" পছন্দ হয়েছে? "
মেহরাবের প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলো আমিরা। সে আমতাআমতা করে জিগ্যেস করলো,
" মানে? কি পছন্দ হওয়ার কথা জিগ্যেস করছেন?"
মেহরাব মৃদু হেসে আমিরার দিকে তাকালো। তার চাহনিতে দুষ্টুমির আভাস ফুটে উঠলো। সে আরেকটু স্পষ্ট করে বলল,
" আমাকে বর হিসেবে তোমার পছন্দ হয়েছে? "
মেহরাবের কথায় আমিরা লজ্জ্বায় নুইয়ে গেলো। তার মুখখানি লজ্জার রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে উঠল। সে দৃষ্টি নত করে আঙুলের ডগা দিয়ে শাড়ির আঁচলের কিনারা অকারণে মুঠোয় পাকাতে লাগল। হরাব তাকে চুপ করে থাকতে দেখে মৃদু হেসে বলল,
"তবে কি ধরে নেবো, নীরবতা সম্মতির লক্ষণ ?"
আমিরা মাথা নেড়ে সায় জানালো। মেহরাব তাকে লজ্জ্বা পেতে দেখে নিজেও হেসে ফেললো। হঠাৎ তার চোখ পড়লো আমিরার হাতে থাকা লালচে দাগের উপর। দুপুরে সালেহা বেগমের দেওয়া মারের দাগ এখনো স্পষ্ট তার শরীরে। মেহরাবের অধরে থাকা হাসি মিলিয়ে গেলো, সে চিন্তিত স্বরে জিগ্যেস করলো,
" এটা কিসের দাগ?"
আমিরা এক পলক তার দিকে তাকিয়ে অত:পর দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। সে মিনমিন করে বললো,
" আম্মা মেরেছিলো দুপুরে। "
" কারণ? "
" সুহানার জন্য রাখা মুরগীর কলিজা খেয়ে নেওয়ায় আম্মার রাগ হয়েছিলো তাই লাঠি দিয়ে মেরেছে। "
মেহরাব বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো তার কথায়। সামান্য এক টুকরো কলিজার জন্য কেউ এভাবে আঘাত করতে পারে?
রজনীর আঁধার ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিল তার কালো আঁচল। নীলিমার বুক চিরে ফুটে উঠল প্রভাতের প্রথম আলো। জানালার ফাঁক গলে আসা সোনালী আভা এসে পড়লো আমিরার আখিদ্বয়ে। ঘুমের ভারে নুয়ে থাকা নেত্রপল্লব ধীরে ধীরে কেঁপে উঠল। ঘুমজড়ানো দৃষ্টিতে সে পাশ ফিরে তাকাতেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল মেহরাবের মুখের উপর। মেহরাব তখনও ঘুমে বিভোর। গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন মুখখানি দেখে তাকে বেশ গম্ভীর মনে হলো আমিরার কাছে। কালো চুল কপালের ওপর ছড়িয়ে আছে। আমিরা এক পলক তার দিকে তাকিয়ে অতঃপর নিজের হাঁটু অবধি নেমে আসা দীর্ঘ কেশরাশি আলতো হাতে সরিয়ে নিল। সে বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতেই দেখতে পেলো একজন মধ্যবয়সী নারী দরজার সামনে পায়চারি করছেন। পরনে সাদামাটা শাড়ি, মুখজুড়ে বিরক্তির ছাপ। আমিরা তাকে দেখে মাথার আঁচলখানি আরও একটু টেনে কপাল অবধি নামিয়ে দিল। দরজার সামনে আমিরাকে দেখতে পেয়েই তিনি থমকে দাঁড়ালেন। অতঃপর বিরসমুখে বললেন,
"এহনো গোসল সারো নাই বউ? তোমার মায় দেহি তোমারে কিচ্ছু শিখাইয়া পাঠায় নাই! আছিল তো সৎ মা। নিজের মাইয়া হইলে না হয় সংসারের সব কাজকাম শিখাইত। "
আমিরা মাথা নত করে চুপ করে রইলো উনার কথায়। অজান্তেই চোখের কোণে জল জমে উঠল। ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে ধরে রাখলো সে। শেফালী বেগম আমিরাকে তাড়া দিয়ে বললেন,
" তাড়াতাড়ি কাপড়চোপড় বদলাইয়া রান্নাঘরে আইসো বউ, অনেক কাম পইড়া আছে।"
আমিরা মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে গেলো। ।আলমারির পাল্লা খুলতেই তার চোখ আটকে গেল সারি সারি শাড়ির দিকে। সে সেখান থেকে একটা লাল শাড়ি বের করে গোসলখানায় চলে গেলো। মেহরাবের ঘরের ভেতরে গোসলখানা থাকায় আর বাহিরে বের হতে হলো না আমিরাকে। গোসল শেষে লাল শাড়ি পরিধান করে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল আমিরা। আমিরা আঙুলের ফাঁকে চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে নিল, তারপর আঁচলটি মাথার ওপর টেনে দিয়ে নত দৃষ্টিতে একবার নিজেকে দেখে নিল আয়নায়। সে মাথায় আঁচল টেনে ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। হাঁটু অবধি নেমে আসা ভেজা কেশরাশি তখনও পিঠ বেয়ে ঝরে পড়ছে টুপটাপ জল। সে সাবধানে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল। আজমিরা খান রান্নাঘরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন শেফালী বেগম। গত বিশ বছর ধরে তিনি এই বাড়িতেই কাজ করছেন। আমিরাকে সিড়ি বেয়ে নেমে আসতে দেখে আজমিরা খান শেফালী বেগমের দিকে তাকালেন, শেফালী বেগম তার চোখের ভাষা বুঝতে পেরে আমিরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
" দাঁড়াইয়া থাইকো না বউ, এইহানে অনেকগুলা বাসন পইড়া আছে সবগুলা মাইজ্জা ফ্যালো।"
আমিরা তার কথায় সায় জানিয়ে কলপাড়ে বাসন মাজতে গেলে দেখতে পায় সেখানে কড়াই, পাতিল সহ অনেকগুলো বাসনের স্তুপ জমে আছে। আমিরা ঢোক গিললো এসব দেখে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসন মাজা শুরু করতেই দেখতে পেলো কিছু মহিলা দাঁড়িয়ে আছে খানিকটা দূরে। তাদের মাঝ থেকে একজন বলে উঠলো,
" বিয়ের পরেরদিনই আসল জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে। নাহয় আমিরার মতো অপয়া মেয়েকে কেন এতো বড়ো ঘরের বউ করে আনবে? মেহেরবানু শাহ নিজের ছেলের জীবনের সাথে এমনটা না করলেও পারতো। দেখে নিও সবাই, আমিরাকে বিয়ে করার পর থেকেই শাহ বাড়ির পতন ঘটবে। "
" রুপ দেখে বউ করে এনেছে অলুক্ষণে মেয়েকে, না জেনে কত বড়ো বিপদ'ই ডেকে আনলো তারা। আমার তো চিন্তা হচ্ছে মেহরাবের জন্য। এতো ভালো ছেলের কপালে কিনা শেষ পর্যন্ত লক্ষীর বদলে অলক্ষী জুটলো। "
আমিরার হাত দুটো আচমকাই থমকে গেল তাদের কথা শুনে। তার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো আর বাঁধ মানল না। একে একে টুপটুপ করে গড়িয়ে পড়তে লাগল গাল বেয়ে। মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করলো সে মেহরাবের সাথে বিয়ে হওয়ায়। সত্যিই তো অপয়া সে, তার সাথে বিয়ে হওয়ায় মেহরাবের জীবনেও দূর্গতি নেমে এলো। অপয়া না হলে কি তার মা তাকে ছেড়ে যেতো? তার আপন বাবা তার ছাড়া পর্যন্ত দেখতে চায় না। চোখ বেয়ে নেমে আসা অশ্রুগুলো আঁচলের কোণে মুছে নিল আমিরা। মাথা নিচু করে নিঃশব্দে আবার বাসন মাজতে শুরু করল সে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর একে একে তার সবগুলো বাসন মাজা শেষ হলো। শরীর ব্যথায় টনটন করছে। দীর্ঘসময় পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখায় আঙুলগুলো কুঁচকে গেছে তার। বাসন মাজার ঘষাঘষিতে তার হাতের তালু দুটো লাল হয়ে উঠেছে। সারা শরীর ব্যথায় অবশ হয়ে গিয়েছে তার। হাত-পা থেকে শুরু করে কোমর পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গে ব্যথা বিদ্যমান। আমিরা রান্নাঘরে যেতেই শেফালী বেগম তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
" একটা কাম কইরাই কি দিন পার কইরা দিবা? ওইহানে তো অনেকগুলা কাপড়চোপড় পইড়া আছে, হেইগুলাও ধুইয়া ফ্যালতে হইব। তারাতাড়ি যাও। "
গতকাল দুপুর থেকে কিছুই খায়নি সে, খিদেয় পেটের ভেতর ইঁদুর দৌড়াচ্ছে তার। আমিরা মলিন দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালো। অত:পর মিনতিভরা দৃষ্টিতে বলে উঠলো,
" চাচী, আমার না খুব খিদে পেয়েছে। কিছু খাবার দেওয়া যাবে?"
আমিরার কথায় চাচীর মুখখানি মুহূর্তেই কুঁচকে গেলো।
তিনি নাক সিঁটকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলেন,
“খিদে পাইছে তো কী হইছে? কামকাজ ফালাইয়া আগে খাইতে বসবা নাকি? পুরুষ মানুষ খাওন শেষ করার পর মাইয়া মানুষ খাইতে বসে,এইডাও জানো না? তুমি তো দেহি কিচ্ছুই শিখ্যা আসো নাই!"
শেফালী বেগমের কথায় আমিরার মুখটা ছোট হয়ে গেলো। ক্ষুধার্ত পেটের আর্তনাদে সামান্য খাবারের জন্য এতোক্ষণ যে মিনতিটুকু করেছিল, এখন সেই সামান্য চাওয়াটুকুও তার নিজের কাছেই অপরাধ বলে মনে হলো। সে নিঃশব্দে চলে গেলো কাপড় ধোয়ার জন্য। মধ্যপ্রহর পূর্ণ দুপুরের এক প্রহর ছুঁয়ে, সূর্য নীলিমার ঠিক মধ্যগগনে স্থির হয়ে আছে। আকাশের নীলিমাজুড়ে সূর্য যেন আগুনের প্রদীপ হয়ে জ্বলছে। সকালের কোমল রৌদ্রের কোনো চিহ্নই আর অবশিষ্ট নেই,চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে কড়া রৌদ্রের তীক্ষ্ণ তাপ। সূর্যের প্রখর আলোয় উঠোনের মাটিগুলো তপ্ত হয়ে উঠেছে। কলপাড়ের পাশে বসে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একের পর এক কাপড় ধুয়ে চলেছে সে। সকাল থেকে অবিরাম কাজ করতে করতে শরীরটা যেন অবসাদের ভারে নুয়ে পড়েছে।দীর্ঘ কেশরাশি পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে, কপালের কাছে কয়েকগাছি চুল ঘামে ভিজে লেগে আছে। কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘামের বিন্দু। মাঝে মাঝে সে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিচ্ছে। কাপড় ধোয়া শেষ হলে সে সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠে সবগুলো কাপড় রৌদ্রে মেলে দিয়ে একে একে ভালোভাবে ছড়িয়ে দিল। প্রখর রৌদ্রে ভেজা কাপড়গুলো থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরছে। সব কাজ শেষ করে নিচে নেমে আসতেই দেখতে পেলো শেফালী বেগম ও আজমিরা খান দাঁড়িয়ে আছেন সামনে। শেফালী বেগম আমিরার দিকে তাকিয়ে একটি থালা এগিয়ে দিলেন মেহরাবের ঘরে দিয়ে আসার জন্য। আমিরা দেখলো বড়ো পিতলের থালাটিতে ধবধবে সাদা ভাত সুন্দর করে সাজানো, ভাতের একপাশে আস্ত একটা মাছ, মাংসের তরকারি, ভাজি ও আলাদা একটি বাটিতে শাক রয়েছে । দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা আমিরা থালাটির দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। ক্ষুধার্ত চোখে খাবারগুলোর দিকে তাকাতেই তার পেটের ভেতরটা আবারও মোচড় দিয়ে উঠল। সে ঢোক গিলে শেফালী বেগমের দিকে তাকাতেই তিনি বলে উঠলেন,
" খাওন দিয়া রান্নাঘরে আইসো বউ। সোয়ামীরে পাইয়া আবার বেশি দেরি কইরো না। "
" আচ্ছা। "
আমিরা শেফালী বেগমের দেওয়া থালা নিয়ে সিড়ি বেয়ে মেহরাবের ঘরে দিয়ে দেখলো মেহরাব বই পড়ছে। সে এতোক্ষণ সবকিছুই খেয়াল করছিলো কিন্তু ইচ্ছে করেই কিছু বলেনি। মেহরাব দেখতে চাচ্ছিলো আমিরার ধৈর্য্য শক্তি কতটুকু, হয়তো একপর্যায়ে সে প্রতিবাদ করবে কিন্তু মেহরাবের ভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করে নীরব সব সয়ে যাওয়ায় মেহরাব রাগ ক্রমশ বাড়তে শুরু করলো। আমিরা থালাটি নিয়ে মেহরাবের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই সে ধীরে ধীরে হাতে থাকা বই বন্ধ করে তার দিকে তাকালো অত:পর আমিরার হাতে ধরা খাবারের থালাটির দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে আবার তার ক্লান্ত মুখখানির দিকে তাকাল মেহরাব। আমিরা খাবারের থালা বিছানায় সাজিয়ে নিচে নেমে আসতেই আজমিরা খান তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
" কি যেন নাম তোমার? মনে পড়েছে। শুনো আমিরা চটজলদি মাছটা কেটে ফেলো। "
আজমিরা খানের কথা শুনে আমিরা থালার উপর রাখা মাছের দিকে তাকায়। বড়ো একটা রুই মাছ রাখা সেখানে, দেখে মনে হচ্ছে দুই কেজির বেশি হবে। শেফালী বেগম নিজেই মাছ কাটতে বসেছিলেন কিন্তু আজমিরা খানের কথা শুনে উঠে পড়লেন । অত:পর আমিরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
" শুনো বউ, মাছ কাটতে পারো?"
আমিরা মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে বললো,
" পারি। "
" সারাক্ষণ সোয়ামীর লগে থাকলে চলব না। বাপের বাড়িতে যেমন কইরা সব কাজ করতা এইহানেও সব করা লাগব। "
আমিরা তার তাচ্ছিল্যমাখা কথা শুনে দৃষ্টি নত করে মাছ কাটতে বসলো। এতো বড়ো মাছ হাতে নিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে।
" বিয়ে করে ঘরে বউ এনেছি, কাজের লোক নয়। "
উক্ত কথা শুনে সবাই সিড়ির দিকে তাকায়। মেহরাব পাঞ্জাবীর হাতা গুটিয়ে নিচে নামছে। আজমিরা খান ক্রুদ্ধ হলেন তার কথায়। তিনি গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
" বাড়ির কাজ করলে কেউ কাজের লোক হয়ে যায় না মেহরাব। আমিরা এই বাড়ির বউ, এসব তার দায়িত্ব। "
" যদি আমার স্ত্রীকেই সব করতে হয় তাহলে এতোগুলো মানুষ রাখার তো কোন মানে হয় না। "
" মেহরাব! মেয়েমানুষের মাঝে পুরুষমানুষের কথা না বলাই উত্তম। তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো তুমি কার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলছো।"
" আমি কিচ্ছু ভুলিনি। আমিরা আমার স্ত্রী। আমার অর্ধাঙ্গিনী। তার সাথে খারাপ ব্যবহার করার অধিকার আমি কাউকে দিইনি। আজ থেকে আমার স্ত্রীর সাথে যদি কেউ খারাপ আচরণ করে তবে আমি নিজে তাকে তার যোগ্য শাস্তি দিবো। আমার বউ কাজ করলে আমার কাজ করবে, বাড়তি কোন কাজ নয়।"
মেহরাবের কথায় ক্ষোভে আজমিরা খানের চোখের মণি কঠিন হয়ে উঠল, কপালে ফুটে উঠল সূক্ষ্ম ভাঁজ। মেহরাব আমিরার সামনে এসে বললো,
" উঠে এসো। "
মেহরাবকে দ্বিতীয়বার একই কথা উচ্চারণ করতে হলো না।বাধ্য স্ত্রীর মতো কোনো প্রশ্ন না করে স্বামীর পিছু পিছু ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। মেহরাব তাকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বিছানার কাছে এসে থামল। অতঃপর আলতো হাতে তাকে বসিয়ে দিয়ে নিজেও তার পাশে গিয়ে বসল।আমিরা ভাতের থালাটি যেভাবে সাজিয়ে রেখে গিয়েছিল, সেভাবেই পড়ে আছে । থালার মাঝখানে সাদা ভাত, পাশে সাজানো ছিল ভাজি, তরকারি আর মাছের টুকরো। মেহরাব বড্ড যত্নসহকারে এক লোকমা আমিরার মুখের কাছে এগিয়ে দিলো। সারাজীবন অনাদর অবহেলায় বড়ো হওয়া আমিরার কাছে এ যেনো সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি। সে অশ্রুসিক্ত দৃষ্টিতে মেহরাবের দিকে তাকিয়ে তার বাড়িয়ে দেওয়া এক লোকমা ভাত গ্রহণ করে নিলো। হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেই মেহরাব তাকে বুকে আগলে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
"খাওয়ার সময় কাঁদে না বিবিজান। যতদিন আপনার স্বামী বেঁচে আছে ততদিন দুঃখ আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। এটা আপনার স্বামীর ওয়াদা আপনার কাছে।"
আমিরা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে উঠলো,
" আমায় কখনো কেউ খাইয়ে দেয়নি, আমি নাকি অপয়া, অলক্ষী,অভিশাপ। "
" তুমি আমার বিবি, আমার ঘরের লক্ষী, আমার জীবনের পূর্ণতা। যা কখনো তুমি পাওনি তা তোমার সামনে হাজির করার দায়িত্ব আমার। "