#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে
#অহর্নিশা_ব্যানার্জী
#পর্ব_সংখ্যা ২৯
(🚫রোমান্টিক এলার্ট )
রাত তখন প্রায় দু'টো। রক্তিম একপ্রকার যুদ্ধ করেই নিজের ঘরে প্রবেশ করলো। আত্মীয় স্বজনদের বিদায় দিয়ে দোতলায় নিজের ঘরের দিকে যাওয়া মাএই একদল ডাকাতের কবলে পড়তে হয়েছে তাকে। বন্ধু ও বোননরূপী ডাকাতদল নিজের ঘরে প্রবেশের বিনিময়ে বড়ো রকমের টাকা হাতানোর ধান্দায় ছিল। যেহেতু রক্তিমের কাছে সেই মুহূর্তে বেশি ক্যাশ ছিল না, তবে পকেটে তার কার্ডটা ছিল। ব্যাস! তারা কার্ড নিয়ে তবেই ক্ষ্যান্ত হয়েছে। এরপর রক্তিমকে একেবারে ফতুর করে তবেই তারা দম নেবে। তা বেশ জানে রক্তিম। কেননা তাদের সবকটাকে ভালো মতোই চেনা আছে তার।
------
রক্তিমের চেনা পরিচিত ঘরটা আজকে বড্ড আচেনা ঠেকছে তার কাছে। বিছানা তো নয় যেন ফুলের একটা বাগান। রক্তিম ঘরে প্রবেশ করা মাএই ফুলের সুবাস নাকে ঠেকলো। রক্তিম তৎক্ষণাৎ অস্বস্তিতে গুটিয়ে গেল। তার বাঁদর কাজিন গুলোকে সে নিষেধ করেছিল বাহারি দেখিয়ে এইসব আয়োজন না করতে। তবু তারা পাকনামি করে সব সাজিয়ে দিয়ে গেছে ।
রক্তিম একটা বড়ো নিঃশ্বাস নিল। আজকে অঘটন ঘটানোর থেকে কিছু করে নিজেকে আটকালে হয়। ভেবেই রক্তিম একটা ঢোক গিললো।
রক্তিমের তৎক্ষণাৎ লক্ষ্য করলো যে ঘরের রানি এই মুহূর্তে উপস্থিত নেই। সে নয়ন্তীকাকে একপলক দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো যেন। রক্তিম দরজা আটকে বেলকনির দিকে পা বাড়ালো নিঃশব্দে।
তবে কিছুকদম গিয়ে রক্তিমের পা জোড়া থেমে গেল আপনাআপনি। নিঃশ্বাস যেন আটকে আসতে চাইছে মূহুর্তে। তার বৈধ বাচ্চা বউ চন্দ্র বিলাসে ব্যস্ত। তার খেয়াল নেই কোনো কিছুর। যদিও মেয়েটার মুখ তেমন দেখা যাচ্ছে না। খোলা চুলে সে কোনো একপ্রান্তে দৃষ্টি রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
রক্তিম একটা ফাঁকা ঢোঁক গিললো। সে যেভাবে এসেছিল নিঃশব্দে সেইভাবেই সরে পড়লো সেখান হতে। তারপর, রুমে যাওয়া মাএই সে ফ্যান ছেড়ে বসে পড়লো বিছানায়।
সে আর নয়ন্তীকা আজকে একই ঘরে এমনকি একই বিছানায় থাকবে ভেবে রক্তিমের বুকে ঢাকঢোল বাজতে শুরু হয়ে গেল। যদিও এটা প্রথমদিন নয়। আগের রাতেও তারা একই ঘরে এবং একই বিছানায় ছিল। কিন্ত আগের দিনের ব্যাপার আলাদা ছিল। অতিরিক্ত ঝুট ঝামেলার চোটে দুজনেই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। যার জন্য কারোর মাথাতেই অত ভাবনা চিন্তা আসিনি। কিন্তু আজকের ব্যাপার ভিন্ন। আজকের পরিবেশ ভিন্ন।
রক্তিম অস্থিরতায় হাঁসফাঁস করে উঠলো। নিজের মনে জমে থাকা সমুদ্র সমান উত্থাল পাথাল অনুভূতি সে নয়ন্তীকাকে বলতে পারবে না। আর না তো সে নিজেকে এই মূহুর্তে ধরে রাখতে পারছে। বদ মনটা কিছুতেই মানতে চাইছে না মস্তিষ্কের কথা। সে কিছুতেই মানতে চাইছেন না মেয়েটা এখনও যে বড্ড ছোটো, বড্ড নাজুক। সে রক্তিমসহ তার ঝড়ো অনুভূতি সামলাতে পারবে না।
রক্তিম মন ও মস্তিষ্কের দ্বন্দ্বে একপ্রকার ক্লান্ত হয়ে উঠলো। সে ডানহাত দিয়ে ঘাড় চুলকে উঠে দাঁড়ালো। তারপর কাবাড থেকে জামাকাপড় নিয়ে চললো ওয়াশরুমের দিকে। এই মুহূর্তে তার একটা হট শাওয়ার বড্ড প্রয়োজন। তাছাড়া মনে ঢুকে থাকা শয়তান'টাকেও তো তাড়াতে হবে।
------------
ঘড়ির কাঁটা তখন নিজের তাল ছন্দ বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে ক্রমে, সাথে সময়টাও ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে। শুধু থেমে রয়েছে নয়ন। সে এখনও একই জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কি জানি কি এত ভাবছে!
রক্তিম মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে গেল তার প্রেয়সীর কাছে। সে সবে মাএই ওয়াশরুম থেকে বেরোল। পরনে কালো রঙের সাদা শার্ট আর কালো ট্রাউজার। শার্টের সামনের কয়েকটা বোতাম খোলা। রক্তিম নিজের চুল হাত দ্বারা ঝাঁকিয়ে চললো নয়নের নিকট।
এই মূহুর্তে মেয়েটাকে কাছ থেকে না দেখলে যেন হচ্ছিলই না।
“তো ম্যাডাম ! তখন থেকে কী ভাবছেন এত ?”——বলেই রক্তিম নয়ন্তীকার দিকে চাইলো , ওমনি থমকে গেল সে। হৃদযন্ত্র'টা ঘোড়ার বেগে তখন ছুটতে শুরু করেছে। রক্তিম যেন পলক ফেলতে ভুলে গেল মূহুর্তে। নয়ন্তীকা'র পরনে সুতির একটা শাড়ি রয়েছে। হাতে শাঁখা পলা সহ সিঁথিতে সিঁদুর। খোলা চুল হাওয়ায় উড়ছে। চঞ্চল হরিণী ন্যায় চোখে কাজলের ছোঁয়া রয়েছে। ছোট্ট কপোলে একটা লাল টিপ। ঠিক যেন অস্ত যাওয়া লাল সূর্য। সব মিলিয়ে নয়ন্তীকা'কে একটা পুতুল বউ মনে হচ্ছে। তার বাচ্চা বউ!!! রক্তিম ভাসা ভাসা চোখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো তার নয়নের পানে।
রক্তিম উল্টো ঘুরে নয়ন্তীকার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পিঠ ঠেকেছে বেলকনির রেলিঙে। যার দরুন মেয়েটাকে স্পষ্ট খুব কাছ হতে দেখতে পাচ্ছে সে।
অপরদিকে, নয়ন্তীকা সামনের দিকে চেয়েছিল। রক্তিমের কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে চাইলো বাঁ দিকে বেলকনির রেলিঙে হেলে থাকা রক্তিমের পানে। তারপরও মৃদু হেসে বলে উঠলো —— আমি ভাবছি যে এও সম্ভব? আমি বর্তমানে রক্তিম দাশগুপ্তের স্ত্রী!! আমি এখন তারই রুমের বেলকনিতে তারই সাথে দাঁড়িয়ে রয়েছি।
বলেই নয়ন্তীকা প্রাণোচ্ছল হাসলো। তারপর রক্তিমের দিকে তাকালো, মানুষটা তার পানেই তাকিয়ে রয়েছে। যা দেখে নয়ন্তীকা আবার ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। তারপর নিজের বেলকনির দিকে চোখ রেখে বলে উঠলো —— আমি কখনো ভাবিনি যে আমি তোমার প্রেমে পড়বো। কী অদ্ভুত, এককালে দুচোখে সহ্য করতে না পারা মানুষটাকে এখন আমি অসম্ভব ভালোবাসি। সামনের বেলকনি থেকে ঝগড়া করতে করতে আজ আমি তোমার বেলকনিতে তোমার স্ত্রী রূপে দাঁড়িয়ে রয়েছি। ভাগ্যের কী লীলা খেলা! তাই না?....
বলেই নয়ন্তীকা হাস্যরত মুখে রক্তিমের পানে চাইলো। ঠিক তখনই ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তিম নয়ন্তীকা ঘুরিয়ে নিজের বাহুদ্বয়ের মধ্যে আটকে ধরলো। নয়ন্তীকা হকচকিয়ে উঠলো তৎক্ষণাৎ। সে বড়ো বড়ো চোখ করে রক্তিমের পানে চাইলো। মানুষটা তার মুখের উপর ঝুঁকে তারই পানে চেয়ে রয়েছে।
“তুমি??? আপনি থেকে তুমিতে এসেছো দেখছি!!”
রক্তিমের গম্ভীর অথচ আদর মাখা কন্ঠস্বর । যা শুনে নয়ন্তীকা ভারি অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। সে এদিক ওদিক তাকালো নিজের অপ্রস্তুত ভাব লোকাতে। যা ভালোমতোই বুঝলো রক্তিম। সে নয়ন্তীকার অবস্থা দেখে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। তারপর নয়ন্তীকার চিবুক ধরে মাথা উপরের দিকে তুললো। নয়ন্তীকা চোখজোড়া তখন বন্ধ করে রেখেছে। তবে চোখের পাপড়ি দ্বয় কেঁপে চলেছে সমানে। যা দেখে রক্তিমের অবস্থা বেগতিক হলো সামান্য। তবে রক্তিম তা একেবারেই প্রকাশ করলো না। সে নয়ন্তীকাকে আদর মাখা কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো —— “আমার দিকে তাকাও নয়ন!”
নয়ন লজ্জা মাখা চোখে রক্তিমের পানে চাইলো তৎক্ষণাৎ। রক্তিম নয়নের চোখে চোখ রেখে খানিক ধীর স্বরে বললো—— “তোমার মুখে আপনি'টা বেশ মানায় নয়ন! আমার ভালো লাগে শুনতে, তুমি আপনিই ডেকো।”
“ কিন্তু আমার যে ভালো লাগে না। আপনির থেকে তুমি ডাকটা কাছের।”— নয়ন্তীকা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে উঠলো।
যা দেখে রক্তিম মুচকি হাসলো। তারপর নয়ন্তীকার নাক টেনে দিয়ে বললো —— “বেশ! ভালোবেসে তুমি যা ডাকবে তাই শুনবো নাহয়!”
রক্তিমের কথায় নয়ন্তীকা মাথা নীচু করে হাসলো। এরপর খানিকক্ষণ নিরবতা চললো দুজনের মাঝে। দুজনের মনেই একটু অপ্রস্তুতভাব। যা দুজনেই টের পেল হয়তো। তাই রক্তিম কথা বাড়াতে বলে উঠলো —— এই রাতদুপুরে শাড়ি পড়েছ যে?? সামলাতে তো পারবে না!
নয়ন্তীকা তখনো রক্তিমের বাহুদ্বয়ের মাঝে বন্দী রয়েছে। রক্তিম বেশ লম্বা, নয়ন্তীকা রক্তিমের পাশে দাঁড়ালে বুক বরাবর আসে। তাই নয়ন্তীকাকে রক্তিমের পানে তাকাতে হলে মাথা একদম উঁচু করে তাকাতে হয়।
প্রতিবারের মতোই নয়ন্তীকা মাথা উঁচিয়ে চাইলো। তারপর সঙ্গে সঙ্গে অন্য দিকে দৃষ্টি রেখে বলে উঠলো —— “বড়ো'মা পড়িয়ে দিয়েছে। তাই আর না করিনি!”
নয়ন্তীকার কথা শুনে রক্তিম বিড়বিড় করে উঠলো —— “হুঁ!! তোমার বড়ো মায়ের নিজের ছেলের মাথা খারাপ করার যতসব ধান্দা।”
---------
রাত তখন গভীর। তবে ঠিক কটা বাজে তার একবারেই জানা নেই নতুন দম্পতিদের। নয়ন্তীকা মনের সুখে বকবক করে চলেছে। একই ভাবে বেলকনির রেলিঙে ঠেস দিয়ে। আর রক্তিম দরজার কাছে হেলান দিয়ে হাত দুটো বুকের কাছে ভাঁজ করে চেয়ে রয়েছে নয়ন্তীকার পানে।
রক্তিম তার কথা শুনছে ভেবে বোকা মেয়ে নয়ন্তীকা গড়গড় করে বকেই চলেছে ক্রমে। কিন্ত যদি দেখতো সামনে দাঁড়ানো পুরুষটার গভীর চাহনি। তবে লজ্জাবতীর ন্যায় গুটিয়ে যেত হয়তো। ভেবেই রক্তিম চোখে হাসলো। তার চোখগুলোও হয়েছে অশ্লীল। ঘুরে ফিরে নিষিদ্ধ জায়গায় উঁকি দিয়ে আসছে। এইরকমই চলতে থাকলে যা না হওয়ার তাই হয়ে যাবে। তার চেয়ে ভালো কেটে পড়া। ভেবেই রক্তিম সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তারপর নয়ন্তীকার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো ——“ বেশ রাত হয়েছে, ঘুমাবে চলো!”
“আজকের রাতে কে ঘুমায়?”
নয়ন্তীকার কন্ঠে বিস্ময়। অপরদিকে, নয়ন্তীকার কথায় রক্তিম দুষ্টু হাসলো। তারপর ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করে উঠলো —— “আচ্ছা তাই নাকি?? তবে সবাই কী করে?”
রক্তিমের দুষ্টুমি বুঝতে পেরে থতমত খেয়ে গেল নয়ন্তীকা। সে আমতা আমতা করে বলে উঠলো —— “সবার সাথে আমাদের কী?? তবে আমরা সারারাত গল্প করবো। ভালো হবে না?”
রক্তিম ঠোঁট এলিয়ে হাসলো সামান্য। তবে এই মুহূর্তে নয়ন্তীকাকে সে আর অপ্রস্তুত করতে চাইলো না। তাই রক্তিম শান্ত গলায় বলে উঠলো —— “আচ্ছা, বুঝলাম!! তবে বাকি গল্প কাল হবে। এখন আপাতত ঘুমাতে এসো।”
বলেই রক্তিম রুমে যাওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ উল্টো ঘুরে হাঁটা দিল। ওমনি নয়ন্তীকা রক্তিমের হাতখানা চেপে ধরলো। রক্তিম তাকালো ফিরে। নয়ন্তীকা আহ্লাদি গলায় আবদার করে উঠলো —— আর একটু থাকুন! ভালো লাগছে আমার।
নয়ন্তীকার সহজ সরল আবদারে রক্তিম গভীর চোখে তাকালো। যে চোখের ভাষা নয়ন্তীকা বুঝলো না। রক্তিমের এই চাহনি বড্ড কঠিন, অচেনা বটে। যা দেখে নয়নের হাঁসফাঁস করে উঠলো অজানা এক অস্বস্তিতে। নয়ন্তীকা ঠোঁট কামড়ে ধরলো, সে আবারও একপলক তাকালো রক্তিমের পানে।
অপরদিকে, রক্তিম সূক্ষ্ম চোখে নয়ন্তীকার সব হাবভাব লক্ষ্য করলো। দৃষ্টি এসে থামলো লালরাঙা ঠোঁটজোড়ায়। সে সেখানে দৃষ্টি স্থির রেখেই ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো ——“আমি আর কিছুক্ষণ থাকলে বড়োসড়ো কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলবো নয়ন! তখন সে দায়ভার কিন্তু আমার নয়।”
রক্তিমের ধীর কন্ঠস্বর। যা শুনে বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো নয়ন্তীকার। সে রক্তিমের কথার কোনোরকম প্রতুত্তর না করে এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো।
যা দেখে রক্তিম নয়ন্তীকার দিকে দু পা এগিয়ে এল। নয়ন্তীকার পুরো মুখে জুড়ে তখন রক্তিমের শিকারি চোখের আনাগোনা।
“নয়ন!! তুমি কে হও আমার?”
নয়ন্তীকা রক্তিমের দিকে একপলক তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। দৃষ্টি তার হাতের আঙ্গুলে পেঁচানো শাড়ির উপর রেখে সে আমতা আমতা করে বলে উঠলো——“বউ!”
“আমার বউয়ের কাছে আমার কোনো চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে না?”
“ হু!! পারে।”
রক্তিম নয়ন্তীকার মেদহীন কোমরখানা পেঁচিয়ে ধরলো মূহুর্তে। সে দুহাতে টান দিয়ে কাছে নিয়ে এল নয়ন্তীকাকে। ঘাড় ঝুকিয়ে নয়ন্তীকার গলায় মাথা রাখলো রক্তিম। তারপর ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো —— "উফ্!!! আমার নিজেকে অসহায় লাগছে নয়ন। কেমন পাগল পাগল লাগছে। কী করি বলো তো? আমার যে তোমাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করছে না। তবে আমিই কষ্ট পাচ্ছি।“
রক্তিমকে এত কাছ থেকে অনুভব করে নয়ন্তীকার অন্তরআত্মা কেঁপে উঠলো। পুরুষালী গন্ধ নাকে যাওয়া মাএই নয়ন্তীকা নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইলো কাঠ হয়ে। সে নড়াচড়া ভুলে গেল মূহুর্তে।
অপরদিকে, ধৈর্যবান রক্তিমের ধৈর্য্যের বাঁধ যেন ভেঙে গেল। সে তখন ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে। যার ফলে মেয়েটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। রক্তিম চেষ্টা করছে তার দ্বারা যাতে কোনো ভুল না হোক। নয়ন্তীকার অনুমতি ছাড়া এমন কিছু না হোক যাতে পরে পস্তাতে হয়। রক্তিম নিজেকে আটকানোর যথা সম্ভব চেষ্টা করছে। কিন্ত ওই যে বেয়াদব মন!
রক্তিম অস্থিরতাযুক্ত কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো —— “আমি দুঃখিত নয়ন!! তোমাকে অস্বস্তি ফেলার জন্য।আমি ”...
এতক্ষণ নয়ন চোখবন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিল চুপচাপ। কিন্ত রক্তিমের এমন কাতর কন্ঠশুনে নয়ন্তীকা কাঁপা কাঁপা হাত গলিয়ে দিল রক্তিমের ভেজা চুলে। মেয়েটা নিরব থেকে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করলো যেন।
রক্তিম থেমে গেল। সে নয়নের থেকে সম্মতি পাওয়া মাএই নয়ন্তীকার গলায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। নয়ন দুহাতে আকড়ে ধরলো রক্তিমের পুরুষালী পিঠখানা। রক্তিম নয়ন্তীকার কাঁধে নাক ঘষে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো—— “ভালোবাসি বাচ্চা! আমার প্রাণের নয়ন। তোমায় খুব ভালোবাসি।”
চলবে,,,,,,
আগের পর্ব:
https://www.facebook.com/share/p/17GXYdMmnN/
(নোট: প্রথমেই আমি গল্প এত দেরিতে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। আমার কলেজে পরীক্ষা চলছিল। আমি জানানোর সুযোগই পাইনি। আশা করি আমার অসুবিধাটা আপনারা বুঝবেন।
এরপর আসি গল্পে, তো এই পর্ব পড়ে মন্তব্য জানানোর অনুরোধ রইলো। ভুল গুলো ধরিয়ে দিলে ধরিয়ে দিলে ভালোই হয়। অনেক দিন পড়ে লেখায় লেখনী একটু এলোমেলো। পরিশেষে, ধন্যবাদ ও ভালোবাসা ❤️)