকে ডাকবেন কি?
ডাকতে হলো না। কয়েক মিনিটের মাঝেই ফরিদ নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। হীরা চৌধুরী তার বিপরীতের চেয়ারে বসলেন। আয়েশ করে বললেন, “লেখালেখির কী খবর? নতুন কোনো উপন্যাস লিখছ না?”

প্রবন্ধ চৌধুরীর মুখে উপন্যাসের কথা শুনে যারপরনাই অবাক হলেন ফরিদ। উৎফুল্ল হয়ে বললেন, “ভাইজান, একটা খবর আছে।” কিছুক্ষণ আগে বিষাদ কেটে যেয়ে তার মুখে লজ্জার আভা দেখা গেল।

হীরা চৌধুরী ভুরু কুচকে বললেন, “কী খবর? মেয়ের বিয়ে নাকি?”

“জি না। ইয়ে… আমার একটা গল্প, উপন্যাসিকা বলা যায়, সেটা এক প্রকাশকের পছন্দ হয়েছে। তিনি ছাপাতে চান। আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন।”

হীরা চৌধুরী অবাক হয়ে বললেন, “বাহ! এ তো ভালো খবর! তাহলে অফিশিয়ালি লেখক হয়ে যাচ্ছ!”

ফরিদ আহমেদ স্মিত হাসলেন।
“দোয়া করবেন ভাইজান।”

“দোয়া করলাম। কিন্তু এই উপন্যাসিকা-ফাসিকা লিখে সমাজের মানুষের লাভ কী বলো তো? মন-মর্জি যেমন হলো লিখলে। নাম দিলে সৃজনশীলতা। একটা অবস্থা বটে!”

ফরিদ আহমেদ কোনো উত্তর দিলেন না।

হীরা চৌধুরী বললেন, “কী? কথা বলছ না কেন?”

“আপনি ভালো জানেন ভাইজান, কিন্তু গল্প-উপন্যাসের প্রভাব আসলে আছে। এটা অস্বীকার করতে পারবেন না। ছেলেমেয়েরা পড়ছে। ওরা যখন পড়ছেই তাহলে ওদের হাতে ভালো কিছু তুলে দেয়া আমাদের দায়িত্ব না?”

হীরা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
“তোমাদের হিসাব কিতাব বুঝি না। ছেলেমেয়েরা বিপথে গেলে তাদের জন্য বিপথটা সাজিয়ে দেবে? ধরে পথে আনবে না?”

ফরিদের মাঝে আজ যুক্তি দেয়ার কোনো উদগ্রীবতা লক্ষ্য করা গেলো না।

হীরা চৌধুরীই বলে গেলেন, “সাধারণ মানুষ বানিয়ে কথা বললে সেটা হয় মিথ্যা কথা। আর তোমরা, গল্পকারেরা বানিয়ে বললে সেটা হয়ে সৃজনশীলতা। যে যত বেশি ভালো মিথ্যা বলতে পারবে, সে তত বেশি সৃষ্টিশীল। অদ্ভুত নিয়ম-কানুন!”

তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ফরিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “যাক, মাঠে যখন নেমেছই, ভালো করো। শুভকামনা রইলো।”

ফরিদ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। জুতো-টুতো যা মারার মেরে এবার গরুদান করে দিয়ে গেল? বেশ!

সেদিন কলেজে যেয়েই দুজন ছাত্রকে খুঁজে বের করলেন ফরিদ। এরা তার কাছে পড়ার কথা বলেছিল কিছুদিন আগেই। কলেজ ছুটির পর আর দেরি করলেন না। একজনের বাড়িতে নিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। এত বছরের জমানো অভিজ্ঞতার সবটুকু ঢেলে দিলেন। থেকে থেকেই মেয়ের রুগ্ন মুখটা চোখে ভেসে উঠলে এই দুর্বল শরীরেও বল পেলেন তিনি।

—

আজকের রাতটা বিশ্রাম নেবে বলে ভেবেছিল ফাবিহা। তবে বিছানায় পিঠটা লাগানোর পর থেকেই মাথায় নানান চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। কতরকম কথাই না মনে হচ্ছে!

মনে হচ্ছে, লেদারের কাজ করলে কেমন হয়? দাম যদিও বেশি কিন্তু ডায়েরির কভারে লেদার দিলে তার পুরো সৌন্দর্যই পাল্টে যাবে। ভেতরে কী করা যায়? অল্প একটু পানিতে অনেকখানি কফি মিশিয়ে সেটা দিয়ে পৃষ্ঠায় রঙ করে দেয়া যায়। একটা ভিনটেজ কালারের সাথে সাথে সুন্দর একটা ঘ্রাণও আসবে। নিজের জন্যে না কিনলেও গিফট দেয়ার জন্য পার্ফেক্ট!

এসব নতুন নতুন আইডিয়া তাকে স্থির থাকতে দিচ্ছিল না। কাগজ কাটাকাটির পর বেশ কিছু মলাটের কাগজ বেঁচে গেছে। ওগুলোর দাম যেমন বেশি পুরুত্বও বেশ। সহজে ভাঁজ করা যায় না। এমন কাগজগুলো ফেলে দিতে হবে ভাবলেই খারাপ লাগছিল। কতগুলো টাকা! হঠাৎ একটা চিন্তা মাথায় আসতেই ঝট করে উঠে বসল সে। বেঁচে যাওয়া কাগজগুলো দিয়ে চিঠির খাম বানালে কেমন হয়! আর বসে থাকত পারল না ফাবিহা। খাটের নিচ থেকে বেতের ঝুড়িটা টেনে বের করল। কাটা কাগজগুলো ওখানেই রেখেছিল।

নেভি ব্লু রঙের যে কাগজটা খুব পছন্দ হয়েছিল, সেটা বের করে ঝটপট একটা খাম বানিয়ে ফেলল সে। কাজটা তেমন কঠিন নয়। কিন্তু চাহিদা তৈরির মতো সৌন্দর্যও এতে নেই। ঠোঁট কামড়ে সে ভাবতে বসল এখানে কী কারসাজি করা যায়। চারদিকে চোখ ঘোরাতে ঘোরাতেই বাবার একটা সিল চোখে পড়ল। সিল মোহর করলে জিনিসটা কী দারুণ হবে না! ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা অনুভব করছিল ফাবিহা। আর বসে থাকা সম্ভব হলো না।

মেঝেটা লাল রঙের। সাদা জামা ছড়িয়ে সে যখন বসল, মনে হলো অক্টোবরের নিশুতি রাতে সদ্য ফোঁটা শিউলি ঝরে পড়েছে। একের পর এক কাগজ নিয়ে খাম বানাতে শুরু করল সে। প্রথম দফায় একটা ছোট্ট পরীক্ষা করতে হবে। এরপর যে ডায়েরিগুলো পাঠাবে সেগুলোর সাথে একটা করে খাম দিয়ে দেবে। অবশ্যই না বলে। বিনামূল্যের যেকোনো কিছুই কাস্টমারের প্রিয়। আর জিনিসটা যখন প্রকৃতপক্ষেই সুন্দর, তখন তা মনে না ধরে যায়ই না! এই উসিলায় বেশ একটু মার্কেটিংও হয়ে যাবে!

পাশেই ফোন রাখা ছিল। সেখানে একের পর এক ভিডিও চলছে। শুরুতে চলছিল সকাল সন্ধ্যার দোয়ার গুরুত্ব। ঘুরতে ঘুরতে ভিডিও থামলো নবীজি (সা:)-কে নিয়ে একটা আলোচনায়। পারদর্শী ভঙ্গির হাতজোড়া ওদিকে ব্যস্ত থাকলেও কানদুটো এদিকে দিয়ে রাখল ফাবিহা।

সিমি এক ফাঁকে এসে চুপচাপ বসে রইলো। ওদিকে আলোচনা চলছে।

“নবীজির সাথে দেখা হলে আপনি কী করতেন?”

“মনের ভেতর যা যা প্রশ্ন আছে, যেসব নিয়ে এখন মুসলমানদের ভেতর দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হয় সে সব কিছু সম্পর্কে জেনে নিতাম।”

“আর আপনি কী করতেন?”

দ্বিতীয় লোকটা অনেকক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, “আমি মনে হয় কিছুই করতে পারতাম না। নবীজিকে দেখছি— এটা বুঝতে বুঝতেই আমার সময় কেটে যেত।”

ফাবিহা ঝট করে ভিডিওটা বন্ধ করে দিল। খামের কাজ চালাতে চালাতে বলল, “বল তো সিমি, নবীজির সাথে দেখা হলে তুই কী করতি?”

সিমি তন্ময় হয়ে আলোচনা শুনছিল। এ পর্যায়ে তার মুখে একটা লজ্জালু ভাব খেলে গেলো। ফাবিহার দিকে আরেকটু এগিয়ে এসে বলল, “বললে হাসবেন না তো?”

ফাবিহা অবাক হয়ে বলল, “হাসব কেন!” তার চোখ তখনও খামের দিকে।

সিমি স্বপ্নালু কণ্ঠে বলল, “আরব দেশে তো নাকি রুটি খায়। রুটির এত কী খায় আল্লাহ জানে! নবীজিও তো এসব খেয়েছেন। তাঁর সাথে যদি আমার একবার দেখা হতো, আমি তাঁকে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে আলু ভর্তা, কালোজিরা ভর্তা, পটল ভর্তা খাওয়াতাম। সাথে থাকত চাক করা দুইটা বেগুন ভাজি, এক চামচ ঘি, তেলে ডুবানো জলপাইয়ের আচার আর আম-ডাল। এই সবগুলো আমি অনেক সুন্দর করে বানাতে পারি ছোট আপা। নিজে রান্না করে নবীজিকে খেতে দিতাম। উনি তো মিষ্টি পছন্দ করতেন, যদিও ভর্তা ঝাল ঝাল মজা, কিন্তু তাও ঝাল একটু কম দিতাম। কেউ দাওয়াত দিলে তো নবীজি ফিরিয়ে দিতেন না শুনেছি। আমারটাও দিতেন না, তাই না ছোট আপা? আমি অনেক যত্ন করে খাওয়াতাম।”

ফাবিহা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। বলল, “মনে তো হচ্ছে তোর ইচ্ছা রেডি ছিল!”

“আমি মাঝে মাঝেই ভাবি।” ক্ষীণ কণ্ঠে বলল সিমি। “গরীব মানুষ নাকি অনেক আগে জান্নাতে যায়? আমি যদি কোনোদিন যেতে পারি, তাহলে অবশ্যই এই স্বপ্নটা পূরণ করব। আচ্ছা ছোট আপা, তখন কি আমার এই স্বপ্নের কথা মনে থাকবে?”

তার চিন্তিত চেহারার ভাঁজে হারিয়ে গেল ফাবিহা। কী সাধারণ একটা মেয়ে, এমন অসাধারণ স্বপ্ন তার ভেতরে কীভাবে জন্ম নিল! ফাবিহা কেন এমন চমৎকার সব স্বপ্ন দেখতে পারে না?

—

ফরিদ আহমেদ সারারাত ছটফট করেছেন কিন্তু মুখ ফুটে এই অশনি সংকেতের আভাস কাউকে শোনাতে পারেননি। নূরজাহান ফজরে উঠে দেখলেন ফরিদ আগে থেকেই ঘর জুড়ে পায়চারি করছেন। তিনি কোনো রকমে চোখ খুলে বললেন, “কী হয়েছে তোমার? বুকে ব্যথা করছে নাকি?”

ফরিদ সহসাই কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। ঢোক গিলে বললেন, “চেয়ারম্যান যেতে বলেছে।”

ঝট করে চোখ খুললেন নূরজাহান।
“চেয়ারম্যান যেতে বলেছে মানে?”

“গত দেড়মাসে একটা টাকাও দেয়া হয়নি। ওরা মনে হয় চেয়ারম্যানকে ধরেছে।” ভয়ার্ত কণ্ঠে বললেন তিনি। নূরজাহান স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

বহু কষ্টে বললেন, “কবে যেতে বলেছে?”

“আজকে।”

“কিহ!” নূরজাহানের মনে হলো তিনি নড়চড় করতে পারছেন না।
“ক..কখন বলেছে?”

“কালকে রাতে।” ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন ফরিদ। “আমি আর পারছি না!” ভঙ্গুর কণ্ঠে বললেন তিনি।

নূরজাহান সেদিকে মনোযোগ দিতে পারলেন না। তার কেবলই মনে হচ্ছিল সম্মানের যেটুকু বাদ আছে সেটাও আজ ধুলোয় মিশে যাবে। ওরা নিশ্চয়ই মধুর আলাপ করতে ডাকছে না! সালিশ বসাবে, তাদের বিচার হবে। বিচার কি কোনোদিন অপরাধীর অনুকূলে হয়? নূরজাহানের গলা শুকিয়ে এলো। ছেলেটা আগে থেকেই গোল্লায় গেছে। চিন্তা কেবল মেয়েটাকে নিয়ে। বয়স হয়েছে, একবার বিয়ে ভেঙেছে, ভরা মাঠে সালিশ বসিয়ে ওর কপালে চূড়ান্তভাবে তালা ঝোলানো হবে। ওর কি আর কোনোদিন বিয়ে হবে? ভেতরে ভেতরে অস্থির বোধ করলেন তিনি।

ফাবিহা ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য বের হবে, তখন দেখল নূরজাহানের চোখ-মুখ কেমন বসে গেছে। সকালেও একটু খটকা লেগেছিল। তবে তখন মনে হয়েছিল এই নিরবচ্ছিন্ন সমস্যার মাঝে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার জন্য সে নতুন কোনো কারণ তো দরকার নেই। কিন্তু এখন মায়ের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কিছু একটি লুকানোর চেষ্টা করছেন।

ফাবিহা সন্দেহী কণ্ঠে ডাকল, “আম্মু?”

“হু?” নূরজাহান উত্তর নিলেন বটে, কিন্তু চোখ মেলালেন না। ফাবিহার সন্দেহ গাঢ় হলো।

সে এগিয়ে গেলো মায়ের দিকে, “কী হয়েছে?”

“কী হবে!” অকারণেই টেবিল মুছতে লাগলেন তিনি।

“আমার দিকে তাকাও।” মায়ের হাত ধরে নিজের দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করলেও সফল হলো না সে।

নূরজাহান বিরক্ত হয়ে বললেন, “কী সমস্যা? বিরক্ত করছিস কেন!”

“বিরক্ত করলাম কোথায়! কী হয়েছে বলবে না!”

“কিছু হলে না বলব! নতুন করে আর কী হবে?”

“তাহলে এমন করছ কেন?”

“কেমন করছি?”

“দেখি, আমার দিকে তাকাও তো আম্মু! নাকি বাবার কাছে যাব?”

এই কথায় কাজ হলো। নূরজাহান ভয়ার্ত চোখে তাকালেন। ফরিদ কোনোদিন মেয়ের চোখ লুকাতে পারবেন না।

“কী? এমন শুরু করছিস কেন?”

ফাবিহা তীক্ষ্ণ চোখে মাকে দেখল। তার চেহারার ভাঁজে ভাঁজে অস্বস্তি। নরম কণ্ঠে বলল, “কী হয়েছে আম্মু? বলবে না আমাকে?”

নূরজাহানের বুক ঠেলে কান্না বের হতে চাইলো। খুব কষ্টে দমিয়ে রেখে বললেন, “কিছু হয়নি। তুই যা তো!”

“আমাকে তাড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছ কেন? না, আমি বাবার কাছেই যাবো!”

মেয়েকে বহু চেষ্টা করেও আটকাতে পারলেন না তিনি। ফলাফল যা হবার তাই হলো। ফরিদের মুখ থেকে কথা আদায় করে ক্ষান্ত হলো ফাবিহা।

স্তব্ধ হয়ে বলল, “তোমরা কি ওখানে একা যাওয়ার চিন্তা করেছ নাকি! অসম্ভব! মরে গেলেও তোমাদের ছাড়ব না আমি! হয় আমাকে নিয়ে যাবে, নয়তো যাওয়ার দরকার নেই।”

ফরিদ-নূরজাহান হাজার বুঝিয়েও মেয়েকে নিরস্ত করতে পারলেন না। ফাবিহা কোনোভাবেই মানলো না। তার বাবা মা দুজনেই দুর্বল হৃদয়ের মানুষ। শরীরের আঘাত তবু সহ্য করতে পারবে, সম্মানের দিকে আঘাতটাই তাদের মেরে ফেলবে। সে কস্মিনকালেও তা হতে দেবে না। সিমিকে সাবিহার দায়িত্বে রেখে তারা বেরিয়ে গেল।

*****

সালিশের আয়োজন বেশ জমকালো। যে সাত আটজন তাদের পাওনাদার সকলে বেশ গুছিয়েই হাজির হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকের সাথেই দু-চারজন সাগরেদ দেখা যাচ্ছে। চেয়ারম্যানের তো রয়েছেই, যে সবচেয়ে কম টাকা পায় সে-ও লোক ছাড়া আসেনি। যেন আলোচনা নয়, লাঠিয়াল প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা চলছে।

ফরিদ আহমেদ দুরুদুরু বুকে হাজির হলেন। চেয়ারম্যানের বাড়ির বাইরেই তাদের ডাকা হয়েছে। মেয়েটাকে কোনোভাবেই রেখে আসতে পারলেন না। ওকে যেন অপদস্থ না হতে হয় কায়মনোবাক্যে সে দোয়াই কেবল করলেন। নূরজাহান খুব চেষ্টা করলেন আঁচলের তলায় ফাবিহাকে লুকিয়ে ফেলতে। পারলেন না।

কথা চেয়ারম্যানই শুরু করলেন।

“ফরিদ সাহেব, আপনি একটা কলেজের শিক্ষক। এলাকায় আপনার সম্মান ছিল। কিন্তু একের পর এক কাজ যা করছেন, তাতে তো আপনাকে আর সম্মান করা দায়!”

একজন পাওনাদার মুখ খুলল, “সম্মানের সাথে এই লোককে বসাচ্ছেন কীভাবে! মানুষের টাকা মেরে খাওয়ার ধান্দা..!”

“আহ! আমি কথা বলছি তো!” চেয়ারম্যান হাত উঠিয়ে তাকে থামালেন। বিরক্ত হয়ে বললেন, “আমার কাছে যখন এসেছ, আমাকেই আলাপ করতে দাও।”

সকলেই সে কোথায় নিজেদের রাগ দমিয়ে নেয়ার একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা করল।

গলা খাঁকারি দিয়ে চেয়ারম্যান বলতে শুরু করলেন, “সম্মান দেয়ার আর কোনো উপায় রাখলেন না ফরিদ সাহেব। এভাবে সুদের পাওনা ঝুলিয়ে রাখলে ওরা কী করতে পারে আপনি জানেন না? লাঠি তো শুধু দেখানোর জন্য নিয়ে ঘোরে না। ঘরে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে রেখে এখন আপনাকে রাস্তায় বেঁধে পেটালে কেমন দেখা যাবে?”

ফরিদ আহমেদ ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠে বললেন, “একটু সময় নিয়েছি ভাইজান। সবার টাকাই দিয়ে দেব।”

একজন সাথে সাথে গর্জে উঠল, “দিয়ে দেব দিয়ে দেব এই গান শোনাচ্ছে ছয় মাস ধরে! সবার টাকা দেয়ার নাম আছে, আমার সাথেই শুধু বাটপারি! পালটি নিলে আমিও ছাড়ব না!” সে যাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে, সেই পাওনাদার এবার ক্ষেপে গেল।

চিৎকার করে বলল, “চেয়ারম্যান সাহেব! ও যে ইচ্ছা করে একটা হাঙ্গামা করার চেষ্টা করছে এটা কি আপনি বুঝতে পারছেন? হাতাহাতি একটা লেগে গেলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবেন না!”

“চুপ করো তোমরা!” বাজখাঁই কণ্ঠে ধমক দিলেন চেয়ারম্যান। “আরেকজনের সালিশ করতে এসে নিজেরা মারামারি শুরু করেছে। যাও তাহলে, আমার বাড়ি থেকে আগে বের হও!” এ কথায় সকলেই চুপ করে গেল।

তিনি আবার বললেন, “কথা বেশি কিছু নাই, ফরিদ সাহেব। আপনি টাকা-পয়সা কবে নাগাদ দিতে পারবেন তার একটা আন্দাজ দেন। এরা আপনার বাড়িতে পুলিশ নিয়ে যেতে চেয়েছিল। টাকা মারার চিন্তা থাকলে সেসব বাদ দেন। মান-সম্মান বাকি যা আছে নাহলে সেটাও যাবে। ওদের একটা সময় দিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলেন।”

নূরজাহান পুলিশ লোকটার দিকে কয়েকবার তাকিয়েছেন। তাদের জন্যেই যে একে আনা হয়েছে জেনে আঁতকে উঠলেন তিনি। মেয়ের হাত খামচে ধরলেন।

ফরিদ আহমেদ গলায় জোর পেলেন না। দুর্বল কণ্ঠে বললেন, “আমার অবস্থা তো জানেন ভাইজান। আমার পক্ষে এতগুলো টাকা একবারে শোধ করা সম্ভব না। যদি অন্তত দুই বছর…”

“অসম্ভব!” প্রায় সবাই গর্জে উঠল। “মগের মুল্লুক নাকি!”
ফরিদ আহমেদ আর কিছু বলার সাহস পেলেন না।

চেয়ারম্যান বিরক্ত হয়ে বললেন, “এখন চিৎকার করছ কেন তোমরা? ফরিদ সাহেবের বউয়ের কাছে এক কথায় টাকা দেয়ার সময় মনে ছিল না? সে মহিলা মানুষ, বিপদে বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে টাকা নিতে আসছে, তোমরাও কোনো সাক্ষী ছাড়া টাকা দিয়ে দিলা! তার মাথার উপরে যে অভিভাবক আছে, তাকে একবার জানানো দরকার ছিল না! ওরা যে কবে তোমাদের টাকা দিতে পারবে, এর তো কোনো ঠিক-ঠিকানা নাই!”

যে লোকটা সবচেয়ে বেশি টাকা পায়, সে প্রায় লাফিয়ে উঠল। অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলল, “সব চিন্তা আমর করা লাগবে ক্যান? টাকা যে নিছে তার কোনো চিন্তা নাই! দিতে পারবে না তাহলে নাচতে নাচতে নিতে আসছিল কীসের জন্য? রঙ্গের আলাপ বাদ দেন চেয়ারম্যান সাহেব! বিচার চাইতে আসছি। আপনি যদি কারো পক্ষ নেন তাহলে কিন্তু ভালো হবে না বলে দিলাম!”

ফরিদ আহমেদ একটু সাহস জুগিয়ে চেয়ারম্যানকে বললেন, “ভাইজান, ঋণের পরিমাণ যদি একটু কমানো যায় তাহলে…”

এক লোক তেড়ে এলো ফরিদের দিকে। রক্তচক্ষু নিয়ে বলল, “মুখ দিয়ে যেটা বের করছেন ঐটা মুখেই রাখেন! টাকা গিলে শেষ করে এখন কমানোর আলাপ আসে কই থেকে? মেয়েও নিয়ে আসছেন দেখি! ওরে জমানত রেখে কমাবেন টাকা!”

ফাবিহার কান ঝা ঝা করে উঠল। মনে হচ্ছিল সে আর চোখ খুলে রাখতে পারছে না। অথচ নিভু নিভু চোখেই দেখল এই ভরা মজলিশে ওই লোকটা তার দিকে এগিয়ে আসছে। হঠাৎ ফরিদ তার সামনে দাঁড়ালেন। কোনোকিছু চিন্তা না করেই তার পা জাপটে ধরে বললেন, “মেয়েটাকে ছেড়ে দেন ভাই! ওর তো কোনো দোষ নেই! আপনার বোঝাপড়া সব আমার সাথে!”

ফাবিহার মনে হলো তার মাথা আর কাজ করছে না। এগিয়ে যেতে চাইলে দেখল নূরজাহান দুহাত দিয়ে তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন। তার নখ বসে গেছে ফাবিহার চামড়ায়।

চেয়ারম্যান বুঝতে পারছিলেন পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। তিনি তার লোকদের ইশারা করে পাওনাদারদের শান্ত করলেন। ফরিদকে নিজের পাশে নিয়ে বললেন,

“ভুল তোমাদের দুই পক্ষেই আছে। আমি একটা প্রস্তাব দেই। সুদ এ পর্যন্তই রাখো। আর বাড়ানো হলেও যে পাবা তার কোনো গ্যারান্টি নাই। যে সুদ হয়েছে এই পর্যন্ত সেটুকুই থাক। সব মিলিয়ে আর কত আছে ঋণ?”

ফরিদ আহমেদ ভগ্ন কণ্ঠে বললেন, “তিন লাখ।”

“মিথ্যা কথা! আমি নিজেই তো পাই দুই লাখ!”

দেখা গেলো সুদ বেড়ে সে ঋণ আবার চার লাখ ছুঁয়েছে।

চেয়ারম্যান বললেন, “আচ্ছা, তোমরা সবাই নিজেদের থেকে কিছু কমাও। অন্তত তিন লাখ যদি হয়..!”

তিনি কথা শেষ করতে পারলেন না। একজন বলল, “সুদ নিব না, আসল নিব না তাহলে অন্য কিছু দিক!”

নূরজাহানের ইচ্ছে হচ্ছিল লোকটার চোখ দুটো গেলে দেয়। ফাবিহাকে কেন দুটো থাপ্পড় দিয়ে রেখে আসলেন না সে আফসোস করে মরমে মরে গেলেন তিনি।

চেয়ারম্যান ধমকে উঠলেন, “চুপ! আমার সামনে এভাবে কথা বলে যাচ্ছ তোমরা, লজ্জা লাগে না!”

চুপ করলেও তাদের ক্রোধের অগ্নি নিভল না।

এক লাখ কমাতে পারলেন না চেয়ারম্যান। শেষ পর্যন্ত পঞ্চাশ হাজার কমিয়ে ঋণ সাড়ে তিন লাখে থামল। সব সাক্ষীর উপস্থিতিতে কথা হলো আর সুদ বাড়ানো হবে না।

আসর ভঙ্গ হলেও নিজের শরীর থেকে সে দৃষ্টির দাগ ওঠাতে পারছিল না ফাবিহা। এসেছিল বাবা-মাকে ধরে রাখতে, উল্টো তাকেই ধরে নিয়ে যেতে হলো।

পা দুটো টেনে-হিঁচড়ে সে যখন কোনোক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই দেখল সাকিন চেয়ারম্যানের বাড়ির থেকে বের হচ্ছে। তাদের দিকে এক পলক তাকালো। কোনো রকম অভিব্যক্তি না দেখিয়ে আরেক দিকের রাস্তা দিয়ে চলে গেল। ফাবিহার মনে হলো এই এতক্ষণের অপমান যা-ও বা সহ্য করতে পেরেছে, কিন্তু তার রেশ কুন্দকলি অবধি চলে গেলে মরণ ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকবে না।

চলমান~

(সতের দিন টানা লিখে আমি ক্লান্ত ক্লান্ত ক্লান্ত 🙂)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 29 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন