ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও জোছনা নামে

পর্ব 24

লেখক: বর্ণপ্রিয়া

#তবুও_জোছনা_নামে
#বর্ণপ্রিয়া
#পর্ব_২৪

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে বা যারা প্রি-বুকিং করে ফেলেছি বলে গতকাল থেকে সমানে মেসেজ দিচ্ছেন তাদের অগ্রগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শুধু এবং শুধুমাত্র গ্রন্থরাজ্য এবং বইভ্রমর বুকশপ থেকে জোছনা প্রি-অর্ডার করলে আপনারা এর সাথে একটা সেরা সারপ্রাইজ গিফট পাবেন। সেরা মানে একদম সেরা। এটা মিস করলে পরে নিজেরাই হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদবেন। অতএব, এটি মিস করবেন না। আর হ্যাঁ, সারপ্রাইজটা মেলায় রিভিল হবে ইনশাআল্লাহ। যারা মেলা থেকে সরাসরি নিবেন, তারাও সারপ্রাইজ পাবেন। ]

[বি.দ্র: পর্বটি সেন্সিটিভ।]

তন্ময়ের এক প্রশ্নে অফিসের বদ্ধ কেবিনের থমথমে পরিবেশটা যেন আরো কয়েক গুণ ভারী হয়ে এলো। শেহজাদ অলস ভঙ্গিতে চেয়ারে বসলো। তার দৃষ্টি এখন সামনে দাঁড়ানো রোদসীর দিকে। রোদসী কী জবাব দেয়, তা শোনার আগ্রহ শেহজাদকে ঘিরে ধরেছে। রোদসী ঠান্ডা গলায় বলল,

“আইনকে শুধুমাত্র টাকা কামানোর একটা সেক্টর ভাবা, সো কল্ড উকিলরাই তাদের জামিনের আবেদন করে।”

শেহজাদের ঠোঁটের কোণ সামান্য বেঁকে উঠলো। সচরাচর নিজের পেশায় কেউ দাগ লাগতে দেয় না। মেয়েটা সেখানে নিজ মুখে ওকালতির সাথে জড়িত ঐসব মানুষের দোষ স্বীকার করছে। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তন্ময় কিছুটা ভড়কালো। বললো,

“উকিল তো আপনারাও। আপনারাও কি ওদের জামিনের আবেদন করবেন?”

“করি তো, ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমতা, টাকা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে আমরাও জেনেশুনে অপরাধীর সঙ্গ দেই।”

তন্ময়ের হুট করেই মনে হলো, শেষের কথাটা সে হয়তো শেহজাদকে উদ্দেশ্য করে বলেছে। কিন্তু কেন? শেহজাদ স্যার কি কখনো অপরাধীকে জামিন পাইয়ে দিয়েছিলেন? তার ভাবনার মাঝেই শেহজাদের শীতল স্বর ভেসে এলো,

“অথচ অপরাধীর সঙ্গ দিয়েই আপনি দ্য থার্ড আই এর সাথে যাত্রা শুরু করেছেন।”

কথাটা বলে সে জানলার সামনে থাকা মানিপ্ল্যান্ট গাছটাতে তাকালো। রোদসী কি তার কথার ধরণ বুঝলো? না বোঝার মেয়ে তো সে নয়। তাইতো চট করেই জবাব এলো,

“কিছু পেতে হলে কিছু তো খোয়াতেই হয়।”

“সততা খুইয়ে কী পেলেন? দ্য থার্ড আই?”

রোদসী শোণিত দৃষ্টিতে শেহজাদের চোখে চোখ রেখে তাকিয়েছে। মনে হচ্ছে, এ প্রসঙ্গ তার পছন্দ হচ্ছে না। তার কি এখন প্রসঙ্গ বদলে আবার কেসে ফেরা উচিত? শেহজাদের সিদ্ধান্তহীনতার ফাঁকেই রোদসীর প্রতিউত্তর শোনা গেলো,

“মুক্তি।”

এক শব্দের একটা জবাবেই শেহজাদের সকল প্রশ্নবাণ গুড়ো গুড়ো হলো। মেয়েটির চোখদুটি কিসের এক নেশায় ধিকিধিকি জ্বলছে। মুক্তির নেশা বুঝি এতোই তীব্র? দুজনকে ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে দেখে তন্ময় তাড়া দিলো। সময় অপচয় করে কাজ নেই। শেষে বাড়ি ফিরলে এসব আলোচনা আবার চাপা পড়বে।

“প্রথম কলাম নাহয় বুঝলাম। দ্বিতীয়টা?”

“দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণ অনর্থক। অথচ এর প্রভাব বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ব্যক্তিগত সমস্যা — ব্যক্তিগত সমস্যা কোনো শিশুর সাথে হয় না। হয় তার অভিভাবক কিংবা আত্মীয়ের সাথে। তারই জেরে তুলে নেওয়া হয় শিশুদের। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই শিশুরা ফেরে লা'শ হয়ে। উদ্ধার পাওয়া শিশুর সংখ্যা এই ভাগে একেবারেই কম।”

“ব্যক্তিগত ঝাল মেটানোর জন্য আরেকটি অপরাধও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বদলা নেওয়ার সহজ উপায় হিসেবে তুলে নেওয়া হয় শিশুদের। এরপরের পরিণতি সহজ। জোর জবরদস্তি অতঃপর খু’ন।”

শেহজাদের কথায় রোদসী মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। বললো,

“মজার ব্যাপার হলো, সামনের মানুষটির বয়স কিংবা লিঙ্গ কোনোটাই তাদের এই অপরাধের পথে বাধা হয় না।”

শেহজাদ কেন যেন শ্লেষাত্মক হাসলো। দুদিকে মাথা নেড়ে রোদসীর সেই কথা রীতিমতো উড়িয়ে দিলো। শিশুরা শুধুই শিশু। এদের লিঙ্গ, বয়স, গড়ন এসবের ভিত্তিতে আলাদা করার কিছু নেই। যে বা যারা এই ধরণের কাজ করে, তারা কখনোই শিশুদের বয়স, গড়ন, গায়ের রং কিংবা ছেলে বা মেয়ের ক্যাটাগরি মানে না। এদের জন্য এটা শুধুমাত্র বদলা, কারো কারো ক্ষেত্রে আবার পি'শাচ মনের খোরাক। শেহজাদ গলায় ভর্ৎসনা ঢেলে বললো,

“অতো দূর যাচ্ছেন কেন? ভুক্তভোগী জীবিত আছে না এরই মাঝে ম'রে গেছে — তাও তো দেখার ফুরসত হয় না তাদের।”

তন্ময় আঁতকে উঠলো। অসহায় গলায় বললো,

“হ্যাঁ, এজন্যই আজকাল নিউজ চ্যানেলগুলো সব আনফলো করে দিয়েছি। ফেসবুকে ঢুকলেই এসব নিউজ। এতো অমানুষে ভরে গেছে চারিদিক!”

শেহজাদ তন্ময়ের পাংশুটে মুখটায় তাকালো। ছেলেটার মুখ থমথমে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, সে সত্যিই এই ক্রমবর্ধমান ঘটনাগুলো নিয়ে চিন্তিত।

“আনফলো করলে বা এড়িয়ে গেলে তো আর অপ'রাধগুলোর দমন হচ্ছে না। বরং দিন দিন এগুলো ফুলে ফেঁপে উঠে ঢেকে দিচ্ছে এদেশের অবুঝ শিশুদের রঙিন সব শৈশব।”

রোদসীর কাটখোট্টা জবাবে তন্ময়ের উদাসীনতা আরো একটু বাড়লো। রোদসী সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বললো,

“হারিয়ে যাওয়া শিশুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূর্ভাগ্যের অধিকারী হয়তো এরাই। কারণ অপরাধী এদের খুব চেনা, এতো কাছের যে এরা হাত বাড়লেই খিলখিলিয়ে ছুটে যাবে তাদের কাছে, এরপর হয়তো কখনোই আর ফিরবে না।”

“প্যাথেটিক!”

শেহজাদের কথার ধরণে তন্ময়ের খুব খারাপ লাগলো। বলতে ইচ্ছে হলো, এমন মুখে মুখে সহানুভূতি না জানিয়ে ওদের জন্য কিছু করুন, স্যার। কিন্তু এই কথা সে বলতে পারবে না। কারণ স্যার কখনোই তাদের হয়ে কিছু করবে না। তার কাজ নেওয়ার ধরণ আত্মকেন্দ্রিক।

রোদসী আবার বোর্ডের দিকে ঘুরেছে। তার তর্জনী তৃতীয় কলামের দিকে তাক করা, যেখানে লেখা— ‘পঙ্গুকরণ এবং ভিক্ষাবৃত্তি’।

“এবার আসি তৃতীয় কলামে।” রোদসীর গলা এবার আগের চেয়ে আরও বেশি কঠিন শোনালো। একটু থেমেই সে বললো,

“এই ক্যাটাগরির কিডন্যাপিংগুলো সবচেয়ে ভয়ংকর। কারণ এখানে টার্গেট করা হয় মূলত চার থেকে দশ বছরের বস্তি থেকে আসা কিংবা রাস্তার ধারে মানবেতর জীবনযাপন করা ভাসমান শিশুদের। কিডন্যাপ করার পর এদেরকে নেওয়া হয় ঝলমলে শহরের অন্ধকার কোনো গলিতে। তারপর...” রোদসী একটু থামল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে। চোখের দৃষ্টিতে কিসের এক ক্ষোভ। একটা গভীর শ্বাস নিয়ে সে পুনরায় বলল,

“তারপর সুপরিকল্পিতভাবে এদের হাত বা পা ভেঙে দেওয়া হয়। কাউকে বা যত্ন করে অ্যাসি’ড ঢেলে অন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতেও যথেষ্ট মনে না হলে, এই বাচ্চাদের না খাইয়ে রাখা হয় মাসের পর মাস। তীব্র অপুষ্টিতে শুকিয়ে এদের চামড়া যখন গায়ের সাথে একদম লেগে যায় — দেহের বাইরে থেকে হাড়গুলো সব দৃশ্যমান হয়, তখনই এদের শহরের বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যালে, মাজারের সামনে কখনো আবার ফুটওভার ব্রিজে বসিয়ে দেওয়া হয়। এদের চেহারা তখন এতোটাই বিধ্বস্ত, যে লোকের পকেটে শেষ দশটা টাকা সম্বল, সেও সেই দশটা টাকা তাদের জীর্ণ হাতে তুলে দেয়। এই বিকলাঙ্গ শিশুদের এক ঝলকের দেখা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মনে নাড়া দেয়, আর সেই মায়াকে পুঁজি করেই দিনের শেষে কোটি কোটি টাকার কালেকশন চলে যায় ওই সিন্ডিকেটের পকেটে।”

তন্ময় এবার আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে ধপ করে পেছনের চেয়ারটায় বসে পড়ল। তার হাত-পা কাঁপছে। একটা সুস্থ-স্বাভাবিক বাচ্চাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া? মানুষ এত অমানুষ হয় কী করে? এতোটা বর্বরতা! এতোটা! তার চোখ দুটো থেকে কখন যেন গড়িয়ে পড়ে জল। সে অস্পষ্ট গলায় বলে,

“মানুষ এতো জালিম হতে পারে?"

“প্রশ্নটা ভুল, তন্ময়। কারণ একমাত্র মানুষ-ই সর্বোচ্চ জালিম হওয়ার ক্ষমতা রাখে।”

রোদসীর গলা থেমে থেমে কাঁপছে। তার গলার স্বর আটকে আসছে কেন? কীসের এতো জড়তা? কাকে নিয়ে? তাদের কাউকে সে চেনে? শেহজাদের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। এই শহরের অন্ধকার জগতটা তার অজানা নয়। কোর্টরুমের বাইরেও এমন অনেক ফাইল সে নাড়াচাড়া করেছে। তবু রোদসীর মুখে কথাগুলো নতুনভাবে শুনতে গিয়ে তার ভেতরটা শিহরিত হচ্ছে কেন? চশমার ফ্রেমটা আঙুল দিয়ে সামান্য ঠিক করে সে বলে উঠল,

“লেট’স কামব্যাক টু দ্য পয়েন্ট। তাহের মল্লিকের ছেলে তামীম বা তার দারোয়ানের ছেলে মাসুম— এদের দুজনের কেউই আপনার এই তিনটে ক্যাটাগরির একটাতেও পড়ে না। তামীমের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি, তার মানে এটা প্রথম কলাম নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকলে শুধু তামীমকে নিত, মাসুমকেও তুলে নেওয়া হতো না। আর রইলো বিকলাঙ্গ করিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির ক্যাটাগরি। এর জন্য তামীমের মতো হাই-প্রোফাইল বাচ্চাকে তুলে নেওয়াটা হিসেবের খাতার বিশাল এক গড়মিল।”

রোদসী কথার পিঠে কথা বললো না। প্রাণহীন চোখে চেয়ে রইলো শেহজাদের দিকে। বেশ অনেকক্ষণ সময় নিয়ে বললো,

“আশ্চর্য মানুষ আপনি!”

“হু?”

“আপনার চোখে আমি শুধু জেতার তাড়া দেখতে পাচ্ছি। সামান্য মনুষ্যত্বের ছিটেফোঁটাও তাতে নেই।”

শেহজাদ থমকালো। কয়েক পল স্তব্ধ থেকে বললো,

“এখানে বসে তাদের জন্য মনুষ্যত্ব দেখিয়ে লাভ?”

তাচ্ছিল্য হেসে হাতের মার্কারটা টেবিলের দিকে ছুঁড়ে দিলো সে। টেবিল থেকে গড়িয়ে সেটা মেঝেতে কোথাও শব্দ করে পড়লো। সেদিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করলো রোদসী,

“একবার লাভের হিসেব কষতে শুরু করলে, জলদি-ই মগজে ঘুণে পোকা ধরে। লোপ পায় বিবেকবোধ। তখন আর মানুষ, মানুষ থাকে না, হয়ে ওঠে মানুষ রূপী এক প্রাণহীন র'ক্ত মাং'সের স্তূপ!”

শেহজাদ বোধহয় ভড়কে গেলো। জিজ্ঞাসু নয়নে তাকালো তন্ময়ের দিকে। বোধহয় জানতে চাইলো, আমাকে কি আসলেই এখন শুধু র'ক্ত মাং'সের স্তূপ মনে হচ্ছে? তন্ময় বড় বড় চোখে শেহজাদকে দেখছে। তার চোখমুখে উপচে পড়ছে ভয়। হুট করে মুখের ওপর নিজের বিষয়ে তিক্ত কোনো সত্য শুনলে মানুষ নিজেকে সামলাতে পারে না। সবার সামনে নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে। স্যার কি তেমন কিছুই করবেন? শেহজাদ অস্থির হয়ে উঠে দাঁড়ালো। তাকে সাফাই গাওয়ার সুযোগ দিলো না, রোদসী।

“ওয়েল, এটা আপনার পার্সোনালিটি। এটা নিয়ে কথা বলা উচিত হয়নি।”

আঙুলের সাহায্যে বোর্ডে লেখা ৪ নং কলামের প্রশ্নবোধক চিহ্নের চারিদিকে সে অদৃশ্য একটা গোল দাগ কাটলো। বললো,

“আমি যদি খুব একটা ভুল না হই, তাহলে তামীম, মাসুম সহ বাড়ি না ফেরা শিশুগুলো এই চার নম্বর ক্যাটাগরিতে পড়েছে।”

শেহজাদের চোখ মুখ শক্ত। সে প্রাণহীন চোখে রোদসীকে দেখছে। চার নম্বর ক্যাটাগরি নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে না। রোদসী তার অন্যমনষ্কতা ধরতে পারলো না। সে আরও কিছু বলার আগেই তন্ময় ঘরটা থেকে বেরিয়ে গেলো। মনে হলো, চার নম্বর ক্যাটাগরিটা শোনার মতো সাহস তার নেই। রোদসী সেদিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললো। কিছু বলার আগেই কানে এলো নিস্তেজ স্বর,

“আমার পার্সোনালিটি ডিফাইন করার পর, আপনার আর কী কী ধারণা জন্মেছে, রোদসী?”

রোদসী ভ্রু উঁচিয়ে শ্লেষাত্মক হাসলো। তাকে উত্যক্ত করতে বললো,

“আপনি এখনো সেই কথায় পড়ে আছেন? হুট করে সত্য শুনে ট্রিগার খেলেন নাকি?”

“কেমন সত্য?”

“এটাই যে আপনি ধীরে ধীরে মানুষের কাতার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।”

শেহজাদ একটা ধাক্কা মতোন খেলো। দু'পা এগিয়ে মধ্যকার দূরত্ব খানিকটা কমালো। তার কুঁচকে যাওয়া ভ্রু যুগলে তাকিয়ে রোদসী বুকে হাত বেঁধে দাঁড়ালো। অকপটে বললো,

“খুব কম সময়ে পরিচিতি, টাকা আর সুনাম একসাথে পেয়ে গেলে মানুষ নিজেকে সেরা ভাবতে শুরু করে। তারপর হুট করেই জন্মে অহংবোধ। আর এই অহংবোধই একসময় মানুষকে ভুল পথে চালিত করে।”

“আমি অহংবোধ রাখি?”

“অবশ্যই। আপনি স্বীকার করুন বা না করুন, আপনার মাঝে অহংবোধ আছে। আর সেই অহংবোধ থেকেই আপনি কেসের সব ডিটেইলস আমাকে বা তন্ময়কে বলেন না। ভাবেন— যতটুকু না জানালেই নয়, শুধু ততোটুকুই জানাবো। বাকিটা আমি একা সামলাব।”

শেহজাদ অসহায় বোধ করতে শুরু করলো। রোদসী তাকে এতো খারাপ ভাবছে কেন? সে কি সত্যিই অহংকার করেছে? করলেও ভুল কি করেছে? সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় সে এতোদূর এসেছে, নিজের প্রতি তার দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকলে ক্ষতি কী? সে তো কাউকে ছোট করেনি! তার হতবিহ্বল মুখে তাকিয়ে রোদসী আরও কিছু বললো। সেই কথা শেহজাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো না। সে কয়েক পা এগিয়ে দুজনের মধ্যকার সবটুকু দূরত্ব কমিয়ে আনলো। কীভাবে যেন হুট করেই স্বভাববিরুদ্ধ আচরণ করে বসলো। কেমন এক গলায় জানতে চাইলো,

“আমি ঠিক কী করলে আপনার আমাকে ভালো মানুষ মনে হবে?”

রোদসী থমকালো। সে বোধহয় পাল্টা যুক্তি শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল। তাই খানিক অপ্রস্তুত হলো। খুব জলদি নিজেকে সামলে নিলো সে, চোখে চোখ রেখে বললো,

“আমার সামনে আপনার ভালো হওয়ার অভিনয় করার প্রয়োজন নেই, স্যার। আপনি কেমন তা জেনেই আমি কাজে এসেছি। আমার জন্য নিজেকে বদলাবেন, অ্যাডভোকেট মূর্তজার নিশ্চয়ই এতোটাও খারাপ দিন আসেনি।”

“আমি জবাব পাইনি, রোদসী। আমার প্রশ্ন এখনো একই আছে। বলুন, আমি ঠিক কী করলে আপনার আমাকে ভালো মানুষ মনে হবে?”

রোদসী জবাব দিলো না। উল্টো ঘুরে টেবিলের পাশ থেকে মার্কারটা নিতে চাইলো। তাকে চলে যেতে দেখে শেহজাদ পথ রোধ করে দাঁড়ালো। রোদসী খানিকটা অস্বস্তিতে পড়লো। শেহজাদ ঠান্ডা গলায় আবারো একই প্রশ্ন করলো,

“এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন? অভিযোগ যখন তুললেন, তখন সমাধানও দিয়ে যান— আমি ঠিক কী করলে আপনার আমাকে ভালো মানুষ মনে হবে?”

শেহজাদের জোরাজুরিতে রোদসী বিরক্ত বোধ করলো। দুম করেই বলে বসলো,

“অভিযোগ করিনি, আমি শুধু আপনাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়েছি।”

শেহজাদ প্রতিক্রিয়া করলো না। তাকে এই মুহূর্তে ভীষণ একরোখা লাগছে। মনে হচ্ছে জবাব না জেনে সে ছাড়বে না।

“সমস্যাটা যখন আপনার, সমাধানও আপনাকেই বের করতে হবে।”

শেহজাদ সহসাই কিছু বললো না। তাকে পাশ কাটিয়ে রোদসী চলে যাচ্ছে। অনেক বড় ঝড় ফেলে রেখেই চলে যাচ্ছে। শেহজাদ খেয়াল করলো তার হাত-পাতে মৃদু কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে। না — তার রাগ হচ্ছে না। বিন্দু পরিমাণও না। তাহলে? কীসের ভয়ে হাত-পা কাঁপছে? হুট করে সত্য জেনে ফেলায়? না, কীসের সত্য? সে কখনোই নিজেকে নিয়ে অহংকার করেনি। যেই কাজ সে করেনি, সেই কাজের জন্য তার হাত-পা কাঁপবে কেন? শেহজাদ টেবিলের কোণ ধরে ভারসাম্য ঠিক করতে চেষ্টা করলো। তন্ময়টা কাজের সময় কোথায় গেলো? আর রোদসী? সে-ইবা হুট করে কোথায় গেল? শেহজাদ কোনোমতে তন্ময়ের নম্বরে কল করলো, দুর্বল গলায় বললো,

“আমার মনে হয় প্রেশার ফল করছে, তন্ময়। একটু হসপিটালে যেতে হবে।”

শেহজাদ আর কী বলবে খুঁজে পেলো না। বলতে হলোও না। তন্ময় ফোন কানে নিয়েই এক ছুটে ভেতরে এলো। সে রিসিপশনে বসে ধাতস্থ হচ্ছিলো। মনে হচ্ছে, খুব ভুল হয়েছে। স্যারকে এভাবে রেখে যাওয়া একদম উচিত হয়নি। শেহজাদ ততক্ষণে মেঝেতে বসে পড়েছে। তন্ময় খুব তোরজোড় করে কিছু একটা বলতে বলতে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করলো। শেহজাদের কানে সেই কথা পৌঁছালো না। তার কানের সামনে একটা কথা-ই ঘুরপাক খাচ্ছে — “খুব কম সময়ে পরিচিতি, টাকা আর সুনাম একসাথে পেয়ে গেলে মানুষ নিজেকে সেরা ভাবতে শুরু করে। তারপর হুট করেই জন্মে অহংবোধ। আর এই অহংবোধই একসময় মানুষকে ভুল পথে চালিত করে।” — সে কি ভুল পথে যাচ্ছে? না, কখনোই না। এখনো অবধি সে কারো সাথে অন্যায় করেনি। বিনা অপরাধে কাউকে শা'স্তি পেতে দেয়নি। হ্যাঁ, অল্প বিস্তর স্বার্থপর অবশ্যই হয়েছে। বেছে বেছে বড় কেসগুলো-ই নিয়েছে। এতে অহংকারের কী আছে? ভুল-ই বা কোথায়? সে একা নিশ্চয়ই সবাইকে ইনসাফ এনে দিতে পারবে না? সেক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে ফোকাস করে বড় কেস নেওয়া খারাপ কী করে হতে পারে?

চোখদুটো মেলতেই ফিনাইলের তীব্র গন্ধে চমকে উঠলো শেহজাদ। এখানে কী করছে সে? একটু ভাবতেই ধীরে ধীরে মনে পড়লো সব। তখন সত্যি সত্যি তার প্রেশার ফল করেছিলো। তন্ময় সময় অপচয় করেনি। জলদি তাকে হাসপাতাল এনেছিলো। ডাক্তার ইমার্জেন্সি স্যালাইন লাগিয়েছে। শেহজাদ ঘাড় কাত করে দেখলো স্যালাইনটা শেষ। কয়েকবার হাত মুঠ করে দেখলো, আগের মতো দুর্বল লাগছে না। স্যালাইন শেষ হলো, তন্ময় ডাকলো না কেন? শেহজাদ তাকে ডাকতে চাইলো। হাতে একটা স্যালাইন নিয়ে তাকে আসতে দেখা গেলো। শেহজাদকে জাগতে দেখে অস্থির গলায় বললো,

“উঠে গেছেন? এখন কেমন লাগছে?”

“ভালো লাগছে। খুব ভালো লাগছে। এবার এখান থেকে বের করো আমায়।”

তন্ময় ছোট্ট করে শ্বাস ফেলে বললো, “জানতাম, জেগে গেলে আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে চাইবেন না। তাই আরেকটা স্যালাইন কিনে নিয়েছি।”

“কিনে নিয়েছো মানে?”

“মানে, এটা আজ রাতের মাঝে না দিলে, রাতের মধ্যেই ভর্তি লাগতে পারে। তখন কিন্তু আপনি-ই বিপাকে পড়বেন।”

শেহজাদ চট করেই উঠে বসলো। বললো, “এখন সারা রাত এখানে বসে স্যালাইন লাগাবো? অসম্ভব!”

তন্ময় চমকালো না। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে কাঁধে তুলে নিলো শেহজাদের ডান বাহু। সহজ গলায় বললো,

“এখানে থাকতে হবে না। নার্স ডাকিয়ে বাসায় দেওয়াবো। এজন্যই কিনে এনেছি।”

শেহজাদ আশ্চর্য হলো। তন্ময়ের মাথায় এতো চমৎকার বুদ্ধি এলো কী করে? কী চমৎকার করে দুটো দিক একসাথে সামলে নিলো! শেহজাদ হাতটা সরিয়ে নিলো। সোজাসুজি বললো,

“এই হাত না, ওদিকে সাপোর্ট লাগবে।”

তন্ময় কথা শুনলো। বাঁ হাতটাকেই কাঁধে নিয়ে শেহজাদকে দাঁড় করালো। তারা উঠে দাঁড়াতেই কোথা থেকে রোদসী এলো। হাতে একটা ফাইল। দেখে মনে হচ্ছে, সেও হয়তো হাসপাতালে ছিলো। তাদের উঠতে দেখে, রোদসী জানতে চাইলো,

“অল ডান। আর কোনো হেল্প লাগবে, তন্ময়?”

তন্ময় শক্ত গলায় বললো, “না।” তাকে বেশ গম্ভীর লাগছে। একটু আগে থরথর করে কাঁপতে থাকা ছেলেটা হঠাৎ এতো গম্ভীর হয়ে আছে কেন? শেহজাদ রোদসীকে দেখে কিছুটা অবাক হলো। কিন্তু কিছু বলল না। গাড়িতে বসার পর শেহজাদের বাড়ির কথা মনে পড়লো, সকালে বেরিয়ে সন্ধ্যা গড়ালো। ওদিকে আবার সত্যিটা জানিয়ে দেয়নি তো? জানতে চাইল,

“মা কল করেনি? কী বলেছো বাসায়?”

তন্ময় ড্রাইভ করছে মন দিয়ে। সে রাস্তায় তাকিয়েই একরোখা জবাব দিল,

“বলেছি, ডাক্তার আসতে দেরি হচ্ছে, ডাক্তার এলে ড্রেসিং করিয়ে আসবো।”

শেহজাদ স্বস্তির শ্বাস ফেললো। যাক! এই কাজটাও তন্ময় বুদ্ধিমানের মতো করেছে। সিটে গা এলিয়ে ক্যানোলাটার দিকে তাকালো। মনে হচ্ছে এই জিনিসটা তাকে ছাড়তে চাইছে না। একবেলা যেতে না যেতেই আবারো জাঁকিয়ে বসেছে হাতে। রাস্তায় আজ মারাত্মক জ্যাম। মনে হচ্ছে, এর চেয়ে পায়ে হেঁটে দ্রুত বাড়ি পৌঁছানো যেতো। হতাশ হয়ে পাশে তাকাতেই রোদসীকে দেখা গেলো। ওই ঘটনার পর তাদের আর কথা হয়নি। শেহজাদ অফিস থেকে বের হওয়ার সময় রোদসীকে রিসিপশনে দেখেনি। কোথায় গিয়েছিলো সে? বাসায়? তাহলে এতো দ্রুত আবার হাসপাতালে এলো কী করে? ভাবতে ভাবতেই সে তন্ময়ের দিকে তাকালো। জানতে চাইলো,

“রাতে আরেকটা স্যালাইন কি না দিলেই নয়?”

তন্ময় জবাব দিলো না। লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে শেহজাদের মুখটা একবার দেখলো শুধু। শেহজাদের মনে হলো, তন্ময় তাকে চোখ পাকিয়ে শাসন করতে চাচ্ছে। কী সর্বনাশ! বসকে ভয় দেখাতে চাইছে? এই ছেলের এতো সাহস এলো কোথা থেকে? একবার সুস্থ হলেই এর কান টেনে দিতে হবে। তবেই না আবার আগের ফর্মে ফেরত যাবে।

শেহজাদ ঘাড়ের পেছনে ডান হাত রেখে ঘাড়টা কয়েকবার মালিশ করলো। ঘাড়টা কেমন ধরে আছে। এটাও কি প্রেশার ফলের কারণে হচ্ছে? প্রেশার ফলের কথা মনে হতেই তার কী একটা হলো। চট করেই পাশে তাকিয়ে রোদসীকে দেখতে চাইলো। রোদসীর চোখ দুটো বন্ধ, ঘাড়টা ডানদিকে হেলে আছে। চোখে চশমাটাও দেখা যাচ্ছে না। কী হলো মেয়েটার? অসুস্থ হয়ে গেলো না তো? ঠান্ডা গলায় সে ডাক দিলো তন্ময়কে।

“তন্ময়!”

“বলুন।”

“মিস রোদসীর কী হয়েছে? উনি কি অসুস্থ?”

গাড়ি তখনও জ্যামে-ই বসে আছে। তন্ময় ঘাড় ঘুরিয়ে একপলক রোদসীর দিকে তাকালো। বললো,

“না, ঘুমাচ্ছেন হয়তো।”

“ঘুমাচ্ছেন? আমার তো তা মনে হচ্ছে না।”

শেষের কথাটা সে খুব আস্তেই বললো। জ্যাম কিছুটা কমেছে। বেশিদূর না, ইঞ্চি দুয়েক এগিয়েছে সামনের গাড়ি। এটুকু শূন্যস্থান পূরণ করার তাড়া দিতে পেছনের গাড়িটা তারস্বরে হর্ন দিচ্ছে। তন্ময় জলদি স্টিয়ারিং এ মন দিলো। শেহজাদ তার কথা ঠিকঠাক বিশ্বাস করেনি হয়তো। সে তখনও উদ্বেগ নিয়ে রোদসীকে দেখছে। নিচু গলায় ডাকছে,

“রোদসী, মিস রোদসী? শুনতে পাচ্ছেন? হ্যালো!”

একটু থেমে সে জবাবের অপেক্ষা করলো। জবাব না পেয়ে হুট করেই কী এক দুশ্চিন্তায় মরিয়া হয়ে উঠলো। আরেকবার তন্ময়কে ডেকে বললো,

“তন্ময়, তুমি কি শিওর উনি ঘুমাচ্ছেন?”

তন্ময় বোকার মতো বলে বসলো,

“চোখ বুজে মানুষ সাধারণত দুটো কাজ করে, স্যার। হয় ধ্যান করে, নাহয় ঘুমায়। রোদসী ম্যাডাম না ঘুমিয়ে ধ্যানও করতে পারেন।”

তার বিদ্রুপটা শেহজাদের ঠিক পছন্দ হলো না। সে লক্ষ্য করেছে, গাড়িতে উঠলেই রোদসীকে ক্লান্ত লাগে। সে চোখ বুজে কোনোমতে পড়ে থাকে। ব্যাপারটা সে প্রথমদিনই খেয়াল করেছে। জানতে চাওয়ার পর যদিও সে বলেছে তার মোশন সিকনেস নেই, তবে সেই কথার সত্যতা নিয়ে শেহজাদ ভালো-ই সন্দিহান। সে চাপা স্বরে আরেকবার ডাকল,

“রোদসী? ঠিক আছেন আপনি?”

এবারও জবাব না পেয়ে শেহজাদ মোটামুটি ধারণা করে নিলো, মেয়েটি অসুস্থ। এতোবার ডাকার পর ঘুমে থাকলেও তো ঘুম ছুটে যাওয়ার কথা। মেয়েটির চুল এলোমেলো হয়ে মুখে পড়ে আছে। চশমা না থাকায় ঘন পাপড়িগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সচরাচর বেশিদিন চশমা ব্যবহার করলে, হুট করে চশমা ছাড়া খালি চোখ দেখতে কিছুটা ছোট ছোট লাগে। অথচ, রোদসীর চোখদুটোকে চশমা ছাড়া মোটেও ছোট বা অদ্ভুত লাগে না। বদ্ধ চোখের পাতা দুটিও সুন্দর। শেহজাদের ভ্রু কুঁচকে এলো। চোখের পাতা তো চোখকে ঢেকে রাখা সামান্য একটা চামড়া, একে সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার কী আছে? সবচেয়ে বড় কথা, কোনটি সুন্দর, কোনটি অসুন্দর— এখনো তো সেই বিশ্লেষণে যাওয়ার সময় নয়। আচ্ছা? মেয়েটিকে কি আরেকবার ডেকে দেখবে? অস্বস্তি নিয়ে শেহজাদ আরেকবার ডাকলো,

“রো…”

এবার সে সম্পূর্ণ ডাকার আগেই রোদসী জবাব দিলো, বলল,

“ভয় পাবেন না, স্যার। আমি জেগে আছি।”

শেহজাদ বোধহয় গাড়ি নিয়ে বেশ পজেসিভ। কাউকে বসালেই গাড়ি নষ্ট করার একটা ভয় থেকে একটু পরপর তাকে নজরে নজরে রাখে। সে কি ভাবে? রোদসী বাচ্চাদের মতো বমি করে তার গাড়ি নষ্ট করে ফেলবে? শেহজাদ মেয়েটিকে পরখ করতে ব্যস্ত ছিলো। কাজেই তাদের মধ্যকার দূরত্ব অনেকটা কমে গিয়েছে। চোখ বন্ধ রেখে আচানক জবাব দেওয়ায় শেহজাদের উন্মুক্ত বাহুতে তার গরম শ্বাস আছড়ে পড়লো। শেহজাদ সামান্য কেঁপে উঠলো। জানতে চাইলো,

“জেগে থাকলে কথা বলছেন না কেন?”

“খারাপ লাগছে, তাই বলছি না।”

শেহজাদ তুরন্ত জানতে চাইল,

“খারাপ লাগছে হাসপাতালে থাকতে বললেন না কেন? বেশি খারাপ লাগছে? গাড়ি হাসপাতালের দিকে ঘোরাতে বলবো?”

শেহজাদ ভেবেছিল, রোদসী হয়তো বা প্রশ্নটা এড়িয়ে যাবে। আর নয়তো সরাসরি নাকচ করবে। তাকে যারপরনাই অবাক করে দিয়ে রোদসী অকপটে বলে বসল,

“সম্ভব হলে জানলাটা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।”

"হুঁ?"

সাময়িক হতভম্বতা দ্রুত-ই কেটে গেল। শেহজাদ সময় নষ্ট করলো না। দ্রুত জানলাটা খুলে দিলো। তন্ময় এসি অফ করতে নিলে, কানে এলো গমগমে স্বর,

“এসি অফ করো না। গরমে বেশি অসুস্থ বোধ করবেন।”

জানলা খুলে দিয়েও বিশেষ লাভ হলো না। বাহিরে আজ হাওয়া নেই। তাই চোখেমুখে শীতল হাওয়ার ঝাপটা পাওয়া গেল না। উল্টো কানে এলো একঘেয়ে হর্নের শব্দ। রোদসী অস্থির হয়ে উঠলো। হাতের মুঠোয় রাখা চশমাটা চেপে ধরে মাথাটা সিটের সাথে ঘষে অনুনয় করে বলল,

“কাঁচটা তুলে দিন, প্লিজ। মাথা যন্ত্রণা বাড়ছে।”

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 24 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন