ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

২৩তম পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা_ব্যানার্জী

#পর্ব_সংখ্যা ২৩(প্রথম অংশ)

ঘড়িতে রাত দুটো প্রায়। পূ্রো কুল তলা তখন কালো আঁধারের চাদরে আবৃত। পাড়ার কুকুর ব্যতীত মনে হয় না কেউ জেগে আছে।

ঠিক সেই সময় মুখার্জি বাড়ির সামনে একটা চার চাকা এসে থামলো। গাড়ির ডান পাশের দরজা খুলে ব্যস্ত পায়ে বেরিয়ে এলেন মিসেস আহানা। তিনি হনহনিয়ে ঘরের দিকে হাঁটা ধরলেন। এই রাতদুপুরে তার কোনো রকম রঙ্গ তামাশা দেখার ইচ্ছা আপাতত নেই। তাই তিনি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না।

একই গাড়ির অপরপাশ হতে তখনই বেরিয়ে এলেন নৈতিক মুখার্জি। চোখমুখ একেবারে শক্ত। শশুরবাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনা আপাতত পরে দেখা যাবে। কিন্তু তার বিজনেস‌ এখনই সামলাতে হবে। তা না হলে তাকে বাটি নিয়ে পথে বসতে হবে।

আর এই বিজনেসের উন্নতির চাবিকাঠি হল নয়ন্তীকা। এই মুহূর্তে তাকে কোনো ভাবে খোঁজাই হচ্ছে নৈতিক মুখার্জির প্রধান উদ্দেশ্য। তাকে পাওয়া গেলে কোনো ভাবে অভ্র বাড়ির লোককে মানানোর চেষ্টা করা যাবে ভেবেই নৈতিক মুখার্জি বিলম্ব না করে শ্বশুরবাড়ি থেকে দ্রুত কুলতলায় ফিরে এসেছেন ।

প্রেমে পাগল অসভ্য মেয়েটাকে দাশগুপ্ত বাড়িতে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করলেন নৈতিক মুখার্জি। নয়ন্তীকার খোঁজ করতে তিনি দীর্ঘ বছর পর দাশগুপ্ত বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলেন।

“এই অনিমেষ দাশগুপ্ত!!! বাইরে বের হ চোরের বাবা।”

মধ্যরাতে হঠাৎ নিজ বাড়ির নীচ হতে এই কলরবে ঘুম ছুটে গেল অনিমেষ দাশগুপ্ত ও মিসেস রেবার। বান্টিও ততক্ষণে চোখ মুছতে মুছতে হলরুমে নেমেছে।

নীচ হতে চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ আরো বেড়েছে এতখনে। এটা যে নৈতিকের গলা তে বেশ বুঝেছে অনিমেষ দাশগুপ্ত ও তার স্ত্রী। কিন্তু এই রাতদুপুরে ওনার নাম ধরে ডাকাডাকির হেতু মোটেই খুঁজে পেলেন না তারা।

নৈতিক মুখার্জি তখনও দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে গালিগালাজ করে চলেছে একনাগাড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে দরজা খুলে গেল। বেরিয়ে এল অনিমেষ দাশগুপ্ত।

তাকে দেখা মাএই নৈতিক মুখার্জি হুমরি খেয়ে পড়লো অনিমেষের উপর। সে দুহাতে তার জামার কলার টেনে ধরে গর্জে উঠলো—— “ এই ছোটো লোকের বাচ্ছা, আমার মেয়ে কোথায়? বল, শু*বাচ্ছা তোরা বাপ ছেলে মিলে কোথায় লুকিয়েছিস ওকে?”

দীর্ঘ বছর পর কাছের বন্ধুকে দেখে চোখ ভরে উঠতে চাইলো অনিমেষ দাশগুপ্তের। কিন্তু নৈতিকের কথায় তৎক্ষণাৎ বুক কেঁপে উঠলো অনিমেষ তার। অবশেষে নৈতিক জেনে গেছে রক্তিম আর নয়নের ব্যাপারে। কিন্তু , নৈতিক নয়নের খোঁজ এখানে কেন করছে ভেবে পেল না অনিমেষ।‌ সে হাঁসফাঁস করে যেন সুধাতে চাইলো।

কিন্তু তার আগেই মিসেস রেবা খ্যাপা বাঘিনীর মতো এসে দাঁড়াল।‌ সে অনিমেষের হাত ধরে টানতে টানতে বলে উঠলো —— “তোমার মেয়ে কোথায়, তা আমরা কী করে জানবো?”

“হ্যাঁ!! তোমরা জানো না, তোমাদের ছেলে জানে। তাকে একবার ডাকো।”

“এটা কোন ধরনের অভদ্রতামি? কোন ভদ্রলোক রাতদুপুরে লোকের বাড়িতে এসে এইরকম করে?”

মিসেস রেবার রাগী কন্ঠস্বরে। নৈতিক ততক্ষণে অনিমেষের জামার কলার ছেড়েছে। সে তৎক্ষণাৎ রেবা দাশগুপ্তের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো — — “ আপনাদের ভদ্র ছেলে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। শুনেছেন মিসেস রেবা দাশগুপ্ত?”

নৈতিক মুখার্জির কথায় অনিমেষ দাশগুপ্ত মোটেই অবাক হলেন না। তার ছেলের উপর ওনার পুরো বিশ্বাস আছে। তার দ্বারা সব সম্ভব। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি কথাটা একেবারে চেপে গেলেন।অপরদিকে, থমকে গেল মিসেস রেবা। তার রক্তিম আর নয়ন্তীকা?? নাহ এ হতে পারে না...

“আমার ছেলে কখনোই এতবড় ভুল করতে পারে না। আমার তার ওপর বিশ্বাস আছে।”

“কিন্তু আমার আপনাদের উপর কোনো রকম বিশ্বাস নেই। চুপচাপ নয়নকে বাড়ি থেকে বার করুন। নয়তো আমি অন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”

নৈতিক মুখার্জি অনিমেষের সাথে কোনোরকম বাক্য ব্যয় না করে বলে উঠলো। যা শুনে মূহুর্তে চোটে গেলেন মিসেস রেবা। তিনি বলে উঠলেন — “আপনার গুনধর মেয়ে আমাদের বাড়িতে নেই। দেখুন কার হাত ধরে পালিয়ে গেছে। আমার ছেলের ঘাড়ে দোষ চাপানোর কম চেষ্টা করলে ভালো হয়।”

নৈতিক মুখার্জি রাগী চোখে একপলক অনিমেষ দাশগুপ্ত ও রেবা দাশগুপ্তের পানে চাইলো। তারপর প্রস্থান করতে করতে তেজী গলায় বলে উঠলো—— “ছেলেকে যদি জেলের ভাত না খাইয়েছি আমার নাম নৈতিক নয়। খুব হিরোগিরি দেখানো হয়েছে।”

-------

নৈতিক মুখার্জি যাওয়া মাএই মিসেস রেবা হনহনিয়ে ঘরের ভিতর ছুটলেন। হলরুমের সোফায় অঘোরে ঘুমোচ্ছে রূপক। মিসেস রেবা সেইদিকে মাথা না ঘামিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত পায়ে উপরে উঠে গেলেন। এতকিছু হল রক্তিম নীচে নামলো না। ম্যাচ শেষে সে রেস্ট নিচ্ছিল ঠিক আছে। তবু ওনার মনের খচখচানি যেন গেল না। রক্তিমকে না দেখা পর্যন্ত তা দূর হবেও না। ভাবতে ভাবতে মিসেস রেবা রক্তিমের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।

রক্তিমের ঘরের দরজা খোলা। দেখেই বুকটা ধক করে উঠলো মিসেস রেবার। পা হঠাৎ থেমে গেল ওনার। পিছনেই তখন অনিমেষ ছিলেন, স্ত্রীর ইহ অবস্থা দেখে ওনাকে যেন খারাপ লাগা ঘিরে ধরলো। বাকি সত্য জানার পর না জানি তার কী হবে ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

---

রক্তিম ঘরের কোথাও নেই। মিসেস রেবা ততক্ষণে কান্নাকাটি জুরে দিয়েছেন। তিনি হলরুমের সোফার বসে গুনগুন শব্দে কেঁদে চলেছেন ক্রমেই। পাশেই ঘুম ঘুম চোখে বসে রয়েছে রূপক। সে আধো আধো চোখে চেয়ে দেখছে মায়ের কান্না। অপরদিকে, অনিমেষ দাশগুপ্ত রক্তিমের সমস্ত বন্ধুবান্ধবকে ফোন করে চলেছেন। রক্তিমের ফোন বন্ধ। যদি তার বন্ধুবান্ধব থেকে কোনো রকম খোঁজ পাওয়া যায় এই আশায়।

কিন্তু ফলাফল শূন্য। রক্তিম কোনো বন্ধুবান্ধবের সাথে নেই। তার মাঠের স্যার থেকে শুরু করে কেউ ওর খোঁজ জানে না। এই কথা শুনে মিসেস রেবা আর একদফা কেঁদে উঠলেন। তারপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে অনিমেষের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন —— “শোনো রক্তিমের বাপ, তোমার ছেলে যদি ওই মেয়েকে এই ঘরে তোলে আমি বিষ খাবো। হয় ওই মেয়ে থাকবে নয় আমি!”

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা_ব্যানার্জী

#পর্ব_সংখ্যা ২৩(দ্বিতীয় অংশ)

দীর্ঘ রজনী তখন, সারাদিনের ঝড় বৃষ্টির পর আকাশে একফালি চাঁদ দেখা যাচ্ছে। ঘড়িতে এখন ঠিক কটা বাজে ঠাহর করা মুশকিল। তবে মধ্যরাত বলা চলে। একেবারে ফাঁকা রাস্তা, শোঁ শোঁ শব্দ তুলে দু একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে শুধু।

নয়ন্তীকা গাড়ির জানালা হতে তাকিয়ে রইলো একভাবে। বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে তাকে। তাদের গাড়ির সাথে সাথেই আকাশের চাঁদ'টাও এগিয়ে চলেছে যেন। নয়ন্তীকা আনমনে চেয়ে রইলো সেইদিক পানে।

পাশেই রক্তিম ড্রাইভিং এ ব্যস্ত। দুজনের মনেরই পরিস্থিতি একটু টালমাটাল।একেঅপরের মনে ঠিক কি চলছে তা দুজনেই বুঝতে অক্ষম।

নয়ন্তীকা একপলক চাইলো রক্তিমের পানে। পরপর আবার দৃষ্টি সরিয়ে বাইরের দিকে তাকালো। অন্যসময় হলে সে পরিবেশ'টা একাই মাতিয়ে রাখতো। কিন্তু আজকের ব্যাপার একটু ভিন্ন।

রক্তিম তার সাথে কথা বলছে না। সেই স্টেশন থেকেই, তার আগে যদিও ফোনে অল্প আধটু কথা বলছিল। কিন্তু দেখা হওয়া পর একেবারেই মুখে তালা মেরেছে। তবে, তাকে দেখামাত্র প্রথম নিজে থেকে অবশ্য জড়িয়ে ধরেছিল রক্তিম। এতই শক্তভাবে ধরেছিল যেন ছাড়লেই নয়ন্তীকা কোথাও হারিয়ে যাবে। তারপর তার মাথায় রক্তিমের শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দিয়েছে বেখায়ালিতে। ব্যাস!! এরপর থেকে সে চুপচাপ আছে।

তবে কী রক্তিম জেনে গেল নয়ন্তীকা তাকে সন্দেহ করেছিল?? মানুষটা জেনে গেল কী তার নয়ন তাকে ভুল বুঝেছিল?— ভেবেই নয়ন্তীকা'র চোখ জ্বলে ওঠে। সে অস্থিরতায় হাঁসফাঁস করে ওঠে।

রক্তিম জানলেও এতে ভুল কিছু তো নেই! সত্যি কোনো দিন বদলায় না যে। আর এটা সত্যিই তো, যে নয়ন্তীকা রক্তিমের ভালোবাসার উপর সন্দেহ করেছিল। হোক না ক্ষণিকের জন্য। তবে করেছিল তো!!

যদি তার মা তাকে আসল ঘটনা না জানাতো, তবে নয়ন্তীকা হয়তো আজকে এখানে হতো না। সে হয়তো অন্যের বাগদওা হয়ে যেত এতখনে। তবে এতে আসলেই কি নয়ন্তীকা দোষী??

নিজের জন্মদাতা'কে বিশ্বাস করা কি ভুল?? পৃথিবীর সমস্ত মেয়েদের কাছেই তার বাবা অনেক প্রিয় হয়। পারলে তারা নিজের বাবার জন্য পুরো পৃথিবীর সাথে লড়তে পারে। সেখানে নয়ন্তীকা'র নিজের বাবার পক্ষ নেওয়া কী ভুল??

যেখানে তাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। সত্যিটা মিথ্যা বানিয়ে তার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আসল সত্যিটা জানতে পেরে নয়ন্তীকা ভীষন লজ্জিত। তার বাবার কুকর্মে কথা শুনে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই আসছে না। সে শুধুমাত্র মেয়ে বলে তার বাবা পিতৃস্নেহ থেকে তাকে দূরে রেখেছে। এমন চিন্তাধারা যুক্ত লোকটার জন্য মন থেকে কেন যেন আর শ্রদ্ধা আসছে না। এমন লোকের মেয়ে হয়ে নিজের উপর রাগ হচ্ছে নয়ন্তীকার।

আজ যদি তার মা তাকে সব সত্যি না বলতো, আর যদি তাকে ওই লোভী মানুষগুলোর কাছ থেকে পালাতে সাহায্য না করতো। তাহলে নয়ন্তীকার জীবনটাই নরক হয়ে যেত।

রক্তিমের মতো ভালোবাসার মানুষটার সাথে আর দর্শন হতো না। এবং এই আফসোস নয়ন্তীকাকে সারাজীবন বয়ে যেতে হতো

ভেবেই নয়ন্তীকা একটা ফাঁকা ঢোক গিললো। অপরদিকে, রক্তিম চলন্ত গাড়িটা রাস্তার ধারে দাঁড় করালো সেই মূহূর্তে। তারপর দীর্ঘক্ষণের নিরবতা ভঙ্গ করে সে রয়েসয়ে নয়ন্তীকার উদ্দেশ্যে সুধালো——

“নয়ন!! আমি কী তোমার জীবনসঙ্গী হওয়ার যোগ্য? সারাজীবনের জন্য আমি কী তোমার হতে পারি?”

রক্তিমের নম্র-কোমল কন্ঠস্বর। যা শুনে মূহুর্তে বক্ষদেশে কাঁপন ধরে গেল নয়ন্তীকার। সে চোখ পিটপিট করে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকালো রক্তিমের পানে। আকস্মিক রক্তিমের এই প্রশ্নের কোনো মানে খুঁজে পেল না নয়ন্তীকা।

রক্তিম তখনও তারই পানে তাকিয়ে রয়েছে গভীর দৃষ্টিতে। চোখে মুখে নয়নের উওর জানার কি আকুতি। তবে নেই কোনো অধৈর্য্যতা! যেন রাগী-গম্ভীর মানুষটাকে উপরওয়ালা তার প্রতি ভরে ভরে বেশ ধৈর্য্য দিয়েছেন।

নয়ন্তীকা মাথা নীচু করে নিল। অবশ্য চোখের জল লোকানোর চেষ্টায়। যখন মনে পড়ে এই লোকটাকে সে সন্দেহ করে ছিল তখন চোখ ফেটে কান্না পাচ্ছে। তবে সে যে নিরুপায় ছিল।

নয়ন্তীকা রয়েসয়ে হ্যাঁ সূচক ঘাড় নাড়লো। তারপর অশ্রু সিক্ত নয়নে একপলক চাইলো রক্তিমের পানে, এরপর সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলে উঠলো —— “যেখানে আমি আপনার অযোগ্য, সেখানে যোগ্যতা যাচাই করার অধিকার আমার নেই। তবে হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”

নয়ন্তীকার এই কথা বলার সাথে সাথেই রক্তিম আলগোছে নয়ন্তীকার ডানহাত খানা চেপে ধরলো আলতো ভাবে। তারপর নম্র গলায় সুধালো—— “আমাকে বিয়ে করবে নয়ন? তুমি আমার হবে?”

নয়ন্তীকা যেন থমকে গেল। এই অসময়ে হঠাৎ এই প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ দিতে পারলো না নয়ন্তীকা। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো রক্তিমের জিজ্ঞাসু মুখপানে। যা দেখে রক্তিম আবার নিজে থেকেই বলা শুরু করলো——“ জানো তো নয়ন, জীবনে দ্বিতীয়বার মূল্যবান কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয় পেয়েছি। প্রথমবার বাবাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পেয়েছিলাম বহুবছর আগে। তারপর আবার এখন তোমাকে‌। যখন শুনলাম তোমার বিয়ে হতে চলেছে, বিশ্বাস করো নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছিলো। মনে হচ্ছিল নিঃশ্বাস নিতে পারছি না আমি।

নয়ন!! তুমি আবার বলো না, বাড়ির লোকের মতামত নিয়ে আমার হতে চাও। কেননা তারা আমাদের এই সম্পর্ক কোনো দিন মেনে নেবে না। তা তুমিও ভালো মতো জানো। আর আমি প্রতিদিন তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় নিয়ে বাঁচতে পারবো না।”

বলেই রক্তিম নয়ন্তীকার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো উওরের আশায়। অপরদিকে, রক্তিমের ইহ কথায় নয়ন্তীকা বেশ ভাবনায় পড়ে গেল। ইতিমধ্যে সে রক্তিমের পবিত্র ভালোবাসার উপর সন্দেহ করে নিজের কাছে লজ্জিত। যেখানে, সেই প্রথম থেকেই রক্তিম তার পাশে রয়েছে। বিনা কোনো স্বার্থ ছাড়া। সে তাকে যত্ন-স্নেহ- ভালোবাসা দিয়ে গেছে। তারও উচিত রক্তিমকে তার প্রাপ্য ভালোবাসাটা দেওয়া। একবার তো সে ভুল সিদ্ধান্ত নিল। এবার না হয় ঠিক সিধান্তটা নেওয়া হোক। এরপর নয়ন্তীকা কোনোকিছু না ভেবেই রক্তিমের পানে চেয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো ধীরে সুস্থে। তারপর সে চোখে জল নিয়ে ধীর স্বরে বলে উঠলো —— “আপনার নয়নের সমস্ত ভুল-এুটি গুলো শুধরে মেনে নেওয়ার অনুমতি রইলো। আপনার নয়ন আপনার হতে রাজি আছে।”

--------------------

একটা কালো রাতের অন্ধকার ভেদ করে আবারও নতুন দিনের সূচনা হলো। ঘড়িতে বেলা এগারোটা তখন। দাশগুপ্ত বাড়ি একবারে নিরব। মাঝ রাতের কলরবের জন্য অনিমেষ দাশগুপ্ত আর রূপক এখনো ঘুমের দেশে। অপরদিকে, মিসেস রেবা হলরুমে রাত থেকে একভাবে বসে রয়েছেন। অবশ্য রক্তিমের চিন্তায়। তখন ওনার সবে মাএ চোখ লেগে এসেছে, ঠিক তখনই বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠলো স্বশব্দে।

ওমনি তড়িঘড়ি করে উঠে বসলেন মিসেস রেবা। মাথায় রক্তিমের কথা আসা মাত্রই তিনি দ্রুত বেগে ছুটলেন দরজা খুলতে।

বাড়ির মূল ফটক খুলেই তিনি থমকে গেলেন। মিসেস রেবা শক্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন রক্তিম আর তার পাশে দন্ডায়মান নয়ন্তীকার দিকে। তার মাথায় সিতে ভর্তি সিঁদুর , আর দুহাতে শাখাপোলা।

মিসেস রেবা একভাবে তাকিয়ে রইলেন দুজনের দিকে।সময় কিছুক্ষণ পেরুলো বোধহয়। মিসেস রেবা নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করাতে পারলেন না ঘটনাটা। রক্তিম তখনও নয়ন্তীকার হাতখানা নিজের হাতের মুঠোয় চেপে রয়েছে। যা দেখে মিসেস রেবার মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। ওনার তৎক্ষণাৎ মনে পড়ে গেল নৈতিক মুখার্জির রাতে বলা কথা গুলো। ওমনি তিনি তেড়ে গিয়ে নয়ন্তীকার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। ঘটনা চোখের পলকে এতই দ্রুত ঘটে গেল কি রক্তিম নিজের মাকে আটকাতে পারলো না। অপরদিকে, নয়ন্তীকা গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো তার নম্রসম্র বড়ো মা'র মুখপানে। তার ভাগ্যে বোধহয় শান্তি নেই। ভেবেই নয়ন্তীকা ফুঁপিয়ে উঠলো।

চলবে,,,,,,

আগের পর্ব:

https://www.facebook.com/share/p/1Vu7a8y1Hf/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন