ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

২৫তম পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা_ব্যানার্জী

#পর্ব_সংখ্যা ২৫

বেলা দ্বিপ্রহর তখন, রক্তিম সবে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরোল। গতকাল প্রচুর ধকল গেছে তাদের উপর, তারপর ঘুমানোও হয়নি। যার দরুন রক্তিমের শরীরটা ক্লান্তিতে চলতে চাইছে না যেন। চোখ ঘুমে বুজে আসতে চাইছে।

ঠিক একই অবস্থা নয়নেরও। মেয়েটার কালকে থেকে নাওয়া খাওয়া হয়নি। মেয়েটাকে কিছু খাইয়ে, একটা ঘুম দেবে। তবেই শান্তি!

রক্তিম মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে গেল বিছানায় বসা নয়নের দিকে। সে কোলে কাজুকে নিয়ে সামনের দেওয়ালের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রয়েছে। রক্তিম নয়ন্তীকার দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজেও তাকালো সেইদিক পানে। ওমনি তার ওষ্ঠ একপাশে সরে গেল। সামনের দেওয়ালে রক্তিমের হাস্যরত মুখের একটা ছবি রয়েছে। ফটোটা তাদের ক্লাবের, যেখানে রক্তিম কে. বি. সি এর জার্সি গায়ে প্রফুল্ল চিত্তে প্রাইজ নিয়ে উল্লাসে ব্যস্ত।

আর এই ছবির দিকেই নয়ন মুগ্ধ চোখে চেয়ে রয়েছে দিক বিদিক ভুলে। এই যে এখন রক্তিম তাকে দেখছে সেইদিকেও তার খেয়াল নেই।

রক্তিম মাথা মুছতে মুছতে নয়ন্তীকার বেখায়ালিপনা দেখে আবার ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। তারপর স্বাভাবিক গলায় সুধালো——" আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও নয়ন! আমাকে না হয় পরে দেখে নিও। আমি তো আর পালিয়ে যাচ্ছি না।”

আকস্মিক রক্তিমের পুরুষালী কন্ঠস্বর শুনে চমকে উঠলো নয়ন্তীকা। তারপর নিজের নিজের কর্মকান্ডে লজ্জায় চোখ পিটপিট করে আশেপাশের চাইলো। যা রক্তিম দেখেও না দেখার ভান করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাজ করে চলেছে।

নয়ন্তীকা একপলক রক্তিমের দিকে তাকিয়ে কাজুকে বিছানায় বসিয়ে রেখে দ্রুত ছুটলো ওয়াশরুমের দিকে। যা দেখে রক্তিম মুচকি হাসলো।

মিনিট খানেক পরপরই নয়ন্তীকা ওয়াশরুমের দরজা দিয়ে উঁকি দিল সামান্য। রক্তিম তখন নিজের ঘরের এলেমেলো কাপড়চোপড় গোছাতে ব্যস্ত।

নয়ন্তীকা রক্তিমকে একপলক দেখে চিন্তায় পড়ে গেল মানুষটাকে ডাকবে কিনা। আসলে এই ঘরে তার কোনো জামাকাপড় নেই। ফ্রেশ হয়ে পড়বে কী? যদিও তার বাড়ি পাশেই, কিন্তু যাওয়া তো হবে না।

তার উপর আজকে রক্তিমকে দেখে তার লজ্জা লজ্জা লাগছে। শুধু দেখে না, কথা বলতে গিয়েও অকারণে বুক কাঁপছে তার। নয়ন্তীকা নিজের এই হঠাৎ উদ্ভট আচরণে বেশ বিরক্ত। কিন্তু সে কি বা করবে। তার লজ্জা লাগছে।

“নয়ন!! আমি মানুষটা সারাজীবনের জন্য তোমার নামে দলিল হয়ে গেছি। এখনও লুকিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বুঝি?”

রক্তিমের ইহ কথায় থতমত খেয়ে গেল নয়ন্তীকা। নিজের আকাশ কুসুম কল্পনা থেকে টুপ করে বাস্তবে ফিরে এল।

নয়ন্তীকা এলেমেলো দৃষ্টি ফেললো। তারপর আমতা আমতা করে বলে উঠলো —— “আমি লুকিয়ে দেখছিলাম না তো!”

রক্তিম ভ্রু নাচিয়ে সুধালো— "তাই নাকি?”

“আসলে আমার জামাকাপড় তো এখানে নেই। ফ্রেশ হয়ে পড়বো কী?”

বলেই নয়ন্তীকা হাত কচলাতে লাগলো। যা রক্তিম সুক্ষ্ম চোখে পর্যবেক্ষণ করলো। এবং বুঝলো নয়ন্তীকার অস্বস্তির কারণ।

রক্তিম মুচকি হেসে নয়ন্তীকা মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তারপর গাল টেনে আদুরে গলায় বললো —— “আমিই তো বাচ্ছা!! অস্বস্তির কিছুই নেই। এবার থেকে সব সুবিধা-অসুবিধা আমাকে মুখ ফুটে জানাবে। নাহলে আমি বুঝবো কি করে?”

বলেই রক্তিম পিছন ঘুরে হাঁটা দিল। তবে রক্তিম যেতে গিয়েও ফিরে এসে নয়ন্তীকার গালে হাত ছোঁয়ালো আকস্মিক। যেই গালে মিসেস রেবা চড় মেরেছিলেন।

নয়ন্তীকাও মাথা তুলে চাইলো রক্তিমের মুখ পানে। রক্তিম মুখটা মলিন করে তার পানেই তাকিয়ে রয়েছে। নয়ন্তীকা তাকানো মাত্রই রক্তিম বলে উঠলো — “আমি দুঃখিত নয়ন!! তোমাকে আমার মায়ের চড় থেকে রক্ষা করতে পারলাম না। যেখানে তোমার নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব। কিন্তু বিশ্বাস করো, এরপর থেকে এইরকম আর হবে না।”

নয়ন্তীকা নিজের গালে থাকা রক্তিমের হাতখানা চেপে ধরলো। তারপর মৃদু হেসে বলে উঠলো —— "আমার লাগিনি তো! তাছাড়া, বড়ো মায়ের রাগ করাটাই স্বাভাবিক। তবে আমি মোটেই রাগ করিনি। সত্যি বলছি।”

নয়ন্তীকাকে বুঝদারের মতো কথা বলতে দেখে হেসে ফেললো রক্তিম। তারপর নয়ন্তীকার কপালে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে প্রস্থান করলো সেখান হতে। যেতে যেতে নয়ন্তীকার উদ্দেশ্যে বলে গেল —— "তুমি স্নান করো, আমি তোমার জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করছি।”

--------

বর্তমানে নয়ন্তীকা ফ্রেশ হয়ে বিছানায় চুপচাপ গুটিসুটি মেরে বসে আছে। সামনের সিঙ্গেল সোফায় রক্তিম ল্যাপটপ নিয়ে কাজে ব্যস্ত অনেকক্ষন ধরে। তবে সে কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই নয়ন্তীকাকে দেখে নিচ্ছে।

মেয়েটা জড়োসড়ো হয়ে চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ভুলেও রক্তিমের দিকে তাকাচ্ছে না।

কারণটা চট করেই ধরে ফেললো রক্তিম। সে ল্যাপটপ বন্ধ করতে করতে নয়ন্তীকা'কে ডাকলো—— “আমার কাছে এসো নয়ন!”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা দুরুদুরু বুকে চাইলো। তার মনটা রক্তিমের কথায় হঠাৎ হঠাৎ কেমন ছ্যাৎ করে উঠছে।

অপরদিকে,নয়ন্তীকাকে প্রতুত্তর করতে না দেখে রক্তিম আবার সুধালো—— “কাছে আসতে বলেছি নয়ন!”

নয়ন্তীকা চমকে উঠলো তৎক্ষণাৎ! সে তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালো। তারপর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল রক্তিমের দিকে।

নয়ন্তীকার আপাদমস্তক দেখে রক্তিম ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। তারপর নয়ন্তীকার গাল টিপে দিয়ে বললো —— “তোমাকে কিউট বাচ্ছা লাগছে নয়ন!!”

রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা একবার রক্তিমের পানে চাইলো। তারপর একবার নিজের পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বোলালো। পরনে তার রক্তিমের টিশার্ট আর ট্রাউজার। যেহেতু, এখানে তার কোনো জামাকাপড় নেই। আর এই মুহূর্তে আনাও সম্ভব নয়। তাই তাকে এখনকার মতো রক্তিমের জামাপ্যান্ট দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তাকে এই গেটাপে জোকারের থেকে কম লাগছে না।

রক্তিমের কালো রঙের টিশার্ট টা তার হাঁটুর একটু উপর পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। আর সাইজে এত বড়ো যে দুটো নয়ন্তীকা আরাম সে ঢুঁকে যাবে এই টিশার্টে। ধূসর রঙের ট্রাউজার তো নয়ন্তীকার পা থেকেও বড়ো। দেখে মনে হচ্ছে সে কোনো বড়ো মানুষের পাটিয়ালা প্যান্ট পড়েছে। তার এই সং সাজ রক্তিমের নাকি কিউট মনে হচ্ছে! আশ্চর্য কথা!

অপরদিকে, নয়ন্তীকা'কে ভাবনায় বিভোর হতে দেখে রক্তিম ঝুঁকে নয়ন্তীকার ট্রাউজারের নীচের দিকে মুড়ে গোড়ালির উপরে করে দিল। তার হাফ হাতা টিশার্ট নয়ন্তীকার ফুল হাতা হয়ে গেছে। রক্তিম তাও দুই সাইডে মুড়ে দিল। এরপর টিশার্ট'টা সামান্য উঁচিয়ে সামনে একটা গিট্টু দিয়ে দিল।

নয়ন্তীকার বর্তমান লুক দেখে রক্তিমের মুখ ফসকে বেরিয়ে এল —— “তোমাকে হ*ট লাগ..!! না মানে, সুন্দর লাগছে।”

“তুমি বসো। আমি নীচ থেকে খাবার নিয়ে আসি!”

তড়িঘড়ি করে বলেই রক্তিম পরপরই ঘর ছাড়লো। আর নয়ন্তীকা লজ্জায় লাল-নীল হয়ে উঠলো। সে রক্তিমের অসম্পূর্ণ কথা বুঝতে পেরেছে। এই প্রথম রক্তিমের মুখে এইরকম কিছু শুনে নয়ন্তীকার মরি মরি অবস্থা হলো যেন।

----------

দাশগুপ্ত বাড়িতে তখন অল্প স্বাভাবিক পরিবেশ বলা চলে। সকালের ঘটা তান্ডব থেমে গেলেও প্রভাব একটু আধটু রয়েই গেছে। এই যেমন; মিসেস রেবা রান্না ঘরের বাসন ধুপধাপ ফেলে ফেলে কাজ করছেন। যার আওয়াজ হলরুমেও যাচ্ছে। তবে, তা কেউ কানে তুলছে না।

অনিমেষ দাশগুপ্ত সোফায় বসে দিব্যি নিউজ পেপার পড়তে ব্যস্ত। পাশেই রূপক টিভিতে কার্টুন দেখছে। আবার মাঝে মধ্যে মাকেও দেখছে।

ঠিক তখনই রক্তিম সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামলো। পরপরই কিচেনে চলে গেল। মিসেস রেবা তখনও রক্তিমকে দেখেননি। তিনি আগের মতই কাজ করতে করতে গজগজ করছেন।—— “আমি এসেছি এই ঘরের চাকরানী। শুধু কাজকর্ম ছাড়া আমার আর কোনো প্রয়োজন আছে নাকি এই বাড়িতে।”

“তুমি এই বাড়ির রানী মা! কাজ করতে ইচ্ছা না করলে আমাদের হুকুম করো। আমরা তিনটে সেবক দ্রুত আপনার সব কাজ করে ফেলবো! তুমি শুধু একবার বলে দেখো তো।”

রক্তিমের কথায় মিসেস রেবার হাত থেমে গেল আপনাআপনি। তিনি রক্তিমের দিকে একপলক তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন। আবার কাজে মনোযোগ দিতে দিতে বলে উঠলেন —— “নয়ন্তীকা'কে ওর বাড়ি দিয়ে এসো।”

মূহুর্তে থমকে গেল রক্তিম। টুইটার আর তাদের জন্য খাওয়ার নেওয়া হাতটা থেমে গেল আপনাআপনি। সে মায়ের মুখপানে অবিশ্বাস্য চাহনিতে তাকালো। তবে কিছু বলতে পারলো না।

বাইরে থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসছে। অনিমেষ দাশগুপ্তের উচ্চ স্বরে আওয়াজ কানে আসছে। মিসেস রেবা তা শোনা মাত্রই চুলোর আঁচ বন্ধ করে ছুটলেন বাইরের দিকে । রক্তিম ও তড়িঘড়ি করে গেল মায়ের পিছনে।

রক্তিমদের বাড়ির সামনে ইতিমধ্যে ভিড় লেগে গেছে মানুষজনের। সাথে কয়েকজন পুলিশের সাথে নৈতিক মুখার্জিকেও দেখা যাচ্ছে। তারা মূলত অনিমেষ দাশগুপ্তের সাথে তর্কাতর্কি করছেন।

যা দেখে রক্তিমের আর ঘটনা বুঝতে বাকি রইলো না। নৈতিক মুখার্জি যে এত সহজে নিজের লস মেনে নিতে পারছেন না। তাও রক্তিম বেশ বুঝলো। রক্তিম চোখ তুলে একবার উপস্থিত সবার পানে চাইলো। বাড়ির সামনে পাড়ার লোকজনের জটলা লেগে আছে। পাড়া প্রতিবেশীতে ইতিমধ্যে খবর ছড়িয়ে গেছে রক্তিম-নয়ন্তীকার বিয়ে নিয়ে। সবাই কানাঘুষো শুরু করে দিয়েছে। অনেকেই প্রশংসা করেছে আবার অনেকে নিন্দা করছে। যার যেমন চিন্তা ধারা।

অপরদিকে, পুলিশগুলো রক্তিম কে দেখা মাএই অনিমেষ দাশগুপ্তর সাথে কথা কাটাকাটি বন্ধ করে রক্তিমের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন —— “আপনিই কী রক্তিম দাশগুপ্ত?”

“জী হ্যাঁ!!! বলুন।”

“আমরা কুল তলা পুলিশ স্টেশন থেকে এসেছি। আপনার নামে কেস করেছেন নৈতিক মুখার্জি। আপনাকে এই মুহূর্তে আমাদের সাথে পুলিশ স্টেশন যেতে হবে!”

রক্তিম পুলিশের কথা শোনা মাএই সামনে দাঁড়ানো নৈতিক মুখার্জির পানে তাকালো। মহাশয় বিদ্রুপের হাসির সহিত তার পানেই তাকিয়ে রয়েছেন। রক্তিম সেই হাসির পরিবর্তে নিজেও চোখে হাসলো। যা মোটেই চোখ এড়ালো না নৈতিক মুখার্জির।

অপরদিকে, পুলিশের কথায় মূহুর্তে চোটে গেলেন মিসেস রেবা। তিনি খ্যাঁক করে চেঁচিয়ে উঠলেন —— “মগের মুল্লুক নাকি?? কেউ মামলা করলো আর আপনারা ঠিক-ভুল যাচাই না করেই তুলে নিয়ে যাবেন? এতই সোজা?”

“দেখুন ম্যাম, এটাই রুলস! কিছু করার নেই। আপনি দয়া করে একটু চুপ থাকুন। আমাদেরকে নিজেদের ডিউটি করতে দিন।”

“জী না! দয়া করতে পারছি না। এমনি এমনি তো আমার ছেলে আপনাদের সাথে যাবে না। যেতে বাধ্য নয়।”

“ম্যাম!!”...

রক্তিম হাতের সাহায্যে ইন্সপেক্টরকে থামিয়ে দিল। তারপর মায়ের উদ্দেশ্যে বললো —“ মা আমি কোথাও যাবো না। তুমি জানো তো নিজের ছেলেকে। আমি কিছুই ভুল করিনি।”

—“বাবা, মাকে ভিতরে নিয়ে যাও। আমি কথা বলছি। আর রূপ তুইও যা মায়ের সাথে।”

অনিচ্ছা থাকার পরেও অনিমেষ দাশগুপ্ত স্ত্রীকে জোর করেই ভিতরে নিয়ে গেলেন। কেননা তিনি জানেন মিসেস রেবা বাইরে থাকলে ব্যাপারটা আরও ঘেঁটে যাবে। তাই রক্তিম মাকে ভিতরে নিয়ে যেতে বললো তা তিনি বেশ বুঝলেন। অপরদিকে রূপক ও নিজের দাদাভাইয়ের কথা ভালো ছেলেদের মতো চুপচাপ শুনলো। তার এই মুহূর্তে প্রচুর রাগ হচ্ছে মঞ্জুলিকার বাচ্ছার উপর। ও এই ঘরে আসা মাত্রই অশান্তি হচ্ছে। যা তার মোটেই সহ্য হচ্ছে না। সুযোগ পেলে সে সবকিছুর শোধ তুলবে একদিন।

এইদিকে, মায়ের যাওয়ার পরপরই রক্তিম সামনে দাঁড়ানো ইন্সপেক্টরের উদ্দেশ্যে সুধালো——“মামলার কারণ জানতে পারি কী?”

“নৈতিক মুখার্জির একটি মাত্র মেয়েকে সম্পওির লোভে‌ নিজর ঘরে জোর করে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে আপনার নামে।”

“কিন্তু ইন্সপেক্টর, সত্যিটা হচ্ছে আমি ওনার মেয়েকে কোনোরকম জোর করিনি। আমরা একে অপরকে ভালোবাসে বিয়ে করেছি। আপনি চাইলে প্রমানও দেখাতে পারি।”

“আমার মেয়েটা এখনো ছোটো ইন্সপেক্টর। ও ঠিক ভুল বুঝতে শেখেনি এখনো।”— রক্তিমের কথার পিঠে নৈতিক মুখার্জি বলেই শয়তানি হাসি হাসলেন। যা রক্তিমের চোখ এড়ালো না। তবু সে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দেখালো না।

“স্যার। আপনি একবার আমার স্ত্রী, অর্থাৎ নৈতিক মুখার্জির মেয়ের স্টেটমেন্ট নিয়ে দেখুন। এটা আমার একান্ত অনুরোধ । কেননা, ওনি শুধু শুধু আমার নামে মামলা করে আমার আর আপনার সময় নষ্ট করছেন। এরপরও যদি সত্য অন্যকিছু প্রমাণ হয়, তবে আমি আপনাদের সাথে যেতে রাজি আছি!”

চলবে,,,,,,,,,

আগের পর্ব:

https://www.facebook.com/share/p/1YRjKYxd6Q/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন