#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে
#অহর্নিশা_ব্যানার্জী
#পর্ব_সংখ্যা ১৯(প্রথম অংশ)
তাদের ঠিক সামনেই রক্তিম দাঁড়িয়ে । নামের মতোই তার চোখ-মুখ অসম্ভব লাল এই মুহূর্তে। তার হাত মুষ্টিবদ্ধ থাকায় শিরা গুলো কেমন ফুলে ফেঁপে উঠেছে। মেঝের উপর কফি মগের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যা দেখে নয়ন্তীকা'র বুঝতে বাকি রইলো না কী হয়েছে!
নয়ন্তীকা অসহায় চোখে চাইলো রক্তিমের পানে। কিন্তু রক্তিম একবারও নয়ন্তীকার দিকে ঘুরেও তাকালো না। সে নিঃশব্দে হাঁটা ধরলো নিজের রুমের দিকে। অপরদিকে, অভ্র বাঁকা চোখে দেখলো দুজনের কর্মকান্ড। তারপর নয়ন্তীকার অগোচরে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো সামান্য।
"আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না!”
নয়ন্তীকা রক্তিমের ঘরের দিকে চেয়ে থেকেই বললো।যা শুনে অভ্র অদ্ভুত ভাবে হাসলো। তারপর হাস্যরত মুখে সুধালো—— “তা কেন?”
অভ্রর কথায় নয়ন্তীকা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো তার পানে। তারপর সে অভ্রের চোখে চোখ রেখে বললো——“তা নিশ্চয়ই আপনাকে বলতে বাধ্য নই?”
“তুমি বলতে বাধ্য! আজ থেকে তোমার ওপর আমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে! যা তোমার বাবা দিয়েছেন আমাকে।”
অভ্রর কথায় নয়ন্তীকা তেজি চোখে তাকালো। তারপর কঠিন গলায় বলে উঠলো —— আমি কোনো অধিকার দিই নি! আর না কখনো পাবেন।
“সময় আসুক, সব দেখা যাবে! আর হ্যাঁ!! বিয়েটা কিন্তু হচ্ছে। অভ্রর কিছু পছন্দ হয়েছে আর সেটা পায়নি, তা কিন্তু কখনো হয়নি!”
বলেই অভ্র শয়তানি হাসি হাসলো। যা দেখে নয়ন্তীকা'র গা জ্বলে উঠলো রাগে। যদিও অভ্র সে সব পাওা দিল না। সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ব্যস্ত পায়ে। যেতে যেতে নয়ন্তীকার উদ্দেশ্যে বলে গেল—— “বাই সুইটহার্ট!! শীঘ্রই দেখা হবে!”
-------------------
অভ্র চলে গেলেও নয়ন্তীকা ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো সেখানে। জলভরা দৃষ্টি তখনও স্থির রক্তিমের ঘরের দিকে, যেখানে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নয়ন্তীকা হঠাৎ ফুঁপিয়ে উঠলো নিঃশব্দে! রক্তিম নিশ্চয়ই তাকে ভুল বুঝেছে হয়তো। যেখানে সে রক্তিমের সাথে অন্য একটা মেয়েকে দেখে কিনা কি ভেবে নিয়েছিল। সেখানে রক্তিম ওই অভ্রর ফালতু কথাও শুনেছে। তবে তার ভুল ভাবা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু রক্তিম তাকে একবার বলার সুযোগ দেবে নিশ্চয়ই। ভেবেই নয়ন্তীকা ছুটে গেল নিজের ফোনের কাছে। তারপর ফোন লাগালো রক্তিমের নাম্বারে। একবার, দুবার, তিনবার পর পর দশবার ডায়াল করলো রক্তিমের নাম্বারে। কিন্তু প্রতিবারই ফলাফল শূন্য। সে ফোন ধরছে না। সে ভুল বুঝেছে তার নয়নকে। ভেবেই হুহু করে কেঁদে উঠলো নয়ন্তীকা, সে ওইভাবেই কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পরলো হাত পা ছড়িয়ে!
অবশেষে ছেলেপক্ষ নয়ন্তীকা'কে পছন্দ করেছেন। এবং ওনারা জানিয়েছেন খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের ডেট ফাইনাল করবেন। এর পরপরই ওনারা বিদায় নিয়েছেন। অতিথিরা যাওয়া মাএই মিসেস আহানা ছুটলেন মেয়ের ঘরে। একটা মাএ আদরের মেয়ে তার। কি জানি এখন কি না কি ভাবছে। এইসব হাবিজাবি চিন্তা করতে করতে তিনি ততক্ষণে নয়ন্তীকা'র রুমে পৌঁছালেন। দরজা খোলা ছিল বিধায় ওনার কোনোরকম অসুবিধা হয়নি ঢুকতে।
মিসেস আহানা নয়ন্তীকার ঘরে প্রবেশ করা মাএই আঁতকে উঠলেন মেয়ের অবস্থা দেখে। নয়ন্তীকা তখনও ড্রেস চেঞ্জ করেনি। অগোছালো নয়ন্তীকা মেঝেতে বসে তখনও কাঁদছে।
মিসেস আহানা দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন মেয়ের কাছে। তিনি নয়ন্তীকা'কে বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে উঠলেন ——“ কী হয়েছে নয়ন?? আমার সোনা মা!! কী হয়েছে বল??”
মায়ের কথায় নয়ন্তীকার হুঁস ফিরলো যেন। সে তৎক্ষণাৎ বিলাপ করে উঠলো——“আমি এই বিয়ে করতে চাই না মা! তোমরা কেন এত তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে ঠিক করেছ? আমাকে একবার জানাওনি পর্যন্ত!”
“আচ্ছা, কেন বিয়ে করতে চাও না শুনি একটু!”
নৈতিক মুখার্জি ভিতরে প্রবেশ করতে করতে জিজ্ঞাসা করে উঠলেন। অপরদিকে, আকস্মিক স্বামীর আগমনে ভয় পেলেন মিসেস আহানা। তিনি মূহুর্তে বড়ো সড়ো একটা ঝামেলার পূর্বাভাস পেয়ে গেলেন। যা আটকাতে তিনি নৈতিক মুখার্জিকে উদ্দেশ্য করে বললেন—— “নৈতিক আমি বোঝাচ্ছি ওকে! বাচ্ছা মানু”...
“তুমি চুপ করো আহানা! তোমার আদরেই বাঁদর হয়েছে। এখন অন্তত একটু মানুষ হতে দাও।”
নৈতিক মুখার্জির কথার বিপরীতে আর কিচ্ছুটি বলতে পারলেন না মিসেস আহানা। অপরদিকে, বাবার এতগুলো কঠিন কথায় আজ ভয় পেল না নয়ন্তীকা। একদিন সত্যিটা সবার সামনে আসতেই হতো। তাহলে আজ কেন নয়! তাছাড়া নয়ন্তীকা কোনো চুরি করেনি, শুধু ভালোবেসেছে। এটা নিশ্চয়ই কোনো অন্যায় নয়। এই ভেবে নয়ন্তীকা সাহসের সহিত উঠে দাঁড়ালো, তারপর নৈতিক মুখার্জির দিকে দু পা এগিয়ে গিয়ে বলে উঠলো—— “আমার ইচ্ছা'র কোনো দাম নেই বাবা?”
নয়ন্তীকার ছলছল চোখ আর কাঁপা কাঁপা গলা শুনে নৈতিক মুখার্জির মধ্যে কোনো মায়াদয়া হল না। তিনি স্বভাবসুলভ কঠিন গলায় বললেন—— “বাপের হোটেলে খাচ্ছো–থাকছো সেখানে আবার এত ইচ্ছার কী আছে? কান খুলে শুনে রাখো; তোমার অভ্রর সাথেই বিয়ে হবে।”
“আমি বিয়ে করতে চাই না বাবা!”
“কেন?”
“আমি রক্তিম দাশগুপ্ত'কে ভালোবাসি!”
বলার সাথে সাথেই নয়ন্তীকার গালে স্ব-জোরে একটা চড় পরলো। অপরদিকে মিসেস আহানা বাপ মেয়ের কান্ডে দুহাতে মুখ চেপে ধরলেন বিস্ময়ে। ঠিক তখনই নৈতিক মুখার্জি নয়ন্তীকার অপর গালে আর একটা চড় বসালেন। নয়ন্তীকা গালে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো তৎক্ষণাৎ। মিসেস আহানা অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত নয়ন্তীকাকে আগলে নিলেন। ঠিক তখনই নৈতিক মুখার্জির গর্জন শোনা গেল ——“ কী ভেবেছিস তুই?? তোর রঙ্গ তামাশা'র খবর আমি পাবো না? ওই ব** বাইকে যে ঘুরে বেড়াস সে খবর পাবো না??”
—— ছোটোলোকের বাচ্ছা কোথাকার! তোর এত সাহস আমার খেয়ে-পরে আমার শএুর ছেলের সঙ্গে পিরিত মা*রাস!
বলেই নৈতিক মুখার্জি দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন নয়ন্তীকা'কে মারার জন্য। ওমনি মিসেস আহানা বাঁধ সাধলেন। তিনি নয়ন্তীকার সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন —— “নৈতিক আমি ওকে বোঝাচ্ছি! ওকে আর মেরো না।”
“এই তুই চুপ কর! সব তোর জন্য হয়েছে। সারাদিন বাড়ি থাকিস, একটা মেয়ে সামলানো যায় না?”
মেয়ের সামনে নৈতিক মুখার্জির তুই তুকারি দেখে আঁচল চেপে কেঁদে উঠলেন মিসেস আহানা। যদিও এটা নতুন কিছু নয়। নৈতিক মুখার্জি রেগে গেলেই তার সঙ্গে তুই তুকারি আর গালি গালাজ করে কথা বলেন। কিন্তু তা কখনো নয়ন্তীকার সামনে ঘটেনি। আজ মেয়ের সামনে এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে লজ্জায় নিঃশব্দে কেঁদে উঠলেন মিসেস আহানা।
“কান খুলে শুনে রাখো দুজনে; বিয়েটা অভ্রর সাথেই হচ্ছে। এটা আমার কোটি কোটি ব্যবসার ব্যপার।”—বলেই নৈতিক মুখার্জি ব্যস্ত পা'য়ে কক্ষ ত্যাগ করলেন।
বাবা'কে বেরিয়ে যেতে দেখে নয়ন্তীকা মাকে পিছন থেকেই ঝাপটে ধরলো। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করে উঠলো —— আমি রক্তিম ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না মা! তুমি বলো, কাউকে ভালোবাসা কী পাপ?? না কী দোষের?”
নয়ন্তীকার কথায় মিসেস আহানা নয়ন্তীকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভাঙা গলায় বললেন—— “না মা! কাউকে ভালোবাসা দোষের নয়। বরং,তোর এই বাড়িতে জন্মানো'টা দোষের।”
___________________________
রাত দশ'টা তখন, কুল তলায় কুকুর ব্যতীত একটা'ও লোকজনের শব্দ নেই। পুরো পাড়া তখন নিরব, শুধুমাএ ল্যাম্পপোস্টের কাছে কয়েকটা কুকুর দৃশ্যমান।
নয়ন্তীকা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে রক্তিম রুমের দিকে তাকালো। তার ঘরের দরজা খোলা, মৃদু বাতাসে পর্দা উড়ছে থেকে থেকে। নয়ন্তীকা সেইদিক পানে চেয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল।
সে ইহ মূহুর্তে রক্তিমের রুমে যাবে, তাও আবার বেলকনি টপকে। কেননা তার হাতে আর কোনো অপশন নেই। রক্তিম সেই সুযোগটাই দেইনি। সে এতক্ষণ পর্যন্ত নয়ন্তীকার সাথে যোগাযোগ করেনি। যার দরুন নয়ন্তীকা'র এই সিদ্ধান্ত!!
নয়ন্তীকা নিজের রুমের দরজা দেখে নিল, ভিতর থেকে ছিটকানি দেওয়া। তারপর সে নিজের বেলকনি টপকে রেলিং ধরে দাঁড়ালো। তার ইহ মূহুর্তে হাত-পা কেমন কাঁপছে, সাথে হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিক কম্পন তো আছেই।
নয়ন্তীকা জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে এক পা রক্তিমের বেলকনিতে রেখে একটা হাত দিয়ে বেলকনির রেলিং ধরার চেষ্টা করলো। তবে সে ভুলেও নীচে চাইলো না। যদি সে নীচে একবার পড়ে, তবে পরের দিন নিউজ পেপারের হেডলাইন হবে— প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে প্রেমিকার মৃত্যু!! আহা, কী ভয়াবহ ঘটনা।
ভেবেই নয়ন্তীকা ঢোঁক গিললো। তার আর রক্তিমের বেলকনির মাঝে বেশি দূরত্ব নেই। ওই একহাত মতো, অনায়াসে টপকে যাওয়া যায়। কিন্তু নয়ন্তীকার অভ্যাস না থাকায় একটু বেগ পোহাতে হল। যার দরুন বেলকনি পর্যন্ত গিয়ে, শেষমেষ বেলকনিতে থাকা টবের উপর পড়লো।
নয়ন্তীকার মুখ থেকে তৎক্ষণাৎ আহ্ সূচক শব্দ বেরিয়ে এলো। নয়ন্তীকা সঙ্গে সঙ্গে মুখ হাত দ্বারা চেপে ধরলো। তার ডান হাতের কনুই ছিলে গেছে। সাথে বাম হাতের তালু কেটে গেছে টবের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে।
নয়ন্তীকা নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। তারপর আসতে করে জামা কাপড় ঝেড়ে পা টিপে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো।
#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে
#অহর্নিশা_ব্যানার্জী
#পর্ব_সংখ্যা ১৯(দ্বিতীয় অংশ)
নয়ন্তীকা নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। তারপর আসতে করে জামা কাপড় ঝেড়ে পা টিপে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। পুরো ঘর তখন অন্ধকারে আচ্ছাদিত থাকায় নয়ন্তীকা অল্প ভয় পেল। এবং তার ভয়কে দশগুণ বাড়িয়ে দিতে তার চিরশত্রু টুইটার সশব্দে ডেকে উঠলো ঘেউ' ঘেউ' করে।
যা শুনে নয়ন্তীকার কলিজা কেঁপে উঠলো। ভয়ের চোটে সেও তৎক্ষণাৎ চেঁচিয়ে উঠলো। তার তখন ভয়ে দিশেহারা অবস্থা। নয়ন্তীকা প্রানপণে অন্ধকার ঘরে ছুট লাগালো। ওমনি পায়ের সাথে কিছু একটার ধাক্কা লেগে নয়ন্তীকা ধপাস করে পড়লো শক্তপোক্ত কিছুর উপর।
নয়ন্তীকার মুখ হতে আপনা আপনিই বেরিয়ে এল ব্যাথাতুর শব্দ। আঘাত প্রাপ্ত স্থানে আবার আঘাত লাগায় ব্যাথায় টনটন করে উঠলো নয়ন্তীকার হাতখানা। মূহুর্তে তার চোখ জ্বলে ভরে উঠলো।
অপরদিকে, টুইটার তখনও জোরে ডেকে যাচ্ছে। যেন নয়ন্তীকা কোনো বড়ো চোর কিংবা ডাকাত। বদ কুকুরটা এত জোরে ডাকছে, যেন মনে হচ্ছে আজকে নয়ন্তীকা'কে পাড়ার লোক দিয়ে লাঠি পেটা করিয়ে ছাড়বে। আর নয়তো নিজেই কামড়ে নয়ন্তীকর ‘কাম তামাম’ করে দেবে মূহুর্তে। যা ভেবেই ভয়ে নয়ন্তীকা কেঁদে উঠলো মিনমিন করে। ওমনি তার অতি চেনা-পরিচিত কন্ঠস্বর কানে এল খুব কাছ হতে —— “shut up twitter!!”
বদ কুকুরটা তৎক্ষণাৎ জোরে ডাকা বন্ধ করে দিল, তবে ধীর স্বরে হু হু ঠিকই করছে। ঠিক তখনই কাজুর আওয়াজও ভেসে এল, হয়তো এতক্ষণ সেও ডাকছিল। কিন্তু নয়ন্তীকা ভয়ের চোটে অথবা টুইটারের কর্কশ ডাকের জন্য এতক্ষণ কাজুর আওয়াজ শুনতে পাইনি।
-------------
রক্তিম হাত বাড়িয়ে ঘরের লাইট জ্বালালো। আলো চোখের উপর পড়তেই নয়ন্তীকা চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল তৎক্ষণাৎ। তারপর কিছুক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সে চোখ পিটপিট করে চাইলো। ওমনি দেখতে পেল রক্তিম তার দিকেই চেয়ে রয়েছে ভ্রু কুঁচকে, আর সে রক্তিমের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে। তার মানে তখন খাটের সাথে পা বেঁধে গিয়ে সে রক্তিমের উপর পড়েছে।
“এখানে কী করছো?”
রক্তিমের ভারিক্কি অথচ ভাঙ্গা ভাঙ্গা পুরুষালী কন্ঠস্বর শুনে ঠোঁট উল্টে কেঁদে ফেললো নয়ন্তীকা।সে স্থান-কাল সব ভুলে দুহাতে রক্তিমের গলা জড়িয়ে ধরলো সেই অবস্থাতেই। রক্তিম টু শব্দ করলো না। অপরদিকে, নয়ন্তীকা ফোঁপাতে ফোঁপাতে অভিযোগ করে উঠলো ——“আমাকে চিন্তায় রেখে খুব ভালো ঘুমাচ্ছেন। আপনি একটুও ভালোবাসেন না আমায়। আমি কওবার ফোন করেছি। আপনার চক্করে পড়ে ব্যাথাও পেলাম এখন।”
নয়ন্তীকার কথা রক্তিম শুনলো কিনা তার মুখ দেখে তা বোঝা গেল না। সে তখন চুপচাপ নয়ন্তীকা'কে নিয়ে উঠে বসলো। তারপর বিনা বাক্য ব্যয় করে তাকে বিছানায় বসিয়ে, কাজু সহ টুইটারকে দরজা খুলে বাইরে বের করে দিল। সম্ভবত নয়ন্তীকা ভয় পাচ্ছে বিধায়। তারপর রক্তিম নিজে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা দিল ব্যস্ত পায়ে। তার ইহ মূহুর্তে একটু ফ্রেশ হওয়া বড্ড দরকার। অপরদিকে, এতক্ষণে নয়ন্তীকা ফ্যালফ্যাল করে রক্তিমকেই দেখছিল। যেই না সে তাকে কিছু না বলে চলে গেল, ওমনি নয়ন্তীকা আগের থেকে আরও বেশি জোরে কাঁদা শুরু করলো। সে ভেবেই নিল রক্তিম তার উপর রেগে আছে। তাইতো তাকে ইগনোর করা হচ্ছে।
------------
আজকে রক্তিমের অফিস যাওয়া হয়নি! যদিও আজকে তার অফিস যাওয়ার প্রয়োজন ছিল খুব। কিন্তু, গতকাল থেকেই রক্তিম অসুস্থ। তার জ্বরে অবস্থা খারাপ। সাথে গলাও একটু বসেছে, তার পুরুষালী ভাঙ্গা গলার স্বর আরও যেন গম্ভীর শোনাচ্ছে। তাই তার মা জননী রক্তিমের করুন অবস্থা দেখে অনিমেষ দাশগুপ্তর সঙ্গে ঝগড়া করে তাকে আর অফিসে যেতে দেননি। কেননা তার জ্বর সহজে হয়না, তবে হলে সহজে যায় না। এই যেমন, আজকে সকাল থেকেই সে পড়ে পড়ে শুধু ঘুমিয়েছে। শরীর যেন চলতেই চাইছিল না সকালের দিকে। তারপর, তখন নিজের প্রিয় নারীকে ভয়ঙ্কর অবস্থায় অন্য কোনো পুরুষের সাথে দেখে কেই বা সহ্য করতে পারে! সেও সইতে পারিনি। নয়ন্তীকা'কে অন্য কারোর সঙ্গে দেখে রক্তিমের জ্বরটা তরতরিয়ে বাড়লো যেন। রাগের চোটে শরীর'টা তার কাছে আরোও দুর্বল লাগছিল সেই মুহূর্তে। তাই সে তখন দাঁড়ায়নি সেখানে। রুমে এসে সে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে সেই তখন। তারপর তো তার ঘুম বেলকনির টব ভাঙ্গার শব্দেই ভেঙেছে, তবে তার উঠে যাওয়ার মতো শক্তি হয়নি। রক্তিম তখন আচমকা শব্দ শুনে ভাবলো, প্রতিদিনের মতোই কাজু আর টুইটার মিলে বাঁদরামি করছে হয়তো। কিন্তু তার পাশের বাড়ির বোকা মেয়েটা যে আসতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবেনি রক্তিম।
নিজের ভাবনা চিন্তার মাঝেই রক্তিম ফ্রেশ হয়ে নিল। জ্বর ছাড়ার দরুন শরীর সমেত জামা ভিজে একাকার অবস্থা। তাই এই মুহূর্তে শাওয়ার না নিলে চলছিলই না।
রক্তিম ট্রাউজার পড়ে জামাটা গলাবে শুধু, ঠিক তখনই নয়ন্তীকার বিকট একটা চিৎকার শোনা গেল। ওমনি রক্তিম ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এল, নয়ন্তীকাও এইদিকেই আসছিল বিধায় দুজনের ধাক্কা লাগলো। তৎক্ষণাৎ রক্তিম নয়ন্তীকা'র মুখ ডান হাতে চেপে ধরে দেওয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো।
“ইডিয়েট !! চেঁচাচ্ছো কেন?”
নয়ন্তীকা'কে আর সেই উওর দিতে হয়নি। রক্তিম তৎক্ষণাৎ নিজের উওর পেয়ে গেল। বাইরে টুইটার আর কাজু মিলে চেঁচামেচির কম্পিটিশনে নেমেছে যেন। যা শুনে রক্তিম চোখ বন্ধ করে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লো।
অপরদিকে, নয়ন্তীকা তখন ফ্যালফ্যাল করে রক্তিমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রক্তিমের হাত তখনো নয়ন্তীকার মুখের উপর। সেইদিকে কারোরই খেয়াল নেই। যে যার চিন্তায় ব্যস্ত। এই যেমন, রক্তিম তাড়াহুড়োতে বিনা টিশার্টের বেরিয়েছে। আর তা দেখে নয়ন্তীকা চোখে সর্ষেফুল দেখছে। তার নিজেকে মৃগীর রোগী মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে। যদিও এই প্রথম রক্তিম'কে এই অবস্থায় দেখছে না নয়ন্তীকা।সে আগেও মাঠে বহুবার জার্সি ছাড়া দেখেছে রক্তিমকে। তবে এতদিন দূর থেকে দেখা হয়েছিল। এত কাছ থেকে বিনা টিশার্টের এই প্রথম দেখছে সে। তো চোখে সর্ষেফুল দেখাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়!
“রক্তিম!!! বাবা দরজা খোল।”
— রক্তিম! শুনতে পাচ্ছিস??
রক্তিম মায়ের কন্ঠস্বর শুনে কপাল চুলকালো। ততক্ষণে সে নয়ন্তীকা'র থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়েছে।
“রক্তিম!! দরজা খোলো।”
বাবার আওয়াজ পেয়ে রক্তিমের কুঁচকানো ভ্রু আরও কুঁচকে গেল। এখন মনে হয় শুধুমাএ রূপকের আসা বাকি আছে। সে এলেই ষোলো কলা পূর্ণ হবে। ভেবেই রক্তিম বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল। তারপর নয়ন্তীকার দিকে তাকালো। সে চোখ পিটপিট করে তাকেই দেখছে। ফুলো ফুলো গাল দুটো রক্তিম হয়ে আছে। যা দেখে রক্তিম নয়ন্তীকার কপালে আলতো টোকা দিল। আর তার হাত ধরে ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলো —— “উল্টো পাল্টা চিন্তা বাদ দাও। কিছুক্ষণের জন্য এখানে থাকো। আমি না আসা পর্যন্ত বাইরে বেরোবে না।”
বলেই রক্তিম ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর একটা টিশার্ট গায়ে জরাতে জরাতে দরজা খুলে দিল। ওমনি হুরমুরিয়ে তার ঘরে প্রবেশ ঘটলো কাজু-টুইটার সহ তার মা-বাবার।
“এতক্ষণ লাগে তোমার দরজা খুলতে?”
“শাওয়ার নিচ্ছিলাম বাবা!”— বলতে বলতেই রক্তিম বিছানায় গিয়ে বসলো।
টুইটার আর কাজু তখন পুরো ঘরে শব্দ করে ঘুরছে। যা দেখে মিসেস রেবা বলে উঠলেন — “হা রে, তুই ওদের বাইরে বার করে দিয়েছিস কেন? চিৎকার করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছে দুটোতে। আমি আবার ভাবলাম কি না কি হলো!তাই ছুটে এলাম।”
“আমার মাথা ব্যথা করছিল মা। তাই দুজনকে ধরে বাইরে বের করে দিয়েছি।”
রক্তিমের কথায় অনিমেষ দাশগুপ্ত মুখ বেঁকালেন। তারপর তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে উঠলেন —— “খুব তো ভালোবাসা দেখাও। এই বোবা প্রাণী দুটো যে তোমার ঘর ছাড়া থাকে না তা জানো না তুমি? সেই তুমি ওদের বার করে দিতে পারলে?”
“এই তুমি চুপ করো! দুটোতে বাঁদরামি করলে মানুষ কি আর করবে।”
ব্যাস!! বিশ্বযুদ্ধ হতে চলেছে এবার। ভেবেই রক্তিম ডান হাতের সাহায্যে কপাল চুলকালো। তবে বিশ্বযুদ্ধ আর হল না, সেখানেই স্থগিত রইলো। কেননা তৎক্ষণাৎ টুইটার আর কাজু প্রচন্ড চেঁচামেচি শুরু করেছে। তাও আবার দুজনেই ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচাচ্ছে।
টুইটার আর কাজুর অবস্থা দেখে মিসেস রেবা বেশ রেগে গেলেন। তিনি বিরক্তির সহিত বলে উঠলেন —— “ব্যাস!! শুরু হয়েছে দুজনের। এদের কি যে হারিয়েছে কে জানে। রাত দুপুরে আমাদের সাথে সাথে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও ঘুম খারাপ করছে।”
বলেই মিসেস রেবা রক্তিমের ড্রয়ারের দিকে এগিয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য বাম নিয়ে ছেলের মাথায় মালিশ করে দেবেন। এতে একটু যদি ছেলেটার আরাম হয়। অপরদিকে, অনিমেষ দাশগুপ্ত ঘরের বাচ্ছা দুটোর কাছে এগিয়ে গেলেন। তারপর দুজনের কাছে তিনি মেঝেতে বসলেন। তার বড্ড আদরের দুজনে। দুজনকে মোটেই কষ্টে দেখতে পারেন না অনিমেষ দাশগুপ্ত। যেমন এইমুহুর্তে দেখতে পাচ্ছেন না।
“ তোমাদের কী হয়েছে সোনা? খিদে পেয়েছে? নাকি ঘুরতে যাবে বাইরে?”
বলেই অনিমেষ দাশগুপ্ত আদর করতে লাগলেন দুজনকে। তিনি দুজনকে কোলে বসাতে চাইলেন। কিন্তু দুজনের মধ্যে কেউই বসলো না। উল্টো ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে সমানে একই ভঙ্গিতে চেঁচিয়ে চলেছে দুজনে।
অনিমেষ দাশগুপ্ত তা লক্ষ করে সুধালেন— “ওহ! ওয়াশরুম যাবে বুঝি?”
বলেই তিনি তৎক্ষণাৎ উঠে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ফেললেন। আর দরজা খুলেই থম মেরে গেলেন অনিমেষ দাশগুপ্ত। ততক্ষণে টুইটার-কাজুরও চেঁচামেচি থেমেছে। তারা দুজনেও চুপচাপ মনোযোগ সহকারে চোখ পিটপিট করে চেয়ে রয়েছে ওয়াশরুমের ভিতরে।
নয়ন্তীকা আরামে ঘুমিয়ে রয়েছে ওয়াশরুমে থাকা টুলের উপর। মাথা তার দেওয়ালে ঠেস দেওয়া। এই দৃশ্য দেখে অনিমেষ দাশগুপ্ত তৎক্ষণাৎ ছেলের পানে চাইলেন। রক্তিম আগে থেকেই বাবার দিকে তাকিয়ে রয়েছে শান্ত চোখে। যেন সে কিচ্ছুটি জানে না।
অনিমেষ দাশগুপ্ত মুখ বেঁকিয়ে একবার স্ত্রীর পানে চাইলেন। মহারানি তখন মনের সুখে বাম খুঁজতে ব্যস্ত। হঠাৎ পরিবেশ নিরব হয়ে যাওয়ায় মিসেস রেবা বলে উঠলেন—— “কী হলো সবাই এত সাধু হয়ে গেল হঠাৎ? ওয়াশরুম সোনা দানা আছে নাকি? যে তিনজনেই চুপ মেরে গেলে?”
মিসেস রেবার কথায় অনিমেষ দাশগুপ্ত রক্তিমের পানে কঠিন চোখে চাইলেন। তারপর ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করতে করতে বলে উঠলেন ——“তোমার ছেলেকেই না হয় জিজ্ঞাসা করো, যে ওয়াশরুমে সে কী লুকিয়ে রেখেছে!”
“তোমার ভবিষ্যৎ বউ মা'কে বাবা !”
অনিমেষ দাশগুপ্ত রক্তিমের কথায় বিড়বিড় করে উঠলেন —— অসভ্য কোথাকার!!
মিসেস রেবা রক্তিমের কথায় হেসে উঠলেন। আর অনিমেষ দাশগুপ্ত চেয়ে রইলেন হাস্যরত স্ত্রীর মুখপানে। এই বদরাগী মহিলা একবার যদি জানতে পারে যে তার ছেলে বাথরুমে কাকে লুকিয়ে রেখেছে। ওমনি আজকে পুরো কুল তলা মাথায় তুলে নেবে।সব জানে না বিধায় আবহাওয়া শান্ত শিষ্ট! কিন্তু এইরকমই চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই আম্ফান আসতে চলেছে দাশগুপ্ত বাড়িতে!
-------------------
মিসেস রেবা আর অনিমেষ দাশগুপ্ত ততক্ষণে চলে গেছেন রক্তিমের রুম হতে। আসলে রক্তিমই মাকে ছলেবলে নীচে পাঠিয়েছে। সে মিসেস রেবাকে আশ্বস্ত করে বলেছে, যে সে বাম লাগিয়ে নেবে। এবং এই মুহূর্তে তার খিদে পেয়েছে। ওমনি মমতাময়ী তার জননী ছুটলেন রান্নাঘরে। কিন্তু খাবার নিয়ে যে অনিমেষ দাশগুপ্ত আসবে তা রক্তিম শতভাগ নিশ্চিত!!
রক্তিম নয়ন্তীকা'কে ওয়াশরুম থেকে পাজাকোলে করে এনে বিছানায় বসালো আধশোয়া অবস্থায়। তারপর তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো সে। পরনে কার্টুন প্রিন্টের হাঁটু পর্যন্ত ঢিলা ঢালা টপ , আবার গোড়ালি পর্যন্ত ঢিলা প্যান্ট। দেখে পুরো বাচ্ছা-বাচ্ছা মনে হচ্ছে। যদিও, মেয়েটা এখনো বাচ্ছাই রয়ে গেছে। নাহলে এই অল্প সময়ে কে ঘুমায়?তাও আবার ওয়াশরুমে।
ভেবেই রক্তিম ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। ওমনি তার চোখ গেল নয়ন্তীকা'র ছিলে যাওয়া হাতের দিকে। রক্তিম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর সে দ্রুত বেগে সেভলন আর তুলো খুঁজলো।
তুলোয় সামান্য স্যাভলন দিয়ে রক্তিম অতি যত্নে নয়ন্তীকার আঘাত প্রাপ্ত স্থানে লাগিয়ে দিতে লাগলো। মাঝে মাঝে সে ঠোঁট গোল করে ফু ও দিচ্ছে, যাতে মেয়েটা ব্যাথা না পায়।
অপরদিকে, হাতে সামান্য জ্বলন অনুভব করায় নয়ন্তীকা'র ঘুম ছুটে গেল তৎক্ষণাৎ। সে চোখ পিটপিট করে চাইলো। ওমনি চোখের সামনে ভেসে উঠলো রক্তিমের শক্ত চোয়ালযুক্ত সুগঠিত মুখখানা। যেকিনা তার যত্ন নিতে ব্যস্ত।
নয়ন্তীকার চোখ ভিজে যেতে চাইলো মূহুর্তে। তার এত যত্ন তো তার বাবাও করে না। ভেবেই ফুঁপিয়ে উঠলো নয়ন্তীকা। ঠিক তখনই রক্তিম চাইলো নয়ন্তীকার পানে। মেয়েটাকে কাঁদাতে দেখে সে বিচলিত হয়ে উঠলো। সে তৎক্ষণাৎ ব্যস্ত গলায় সুধালো——“খুব ব্যাথা করছে নয়ন?”
রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা নাহ সূচক ঘাড় নাড়লো। আসলেই তো, মনের কাছে এই সামান্য ক্ষত খুব বড়ো নাকি!
“আপনি রেগে আছেন আমার উপর?”
নয়ন্তীকার কথায় রক্তিম সোফায় বসতে বসতে জিজ্ঞাসা করে উঠলো —— “তোমার কেন মনে হলো আমি রেগে আছি তোমার উপর?”
রক্তিমের পাল্টা প্রশ্নে নয়ন্তীকা মাথা নামিয়ে নিল। চিবুক গিয়ে ঠেকলো বক্ষ দেশের সাথে। সে মিনমিন করে বললো —— “তখন বেলকনিতে যে”...
“নয়ন!”
রক্তিমের এই আবেগী ডাকে নয়ন্তীকার কথা থেমে গেল তৎক্ষণাৎ। সে রক্তিম কথার প্রতুত্তরে সুধালো— “হু?”
“একটা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী জানো?”
নয়ন্তীকা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো। যা দেখে রক্তিম ফের বলতে শুরু করলো—— “একটা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বাস! যেটা আমি তোমাকে করি। আর আমি এও জানি তুমিও আমাকে অল্প হলেও বিশ্বাস করো। হ্যাঁ, এটা ঠিক। যে আমার সেই মূহূর্তে রাগ হয়েছিল। ভীষন বাজে রকমের রাগ হয়েছিল ওই বা*স্টার্ডটাকে তোমার পাশে দেখে। যদিও, রাগ হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, আমি জানি আমার নয়নের মনের কথা।”
রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা'র চোখ ছলছল করে উঠলো। সে আবেগী গলায় এক এক করে সকালের সব ঘটনা রক্তিমকে খুলে বলতে লাগলো। আর রক্তিমও মন দিয়ে শুনলো তার প্রিয় নারীর কথা। যেন এই মুহূর্তে এটা ছাড়া আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার নেই।
অবশেষে, নয়ন্তীকার সব কথা বলা শেষ হলো। মেয়েটা বলতে বলতে প্রায় কেঁদেই ফেলেছে। নয়ন্তীকা কান্নারত গলায় আবার বলে উঠলো—“ আমি কিন্তু আপনাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। আর না আপনাকে অন্য কাউকে করতে দেবো। দরকার পড়লে, আমি নিজেও চিরকুমারী হয়ে থাকবো। আর আপনাকেও চিরকুমার করে রাখবো।”
চলবে,,,,,,
আগের পর্ব:
https://www.facebook.com/share/p/1EH55Y5H7w/