ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও জোছনা নামে

পর্ব 5

লেখক: বর্ণপ্রিয়া

#তবুও_জোছনা_নামে
#বর্ণপ্রিয়া
#পর্ব_৫

শেহজাদ নিজের ডেস্কে বসে গত তিন দিন ধরে একটানা মির্জা কামরুল হাসানের মার্ডার কেসের ফাইলটা তেরোবার উল্টেপাল্টে দেখছে। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। সেদিন এতো আয়োজন করে গিয়েও কিছু পায়নি। জাস্ট কিছুই না। একটা খাওয়া সিগারেটের অংশ বাদে আর কিছুই নয়। সেটুকু দেখে সে হুটহাট রোদসীকে যেভাবে চমকে দিয়েছিলো! তার খেসারত হিসেবে ফেরার পথে দুজনই মুখ বন্ধ করে বসেছিলো।

পুলিশ গুছিয়ে এমন এক পরিচ্ছন্ন চিত্রনাট্য তৈরি করেছে, যেন কামরুল সাহেবকে খুন করা হয়নি, তিনি স্বেচ্ছায় ঘুমের দেশে চলে গেছেন। কিন্তু শেহজাদের অভিজ্ঞতা বলে, পৃথিবীর নিখুঁত ক্রাইম সিনটার ভেতরেও কোনো না কোনো জায়গায় একটা সুতো আলগা থাকেই। শুধু সেই সুতোর টানটা দিতে জানতে হয়। শেহজাদ ক্লান্ত ভঙ্গিতে চশমাটা খুলে ডেস্কে রাখল। চোখের ওপর হাত রেখেই আড়চোখে একবার রোদসীর দিকে তাকাল।

রোদসী তার নিজের জায়গায় বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে কিছু একটা দেখছে। বিগত দিনগুলোতে তাদের এই চেম্বারের দৈনন্দিন রুটিনটা পুরোপুরি বদলে গেছে। রোদসীর জন্য আপাতত আলাদা করে কোনো ডেস্কের ব্যবস্থা করা হয়নি। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। মেয়েটাকে এভাবে সারাক্ষণ চোখের সামনে বসিয়ে রাখা অস্বস্তিকর। দরকার হলে এ রুমেই এক পাশে আরেকটি টেবিলের ব্যবস্থা করতে হবে। মেয়েটিও আসার পর থেকে কোমড় বেঁধে কাজে নেমেছে। সকালে অফিসে ঢোকা, কফি খাওয়া, আর তারপর মর্গ রিপোর্ট, পোস্টমর্টেম ও ডিবি অফিসের সাবমিট করা কাগজপত্রের সমুদ্রের ভেতর ডুব দেওয়া। চেষ্টার কোনো কমতি নেই, তবু হিসেব মিলছে না। কোথাও যেন কোনো সূত্র নেই। ওদিকে আলীর রিমান্ডের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। অথচ তারা এখনো পর্যন্ত এমন একটাও শক্ত পয়েন্ট জোগাড় করতে পারেনি যা দিয়ে ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেমের সাজানো এই মিথ্যে গল্পের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া যায়।

"মিস রোদসী," শেহজাদের গলার স্বর বেশ ক্লান্ত শোনাল। রোদসী সচকিত হলো। শুনল,

"আমরা কি ভুল রাস্তায় হাঁটছি? পুলিশ রিপোর্ট যদি পুরোটাই সত্যি হয়? যদি কামরুল সাহেবকে সত্যিই ওই ফার্মহাউসে কোনো রকম ধস্তাধস্তি ছাড়াই খুন করা হয়ে থাকে?"

জবাবে শান্ত গলায় বলল, "পুলিশ রিপোর্ট কখনো সত্যি হয় না, স্যার। পুলিশ রিপোর্ট হলো একটা প্রশাসনিক সমঝোতার দলিল। অপরাধী যদি শক্তিশালী হয়, তবে পুলিশ রিপোর্টের ভাষা বদলে যায়। কামরুল সাহেবের কেসেও ঠিক সেটাই হয়েছে। আপনি মর্গ রিপোর্টের তিন নম্বর পাতাটা আরেকবার খুলুন।"

শেহজাদ হাত সরিয়ে কৌতুহলী হয়ে চোখ মেলল। রোদসী কি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছে? কপাল কুঁচকে সে ফাইলটা আবার টেনে নিল।

"তিন নম্বর পাতা? সেখানে তো শুধু ভিসেরা রিপোর্টের কথা আছে।"

"ভিসেরা রিপোর্টের নিচের নোটটা খেয়াল করুন," রোদসী এবার ল্যাপটপটা একটু ঘুরিয়ে শেহজাদের ডেস্কের দিকে দিল। "মৃত ব্যক্তির পাকস্থলীতে শেষ যে খাবারের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে, সেটা একটা নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টের স্পেশাল থাই স্যুপ। কামরুল সাহেবের ড্রাইভারের জবানবন্দি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি গুলশানের একটা অভিজাত ক্লাবে ডিনার করেছিলেন। কিন্তু ওই ক্লাবের মেন্যুতে ওই স্পেশাল স্যুপ ছিল না। তাহলে তিনি ওই স্যুপটা খেলেন কোথায়?"

শেহজাদের চোখ দুটো পলকেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে ফাইলের কাগজ আর ল্যাপটপের স্ক্রিনের ডেটা মিলিয়ে দেখতে শুরু করল। রোদসী ঠিকই বলছে। পয়েন্টটা গুরুত্বপূর্ণ! একজন মানুষ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে এমন কিছু খেয়েছে যা তার রুটিন বা চেনা জায়গার বাইরে, অথচ পুলিশ তার এই শেষ ডেস্টিনেশনের কোনো ইনভেস্টিগেশনই করেনি। তারা জাস্ট ফার্মহাউসের বেডরুমের ফ্রেমে তদন্তটা আটকে রেখে দিয়েছে।

"ব্রিলিয়ান্ট!" শেহজাদ নিজের ডেস্কে মৃদু চাপড় দিয়ে সোজা হয়ে বসল।

"ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম এই পয়েন্টটা কায়দা করে বাদ দিয়েছে। কারণ কামরুল সাহেব সেদিন রাতে অন্য কোথাও গিয়েছিলেন, এবং সেই জায়গাটার সাথেই আসল খুনি বা ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র আছে।"

"আজ বিকেলেই আমাদের ওই রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেটা খুঁজে বের করতে হবে, স্যার। দেখি সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ বা কোনো ওয়েটারের স্টেটমেন্ট পাওয়া যায় কি না।"

"ঠিক আছে," শেহজাদ ঘড়ি দেখল। বেলা আড়াইটা বাজে। "চলুন, লাঞ্চটা গাড়িতেই সেরে নেব। আমরা সরেজমিনে গিয়েই চেষ্টা করব।”

দুজনে মিলে নিজেদের ফাইলপত্র গুছিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে তখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ধানমন্ডির সাত নম্বর রোডের মোড় থেকে শেহজাদের কালো রঙের গাড়িটা যখন গুলশানের দিকে রওনা দিল, তখন তাদের দুজনের কারোরই জানা ছিল না যে এই খোঁজাখুঁজির সামান্য সূত্রটাই তাদের সামনে কোনো বিপদের মুখে নিয়ে যাবে।

গুলশানের একটা পুরোনো এবং কিছুটা আড়ালে থাকা ক্যাফের সামনে গাড়ি থামল। নাম 'ক্যাফে শ্যাডো'। নামটার মাঝেই কেমন যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। ক্যাফেটার ভেতরে আলো খুব কম, হলদে ছায়া পড়ে আছে চারদিকে। কফি মগ হাতে দুয়েকজন কাস্টমার বসে আছে কোণায়।

শেহজাদ আর রোদসী ক্যাফের ভেতরে ঢুকল। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যানেজার বয়স্ক একজন লোক। তার পরনে সাদা শার্ট। শেহজাদ নিজের আইডেন্টিটি কার্ডটা কাউন্টারে রেখে খুব শক্ত গলায় নিজের পরিচয় দিল।

"অ্যাডভোকেট শেহজাদ মূর্তজা। আমাদের কিছু ইনফরমেশন দরকার। গত মাসের চৌদ্দ তারিখ রাতে এখানে মির্জা কামরুল হাসান এসেছিলেন কি না, তা একটু চেক করতে হবে।"

ম্যানেজার লোকটার হাত থেকে কফির কাপটা প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। সে শেহজাদের কার্ডটার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাশে গলায় বলল,

"মির্জা... মির্জা কামরুল সাহেব? সে তো অনেক দিন আগেই মারা গেছেন।"

"আমরা জানি তিনি মারা গেছেন," রোদসী ঠান্ডা গলায় বলল। "আমরা জানতে চাচ্ছি তিনি মৃত্যুর আগের রাতে এখানে এসেছিলেন কি না। এবং উনার সাথে আর কে কে ছিলেন?"

ম্যানেজার চারপাশটা একবার ভয়ে ভয়ে দেখে নিয়ে নিচু গলায় বলল,

"স্যার, আপনারা এসব নিয়ে আর টানাটানি করবেন না প্লিজ। ওই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ তো অনেক আগেই পুলিশ নিয়ে গেছে। তাছাড়া, আমাদের ওপর ও কড়া নির্দেশ আছে ওই রাত নিয়ে যেন কোনো কথা না বলি।"

শেহজাদের চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। "পুলিশ ফুটেজ নিয়ে গেছে মানে? ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম কি এখানে এসেছিলেন?"

"আমি ঠিক নাম জানি না স্যার, তবে ডিবি পুলিশের লোকজন এসে সব হার্ডডিস্ক কপি করে নিয়ে গেছেন। তারা আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে বলেছেন। তা নাহলে নাকি আমাদেরই লস।”

রোদসী শেহজাদের দিকে তাকাল। তাদের অনুমান একশো ভাগ সত্যি। পুলিশ জেনুইনলি কেস সলভ করতে চাইছে না, তারা আড়াল করার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্যাফের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকার ডোর চাইমের শব্দে শেহজাদ পিছু ফিরল। দু'জন লম্বা চওড়া লোক, গায়ে রঙ বেরঙের উদ্ভট পোশাক আর চোখে রোদচশমা। তারা ক্যাফের ভেতরে ঢুকে ডানেবামে না তাকিয়েই সরাসরি শেহজাদ আর রোদসীর দিকে এগিয়ে এল। মনে হলো, তারা এখানে শেহজাদকে খুঁজতেই এসেছে। চোখেমুখে কেমন ছলকে পড়ছে কৌতুক। তাদের মধ্যে সামনের দিকের লোকটিই প্রথমে অত্যন্ত কর্কশ গলায় বলে উঠল,

“আরে অ্যাডভোকেট শেহজাদ মূর্তজা, না?" তার মুখে একটা কুৎসিত হাসি। "তা এখানে কী কাজে? কেসের কোনো কাজে নাকি?" শুরুটা স্বাভাবিক হলেও পলকেই বদলে গেল পরিবেশ। একটু থেমেই লোকটা স্বর বদলে কথা বলতে শুরু করল। অনেকটা হুমকির মতো করে বলল,

"বড় উকিল হয়ে গেছেন বলে কি যা খুশি তাই ঘাঁটবেন নাকি? অনেক হয়েছে তদন্ত। এবার চেম্বারে গিয়ে আরাম করুন তো, নয়তো পরের কেসটা লড়ার এনার্জি পাবেন কোথায়?"

শেহজাদ চমকাল না। লোকগুলো তাদের হুমকি দিতেই এসেছে এ ব্যাপারে সে শুরুতেই ধারণা করেছিল। কথার ধরনে তা আরও নিশ্চিত হল। কিন্তু তাদের পাঠিয়েছে কে? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সে ভীষণ শক্ত গলায় জবাব দিল,

"এনার্জি আমার ছোট থেকেই একটু বেশী। ওসব নিয়ে মাথা ঘামানো লাগবে না”

লোকটার মুখের হাসি মুহূর্তেই উবে গেল। দাঁতে দাঁত চেপে কয়েক পা এগিয়ে এল সে, তাকে এগোতে দেখে শেহজাদ নিজেও কিছুটা এগোলো। এসবের মাঝে রোদসীকে তাদের চোখে পড়ে গেলে ব্যাপারটা খুব একটা ভালো হবে না। লোকটি বোধহয় তাদের দলের বস জাতীয় কেউ। তাই তার সম্মানে বাকিরা কিছু বলছে না, তবে হাবভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে যেকোনো সময় হাতাহাতিতে নামতে প্রস্তুত। বস গোছের লোকটি এইপর্যায়ে বেশ অহংকার নিয়েই বলল,

“এই এনার্জি ক'দিন থাকে, সেটাই তো দেখার বিষয়!”

শেহজাদ তাদের লাই দিতে চাচ্ছে না৷ অহেতুক কথা বাড়িয়ে অকারণ হাঙ্গামা করার কোনো মানে নেই। তাই তাদের হুমকিকে পাত্তা না নেওয়ার ভান করে সে এগিয়ে গেল। যাওয়ার আগে কাঁধ দিয়ে লোকগুলোকে সে রীতিমতো ধাক্কা দিল। মনে হলো, তাদের হুমকিকে সে এক আনার মূল্যায়ন তো করছেই না, উল্টো উপহাস করছে। এসবের মাঝে সাথে থাকা রোদসীকে সে বেমালুম ভুলে গেল, তাকে রেখে একাই বেরিয়ে এল ক্যাফে থেকে। এমন একটা ভাব করল, যেন সে রোদসীকে চেনেই না। বের হতে বের হতে অবশ্য ফোনে একটা মেসেজ টাইপ করল,

“র‍্যান্ডমলি একটা কফি নিয়ে বিল মিটিয়ে বেরিয়ে আসুন। এক্ট নরমাল, ওকে?”

ফোন রোদসীর হাতেই ছিল। তাই মেসেজ পড়তে তার খুব একটা সময় লাগেনি। সে সত্যি সত্যি দু'কাপ কফি নিতে ব্যস্ত হলো। কানে এলো আততায়ীদের একজনের কণ্ঠস্বর,

“বস! শালায় তো কথা শুনে না। জন্মের ঘাউরা। খালি একবার অনুমতি দেন, ওর ঘাউরামি আমি ছুটায়া দেই।”

ওপাশ থেকে কী বলল তা ঠিক শোনা গেল না। জবাবে এপাশের মানুষটিকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেলো। ফোন কানেই সে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে গেল। বোঝা গেল, তারা এই এলাকারই পাতি গুন্ডা। কারো নির্দেশ পেয়েই সে শেহজাদকে হুমকি দিতে এসেছিল। রোদসী কফি গুলো নিয়ে ধীরেসুস্থে গাড়ির দিকে এগোলো। জানলা নামিয়ে বসেছিল শেহজাদ। হয়তোবা তারই অপেক্ষা করছিল। হাত থেকে কফির কাপ দুটো নিয়ে তাকে দ্রুত ভেতরে ঢুকতে ইশারা করলো সে। রোদসী ভেতরে ঢুকতেই কফির কাপগুলো পুনরায় তার হাতে ধরিয়ে দিলো শেহজাদ। একটানে গাড়িটিকে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে একটি গলিতে দাঁড় করাল। পাশ ফিরতেই দেখল, রোদসীর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।

"আপনি ঠিক আছেন তো রোদসী?" শেহজাদের গলায় উদ্বেগ। হুটহাট হুমকি পেতে দেখে মেয়েটি ভয় পেয়ে গেল কিনা তা নিয়ে সে চিন্তিত।

“ঠিক আছি, স্যার।” একটু থেমেই সে এক কাপ কফি এগিয়ে দিল শেহজাদের দিকে। নিজের কাপে চুমুক বসিয়ে কাঁচের বাহিরের দিকে তাকাল। কিছুটা রয়েসয়ে বলল, “আমার মনে হচ্ছে, আমাদের একটু সাবধানে এগোতে হবে।”

“হুমকি পেয়ে বলছেন?”

“উহুঁ তাদের কথা শুনে বলছি, ভালোই ডেস্পারেট মনে হল তাদের।”

“আমি চলে আসার পরেও তাদের কথা শুনেছেন? তারা কি আপনাকে সন্দেহ করেছে কোনোভাবে?”

“না, আমাকে সন্দেহ করেনি। তবে যা বুঝলাম, প্রতিটি পয়েন্টে এখনো তাদের লোক লাগানো আছে। ক্রাইমের এক মাস পেরিয়েছে, তবু তারা লোক লাগিয়ে রাখছে, ব্যাপারটা হেলাফেলা করা উচিত বলে মনে হচ্ছে না।”

শেহজাদ কফিতে গাঢ় করে চুমুক দিল। নিচু গলায় বলল,

“এরা দেখছি কফিটা ভালোই বানায়। আরেকদিন এসে আয়েশ করে খেতে হবে। আজকের টা তো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।”

“আর ইউ সিরিয়াস? কফি খেতে এখানে আবার আসবেন?”

শেহজাদ হেসে ফেলল। রোদসীকে এতো সিরিয়াস হতে দেখে তার হাসি পাচ্ছে। এই প্রফেশনে এমন দশ বারোটা হুমকি সে ক'দিন পরপরই পায়। এসবের দৌড় ঐ হুমকি অবধিই। এর বেশী তারা এক পাও এগোবে না, তাও সে জানে। জানলার কাঁচ নামিয়ে কাগজের কাপটা বাহিরে ফেলল শেহজাদ। রোদসীর কাছে জানতে চাইল,

“আপনার কফি শেষ হলো?”

রোদসী আধখাওয়া কফির কাপটা এগিয়ে দিল। শেহজাদ এবারের কাপটা ফেলতে গেলেই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। সে গাড়ি থেকে হাত বের করার প্রায় সাথে সাথেই কাছেপিঠে কোথাও একটা গুলি চলল। গুলিটা গিয়ে লাগল শেহজাদদের গাড়ির বেশ কিছুটা ডান দিকে রাস্তায় পড়ে থাকা একটা প্লাস্টিকে বোতলের গায়ে। সম্বিত ফিরে পেতেই শেহজাদ কাঁচ উঠিয়ে নিল। ফুল স্পিডে গাড়ি টেনে দ্রুত সম্ভব বের হয়ে এল জায়গাটি থেকে। লোকগুলো তাদের তখনো ফলো করছে! অদ্ভুত ব্যাপার! চাইলেই তারা শেহজাদের ডান হাতে গুলি করতে পারত। এতো সহজ টার্গেট মিস করে রাস্তার বোতলে গুলি মারার কারণ কী? শুধুমাত্র তাকে ভয় দেখানো? যদি তাই হয়, তবে তারা ভুল করছে। মস্ত বড় ভুল।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন