ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও জোছনা নামে

পর্ব 8

লেখক: বর্ণপ্রিয়া

#তবুও_জোছনা_নামে
#বর্ণপ্রিয়া
#পর্ব_৮

কড়াইল বস্তির সেই অন্ধকার গোডাউন থেকে বেরিয়ে মেইন রাস্তায় আসতে আসতে রোদসীদের প্রায় পনেরো মিনিট লেগে গেল। ভাদ্রমাসের গুমোট আকাশটা ততক্ষণে ভেঙে পড়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে ঢাকা শহরে। একটা চলন্ত গাড়ির ভেতরে বসে আছে রোদসী আর তন্ময়। তন্ময় এই বৃষ্টির মাঝেও জানলা খুলে দিয়েছে, খোলা জানলা ভেদ করে বৃষ্টির ছাঁট ঢুকছে ভেতরে, কিন্তু সেদিকে তাদের কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

তন্ময় ড্রাইভিং সিটের এক কোণায় কুঁকড়ে বসে আছে। ছেলেটা সদ্য ল' পাশ করা সাধারণ ঘরের সন্তান। বইয়ের পাতায় মার্ডার কেস পড়া আর বাস্তবে চোখের সামনে সদ্য জ’বাই করা একটা লাশ দেখার মধ্যে যে কতটা তফাৎ, সেটা তন্ময় আজ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। খড়ের গাদায় ভেসে থাকা জাহিদের রক্ত আর গলাকাটা দৃশ্যটা তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে। সে বারবার মুখ মুছে বড় বড় শ্বাস ফেলছে। রোদসীর মাঝে অবশ্য আজও কোনো ভাবান্তর নেই। যে মেয়ে নিজের ঘরের ভেতরেই এতোগুলো বছর ধরে একটা জ’ল্লাদের সাথে বসবাস করেছে, প্রতিদিন নিজের মায়ের গায়ে নতুন কালশিটে দাগ দেখে অভ্যস্ত হয়েছে, তাকে বাইরের পৃথিবীর একটা লা’শ দেখিয়ে সহজে ভয় পাওয়ানো যায় না। তার বুকের ভেতর ভয়ের বদলে বহু আগেই তীব্র ক্ষোভের অস্তিত্ব প্রখর হয়ে উঠছে।

রোদসীর মনটা কোনো এক অজানা কারণে খচখচ করছে। বারবার মনে হচ্ছে, শেহজাদ আগে থেকেই সব জানত! শেহজাদ মূর্তজার মতো মানুষ, জাহিদের মতো এত বড় একজন সাক্ষীকে ধরতে নিজে না এসে রোদসীদের পাঠিয়েছে। এত গাফিলতির ঠিক কী কারণ থাকতে পারে?

তার পরিকল্পনা আঁচ করতে না পারলেও রোদসী তার কাজ ঠিকঠাক করেছে। গোডাউন থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, তন্ময় যখন বমি করছিল, তখন রোদসীর চোখ আটকে গিয়েছিল জাহিদের প্যান্টের পকেটের একটু বাইরের দিকে। কাদামাটির ওপর একটা পাতলা, সাদা রঙের কাগজ অর্ধেক গুঁজে ছিল। খু’নিরা তাড়াহুড়োয় পকেট হাতড়ানোর সময় কাগজটাকে হয়তো সাধারণ ময়লা ভেবে ফেলে গিয়েছিল। রোদসী খুব সাবধানে কাগজটা তুলে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছে। ওটা কী, সেটা সে এখনো ভালো করে দেখার সময় পায়নি।

___

ধানমন্ডির কর্পোরেট চেম্বার 'দ্য থার্ড আই'-এর পরিবেশটা আজ অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে আলাদা। চেম্বারের বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, আর ভেতরে সেন্ট্রাল এসির কনকনে ঠান্ডা। অফিসে এসেই তন্ময় হুড়মুড়িয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। তার পেছনে রোদসীকে দেখা গেল একদম শান্ত। দুজনেরই জামাকাপড় কিছুটা ভেজা। একমাত্র সাক্ষী হারিয়ে শেহজাদ মোটেও বিচলিত নয়। সে নিজের ডেস্কের ওপর রাখা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। তার গায়ে থাকা কালো শার্টটার হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। এক হাতে ব্ল্যাক কফির মগ, অন্য হাতে কী-বোর্ড। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এটি অন্য সাধারণ দিনগুলোর মতোই একটি।

শেহজাদকে দেখেই তন্ময় হড়বড় করে বলল, “স্যার! সর্বনাশ হয়ে গেছে!”

শেহজাদ দেখল, তন্ময় আবার প্যানিক করতে শুরু করেছে। এই ছেলেটাকে খুব বেশীদিন কাজে রাখা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। কথায় কথায় এত ভড়কে গেলে সমস্যা আছে। শেহজাদ হাত বাড়িয়ে টেবিলের ওপর ঢাকা দেওয়া পানির গ্লাস কিছুটা এগিয়ে দিল। তন্ময় হাত বাড়িয়ে গ্লাসটা নিল। একশ্বাসে খেয়ে নিল পুরো গ্লাস পানি। কিছুটা ধাতস্থ হতেই বলতে শুরু করল,

"স্যার... জাহিদকে ওরা মেরে ফেলেছে! আমরা যাওয়ার আগেই ওরা ওকে মেরে ফেলেছে। আপনি বিশ্বাস করবেন না স্যার, ওর মাথাটা ধড় থেকে প্রায় আলাদা হয়ে, চামড়ার মতো ঝুলছিল। ওদিক র’ক্তে একবারে….”

তন্ময় আর বলতে পারল না, সে হাঁটুতে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তার গা গুলাচ্ছে। কালশিটে র'ক্তের কথা মনে পড়তেই তার নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসছে। তার শোচনীয় অবস্থা দেখে শেহজাদ বড় করে শ্বাস ফেলল, হতাশ গলায় বলল,

“আমারই ভুল হয়েছে। আমার ভুল হয়েছে তোমাদের দুজনকে আমার গাড়িতে করে ওখানে পাঠানো। বুঝতে পারছ তোমরা?"

তন্ময় অবাক হয়ে তাকাল। তার চোখে তখনো আতঙ্ক।

"আপনার গাড়ি?"

শেহজাদ মাথা নেড়ে বলল,

"মোয়াজ্জেমের লোকজন নিশ্চয়ই আমার গাড়িটা ফলো করছিল। তাই তোমাদের কড়াইল বস্তির দিকে যেতে দেখে ওরা জাহিদকে সরিয়ে দিয়েছে।”

একটু থেমেই বলল, “ড্যাম ইট! হাউ ক্যূড আই মিস দিস? আই শুড হ্যাভ নোন বেটার! অল্পের জন্য তোমাদের জীবনটাও আমি প্রায় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছিলাম।"

তাদেরও ঝুঁকি ছিলো! তার মানে জাহিদের জায়গায় আর তন্ময়ও থাকতে পারতো! তন্ময়ের মাথাটা এবার ঘুরতে শুরু করলো। সে শক্ত করে সামনের চেয়ার ধরে নিজেকে সামলালো। ভয়ার্ত গলায় বলল, “কী বলছেন, স্যার?”

শেহজাদ তার মনের অবস্থা বোধহয় ধরতে পারল, তাই নরম গলায় বলল, "সেসব বাদ দাও। তুমি বরং বাড়ি যাও, তোমার এখন রেস্ট দরকার। তেমন জরুরী দরকার না থাকলে কালও তোমার অফিসে আসতে হবে না।”

তন্ময় কথা না বাড়িয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেল। এই মুহূর্তে তার জন্য ছুটিটা ভীষণ প্রয়োজন। জাহিদের লা'শটা দেখেই সে ব'মি করেছে। এখন আবার প্রাণের শঙ্কার কথা শুনে সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত।

চেম্বার ফাঁকা হতেই রোদসীর ঠোঁটের কোণে একটা শ্লেষাত্মক হাসি ফুটে উঠল। তার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক শেহজাদের এই মেকি অনুশোচনাটা ধরে ফেলেছে। শেহজাদ মূর্তজার মতো ধুরন্ধর উকিল, যে কি না গতকালের হুমকির পরেও তার উপর, তার গাড়ির উপর নজর রাখা হচ্ছে এই কথাটা বেমালুম ভুলে গেলো—এই ব্যাপারটা রোদসীর ঠিক হজম হলো না। তার মনে হচ্ছে, কোথাও অন্য কিছু একটা আছে, যা শেহজাদ তাদের জানাতে চাচ্ছে না। লোকটা তাদের বস্তিতে পাঠিয়ে নিজে কি অন্য কোথাও গিয়েছিল?

"চমৎকার পারফরম্যান্স, স্যার," রোদসী ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়াল। তার গলার স্বরটা আজ ভীষণ কাঠখোট্টা শোনাচ্ছে।

শেহজাদ ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে রোদসীর দিকে তাকাল। তার কপালের ভাঁজ পড়েছে। কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইল, “কোন পারফরম্যান্স?”

“এইমাত্র তন্ময়কে বোকা বানাতে যে পারফরম্যান্স দেখালেন, আমি তার কথা বলছি।”

“হোয়াট ডু ইউ মিন বাই দ্যাট?”

"আপনার তো আজ হাইকোর্টে থাকার কথা ছিল। সেখান থেকে আমার কল রিসিভ করে, কী হয়েছে তা না কী আপনি বলে দিলেন জাহিদ মারা গেছে? তবে কি আপনি আগে থেকেই জানতেন?”

শেহজাদ কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে রোদসীর কঠিন মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটা আজ কেমন ধূসররঙের একটি কূর্তি পরেছে, চুলগুলো পনিটেল করে বেঁধেছে। হঠাৎ চুলগুলো বাঁধায় তাকে আজ অন্যরকম দেখাচ্ছে। চোখেমুখে রোজকার চেয়ে আরেকটু বেশী কাঠিন্য যেন ঠিকরে পড়ছে। শেহজাদ হঠাৎ-ই হেসে ফেলল, বলল,

"আমি ক্রিমিনাল সাইকোলজি বুঝি, মিস রোদসী। গতকাল আমায় হুমকি দেওয়ার পর, আজ নিশ্চয়ই বসে নেই। তারা যখন আপনাদের ফলো করে বস্তিতে যাওয়ার ব্যাপারটা টের পেয়ে গেছে, তখন তারা তো আর জাহিদকে আমাদের হাতে আসার জন্য সাজিয়ে রাখবে না। এটুকু তো কমনসেন্সের ব্যাপার।”

রোদসী তাচ্ছিল্যের সাথে হাসল। তার হঠাৎ প্রশ্নে, শেহজাদ যেভাবে কয়েক মুহূর্ত হতবিহ্বল হয়েছিল, সেটিই প্রমাণ করছে শেহজাদ খুব গুছিয়ে মিথ্যে বলছে। কিন্তু কেন? রোদসীর থেকে কেসের তথ্য আড়াল করে তার কী লাভ? সে কি তাহলে রোদসীকে আন্ডারএস্টিমেট করতে চাইছে? রোদসী দুম করেই জানতে চাইল,

“এই কমনসেন্সটা আমাদের দুজনকে আপনার গাড়িতে করে বস্তিতে পাঠানোর সময় কোথায় ছিল, স্যার?”

“আমি তো বললামই, ব্যাপারটা তখন আমার মাথায় ছিল না। আমি আবারো বলছি, এটা আমার ভুল।”

"ওয়েল, আপনি ভুল করলেও আমি কিন্তু ভুল করিনি, স্যার।”

শেহজাদ বোধহয় চমকে উঠল, খানিকটা কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইল, "মানে?”

"মানে, আমি সেখান থেকে খালি হাতে ফিরিনি।” শেহজাদ দেখল, রোদসী তার কাঁধের ভেজা ব্যাগটা থেকে রুমালে প্যাঁচানো একটা পাতলা সাদা কাগজ বের করে ডেস্কের ওপর রাখছে।

"জাহিদকে না পেলেও আমি কিছু একটা পেয়েছি। এবং মনে হচ্ছে, এটা আমাদের একেবারেই আশাহত করবে না।”

শেহজাদ রোদসীর দেওয়া রুমালটা খুলল। ভেতরে একটা লোকাল কুরিয়ারের আধভেজা স্লিপ। শেহজাদের চোখের দৃষ্টি সরু হলো। স্লিপে, পার্সেল বুকিং এর ডেটটা আজকের দেওয়া। শেহজাদকে খুব বেশী ভাবতে হলো না, তার আগেই রোদসী বলে উঠল,

“জাহিদের কাছে কিছু তো অবশ্যই ছিল। যদিও সেই কিছু ঠিক কী, তা এখনো আমরা জানি না। তবে মনে হচ্ছে, এই পার্সেলটি আমাদের ‘কী’ এর জবাব দিতে সক্ষম।”

“জাহিদ খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছুই কুরিয়ার করেছিল এমন তো নাও হতে পারে, মিস রোদসী।”

“আবার হতেও তো পারে।”

শেহজাদ ভ্রু উঁচিয়ে রোদসীর দিকে তাকাল। মেয়েটার কপালে এলোমেলো চুল লেপ্টে আছে। কানের আশপাশের অংশেও তারা আজ রাজত্ব করছে। সেই চুলে আগায় জলকণা চিকচিক করছে। আগেরবার সে তার ওপর ভরসা করেনি। একাই সে বাবুর কেসটা সলভ করেছে। হয়তো ওটা ঝড়ে বক মরেছে, কিন্তু এবার? এবার কি তাকে একটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে? নাকি কুড়িয়ে পাওয়া এক সাধারণ স্লিপ নিয়ে সময় অপচয় হবে? শেহজাদ দ্বিধায় পড়লো। তারপর কী একটা ভেবে রোদসীকে বলল,

“পার্সেল এখনো ঢাকায় আছে। হয়তোবা আজ রাতে সেগুলো ডিসপ্যাচ হবে।”

“নরসিংদী যাওয়ার আগেই ঢাকার মেইন হাব থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করতে হবে।”

“ব্যাপারটা একা সামলাতে পারবেন?”

“পারব না বলছেন?”

মেয়েটার গলায় এবার তীব্র জেদের আভাস। শেহজাদ কথা ঘোরাল, বলল,

“পারবেন না তা বলিনি। বলতে চেয়েছি, কেসটাকে আদৌ সামনে আগাতে পারবেন তো?”

রোদসী কয়েক পা এগিয়ে এল। নিচু গলায় বলল,

“সে তো আপনিও বিশ্বাস করতে পারেননি আমায়। কই? আগাতে পেরেছেন?”

শেহজাদ অপ্রস্তুত হলো। মেয়েটা বারবার একই প্রসঙ্গ তুলছে। শেহজাদ গলা খাঁকারি দিয়ে নড়েচড়ে বসল, বলল,

“গাড়ি থাকার পরও আপনারা ভিজে আসলেন কী করে?”

রোদসী চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসল। সহজ গলায় বলল, “আপনি প্রসঙ্গ বদলাচ্ছেন বারবার। আসল কথায় আসুন। কী লুকাচ্ছেন আমাদের থেকে?”

শেহজাদ উঠে দাঁড়াল, এসি বন্ধ করে জানলার দিকে হেঁটে গেল। তার কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বলল,

“বৃষ্টি দেখি কমার নামই দিচ্ছে না। বৃষ্টি না কমলে আজ আর যাওয়ার দরকার নেই। হাবে কল করে বলে দিচ্ছি সকাল অবধি হোল্ড করবে।”

একটু থেমেই বলল,

“আপনি বরং বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন। এভাবে ভেজা চুলে এসির নিচে থাকলে জ্বর বাঁধবে। শেষে কেসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনি থাকবেন বিছানায়।”

বলতে বলতেই শেহজাদ এককাপ কফি বানাল। কফি মগটা রোদসীর দিকে এগিয়ে দিতে গিয়ে এক পলকের জন্য তার নজর গেল রোদসীর দূর্বোধ্য আঁখিজোড়ায়। প্রায় সাথে সাথেই সে চোখ সরিয়ে নিল। চেয়ারে বসতে নিলে কানে এলো,

“আপনি খুব চমৎকার করে মিথ্যা সাজাতে জানেন।”

“আমি সত্যও বলতে জানি।”

“বেশ, বলুন তো?”

শেহজাদ চট করেই হেসে ফেলল। মেয়েটা আজ গুছিয়ে বসেছে। সত্য না জেনে তার যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শেহজাদ কফি মগের দিকে ইশারা করল, বলল,

“কফিটা গরম আছে এখনো, ট্রাই করতে পারেন। খুব একটা খারাপ বানাই না।”

রোদসী কফি মগে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সে টেবিলের ওপর দু'হাত রেখে শেহজাদের দিকে তাকিয়ে আছে। শেহজাদ কিছুক্ষণ একভাবে তাকিয়ে থেকে আচমকাই জানতে চাইল,

“মিস রোদসী, আপনি কি আজ বাড়ি যেতে চাচ্ছেন না?”

রোদসী অকপটে বলল, “না।”

শেহজাদ আজ ইতস্তত বোধ করছে। মেয়েটির ধারালো নজরের সামনে তার নিজেকে কেমন অসহায় লাগছে। মনে হচ্ছে, হুটহাট তাকে হার মানতে হবে। স্বীকার করতে হবে সব সত্য। আজকের রোদসী অন্যদিনের মতো নয়। আজ সে অপরিচিত, একদম ভিন্ন। মেয়েটির আধভিজে চুল, আর তা থেকে ঝরতে থাকা টুপটাপ বৃষ্টি ফোঁটায় তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল সে, বলল,

“চুলগুলো খুলে দিন, প্লিজ। চুল বাঁধলে আপনাকে অপরিচিত লাগে।”

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন