ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও জোছনা নামে

পর্ব 13

লেখক: বর্ণপ্রিয়া

#তবুও_জোছনা_নামে
#বর্ণপ্রিয়া
#পর্ব_১৩

রোদসী অত্যন্ত ধীরেসুস্থে মাথা তুলল। তার চোখের দৃষ্টি শীতল। শেহজাদের দিকে স্থির নজরে তাকিয়ে সে যেন মৃদু হাসল। কি আস্পর্ধা ভাবা যায়! এখনো তার চেহারায় কোনো অপরাধবোধ বা ভয়ের লেশমাত্র নেই, আছে কেমন একটা চতুরতার ছাপ। শেহজাদকে হুশ হারাতে দেখে সে যান্ত্রিক গলায় বলে উঠল,

“এতোবড় একটা ঘটনা ঘটিয়েছি, নিশ্চয়ই আগে পিছে কোনো কারণ আছে।”

শেহজাদের রাগ কোনোভাবেই কমছে না। মেয়েটার একরোখামি তার সহ্য হচ্ছে না। এতো বড় ভুল করেও সে কারণ দর্শাতে চাইছে। শেহজাদকে একভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রোদসী নিজ থেকেই বলল,

"শত্রুকে হারাতে হলে আগে নিজেকে হারতে হয়। তাকে দুর্বল করার আগে নিজেকে দুর্বল হতে হয়।”

“জাস্ট স্পিক ইওর মাইন্ড।”

“চট করে জিতে গেলে মজা পাওয়া যায় না। বারবার একঘেয়ে জিতে জিতে বিরক্তি আসেনি আপনার?”

মেয়েটা আবারো হেঁয়ালি করছে। শেহজাদ দু'পা এগিয়ে রোদসীর কাছাকাছি এলো। চোখে চোখ রেখে তার পরবর্তী কথার অপেক্ষা করল। রোদসী তার উচাটনে বেশ মজা পাচ্ছে। অ্যাডভোকেট মূর্তজা অজান্তই তার কাছে বারবার ধরাশায়ী হচ্ছে। রোদসীর এতক্ষণের স্মিত হাসি এবার প্রশস্ত হয়ে উঠেছে।

“প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে ফেলার আগে তাকেও একবার শক্তিশালী হওয়ার আনন্দ দিতে হয়। আমিই সেরা—এমন অনুভূতি একবার জন্ম নিলেই কাজের গতিতে ভাটা পড়ে। কাজেই পাকাপাকিভাবে শত্রুপক্ষের হাঁটু ভাঙতে, তাকে সাময়িক জয়ের স্বাদ দেওয়া খুব একটা খারাপ কিছু নয়। রিল্যাক্স!”

শেহজাদ রোদসীর উদ্দেশ্য বুঝতে পারছে। কিন্তু তবু কোথাও কিছু একটা তাকে খোঁচাচ্ছে। তাই জানতে চাইল,

“আমরা যথেষ্ট এগিয়েছি। তাদের কাজের গতি স্লো হোক বা না হোক; কেস তো আমাদের হাতে। তাহলে শুধু শুধু দুর্বল সেজে সময় অপচয় করব কেন?”

“আপনি ভুলে যাচ্ছেন, স্যার। গতকাল আমাদের দুটো কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা করেছি শুধুমাত্র একটা কাজ। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা এখনো বাকি। সেই কাজটি করার জন্য আমাদের সময় দরকার। আর শত্রুপক্ষকে উস্কে দিয়েও সেই কাজ করা সম্ভব নয়। তাই এমন প্ল্যান করলাম।”

শেহজাদের কুঞ্চিত ভ্রু ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এল। কিছুটা শক্ত গলায় সে প্রশ্ন করল,

“আপনি কুরিয়ার অফিস থেকে ঐ ফাঁপা হুমকি দেওয়ার লোকটির ডিটেইলস বের করার কথা বলছেন?”

“ইউ আর টু স্লো, স্যার। ট্রাই টু আপডেট ইওর ব্রেইন!”

কি আশ্চর্য! রোদসী আবারো তাকে রাগানোর চেষ্টা করছে। দাঁতে দাঁত চেপে বড় করে শ্বাস ফেলল সে। প্রসঙ্গ বদলে কৈফিয়ত চাওয়ার মতো করে জানতে চাইল,

“আপনি কোর্টে আসেননি কেন?”

রোদসী ফ্যানের বাতাসে সামনের দিকে উড়ে আসা চুলগুলো ব্যান্ডেজের উপর থেকে সরালো। জোর গলায় বলল,

“আমার মনে হয়, আপনার স্মৃতিশক্তি কমে আসছে, স্যার। নয়তো আমার প্রথম কেস ডিভোর্স কেসই হবে —এই কথা এতো জলদি ভুলে যেতেন না।”

শেহজাদ গোল গোল চোখে সামনে বসা জেদী মেয়েটিকে দেখছে। মেয়েটি কেস ফাইল করে, শেহজাদকে দিয়ে সেই কেস নেওয়ানোর পরেও একই জেদে অটল। তার জীবনের প্রথম কেস সে ডিভোর্স কেসটিকেই করবে। কী ভয়ানক রকমের পাগল সে! শেহজাদ আরও কিছু বলতে চাচ্ছিল, তখনই হুট করে বিনা অনুমতিতে দরজা খুলে প্রবেশ করল কেউ। শেহজাদ চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। আগন্তুককে দেখে নিমেষেই সে বিস্মিত হলো।

দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন এনায়েত মূর্তজা। পরনে একটা ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি আর হাতে বেশ কয়েকটা উজ্জ্বল নীল রঙের ভারী খাম। ভদ্রলোকের ঠোঁটে শোভা পাচ্ছে এক প্রাণবন্ত হাসি। ঢুকে শেহজাদকে ওভাবে রোদসীর ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই বলে উঠলেন,

“ভুল সময়ে এলাম নাকি?”

শেহজাদ চট করেই সরে এল। তার এতক্ষণের রাগ এক লহমায় নিচে নামতে শুরু করেছে। নিজেকে সামলে সে এগিয়ে এল কয়েক পা। প্রশ্নের বিপরীতে ছুঁড়ে দিল ভিন্ন এক প্রশ্ন,

"বাবা! তুমি এখানে? হঠাৎ! কোনো দরকার ছিল?"

"দরকার ছাড়া কি ছেলের অফিসে আসা বারণ নাকি?" এনায়েত সাহেব ভ্রূ কুঁচকালেন। রোদসীর ডেস্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাকে দেখে কোনোভাবেই মনে হচ্ছে না তিনি ছেলের অফিসে এসেছেন। ভদ্রলোককে এগিয়ে আসতে দেখে রোদসী উঠে দাঁড়াল। কপালের এতো বড় ব্যান্ডেজ দেখে তিনি উতলা হয়ে উঠলেন। জানতে চাইলেন,

“এ মা! একদিন গাল ফুলে ঢোল হয়ে যাচ্ছে, পরদিন আবার কপাল ফেটে এভারেস্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব কী? এটা তোর চেম্বার না হাসপাতাল?”

শেষের কথাটা তিনি ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন। শেহজাদ বাঁ হাতে পেছন দিকের চুলগুলো সামান্য এলোমলো করল। মনে হচ্ছে, যখন তখন বাবা বেফাঁস কিছু বলবেন। সেসব শোনার আগেই তাকে এখান থেকে বিদেয় করতে হবে। কয়েক পা এগিয়ে শেহজাদ ব্যস্ত ভঙিতে বাবার হাত থেকে একটা কার্ড নিল। গদগদ হয়ে বলল,

“কার্ডটা দেখছি চমৎকার হয়েছে! রাজকীয় লাগছে একদম।”

শেহজাদের মিছে প্রশংসায় ভদ্রলোক আগডুম বাগডুম করে উঠলেন। বললেন,

“ছাপাখানা থেকে গরম গরম কার্ডগুলোকে এনেই এখানে এলাম। আগে তোকে দিচ্ছি। নে, ছেলে হয়ে বাবা-মার বিয়েতে তুই আমন্ত্রিত।”

শেহজাদ শুকনো গলায় বিষম খেলো। কাশতে কাশতে বলল,

“বাবা! এটা বিয়ে না, বিবাহবার্ষিকী।”

“ঐ একই। আমি আর তোর মা একসাথে থাকা মানে রোজই আমাদের বিয়ে।”

একটা কার্ড তিনি এগিয়ে দিলেন রোদসীর দিকে। মিষ্টি গলায় বললেন,

"আগামী পরশুদিন, রোজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আমাদের অ্যানিভার্সারির অনুষ্ঠান। আমি নিজে এসে সবাইকে দাওয়াত দিচ্ছি। তোমাকে কিন্তু অবশ্যই আসতে হবে।”

এতোটুকু বলেই তিনি ছেলের দিকে ফিরলেন। সহজ গলায় বললেন,

“নাকি ওকে আজই সঙ্গে করে নিয়ে যাব? এভাবে একদিন গাল ফোলাচ্ছে, আরেকদিন মাথা ফাটাচ্ছে। অনুষ্ঠান আসতে আসতে বাকি দুদিনে আবার হাসপাতালে না ভর্তি হয়! তার চেয়ে বরং আমি আজই বাসায় নিয়ে যাই। কী বলিস?”

শেহজাদ সাথে সাথেই নাকচ করলো তার সেই পরিকল্পনা। খানিকটা ধমকের সুরে বলল,

“উনার কি বাড়ি-ঘর নেই নাকি যে দুদিন আগেই তোমার বিবাহবার্ষিকী এটেন্ড করতে চলে যাবেন? কীসব পাগলাটে কথাবার্তা বলো!”

শেহজাদ এতোটুকু বলতেই দরজায় তন্ময় আর হাসিকে দেখা গেল। হাসি রিসিপশনে বসে সবসময়। মেয়েটার নাম হাসি হলেও তার মুখে কদাচিত হাসি দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় সময়ই সে বসে থাকে শুকনো মুখে। কেউ কিছু জানতে চাইলেই রূঢ় গলায় বলে,

“পরে আসুন।”

তন্ময় আর হাসি কিছুটা ইতস্তত করে ভেতরে ঢুকল। তাদের হয়তো আসার সময় এনায়েত মূর্তজাই ডেকে পাঠিয়েছেন। এনায়েত সাহেব তাদের হাতেও একটা করে কার্ড ধরিয়ে দিলেন। বললেন,

"পরশুদিন সন্ধ্যায় তোমরা সবাই জলনূপুরে আসছ। কোনো এক্সকিউজ আমি শুনব না। কাল তোমাদের কীসব ডিভোর্স কেসের হিয়ারিং আছে শুনলাম, সেটা শেষ করেই হাত-পা তুলে নিবে। আর নতুন কোনো কাজে হাত দেবে না। বাকি যা কাজ-বাজ সব শনিবার থেকে হবে।”

রোদসী কার্ডটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। তার হাতে এখন এমন এক দম্পতির বিবাহবার্ষিকীর কার্ড যাদের বিবাহের পঁয়ত্রিশ বছর পেরিয়েছে। কত সাবলীল ভাবে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের সাথে তার জীবনের পঁয়ত্রিশটা বছর কাটিয়ে দিচ্ছে! তাদের মধ্যে এখনো এত ভালোবাসা, এত সম্মান! রোদসী টের পেল, তার চোখ দুটো জ্বলছে। কিসের এক আফসোসে সে ভেতর ভেতর পুড়ছে। আচ্ছা? এমন সুস্থ একটা সম্পর্ক কি তার বাবা-মায়েরও হতে পারতো না? কেন হলো না? রোদসীর ঘোর কাটে শেহজাদের বাবার ডাকে। ভদ্রলোক কার্ড বিলির পর্ব চুকিয়ে আবারো তার কাছে এসেছেন। জানতে চাচ্ছেন,

“মাথায় তো মনে হচ্ছে ভালোই চোট পেয়েছ। চোট পেয়ে আবার আমায় ভুলে গেলে নাকি?”

রোদসী না চাইতেও হেসে ফেলল। বলল, “একটু একটু মনে পড়ছে, আপনি নন্দঘোষ না?”

এনায়েত মূর্তজা এবার হো হো করে হেসে উঠলেন। খুব আনন্দ পেলেন এমন ভাব করে রোদসীকে ফিসফিস করে বললেন,

“আরও অনেক পরিচয় আছে। বৃহস্পতিবার রাতে আসতে না পারলে শুক্রবার দিনে চলে যেও। সারাদিন আমাদের সাথে থেকো, বাকি পরিচয় গুলোও লুকিয়ে চুরিয়ে বলে দেব। বাহিরে কোথাও আবার তো বলে দিও না। এসব কিন্তু টপ সিক্রেট!”

রোদসী বাধ্য ছাত্রের মতো উপর নিচ মাথা নেড়ে সায় দিল। এনায়েত মূর্তজা বেশিক্ষণ বসলেন না। যাওয়ার সময় হাসি আর তন্ময়ের সঙ্গেও কী নিয়ে ভীষণ হাসলেন। বোঝা গেল, ভদ্রলোক একজন প্রকৃত সুখী মানুষ। তিনি নিজের পাশাপাশি চারিদিকের মানুষগুলোকেও সুখী দেখতে চান। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মানুষটাও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় আইনকে দিয়েছেন। কিন্তু তার চলনে বলনে এখন সেই ছোঁয়া কোথাও নেই। তাকে একজন ফ্যামিলি ম্যান মনে হয় শুধু। এছাড়া তার আর ভিন্ন কোনো পরিচয়ের কথা একবারও মাথায় আসেনা।

এনায়েত মূর্তজা চলে যাওয়ার পরে চেম্বারটা আবার সুনসান হয়ে এল। তন্ময় আর হাসি রিসিপশনে ফিরে গেছে। রোদসী তখনো নেড়েচেড়ে কার্ডটা দেখছিল। এমন সময় কর্কশ শব্দে শেহজাদের ফোনটা বেজে উঠল। শেহজাদ সবেই কালো কোটটা খুলেছে। অসময়ে ফোনের রিংটোন তার কপালে ভাঁজ সৃষ্টি করেছে। খুব বিরক্ত হয়ে ফোনটা বের করল সে।

স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম দেখে তার কপালের ভাঁজ আরেকটু গাঢ় হলো। ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম। অসময়ে সে ফোন করেছে কেন? আজকের শুনানি নিয়ে খোঁচাতে চাইছে নাকি?

শেহজাদ খুব সময় নিয়ে কল রিসিভ করল। যেন কল করা ব্যক্তিটিকে বোঝাতে চাইল, সে এখন ভীষণ ব্যস্ত। কিন্তু তার সেই প্রয়াস খুব একটা কাজে দিল না। রিসিভ হওয়ার সাথে সাথেই কানে এল শীতল স্বর,

"অ্যাডভোকেট মূর্তজা! কোর্টে আজকে আপনার পারফরম্যান্স দেখে আমি সত্যিই খুব মর্মাহত। হারবেন, তা তো জানতামই। কিন্তু শুরুতেই এমন চুপসে যাবেন, এটা তো বুঝতেই পারিনি।”

অসম্ভব রাগে দাঁতে দাঁত পিষল সে। কাটখোট্টা গলায় জানতে চাইল,

“বোঝা শেষ? এবার তাহলে রাখছি। আপনার সাথে সুখ দুখের আলাপ করার মতো অবসর কিংবা ইচ্ছে কোনোটাই আমার নেই।”

“আহা! রেগে যাচ্ছেন কেন? সবে তো শুরু। একদিনেই এতো রেগে গেলে হবে?”

“কী বলতে ফোন করেছেন, কাজের কথা বলুন।”

“বেশ! আলাপ আলোচনা করতে না চাইলে জোর করব না। তবে আপনাকে যে একবার ডিবি অফিস আসবে হবে।”

শেহজাদ তার কথার কোনো প্রতিউত্তর করল না। খট করে লাইনটা কেটে দিয়েই পায়চারি করতে শুরু করল। য'ন্ত্রণায় তার মাথাটা ফেটে যাচ্ছে। রোদসীর ছেলেমানুষিতে সায় দেওয়াটা উচিত হয়নি। মোয়াজ্জেম একদিনেই চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। ফোন করে তার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে। এটা তার মোটেও পছন্দ হচ্ছে না। শেহজাদকে চিন্তিত মুখে পায়চারি করতে দেখে রোদসীর কিছু একটা জানতে ইচ্ছে হল। জিজ্ঞেস করল,

“অল ওকে, স্যার?”

শেহজাদ পায়চারি থামিয়ে রোদসীর দিকে তাকাল। হুট করেই তার ইচ্ছে হল, রোদসীর মাইন্ড রিডের ক্ষমতাটা একবার পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। চেয়ার টেনে সে রোদসীর মুখোমুখি বসল। সরু চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

“ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম ডিবি অফিসে ডেকে পাঠিয়েছেন। কী মনে হয়? কেন ডাকছেন তিনি?”

রোদসী হুট করেই হেসে ফেলল। বলল,

“আপনি দেখি আমায় জ্যোতিষী ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি কেন ডেকেছেন, তা এখানে বসে আমি কী করে বলব?”

“ভবিষ্যতবাণী করতে বলিনি, একটা গ্যেস করতে বলেছি।”

“সিক্সথ সেন্স টেস্ট করতে চাইছেন?”

“অনেকটা তেমনই।”

রোদসী বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “এই ঘটনায় যে বা যারা জড়িত, তাদের সাথে ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেমের বেশ ভালো সম্পর্ক। আজ কোর্টে আপনার নিশ্চুপতায় তারা ক্লুলেস হয়ে আছে। আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ তারা ধারণা করতে পারছে না। আমি যদি খুব একটা ভুল না হই, তারা এখন আপনাকে বাজিয়ে দেখবে।”

“কেস নিয়ে আমি কতটুকু কী জানি সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইবে?”

“এক্সাক্টলি, এবং আপনাকে সত্যি সত্যি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করা মাত্রই তারা দম ফেলবে। এরপর কেস জেতার অগ্রীম আনন্দে দেখবেন আজ থেকেই পার্টি শুরু হবে।”

“তাদের সেই অমনোযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের প্রাইম উইটনেস রেডি করব। রাইট?”

রোদসী চুটকি বাজিয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। বলল,

“সাথেই মেইন কালপ্রিট এবং তার মোটিভ অব মার্ডার খুঁজে বের করব।”

“রাশেদুল হকের কাছে কামরুল সাহেবকে মা'রা'র ক্লিয়ার মোটিভ আছে। এরপরেও আপনি তাকে মেইন কালপ্রিট ভাবছেন না?”

“না।” রোদসীর সংক্ষিপ্ত জবাবে উশখুশ করে উঠল শেহজাদ। জানতে চাইল,

“কেন?”

“কারণ, কামরুল সাহেব তার পিতা নন যে তার মৃ'ত্যুর পর তিনি অবলীলায় পূর্বাচলের জমিটার দখল নিতে পারবেন। বরঞ্চ এটা তার জন্য এখন কঠিনই হয়েছে।”

শেহজাদ দুশ্চিন্তায় পড়ল। এই পয়েন্টটাও হেলাফেলা করার মতো নয়। শেহজাদ উঠে দাঁড়াল। কোট টা হাতে নিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,

“কামরুল সাহেব মারা যাবার আগে কোনো উইল টুইল কিছু করে গেছেন কিনা চেক করুন তো।”

__

ডিবি অফিসের ভেতরের পরিবেশটা বেজায় অস্বস্তিকর। পুরনো ফাইলের ধুলো আর সস্তা চায়ের কড়া গন্ধ মিলেমিশে একটা চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় শেহজাদের নজর পড়ল চারিদিকে। এখানকার কাউকেই কাজের লাগছে না। মনে হচ্ছে বাড়ির গল্প করতে করতে ভুঁড়ি উঁচিয়ে বসে থাকার চমৎকার এক জায়গা এটি। ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেমের কেবিনটা করিডোরের একদম শেষে। শেহজাদ সেসব এড়িয়ে কোনো রকম ভদ্রতা না দেখিয়েই ভেতরে ঢুকল।

শেহজাদকে ঢুকতে দেখে মোয়াজ্জেম সন্তোষজনক হাসলেন। সোজা হয়ে বসে বললেন,

"আসুন, আসুন অ্যাডভোকেট সাহেব। আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।" মোয়াজ্জেম সামনের চেয়ারটা দেখিয়ে দিলেন শেহজাদকে। শেহজাদ তার সেই মেকী ভদ্রতাকে উড়িয়ে দিল। ঔদ্ধত্য দেখিয়ে ডান পা-টা বাঁ পায়ের ওপর তুলে দিয়ে আয়েশ করে হেলান দিয়ে বসল। তার ভাব দেখে মোয়াজ্জেম শ্লেষাত্মক হাসলেন। বিরবির করে বললেন, “ভাঙবে তবু মচকাবে না।”

মোয়াজ্জেম শেহজাদের তাচ্ছিল্য দেখে ভেতরে ভেতরে জ্বলে উঠলেও বাইরে থেকে শান্ত থাকার ভান করলেন। টেবিলের ওপর দুই হাত রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে এসে বললেন,

“চা নিবেন নাকি কফি?”

“চা-কফি খাওয়ার হলে এ জায়গায় আসতাম না।”

মোয়াজ্জেম গলা খাঁকারি দিয়ে অপমানটুকু হজম করলেন। সোজা সাপটা প্রসঙ্গ টেনে বললেন,

"গত পরশু সাগরকে কেউ বেধড়ক পিটিয়েছে। মা'র খেয়ে বেচারার জ্ঞান ছিলো না কয়েক ঘন্টা।”

শেহজাদ ডান হাতে ভ্রু গুলো চুলকাল। আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল,

“সাগর? কোন সাগর?”

"ক্যাফে শেডোর ওয়েটার। চেনেন না নাকি?”

‘ওদিকে আমার খুব একটা যাতায়াত হয় না। এক বন্ধুর বাসা আছে, গেলে মাঝেসাঝে ওখানে যাই। আশপাশের কফিশপ টপ এক্সপ্লোর করা হয়না।”

ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম তার কথা কতোটুকু বিশ্বাস করল কে জানে?

“এরপর থেকে সে লাপাত্তা। তার কলিগরা কেউই আর তাকে দেখেনি।"

শেহজাদের মুখের রেখায় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন এল না। সে অত্যন্ত শান্ত গলায় প্রশ্ন করল, “ইশ! সো স্যাড!”

শেহজাদের অভিনয়ে মোয়াজ্জেম বেশ বিরক্ত হচ্ছে। তার এতক্ষণের হাসি হাসি মুখটা এখন শক্ত হয়ে এসেছে। তিনি হিসহিসিয়ে বললেন,

“আপনাকে এখানে সিম্প্যাথি দেখানোর জন্য ডাকিনি।”

“ওহহো! তাহলে?”

শেহজাদ মোয়াজ্জেমকে রাগিয়ে বেশ মজা পাচ্ছে। রোদসী এবারের পরীক্ষা পূর্ণ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। মোয়াজ্জেম সত্যি সত্যি তাকে বাজিয়ে দেখতে ডেকেছে। কিন্তু জেনেশুনে এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

"আমার মনে হচ্ছে সেদিন আপনিই গিয়েছেন সাগরের সাথে দেখা করতে। আনফরচুনেটলি ওইদিনের সিসিটিভির ফুটেজ আমাদের হাতে নেই। তবে সেদিনের কয়েকজন ওয়েটারের কাছ থেকে আমরা যেমন মানুষের বর্ণনা পেয়েছি, তাতে আমার প্রবল ধারণা, মানুষটা আপনিই ছিলেন।"

শেহজাদ এবার শব্দ করে হাসল। তার তাচ্ছিল্য ভরা হাসিতে মোয়াজ্জেমের হুট করেই অস্বস্তি হলো। মনে হলো, তিনি হয়তো কোনো ভুল করছেন। কানে এল শক্ত গলার স্বর,

"আপনার ধারণায় তো আর আইন চলে না, ইন্সপেক্টর।"

কানের পাশের চুলগুলো হাত দিয়ে অকারণ গুছিয়ে নিয়ে সে জানতে চাইল,

"যে দেখেছে, সে কী কোর্টে দাঁড়িয়ে শিওরলি বলতে পারবে যে ওই লোকটা আমিই ছিলাম?"

মোয়াজ্জেম এবার রীতিমতো বিব্রত হলেন। তিনি থতমত খেয়ে বললেন,

"তখন তো লোকটা মাস্ক পরা ছিল। তারা শিওরলি কীভাবে বলবে? তবে হাইট আর বাহ্যিক বর্ণনায়..."

"এনি আদার প্রুফ?"

শেহজাদ মোয়াজ্জেমের কথার মাঝখানেই তাকে থামিয়ে দিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন ছুড়ে দিল। বিপরীতে মোয়াজ্জেম এবার চুপ করে রইলেন। তার হাতে সত্যিই এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দিয়ে তিনি সরাসরি শেহজাদকে জেরা করতে পারবেন। শেহজাদ পায়ের ওপর থেকে পা নামিয়ে, সোজা হয়ে বসল। বলল,

"মনে হচ্ছে হাতে কেস-টেস নেই, তাই এমন আদাজল খেয়ে আমার পিছে পড়েছেন।”

একটু থেমেই বলল,

"আপনার যদি এতই কেসের অভাব থাকে, তবে নিন, আমি আপনাকে একটা কেস দিচ্ছি। আমার কেসটা নিন। আমি ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় পাবলিকলি আমায় হয়রানি করার বিরুদ্ধে মানহানির কেস করতে চাই। আজই রিট পিটিশন ফাইল করব। আপনি কি আমার এই কেসটা নেবেন, ইন্সপেক্টর? অর আমাকেই ডিসি অবধি যাওয়া লাগবে?"

মোয়াজ্জেমের মুখটা এবার ফ্যাকাশে হতে শুরু করল। শেহজাদ মূর্তজাকে ঘাঁটাতে গিয়ে তিনি নিজেই কীভাবে যেন ফাঁদে পড়েছেন। বিপদ টের পেয়েও ঠাঁট নিয়ে বললেন,

"দেখুন অ্যাডভোকেট সাহেব, আপনি এবার অকারণ সিন ক্রিয়েট করছেন। এটা আমার ডিউটির পার্ট। সন্দেহ হলে পুলিশ প্রশ্ন করতেই পারে।” একটু থেমে নিচু গলায় বলল, “সরি ফর দ্য ইনকনভেনিয়েন্স। আপনি এখন আসতে পারেন।”

তার অনিচ্ছাকৃত ক্ষমায় শেহজাদের কিছুই যায় আসে না। শেহজাদ উঠে দাঁড়াল। তাকে চলে যেতে দেখে মোয়াজ্জেম বিরবির করলেন, “খুব উড়ছো তুমি বাছা! একবার শুধু সুযোগ পাই! এরপর আর তোমায় ছাড়ছি না।”

ফেরার পথে ব্যস্ত করিডোর ধরে হাঁটার সময় শেহজাদের মনে একটা অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করছিল। মোয়াজ্জেমকে নিজের জালে আটকে বোকা বানানোর আনন্দ। শিকারী এভাবে নিজেই শিকার বনে যাবে তা সে ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেনি। তাই কলে আটকানো ইঁদুরের মতো ছটফট করছিল। সেই দৃশ্য বড়োই উপভোগ্য ছিল। ডিউটি অফিসারের ডেস্কের কাছাকাছি আসতেই শেহজাদের কিছু একটা কানে এল। ডেস্কের ওপর রাখা পুলিশের রেডিও রিসিভারে তখন একটা মেসেজ বাজছে—

"হ্যালো কন্ট্রোল রুম... ডেমরা থানার আন্ডারে একটা ইমার্জেন্সি কল এসেছে। একটা পরিত্যক্ত বালুর মাঠের কাছে অজ্ঞাত ডেডবডি পাওয়া গেছে। লা'শটির গলা কাটা এবং মুখমণ্ডল চরমভাবে বিকৃত। পকেটে কোনো আইডি নেই। বডিটা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ওভার।”

শেহজাদের হুট করেই মনে হলো, সাগর লাপাত্তা হয়নি। তাকে মে'রে ফেলা হয়েছে। এটা হয়তোবা সাগরেরই লা'শ। মনে মনে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বেচারা ওয়েটার! প্রথমে সে ভেবেছিল ওই পেনড্রাইভ দিয়ে সে মন্ত্রী বা মোয়াজ্জেমকে ব্ল্যাকমেইল করে অনেক টাকা কামাবে। মাঝপথে শেহজাদ সব সত্য জেনে নেওয়ায় তার পরিকল্পনা বিফলে যায়। এরপর হয়তো সাগরের মতিভ্রম হয়েছিল। প্রাণভয়ে সে হয়তো শত্রুপক্ষের কাছে গিয়ে সব সত্য স্বীকার করে ফেলেছিল। ভেবেছিল সব বলে দিলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। জাহিদের পর সাগর—মির্জা কামরুল মার্ডার কেসের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিল, তাই তাকেও দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেহজাদ চোয়াল শক্ত করে ডিবি অফিস থেকে বেরিয়ে এল। এই কেসটা একটা মা’র্ডার থেকে শুরু হয়ে এখন তিন তিনটা লা'শের উপর দাঁড়িয়ে। অথচ এখনো সে অপরাধীকে ধরতে পারেনি। হোয়াট আ শেইম!

শেহজাদ অফিসে ফেরার আগেই ফরিদা বেগম দু'বার ফোন করলেন। অ্যানিভার্সারির ক্যাটারিং আর ভেন্যু ডেকোরেশন নিয়ে কথা সেরে কেটেও দিলেন খুব দ্রুত। শেহজাদ ঘুমে ঠিকঠাক ড্রাইভ করতে পারছে না। মনে হচ্ছে, আসার সময় তন্ময়কে নিয়ে আসা দরকার ছিল। তাহলে অন্তত রিল্যাক্সে অফিসে পৌঁছানো যেত।

শেহজাদ অফিসের নিচে দাঁড়িয়েই একটা সিগারেট খেয়ে নিল। ঘুমে তার নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে। অফিস থেকে আজ দ্রুত বের হতে হবে। বাড়ি গিয়ে যে করেই হোক একটু ঘুমাতে হবে। আজ ঘুম না হলে আগামীকালের কেসটায় সে মন দিতে পারবে না।

সিগারেট টা অর্ধেক খেয়েই শেহজাদ উপরে উঠল। দেখল, চেম্বারে রোদসী নেই। না বলে আবার কোথায় গেল মেয়েটা? ভ্রু যুগল কুঁচকে এল শেহজাদের। তন্ময়কে জিজ্ঞেস করতে নিল সে। প্রায় সাথে সাথেই ওয়াশরুম থেকে বের হলো রোদসী। তার পুরো মুখে জলকণা চিকচিক করছে। ঘুম তাড়াতে হাত-মুখ ধুয়ে এল বোধহয়। তার ভেজা মুখমন্ডলে তাকাতেই আঁতকে উঠল শেহজাদ। আশ্চর্য নিয়ে শুধাল,

“ব্যান্ডেজ ভিজিয়ে ফেলেছেন কেন?”

ব্যান্ডেজের ব্যাপারটা বুঝতে রোদসীর বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগল। মনে পড়তেই স্বাভাবিক গলায় বলল,

“ওহ! এটা? সমস্যা নেই। অত লাগেনি। এমনিও এখন খুলে ফেলব এটা। ইচিং হচ্ছে প্রচুর।”

শেহজাদ অধৈর্য্য হয়ে এগিয়ে এল। রোদসীকে বসতে ইশারা করে ফার্স্ট এইড বক্সটা বের করল ড্রয়ার থেকে। রোদসী প্রথমে বুঝতে পারেনি। ডিবি অফিসে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা শোনার আশায় সে শেহজাদের দেখানো চেয়ারটায় বসে পড়ল। তাকে অবাক করে শেহজাদ সে বিষয়ে কিছু তো বললোই না উল্টো বিনা অনুমতিতে রোদসীর ব্যান্ডেজ খুলতে শুরু করল। মুখে বলল,

“সাইকোলজির পাশাপাশি আপনার একটু মেডিকেল টার্মস সম্পর্কেও জানা দরকার। এভাবে ভেজা ব্যান্ডেজে রেখে কপালটাকে তো ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন কেন্দ্র বানাবেন।”

“শুধু শুধু ব্যস্ত হচ্ছেন, স্যার। এটুকু কাটায় ব্যান্ডেজের প্রয়োজন নেই।” রোদসী ইতস্তত গলায় বাধা দিতে চাইল। তার সেই বাধা খুব একটা কার্যকর হল না। মেয়েটা কারণে অকারণে জেদ ধরে। তার এই উল্টোপাল্টা জেদের জন্য ভুগতে হয় শেহজাদকে। দু'দুটো কেস হাতে নিয়ে এখন এমন অসতর্ক হলে শেষে শেহজাদকে একাই ভুগতে হবে। তাই অসহ্য গলায় বলল,

“হ্যাঁ, ইনফেক্টেড হয়ে কপালের সাথে পুরো মুখও ফুলুক। এরপর বুঝবেন প্রয়োজন আছে কি নেই।”

“ইনফেকশন…”

রোদসীর যুক্তিতর্কে শেহজাদ খুব একটা আগ্রহী না। সে ব্যস্ত তার কপালটা নতুন করে ব্যান্ডেজ করতে। রোদসীকে থামিয়ে তাই নিজ থেকে বলে উঠল, “জরুরি নয় যে, সবসময় আপনিই সঠিক হবেন। মনে রাখবেন, ফিটনেস ইজ দ্য কী কন্ডিশন ফর বিং আ ল’ইয়ার।”

রোদসীর হাসি পেল। মনে হলো, আগামীকাল কোর্টে রোদসীর উপস্থিতিকে নিশ্চিত করতেই তার এতো তোড়জোড়। প্রতিউত্তরে এবারো সে কিছু বলতে চাইল। তার আগেই কোথা থেকে ছুটে এল তন্ময়। ছেলেটা এমনভাবে ঢুকে, প্রতিবারই চেম্বারের ভেতরের সবাই চমকে উঠে। এবারো ভালো চমকাল তারা দুজনে। তন্ময় সময় অপচয় করল না। ভেতরে এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

“একটা ব্যাড নিউজ আছে স্যার।”

শেহজাদ ব্যান্ডেজের কাজে মন দিয়ে বলল,

“পুলিশ আসছে আমায় গ্রেফতার করতে?”

তন্ময় থতমত খেল। অস্ফুটে জানতে চাইল,

“জি স্যার?” পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। জোকসটা বুঝতে পেরেও সে হাসতে পারল না। চাপা আতঙ্ক নিয়ে বলল,

“আপনি বোধহয় কালকের কেসটা লড়তে পারবেন না, স্যার।”

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 13 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন