ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

২১তম পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা_ব্যানার্জী

#পর্ব_সংখ্যা ২১

জুন মাসের শেষের দিকে তখন। এই ভালো তো এই খারাপ ওয়েদারের সহিত আপাতত সবার দিন কাটছে। হুট করে আকাশের অবস্থা ভালো, আবার হুট করেই আকাশের অবস্থা খুব খারাপ।এই যেমন ; আজকে সকালের দিকে কুলতলা'র গগনে কালো মেঘের বাহার ছিল। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছিল এতক্ষণ। কিন্তু এখন আকাশ একেবারে ফকফকা। সোনালী রোদে চকচক করছে চারিপাশ।

নয়ন্তীকা গাড়ির জানালা হতে বাইরের দিকে চেয়ে রইলো। বর্তমানে নয়ন্তীকা তার মামার বাড়ি যাচ্ছে। তার দিদুনের শরীর একটু খারাপ, নয়ন্তীকা'কে খুব করে দেখতে চেয়েছেন তিনি। যার জন্য তার জীবনের শোচনীয় পরিস্থিতি থাকার পরেও তাকে যেতে হচ্ছে।

ইতিমধ্যে দেখতে দেখতে কেটে গেছে একটা গোটা সপ্তাহ। এই কয়েকদিনে রক্তিমের সাথে সব ঠিকঠাক থাকলেও , তার বাড়ির পরিস্থিতি একেবারেই ভালো নয়। তার বাবা নৈতিক মুখার্জি তার সাথে কথা বলেন না সেই ঘটনার পর থেকেই। তাকে দেখলেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান তার জন্মদাতা। আবার, তার মা জননী নিজের স্বামীর সাথে কথা বলেন না সেই দিনের পর। মিসেস আহানা মুখার্জি বাড়ির বউ হওয়ার সব দায়িত্ব পালন করলেও, তিনি আপাতত নৈতিক মুখার্জির থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন।

ইদানিং মুখার্জি বাড়ির পরিবেশ অস্বাভাবিক চলছে বলা চলে। যদিও আগেও তেমন স্বাভাবিক কিছু ছিল না। তবু! যেটুকু ঠিকঠাক ছিল তা বোধহয় নয়ন্তীকার প্রেমের কারণে বিগড়ে গেছে। যেন সে প্রেম করে কত বড়ো পাপ করে দিয়েছে। অবশ্য, নৈতিক মুখার্জির মতে।—— ভেবেই নয়ন্তীকা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো পাশে বসা মায়ের দিকে। তার জননী গাড়ির অপরপাশের জানালা আটকে বসে আছে। আর তার বাবা ফোনে ব্যস্ত। হয়তো অফিসের কিছু কাজে।

ইহ মূহুর্তে, গাড়ির মধ্যকার পরিবেশ একেবারে গুমট। অন্যবারে মামার বাড়ি যাওয়ার সময় নয়ন্তীকার খুব ভালো লাগতো। আগে সে পুরো রাস্তা খুশি খুশি মায়ের সাথে বকবক করতে করতে যেত। এবারে নয়ন্তীকার কেন যেন মন খারাপ লাগছে ভীষন। অকারণে কান্না কান্না পাচ্ছে। নয়ন্তীকা ভাবতে বসে গেল তার কেন এমন লাগছে। কেননা সে বিশ্বাস করে — “অকারণে কিছুই হয়না। আমাদের হুটহাট মন খারাপ আর মন ভালোর কারণ'টা আর কেউ না জানলেও আমাদের মন ঠিকই জানে। তবে, তা মানতে চায় না। সেটা আলাদা ব্যাপার।

__________

কিছু সময় গড়ালো চোখের পলকে। গাড়ি তখন ফাঁকা রোডের উপর ঝড়ের গতিতে ছুটে চলেছে। নয়ন্তীকা জানালার দিকে চেয়ে রইলো উদাস নয়নে। এত ভাবার পরেও তার মন কিছুতেই ধরতে পারলো না নয়ন্তীকার আকস্মিক মন খারাপের কারণ। তাই নয়ন্তীকা নিজের মন ভালো'র সিধান্ত নিল। সে মন ভালো করতে ফোন হাতে তুলে নিল তৎক্ষণাৎ। একটু রক্তিমের সাথে কথা বলা উচিৎ ইহ মূহুর্তে। তবে হঠাৎ তার মনে পড়লো–– মহাশয়ের আজকে ম্যাচ আছে। যার জন্য তিনি সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছেন বাড়ি থেকে। তাই তো নয়ন্তীকার দেখা হয়নি আসার সময়। ভেবেই সে গাল ফোলালো।

নয়ন্তীকা ফোন হাতে নিয়ে বসে রইলো চুপচাপ। দৃষ্টি জানলার বাইরে স্থির রেখে। তার মন খারাপ কমছে না কোনো ভাবেই। নয়ন্তীকা আবার জানলা হতে মুখ ফিরিয়ে আলগোছে ফোন হাতে তুলে নিল। তারপর রক্তিমের উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র বার্তা লিখলো—— “আকাশের হুটহাট রঙ বদলের মতো আমার মন'টাও পাল্টি খাচ্ছে।এই যেমন, এখন আমি আপনাকে ভীষন মিস করছি!! ভীষন বাজে ভাবে”...

বার্তা'টি পাঠিয়ে নয়ন্তীকা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। কিন্তু অপর প্রান্ত হতে কোনোরকম উওর এল না। নয়ন্তীকা আবার লিখলো—— “ এত মিস করেও লাভ নেই দেখছি। আমি মামার বাড়ি যাচ্ছি, কবে বাড়ি ফিরব ঠিক নেই।“

“শুননু রক্তিম দাশগুপ্ত! ম্যাচের পরপরই ফোন যেন করা হয়। আর, অল দ্য বেস্ট লিবেরো মশাই!!”

___________

অবশেষে, তিন ঘণ্টা'র জার্নির পর নয়ন্তীকা নিজের মামার বাড়ি এসে পৌঁছালো। তারা গাড়ি থেকে এক এক করে নেমে দাঁড়ালো। নয়ন্তীকা অনুভূতি ভরা চোখে মামার বাড়ির দিকে তাকালো, ওমনি চোখ আটকে গেল তার সামনের বাড়ির সাজসজ্জা দেখে।

তার দিদুনের নাকি শরীর খারাপ! তবে এত আয়োজন কীসের?? পুরো বাড়ি ঝাড়বাতি সহ ফুল আর বিভিন্ন রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো। যেন কারোর বিয়ে। তবে, নয়ন্তীকার জানা মতে, এই বাড়িতে বিয়ের মতো কোনো ছেলেমেয়েই নেই। তার দুটো মামার ছেলেমেয়েই এখন ভীষন ছোটো। তবে কী, বাড়িতে কারোর জন্মদিন?? কিন্তু জন্মদিনেও কেউ এইরকম সাজায়। আবার হতেও পারে। বড়ো লোকের যতসব বড়ো বড়ো কাজকর্ম।

অপরদিকে, মিসেস আহানাও দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে রইলেন তার নিজের বাড়ির দিকে। ওমনি চোখের পাতায় ভেসে উঠলো নৈতিক মুখার্জির কর্মকান্ড। কিভাবে সে অস্থির হয়ে উঠেছিল নিজের শ্বশুরবাড়ি আসার জন্য। তবে কি নৈতিকের অসৎ উদ্দেশ্যে ধরতে তিনি অসফল হয়ে গেলেন? তবে কি তিনি মায়ের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে গেলেন?

ঘটনা গতকাল রাতের, মিসেস আহানা বিছানায় তখন গা এলিয়ে ছিলেন। তিনি সবে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সবে। তখন হঠাৎ নৈতিক মুখার্জির আগমন ঘটে। সে এসেই অধৈর্য ভঙ্গিতে বলে ওঠে—— “শোনো আহানা, কালকে সকালে তুমি আর তোমার মেয়ে রেডি থেকো। আমাদের *** বাড়ি যেতে হবে একবার। মায়ের শরীর খারাপ। ফোন করে জানালো তোমার ভাই।”

মিসেস আহানার বাবা নেই। বয়স্ক মা রয়েছেন। তার শরীর খারাপ হতেই থাকে। মিসেস আহানা মাঝেসাঝেই একাই গিয়ে দেখে আসেন। তবে, এই বিষয়ে এত দিন পর্যন্ত কখনো তিনি নৈতিক মুখার্জিকে মাথা ঘামাতে দেখেননি। কিন্তু আজ হঠাৎ তার এই অস্থিরতা দেখে মিসেস আহানা ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। তারপর বললেন —— “তোমার তো অনেক কাজ আছে, গিয়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট। তার চেয়ে ভালো আমি একাই বরং কাল চলে যাবো।”

নৈতিক মুখার্জি মিসেস আহানার কথায় খেপে উঠলেন তৎক্ষণাৎ। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠলেন —— “তোমাকে বেশি বুঝতে হবে না। আমরা সবাই কালকে যাচ্ছি এটাই ফাইনাল।”

বলেই নৈতিক মুখার্জি দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। আর মিসেস আহানা বিস্ময়ের সহিত তাকিয়ে রইলেন নৈতিকের পানে। ঠিক তখনই নৈতিক দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে বললো —— “তোমার মা নয়ন্তীকাকে দেখতে চাইছেন খুব করে। আশা করি, বয়স্ক মানুষটার কথা রাখবে।”

মায়ের ইচ্ছার কথা শুনে দমে গেলেন মিসেস আহানা। নৈতিকের ইহ ব্যবহারে মিসেস আহানার মনটা একটু নরম হলো। যাক, মানুষটার একটু তো মনুষ্যত্ব বোধ আছে।

কিন্তু তিনি ভুল ছিলেন। অমানুষরা কখনো মানুষ হয় না। আর না তো লোভিরা নিজের পরে কারোর কথা ভাবে।

তবে, তিনি নৈতিক মুখার্জিকে চিনতে বোধহয় ভুল করে ফেললেন কি! ভেবেই মিসেস আহানার বুকটা কেঁপে উঠলো অজানা আতঙ্কে। তার মন কেন জানি কু' ডাকছে। মিসেস আহানার নৈতিক মুখার্জির উপর কোনো ভরসা নেই। সে নিজের স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে পারে। আর রইলো কথা তার দুটো ভাইয়ের। তো তাদেরও বিশ্বাস নেই। তারাও একই গোয়ালের গরু। তিনি কাকে ছেড়ে কাকে কি বলবেন!

মিসেস আহানা করুন দৃষ্টিতে তাকালো মেয়ের পানে। মেয়েটার কপালে কী সুখ নেই তবে? নৈতিক মুখার্জির কাছ থেকে কেমনই বা পছন্দ আশা করা যায়??

--------

মিসেস আহানার বাপের বাড়িতে তখন এলাহি কাণ্ড চলছে। তার অগোচরে কিছু একটার তো আয়োজন চলছে। যা মিসেস আহানা জানেন না, তবে কিছুটা আঁচ করতে পারছেন।

তার মায়ের শরীর ভালো। তেমন খুব একটা খারাপ কিছু নেই। নয়ন্তীকা দিদুনের সাথে দেখা করেছে হাসি মুখে। একমাত্র নাতি-নাতনিরাই জানে মামার বাড়ির মর্ম! ব্যস্ততায় যে আসা হয়না সেটা আলাদা ব্যাপার।

নয়ন্তীকা বাড়ির এত আয়োজন দেখে তার দিদুনকে সুধালো—— “কি গো মালতী দেবী, কী চলছে এখানে?? আমাকে মিথ্যে বলে আনা করিয়ে বিয়ে বাড়ির মতো আয়োজন দেখছি! ব্যাপার কি বলোতো?”

নয়ন্তীকার কথায় মিসেস আহানার মা হেসে নয়ন্তীকার থুতনি চেপে ধরে বেশ আদর মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠলেন —— “তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে দিদিভাই!! তবে এখন বলা যাবে না। আগে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নাও!”

দিদুনের ইহ কথায় নয়ন্তীকা হেসে বলে উঠলো —— “আমি যে বড়ো অধৈর্য দিদুন। তবে তুমি যখন বলছো ঠিক আছে, পরে দিও সারপ্রাইজ!!”

বলেই নয়ন্তীকা মামির পুচকে ছেলেমেয়ে গুলোর সাথে তার বরাদ্দকৃত ঘরের দিকে হাঁটা দিল। আর মিসেস আহানা তাকিয়ে দেখলেন নিজের ভোলাভালা মেয়ের প্রস্থান!

-------

“আহানা তোর সাথে দরকারি কথা আছে। আমার ঘরে চল।”

“হ্যাঁ দিদি!! আমাদেরও কথা আছে!”

মা আর ভাইদের এই কথার বিপরীতে মিসেস আহানা বলে উঠলেন তৎক্ষণাৎ —— কী এমন কথা যে ঘরের ভিতরে গিয়ে বলতে হবে? এখানেই বলো মা, আমি শুনছি!

মেয়ের কথায় মালতী দেবী সতর্ক দৃষ্টিতে চোখ বোলালেন পুরো হলরুমে। তারপর বড়ো বউয়ের উদ্দেশ্যে বললেন —– “শোনো বড়ো বউ, তুমি নয়নের কাছে একটু যাও। যেন সে এখানে না আসে।”

শাশুড়ির কথা মতো নয়ন্তীকার বড়ো ও মেজো মামি নয়ন্তীকার উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলেন। তাদের ঠিক চলে যাওয়ার পর পরই মালতী দেবী বলে উঠলেন ——

“হা রে আহানা, নয়ন নাকি তোর পাশের বাড়ির লম্পট ছেলেটার সাথে প্রেম করছে।”

মায়ের কথা শুনে ঘটনা বুঝতে বাকি রইলো না মিসেস আহানার। তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে নৈতিক মুখার্জির পানে তাকালেন। সে তার পানেই তাকিয়ে রয়েছে ঠোঁটে বিদ্রুপ হাসির সহিত। তার নিজের মা-ভাইরাই তার দলে।তো নৈতিক মুখার্জির এই বিদ্রুপ মিসেস আহানার প্রাপ্য বটে।

“ রক্তিম লম্পট নয় মা! ও ভালো ছেলে।”

“তুই চুপ কর দিদি। সব জানার পরেও তুই এইসব কীভাবে বলতে পারিস।”

ছোটো ভাইয়ের পরেই তার মেজো ভাই বলে উঠলো —— হুঁ!! নয়ন কি আমাদের মেয়ে নয় ? আমরা কি নয়নের ভালো চাই না?? শোন দিদি, অভ্র ছেলেটা খুব ভালো। নয়ন ভালো থাকবে ওর কাছে। ওরা খুব বড়ো লোক, রাজরানী হয়ে থাকবে আমাদের নয়ন।

“হ্যাঁ !!! তাই আমি আমার নাতনীর বিয়ে ঠিক করেছি। আজকে বিকেলে আমাদের বাড়ির উকিল আসবে। আজকে রেজিস্ট্রি করা হবে। তারপর এখান থেকেই অনুস্ঠান করে বিয়ে দেওয়া হবে।”

মালতী দেবীর কথার পরপরই জোরে কিছু পরার আওয়াজ হলো। ওমনি সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে আওয়াজের উৎসের দিকে চাইলো, মেঝেতে জল খাওয়ার জগ গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর নয়ন্তীকা সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে আছে কান্নারত অবস্থায়। যা দেখে উপস্থিত সবাই একে অপরের মুখের দিকে চাইলো। অপরদিকে মিসেস আহানা তখনোও চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন। যেন ঝড় আসার পূর্বাভাস।

এইদিকে নয়ন্তীকা তখন অঝোরে কেঁদে চলেছে। হলরুমে হওয়া প্রতিটা কথা নয়ন্তীকা শুনেছে। নিজের আপন মানুষদের এই সরযন্ত্র দেখে নয়ন্তীকার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। এবার সে বুঝতে পারলো মামিরা কেন তাকে নীচে আসতে দিতে চাইছিলেন না।

চলবে,,,,,,,,,

আগের পর্ব:

https://www.facebook.com/share/p/19MZrCHqab/

আমার লেখা গল্প সমূহ :

https://www.facebook.com/share/p/1Cy6pxfMRC/

( এত দিন একেবারে হাওয়া হয়ে যাওয়ার জন্য মন থেকে দুঃখিত। এই কয়েকদিন অনেক ব্যস্ত ছিলাম, এখনোও অবশ্য আছি। তবে তখন লেখার মতো পরিস্থিতি ছিল না। এবার, চেষ্টা করবো প্রতিদিন গল্প দেওয়ার। আশাকরি আপনারা আমার অসুবিধা'টা বুঝবেন। ধন্যবাদ ও ভালোবাসা ♥️ 🥰।

অনেক দিন পর লেখার দরুন, লেখনী একটু এলোমেলো। আমার ভুল-এুটি ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো আপনাদের কাছে।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন