ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

৪র্থ পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা

#পর্ব_সংখ্যা ৪

“তুমি এখনো সেই ছোট্ট বাচ্চাটি নও, যে বাচ্ছাদের সাথে বাচ্ছামি করে বেড়াবে। ঠিক সময়ে বিয়ে হলে আজ তুমি চার বাচ্ছার মা হতে।”

পুরুষালী তিক্ত কথা কর্ণপাত হওয়া মাত্রই নয়ন্তীকার পা জোড়া থেমে গেল তৎক্ষণাৎ। নাকের ডগাটা রাগে ফুলে-ফেঁপে উঠলো। সে পিছু ফিরে, রাগি চোখে রক্তিমের পানে চাইলো। মানুষটা বেলকনির রেলিঙে ভর দিয়ে দূরে কোথাও চেয়ে আছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, একটু আগের কটু কথা গুলো এই ভদ্রলোক বলেছেন। নয়ন্তীকা রাগে মুখ ব্যাঁকালো— শা*লা*র সকল তো মাশাআল্লাহ! আর হরকত শয়তান ওয়ালা।

প্রতিবার এই বদের হাড্ডি তাকে কথা শুনিয়ে বেরিয়ে যায়। নয়ন্তীকা বান্টির সাথে ঝগড়া করতে পারলেও এই ‘ভাবের দোকানের’ সাথে লাগতে যায় না। একপ্রকার ভয় থেকেই। সত্যি বলতে নয়ন্তীকা রক্তিমকে ভয় পায়। দুই বাড়ির বন্ধুত্ব থাকাকালীন সময়ে, নয়ন্তীকার সবার সাথে জমলেও। রক্তিমের সাথে কখনোই জমেনি। তাদের স্বল্প কথা হলেও, ছেলেটা সবসময় তাকে বকাবকিই করেছে। অবশ্য নয়ন্তীকার ভুল থাকতো, তা নয়ন্তীকা স্বীকার করতে বাধ্য। তা বলে ছোটো মানুষকে কেউ বকে নাকি, কোথায় নয়ন্তীকার মা-বাবা তো অতটাও বকতো না। আর না এখন বকে।

আর এই ছেলে বকা দিলে একটা আলাদা কথা থাকতো। সে তো তাকে কটু কথা শোনালো। তাও আবার বিয়ে নিয়ে। যেন নয়ন্তীকা এই পাড়া ছেড়ে বেরোলেই অসভ্য পোলার মনে শান্তি হয়। শা*লা কথা এমন শোনায়, যেন নয়ন্তীকা তার বারা ভাতে ছাই দিয়েছে। এতদিন নয়ন্তীকা কিছু না বললেও, সে আজ অবশ্য কিছু না কিছু বলবেই। এত দিন সে চুপ থাকায়, এই বদের হাড্ডি এত সাহস পেয়েছে তাকে কথা শোনানোর। আজ নয়ন্তীকা ইটের উওর পাথর দিয়ে দেবেই, তবেই তার শান্তি।

“আমি আমার কথা আপাতত বলতে পারছি না। তবে ঠিক সময়ে আপনার বিয়ে হলে, এতদিনে আপনার ছেলে-মেয়ের বাচ্চাকাচ্চা আবার তাদের বাচ্চাকাচ্চার ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়ে আট-দশটা বাচ্ছা থাকতো নিশ্চয়ই।”

নয়ন্তীকা এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে থামলো। তারপর একটুও সময় ব্যয় না করে প্রস্থান করলো সেখান হতে। আর রক্তিম তীক্ষ্ণ চোখে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। দৃষ্টি সেই দিকেই রেখে মুখ থেকে তার আপনা-আপনি বেরিয়ে এল— ডাফর।

______________

নিস্তব্ধ ঘরে ঘড়ির আওয়াজ ব্যতীত নাকটানার শব্দ কানে আসছে। রক্তিম সোফায় বসে রয়েছে, তার দৃষ্টি খাটের কোনায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকা রূপকের উপর। এমনকি রক্তিমের দুই পাশে বসে থাকা কাজু আর টুইটারের দৃষ্টি ও রূপকের উপর।

তবে সেই দিকে মোটেও মনোযোগ নেই রূপকের। সে একমনে কোলের বালিশটা পর্যবেক্ষণ করতে ব্যস্ত। যেন তার কাছে এই কাজটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ, আশেপাশের সবাই গোল্লায় যাক।

ছেলেটা থেকে থেকে নাক টানছে, আর চোখ ডলছে মাঝে মধ্যে। তবে মোটেই কারোর সাথে কথা বলছে না। এমনকি দুই নিষ্পাপ প্রাণীর সঙ্গে ও না। টুইটার একবার গিয়েছিল, তারপর রূপকের কোলে বসে তার গালে লালা লাগিয়ে দিয়ে এসেছে। তবু ছেলেটা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। টুইটার রূপকের কাছে গেলেও, কাজু যায়নি। সে আবার রক্তিমের ভক্ত কিনা।

“মেয়েদের মতো ফ্যাচ ফ্যাচ করে কান্না-কাটি বন্ধ কর বান্টি। আর ভালো লাগছে না।”

রক্তিম জোরে ধমকে উঠলো। যা শুনে রূপক চেঁচিয়ে বলে উঠলো,,,,,

“তুমি আবার আমাকে বান্টি বলছো? আমার নামটা পছন্দ না দাদাভাই!”

রক্তিম উঠে দাঁড়ালো। তারপর ব্যস্ত পায়ে রূপকের কাছে গিয়ে বসলো। ছেলেটার মুখ দুহাতে মুছিয়ে দিয়ে রক্তিম নম্র গলায় বলল,,,,

“তোর নাম'টা নিয়ে অসুবিধা কী বলতো?”

রূপক মুখ তুলে চাইলো রক্তিমের পানে। রূপক এতদিন তাকে বান্টি নামে ডাকতে নিষেধ করেছিল, তবে কখনো কারণটা জানাইনি। আর বাড়ির সবাই রূপকের কথার গুরুত্ব দেয়নি কখনোই। তাদের মনোভাব —বাচ্ছা মানুষ, কখন কি বলে তার ঠিক নেই।

“সুজল,বিকাশ সবাই আমার নাম নিয়ে মজা করে। বিভিন্ন গান , কবিতা আবার ওই লাইভবয় হ্যান্ডওয়াশ এড এর ডায়লগ বলে খোঁচায়। স্কুলেও সবাই তাই করে। তারপর ওই মঞ্জুলিকা ও রয়েছে দলে। তাই আমার নামটা মোটেই ভালো লাগে না।”

বলেই রূপক উদাস ভঙ্গিতে মুখটা নামিয়ে নিল। রক্তিম ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলো, তারপর বোঝানোর স্বরে বলে উঠলো,,,,

“ তুই চেতে যাস বলেই ওরা রাগানোর সুযোগটা পায়। রাগ করা ছেড়ে দে, দেখবি ওরা তোকে রাগানো ছেড়ে দেবে। বুঝলি?”

—সব থেকে বড়ো কথা, মানুষের কাজই হচ্ছে বলা। তুই ভালো করলেও ওরা চর্চা করবে, আবার খারাপ কিছু করলে তাহলে তো কথাই আলাদা। এবার এতেও যদি না বুঝিস,,,,নামটা কিন্তু দিদান অনেক আদর করে রেখেছে। তার কথা একবার ভেবে নিস। আমরা তোকে অনেক ভালোবেসে ওই নামে ডাকি। এবার তোর আপওি থাকলে আর ওই নাম উচ্চারণ করবো না আমরা।”

বলেই একটু নিঃশ্বাস নিল রক্তিম। তারমধ্যে অনুভব করলো, দুটো ছোট্ট হাত তার কোমর আঁকড়ে ধরেছে। যা দেখে রক্তিমের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে হাত বাড়িয়ে ঝাঁকড়া চুলে গুলো এলোমেলো করে দিল। তার এই দুষ্টু ভাইটা অনেক আদরের। রক্তিমের থেকে গুনে তেরো বছরের ছোট্ট। পুরো তার বয়সের অর্ধেক। তাইতো তার বড়ো ভাইয়ের কাছে তার যতো আহ্লাদ-আবদার।

“আমি সত্যি এবার ওদের কথায় কান দেবো না। তুমি দেখো ভাইয়া।”

রূপকের আদুরে কথায় হাসলো রক্তিম। তারপর সোফায় বসে থাকা কাজু আর টুইটারের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,,,,,,

“এই না হলি আমার ভাই। দেখ, টুইটার-কাজুর নাম নিয়ে ও কিন্তু লোকে হাসাহাসি করে। ওদের দেখেছিস মন খারাপ করতে?”

রক্তিমের কথায় রূপক খিলখিল করে হেসে উঠলো। সাথে কাজু আর টুইটার ও তাল মিলিয়ে চেঁচামেচি করতে শুরু করে দিল। দাশগুপ্ত বাড়ি মুহূর্তে মূখরিত হয়ে উঠলো ওই হাসি আর দুই নিস্পাপ প্রাণীর আওয়াজে।

চলবে,,,,,,,

( ছোট্ট পর্বের জন্য দুঃখিত 🙂)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন