ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

৮ম পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা

#পর্ব_সংখ্যা ৮

শীতের অলস দুপুর; সময় তখন একটা কি দুটো হবে। তা ঠিক জানা নেই নয়ন্তীকার। সে দুপুরের খাওয়ার পর্ব সেরে বেলকনির দোলনায় বসেছে। হাতে রবীন্দ্রনাথের নৌকা ডুবি বই আর তার দুপাশে চিনি-মিনি রয়েছে। দুটোতেই বেশ শান্ত ভাবে বসে আছে। সোনালী রোদ এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে তাদের। তাই আরামে বোধহয় চুপচাপ আছে। নাহলে অন্য সময় দুটোতে যা দুষ্টুমি করে, একবারে নয়ন্তীকা'কে নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়ে।

ভেবেই মুচকি হাসলো সে। হাত বাড়িয়ে দুটো'কে আদর করে দিল নয়ন্তীকা। তার মনটা এখন ভালো আছে। না হলে এতক্ষনে বেশ দুঃখে ছিল সে। দুঃখের কারণ অবশ্য তার উপন্যাসের কাহিনী। তার রমেশ আর হেমোলিনীর কেমিস্ট্রি ভালোই লাগছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ কমলার আগমনে নয়ন্তীকা একটু কষ্ট পেল বইকি। তাই সে আর পরের পর্ব পড়লো না। তার এই একটা বদ অভ্যাস—স্যাড এন্ডিং নিতে পারে না। যদিও নৌকা ডুবি এখনও শেষ হয়নি। তবু সে রমেশ আর হেমোলিনীর বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছে না। ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো নয়ন্তীকা। এবার, যেদিন তার মন ভালো থাকবে,,,, মনে হবে যে সে নতুন করে কষ্ট পেতে রাজী আছে। তবেই সে এই বইটা নিয়ে বসবে। এইভাবেই তার একটা উপন্যাস একমাস ধরে চলে। কী আর করার—“আমার কষ্ট পেতে যে বড্ড কষ্ট হয়। দমবন্ধ লাগে! এই বুঝি নিঃশ্বাসের অভাবে মারা যাবো।”

নয়ন্তীকা বিড়বিড় করে বললো। তারপর আনমনা হয়ে সামনের দিকে তাকালো। সেকেন্ড গড়িয়ে মিনিট গড়ালো, তবু সে অপলক তাকিয়ে রইলো সামনের বাড়ির বিশালাকৃত জানালার দিকে। এবার বুঝি ঘন্টা গড়িয়ে দিন আর দিন পেরিয়ে মাস হবে। তারপর মাস পেরিয়ে বছর হয়ে গেলেও তার দুঃখ হবে না। সে এইভাবে অপলক তাকিয়ে থাকতে পারবে যুগের পর যুগ।

নয়ন্তীকার সামনের বাড়ির বেলকনি পেরিয়ে বিশালাকৃত জানালার পর্দা সরানো রয়েছে একপাশে। সেখান হতে দেখা যাচ্ছে এক সুদর্শন পুরুষকে। শীতের আলতো হাওয়া ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে পর্দা সমেত মানুষটাকে। হাওয়ায় তার চুল উড়ে কপালে লুটিয়ে পড়ছে। এতে মানুষটা বিরক্ত হচ্ছে কিনা খুব একটা বোঝার উপায় নেই। সে মনোযোগ সহকারে লেপটপে আঙ্গুল চালাতে ব্যস্ত। মাঝে মধ্যে হাত গলিয়ে চুল সেট করে নিচ্ছে, তারপর ঠোঁট কামড়ে আবার কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

ভরদুপুরে রক্তিমের এই রূপ দেখে বুকে ধুকপুক করে উঠলো নয়ন্তীকা'র। সে হাঁ করে তাকিয়েই রইলো রক্তিমের দিকে। কী ভাগ্যিস! মানুষটা নয়ন্তীকাকে তেমন খেয়াল করিনি এখনো। তাছাড়া রক্তিমের শুধুমাত্র বাম পাশটা দেখা যাচ্ছে। যা নয়ন্তীকা সরাসরি দেখতে পাচ্ছে। তো যেহেতু মানুষটার নয়ন্তীকা'কে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাই সে দেখতেই পারে হাঁ করে। এতে মানুষটা জানবেও না। নয়ন্তীকা একটা কথা স্বীকার না করে পারলো না— মানুষ’টা মারাত্মক সুন্দর, না বললেই নয়।

নয়ন্তীকা আর একটা জিনিস খেয়াল করলো, তা হল রক্তিমের পোশাক। সে মাএ একটা সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে রয়েছে। হ্যাঁ! এই গেটাপে তাকে মারাত্মক লাগছে। নয়ন্তীকা স্বীকার করছে। তবে, ব্যাপারটা হল—এর কী শীত করে না। যেখানে সে একটা সোয়েটার পড়েও, একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে আছে । সেখানে লোকটার কী একফোঁটাও শীত করছে না,,,, নয়ন্তীকার জানতে ইচ্ছা হল। নিশ্চয়ই লোকটার গন্ডারের চামড়া, তাই তার শীত করছে না। হুঁ!! এটাই হবে হয় তা।

নয়ন্তীকার এই মূহুর্তে একটা গান বড্ড মনে পড়ছে—

Mere saamne waali khidki mein

Ek chaand ka tukda rehta hai

Afsos ye hai ke vo hamse

Kuchh ukhda ukhda rehta hai...

নয়ন্তীকা বেলকনির দোলনায় গা এলিয়ে বসলো এবার। দৃষ্টি রক্তিমের পানে স্থির রেখে ভাবতে বসলো— এই শীতের ভরদুপুরে, সামনের বাড়ির সুদর্শন শএুর প্রেমে পড়াটা কী ভুল কিছু ?? না!! এতে নয়ন্তীকার দোষ নেই। সব দোষ ওর মনের আর এই সামনের ব্যাটা বদের।

আচ্ছা!! এই রকম কালো সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে কাজে ব্যস্ত থাকা সকল পুরুষকেই কী মারাত্মক লাগে বুঝি ?? নাকি এই রক্তিম দাশগুপ্তকে এই মূহুর্তে সুদর্শন দেখাচ্ছে। নাকি, নয়ন্তীকার চোখ-টোখ খারাপ হয়ে গেল। কিজানি বাব্বাহ!!

নয়ন্তীকা কোথায় যেন শুনে ছিল বা পড়েছিল— মেয়েদের স্নানের পর চুলে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখা অবস্থায় তাদের স্নিগ্ধ আর সুন্দর দেখায়। তা দেখে যেকোনো পুরুষ প্রেমে পড়তে বাধ্য। তবে কোনো লেখক এটা বলিনি কেন— ভরদুপুরে কোনো পুরুষকে জানলার ধারে আনমনা অবস্থায় মারাত্মক সুন্দর দেখায়। নিঃসন্দেহে কোনো রমনি প্রেমে পড়তে বাধ্য।

হায়রে নয়ন্তীকার মাথাটা বুঝি গেল। নয়ন্তীকা চোখ পিটপিট করে আবার একবার তাকালো। উফ!!! লোকটার বডিসডি ও আছে দেখছি। থাকবেই তো, ফেমাস প্লেয়ার বলে কথা। উহু!! ভাবের দোকান একটা— নয়ন্তীকা মুখ বেঁকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠলো।

নয়ন্তীকা কি তবে লোকটার প্রেমে পড়লো?? না এ হতেই পারে না। আবার প্রেমে পড়লেও মন্দ হতো না। তবে যদি এ ব্যাটা বদ তার শএু না হতো, নয়ন্তীকা বুঝি প্রেম নিবেদন করতে পারতো। তাতে সে রিজেক্ট করলেও কোনো মাথা ব্যাথা হতো না অবশ্য।

তবে, এই সাংঘাতিক লোকের থেকে দূরে থাকাই ভালো মনে করে নয়ন্তীকা। নয়ন্তীকা রক্তিমকে ছোটো বেলা থেকেই চেনে। তার সাথে অবশ্য তেমন কোনো কথা হতো না কখনো, শুধু লোকটা থাকে ধমকা-ধমকি আর একটু খোঁটা দিত এই আরকি। নয়ন্তীকা তাই লোকটাকে সহ্য করতে পারতো না। তবে আগে কখনো শএু মনে করিনি। শুধুমাএ একটা ঘটনার জন্য নয়ন্তীকার মন রক্তিমের জন্য বিষাক্ত হয়ে উঠলো।

এক গোধূলি বিকেলে নয়ন্তীকা কে.বি.সি এর মাঠে খেলতে গিয়ে ছিল। আর রক্তিম গিয়েছিল নিজের প্র্যাকটিস করতে। সাথে নিয়ে গিয়েছিল তার বদ টুইটার'কে। অবশ্য তাতে নয়ন্তীকার কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। হ্যাঁ! নয়ন্তীকা কুকুরকে অনেক ভয় পায়। রক্তিম সেটা জানতো, যেহেতু তাদের বাড়ির ভালো সম্পর্ক ছিল আগে। তো নয়ন্তীকা কখনোই ভাবিনি রক্তিম কখনো তার পিছনে টুইটারকে ছেড়ে দেবে।

আচ্ছা, হতে পারতো রক্তিম ইচ্ছা করে ছাড়িনি টুইটারকে। তবে বদ কুকুরটা লোকজন ভরা মাঠে যখন তাকে তাড়া করছিল সে তাকে ধরতে আসিনি মোটেই। শুধু শান্ত চোখে তাকিয়ে ছিল। সেই দিনের সেই ঘটনায় নয়ন্তীকা রাগে-দুঃখে-ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল। উপস্থিত সবাই বেশ মজাই নিয়েছিল। সেই দিন থেকেই রক্তিমকে নয়ন্তীকা তার সবচেয়ে বড়ো শএু মনে করে।

“নৈতিক মুখার্জি জানে তার মেয়ে জানলা দিয়ে পর পুরুষেকে চোখ দিয়ে গিলে খায় ?”

আকস্মিক পুরুষালী কন্ঠস্বরে হকচকিয়ে উঠলো নয়ন্তীকা। সে চোখ পিটপিট করে রক্তিমের পানে তাকালো। এই বদলোক কখন এল?? নয়ন্তীকা জানেই না। কিজানি সে কোন দুনিয়ায় ছিল। যে জানতেই পারলো না।

মানুষটা ব্যঙ্গাত্মক চাহনিতে তার পানেই চেয়ে রয়েছে। যা দেখে নয়ন্তীকা'র রাগে নিজের চুল টানতে মন চাইলো। সে অসহায় চোখে রক্তিমের পানে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠলো—সর্বনাশ!! এই লোকটার সামনে আবার তার অস্বস্তিতে পড়তে হল। উফ!! তার সাথেই কেন হয়??? হ্যাঁ! যা হয় ভালোর জন্য। তবে এত ভালো তার সাথেই কেন হয় ?? কেন.....

চলবে,,,,,,,,

(সকলের ২০২৫ ভালো হোক 🥰। হ্যাপি নিউ ইয়ার পাঠকমহল ❤️। )

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন