ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

২০তম পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা_ব্যানার্জী

#পর্ব_সংখ্যা ২০

“আমি কিন্তু আপনাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। আর না আপনাকে অন্য কাউকে করতে দেবো। দরকার পড়লে, আমি নিজেও চিরকুমারী হয়ে থাকবো। আর আপনাকেও চিরকুমার করে রাখবো।”

নয়ন্তীকার ইহ কথায় রক্তিম সামান্য হাসলো। তারপর নয়ন্তীকার চোখে চোখ রেখে ধীর গলায় সুধালো— “নৈতিক মুখার্জি যে মানবে না আমাকে জামাই রূপে! তখন তুমি কী করবে নয়ন?”

রক্তিমের কথায় বেশি ভাবতে হয়নি নয়ন্তীকাকে। সে তৎক্ষণাৎ দৃঢ় গলায় বলে উঠলো — “বাবার আপনাকে মেনে নেওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করবো ! আর তবু যদি না মানে, আমি ততদিন পর্যন্ত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাবো। তবু হাল ছাড়বো না।”

“আমি সবসময় তোমার পাশে আছি নয়ন!!”

বলেই রক্তিম নয়ন্তীকার আত্মবিশ্বাসী মুখপানে তাকিয়ে রইলো শান্ত চোখে। তার আর মেয়েটা'র ভুল ভাঙিয়ে দিতে ইচ্ছে করলো না এই মুহূর্তে। নৈতিক মুখার্জি যে কী জিনিস, তা এই বোকা মেয়েটা এখনো জানে না বোধহয়!!

হঠাৎ দুজনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাঝেই রক্তিমের দরজায় ঠক' ঠক' শব্দ হলো। ওমনি নয়ন্তীকা আঁতকে উঠলো। সে তৎক্ষণাৎ রক্তিমের পানে চেয়ে ভীত গলায় সুধালো —— “আবার কে এলো?? আমি কোথায় লুকাবো?”

নয়ন্তীকার ভয়ে নীল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে রক্তিম আশ্বস্ত করে বললো— “তোমাকে কোথাও লোকাতে হবে না। তুমি বসো! আমি দেখছি।”

বলেই রক্তিম ব্যস্ত পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

----------

রক্তিম দরজা খুলে দেখলো অনিমেষ দাশগুপ্ত। ভদ্রলোক হাতে খাওয়ার প্লেট নিয়ে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তিনি রক্তিমকে দেখা মাএই জিজ্ঞাসা করে উঠলেন ——“নয়ন এখানে কী করছে? তাও আবার এই অসময়ে?”

রক্তিম বাবার খুব একটা পাত্তা দিল না। সে অনিমেষ দাশগুপ্তর হাত থেকে প্লেট নিতে নিতে শান্ত গলায় বলে উঠলো——“আমি জানি না বাবা!”

রক্তিমের কথায় মূহুর্তে চোটে গেলেন অনিমেষ দাশগুপ্ত। তিনি তৎক্ষণাৎ আঙ্গুল উঁচিয়ে বলে উঠলেন —— “একদম হেয়ালি করবে না আমার সঙ্গে!! তুমি ভালো মতোই জানো যে, তোমার মা নয়নকে এখানে দেখলে কী হতে পারে!”

“আমি জানি বাবা! তবে, আমি ওকে আনিনি।”

“হ্যাঁ! ও উড়ে উড়ে এসেছে তো।”

“নাহ! বেলকনি টোপকে এসেছে।

— তোমার সখের বাচ্ছা মেয়ে বেলকনি টোপকে এসেছে। আমি আসতে বলিনি!”

বলেই রক্তিম দরজা বন্ধ করে হাঁটা ধরলো রুমের ভিতরে। তার বাবা তাকে কি যে ভাবে তিনিই ভালো জানেন!

অপরদিকে, অনিমেষ দাশগুপ্ত বিরস মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন সেখানে। দুই বাড়ির বাচ্ছা দুটো কী যে ঘটাতে চলেছে উপরওয়ালাই জানে। যদি নয়নের এইসব কথা নৈতিক জানতে পারে একবার, তবে দুই বাড়িতে লঙ্কা কাণ্ড বেঁধে যাবে!

-----------------

রক্তিম খাওয়ার প্লেট নিয়ে এগিয়ে গেল। নয়ন্তীকা তখন বিছানায় বসে পা দোলাচ্ছে। রক্তিমকে কাছে আসতে দেখে সে একটু নড়েচড়ে বসলো।

রক্তিম প্লেট নিয়ে নয়ন্তীকার সামনে বসলো। তারপর রুটি ছিঁড়তে ছিঁড়তে নরম স্বরে সুধালো—— “খেয়েছিলে?”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা মাথা নামিয়ে নিল। কয়েক মূহুর্ত গড়ালো অথচ মুখ হতে টু শব্দ করলো না মেয়েটা। রক্তিম একপলক নয়ন্তীকাকে অবকলন করে, তরকারী'র সাথে রুটি নিয়ে নয়ন্তীকার মুখের সামনে ধরলো। নয়ন্তীকা এই পর্যন্ত মাথা তুললো না। রক্তিম একইভাবে নয়ন্তীকার সামনে খাবার নিয়ে সুধালো—— “হাঁ করো নয়ন!”

নয়ন্তীকা মাথা তুললো তৎক্ষণাৎ! হরিনীর ন্যায় ডাগর ডাগর চোখে জলের ভিড় জমেছে তখন। রক্তিমের সাথে দৃষ্টি সংযোগের সাথে সাথে তা মুক্তর দানার মতো ঝরে পড়লো তৎক্ষণাৎ।

রক্তিম দেখলো সব। সে প্লেটটা বিছানায় উপর রাখলো। তারপর নয়ন্তীকার মুখে রুটির টুকরো এগিয়ে দিল। কেননা সে জানে, সারা দিনের ঝড়ঝাপটায় মেয়েটা কিছু মুখে তোলেনি।

এইদিকে রক্তিমের এগিয়ে দেওয়া খাবার মুখে পুরলো না নয়ন্তীকা। সে খপ করে রক্তিমের হাতটা ধরে ফেললো আগেই। তারপর, কান্নারত গলায় বলে উঠলো—— “বাবা আপনাকে পছন্দ করে না কেন?? আগে তো দুই বাড়ির মধ্যে সব ঠিক ছিল। হঠাৎ কেন মনমালিন্য হল দুই বাড়িতে?”

নয়ন্তীকার কথায় রক্তিম নিজের শান্ত চোখ জোড়া বুলিয়ে নিল নয়ন্তীকার ভিজে মুখের উপর। এবং সে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর নয়ন্তীকার মুখে খাবার পুরে দিয়ে , বা হাতের সাহায্যে নয়ন্তীকার মুখ মুছিয়ে দিল রক্তিম। সে কৈফেত দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে উঠলো—— “তুমি এখনও ছোটো নয়ন! সময় হোক সব জানতে পারবে!”

নয়ন্তীকা মানতে চাইলো না রক্তিমের কথা। সে মুখের খাবার গিলে তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো—— আপনি নিশ্চয়ই জানেন। চাইলেই আমাকে...

“নয়ন!!! বললাম তো সময় হোক।”

রক্তিম নরম অথচ কিছুটা উচ্চ স্বরে বললো। যা নয়ন্তীকার প্রেমিকা সুলভ মন মেনে নিতে পারলো না।ওমনি অভিমানী নয়ন্তীকা ফুঁপিয়ে উঠলো। যে যখন পায় তাকে বকে-চড়-থাপ্পড় দিয়ে চলে যায়। ভেবেই দুঃখে নয়ন্তীকার কান্নার বেগ বাড়লো। আজকে শুধু তার কান্নাই পাচ্ছে কারণে-অকারণে। এই যেমন এখনের'টা অকারনে কাঁদছে তা বেশ জানে নয়ন্তীকা। তবু কান্না পাচ্ছে তার।

নয়ন্তীকা কাঁদছে আর রক্তিমের হাতে চুপচাপ ভালো বাচ্ছা'র মতো খেয়ে নিচ্ছে। আর রক্তিম খাইয়ে দিতে দিতে শান্ত চোখে নয়ন্তীকা'কে দেখে চলেছে। একপর্যায়ে নয়ন্তীকার কান্না না থামতে দেখে রক্তিম বাম হাতের সাহায্যে নয়ন্তীকার মুখমন্ডল মুছে দিয়ে আদর মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠলো —— “তোমার সব কিছুই জানার অধিকার আছে নয়ন! তবে, সঠিক সময় হোক। তুমি নিজেই জেনে যাবে! বুঝেছ?”

“ হু!!”

নয়ন্তীকা মুখ ভার করে বললো। যা দেখে রক্তিম নয়ন্তীকার মন ঠিক করতে বলে উঠলো —— “ইদানিং বড্ড ছিঁচকাদুনি হয়েছ নয়ন! তোমাকে নিয়ে কোথায় যাবো বলো তো?”

“আমাকে নিয়ে কোথাও কেন যেতে হবে? আমি এখনও ছোটো না?”

নয়ন্তীকা সিরিয়াস মুখভঙ্গি করে বললো। যা দেখে রক্তিম না হেসে পারলো না। এই মেয়ের রাগ নাকের ডগায় থাকে সবসময়। এবার এই কথা নিয়ে কতদিন যে রক্তিমকে খোঁচা দেবে , তা এই বোকা মেয়েই জানে।

-------

রাত সাড়ে এগারোটা তখন। রাগ-অভিমান-খুনশুটিতে রক্তিম আর নয়ন্তীকার অনেকটা সময় কাটলো। বর্তমান, রক্তিম ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছে। আর মেয়েটা তার পাশেই বসে বকবক করে চলেছে। রক্তিম কাজ করলেও, সে মন থেকে নয়ন্তীকার সব কথা শুনছে। আবার মাঝে মধ্যে হু হাঁ ও করছে নয়ন্তীকার কথায়।

একপর্যায়ে রক্তিম লক্ষ্য করলো যে মেয়েটা ঘুমে একেবারে ঢুলছে। তাই সে নয়ন্তীকা উদ্দেশ্য করে বললো—— “নয়ন!! তোমার এবার নিজের রুমে যাওয়া উচিৎ ।”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা তৎক্ষণাৎ চোখ বড়ো বড়ো করে রক্তিমের পানে তাকালো, তার ঘুম ততক্ষণে হালকা হয়ে এসেছে। সে রক্তিমের কাছে আবদারের সুরে সুধালো—— “আজ থাকি এখানে?”

নয়ন্তীকার কথায় রক্তিম ভ্রু কুঁচকে তাকালো। সাধে সে মেয়েটাকে বলে ছোটো? আবার সত্যি কথা বললেও ম্যাডামের গায়ে লাগে।

রক্তিম মনের কথা মনেই রাখলো। সে নয়ন্তীকাকে উদ্দেশ্য করে শান্ত গলায় বললো —— “তুমি এখানে কীভাবে থাকতে পারো? আমি প্রাপ্ত বয়স্ক একজন পুরুষ নয়ন!”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা বিস্ময় প্রকাশ করে বললো —— “হ্যাঁ তোহ্ ?”

নয়ন্তীকার খামখেয়ালী কথায় রক্তিম আমতা আমতা করে বলে উঠলো —— “তুমি মেয়ে!!”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইলো। তারপর হুরমুরিয়ে উঠে সে রক্তিমের বেলকনির দিকে যেতে যেতে বলে উঠলো —— থাকতে দেবেন না বললেই হয়। তুমি মেয়ে আমি ছেলে–— এইসব কি কথা? মানে আপনার সব কিছুতেই অসুবিধা!!

—নয়ন তুমি ছোটো!! নয়ন তুমি মেয়ে!! নয়ন আমি প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ!!

নয়ন্তীকা রক্তিমের মতো করেই বকতে বকতে ততক্ষণে বেলকনিতে পৌঁছে গেছে। অপরদিকে, রক্তিম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো নয়ন্তীকার যাওয়ার পানে। তার ইহ মূহুর্তে নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছা করছে। সে বোঝাতে কী চাইলো, আর মেয়েটা বুঝলো কী!! আবার ম্যাডামকে বাচ্ছা বললে নাকি রাগ হয়। ভাবা যায়??

চলবে,,,,,,,,

( কালকে সম্ভবত গল্প দিতে পারবো না। বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের ভিড়, যার জন্য একটু ব্যস্ত আছি। কালকেও থাকবো। তবু, চেষ্টা করবো।তবে আপনারা অপেক্ষা করবেন না। ধন্যবাদ ♥️!)

আগের পর্ব:

https://www.facebook.com/share/p/1G9Jb9bFje/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন